এখনো চারপাশে আলোচনা একই। শেষ পর্যন্ত অপরাধীদের চিহ্নিত করা যাবে তো? তার মাঝে সেনাকর্মকর্তাদের পরিবারবর্গের হাহাকার আর ক্রন্দন ধ্বনি প্রায়ই স্তব্ধ করে দিচ্ছে সব আলোচনার অনুষঙ্গ। এখনো কেউ মেনে নিতে পারছে না, এ রকম একটি ভয়াবহ ঘটনা ঘটতে পারে বাংলাদেশে। এখনো পিতৃমাতৃহারা শিশুর ক্রন্দন চারপাশে কানে বাজে। যে পৈশাচিক নারকীয়তায় হত্যা করা হয়েছে ৬৩ জন চৌকস দক্ষ সেনাকর্মকর্তাকে, সে বীভৎসতা স্মরণ করলে এখনো গা শিউরে ওঠে প্রতিটি মানুষের। তার পরও দেশের সচেতন মানুষের আশা ছিল প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সব বিডিআর সদস্য ও তাদের মদদদাতাদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে এবং তাদের এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে যে, ভবিষ্যতে কেউ আর এ ধরনের হঠকারী বর্বরোচিত ও পৈশাচিক কোনো ঘটনার জন্ম দেয়ার কথা ঘুণাক্ষরেও কল্পনা করতে পারবে না।
কিন্তু সে আশা কি ম্রিয়মাণ হয়ে আসছে? গত এক সপ্তাহের ঘটনাবলি পর্যালোচনা করলে সে সংশয় কেবলই ঘনীভূত হতে থাকে। আমরা ঘটনাগুলোকে স্মৃতি অনুসরণ করে একটু ঝালিয়ে দেখতে পারি।
২৫ ফেব্রুয়ারি বিডিআর সদর দফতরে নৃশংস হত্যাকাণ্ড মোকাবেলায় বিলম্ব করে প্রকৃতপক্ষে হত্যাকারীদের আরো অধিকসংখ্যক সেনাকর্মকর্তাকে হত্যার সুযোগ করে দেয়া হয় বলে অভিযোগ। বলা হয়েছে, মেজর জেনারেল শাকিল বিদ্রোহের ঘটনা ঘটার সাথে সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোনে তার বিপদের কথা জানিয়েছিলেন। ওই বিপদের কথা তিনি জানিয়েছিলেন র্যাবে তার এক সহকর্মীকেও। প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনী প্রধানকে ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলেছিলেন। সেনাবাহিনী প্রধান বলেছিলেন, এই ব্যবস্থা গ্রহণে কমপক্ষে তার ২ ঘণ্টা সময় লাগবে। এ কথা তিনি সেনাবাহিনী প্রধানের সামনেই বলেছেন। ২ ঘণ্টা পর তাহলে সেনাবাহিনী আঘাত করল না কেন? বরং ৫ ঘণ্টা পর কেন এই নৃশংস হত্যাকারীদের সাথে ট্রেড ইউনিয়ন কায়দায় আলোচনায় বসলেন প্রধানমন্ত্রী? তিনি জাতির উদ্দেশে তার ভাষণে সেনাঘাতকদের এই বলে সতর্কও করে দিয়েছিলেন, অস্ত্রসমর্পণ করে ব্যারাকে ফিরে না গেলে সেনাঘাতকের বিরুদ্ধে তিনি কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য হবেন। তার পরও বিদ্রোহী বিডিআর ঘাতকরা অস্ত্রসমর্পণ করেনি এবং লুকিয়ে থাকা সেনাকর্মকর্তাদের খুঁজে বের করে নৃশংস বর্বরতায় হত্যা করেছে।
এই খুনিদের প্রতিনিধি হিসেবে বিডিআর’র
উপ-সহকারী পরিচালক তৌহিদুল আলমকে জামাই আদরে নিয়ে আসা হয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। প্রধানমন্ত্রী তাদের সাথে দীর্ঘ আলোচনা করে নিরাপদে আবার পিলখানায় বিডিআর সদর দফতরে ফেরত পাঠিয়ে দেন। এই ঘাতকদের কাছে তখন জানতে চাওয়া হয়নি কোথায় তাদের কমান্ডার, কতজনকে তারা খুন করেছে? আর কতজন জীবিত আছে? তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থাই বা কী? সৌহার্দ?78;ূলক পরিবেশে আলোচনা শেষে ঘাতকরা পিলখানায় ফিরে যাওয়ার পরও সেনাকর্মকর্তাদের হত্যা করা হয়েছে। এর পর দফায় দফায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা ঘাতক বিডিআর সদস্যদের সাথে আলোচনা করেছেন। তার পর মধ্য রাতে হাতে চাবির গোছা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, সবাই অস্ত্রসমর্পণ করেছে। সব হাতিয়ার অস্ত্রাগারে জমা দিয়ে এই যে আমি চাবি নিয়ে এসেছি।
পিলখানায় ঘাতকরা এই দীর্ঘ সময় হাতে পাওয়ায় তারা নিহত সেনাকর্মকর্তাদের লাশ সুয়ারেজ লাইনে ফেলে দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, অনেকের লাশ পুড়িয়ে ফেলেছে এবং বিশাল বিশাল চারটি গণকবর খুঁড়ে সেনাকর্মকর্তাদের লাশ সেই গণকবরে চাপা দিয়ে এমনভাবে উপস্থাপন করেছে, এর নিচে যে গণকবর আছে তা যেন বোঝাই না যায়। দীর্ঘ সময় হাতে পাওয়ায়ই পিলখানায় গণহত্যার হোতারা এমন অপকর্মের সুযোগ পেয়েছে।
সে কথা বিবেচনায় রেখেই অনেকেই বলেছেন, ঘাতকদের সময় দেয়া কোনো মতেই সঠিক হয়নি। কেউ কেউ বলেছেন, সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা পেয়ে ঘাতকরা নতুন করে হত্যাযজ্ঞে মতে ওঠে।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা না করলে হত্যাকারীরা সেখানে অবস্থানরত সেনাকর্মকর্তাদের পরিবারবর্গের ওপর আরো ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ পরিচালনা করত। তাদের জীবন রক্ষার স্বার্থেই তিনি ঘাতকদের সাথে আলোচনায় বসেছিলেন এবং সে ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এটাও একটা যুক্তি বটে, এ যুক্তি রাজনৈতিক। কিন্তু কোনো সমর বিশেষজ্ঞই এ যুক্তি মেনে নেননি। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, ঘটনা ঘটার সাথে সাথেই যদি অধিকতর শক্তিশালী সেনাবাহিনীকে অ্যাকশনে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হতো তাহলে প্রথম দিকে এই হত্যাযজ্ঞে অংশগ্রহণকারী বিডিআর সদস্যরা আত্মসমর্পণে বাধ্য হতো। তাতে এত বিপুলসংখ্যক সেনাকর্মকর্তার প্রাণহানি ঘটত না।
এ দিকে বিডিআর’র এই হত্যাযজ্ঞের সমর্থনে বিডিআর’র একাধিক গেটে মিছিলের আয়োজন করা হয়। একাধিক টেলিভিশন চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারের সময় টিভি রিপোর্টাররা জানান, বিডিআর’র অনেক জওয়ান পোশাক পাল্টে ওই মিছিলে শরিক হয়ে পালিয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী ওই মিছিলের জন্য বিরোধী দলকে দায়ী করার প্রয়াস পেয়েছেন। এ প্রয়াস নিতান্ত হাস্যকর। বিডিআর’র কোনো গেট দিয়েই যাতে কোনো ঘাতক পালিয়ে যেতে না পারে, সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ছিল সরকারের, কোনো অবস্থাতেই বিরোধী দলের নয়। তার পরও কেন প্রধানমন্ত্রী তার চিরাচরিত রহস্যময় ভাষায় সে দায়ও বিরোধী দলের ওপর চাপানোর প্রয়াস পেলেন। সেটা রহস্যজনকই হয়ে রইল।
বিকেলের দিকে হঠাৎ করেই টেলিভিশনের সংবাদে প্রচার করা হলো, ধানমন্ডি এলাকা থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সংসদসদস্য ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস বিডিআরের গেটগুলো থেকে তিন কিলোমিটার পর্যন্ত সব বাসিন্দাকে এলাকা ছেড়ে নিরাপত্তার স্বার্থে চলে যেতে বলেছেন। এ ব্যাপারে তিনি পুলিশ প্রশাসনেরও সহযোগিতা চান। নিউমার্কেট এলাকায় মসজিদের মাইক থেকেও ঘোষণা করা হয়, এলাকাবাসী যেন তিন কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকা ছেড়ে চলে যায়। পরে পুলিশও জনগণকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘোষণা দিতে থাকে। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ধরনের কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি। সাধারণ মানুষ টাকা-পয়সা, অলঙ্কারাদি, সন্তান-সন্ততি নিয়ে বাড়িঘর ছেড়ে রাজপথে ছুটে বের হয়ে আসে। সে ভোগান্তির চিত্র আমরা টেলিভিশনের পর্দায় দেখেছি। যানবাহন নেই। পালানোর পথ নেই। কেবলই রুদ্ধশ্বাসে ছুটে যাওয়া। সরকারের তরফ থেকে বলা হয়নি, এভাবে পালানোর কোনো প্রয়োজন নেই।
পলায়নপর বিডিআর সদস্যদের আটক করার নূ?72;তম কোনো সদিচ্ছা যদি সরকারের থাকত তাহলে মিছিলে মিশে যাওয়া বিডিআর সদস্যদের আটক করা যেত কিংবা কারফিউ দিয়ে বিডিআর গেটের বাইরে তাদের ধরে ফেলা সম্ভব হতো। তা না করে এলাকাবাসীকে ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলা হলো কোন বিবেচনায়। তখন সন্ধ্যা ঘন হয়ে গেছে, মন্ত্রীরা বিডিআর সদর দফতরের ভেতরে আলোচনা করছেন, বাইরে সেনাবাহিনীর ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া বহর মোতায়েন ছিল। কিন্তু পাঁচ নম্বর গেট এলাকায় কিছুই ছিল না। বিডিআর সদর দফতরের ভেতরে ছিল ঘুটঘুটে অন্ধকার। বাইরের লোকজন সরিয়ে দেয়া হয়েছে, সেনাবাহিনীর ভেতরে প্রবেশ তখনো নিষেধ। আর এই সুযোগে নির্বিঘ্নে হাজার হাজার বিডিআর সদস্য নিরস্ত্র বা সশস্ত্র অবস্থায় পালিয়েছে। তবে কি ঘাতক বিডিআর সদস্যদের পালানোর পথ সুগম করার জন্যই এতসব আয়োজন করা হয়েছিল? সাধারণ মানুষের কাছে এ প্রশ্নেরও কোনো সদুত্তর নেই।
এ প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের ওপর আরেক দফা চড়াও হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের এত বড় বিপর্যয়ের সময় কেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলসহ সব রাজনৈতিক দলকে পরামর্শের জন্য ডাকা হলো না, এর জবাবে তিনি যেন ঠাট্টা-মশকারাই করলেন। তিনি বললেন, এটা আমার ছেলের বা মেয়ের বিয়ে নয় যে কাউকে ঘটা করে দাওয়াত দিতে হবে। যারা ফিল করেছে তারা নিজেরাই গিয়ে বিডিআর গেটে হাজির হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি পতিত স্বৈরাচারী ও বর্তমান সরকারের দোসর হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করেন। এরশাদ বিডিআর গেটে গিয়ে বিদ্রোহী জওয়ানদের সাথে কোনোরূপ আলাপ-আলোচনায় অংশগ্রহণ করেননি। বরং তার আপন বোনের ছেলে, পিলখানায় জিম্মি সেনাকর্মকর্তার জন্য মামা হিসেবে উদ্বেগে অপেক্ষা করছিলেন।
সন্দেহ নেই, বিয়ের দাওয়াতের প্রসঙ্গে তিনি বিরোধীদলীয় নেত্রী ও তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেই বোঝাতে চেয়েছেন। বিডিআর গেটে গিয়ে বেগম খালেদা জিয়া কী করতে পারতেন? তিনি কি বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যদের সাথে আলোচনায় বসতে পারতেন? তিনি কি তাদের কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে পারতেন? তিনি কি বাইরে অপেক্ষমাণ সেনাবাহিনীকে বিডিআর গেট ভেঙে হামলা করতে বলতে পারতেন? নাকি সেনাসদস্যরা তার নির্দেশ মানত? এর কোনোটাই হতো না। তাহলে ‘বিয়ের দাওয়াতে’ তার সেখানে গিয়ে কি লাভ হতো? জাতির এই সঙ্কটকালে সরকার যদি সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে বসে পরামর্শ করে ঐক্যের সিদ্ধান্ত নিত, তাহলে সম্ভবত এর চেয়ে ভালোভাবে এবং অনেক কম রক্ত ক্ষয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলা করা সম্ভব হতো।
এ দিকে এ ঘটনা নিয়ে সরকার দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। প্রথমেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনকে প্রধান করে একটি ‘উচ্চপর্যায়ের’ তদন্ত কমিটি গঠন করে সরকার। সেই কমিটির অন্য সদস্যরা ছিলেন আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন মহাপরিচালক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব ও একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল। এই কমিটি গঠনের পরপরই সচেতন মহল থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়, তদন্ত কাজ অনুষ্ঠানের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইন প্রতিমন্ত্রীকেও জেরা করার প্রয়োজন হতে পারে। তাদের নিয়েই সরকার যখন তদন্ত কমিটি গঠন করল তখন আরো একবার সন্দেহ ঘনীভূত হলো যে, সরকার কী সত্যি সত্যিই তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও দোষীদের শাস্তি বিধান করতে চায়? নাকি অপরাধীদের আড়াল করতে চায়? এমন প্রশ্ন ও বিভিন্ন মহলের চাপে সরকার শেষ পর্যন্ত সাবেক সচিব আনিসুজ্জামান খানকে প্রধানকে করে অপর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এগারো সদস্যের এই নতুন তদন্ত কমিটিতে সশস্ত্র বাহিনী ও বিডিআর থেকে মোট পাঁচজন, পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এবং বেসামরিক প্রশাসন থেকে চারজন সদস্য নিয়ে ওই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি সবার কাছেই মোটামুটি গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়। কিন্তু এই কমিটির টার্মস অব রেফারেন্স নিয়ে আবারো সংশয় সৃষ্টি হয়েছে যে, পিলখানায় সেনা হত্যাযজ্ঞের প্রকৃত তদন্তে সরকার কতটুকু আন্তরিক ও স্বচ্ছ। এই কমিটির টার্মস অব রেফারেন্সে বলা হয়েছে, ঘটনার পটভূমির কারণ উদঘাটন ও প্রাসঙ্গিক বিষয়ে তদন্ত করে কমিটি সরকারকে সুপারিশ প্রদান করবে। অর্থাৎ এই কমিটির দায়িত্ব হলো ঘটনার পটভূমি এবং তার কারণ অনুসন্ধান। দোষীদের চিহ্নিত করা এই তদন্ত কমিটির কাজের অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী ব্যক্তিরা শেষ পর্যন্ত দৃশ্যপটের আড়ালেই থেকে যেতে পারে। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, সরকার সে ধরনের কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে এই তদন্ত কমিটি গঠন করেনি। সে ক্ষেত্রে এই তদন্ত কমিটির টার্মস অব রেফারেন্স অবিলম্বে পরিবর্তন করা দরকার।
এ দিকে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে সরকার অপারেশন রেবল হান্ট নামে আরো একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করবে। সে ক্ষেত্রেও সরকার বিষয়টিকে অনেকখানি সীমাবদ্ধ করে ফেলেছে। তাতে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনী শুধু হত্যাকাণ্ডে জড়িত বিডিআর সদস্যদেরই গ্রেফতার করতে পারবে, অন্য কাউকে নয়।
একথা এখন সবাই স্বীকার করছেন, পিলখানায় গণহারে সেনাকর্মকর্তাদের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে এক বিশাল ষড়যন্ত্র। তাই যদি হয়ে থাকে, তাহলে মাত্র গুটিকয়েক বিডিআর সদস্য এ কাজ করেছে সেটা মনে করার কোনো কারণ নেই। এর পেছনে বিডিআর ছাড়াও আরো অনেকেরই জড়িত থাকার কথা। সুতরাং সেনাবাহিনীর এখতিয়ারও সীমিত করায় সরকারের সদিচ্ছা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
আমরা চাই, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার স্বার্থে এই পৈশাচিক ও নারকীয় হত্যাযজ্ঞের সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। দোষীদের চিহ্নিত করে তাদের এমন শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে দেশকে কেউ আর এমন বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিতে না পারে।
(লেখক -- -----ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী )

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

