somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমরা প্রচারণা ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের শিকার --- মাসুদ মজুমদার

১২ ই মার্চ, ২০০৯ ভোর ৬:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


প্রত্যক্ষ যুদ্ধ শুরুর আগে পরোক্ষ যুদ্ধ শুরু করা সনাতনী কৌশল। মিথ্যা প্রচারণা ও কল্পিত অভিযোগে অভিযুক্ত করা এ কৌশলেরই অংশ। ইরাক ও আফগানিস্তান আগ্রাসনে প্রথমে সেই কৌশলই প্রয়োগ করা হয়েছিল। প্রতিপক্ষের মনোবল ভেঙে দেয়ার জন্য এ কৌশল অবলম্বন করা হয়। এর এক নাম স্নায়ুযুদ্ধ। স্নায়ু যুদ্ধের প্রাথমিক পদক্ষেপ হচ্ছে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ কৌশল। মিথ্যা প্রচারণানির্ভর এ কৌশল দিয়ে প্রতিপক্ষকে ধোঁকা দেয়া হয়। বোকা বানানো হয়। মনোবল ভেঙে দেয়ার জন্য এ কৌশলটি বাস্তবায়ন করার জন্য এখন ইন্টারনেট, ই-মেইল, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাথে বই-পুস্তক প্রকাশনার ওপরও জোর দেয়া হয়। দক্ষিণ এশিয়ায় এখন সাম্রাজ্যবাদী ও তার মিত্ররা সে ধরনের একটি যুদ্ধ চাপিয়েছে। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার জনগণ একটি অস্বস্তিকর পরিস্খিতির মধ্যে পড়েছে। বিশেষত এ অঞ্চলের কয়েকটি দেশের জাতীয় অঙ্গনে পর পর ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা পরিস্খিতিকে অনেক বেশি ওলট-পালট করে দিয়েছে। ওলট-পালট করা এসব ঘটনার দুর্বল দিকটি কাজে লাগাচ্ছে সাম্রাজ্যবাদী ও সম্প্রসারণবাদী শক্তি। এ সুযোগের আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ভারতীয় প্রভাবাধীন বিভিন্ন মিডিয়ায় ঘটমান পরিস্খিতির নানামুখী বিশ্লেষণ তুলে ধরা হচ্ছে। এ বিশ্লেষণগুলো করছেন ভারতীয় বুদ্ধিজীবীরা। এসব বিশ্লেষণে ধারণা দেয়া হচ্ছে, এক সময় এ জাতিরাষ্ট্রগুলো অকার্যকর হয়ে কিংবা বিলীন বা বিলুপ্ত হয়ে বৃহৎ ভারতের উথান ঘটাবে। সমস্যা দাঁড়িয়েছে স্বপ্ননির্ভর হয়ে ভারতীয় মিডিয়া ঘটনার বিশ্লেষণ করছে নিজ নিজ অবস্খান থেকে। প্রাজ্ঞ গবেষক সেজে তারা বোঝাতে চাচ্ছে­ এটি হবে স্বাভাবিক ও অনিবার্য পরিণতি। তা ছাড়া যারা ঘটনার যেমন পরিণতি কামনা করছেন, মনগড়া বিশ্লেষণ করে তারা পরিস্খিতিকে সে দিকেই নিয়ে যেতে চাচ্ছেন। তবে তাদের একটি অভিন্ন সুর আছে। সেই সুর হচ্ছে রাষ্ট্র কেন অকার্যকর হয় কিংবা ব্যর্থ হয় সেই ব্যর্থতার দায় বর্তানো হয় জাতিরাষ্ট্রগুলোর ওপর। এ লক্ষ্যে প্রণীত বই-পুস্তক ও প্রবìধ-নিবìধ পড়লে মনে হবে অল্প ক’দিনের মধ্যে এ অঞ্চলের সব মানচিত্র পাল্টে যাবে। কিন্তু ভারতের মানচিত্র পাল্টাবে না, শুধু সম্প্রসারিত হবে।
সে কারণেই ভারতীয় পত্রিকার ভাষ্য মতে, ঢাকা, লাহোর ও মুম্বাইয়ের হামলার যোগসূত্র এক। তারা এর সাথে শুধু জঙ্গি-মৌলবাদী শক্তির ইìধন দেখতে পাচ্ছেন। আসলে তারা নিজেদের মানচিত্রের দিকে তাকান না। ইতিহাসের পথেও হাঁটেন না। একধরনের ভারততত্ত্ব প্রচার করেন। লাহোরে ক্রিকেটারদের ওপর হামলার ধরনের সাথে মুম্বাই হামলার একটি মিল থাকতেও পারে। কারণ কমান্ডো হামলার ধরনের সাথে একটি অপরটির সাথে মিলে যায়। অথচ ভারতের মাটিতে রক্ত ঝরলে তারা ভাবে চন্দনতিলক। অন্যত্র কলঙ্কতিলক। অথচ ঘটনাপরম্পরায় মনে হয় এর সাথে ভারতের ভাষায় বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং স্বাধীনতাকামী কোনো চরমপন্থী জঙ্গি গ্রুপের সম্পর্ক থাকা যেমন সম্ভব, তেমনি সম্ভব রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো চক্রেরও। সমস্যা দাঁড়িয়েছে ভারত নিজস্ব ইস্যুকে প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের খেলার বলের মতো অন্যের কোর্টে ছুড়ে দিতে চায়। এটা তাদের ভাষায় কূটনৈতিক পারদর্শিতা। অন্যদের ভাষায় অবিশ্বস্ত কূটনীতি। ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার সাথে ঢাকার বিডিআর বিদ্রোহ কিংবা লাহোর ট্র্যাজেডির সাথে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী হত্যার মিল কিভাবে হতে পারে তা বোধগম্য নয়। কিন্তু ভারতীয় বুদ্ধিজীবীদের উর্বর মস্তিষ্কে সেটি সম্ভব। বিষয়টাকে বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য তারা প্রথমে বìধু সাজে, পরে নিজেদের তত্ত্ব ঝাড়ে। অনেক প্রশ্ন ও সম্ভাব্যতা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। আশা করা যায় ষড়যন্ত্রের জট অল্প হলেও খুলবে। তবে এটা তো বুঝতে অসুবিধা নেই এটি সেনা কিলিং মিশন। এ মিশন কাদের স্বার্থ সংরক্ষণ করে।
ষড়যন্ত্র হোক আর কিলিং মিশন হোক ঢাকায় বিডিআর বিদ্রোহে নেপথ্য শক্তির স্বরূপ উন্মোচন তদন্তসাপেক্ষ বিষয়। কিন্তু এর সাথে প্রকাশ্যভাবে সংশ্লিষ্টদের পরিচয় গোপন নেই। যেমন ছিল না জেএমবি’র ক্ষেত্রে। কিন্তু লাহোর-মুম্বাই ষড়যন্ত্র পুরোটাই ধোঁয়াটে রয়ে গেছে। তা ছাড়া ইìধনদাতা ও মদদদাতারা নিছক মৌলবাদী অথবা কোনো জঙ্গিবাদী গোষ্ঠী, বিদ্রোহের ধরন সেটা প্রমাণ করে না। আমরা চাই না প্রকৃত অপরাধী আড়ালে থাকুক। তাই প্রচারণার ধরনের গভীরতা মাপতে হচ্ছে। এ গভীরতা আমাদের দৃষ্টিকে বাইরে নিক্ষেপেরও তাড়া দিচ্ছে। বিডিআর বিদ্রোহের সাথে দেশবিরোধী একটি গভীর ষড়যন্ত্রের চরিত্র স্পষ্ট। কিন্তু লাহোর ও মুম্বাই ঘটনার রাজনৈতিক চরিত্র এখন পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। সেই চরিত্র স্পষ্ট না করে তত্ত্ব প্রচার প্রমাণ করে, অপরাধ করানো হচ্ছে তত্ত্বকে যুক্তিগ্রাহ্য করার জন্যই। শত সহস্র সমস্যা নিয়েও ভারত গণতন্ত্রের কফিনটা অন্তত পাহারা দিচ্ছে। এটি তাদের কৃতিত্ব। সাফল্যও। এ সাফল্য নিশ্চিত করতে তারা অন্যদের গণতন্ত্র নিয়ে খেলবে তা তো হয় না।
এটা ঠিক যে, বাংলাদেশ দু’বছর পর গণতন্ত্রের পথে পুন:যাত্রার সুযোগ পেয়েছে। পাকিস্তানও সেনাশাসন থেকে গণতন্ত্রে উত্তরণের জন্য নির্বাচিত সরকার গঠন করেছে। নেপাল রাজতন্ত্র হটিয়ে গণতন্ত্রের পথে। শ্রীলঙ্কা সম্প্রতি তামিল বিদ্রোহের স্নায়ুকেন্দ্রগুলোতে মরণ কামড় বসিয়েছে। অদূরে আফগানিস্তান অশান্ত। অপর প্রান্তে মিয়ানমারও সামরিক শাসনকবলিত। সেই বিবেচনায় দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় দেশ ভারত। গণতন্ত্র নিয়ে তাদের অহম প্রকাশের সুযোগ আছে। তা ছাড়া ভারতে সামরিক বাহিনী, আধা সামরিক বাহিনী কিংবা অন্য কোনো মিলিশিয়া বাহিনী এ মুহূর্তে বিদ্রোহ করেনি। বরং ভারতের সামরিক শক্তি গণতন্ত্রায়ণকে সহযোগিতা দিচ্ছে। সেখানে স্বাধীনতাকামী যারা ভারতের ভাষায় বিচ্ছিন্নতাবাদী তাদের নিরবচ্ছিন্ন তৎপরতা চলছে। সেনাবাহিনী সেসব আন্দোলন দমনে সদা তৎপর। অপর দিকে শ্রীলঙ্কাও তামিল বিদ্রোহ নিয়ে উদ্বেগ উৎকণ্ঠায়। ভারতের জন্য এখনো বাড়তি সুবিধা হচ্ছে ভারতীয় বাহিনী মাথা নাড়ছে না বরং সব প্রেক্ষাপটে ভারতের সেনাবাহিনী প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্রের সেবায়েত হয়ে সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্ব পালন করছে। তার পরও ভারতের ভেতর-বাইরে যেকোনো সন্ত্রাসী হামলায় যেকোনো ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপ সংশ্লিষ্ট থাকতে পারে। তাদের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ ইìধন থাকতে পারে। ভারতের মুম্বাই হামলার স্বরূপ অচিহ্নিত থাকার প্রেক্ষাপটে সে ধরনের সন্দেহ অমূলক নয়।
এটি ভারত সরকার এবং ভারতীয় গোয়েন্দা বাহিনীর চৌকস ভূমিকা ও সাফল্যের প্রমাণ নয়। ভারতের মাটিতে ভারতীয় সন্ত্রাসীরা যেমন সক্রিয় থাকতে পারে, তেমনি লাহোর ট্র্যাজেডির সাথে আফগানিস্তানের কোনো বাহিনীর সংযোগ থাকাও সম্ভব। সম্ভব শ্রীলঙ্কান বিদ্রোহীদের সংযোগও। কিন্তু ঢাকার বিডিআর বিদ্রোহ না সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, না জঙ্গি হামলা। এটি আধা সামরিক বাহিনীর বিদ্রোহ। তাদের ভেতর ঢুকে তাদেরকেই ব্যবহার করে ষড়যন্ত্রকারীরা এত বড় নৃশংস ঘটনার জন্ম দিতে পারে। আমাদের দেশে পঞ্চম বাহিনীর রাজনীতি সক্রিয়। তাই অন্তর্ঘাতের সাথে বহি:শত্রুর সম্পর্ক থাকা অসম্ভব নয়। এ ধরনের মূল্যায়ন কিংবা বিশ্লেষণই অধিকতর যুক্তিযুক্ত। এ কারণেই বিশ্লেষকদের মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে, ভারতীয় মিডিয়া যা করছে, বুদ্ধিজীবী ও সাবেক সমরবিশারদরা যা বলতে চাচ্ছে, তা উদ্দেশ্যহীন নয়। নিকটতম প্রতিবেশীদের অশান্ত করে দিতেই একটি অঘোষিত মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে প্রতিবেশীদের জড়িয়ে দিতে এসব করা হচ্ছে না তা কিভাবে সন্দেহমুক্ত থাকা যায়। ভারতীয়রা নিজেদের মানচিত্রের দিকে কমই তাকায়। নিজেদের মানচিত্রের দিকে না তাকিয়ে তারা বিশ্লেষণ করে বুঝাতে চাচ্ছে প্রতিবেশীরা সন্ত্রাসে ক্ষতবিক্ষত, মৌলবাদ-জঙ্গি সন্ত্রাসী উপদ্রুত, তাই রাষ্ট্র হিসেবে তারা ব্যর্থতার দ্বারপ্রান্তে। তাদের রাষ্ট্রব্যবস্খা অকার্যকর। অতএব তাদের ভবিষ্যৎ নেই। তারা নিজেদের স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রেও অপারগ। এ ধরনের একটি মনস্তাত্ত্বিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধ আরোপ করার জন্যই তারা বই লিখছে। ভারত সরকার নিজ দেশের জনগণকে সে দেশের স্বাধীনতাকামীদের সম্পর্কে কমই জানতে দেয়। নিজেদের অবস্খান ও অবস্খা আড়াল করতে তারা বিনোদন সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। সমপরিমাণ গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিবেশীদের অস্খির করে দিতে। শঙ্কা ও উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, এসব ভারতীয় লেখক-বুদ্ধিজীবী, সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তারাই বই লিখে, প্রবìধ-নিবìধ ছেপে, সংবাদ প্রকাশ করে বুঝাতে চাচ্ছে ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো দুর্বল। অন্তর্দ্বন্দ্বে ক্ষতবিক্ষত। অতএব এক সময় ‘ইন্ডিয়া ডকট্রিনই’ কার্যকর হওয়ার আলামত দেখা দিয়েছে। বাহ্যিকভাবে যা-ই বলুক ভেতরে ভেতরে ভারতীয়রা একটি কঠিন হীনমন্য রোগে আক্রান্ত। তারা ধরেই নিয়েছে প্রতিবেশী স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশগুলো সুখে আছে, এটি ভারতের জনগণ জানতে পারলে বিদ্রোহ-বিচ্ছিন্নতাবাদ আরো ছড়াবে। স্বাধীনতাকামীরা আশকারা পাবে। অনুপ্রেরণা পাবে। ভাববে সার্বভৌম শক্তির অহম নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলো শান্তি-স্খিতিতে থাকতে পারলে, তারা কেন নয়।
মানলাম, পাকিস্তান জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে বিব্রত। এর বিরুদ্ধে লড়াই করেও তারা বারবার হোঁচট খাচ্ছে। কিন্তু তারা সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণে সক্ষম নয়, এটা ঠিক নয়। যদিও পাকিস্তানকে খণ্ড-বিখণ্ড করার পশ্চিমা ষড়যন্ত্রে ভারতের মদদ স্পষ্ট। ভারত যেমন সেভেন সিস্টার, পাঞ্জাব দ্রোহ, শিখ অসন্তোষ, স্বাধীনতাকামী কাশ্মীর নিয়ে বিব্রত, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় কাবু, দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত, জাতপাতের কারণে শ্রেণীবৈষম্যের শিকার, তেমনি শ্রীলঙ্কাও তামিল নিয়ে বিব্রত। নেপাল বিব্রত মাওবাদী সরকারের সাফল্য-ব্যর্থতার অনিশ্চয়তা নিয়ে। বাংলাদেশও নিজস্ব সমস্যা ও ভারতসৃষ্ট কিছু ইস্যু নিয়ে বিব্রত। তাই ভারতীয় বুদ্ধিজীবীদের একাংশের ভাবনা হচ্ছে নিজেদের দুর্বলতা আড়াল করে মোটা দাগে ভারতীয়দের মগজে অন্যদের সমস্যা-সঙ্কটগুলো বড় করে বসিয়ে দেয়াই স্বার্থকতা। দুর্বলতা আছে তাই বলে পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, নেপাল ক্ষয়িষäু, দুর্বল, ব্যর্থতার গ্লানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে; দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ অìধকার­ এ ধরনের প্রচারণা কোনোভাবেই উদ্দেশ্যহীন নয়। দৃষ্টি ফেরানোর ও মনস্তাত্ত্বিকভাবে দুর্বল করার লক্ষ্যে এ ধরনের প্রচারণার গভীরতা, অভিসìিধ ও মতলব বোঝার সময় এসেছে। যারা এটি বুঝবে না তারাই পরিস্খিতির শিকার হবে।
স্মরণ রাখার বিষয় হচ্ছে, ঢাকা এত ষড়যন্ত্রের পরও জঙ্গি দমনে সাফল্য দেখিয়েছে। বিডিআর বিদ্রোহের ক্ষয়ক্ষতি ও বিদ্রোহ দমনের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও বিদ্রোহ দমনে সফল হয়নি এটা বলা যাবে না। সংখ্যায় এরা কত সে প্রশ্ন রেখেও বলা যায়, এসব ভারতীয়দের প্রচারণা ও বুদ্ধিজীবীদের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার অপেক্ষাকৃত ছোট অবয়বের দেশগুলোর বিরুদ্ধে আরোপিত একধরনের স্নায়ুযুদ্ধেরই অংশ ভাবতে হচ্ছে। এর অবসান হওয়া উচিত। একই সাথে অবসান হওয়া প্রয়োজন দক্ষিণ এশিয়াকে কেন্দ্র করে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির নতুন ষড়যন্ত্র। দক্ষিণ এশিয়ার জনগণ ও সরকারগুলোকে এ বিষয়ে সচেতন হওয়া খুবই জরুরি। তা ছাড়া জনগণের বোঝার বিষয় হচ্ছে, এসব ভারতীয়রা নিজেরা বাঁচতে অন্যদের মারতে চায়। তবে জোর দিয়ে বলব, এটা ভারতীয় সাধারণ জনগণের মত নয়। ভারতীয় জনগণ আমাদের জনগণের মতোই সাদামাটা ভাবতে চায়। সুখে শান্তিতে বসবাস করতে চায়। ভারতীয় নীতিনির্ধারক, সাম্প্রদায়িক শক্তি এবং কৌটিল্য শাস্ত্রের চাণক্য ভাবনার একটা ভীতি হচ্ছে­ ভারত তত দিনই শান্তি স্খিতিতে থাকবে, যত দিন প্রতিবেশীরা অস্খিতিশীলতায় থাকবে। এ তত্ত্ব ও ভাবনা ভারতকে সম্প্রসারণবাদী হতে উৎসাহী করেছে। সব ক’টি নিকটতম প্রতিবেশী দেশকে সামনে রেখে নিজস্ব ভাবনায় গোয়েন্দা কৌশল সাজিয়ে সমরনীতি প্রণয়ন করতে প্রেরণা জুগিয়েছে। ভারতীয় বুদ্ধিজীবী লেখকদের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ সেই সমরনীতিরই অংশ।
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×