বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক কে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দেশের বড় দু’টি রাজনৈতিক দল তথা জনগণের মাঝে চলছে বিবৃতি-পাল্টা বিবৃতি ও বাক বিতণ্ডা। ইলেকট্রনিক ও প্রেস মিডিয়াতে হচ্ছে নানা আলোচনা-সমালোচনা ও পর্যালোচনা। কিন্তু এ পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি।
অমিতাভ চৌধুরী, আবদুল গাফফার চৌধুরী, তুষার পণ্ডিত, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, বরুণ সেনগুপ্ত ও শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় রচিত বাংলা নামে দেশ বইখানা; যা ১৯৭২ সালে দ্বিজেন্দ্রনাথ বসু, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, ৪৫ বেনিয়াটোলালেন, কলকাতা-৯ কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছিল, তা থেকেই এ বিষয়ে সৃষ্ট বাদানুবাদের অবসান হবে বলে আমি মনে করি।
বইটির ভূমিকা লিখেছেন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান।
এটিকে একটি মূল্যবান দলিল হিসেবে উভয়েই উল্লেখ করেছেন।
দলিলটির ৮১ পৃষ্ঠায় বর্ণিত আছে ‘মুজিব গ্রেফতার। সর্বত্র সঙ্ঘশক্তি প্রায় তছনছ। এই শূন্য অবস্খাকে ভরাট করে তোলার জন্য মেজর জিয়া রোববার ২৭ মার্চ চট্টগ্রাম রেডিও থেকে অস্খায়ী সরকার ঘোষণা করলেন। তার প্রধান তিনি নিজেই। মনোবল বজায় রাখতে সব জেনেও বললেন, মুজিবের নির্দেশেই এই সরকার। তিনি যেমন বলছেন তেমন কাজ হচ্ছে।’ এখানে বইটির বিতর্কিত হান্নান বা অন্য কারো নামের উল্লেখ নেই।
ভূমিকায় বঙ্গবন্ধু স্বহস্তে লিখেছেন ‘১৯৭১ সালের ৭ মার্চ আমি ঘোষণা করেছিলাম, এই সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ তিনি ২৫ মার্চ রাতের প্রথম প্রহরের কথা লিখেননি।
দেশ এমনিতেই নানা বিপর্যয়ের সম্মুখীন। এ নিয়ে আর কাদা ছোড়াছুড়ি, হিংসাবিদ্বেষ জনগণের কাম্য নয়।
আবদুল গাফফার চৌধুরী যদি সত্যবাদী লেখক হিসেবে নিজেকে মনে করেন তাহলে এর সঠিক তথ্য প্রকাশ করে দেশ ও জনগণের স্বার্থে এই জটিলতার অবসান ঘটাবেন বলে আশা নিয়ে তার একটি বিবৃতির অপেক্ষায় রইলাম।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

