প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে একটা দুর্নীতির অভিযোগ ছাপা হয়েছিল আমার দেশ পত্রিকায়। লক্ষ করুন আমি ‘দুর্নীতির অভিযোগ’ বলেছি, ‘দুর্নীতির খবর’ নয়। এই দুইয়ের মধ্যে ফারাক আকাশ-পাতাল। অভিযোগ নিছক অভিযোগ। সেটা দিব্য সত্য নয়। পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে প্রমাণ পাওয়া গেলে অভিযোগ সত্য বলে বিবেচিত হয়। প্রমাণের অভাব ঘটলে সে অভিযোগ মিথ্যা সাব্যস্ত হবে। সেটাকে তখন আবর্জনার মতো পরিত্যাগ করতে হবে।
দুর্নীতি কেউ ঢাকঢোল পিটিয়ে, সাক্ষী রেখে কিংবা সবাইকে জানান দিয়ে করে না। দুর্নীতিবাজরা সবাই বোকা নয়। তাই দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ করাও সহজ নয়। তবু সবাই আমরা জানি, আমাদের পৃথিবীটা ধোয়া তুলসী পাতা হয়ে যায়নি। দুর্নীতি অহরহ ঘটছে। বহু ক্ষেত্রে তদন্ত হচ্ছে না এবং সত্য-মিথ্যা প্রমাণিত হচ্ছে না বলে আমজনতা গুজব ছড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে। গুজবের স্বভাব হলো, সেটা ক্রমেই তিলকেও তালে পরিণত করে। মানতেই হবে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিরপেক্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত হলে এবং মিডিয়া স্বাধীন, দক্ষ ও তৎপর হলে দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে সত্যাসত্য প্রমাণ করা বহু ক্ষেত্রেই সম্ভব।
এ হিসেবে আমি অবশ্যই ভাগ্যবান। ঊনচল্লিশ বছর বিলেতে আছি এবং এ দেশের মিডিয়ার জগতে বাস করছি। এ দেশের মিডিয়া অহরহ নিত্যনতুন দুর্নীতি কিংবা অন্য কোনো অন্যায়ের খবর ফাঁস করে দিচ্ছে। ব্রিটিশ রাজনীতিক এবং আমলারা বোকা নন। তাদের মধ্যে যারা দুর্নীতি করেন, স্বভাবতই গোড়ায় তারা সে অভিযোগ স্বীকার করতে চান না। অন্য দিকে এ দেশের ‘ইনভেস্টিগেটিভ’ সাংবাদিকরা সারা বিশ্বের মধ্যেই সেরা বলে বিবেচিত। কোনো একটা দুর্নীতি কিংবা অপরাধের গìধ পেলেই তারা তদন্ত শুরু করেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পেশাদার তদন্তকারীর সাহায্যও তাদের নিতে হতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আসল সত্যটি বেরিয়ে আসে। বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও শীর্ষ আমলাকে শেষ পর্যন্ত অপরাধ কবুল করে পদত্যাগ করতে দেখেছি।
‘বিনা আগুনে ধোঁয়া হয় না’, ‘যা রটে তার অর্ধেক সত্য বটে’ এ-জাতীয় বহু সার্থক প্রবাদ আমাদের বাংলা ভাষাতেও আছে। আলোচ্য বিষয়ে পেছনের ‘দুর্গìধ’টা ছিল, মার্কিন অতিকায় তেল কোম্পানি শেভরনকে বিনা টেন্ডারে সন্দেহজনক পন্থায় মোটা অঙ্কের একটা কন্ট্রাক্ট দেয়া। বর্তমান সরকারের আমলে টেন্ডার সন্ত্রাস বলে নতুন একটা কথা চালু হয়েছে। কিন্তু টেন্ডার ছাড়া মোটা অঙ্কের কন্ট্রাক্ট দেয়া উচিত কিংবা স্বাভাবিক নয়। যেটা অস্বাভাবিক ও অনুচিত, সেটা অন্য দশজনের মনোযোগ আকর্ষণ করবেই এবং করা উচিত। প্রধানমন্ত্রী হাসিনার পুত্রের নাম এ চুক্তির সাথে কিভাবে জড়িয়েছে, আমার জানা নেই। কিন্তু জড়িয়েছে বলেই সে সম্বìেধ পূর্ণ তদন্ত হওয়া উচিত।
স্নেহাìধ প্রবৃত্তি
সন্তানস্নেহ অত্যন্ত প্রবল সহজাত প্রবৃত্তি। ‘অপত্য স্নেহে অìধ’ কথাটাও সবারই পরিচিত। অনেক রাজনীতিক এবং সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান অতীতেও সন্তানদের দুর্নীতি নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন। গত বছর ব্রিটিশ মিডিয়া আবিষ্কার করে, একজন ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য কয়েক বছর ধরে তার দুই পুত্রকে নিজের সংসদীয় সহকারী হিসেবে দেখিয়ে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে মাইনে দিয়েছেন, অথচ সে সময় ছেলেরা দূরবর্তী বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণকালীন ছাত্র ছিলেন। ওই সংসদ সদস্য শেষ পর্যন্ত অপরাধ স্বীকার করেছেন এবং বলেছেন, আগামী নির্বাচনে তিনি আর প্রার্থী হবেন না।
গোল্ডা মেইয়ার ইসরাইলের ডাকসাইটে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তার পুত্রের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল এবং সেটা নিয়ে গোল্ডা খুবই বিব্রতকর অবস্খায় পড়েছিলেন। সে দেশের অন্য একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী অ্যারিয়েল শ্যারনের পুত্র এখনো দুর্নীতির দায়ে জেলে। সত্তর ও আশির দশকের ডাকসাইটে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মিসেস মার্গারেট থ্যাচারের পুত্র মার্কের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। বলা হয়ে থাকে, মায়ের প্রভাবে একাধিকবার তিনি কারাদণ্ড থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। স্ত্রী আমেরিকান বলে মার্ক থ্যাচার আমেরিকায় রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়েছেন।
কনিষ্ঠ পুত্র সঞ্জয়কে নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গাìধীর সমস্যার অবধি ছিল না। তার দুষ্কর্মে আমলাতন্ত্র অতিষ্ঠ ছিল। সঞ্জয় তার শখ অনুযায়ী হালকা উড়োজাহাজ চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনায় মারা যান। তখন দিল্লিতে ব্যাপক গুজব ছিল যে, প্রধানমন্ত্রীকে নিত্য বিব্রতকর অবস্খা থেকে রক্ষা করার জন্য একটি সরকারি গোয়েন্দা বিভাগ সে দুর্ঘটনাটি সাজিয়েছিল। সঞ্জয় গাìধীর দুষ্কৃতির কারণে ইন্দিরা গাìধীর পরিবার এখন যুধ্যমান দুই উপজাতির মতো বিভক্ত : রাজিব গাìধীর বিধবা স্ত্রী সোনিয়া গাìধী, তার পুত্র রাহুল আর কন্যা প্রিয়াঙ্কা কংগ্রেসের রাজনীতি করছেন, অন্য দিকে সঞ্জয়ের বিধবা স্ত্রী মানেকা গাìধী তার সন্তানদের নিয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন উগ্র হিন্দুপন্থী বিরোধী দল বিজেপিতে।
আমাদের বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারের আমলে দলের অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগে কান দেয়া হয়নি। বলা হয়ে থাকে যে, বহু অভিযোগের কথা প্রধানমন্ত্রীর কানে তোলার সাহস অনেকের ছিল না। সাধারণ মানুষের স্মৃতি দুর্বল হয়ে থাকে। রাজনৈতিক স্মৃতি অনেকেরই তার চেয়েও বেশি দুর্বল। কম্বলসহ অনেক কিছুর কিচ্ছকাহিনীর বিষয় এখনো বহু মানুষের স্মরণে রয়েছে।
রক্তপিপাসু যোদ্ধা
সার কথা হচ্ছে পিতা কিংবা মাতা উচ্চাসীন বলেই সন্তান যে সৎ ও সাধু হবে, এমন কোনো কথা নেই। তা ছাড়া স্নেহাìধ কথাটার অর্থ ও তাৎপর্য আমাদের সবারই জানা। প্রধানমন্ত্রীর পুত্রের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে বলেই আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব ও ক্যাডাররা তেড়ে আসবে সেটা সভ্যসমাজের পরিচায়ক নয়।
কোনো অভিযোগ যদি ওঠে তাহলে সেটা প্রকাশ করা মিডিয়ার কাজ। আলোচ্য খবরটা প্রকাশ করে দৈনিক আমার দেশ, সংশ্লিষ্ট সংবাদদাতা ও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক একটা নৈতিক দায়িত্ব পালন করেছেন মাত্র। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্ব ছিল যথাযথ তদন্ত করে অভিযোগটির সত্যতা-অসত্যতা অনুসìধান করা। যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ ‘ফিন্যান্সিয়াল ইনভেস্টিগেটর’ নামে পরিচিত বহু পেশাদার তদন্তকারী আছেন। প্রধানমন্ত্রীর পুত্রের জাগতিক বিষয়-সম্পত্তি খতিয়ে দেখে তারা সহজেই বের করতে পারবে শেভরন কোম্পানির কন্ট্রাক্ট প্রাপ্তি থেকে, অথবা অন্য কোনো দুর্নীতি থেকে, সজীব ওয়াজেদ জয় কোনোভাবে লাভবান হয়েছেন কি না। তদন্তে নির্দোষ সাব্যস্ত হলে লাভ জয়েরই হবে, তখন তার সুনাম রাহুমুক্ত হবে।
ইউরোপ-আমেরিকায় আয়করের হার, স্খানীয় কর ইত্যাদি এলাকাবিশেষকে জমি ও বাড়ির দাম, মোটরগাড়ি ও অন্যান্য উপকরণের মূল্য এতই স্বচ্ছ যে, ব্যক্তিবিশেষের লাইফ স্টাইল থেকে যেকোনো বুদ্ধিমান লোক বলে দিতে পারেন, সে ব্যক্তির লাইফ স্টাইল তার জ্ঞাত আয়ের সূত্রের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কি না। আইন প্রয়োগকারী বিভাগগুলোও (বিশেষ করে আয়কর ও শুল্ক বিভাগ) অনেক সময় সে বিবেচনা থেকে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। সে জন্যই প্রধানমন্ত্রী হাসিনার উচিত, তার প্রবাসী পুত্রের সুনামের খাতিরে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের পূর্ণ ও স্বচ্ছ তদন্ত করা। জয় নির্দোষ প্রমাণিত হলে তবেই শুধু আলোচ্য অভিযোগ ও গুজব স্খায়ীভাবে বìধ হবে। তত দিন পর্যন্ত এ সম্বìেধ তদন্ত চালিয়ে যাওয়া, নিদেনপক্ষে বিষয়টির প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ অব্যাহত রাখা সভ্য সমাজে মিডিয়ার কর্তব্য বলে বিবেচিত হয়।
কিন্তু বাংলাদেশে হচ্ছে বিপরীতমুখী কাণ্ডকারখানা। সরকারের একজন মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট সংবাদদাতার নিরাপত্তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছেন। মিডিয়ায় একদল ‘সাংবাদিক’ আছেন, যাদের সঠিকার্থে আওয়ামী লীগের ক্যাডার বলতেই হয়। তারাও ভিন্নমতাবলম্বী মিডিয়ার বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগ এবং হুমকিদানে ভূমিকা রাখছেন। দু-একজন আমার দেশ পত্রিকার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যে উচ্চ অঙ্কের মানহানির মামলা করছেন, সে অঙ্কটি সম্পর্কে নিশ্চয়ই তাদের সামান্যতম ধারণাও নেই। এক কালে জানতাম এ ধরনের মামলা করতে হলে সংশ্লিষ্ট অঙ্কের একটা শতকরা হার আদালতে কোর্ট ফি হিসেবে জমা দিতে হয়। সে নিয়মটি কি এখন বাংলাদেশে নেই?
স্টর্ম ট্রুপার ও ব্ল্যাক শার্ট
একটা প্রাচীন প্রবচন আছে : জমিদার যদি কাউকে ডেকে আনতে বলেন, পেয়াদা তখন লোকটাকে পিঠমোড়া বেঁধে পেটাতে পেটাতে নিয়ে আসে। আওয়ামী লীগে এ ব্যাপারটা ব্যাপকভাবে ঘটে থাকে। দায়িত্বশীল নেতারা কারো সমালোচনা করলে তার ওপর দ্বিগুণ উৎসাহে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। আমার দেশ পত্রিকার সংশ্লিষ্ট সংবাদদাতার প্রাণনাশের চেষ্টা হয়েছে। দুই মোটরসাইকেলে চারজন দুর্র্বৃত্ত ওই সাংবাদিকের গাড়ি অনুসরণ করে, ইট ছুড়ে গাড়ির ব্যাপক ক্ষতি করে, সংবাদদাতার পিঠে ইটের আঘাত লাগে। সৌভাগ্যবশত শেষ পর্যন্ত তিনি প্রাণ নিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন।
জার্মানিতে হিটলারের নাৎসিরা, তাদের পেশিশক্তি স্টর্ম ট্রুপাররা, ইতালিতে মুসোলিনির ফ্যাসিস্টরা, তাদের পেশিশক্তি ব্ল্যাক শার্টরা, ঠিক এ পন্থায় মিডিয়ার, লেখকদের ও চিন্তাবিদদের বাকস্বাধীনতা স্তব্ধ করে দিয়েছিল। ইতিহাস তাদের সম্পর্কে কী রায় দিয়েছে, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের কেউ বোধ করি সেটা ভেবে দেখছেন না। না হলে এ দলের মন্ত্রী, নেতা ও ক্যাডাররা নিশ্চয়ই এই আচরণ করতে সাহস পেত না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বলেছেন, কারো অপরাধ প্রমাণিত হলে তাকে শাস্তি দেয়া হবে। কথা হচ্ছে আওয়ামী লীগের লোকদের বিরুদ্ধে পুলিশ নাকি এজাহারও নেয় না, তাদের অপরাধ কিভাবে প্রমাণিত হবে? কিভাবে সাহারা খাতুন কাকে শাস্তি দেবেন? প্রধানমন্ত্রী হাসিনা সে সময় দেশে ছিলেন না। ফিরে এসে অপরাধীদের গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু কাজ হচ্ছে কোথায়? দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন মহল লক্ষ রাখবে, ওই সংবাদদাতাকে হত্যার চেষ্টাকারীদের কেউ গ্রেফতার হয় কি না এবং শাস্তি পায় কি না।
নেত্রীর পুত্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এসেছে, অতএব নেতাদের ও মন্ত্রীদের অìধভাবে জয়ের পক্ষ সমর্থন করতেই হবে এটা হচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতাদের আনুগত্যের মাপকাঠি। অভিযোগ এই যে, জয় জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহীর মধ্যস্খতায় শেভরন কোম্পানির কাছ থেকে পাঁচ মিলিয়ন (৫০ লাখ) ডলার উৎকোচ নিয়েছেন এবং তৌফিক-ই-ইলাহীও কিছু বখরা পেয়েছেন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত জ্বালানি উপদেষ্টার পক্ষ সমর্থন করেছেন, বলেছেন যে, তিনি অত্যন্ত সৎ লোক। তার প্রমাণ?
এক যাত্রায় পৃথক ফল
মুহিতের উদ্ভট যুক্তি এই যে, তৌফিক-ই-ইলাহী সর্বশেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেফতার হয়েছিলেন। সুতরাং তিনি সৎ ব্যক্তি। এটা অবশ্যি বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের ‘অকাট্য’ যুক্তি। ফখরুদ্দীন-মইন ইউ আহমেদের সরকারের আমলে আওয়ামী লীগ পক্ষের যারা গ্রেফতার কিংবা নির্যাতিত হয়েছেন তারা সবাই নির্দোষ; তাদের সবার ‘গোনাহ’ আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ইতোমধ্যেই ‘মাফ’ করে দিয়েছেন। সেই সাথে শেখ হাসিনাসহ শাসক দলের যাদের বিরুদ্ধে অতীতেও অভিযোগ আনা হয়েছে, চার্জ গঠন ও মামলা রুজু হয়েছে, সেগুলোও পাইকারিভাবে তুলে নিয়েছেন আইন প্রতিমন্ত্রী।
কিন্তু এখানে এক যাত্রায় পৃথক ফল হচ্ছে। বিরোধী দলগুলোর, বিশেষ করে বিএনপি’র যেসব নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সর্বশেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার যেসব অভিযোগ কিংবা মামলা করেছিল, হাসিনার সরকারের দৃষ্টিতে সেগুলো অকাট্য অপরাধ। তাদের কাউকে কাউকে এখনো জেলে কিংবা রিমান্ডে রাখা হচ্ছে, খালেদা জিয়ার পুত্রদেরসহ কারো কারো বিরুদ্ধে নিত্যনতুন মনগড়া অভিযোগ সাজানো হচ্ছে। কিন্তু এ সরকারকে এবং শাসক দলকে মনে রাখতে হবে, আরেকটা প্রবচন অনুযায়ী ‘এত অন্যায় মা ধরিত্রীরও সইবে না।’
সে যা হোক, আগামী শুক্রবার ইংরেজি নতুন বছর। সে বছরে আপনাদের সবার সুখ, সুস্বাস্খ্য ও সমৃদ্ধি কামনা করি।
লেখক : সিরাজুর রহমান বিবিসি খ্যাত সাংবাদিক ও কলামিস্ট

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

