এক হিসাবে সেসব কথা বলে তারা নিজেদের গা বাঁচিয়েছেন, নইলে মানুষ ফর্দ মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করত। দেখা যেত, আসলে প্রধানমন্ত্রী কিছুই পাননি। বরং ভারত যা যা চেয়েছিল সবই দিয়ে এসেছেন একতরফা। সফরের আগে একশ্রেণীর ভারতীয় মিডিয়া বলেছিল, এ সফরের ফলে বাংলাদেশ বিস্মিত, চমৎকৃত হবে। পরিহাসের অর্থে সেটা সত্যি হয়েছে। হাসিনা বাংলাদেশকে উপহার দিয়ে এসেছেন ভারতীয়দের। উপহার-উপঢৌকনের বিনিময়ে হাসিনা পেয়েছেন লাল গালিচা, স্তবস্তূতি, ‘ইন্দিরা গাìধী পুরস্কার’ এবং কিছু আপ্যায়ন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য সেটা সব সময়ই দেশের স্বার্থের চেয়েও বড় পাওনা। আর বাংলাদেশ? বাংলাদেশ পেয়েছে বাগাড়ম্বর এবং ‘ভবিষ্যতে সব কিছু পাওয়া’র প্রতিশ্রুতি।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এবং তাদের সমর্থক মিডিয়া ঢাকঢোল পিটিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। কিছু অসত্য কথাও বলছেন তারা। হাসিনা দিল্লিতে থাকতেই ঢাক পিটিয়ে তারা বলেছেন, ভারত বাংলাদেশকে ‘একশ’ বিলিয়ন (দশ হাজার কোটি) ডলার’ সাহায্য দিচ্ছে। ইশতেহারে আমরা দেখতে পাচ্ছি, একশ’ নয়, এক বিলিয়ন (একশ’ কোটি) ডলার। সেটাও দেয়া হচ্ছে ঋণ হিসেবে বাংলাদেশের নিজের কোনো প্রয়োজন মেটানোর জন্য নয়; ভারতের করিডোর এবং চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহারের উপযোগী করে সড়ক ও রেললাইন প্রশস্ত ও মজবুত এবং বন্দরের অবকাঠামোগুলো শক্তিশালী করার জন্য, আশুগঞ্জ বন্দর ভারতের ব্যবহারের উপযোগী করার জন্য। আর ঋণের ক্ষেত্রে যা স্বাভাবিক, এ ঋণ বাবদও বাংলাদেশকে সুদ দিতে হবে। তা ছাড়া এসব কাজের কন্ট্রাক্ট দুই দেশের জন্যই খোলা থাকবে। যেহেতু ভারতীয় কন্ট্রাক্টররা বেশি অভিজ্ঞ এবং বেশি সম্পদের মালিক, সেহেতু বেশির ভাগ কন্ট্রাক্ট তারাই পাবেন বলে ধরে নেয়া যায়। অর্থাৎ ভারতের টাকা ভারতের ঘরেই ফিরে যাবে। মাঝখান দিয়ে সুদের টাকা গুনবে বাংলাদেশ।
আপনাদের কি মনে আছে, গোড়ায় বলা হয়েছিল, আগরতলায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্খাপনে ভারী ও প্রশস্ত যন্ত্রপাতি আনার জন্য মাত্র একবার আশুগঞ্জ বন্দর ভারত ব্যবহার করতে চায়? কিন্তু এবার ১২ জানুয়ারি প্রকাশিত ইশতেহারে কী দেখছি আমরা? বলা হয়েছে, আশুগঞ্জ থেকে ভারতে ‘একবার অথবা দীর্ঘমেয়াদি ভাবে’ অতিকায় আকারের মাল নেয়ার জন্য আশুগঞ্জের অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়টি একটি যৌথ টিম বিবেচনা করবে।
ভারত অর্থনৈতিক পরাশক্তি হতে চলেছে। আমদানি-রফতানির জন্য বন্দরের প্রয়োজন তার অত্যন্ত তীব্র। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ, বন্দর দু’টির অবাধ ব্যবহারের অধিকার ভারতকে দান করে এসেছেন। বিনিময়ে কী দেবে ভারত? নেপাল ও ভুটানকেও এ দু’টি বন্দর ব্যবহারের জন্য সংযোগ পথ দিতে রাজি হয়েছে ভারত। বাংলাদেশের জন্যও এ দু’টি বন্দর ব্যবহার অপরিহার্য। তবে বিকল্প হিসেবে ভারতের কোনো বন্দর ব্যবহারের অধিকার বাংলাদেশকে দেয়া হচ্ছে না। কিন্তু ভারতের পণ্যের আগে বাংলাদেশী পণ্য আমদানি কিংবা রফতানির অগ্রাধিকার কি বাংলাদেশের থাকবে? ভারতের আমদানি-রফতানির গরজ মেটানোর আগে নেপাল ও ভুটানের পণ্য কি আমদানি বা রফতানি করা যাবে?
রেলযোগে এবং সড়কপথে ভারী কনটেইনার-ভর্তি ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে আনা-নেয়া হবে, সড়ক-রেলপথ ও সেতুগুলো প্রশস্ত ও দৃঢ় করতে হবে সে জন্য। সে কাজগুলো সম্পন্ন হবে সুদযুক্ত ভারতীয় ঋণের অর্থে, যে ঋণ কোনো না কোনো দিন বাংলাদেশকে সুদ সমেত শোধ করতে হবে। ভারী পণ্য চলাচলে সড়ক, সেতু ও রেলের যে ক্ষয়ক্ষতি হবে, তার মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় কে বহন করবে? দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে দীর্ঘ রেললাইন প্রশস্ততর করা এবং সম্ভবত ডবল লাইনও স্খাপন করা হবে।
তা ছাড়া ভারতের ‘স্পর্শকাতর’ পণ্যও চলাচল করবে এ পথে। ভারত হয়তো নাশকতা কিংবা দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য রেললাইন ও সড়কের উভয় দিকে কিছু জমি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে সংরক্ষিত করতে চাইবে। এর জন্য বিপুল পরিমাণ বাড়তি জমি ব্যবহৃত হবে। বাংলাদেশে জমির তীব্র সঙ্কট। বহু এলাকায় রেললাইনের পাশে বস্তি তৈরি করে মানুষ বাস করছে। সর্বত্রই মানুষ রেলপথের পাশে গরু কিংবা ছাগল চরায়। তারা সহজে সে সুযোগ ছাড়তে রাজি হবে কি? এই মানুষগুলো যাবেই বা কোথায়? তারা যদি প্রতিবাদ করে, ভারত নিশ্চয়ই তার পণ্যের নিরাপত্তার জন্য সৈন্য পাঠাবে, হয়তো সন্ত্রাস দমনে সহযোগিতার অজুহাত দেখিয়ে।
ঘোড়ার আগে গাড়ি
ইশতেহারে অত্যন্ত উদাত্তভাবে সার্ক চুক্তির এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার দোহাই দেয়া হয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আঞ্চলিক সহযোগিতার সর্বাত্মক প্রসারের লক্ষ্যেই সার্ক সংস্খাটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তার ধ্যান-ধারণা অনুযায়ী তখন থেকে সার্কের বিকাশ হতে দেয়া হলে এত দিনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো একটি অভিন্ন বাজার ব্যবস্খা গড়ে উঠতে পারত। তখন এক দেশের ভেতর দিয়ে অন্য দেশের চলাচল, পণ্য পরিবহন ইত্যাদি স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়াত। তেমন অবস্খায় বাংলাদেশের বন্দর ব্যবহার কিংবা বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে করিডোর সৃষ্টির ব্যাপারে কোনো সমস্যা সৃষ্টি হতো না। সে অবস্খায় ভারতের সড়ক, রেল কিংবা বন্দরের ভেতর দিয়ে সদস্যভুক্ত সব দেশের পণ্য চলাচলের পথ উন্মুক্ত হয়ে যেত। কিন্তু ভারত সার্কের পূর্ণ ও স্বাভাবিক বিকাশ হতে দেয়নি। বাংলাদেশ মুম্বাই কিংবা চেন্নাই বন্দর ব্যবহার করতে পারছে না। পাকিস্তানের সঙ্গে স্খলবাণিজ্যও করতে পারছে না বাংলাদেশ, নেপাল কিংবা ভুটান। অর্থাৎ সার্কের যে সুবিধাগুলো ভারতের বিশেষ প্রয়োজন, সেসব সুবিধা সে বেছে বেছে নিতে চায় সার্কের সর্বাঙ্গীণ বিকাশ না করেই। এটা প্রকৃতই ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ে দেয়ার সমতুল্য।
বর্তমানে বাংলাদেশের বড় প্রয়োজন ফারাক্কা দিয়ে শুকনো মৌসুমে আরো পানি পাওয়া, তিস্তা ও আরো ছয়টি নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা এবং টিপাইমুখে ভারতের বাঁধ তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি আদায় করা। শেখ হাসিনা নিজে ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী দেবগৌড়ার সঙ্গে ফারাক্কার পানি চুক্তি করে এসেছিলেন। কিন্তু সে চুক্তি অনুযায়ী ভারত কোনো দিনই বাংলাদেশকে পানি দেয়নি। এমনকি শেখ হাসিনা আবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেও নয়। তিস্তার পানি বন্টন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীরা আলোচনাই করেননি, চুক্তি তো দূরের কথা। ইশতেহারে শুধু বলা হয়েছে, যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক হবে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসের মধ্যে। নাম করে আরো কতগুলো নদী সংস্কারের কথা বলে তিস্তার প্রসঙ্গটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা হয়েছে বলেই মনে হয়।
ফাঁকা আশ্বাস
টিপাইমুখ প্রসঙ্গে ইশতেহারে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের স্বার্থের পক্ষে ক্ষতিকর’ কিছু করা হবে না বলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং আশ্বাস দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যদের একটা দল যখন ভারতে যান এবং টিপাইমুখের ওপর দিয়ে উড়ে আসেন, তখনও একই আশ্বাস দিয়েছিল ভারত। সেটা গতানুগতিক আশ্বাস বলতেই হবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী অথবা অন্য কোনো কর্মকর্তা কি কখনো বলবেন, তারা বাংলাদেশের ক্ষতি করতে চান? কিন্তু মনমোহন সিং এ কথা তো বলেননি যে, ভারত টিপাইমুখে বাঁধ তৈরি করবে না! অথচ সে আশ্বাসই প্রয়োজন বাংলাদেশের। ভারত যদি একবার বাঁধ তৈরি করে ফেলে এবং যদি দেখা যায় যে, তাতে বাংলাদেশের ক্ষতি হচ্ছে, তাহলে কি সে বাঁধ ভারত ভেঙে দেবে? ফারাক্কার ব্যাপারেও বাংলাদেশকে সে রকম আশ্বাস দেয়া হয়েছিল। বাস্তবে কী হয়েছে সে আশ্বাসের?
ছিটমহলগুলোর ব্যাপারেও ‘দুই দিন না খেয়ে থাকো, পরশু রুটি-মাখন আর জ্যাম দেব’ গোছের একটা ফাঁকা আশ্বাস দিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ১৯৭৪ সালের চুক্তির ব্যাপারে অগ্রগতি করার জন্য আমলাদেরকে বলা হবে। সে চুক্তি তো হয়েছিল শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারের আমলে। চুক্তিটা এখনই কার্যকর করার সিদ্ধান্ত কেন নেয়া হলো না দিল্লিতে?
গত মাসে কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত আবহাওয়া শীর্ষ সম্মেলনে গৃহীত উদ্যোগগুলোকে উভয় প্রধানমন্ত্রী স্বাগত জানিয়েছেন ইশতেহারের এ বাক্যটি আমার কাছে রীতিমতো ‘প্যাথেটিক’ (করুণা উদ্রেককারী) এবং অপমানকর মনে হয়েছে। কোপেনহেগেনে যা ঘটেছে, তার পূর্ণ বিবরণ কি এখনো দক্ষিণ এশিয়ায়, বিশেষ করে বাংলাদেশে পৌঁছায়নি? পরিবেশের উষäতা বৃদ্ধিকারক গ্যাস উদগীরণ হন্সাস করার জন্য সম্মেলনে বিপুলসংখ্যক যোগদানকারী দেশের দাবি যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত ও ব্রাজিল প্রত্যাখ্যান করেছে। সম্মেলনের মূল দাবি ছিল, ‘গ্রিনহাউজ গ্যাস’ বিকীরণ ৩০ শতাংশ হন্সাস করা। কিন্তু এ দেশগুলো কলকারখানা চালায় কয়লা জ্বালিয়ে। সেটা তারা বìধ করতে রাজি হয়নি। তারা পাল্টা একটা ইশতেহারে বলেছে, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে তারা কিছু অর্থ সাহায্য দেবে, কিন্তু সেটাও বাধ্যতামূলক নয়। অতীতে অনুরূপ বহু অঙ্গীকার কখনো কার্যকর হয়নি।
অন্য সব দেশ যখন কোপেনহেগেন সম্মেলনে দেনদরবার, তদবির নিয়ে ব্যস্ত ছিল, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তখন ঘন্টার পর ঘন্টা ইউরোপীয় আওয়ামী লীগপন্থীদের সংবর্ধনা নিয়েছেন। এমনকি সংবর্ধনা নিতে গেছেন পাশের দেশ সুইডেনেও। এখন তিনি দিল্লিতে ভারতীয় অবস্খানকে সমর্থন দিয়ে এলেন, যে অবস্খান বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য মারাত্মক।
সামান্য কিছু অর্থ সাহায্যের অনিশ্চিত ও অবাধ্যতামূলক প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশের মূল চাহিদা নয়। পরিবেশের তাপমাত্রা বর্তমান হারে বাড়তে থাকলে বছর দশেকের মধ্যে বাংলাদেশের আরো বিস্তীর্ণ এলাকা ডুবে যাবে। উষäতা বৃদ্ধির মাত্রা হন্সাসের উপায়ই বাংলাদেশের বড় প্রয়োজন। বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ, এমনকি জাতিসঙ্ঘ ও ভারতসহ উপরিউক্ত কয়েকটি দেশের ইশতেহারেও হতাশা প্রকাশ করেছে। দিল্লি ইশতেহারে শরিক হয়ে শেখ হাসিনা ওয়াশিংটন, দিল্লি আর বেইজিংয়ের স্বার্থকেই সমর্থন দিলেন, বাংলাদেশের স্বার্থকে নয়।
সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ
আগামী বছর রবীন্দ্রনাথের ১৫০তম জন্মবার্ষিকী যৌথভাবে পালনের সিদ্ধান্তকেও সমর্থন করতে ব্যর্থ হচ্ছি। ইউলিয়াম শেক্সপিয়রের জন্মস্খান ও কর্মজীবন ব্রিটেনে। তিনি এখন ‘সারাবিশ্বের সম্পত্তি’ বলে বিবেচিত। যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়াসহ বহু দেশ শেক্সপিয়রের জন্মদিবস পালন করে থাকে। এ কথা কেউ বলেনি যে, তাদের উচিত ব্রিটেনের সাথে যৌথভাবে সে দিবস পালন করা।
রবীন্দ্রনাথও এখন বিশ্বের সম্পদ। তিনি বাংলাদেশীদেরও অন্যতম প্রিয় কবি। তার জন্ম ও মৃত্যু দিবস বাংলাদেশীরা ঘটা করে পালন করে থাকে। বাংলাদেশের শিল্পীরা তাদের প্রতিভা অনুযায়ী সেসব অনুষ্ঠানকে যথাসম্ভব সমৃদ্ধ করে থাকেন। তাতে তাদের প্রতিভা বিকাশেরও সুযোগ সৃষ্টি হয়। ভারত বড় দেশ। তার শিল্পীরা সংখ্যায় বেশি। তারা যদি অনুষ্ঠানগুলোতে প্রাধান্য বিস্তার করেন, তাহলে বাংলাদেশী শিল্পীরা অবশ্যই অবহেলিত, অপমানিত বোধ করবেন। তার চেয়ে পৃথকভাবে নিজেদের সামর্থ্য ও প্রতিভা অনুযায়ী বিশ্বকবির এই বিশেষ জন্মবার্ষিকীটি উদযাপন করা উচিত বলে আমি মনে করি।
আন্দোলনবিমুখিতা
আগেই বলছিলাম, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী এবং তাদের আজ্ঞাবহ মিডিয়া দিল্লি ইশতেহারকে ‘সব পেয়েছি’র দলিল বলে দেখানোর চেষ্টা করেছে। অপেক্ষাকৃত মিনমিনে সুরে হলেও প্রধান বিরোধী দল বিএনপি বলেছে, বাংলাদেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে আসা হয়েছে দিল্লিতে। সাধারণ মানুষ স্তব্ধ হয়ে আছে। দিল্লি আর আওয়ামী সরকারের প্রচারণার ডামাডোল আর কথার ফুলঝুরিতে তাদের চোখ ধাঁধিয়ে গেছে, তারা বিভ্রান্ত বোধ করছে। দিল্লি ও ঢাকার বর্তমান সরকার তাই চায়। তারা চায়, বাংলাদেশে ক্ষমতার হাতবদল হওয়ার আগে, এমনকি জনসাধারণের সম্বিৎ ফিরে আসার আগেই ওপরে বর্ণিত এবং দিল্লি ইশতেহারে উল্লিখিত কাজগুলো যথেষ্ট এগিয়ে নিতে, যাতে এই একতরফা চুক্তি বাতিল করা আর সম্ভব না হয়।
বাংলাদেশের বিরোধী দলগুলোর প্রতিক্রিয়া আমাকে হতাশ করেছে। তাদের উচিত ছিল দিল্লি চুক্তি প্রকাশের মুহূর্ত থেকেই সক্রিয় প্রতিবাদ করা, যাতে দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দেয়ার ব্যাপারটা পাকাপোক্ত না হয়। একটা সমস্যা হলো, সাধারণ নির্বাচনে পরাজয়ের সময় থেকে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নিûিক্রয়, নির্জীব ও প্রাণহীন হয়ে পড়েছে। একটা সর্বব্যাপী অসুস্খ আন্দোলনবিমুখিতা তাদের পেয়ে বসেছে। দিল্লিকে দিয়ে আসা শেখ হাসিনার উপহারগুলো বাতিলের জন্য অবিলম্বে আন্দোলনে নামার প্রয়োজনীয়তা তারা উপলব্ধি করতে পেরেছেন বলে মনে হয় না। তারা এখনো ভবিষ্যতে শক্তি সংগ্রহ করে আন্দোলনের কথা বিবেচনা করছেন বলে মনে হয়। কিন্তু তখন আন্দোলন করার কোনো অর্থ থাকবে কি? চুক্তি মোতাবেক কাজকর্মগুলো হয়ে গেলে সেগুলো পাল্টানো আর সম্ভব হবে না। ফারাক্কার বাঁধ সরিয়ে দেয়ার, এমনকি ফারাক্কা থেকে চুক্তি মোতাবেক পানি সংগ্রহ করাও কি সম্ভব হয়েছে?
আমার মনে হয় বিএনপি’র উচিত, আওয়ামী লীগের কাছ থেকে কিছু সবক নেয়া। আন্দোলন করতে করতে তাদের কর্মীরা উজ্জীবিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ কখনো আন্দোলনে না গিয়ে ক্ষমতা দখল করতে পারেনি। এমনকি ২০০৮ সালেও নয়। ২০০৬ সালের অক্টোবরে আন্দোলন করে এবং দেশ অচল করে দিয়েই তারা মইন-ফখরুদ্দীন চক্রকে ক্ষমতায় এনেছে। তার ফসল হিসেবেই তারা ২০০৮ সালের মাস্টারপ্ল্যানের নির্বাচনে জয়ী হয়েছে, আর এখন গদিতে বসেছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


