আমি জিন্দা পীরের আওলাদ। মৃত্যুকে ভয় করি না। আমার পূর্বপুরুষ এসেছে ইয়েমেন থেকে। আমি নিজেও কিন্তু একজন পীর। তবে কখনো পীরগিরি করিনি। তওবা আমাকে পড়াতে হবে না ইমাম সাহেব। কলেমা আমার জানা আছে।
ফাঁসির মঞ্চে নেয়ার দুই ঘন্টা আগে কারাগার মসজিদের ইমাম হাফেজ মনির হোসেন কনডেম সেলে তওবা পড়াতে গেলে কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান এভাবেই তার শেষ কথাগুলো বলেছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। আরো জানা যায়, রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন শেষ মুহূর্তে ফারুক রহমান তড়িঘড়ি করে দিলেও লে. কর্নেল সুলতান শাহরিয়ার রশিদ প্রাণভিক্ষার আবেদন না করে সাদা কাগজে পাল্টা লিখে পাঠান, ‘আমি একজন ফিন্সডম ফাইটার। এর সাথে আমি জড়িত না। তাই নীতিগত কারণে রাষ্ট্রপতির কাছে আমি প্রাণভিক্ষা চাইতে পারি না।’
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে গত ২৭ জানুয়ারি যখন পাঁচ আসামির ফাঁসি কার্যকরের প্রস্তুতি চলছিল, তখন আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশরাফুল ইসলাম খান, ডিআইজি প্রিজন গোলাম হায়দার, সিনিয়র জেল সুপার তৌহিদুল ইসলাম, জেলার মোখলেছুর রহমান, ডেপুটি জেলার বাহার ও মাসুদ ছাড়াও উপস্খিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র সচিব, ঢাকার জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, সিভিল সার্জন, কারাগারের ডাক্তার ও ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার এ কে এম শহিদুল হক। তারা কারাগারের ভেতর প্রবেশ করলেও দায়িত্বশীল কয়েকজন ছাড়া অন্যরা রাত পৌনে ১২টার আগে ফাঁসির মঞ্চের সামনে যেতে পারেননি।
সূত্র জানায়, রাত ১০টায় কনডেম সেলে ফারুক তার বিছানায় বসেছিলেন। এ সময় কারাগারের পেশ ইমাম ফারুকের সেলের সামনে হাজির হন। এ সময় কারা কর্মকর্তারাও সেখানে ছিলেন। ফারুককে শুরুতেই এক কর্মকর্তা বলেন, স্যার হায়াত মউত রিজিক দৌলত এগুলো সব আল্লাহর হাতে। আজ রাত ১২টায় প্রথম আপনার ফাঁসি কার্যকর হবে। তাই আপনি গোসল করে নামাজ পড়ে নিন। আপনাকে ইমাম সাহেব তওবা পড়াবেন।
তখন ফারুক তাদের বলেন, তওবা আমি নিজেই জানি। আমি জিন্দা পীরের আওলাদ। আপনারা জানেন না, আমার পূর্বপুরুষরা ইয়েমেন থেকে এসেছেন। আমি নিজেও একজন পীর। তবে কখনো পীরগিরি করতে যাইনি। আর মৃত্যুকে আমি কখনো ভয় পাইনি।
এ সময় কারা কর্মকর্তারা তাকে স্মরণ করিয়ে দেন, ফাঁসি মঞ্চে যাওয়ার আগে আপনাকে কয়েদি ড্রেস পরতে হবে। তখন ফারুক তাদের আঙুল দিয়ে দেখিয়ে বলেন, ওই যে ড্রেস দেখছেন সেটি আমি আগেই ধুয়ে রেডি করে রেখেছি। নামাজও আমি আগেই পড়েছি।
তখন তাকে জানানো হয় আপনি যেহেতু দুই ঘন্টা পর মারা যাবেন, তাই আরো দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে নিন।
তবে পরে তিনি নামাজ আদায় করেছেন কি না তা আর তারা জানাতে পারেননি।
রাত ১২টায় জল্লাদ যখন তাকে ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যাওয়ার জন্য যম টুপি পরাচ্ছিলেন তখন কারা কর্মকর্তাদের কাছে অনুরোধ করে বলেছিলেন, আমি জুতো পায়ে দিয়েই মঞ্চের দিকে যেতে চাই। তবে মঞ্চ আসার আগেই সেটি খুলে নিয়েন। তখন কারা কর্মকর্তারা তার শেষ ইচ্ছা পূরণের অনুমতি দেন। জানা গেছে, একমাত্র লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আর্টিলারি ছাড়া বাকি কেউই ফাঁসির মঞ্চে যেতে অনীহা জানাননি। জল্লাদ আসার সাথে সাথে ফারুক সেল থেকে বেরিয়ে কলেমা পড়তে পড়তে ফাঁসির মঞ্চের দিকে চলে যান।
সূত্র জানায়, পাঁচ আসামির মধ্যে একমাত্র কর্নেল ফারুক ও সুলতান শাহরিয়ার রশিদ ছিলেন ব্যতিক্রম।। ফাঁসি নিয়ে তাদের মধ্যে কখনো কোনো টেনশন দেখা যায়নি। ফাঁসি কার্যকর করার আগে সুলতান শাহরিয়ার রশিদ কারা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে হালকা স্বরে বলেছিলেন, রিভিউ পিটিশনের আগেই আপনারা ফাঁসির প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছেন। আমি কিন্তু জেল কোড ভালো করেই জানি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



