somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভ্রমনঃ অদৃশ্য খাঁচায় বন্দি আমার গুপ্ত সেই সব দিন ।

১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এবার গ্রীষ্মের ছুটিটা নিরালায় কাটিয়েছি । সেই দূরে পাহাড়ের ঢালে জনবসতিহীন অতিব সুন্দর প্রকৃতির সাথে । স্কটল্যান্ডের হাইল্যান্ডের প্রায় শেষ মাথায় ছিল জায়গাটি । অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ডুবু ডুবু চারিদিক । যেখানে আমরা ছিলাম সেখানে কোনই বসতি নেই , কারন শীতের সময় ওখানে বসবাস করাই মুশকিল। ওখানে গ্রীষ্মে ক্যাম্প করতে যায় ভ্রমনবিলাশিরা । প্রকৃতি আমি এতো ভালবাসি যে সে ভালোবাসার সীমানা নির্ধারণের সুযোগ্য ভাষার ব্যবহার আমি এখনো শিখিনি !! পাহাড় , সবুজ আর জলাশয় - আপরূপ সে দৃশ্য যেন কখনোই ভোলার নয় !!

সুইজারল্যান্ডের সৌন্দর্যও দেখেছি আর স্কটল্যান্ডের হাইল্যান্ড এরিয়ার সৌন্দর্যও দেখলাম , সেই একই পাহাড়ি ল্যান্ডস্কেপ , তবুও যেন দুটি দু'ধরনের সৌন্দর্যে মহীয়ান । সুইজারল্যান্ডে আল্পসের পর্বতমালা ভীষণ উঁচু এবং বিস্তীর্ণ । আর সবচেয়ে বড় ব্যপার হলো - ওখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সাথে মানুষের হাতের ছোঁয়া লেগেছে । অতি যত্নে লালিত সুইজারল্যান্ডের প্রকৃতি, এবং ভীষণ পরিপাটি আর পরিচ্ছন্ন । সুন্দর নারী যখন রূপের চর্চায় আরও বেশী সুন্দরি হয়ে ওঠে , ঠিক সেরকমটিই বলা যেতে পারে সুইজারল্যান্ডকে । আর স্কটল্যান্ড হলো কিছুটা প্রকৃতির আপন নিয়মে বেড়ে ওঠা ন্যচারাল বিউটি । এখানে বারতি কোন যত্ন নেই তবুও সে স্ব-মহিমায় মহীয়ান , অতুলনীয় রূপে অপরূপা ।




বাচ্চাদের স্কুল হলিডে ছয় সপ্তাহ । অনেকটা সময়ই বাচ্চাদের জন্য বরাদ্দ ছিল । তাইতো চলে গেলাম শহর ছেড়ে বহু দূরে স্কটল্যান্ডের গেনক্ল নামক একটি জনশূন্য পাহাড়ি এলাকায় । হলিডেতেও বেশ অনেকটা কাজ নিয়েই গিয়েছি । একটি রিসার্চ প্রপোজাল তৈরির কাজ হাতে নিয়ে গিয়েছিলাম এবার । ওটা আমাকে শেষ করতেই হবে , তাই ঘোরাঘুরির ফাঁকে ফাঁকে নিজের কাজটিও করছিলাম । একদিন তো পুরো দিন ক্যারাভ্যানে আমি আর বিড়াল লুনা ছিলাম একা । সবাই চলে গেছে দূরে কোথাও ঘুরতে । আর আমি বসে বসে কাজ করছি । তবে বেশ আনন্দই হচ্ছিল - নিস্তব্দ , নিরালায় বসে কাজ করার আনন্দই অন্যরকম । এরকম পরিবেশে লেখালিখির কাজ অনেক দূর এগিয়ে যায় । ওখানে ইন্টারনেট কানেকশন একেবারেই ছিল না বলতে গেলে , মাঝে মাঝে একটু একটু ফ্রিকোয়েন্সি পাওয়া যেত । ইন্টারনেট ছাড়া যে জীবন এতো আনন্দময় হয় , ওখানে না গেলে হয়তো বুঝতেই পারতাম না ।





একা থাকতে আমার ভীষণ ভালো লাগে । একা থাকলে এই আমি দুজন হয়ে যাই , কখনো কখনো অনেক জন । নিজের ভেতরের অনেক গুলো সত্ত্বার খোঁজ মেলে । সেই সত্ত্বাগুলোকে জানার সুযোগ হয় , আত্মতৃপ্তি মেলে । ভয় পায়িয়ে দিলাম তো , ভয়ের কিছু নেই । আমি বরাবরই এরকম , কথা বলি কম , তাইতো এরকম কল্পনা বিলাসী । আমাকে যারা চেনে সবাই জানে আমি কথা বলি কম । আমি শুধু দেখি , দু'চোখ ভরে দেখি । দেখি আর মনযোগ দিয়ে শুনি , খুব ভালো শ্রোতা আমি । থাক ওসব কথা , যেটা বলছিলাম - একা থাকার আনন্দটাই অন্যরকম । নিজের সাথে , প্রকৃতির সাথে অন্যরকম বন্ধন গড়ে তোলা যায় একা একা সময়গুলোতে । অনেক কথা হয় , অনেক বোঝা পড়া হয়, নিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠে প্রকৃতির সাথে ।





লিখতে লিখতে অনেকটা সময় পার হয়ে গেল । আমার রিসার্চ টাইটেল ছিল " 21st century’s discrimination against women in legal workforce." বেশ ফেমিনিস্ট ফেমিনিস্ট ভাব এসে গিয়েছিল লিখতে লিখতে, ভীষণ একঘেয়ে লাগছিল । বেরিয়ে পড়লাম হাঁটতে , একা একা বহু দূর চলে গেলাম । মনে হচ্ছিল এই পৃথিবীতে আমি একা , সাথে রয়েছে মেঘলা আকাশ , সবুজ পাহাড় , জলাশয় , মাঠ ভরে রয়েছে ভেড়ার পাল , একটি রাখালও নেই কোথাও !! শুধু আমি আর এই জনশূন্য প্রকৃতি ।







কবিতা লিখতে ইচ্ছে হচ্ছিল , তাজা কবিতা , প্রকৃতির রসে তরতর করে বেড়ে ওঠা তাজা কবিতা , কিন্তু হলো না । মাথায় ফেমিনিজম ঘুরছিল আর কাজ শেষ করার তাড়া । প্রকৃতিকে চোখ দিয়ে শুষে নিয়ে পরিতৃপ্ত হওয়া ছাড়া আর কিছুই করা গেল না । চলতে চলতে বেশ শীত শীত লাগছিল তাই চলে এলাম ক্যারা ভ্যানে । ক্যারা ভ্যান থেকেও অনিন্দ্য সুন্দর প্রকৃতি উপভোগ করা যাচ্ছিল । দিনগুলো সত্যিই চমৎকার ছিল । রবীন্দ্রনাথ দিন গুলো সোনার খাঁচায় ধরে রাখতে পারেনি , তবে আমি রেখেছি। সেটা সোনার খাঁচা নয় ঠিকি , সে এক অদৃশ্য খাঁচা । সেখানেই বন্দি করে রেখেছি সবগুলো দিন ।




সর্বশেষ এডিট : ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৩৮
১৮টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোরান কি বিকৃত নাকি অবিকৃত (প্রশ্ন)

লিখেছেন স্বতু সাঁই, ২১ শে নভেম্বর, ২০১৭ দুপুর ১২:৩৭

আসছে শীত। শুরু হবে মেলা। তবে আজ থেকে বিশ পঁচিশ বা পঞ্চাশ বছর আগে পশুর মেলা হতো। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য এসব মেলার আয়োজন করা হতো। গরুর দালাল ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

** সবাই কি মরে গেছে **

লিখেছেন মোস্তফা সোহেল, ২১ শে নভেম্বর, ২০১৭ দুপুর ১:৫৫





সবাই কি মরে গেছে?
কতদিন কারও ফোন পাইনি
না একটা মেসেজ।
ফেসবুকের ইনবক্সেও এখন আর
কেউ বলে না হাই-হ্যালো।

একটা দিন শুরু হয়ে
কি অবলিলায় শেষ হয়ে যায়!
দিনের পেছনে দৌড়ানো
না... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভ্যাসই অভ্যস্ততা

লিখেছেন ওমেরা, ২১ শে নভেম্বর, ২০১৭ দুপুর ২:১২




২০০০ এর ৩১সে ডিসেম্বর থাই এয়ারলাইন্সে করে ষ্টকহোমের অরল্যান্ডা এয়ার পোর্টে যখন ল্যান্ড করি তখন ২০০১ এর ১লা জানুয়ারী সকাল ৮ টা। সব ফর্মালেটিস সেরে ভাইয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

নারী স্বাধীনতার নামে অশ্লীলতা

লিখেছেন রাসেল উদ্দীন, ২১ শে নভেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৩:২২

আসুন, সিনেমার নায়িকাদের জন্য ত্রাণ হিসাবে এক টুকরা কাপড় খয়রাত করি। উনারা কাপড়ের অভাবে ইজ্জত ঢাকতে পারছেন না!! দেশে যেন কাপড়ের দুর্ভিক্ষ চলছে। সিনেমা তেমন দেখি না ঠিক, কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ত্রয়ী (সিরিজ কাব্য)

লিখেছেন বিদ্রোহী ভৃগু, ২১ শে নভেম্বর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৪৭

জন্ম-মরণ-জনম (তিন জনমের সন্ধানে)
১ম পর্ব
সাঁতার!

২য় পর্ব
গমন:


জলজ সন্তরনশীল জীবন
আহ! ঢাকার চেয়েও বেশি ঘনত্বেও
সব্বাই কি মূখোশে মিলেমিশে থাকা!
সত্যটা যেদিন প্রকাশ হল- উফফ

কি প্রচন্ড গতিতে ইচ্ছেয় অনিচ্ছেয়
সবাই ছুটছিলাম দিকবিদিক-হাশরের ময়দান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×