somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লিনাক্স প্রসারের জন্য ওয়ার্কপ্ল্যান কিরকম হতে পারে।

১৬ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ৮:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(এই প্ল্যানটি ক্রিয়েটিভ কমনস্ cc: by-nc-sa লাইসেন্সে প্রকাশিত।
লেখাটি স্বাভাবিকভাবে অনেক বড় হবে। তাই ধারাবাহিকভাবে আপডেট হবে।)


আগে যেরকম বলেছি দোকানের মাধ্যমে লিনাক্স নিয়ে ব্যবসা করা গেলেও প্রচার ও প্রসার সম্ভব না।

অনেকে মাইক্রোসফটের প্রচারের সাথে গুলায় মনে করেন যে লিনাক্সও যদি দোকানে দোকানে পাওয়া যেতো বা কম্পিউটারের সাথে ডিফল্ট আসতো মানুষ লিনাক্স ব্যবহার করতো।

এখানে কিছু বিষয় হলো,
১) মাইক্রোসফট চালু হয়েছে ৭৫ এ উইন্ডোজ এসেছে ৮৫ এ। উইন্ডোজ যাত্রা শুরু করেছিলো প্রায় খোলা মাঠে। তখন তাকে মার্কেট পেতে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি।

২) ইউনিক্স জিএনইউ প্রজেক্ট ৮৩/৮৪ সালে শুরু হলেও লিনাক্স কার্নেল প্রথম আসে ৯১ সালে। এরই মধ্যে মাইক্রোসফট পার্সোনাল কম্পিউটারের মার্কেটের অনেক অংশই নিয়ে নিয়েছিলো।

৩) উইন্ডোজ গ্রাফিক্যালি চলা শুরু করলেও লিনাক্স গ্রাফিক্যালি চলতে আরও কিছুদিন সময় নেয়। এরই মাঝে উইন্ডোজ পুরো মার্কেট নিয়ে নিয়েছে।

৪) উইন্ডোজ বরাবরই একটা প্রডাক্ট ছিলো। যখনই ডেভেলপমেন্ট ও মার্কেটিং স্ট্রাটেজি তৈরি করতে হয়েছে তখনই একটা প্রোডাক্ট নিয়ে চিন্তা করতে হয়েছে। যেখানে লিনাক্সের মধ্যে অসংখ্য ডিস্ট্রো রয়েছে। এক্ষেত্রে চাহিদা ও পছন্দও (needs & preferences) অসংখ্য। এজন্য কোন সুনির্দিষ্ট স্ট্রাটেজি কাজে আসবে না।

৫) সাধারন মানুষ ক্লোস‍্ড সোর্স, মুক্ত সোর্স আন্দোলনের কচকচানী বুঝবে না বেশি। তার কাছে যে জিনিস ব্যবহার করে সুবিধা সেটা বেশি ব্যবহার করবে।

এবার তাহলে বুঝা যাচ্ছে যে উইন্ডোজের সাথে লড়াই করার কথা বাদ দিতে হবে। উইন্ডোজের সাথে আমাদের কোন সমস্যা নেই। সমস্যা পাইরেসীর সাথে।


তাহলে এবার আমাদের কি কি করনীয় হতে পারে সেটা একটু আলোচনা করি।
১) দোকানে সাপ্লাই দেয়ার পরিবর্তে আমরা নিজেদের মধ্যে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পারি। নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা মানে ধরুন আপনার শহরের বিভিন্ন স্থানে অনেকেই লিনাক্স ব্যবহার করছেন। তারা যদি একটু সময় ও শ্রম দিতেন তাহলে এই প্রজেক্ট সফল হবে।
ক) সবার আগে দরকার হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট জায়গা। যেখানে সপ্তাহে একবার হলেও লিনাক্স অনুরাগীরা একত্রিত হবে তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও বিভিন্ন চিন্তাভাবনা নিয়ে কথা বলবে।

খ) এই জায়গায় অবশ্যই কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সংযোগ থাকবে। এতে করে অন্যরা আসলে তাদেরকে হাতে কলমে ব্যবহার করে দেখানো যাবে।

গ) যেহেতু মানুষের চাহিদা ভিন্ন সে ব্যাপারে কোন ডিস্ট্রো ব্যবহার সুবিধাজনক হবে সেক্ষেত্রে দোকানদার যেভাবে পরামর্শ দিতে পারবে তারচেয়ে ভালো পরামর্শ দিতে পারবে লিনাক্স ব্যবহারকারীরা নিজেই। তাই যখন লিনাক্স ব্যবহারে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা যাবে লিনাক্সের ডিস্ট্রো সংগ্রহ করতে তখন উক্ত স্থানে অবস্থিত লিনাক্স অনুরাগীরা তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে পরামর্শ দিতে পারবেন। সেই সাথে ডেমন্সট্রেশনও দেখাতে পারবেন।

ঘ) জায়গা যদি বিনামূল্যে পাওয়া যায় তাহলে খরচ কম পরবে।

ঙ) প্রতিটা সেন্টারের জন্য অভিজ্ঞ ভলান্টিয়ার লাগবে যারা নিঃস্বার্থে কাজ করতে আগ্রহী হবেন।

ছ) এটা আমাদেরও মাথায় এসেছে যে পাশাপাশি এলাকায় দিলে সুবিধা হবে না বেশি। এজন্য জোনে বিভক্ত করেই আমরা কাজ করবো।

২) অনলাইন এবং অফলাইন প্রচার কাজে দিবে। পজিটিভ ওয়ার্ড অব মাউথের মাধ্যমে।

৩) আমরা একটা সাইট খুলতে পারি। যেখানে তথ্য থাকবে কবে কোন সেন্টার খুলা থাকবে। কোন ডিস্ট্রো এভেইলেবল আছে।

৪) যারা লিনাক্স ব্যবহার করতে চান তারা কোন সেন্টারে কোন ডিস্ট্রো কালেক্ট করবেন এটা নির্বাচন করে রিকোয়েস্ট করতে পারবেন।

৫) সহজলভ্য নয় এমন ডিস্ট্রো পূর্বে রিকোয়েস্ট করে নির্দিষ্ট সময় পর যোগাযোগ করে নিয়ে যেতে পারবেন।

৬) কেবল ডিস্ট্রোই নয়, সেন্টারগুলোতে অন্যান্য মার্কেন্ডাইজও পাওয়া যাবে। যেমন কোন আর্টিকেল কোন লেখক প্রিন্ট আকারে বিক্রি করতে চাইলে তা সেন্টারে পাওয়া যাবে। সেই সাথে টিশার্ট বা ক্যাপ পাওয়া যেতে পারে। (ভালো মানের)

৭) লিনাক্সের ডিস্ট্রোর দাম খুব বেশি হলে সিডি ২০ টাকা ও ডিভিডি ৪০ টাকা রাখা যেতে পারে। কারন এখানে লেভেলিং ও দোকানের খরচ নেই। নেই ট্রান্সপোর্টেশন কস্ট। (তবে খরচ যে একেবারেই নেই তা কিন্তু না)

৮) সেন্টারগুলো যে বাসাতেই হবে তা নয়। আমরা ইতিমধ্যে ঢাকার ৫টি স্থানে কথা বলেছি তারা তাদের অফিসেই স্থান দিবে আমাদের। আমাদের সেন্টার করার জন্য একটি রুম তিনটি টেবিল একটি কম্পিউটারের বেশি কিছুই লাগবে না।

৯) সেন্টার কোন বিনোদন স্থান হবে না বা চটক দেখিয়ে লোক টানার বিষয় হবে না। আপনি হয়তো কুল ডেকোরেশন পশ সিটিং এরেঞ্জমেন্ট চান কিন্তু সত্যিকারের লিনাক্স অনুরাগীরা সেগুলো দেখেননা। আর আমাদের বাংলাদেশীদের মাঝে এতো খুতখুতানি নেই যে এসি রুম বা ডেকোরেশন না হলে খুবই খারাপ অবস্থা হবে। আর তাছাড়া আপনি যখন জানতেই চাচ্ছেন তখন বলি ডেকরেশনের ব্যবস্থার অর্ধেক যারা আমাদের স্থান দিচ্ছেন তারাই দিবেন। এব্যাপারে নিশ্চিত থাকবেন।

১০) যে সত্যিকারের অনুরাগী হবেন তিনি যে কোন অবস্থায় লিনাক্সের ডিস্ট্রো নিবেন তা সেটা প্লাস্টিকে মুড়ানো হোক কি ল্যাভেলিং করেই হোক। তিনি যা মূল্য দিবেন তার উপর নির্ভর করে সবকিছু নির্ভর করবে। আমরা নিশ্চয়ই আমাদের সাধ্যের বাইরে গিয়ে কাজ করবো না। আর এই বিষয়টা যারা নিতে আসবেন তারাও বুঝবেন।

১১) মার্কেন্ডাইজ আমরা নিজেরাই দিচ্ছি। রাসেল ভাই, এঞ্জেল, ফয়সাল ভাই এনারাসহ আরও অনেকেই ডোনেশন করবেন। আশা করি আমরা যদি আমাদের প্রযুক্তি ফোরামের সদস্যদের কাছ থেকে ডোনেশন চাই ইনভেস্টমেন্ট মানি যা আমরা ফিরিয়ে দিবো তাহলে অনেকেই লিনাক্সের প্রসারের জন্য ডোনেট করবেন। আপনিও তো নিশ্চয়ই করবেন করবেন না :)

১২) হুমম প্রচার ও প্রসারের পর যদি সেরকম চাপও পরে তাহলে আমরা সেন্টার বাড়াতে পারি। তাছাড়া লিনাক্স ব্যবহারকারী বাড়লে স্বেচ্ছাসেবক বাড়বে না এমন ধারনা অমূলক পুরা। আমরা আশাবাদী লিনাক্সের প্রচারের সাথে সাথে স্বেচ্ছাসেবকও বাড়বে।

সেন্টারগুলো কেবল লিনাক্স ডিস্ট্রো সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত হবে নাকি সার্ভিস সেন্টার (লিনাক্স হেল্পলাইন) হবে নাকি মার্কেন্ডাইজ শপ হবে না কি হবে তা এখনও সম্পূর্ন চক্ড আউট না। কারন বাস্তবতা সবসময় প্রেডিক্ট করা সম্ভব না। আপাতত আমরা এটাকে সরবরাহের উপায় হিসেবেই দেখছি। যদি ভবিষ্যতে সম্ভব হয় তাহলে আমরা আরও বিস্তার করবো।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ৮:৪৬
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×