আমার প্রিয় পোস্ট

মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা বনাম অন্ধের হাতি দর্শন।

২০ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১:৫২

শেয়ারঃ
0 0 0

কোন এক ব্লগার "মাদ্রাসার ছাত্রদের কী হবে ?" শিরোনামে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে হা হুতাশ করে একখানা পোস্ট দিয়েছেন। তার পোস্টের মুল কথা হলো মাদ্রাসায় কিছুই সেখানো হয় না আরবী, ফার্সী, উর্দু ছাড়া। তার পোস্টের কয়েকটা লাইন এরকম---

"...মাদ্রাসায় শেখা আরবী , ফারসী , উর্দু এসব ভাষা তাদের কর্মক্ষেত্রে কোন কাজে লাগে না ।..."

আসলেই কি এটা সত্য? মাদ্রাসায় কি শুধূ "আরবী , ফারসী , উর্দু " শেখানো হয়? না, কথাটা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

বাংলাদেশে মাদ্রাসার দু'টি মূলধারা আছে। আলীয়া ও কওমী। যেহেতু আলোচ্য পোস্টদাতা কোন ধারার কথা নির্দিষ্ট করেন নি তাই ধরে নেয়া যায় তিনি সম্পূর্ণ মাদ্রাসা ব্যবস্থা সম্পর্কেই বলেছেন।

কিন্তু মাদ্রাসার দু'টি ধারার আলীয়া লাইনটিই বর্তমানে বেশী শক্তিশালী, ছাত্রও এখানে বেশী। আলীয়ার দাখিল ও আলীম যথাক্রমে এস.এস.সি. ও এইচ.এস.সি.র সমমান ভুক্ত। আর সমমান দেওয়া হয়েছে এগুলোর সিলেবাসে ব্যাপক পরিবর্তন করে এস.এস.সি. ও এইচ.এস.সি.র সমপর্য়ায়ে উন্নীত করে। আলীয়ায় আরবী বাদে ফারসী বা উর্দুর কোন অস্তিত্ব নেই যদি না কেই এ বিষয়ে আলাদা ভাবে পড়তে চায়। তাই দেখা যায় দাখিল ও আলীম পাশ করার পরে ব্যাপক পরিমান ছাত্র কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যায়।

তবে কওমীর কথা আলাদা। কওমী মাদ্রাসার সৃষ্টিই হয়েছে বৃটিশ শাসকদের অধীনে চাকরী করা যাবে না এরকম একটা মেনিফেস্টো নিয়ে। সাথে আরও আছে বিশাল ইতিহাস।

অন্ধের হাতী দর্শন বিষয়ক একটা মজার গল্প আছে। পাচ অন্ধ গেলো হাতি দেখতে। হাতির কাছে গিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হলো। তাদের একজন ধরলো হাতির কান, একজন ধরলো পা, একজন লেজ, আরেকজন পেট, শেষেরজন শুড়। ভালো করে হাত দিয়ে নেড়েচেড়ে হাতি দেখে তারা ফিরে এলো। পরে তাদের মধ্যে লেগে গেলো তুমুল ঝগড়া। একজন বলে হাতি দেয়ালের মতো (যে পেট ধরেছিলো)ম একজন বলে , না, হাতি চিকন দড়ির মতো, শেষে আবার চেরা চেরা (লেজ)। আরেকজন কয়, হাতি আসলে থামের মতো মোটা (পা), আর একজন বলে হাতি কুলার মতো চওড়া (কান), শেষের জন বলে হাতি হচ্ছে পাইপের মতো লম্বা, আর খালি নড়ে-চড়ে (শুড়)। এই হলৌ অন্ধের হাতি দর্শন।

মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে উক্ত পোস্ট পড়ে মনে হলো "একেই বলে অন্ধের হাতি দর্শন।" আলীয়া বা কওমী মাদ্রাসার সিলৈবাস, স্ট্রাকচার সম্পর্কে ধারনা না রেখে আকাশ-কুসুম কল্পনা করে চমকদার ফ্যান্টাসী লেখা খুবই সহজ আর তাতে বিশেষ শ্রেণীর মদদ পাওয়া আরও সহজ।

(মন্তব্য মডারেট হবে)

 

সর্বশেষ এডিট : ২০ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ২:০৩ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২০ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ২:০২
অচন্দ্রচেতন বলেছেন: কওমীর বিশাল হিষ্টরিটাও দিতেন! আর হাতি দর্শন গল্পটা এইখানে অসংখ্যবার ছাপা হয়েছে। মাদ্রাসার সিলেবাসটা দিলেও আমরা অনেক কিছু জানতে পারতাম!
২. ২০ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ২:১১
সাদাচোখ বলেছেন: "কিন্তু মাদ্রাসার দু'টি ধারার আলীয়া লাইনটিই বর্তমানে বেশী শক্তিশালী, ছাত্রও এখানে বেশী। আলীয়ার দাখিল ও আলীম যথাক্রমে এস.এস.সি. ও এইচ.এস.সি.র সমমান ভুক্ত। আর সমমান দেওয়া হয়েছে এগুলোর সিলেবাসে ব্যাপক পরিবর্তন করে এস.এস.সি. ও এইচ.এস.সি.র সমপর্য়ায়ে উন্নীত করে। আলীয়ায় আরবী বাদে ফারসী বা উর্দুর কোন অস্তিত্ব নেই যদি না কেই এ বিষয়ে আলাদা ভাবে পড়তে চায়। তাই দেখা যায় দাখিল ও আলীম পাশ করার পরে ব্যাপক পরিমান ছাত্র কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যায়।
"


ভাই এতো জ্ঞানার্জন করে তারা কোথায় লাগাতে পারছে?

বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে মাদ্রাসার ছাত্র সম্পর্কে সমভবত আপনার ধারনা নেই। আর যারা এতে ভর্তি হতে পারে তাদের রেজাল্টর অবস্থা খুবই খারাপ থাকে। কারন মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিকের অনেক বিষয় ই তাদের কাছে অজানা। আর এখান থেকেই বোঝা যায় সমমান ঘোষনা করলেই সমজ্ঞান অর্জিত হয় না।

সব মিলিয়ে মাদ্রসা শিক্ষা হয়ে উঠেছে ধর্মীয় রাজনীতিতে রিক্রুট করার জায়গা।

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:০৪

লেখক বলেছেন: ভাই এতো জ্ঞানার্জন করে তারা কোথায় লাগাতে পারছে?

সেটাই! মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আপনার জ্ঞান অ-সাধারন বোঝা যাচ্ছে। তবে জ্ঞানটা অর্জন করতে হয়। পারলে অর্জন কইরা নিয়েন। যেখানে "এমএ পাস+ফাশকেলাস" হওয়ার পরও চাকরীর নিশ্চয়তা নেই সেখানে মাদ্রাসা আর স্কুল-কলেজ শিক্ষা নিয়ে বিতর্ক টেনে আনা এক ধরনের কুতর্কের সামিল।

৩. ২০ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ২:২২
আরিফ জেবতিক বলেছেন: দেশে আলীয়া মাদ্রাসা কয়টা আর কওমী মাদ্রাসা কয়টা সেটা ধারনা নেই । তবে আমাদের উপজেলায় কওমী মাদ্রাসা নাই , পাশের উপজেলাতেও নেই , জেলা সদরে মাত্র একটা আছে ।

আর কওমী মাদ্রাসা আছে আমাদের গ্রামে , পাশের গ্রামে , তার পাশের গ্রামেও ।


আলীয়া মাদ্রাসা শক্তিশালী হয়েছে শুনে শব্দ করে হাসলাম ।
৪. ২০ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ২:৫৭
এস্কিমো বলেছেন: (মন্তব্য মডারেট হবে) কেন?
৫. ২০ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ৩:৫১
চনদন বলেছেন: ভাইজান মাদ্রাসাতে কি ল্যাব আছে?
মাদ্রাসাতে কি লাইব্রেরী আছে?
মাদ্রাসাতে কি মুক্ত চিন্তা করতে দেয়?
৬. ২০ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৭:৪৪
লুকার বলেছেন:

উনি ভুল বলিয়াছেন হে আমার দ্বীনি ভাই!

মাদ্রাসা আসলে রাজাকার তৈরীর কারখানা।

সেখানে শিখানো হয় অন্ধ মুসলিম ছাড়া বাকীদের ঘৃনা করতে;
বাংলাদেশ থেকে শুরু করে সারা দুনিয়ায় গায়ের জোরে ইসলাম কায়েম করতে; সবরকম সৃজনশীল কাজ নাজায়েজ; কোন আধুনিক শিক্ষার প্রয়োজন নাই- এইসব।

মানুষের জন্ম হয় অপার সম্ভাবনা নিয়া, কিন্তু তাকে মূর্খ ও পঙ্গু বানানো হয় এইসব কারখানায়।

মাদ্রাসাগুলা অবিলম্বে বন্ধ করা উচিৎ।
নাহলে এই দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।
৭. ২০ শে অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৩:০১
আলী বলেছেন: মাদ্রসা শিক্ষা হয়ে উঠেছে ধর্মীয় রাজনীতিতে রিক্রুট করার জায়গা।

মাদ্রাসাগুলা অবিলম্বে বন্ধ করা উচিৎ।
নাহলে এই দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।
৮. ২০ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১১:৫৭
আশার আলো বলেছেন: মন্তব্যকারীদের মধ্যে বাস্তব তথ্য-উপাত্তের চাইতে আবেগতাড়িত অন্ধত্বের প্রকাশই বেশী ঘটেছে।

২০ অক্টোবর ২০০৮ এর রক+আলোতে প্রকাশিত আনিসুল হকের "নীরস কলামে" এ সকল সবজান্তা মন্তব্যকারীদের চরিত্রের স্বার্থক বিশ্লেষন করেছেন দু'টি মন্তব্যে - (১)...আর যেবিষয়ে যে কম জানে, সেই বিষয়ে সে বলতে পারে সবচেয়ে বেশি, সবচেয়ে ভালো। (২) সবকিছুতে আমাদের হারানো যাবে, কথায় যাবে না।"


*****************************************************
নীরস কলাম, আনিসুল হক
কথার কথা
"আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?" বহুদিন আগে জীবনানন্দ দাশের মা কবি কুসুমকুমারী দাশ এই কবিতা লিখেছিলেন। তাঁর লেখার ধরনটা ছিল বড় মজার। রান্না করছিলেন হয়তো। তাঁদেরই ব্রাহ্মসমাজ পত্রিকার সম্পাদক এসে বললেন, লেখা দিতে হবে। তরকারিতে হলুদ ছিটিয়ে দিতে দিতে কোলে খাতা মেলে ধরলেন। তরকারি রান্না হওয়ার আগেই কবিতার পরিবেশন শেষ। তবে কবিতাটিতে তিনি লিখেছিলেন লাখ কথার এক কথা। বুঝেছিলেন, বাঙালি মাত্রই কথায় পটু, কাজে তেমন নয়। কথাই শুধু বলে গেলাম আমরা। দেশটা কেন পিছিয়ে-এ নিয়ে কত কথা যে আমরা বললাম! যার কাছে যাবেন, তার কাছেই সমস্যার সমাধান আছে। কত কথা যে তিনি আমাদের বলতে পারবেন! আর যে বিষয়ে যে কম জানে, সেই বিষয়ে সে বলতে পারে সবচেয়ে বেশি, সবচেয়ে ভালো।

আগে তো কথা হতো শুধু সামনাসামনি, মুখে মুখে; এখন কথা হচ্ছে দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা। হ্যাঁ, মোবাইল ফোনে তো বটেই, ওরা তো স্লোগানই দিয়ে রেখেছে-ওরে, কত কথা বলে রে! আরও আছে টেলিভিশন। শোর নামই টক শো। নেন, কথা বলেন। চলছে কথা। খালি কথা। ইস, কথার ওপর যদি ট্যাক্স নেওয়া যেত!

বলছে বলুক। অন্তত একটা গর্ব আমরা করতে পারি, আমাদের বাকস্বাধীনতা আছে। তাই আমরা বলেই চলেছি। বলার সময় কম বলি না। আমাদের প্রতিটি জনসভা "ঐতিহাসিক"। আমাদের প্রতিটি কর্মসূচি "স্মরণকালের বৃহত্তম"। আমাদের প্রতিটি স্থাপনা "এশিয়া মহাদেশের মধ্যে সেরা"।

সবকিছুতে আমাদের হারানো যাবে, কথায় যাবে না।

এবার বোধহয় আমাদের কথাগুলোকে কাজেও পরিণত করতে হবে। হবে তো বটে, কিন্তু করবে কে? আমি করব না। আপনি করুন।

*****************************************************
৯. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ২:৪২
আবু সালেহ বলেছেন:

সাদাচোখ বলেছেন:
"বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে মাদ্রাসার ছাত্র সম্পর্কে সমভবত আপনার ধারনা নেই। আর যারা এতে ভর্তি হতে পারে তাদের রেজাল্টর অবস্থা খুবই খারাপ থাকে। কারন মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিকের অনেক বিষয় ই তাদের কাছে অজানা।"

কিন্তু আমি তো তার উল্টো দেখেছি.....আমাদের সাথেরই বেশ কয়েকজন এম.কম-এ অত্যন্ত ভালো মার্ক সহ প্র্রথম বিভাগ পেয়ে বের হয়েছে....
১০. ২৪ শে মে, ২০০৯ রাত ১০:৫৯
আবু সালেহ বলেছেন:

আছেন কেমন??
অনেক দিন পর....

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৩৮৮ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
It is not the glory that we rise, but rise every time after we fall.
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ