আমার প্রিয় পোস্ট

ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি বিষয়ক সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত বনাম একাধিক প্রশ্ন।

০১ লা নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:১৮

শেয়ারঃ
0 0 0

১. ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে ‘খ’ ইউনিটের বাংলা, ইংরেজী, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, ভাষাবিজ্ঞান,গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা এবং উইমেন এন্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগে ভর্তির শর্ত হিসেবে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ২০০ নম্বরের ইংরেজি ও ২০০ নম্বরের বাংলা থাকবার শর্তারোপ করা হয়েছে। উল্লেখ্য মাদ্রাসা ছাত্র-ছাত্রীরা ১০০ নম্বরের ইংরেজি ও বাংলা অধ্যয়ন করে থাকে।

বিষয়টা দেখা হয়েছে নম্বর দিয়ে। ২০০ বনাম ১০০। সিলেবাসটা মূখ্য বিষয় না। ঢাবির জ্ঞানী ব্যাক্তিরা (যারা উপরোক্ত সিদ্ধান্ত দিয়েছে) এরকম একটা প্রহসনমূলক (একই সাথে মূর্খের মতো) নিয়ম কেন দাড় করালো সেটা বোধগম্য হচ্ছে না অনেকেরই।

ধরা যাক, ঢাবির (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগে "কম্পিউটার প্রোগ্রামিং, সি" বিষয়ে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হয়। একই বিষয়ে বুয়েটে ২০০ নম্বরের আর আইইউটিতে ৩০০ নম্বরের পরীক্ষা হয়। তাহলে কি ঢাবির জ্ঞানীরা সিদ্ধান্ত দিবে- বুয়েট আর আইইইটির কম্পিউটার বিভাগের গ্রাজুয়েট থেকে ঢাবির গ্রাজুয়েটরা নীচু জ্ঞানের অধিকারী! ব্যাপারটা কি আসলেই তাই?

না, পরীক্ষার নম্বর আসলে বিষয় না, বিষয়টা হলো সিলেবাসের। তিন ইউনিতে ওই বিষয়ে সিলেবাস একই থাকলে গ্রেডটা মোটামুটি সমান স্কেলের বলেই বিবেচিত হবে (ধরে নিয়েছি পরীক্ষার মান সমান)।

তাহলে একই বিষয়ে, একই সিলেবাস অধ্যায়ন করে মাদ্রাসা (আলীয়া) থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষা দেওয়া থেকে বঞ্চিত হবে কেন? যেখানে ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারা মানেই ভর্তি হওয়া নয়। ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করে যোগ্যতার ভিত্তিতেই ভর্তির সুযোগ করে নিতে হয়। অতীতে এমনও হয়েছে, মাদ্রাসা থেকে এসেও কোন কোন ছাত্র ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজীতে সর্বোচ্চ/প্রথমদিকে নম্বর পেয়েছে।

২. ঢাবি কর্তৃপক্ষের এই বিমাতাসুলভ আচরণের কারনে এর আগে শিক্ষার্থীরা আদালতের শরনাপন্ন হয়েছিলো। আদালত মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সুযোগ দেওয়ার পক্ষে পরিষ্কার রায় দিয়েছে। যে রায় এখনো বহাল। আদালতের রায় অবশ্যই ঢাবির সিদ্ধান্তের উপরে। কিন্তু সেই রায় উপেক্ষা করার কারন কি? এটা কি সাম্প্রতিক গায়ের জোরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দখলের মতো ঢাবিতেও দখলদারি কায়েম করার ও দেখানোর একটি প্রয়াস?

ঢাবির মনোগ্রামের শীর্ষে চমৎকার একটি কথা লেখা রয়েছে - "শিক্ষাই আলো"। আগামী কয়েক বছরের জন্যে এটা পরিবর্তন করে "ক্ষমতাই আলো" এরকম কিছু লেখার চিন্তা-ভাবনা কি বর্তমান ভিসি সাহেব করতে পারেন?


মাদ্রাসি শিক্ষা বিষয়ে আরও কিছু লেখাঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ভর্তির পথ বন্ধ ( - মাদ্রাসা ছাত্র-ছাত্রীরা কি উচ্চশিক্ষিত হতে পারবে না?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদ্রাসা ছাত্ররা ভর্তি হতে পারবে না !
মাদ্রাসার ছাত্রদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রসংগে
মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা, একটি পোস্ট এবং অন্যান্য বিষয়ে
মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত কী?
মাদ্রাসা-পাস দের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি-স্বপ্ন প্রসঙ্গে
ভাষা-বন্ধন

 

সর্বশেষ এডিট : ০১ লা নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:১৩ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০১ লা নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:৩২
লেখাজোকা শামীম বলেছেন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক মনে হচ্ছে না।
০১ লা নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:৪২

লেখক বলেছেন: মতামতের জন্যে ধন্যবাদ।

২. ০১ লা নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:৪০
অমিত হাসান বলেছেন: ধন্যবাদ আপনার পোষ্টের জন্য। কিছু দিনের মধ্যে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সিলেবাস পর্যালোচনা করে একটা পোষ্ট দিব। যাতে কারো মনে কোন সন্দেহ না থাকে।
০১ লা নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:১৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। সিলেবাসে খুব একটা পার্থক্য নেই। আপনার পোস্টের অপেক্ষায় থাকলাম।

৩. ০১ লা নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:৫০
ইসানুর বলেছেন: লেখাজোকা শামীম বলেছেন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক মনে হচ্ছে না।
৪. ০১ লা নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:২০
শেহাব বলেছেন: ঠিকই মনে হচ্ছে ওদের সিদ্ধান্ত।
০১ লা নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:১৯

লেখক বলেছেন: হয়তো! হয়তো বা না।

তবে ৩য় প‌্যারাটা পইড়েন।

৫. ০১ লা নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:২৩
রিয়াজুল ইস্‌লাম বলেছেন: ঢাবির সিদ্ধান্ত আদালতের রায়কে অবমাননা করছে বলে মনে হচ্ছে।
০২ রা নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:০২

লেখক বলেছেন: আমার পোস্টে লিংক দিলাম।

৭. ০১ লা নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৫৯
এহসানুল হক জসীম (১) বলেছেন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক নয়
০২ রা নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:০৩

লেখক বলেছেন: লজিক কখনো কখনো গায়ের জোরের কাছে হারিয়ে যায়।

৮. ০২ রা নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৪৪
অক্টোপাস বলেছেন: গাধাগুলা কি মাদ্রাসা ছাত্রদের এমনি এমনি ভর্তি করাইয়া নিত নাকি? ভর্তি পরীক্ষায় যদি একজন মাদ্রাসা ছাত্র টিকতে পারে তাহলে ওই বলদগুলার সমস্যা কী?
------------------
ওগোর দন্ডকোষ বাইড়া যাইতাছে মনে হয়।!
০৩ রা নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৪০

লেখক বলেছেন:
সেটাই! যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ভর্তিপরীক্ষায় বসার সুযোগ দিতে বাধা কোথায়!!

৯. ০২ রা নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:১২
ডিজিটালভূত বলেছেন: ঢা.বির সিদ্ধান্তটি অযৌক্তিক, বৈষম্যমূলক, বর্ণবাদী। নিন্দা জানাই।
০৩ রা নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৪১

লেখক বলেছেন: নিন্দা জানাই।

১০. ০২ রা নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:২৩
সীমানা ছাড়িয়ে বলেছেন: এই সিদ্ধান্ত মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রিদের জীবনকে আরো অন্ধকারে ঠেলে দিবে। দেশের জন্য এর পরিমান মোটেও ভাল হবে না। তবে আমার একটা অপিনিয়ন হল, মাদ্রাসা শিক্ষা ধীরে ধীরে তুলে দিতে হবে। বরং স্কুলে আরবী বা ইসলাম শিক্ষায় মেজর থাকবে। তাতে শিক্ষার সমমান বজায় থাকবে। আমাদের দেশের মত সায়েন্স-আর্টস-কমার্স-মাদ্রাসা এমন সিস্টেম পৃথিবীর কোথাও নেই। বরং যাদের যে সব সাবজেক্ট পছন্দ সেসব সাবজেক্টে ছাত্ররা মেজর নিয়ে পড়ে।
০৩ রা নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৪২

লেখক বলেছেন: মালয়েশিয়ায় সম্ভবত এরকম সিস্টেম আছে।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৭৭৭ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
It is not the glory that we rise, but rise every time after we fall.
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ