আমার প্রিয় পোস্ট
- অন্তরের আলোয় দেখেছি যারে - ১ - অনিক
- ছাদের কার্ণিশে কাক (দুই নম্বরী) - ফরিদ
- পাকি শান্তিরক্ষীদের কীর্তি - হিমু
- আমরা ভালো আছি - রাসেল ( ........)
- হা ঈশ্বর। এও হয়। এও শুনতে হয়। - হযবরল
- ফটোব্লগ: প্রজাপতির খামার নিয়ে স্বপ্ন দেখা মানুষকে উৎসর্গ - সাদিক
- ৭১ এর সকল বীর সেনানীর পক্ষ থেকে: ২০০৭ এর প্রজন্মের Xদফা দাবী - জ্বিনের বাদশা
- স্বপ্নবাজি - কিংকর্তব্যবিমূঢ়
- কনক্রিটের সৌধে পুস্প দেওয়া ইসলাম সম্মত না - বলেছেন রাম সন্না। ধমর্ান্ধরা মুড়ি খাও - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- স্বাধীনতা দিবসের স্যালুটঃ ঘোষক নিয়ে ক্যাচাল - ধুসর গোধূলি
- গল্প: গন্দম (পর্ব ১) - অমিত আহমেদ
- আজ সেই অভিশপ্ত দিন: লেননকে শ্রদ্্বা - আপন তারিক
- রাজাকার, জামাত এবং ইত্যাদি.... - অমি রহমান পিয়াল
- উপন্যাস : পৌরুষ - কিস্তি ১ - মুহম্মদ জুবায়ের
- রক্ষক যখন ভক্ষক ওরফে বেড়ালছানা ওরফে আরো অনেক কিছু - হিমু
- প্রনতি হে বেজন্মার জাত - অরূপ
- [সাইজ=6] ওম শান্তি-আস্ সালাম [/সাইজ] - হাসান মোরশেদ
- আসুন, আমরা একটি প্ল্যানচেটের আয়োজন করি... - কনফুসিয়াস
- ::বউ, বাটা, বল সাবান:: - নজমুল আলবাব
- গল্প : মাটিবর্তী ( পর্ব 1) - আলভী
- মুগ্ধ পাঠক - ৩ : আনোয়ার সাদাত শিমুল (অস্থির জনপদের পথিক) - আলভী
- মিছিল এগিয়ে যাক - শেখ জলিল
- একটি গল্প: ছিলা শামীমের বেহেশত - এস এম মাহবুব মুর্শেদ
- ...অত:পর ! - প্রজাপতি
- > সমান্তরাল গল্প:1 \ (প্রকাশিত নতুন ছোটগল্প) - কনফুসিয়াস
- । । গুল্ম ও কুঠার । । - হাসান মোরশেদ
পাক পতাকার ছায়ায়
১২ ই মার্চ, ২০০৭ রাত ১১:১৮
দর্জি বলেছিল রাজশাহী সিল্কের কাপড় দিবে। প্রথমে হাতে নিয়ে খানিকটা খটকা লেগেছিল। তবুও পতাকাটা যখন দু'হাতে জড়িয়ে ধরে ঘ্রাণ নিলো, তখন দেলুমিয়ার মনটা অন্যরকম হয়ে যায়। আজ সকালে ছাদের উপর পতাকাটা উড়িয়ে অনেকক্ষণ মুগ্ধ মনে তাকিয়ে ছিল সে। মনে পড়ে শৈশব-কৈশোর। দেখেই মনটা ভরে যায় - সবুজ জমিনে চাঁদ তারার ঝিলিক। আহ! পতাকাটা যদি সারা বছর এভাবে ওড়ানো যেতো! তবুও চার বছরে সুযোগটা একবারই আসে। মাস দুয়েক পতাকা ওড়ে। মনের ভেতর রোশনাই জাগে তখন, গুণগুণ করে সারাদিন - পাকসার জমিন সাদবাদ। দেলুমিয়া বাজারে বাজারে তাবিজ বেচতো। কী সব দিন ছিল তখন। টোটকা অসুদের রমরমা কাস্টোমারদের এটা-ওটা বলে বটিকা ধরিয়ে দেওয়া...। এখন দেলুমিয়া বুঝতে পারে - তার নূরানী চেহারায় সারল্যের মাঝেও সেলসম্যানশিপের বাহার ছিল। নইলে দেশের এত্তো মানুষকে ম্যানেজ করে এমন পজিশনে কীভাবে আসা যায়! এসব ভাবতে ভাবতে দেলুমিয়ার ক্লান্তি আসে। ছাদে পানির ট্যাংকির ছায়ায় ইজি চেয়ারে বসে দৈনিক সংগ্রামে চোখ বুলাচ্ছিল দেলুমিয়া।
ক্রিকেট খেলাটা প্রথম একটু একটু বুঝে বিরান্নব্বইয়ে। সেবার কী খেললো পাকিস্তান! খেলা শেষ হওয়ার পর বনানীর কাকলী মোড়ের দোকান থেকে দেলুমিয়া ইমরান খান আর ওয়াসিম আকরামের পোস্টার কিনেছিল, এখনো ঝুলছে বেডরুমে। এখন আরো নতুন নতুন প্লেয়ার এসেছে, কী জোয়ান তাগড়া শরীর! দেখতেই মন ভালো হয়ে যায়। দেলুমিয়া ভাবে - ক্রিকেট খেলা হইলো জমিদারের খেলা। ডাল-ভাত খাওয়া বাঙ্গালের জন্য এ খেলা আসে নাই। তবুও মনে পড়ে নিরানব্বইয়ে হেরে যাওয়ার কথা। পাকিস্তান কী ফালতুই না খেললো সেদিন। জেতার পর মহল্লার বখাটে পোলাপান দেলুমিয়ার জানালায় ঢিল ছুড়েছিল, হৈ-হুল্লা করে কী কীসব মিছিলও দিয়েছিল - একাত্তরের দালালরা হুশিয়ার সাবধান...। দেলুমিয়া ভেবেছিল সে রাতে বের হয়ে দেখবে কে কী বলে। কিন্তু ছোটবিবি ঘর থেকে বের হতে দেয়নি। দেলুমিয়ার মনে পড়ে - এরপর অনেকদিন বাংলাদেশ ক্রিকেটে জিতেনি। কে জানে - হয়তো দেলুমিয়ার শাপ লেগেছিল ঢিলছোড়া পাজিদের উপর। পরমকরূণাময় তাই এ জাতের আনন্দ বরাত তুলে নিয়েছিলেন! নাহ্! দেলুমিয়া নিজেকে তো অতো কামেল মনে করে না। তার শাপে এমন হওয়ার কথা না। ভাবতে ভাবতে সংগ্রামটা চোখের উপর রেখে ঝিমিয়ে পড়ে, মাথাটা হাল্কা হয়ে আসছে...।
হঠাৎ সামনে তালুকদার এসে দাঁড়ায়। দেলুমিয়া চমকে উঠে - 'তালুকদার! তুই কোত্থেকে?'
তালুকদার হাসি দেয় - 'পাকিস্তানের পতাকা ঝুলাইছোস ক্যান?'
- তোর সমস্যা কী?
- স্বাধীন বাংলাদেশে পাকিস্তানের পতাকা উড়বো ক্যান?
- ঐটা তোরে কওন লাগবো? তোর মন চাইলে তুই ওয়েস্টিন্ডিজের পতাকা লাগা, আফ্রিকার পতাকা লাগা, তোর আব্বা ইন্ডিয়ার পতাকা লাগা। মানা করছে কে?
তালুকদার শীতল গলায় বলে - 'মানা তো কেউ করে নাই, দেল্লা! বাংলাদেশের পতাকা কই?'
এটা বলে তালুকদার তার হাত দিয়ে লম্বা বাঁশের উপর থেকে পতাকাটা টান মেরে ছিড়ে ফেলে। দেলুমিয়া অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখে তালুকদারের হাত দুটো অনায়াসে লম্বা হয়ে গেলো - দশ হাত, বিশ হাত কিংবা তারও বেশী!
এবার দেলুমিয়া চিৎকার করে - তালুকদার, হারামী করবি না, খবরদার। তোরে না আমি পাড়ের হাঁটের ক্যাম্পে শেষ করছিলাম, তুই আবার আসলি ক্যামনে?
তালুকদার শুনে হো হো করে হাসে। বলে - আমরা কখনো মরি না, দেল্লা। আমরা কখনো মরি না।
তালুকদারের দিকে তেড়ে যেতেই দেলুমিয়ার ঘুম ভেঙে যায়! ধড়পড় করা বুকে সাহস আসে। ধ্যুত, ছত্রিশ বছর পর তালুকদার আসবে কীভাবে! ঢোক গিলে চোখ কচলে দেখে মার্চ মাসের বাতাসে পতপত করে উড়ছে তার পেয়ারের পতাকা। বেলা বেড়েছে খানিকটা। স্বপ্নে তালুকদার এসে কী ভয়ই না লাগিয়ে গেলো! ছাদের কার্ণিশে এসে দাঁড়ায় দেলুমিয়া। পাশের বাড়ীর ছাদের উপরও উড়ছে পাকিস্তানের পতাকা। ও বাসার কলেজ ভার্সিটি পড়ুয়া ছেলেগুলো খুব আদব জানে।
তালুকদার কখনো সত্যি সত্যি ফিরে এলে ওদের ডাক দেয়া যাবে।
প্রকাশ করা হয়েছে: লেমন জুস বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মার্চ, ২০০৭ রাত ১১:৪২
অতিথি বলেছেন:
5 দিলাম। পরে কথা কমু এইটা লইয়া।
কনফুসিয়াস বলেছেন:
অসাধারণ হইছে লেখাটা!
রাগ ইমন বলেছেন:
যখন বাংলাদেশ খেলতো না , মানে বিশ্বকাপে , তখনও পাকিস্তান সমর্থন করতে পারি নাই ।71 এর বহু হিসাব কিতাব এখনও বাকি ।
এখনও টাকা ফেরত দেওয়া , পাকিস্তানপ্রেমীদের ফেরত নেওয়া , শোষন আর হত্যার জন্য আন্তর্জাতিক ফোরামে ক্ষমা চাওয়া .............অনেক অনেক হিসাব এখনও বাকি ।
রাগ ইমন বলেছেন:
শুধু খেলা ভাইয়া ?পাকিস্তানী সেজান জুস না হইলে যে আমাদের বাচ্চাদের খাওয়া হয় না....... প্রথম যে দিন বিজ্ঞাপন দেখলাম .......তীব্র ধিককারে ভরে গেল মন!
অতিথি বলেছেন:
বেশি জোস হইসে গল্পটা ... কঠঠিন ...
অতিথি বলেছেন:
অসাধারণ!
অতিথি বলেছেন:
রাগীমনাপুম্মাস্তাদিদা-র "আগ্গুন" কথাটা এক্সপাঞ্জ করতে অনুরোধ করি। ঐটা না আমার কপিরাইট করা কথা!শিমুল, রাগীমনরে কিছু কন, নাইলে কইলাম আমি লেখা নিয়া কিছু কমু!
অতিথি বলেছেন:
অচেনা বাঙালী, কনফুপ্রজাপতি, কিংকর্তব্য...:অনেক অনেক ধন্যবাদ।
রাগ ইমন:
সেজান জুস, কুলসুন ম্যাকারনী না খেলে দিন যাবে না। পিটিভি না দেখলে ভালো লাগবে না। নতুন আইটেম - আতিফ আসলাম, ফাকির মেহমুদ, আলী জাফর। অথবা নাভিদুল রানা আর ইউসুফ (মরহুম ইউহানা) এর অধুনা মুখশ্রী; সব ভালো লাগে। 'খেলায় আবার রাজনীতি কি?' উপস্! ক্ষণে ক্ষণে জেগে উঠে পাকমন পেয়ার।
আপনার কমেন্টগুলোর জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।
মোরশেদ ভাই:
সবিশেষ কৃতজ্ঞতা।
ধুসর:
আপনার ব্লগে গিয়ে কপিরাইট বিষয়ক কোন পোস্ট দেখলাম না
। আপনি পোস্ট দিয়ে শব্দগুলো কপিরাইট করে ফেলুন, প্যাটেন্টের ব্যাপারটা আমি দেখবো।
অতিথি বলেছেন:
খাসা হয়েছে। বেশ বেশ খাসা হয়েছে।
বকলম বলেছেন:
জব্বর!!
বকলম বলেছেন:
ভাবখানা এমন, 'গন্ডগোলের বছরে যা হইছে ওগলান ভুইলা যান!!!'
অমিত আহমেদ বলেছেন:
জটিল!
অতিথি বলেছেন:
"ধুরো, আপনেরা খেলার সাথে রাজনীতি মিশান ক্যান? পাকিস্তান ভালো খেলে বলেই ওদের সাপোর্ট করি।"-এইডা একটা প্রচলিত অজুহাত। আমার দেখা মতে, যারা পাকিস্তান সাপোর্ট করে, তারা হয় রাজাকারের পোলামাইয়া, না হয় ক্রিকেটের ক ও বুঝে না।
অতিথি বলেছেন:
হের লাইগাই আমি নেপালের সাপোর্টার।হেহ হেহ হেহ, অহন চুর ভাই আমারে কইতে পারবো না যে আমি কেরীকেট বুঝি না।
অতিথি বলেছেন:
আরে আসল কথা-ই তো কই নাই। আমার 'আগ্গুন' শব্দটার কী হইবো? রাগীমনাপুম্মাস্তাদিদারে কিছু কইবেন না কেউ?
লাল মিয়া বলেছেন:
সেজান জুস খাইনা। কেমুন মুতের গন্ধ আহে
অতিথি বলেছেন:
সম্পৃক্ত কমেন্টের জন্য চোর-সহ সবাইকে সীমাহীন ধন্যবাদ।ধুসর:
আপনি কপিরাইটের জন্য আলাদা পোস্ট দেন, সবাই খেয়াল করবে। নইলে 'আগ্গুন'টা আমিও নিয়ে নিতে পারি
অতিথি বলেছেন:
দারুণ গদ্য!
আপন তারিক বলেছেন:
উপরের সবার প্রসংশাগুলো একসঙ্গে জড়ো করতে মন চাইছে। আপনি তো এমনিতেই ভাল লেখেন, এটাও আপনার লেখার মতোই হয়েছে।আসলে যখন কেউ জাতীয় দলের পতাকা গায়ে দিয়ে সে দেশের প্রতিনিধিত্ব করে তখন রাজনীতি কেন, অনেক কিছুই আসে।
শিমুল আপনার লেখার সাথে পুরো সহমত....
অতিথি বলেছেন:
শিমুল, লেখাটা পড়লাম দেরিতে। তবু তো পড়লাম। না হলে ভালা লেখাটা মিস করতাম।
অতিথি বলেছেন:
চরম লিখা হইছে রে দাদা।
অতিথি বলেছেন:
জুবায়ের ভাই:আমার কোন পোস্টে আপনার প্রথম কমেন্ট। সীমাহীন কৃতজ্ঞতা।
মেন্টাল:
আপনাকে চরম ধন্যবাদ।
আপন তারিক:
আমার পোস্টগুলো আপনি রেগুলার পড়েন, কমেন্ট করেন। অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনি এতো কম লিখেন কেনো?
অতিথি বলেছেন:
শিমুল, সময়ের টানাটানিতে খুব থাকি। অজুহাতটা ব্যবহার করতে ইচ্ছে হয় না। তবু বলি এই যে আপনার লেখাটা কয়েকদিন বিলম্বে পড়তে পারলাম, তা-ও ওই সময়ের আকালের জন্যে। পড়লাম তখন আমার এখানে রাত দেড়টা। ইচ্ছে আছে আপনার এবং আরো কয়েকজনের পোস্টগুলো পড়বো। তখন অনেক পুরনো লেখার ওপর মন্তব্য পেলে অবাক হবেন না আশা করি।
অতিথি বলেছেন:
জুবায়ের ভাই:অনেক অনেক ধন্যবাদ। আপনার কথাগুলো শুনে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। ভালো থাকবেন।


















