somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি ছোট গল্প...বাবাকে খুব ভালোবাসি।

৩০ শে আগস্ট, ২০০৭ রাত ২:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছেলেটি অনেক দিন ধরে স্কুলের ফুটবল টীমে প্র্যাকটিস করে আসছে কিন্ত খেলার মান আশানুরুপ না হওয়ায় কখনো মূলদলে খেলতে তাকে নেয়া হয়না। তবু প্রতিদিন ছেলেটি আসে বিকেলে তার বাবার সাথে,বাবা বসে থাকে মাঠের গ্যালারীর এককোনে একদৃষ্টিতে চেয়ে থাকে মাঠের পানে, যেখানে তার ছেলে অনুশীলন করছে ।
এদিকে একদিন যথাসময়ে আন্তঃ স্কুল ফুটবল প্রতিযোগীতা শুরু হয়ে গেলো এবং যথারীতি ফুটবল দলের নাম ঘোষনায় দেখা গেল মূলদলে ছেলেটিকে নেয়া হয়নি।
কিন্ত ছেলেটিকে খুব স্বাভাবিক ভাবে তা মেনে নিল এবং ২/৩ টি খেলার পর টীমের কোচ লক্ষ্য করলো সেই ছেলেটি আর আসছেনা তবে খেলার ব্যস্ততায় সেদিকে তার আর নজর দেয়া হয়ে উঠলোনা। এদিকে স্কুলটীমটি ভাল খেলে ফাইনালে পৌঁছে গেলো ।
ফাইনালের দিনে খেলা শুরুর আগে সেই ছেলেটি এসে সরাসরি কোচের কাছে গেল,কোচ কোন প্রশ্ন করার আগে ছেলেটি কোচকে বললো " কোচ আমি মূলদলে খেলার সুযোগ পাইনি তাতে আমি কোন অভিযোগ করিনি মেনে নিয়েছি,কিন্ত আজ আপনাকে আমি অনুরোধ করছি আমাকে ১টিবার ফাইনালে খেলার সুযোগ দিন আমি আর কখনো আপনার কাছে কিছু চাইবোনা"।
কোচ প্রথমে অবাক এবং বেশ রাগতস্বরে বললেন "তুমি কিভাবে ভাবতে পারলে আমি তোমাকে খেলার সুযোগ দিবো যেখানে তোমার চেয়ে ভাল খেলোয়াড় সাইডলইনে বসে থাকবে আজ।"
ছেলেটি আবার আগের চেয়ে আরো দৃড়তার সাথে বললো
" কোচ প্লীজ আমাকে একটিবার সুযোগ দিন আজকে খেলবার, আমি আপনাকে নিরাশ করবোনা।"
কোচ অবাক হল ছেলেটিকে দেখে যে ছেলেটি কোনদিন মাঠে তার সির্ধান্তের বাইরে কোন উচ্চবাক্য পর্যন্ত করেনি অথচ সেই ছেলের আজ হলো কি? অথচ ছেলেটির কথায় এমন এক দৃড়তা
ছিল যা কোচকে ভাবিয়ে তুললো অবশেষে কোচ বলে উঠলেন
" দেখ ছেলে আজ স্কুলের ফাইনাল খেলা ।এই খেলার উপর নির্ভর করছে স্কুলের সম্মান । আমি কখনোই নিজ বিচারের বাইরে কোন আবেগেতাড়িত হয়ে সির্ধান্ত আজ পর্যন্ত নেইনি কিন্ত তোমার কথায় আমি আজ বিশ্বাস করে তোমাকে খেলার সুযোগ দিলাম,আমি জানিনা তুমি সেটা কিভাবে রক্ষা করবে"।
যথারীতি খেলা শুরু হলো আর ছেলেটি খেললো বিদুত্ত স্ফুলিংগের মতো,সে একাই দু দুটো গোল দিলো আর ছেলেটির একক নৈপুন্যে তাদের স্কুল হলো প্রতিযোগীতায় চ্যাম্পিয়ন।ছেলেটি হলো সেরা খেলোয়াড়। কিন্ত কোচ অবাক হয়ে লক্ষ্য করলেন এত চমকপ্রদ ঘটনার পরও ছেলেটি ভীষন নির্লিপ্ত
কিন্ত ছেলেটির চোখেমুখে ছড়িয়ে আছে এক গভীর প্রশান্তি। খেলা শেষে একে একে সবাই চলে গেলেও ছেলেটি তখন ও মাঠের এককোনে দাঁড়িয়ে কি এক গভীর চিন্তায় মগ্ন । কোচ খানিকটা বিসময় আর কৌতূহল নিয়ে এগিয়ে গেলো ছেলেটির দিকে ,অনেকটা কৌতূহল নিয়ে কোচ জিজ্ঞেস করলেন ছেলেটিকে " তুমিতো কখনোই এরকম খেলা আগে কখনো খেলোনি এবং এরকম খেলা তোমার পক্ষে খেলা অসম্ভব কিন্ত তুমি সেটা কিভাবে সম্ভব করলে আজ?"
ছেলেটি ধীর স্বরে বললো" আজ আমি জীবনে প্রথমবার আমার বাবার জন্য খেলেছিলাম"।
কোচ তাকালেন ছেলেটির বাবা মাঠের গ্যালারীর যে কোনায় নিয়মিত বসতো সেখানে কিন্ত অবাক হয়ে দেখলেন সেখানে কেউ নেই স্হানটি ফাঁকা। কোচ বললেন "কই আমি তোমার বাবাকে মাঠে কোথাও দেখছিনা"
ছেলেটি কোচের দিকে ভেজা চোখে তাকিয়ে বললো " কোচ আমি তোমাকে কখনো আমার বাবার সম্পর্কে কিছু বলিনি ,তুমি হয়তো দেখে থাকবে,প্রতিদিন আমি যখন প্র্যাকটিস করতে আসতাম মাঠে আমার বাবা আমার সাথে এসে মাঠের গ্যালারীর এক কোনে বসে থাকতেন ,খেলা শেষে আমরা একসাথে ঘরে ফিরতাম ,গতকাল আমার বাবা মারা গিয়েছেন । তিনি অন্দ্ধ ছিলেন কিন্ত আমাকে ভালোবাসতেন বলে আমার সাথে তিনিও প্রতিদিন মাঠে আসতেন আমাকে উত্তসাহ দেয়ার জন্য । কিন্ত আমি জানতাম আমি ভাল খেললেও আমার বাবা কে কখোনোই আমি তা দেখাতে পারবোনা। তাই কখনো ভাল খেলার চেষ্টা ও আমি করিনি। কিন্ত আজ বাবা মারা যাওয়ার পর মনে হল আজ আমার বাবাতো সব দেখছেন আকাশ থেকে তাই আজ যদি আমি ভাল খেলি উনি খুশী হবেন।তাই আজ আমি জীবনে প্রথম খেললাম আমার বাবার জন্য............."।
কারন বাবাকে আমি খুব ভালোবাসি।

গল্পটি একটি (ইংরেজী)বইতে পড়ে খুব ভালো লেগেছিলো দূর্বল অনুবাদের জন্য ক্ষমাপ্রার্থী । শেয়ার করতে মন চাইল সবার সাথে ,তাই পোস্ট করা।

সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে আগস্ট, ২০০৭ রাত ২:৫৮
১২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×