আফ্রিকার পাহাড়ী অরণ্য মনে করিয়ে দেয় নিজ দেশের পার্বত্য চট্রগ্রামের অরণ্যর কথা । আফ্রিকার মাইলের পর মাইল বিস্তৃত বিশাল এই অরণ্য যেন এক অচেনা জগৎ । এই একুশ শতকের বিশ্বে ভাবতে অবাক লাগে এই অরণ্য এখন ও এমন গোত্র আছে যারা মানুষের মাংশ খেতে পছন্দ করে অথার্থ সোজা বাংলায় নরখাদক । এই গোত্রটি লেংদু নামে পরিচিত। বিগত গৃহযুদ্ধে এই গোত্রটি নৃশংসতার সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
এই গভীর অরণ্যর শেষে যে পাহাড়টি দেখা যায় ছবিতে ,এখানে বাস করে পৃথিবীর দুর্লভ MOUNTAIN GORILLA ।গরিলার কথা যখন এসেই গেল তখন এদের সম্পর্কে একটা কথা না বললেই না। তা হচ্ছে এরা সাধারনত শান্তিপ্রিয় তবে শত্রুকে ভয় দেখাবার জন্য এরা বুকে জোরে জোরে আঘাত করে ঢাকের মত শব্দ করে ,এরা দলের নেতার প্রতি ভীষন অনুগত এবং দলের নেতা দলকে নেতৃত্ব দেয় ,বিভিন্ন বিপদ আপদে দলকে রক্ষা করে। বর্তমানে এই গরিলার সংখ্যা খুব দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে অবৈধ শিকারীদের কারনে।ন্যশনাল জিয়োগ্রাফি , বন্যপ্রানী সংরক্ষনের জন্য কিছু সংস্হা এখানে দূর্গম পরিবেশে কাজ করে যাচ্ছে এই গরিলাদের রক্ষায়।
আফ্রিকার অরণ্য মনে করিয়ে দেয় এগডার রাইজ বারোজের সেই কালজয়ী উপন্যাস টারজানের কথা যার পটভূমিকা এই কংগোর বনকে ঘিরে রচিত হয়েছিল।বনের ভেতরে বিশাল বড় বড় গাছ আর সেগুলোর ডাল থেকে নেমে আসা বিশাল লতানো ঝুরি দেখে মনে হয় এই বুঝি কৈশোরে দেখা টারজান রুপী জনি ওয়েসমুলারকে দেখবো সেই রক্ত হিমকরা আওয়াজে বেরিয়ে আসবে কোন অরণ্যর মাঝ থেকে শত্রুকে বধ করার জন্য।
অরণ্যর পাশদিয়ে বয়ে চলা কংগো নদীর গভীর কালো জলে আরো এক ভয়ংকর বিপদ , কুমীরের বাস। এখানে মাছের বাজারে যেয়ে দেখি সে আর এক অদ্ভুত ঘটনা।ছোট,বড় বিভিন্ন আকৃতির কুমীরের পসরা সাজিয়ে বসেছে মাছ বিক্রেতেরা।আর স্হানীয়রা দেখি বেশ মহাসমাদরে দরদাম হাকাচ্ছে কুমীরগুলোর ।
আফ্রিকার নদীতে এরা ক্যানু (মানে যাকে আমরা নৌকা বলি )ব্যবহার করে।যদিও ক্যানু শব্দটার সাথে আমরা সবাই কমবেশী পরিচিত সেবা প্রকাশনীর টারজান বা অভিযান কাহিনীর সুবাদে।
কিন্ত এখানে এসে আমার প্রথম পরিচয় হলো চাক্ষুসভাবে এই ক্যানুর সাথে।এরা অত্যন্ত নিপুনভাবে বিশাল বিশাল সব গাছ কেটে তার কান্ড চেঁছে খোল তৈরী করে নৌকা তৈরী করে, এগুলোকেই তারা ক্যানু বলে।
এখানকার স্হানীয়রা গান এবং সংগীতের দারুন ভক্ত।কথায় আছে এদের মন জয় করতে হলে দরকার দুটো জিনিষের এক সংগীত আর একটি হল মদ বা বিয়ার।আর এই দুইটি জিনিষ দিয়ে এই সহজ সরল মানুষগুলোকে বোকা বানিয়ে আসছে যুগে যুগে সাদা চামড়ার মানুষেরা।সেই গল্প নাহ্য় আরেকদিন করা যাবে।
এখানকার স্হানীয় জনসাধারনের প্রধান খাদ্য হচ্ছে কাসাভা ।এই কাসাভা হচ্ছে এক ধরনের গাছের মূল যা বেঁটে ময়দার মত পেস্ট করে এরা রুটি বানি্য়ে খায়।তাছাড়া এর পাতা এরা শাক হিসেবে রান্না করে খায়। এখনও এখানকার বেশিরভাগ লোকজন চাষাবাদের সাথে পুরোপুরি পরিচিত নয় মুলত কাসাভাটা শুধু এরা চাষ করে কিণ্ত বাকী সব ধরনের ফলমূলের জন্য এরা এখনও অনেকাংশে প্রকৃতি তথা অরণ্যর উপর নির্ভরশীল।
[img|http://media.somewhereinblog.net/images/thumbs/ashiquehasan007blog_1189138077_10-DSC01284.JPG
(চলবে)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

