somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আফ্রিকার পাহাড়ী অরণ্য আর কালো মানুষের কথা (পর্ব-২)

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ৩:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এখানকার স্হানীয় জনসাধারনের খাদ্যর মধ্যে আছে যেমন কাসাভা এর পাশাপাশি তারা বন থেকে সংগ্রহ করে নানারকম ফল যেমন মান্দারিন (কমলা জাতীয় ফল),আমড়া,পেঁপে,কলা,লিচু,আখ এবং আম। সবথেকে মজার বিষয় হচ্ছে এখানকার আমগাছগুলো । একই আমগাছে দেখা যায় মুকুল ধরেছে এবং ডালে ঝুলছে কচি আম থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাইজের আম এমনকি পাঁকা আম পর্যন্ত ।এর কারন কংগোতে সারা বছর গাছে আম ধরে। আমগুলো সাইজে আমাদের দেশের আম থেকে একটু ছোট তবে স্বাদে মিস্টি এবং উপাদেয়।



এদের খাদ্যতালিকায় আছে আর একটি অভিনব মেন্যু আর তা হল বিভিন্ন প্রজাতির কীট পতংগ । এর আগে আমি দেখেছিলাম পার্বত্য চট্রগ্রামে চাকমাদের বড় বড় ঝিঁঝিঁ পোকা ধরে খেতে কিন্ত এদের খাদ্য তালিকায় ঝিঁঝিঁ পোকা থেকে শুরু করে শুয়োপোকা,ঘাস ফরিং এমন কোন পোকা নেই যা তারা খায়না। নিচের ছবিতে দেখতে পাবেন সেই পোকাদের কিছু নমুনা।



এদের গ্রামের বাড়ি গুলো আমাদের দেশের মত মাটির তৈরি হলেও আকৃতি গোলাকার আর উপরে তারা ব্যবহার করে ছনপাতা বা বিভিন্ন ধরনের গাছের পাতা। আবার কখনোবা দেখা যায় সম্পূর্ন ঘরটি তারা পাতা বা নলখাগড়া দিয়ে তৈরী করছে। ছবিতে এরকমই একটি ঘরের মডেল দেখানো হয়েছে।



এখানকার লোকদের বেশীরভাগের ধর্ম খ্রীস্টান ক্যাথলিক কিছু আছে মুসলমান তবে ১০% থেকে ১৫% এর বেশি হবেনা । এই কংগোতে লোকমুখে জানা যায় সর্বপ্রথম সাদা চামড়ার লোক হিসেবে ডিয়াগো কাউ নামে পর্তুগীজ এক ব্যক্তি আনুমানিক ১৪৮২ খ্রীষ্টাব্দে কংগোতে প্রথম অভিযান পরিচালনা করে । তার অভিযানে পর থেকে কংগোতে শুরু হয় খ্রীষ্টান ধর্মের প্রসারণ তবে সেটা বিস্তৃত লাভ করে ব্যাপকভাবে ১৮ শতকের দিকে ভ্যান কুভার নামে এক শ্বেতাংগ বেলজিয়াম মিশনারী আগমন করার পর থেকে ।এবং তার সাথে আগত মিশনারী দল এখানে খ্রীষ্টান ধর্ম প্রচার করা শুরু করে এবং সেই সময় রাজা ২য় লিওপোল্ডের আমলে ১৮৮৫ খ্রীষ্টাব্দে কংগো পরিনত হয় প্রথমে রাজা ২য় লিওপোল্ডের ব্যক্তিগত সম্পদের অংশ হিসেবে পরে ১৯০৮ সালে একটা পুতুল প্রশাসন তৈরী করে মুলত শাসন ক্ষমতা বেলজিয়ামের হাতে রেখে কংগো পরিনত হ্য় কলোনীতে এবং সেসময় হতে ১৯৬০ পর্যন্ত বেলজিয়ামের কলোনী হিসেবে কংগো শাসিত ও শোষিত হয়ে এসেছে।অবশেষে ১৯৬০ সালে প্যাট্রিক লুবুম্বার নেতৃত্বে কংগো উপনিবেশ শাসন হতে মুক্তি লাভ করে কিন্ত পরবর্তীতে ১৯৬১ সালে তারই নির্বাচিত সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল মুবুতু দ্বারা তিনি উৎখাত ও নিহত হন।
এরপর কংগোর নামকরন করা হয় জায়ার এবং সুদীর্ঘ ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল মুবুতু আমেরিকার ছত্রছায়ায় একনায়ক ও স্বৈরচারী শাসনের মাধ্যমে দেশ কে শোষন করেন।অবশেষে ১৯৯৭ সালে লরেন্ট কাবিলা এক অভ্যুথানের মাধ্যমে তাকে দেশ থেকে বিতাড়িত করে পুনরায় এর নামকরণ করেন গনপ্রজাতন্ত্রী কংগো নামে। কিন্ত ২০০১ সালে আততায়ীর নিকট এই নেতা নিহত হলে তার ছেলে জোসেফ কাবিলা হন দেশের প্রেসিডেন্ট এবং গৃহযুদ্ধের কারণে পরবর্তীতে আবার ২০০৬ এ জাতিসংঘের তত্বাবধায়নে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি পুনরায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন ।

যে কথা বলছিলাম ,এখানে প্রাচীনকালে খ্রীষ্টান ধর্ম আসার আগে এখানকার বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে কোন ধর্মের প্রচলন ছিলনা এরা এক একটি গোত্র বিভিন্ন কাল্পনিক ভুত,প্রেত বা অশুভ আত্তার আরাধনা করত। যা AFRICAN BLACK MAGIC বা কালো জাদু নামে পরিচিত ।এমনকি এখনও এই বিদ্যার গোপন অনুসারীরা তাদের এই বিদ্যা দ্বারা মানুষের ক্ষতি করে আসছে। যারা এই বিদ্যার পারাদর্শী তাদের কে বলে ডকি বা ওঝা আর এই বিদ্যাকে তারা আফ্রিকান ভাষায় বলে কিনডকি । ছবিতে দেয়া আছে ডকিদের দ্বারা ব্যবহৃত বিভিন্ন দ্রব্য আর পরের ছবিতে আছে একজন ডকির বা ওঝার মূর্তি পোশাকসহ ।





অনেকে নিশ্চয় দেখে থাকবেন বিদেশী সিনেমায় একজন দুষ্ট ব্যক্তি একটি পুতুলের গায়ে সুঁচ ফুঁটিয়ে আরেক জায়গায় এক ব্যক্তিকে হত্যা করছে। আমি এরকম বেশ কিছু ঘটনা শুনেছি এখানকার লোকমুখে অবশ্য ঘটনাকতটুকু সত্য তা আমি জানতে পারিনি।
তবে এখানকার স্হানীয়রা যারা এসব বিদ্যায় পারদর্শী তাদেরকে এরা ভয় পায় এবং এড়িয়ে চলে।

আফ্রিকার দেশগুলিতে গোত্রের হিসাব নেই ঠিক তেমনি ভাষার ।তার প্রধান কারন এখানে প্রত্যেকটি গো্ত্রের নিজস্ব ভাষা আছে যেমন লুনটুম্বা,একোন্ডা,লোকুন্ডো এবং কিমংগো। এছাড়া আছে কিছু সাধারন প্রচলিত ভাষা যেমন লিংগালা,সোহেলী আর সরকারী ভাষা হিসাবে প্রচলিত আছে ফ্রেন্চ বা ফরাসী ।

দেশটি আয়তনে আমাদের দেশের তুলনায় প্রায় ১৬ গুন বড় ,প্রায় ভারতের সমান ।এই দেশের জনগোষ্ঠীর আমাদের মত সংখ্যায় বেশী না হলেও এদের ভাষা,সংষ্কৃতি,চালচলন,প্রথার মাঝে অনেক বৈচিত্র পরিলক্ষিত হয়।এমনকি আকারের মাঝেও অদ্ভুত কিছু বৈশিষ্ট্য দেখা যায় যেমন আপনেরা নিশ্চয় পিগমী জাতির নাম শুনে থাকবেন।এরা এক একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের আকৃতি বামনের ন্যায় । এবং এদের এটা জন্মগত একটি বৈশিষ্ট্য।তবে আকার ব্যাতীত আর সব মানবিক গুনাবলীর ক্ষেত্রে এরা সাধারন মানুষের মতই ।

(চলবে)

নোট:
ছবিতে প্রাচীনকালে ব্যবহৃত কিছু নিত্য ব্যবহার্য তৈজষপত্র দেখা যাচ্ছে।



ছবিতে প্রাচীনকালে কংগোতে আদিবাসীদের মাঝে প্রচলিত মুদ্রার ছবি





সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুলাই, ২০০৮ সকাল ৯:৫৭
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×