আমার প্রিয় পোস্ট

বৃষ্টিতে হাঁটতে ভাল লাগে আমার কারন কেউ দেখেনা দুচোখের জল ধুয়ে যায় বৃষ্টিধারায়

এক উদ্দাম যৌবনাবতী আফ্রিকান সুন্দরীর গল্প ( শেষ পর্ব )

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৫৯

                       

১ম পর্বর পর..


ভিক্টোরিয়া নীল থেকে এই আফ্রিকান সুন্দরী বুজাগালি ফলসের জন্ম যার আদিনাম "বুদাগালি" । এই ভিক্টোরিয়া নীল এর পূর্ব পার্শ্বে অববাহিকায় বসবাসরত প্রাচীন আদিবাসী জনগোষ্ঠী "বাসোগা" BUSOGA দের
মাতৃভাষা "লাসোগা" তে LUSOGA এরা বুজাগালি কে বুদাগালি নামে ডেকে থাকে। প্রাচীনকাল থেকে এই আদিবাসী জনগোষ্ঠী বাসোগাদের কাছে বুদাগালি ফলস্‌ হচ্ছে এক পবিত্রভূমি।



তাদের পূর্বপুরুষের আমল থেকে ডাকিনীবিদ্যার বা BLACK MAGIC এর পারদর্শী ওঝারা এই জলপ্রপাতে ধারে নদীর দেবতাদের বা দুষ্ট আত্তাদের সন্তষ্টির জন্য বলি দিতে নেমে আসতো । এখনও এই জলপ্রপাতের আশেপাশের গ্রামে এরকম ওঝাদের গোপনে BLACK MAGIC চর্চার কথা লোকমুখে শোনা যায় । ইচ্ছা থাকা সত্বেও সময় স্বল্পতার কারনে সেই ওঝাদের BLACK MAGIC দেখতে যাওয়া আর হয়নি ।



বুজাগালি ফলস্‌ বা জলপ্রপাত এখানে ৭ টি শাখায় বিভক্ত হয়ে সারিবাঁধা পাহাড় এর ফাকফোঁকড় দিয়ে তীব্র খড়স্রোতা নদীর মত এগিয়ে গেছে সন্মুখে । এই জলপ্রপাতের চারপাশে অরণ্যে গড়ে উঠেছে অসংখ্য পাখির অবাধ বিচরনভূমি যা পাখি প্রেমিকদের জন্য এক স্বর্গরাজ্য,জলপ্রপাতের দুপাশের অরণ্যর ধারঘেঁসে আছে আফ্রিকানপল্লী । মানুষ,প্রকৃতি আর জীবজগতের যেন এ এক অসাধারন মিলনমেলা ।



প্রতিবছর অসংখ্য পর্যটক ভীড় জমায় এই আফ্রিকান সুন্দরী বুজাগালির রূপসুধা পান করার জন্য । এখানে আছে তীব্র খড়স্রোতা বুজাগালি জলপ্রপাতে রোমন্চকর রাফটিং এর অপূর্ব সুযোগ ।


সেইসাথে আছে রোমন্চকর বাংগি জাম্প । এখানে আশেপাশের অরণ্য ক্যাম্প ফায়ারের সুযোগ আছে । এছাড়া প্রকৃতি প্রেমিকদের জন্য আছে অরন্যর অপূর্ব নয়নভিরাম প্রকৃতিক সৌন্দর্য দেখার জন্য হাইকিং করার সুযোগ।এই বুজাগালি জলপ্রপাতের ধারে পর্যটকদের মনোরন্জনের বিভিন্ন ব্যবস্হা আছে । জলপ্রপাতে নির্দিষ্ট স্হানে গাইডের তত্বাবধায়নে নিরাপদে সাতাঁর কাটার সুযোগ আছে। এছাড়া খাবারের জন্য আছে একটি রেস্টুরেন্ট । এখানকার স্হানীয় সাংষ্কৃতিক দল নানারকম অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পর্যটকদের আনন্দদান করে থাকে ।



কিন্তু সভ্যতার করালগ্রাসে আজ সেই আফ্রিকান সুন্দরী বুজাগালি হারাতে বসেছে তার যৌবনাময়ীরূপ । সম্প্রতি উগান্ডা সরকার এই বুজাগালি জলপ্রপাতের উৎসে বাঁধ দিয়ে বিশ্ব ব্যান্কের সহায়তায় তৈরী করছে জলবিদূত্ৎ কেন্দ্র । ফলে বুজাগালি হারাতে বসেছে তার যৌবনের রূপ,সেইসাথে বদলে যাচ্ছে আশেপাশের ইকোসিস্টেম । একদিকে যেমন ক্ষতিগ্রস্হ হচ্ছে এই জলপ্রপাতের উপর বেঁচে থাকা জীবজগত অন্যদিকে তেমনি এই অববাহিকায় বসবাসরত প্রাচীন আদিবাসীরা ।





সেইসাথে বুজাগালিতে পর্যটকদের ভীড় আশংকাজনক ভাবে প্রতিবছর দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্হ হচ্ছে এখানকার পর্যটনশিল্প এবং এর উপর নির্ভর করে থাকা মানুষের জীবন।
যদিও এই জলবিদূৎ কেন্দ্রর উৎপাদনের সফলতা নিয়ে নিয়ে বিষেশজ্ঞদের যথেষ্ট সন্দেহ আছে কারন ভিক্টোরিয়া লেকের পানি প্রতিবছর দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে ।ফলে বিদুৎ উৎপাদনে যে পরিমান পানি দরকার সেটার ঘাটতি থেকেই যাবে ফলে লাভের তুলনায় ক্ষতির পরিমান বেশি হবে।

কিন্তু সরকার তার সিধার্ন্তে অটল থাকায় বুজাগালি জলপ্রপাতের মৃত্যু এখন শুধু সময়ের অপেক্ষায় । হয়ত আর বুজাগালি তার যৌবনের উচ্ছলতা আর প্রানউদ্দমে ছুটে চলবেনা । পাখিরা হয়তো সেখানে ফিরে আসবেনা । শীতল জলের নির্মল পরশ নিতে হয়তো কোন পর্যটক এখানে আসবেনা । জলপ্রপাতের শোঁ শোঁ গর্জনের বদলে তখন হয়তো শোনা যাবে যান্ত্রিক মেশিনের কর্কশ আওয়াজ । এখানকার নীল আকাশ হয়ত ঢাকা পড়ে যাবে যান্ত্রিক সভ্যতার কালো ধোঁয়ায় ।



এরপরও মানুষ বেঁচে থাকে তার স্বপ্ন নিয়ে ,তার অনাগত সন্তানের জন্য রচনা করতে চায় একটি সুন্দর নির্মল পৃথিবীর । তাই উগান্ডার পরিবেশবাদীরা সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে তাদের সরকার কে এরকম ভুল সির্ধান্ত না নেয়ার জন্য। একজন পৃথিবীবাসী হয়ে আমি তাদের হয়ে বলতে চাই আসুন আমরা আমাদের সবুজ প্রকৃতিকে ধারন করি আমাদের সমস্ত স্বপ্ন আর ভালোবাসা দিয়ে । আমাদের অনাগত ভবিষৎ বংশধরদের জন্য গড়ি এক সুন্দর, স্বপ্নিল পৃথিবীর।

সমাপ্ত

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): আফ্রিকা ;
প্রকাশ করা হয়েছে: চেতনার অভ্যুদয়  বিভাগে ।

 

  • ১৪ টি মন্তব্য
  • ৪৫৩বার পঠিত
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৫ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:০৬
comment by: অভিক শাওন বলেছেন: নদীর কাছে অামিও থাকি নত
তাকেই বলি আমার আছে গোপন কথা যত।
২. ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:২৪
comment by: ভাস্কর চৌধুরী বলেছেন: দারুন লিখেছেন।

৩. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১:৫৪
comment by: আশিক হাসান বলেছেন: অিভক শাওন ও ভাস্কর চৌধুরী আপনাদের ধন্যবাদ ,মন্তব্য এর জন্য।
ভাস্কর আপনার কাছে একটা মেইল দিয়েছিলাম ওটা পেলে একটু কষ্ট করে জানাবেন । মেইলের মাধ্যমে । ধন্যবাদ ।
৪. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ ভোর ৬:৫০
comment by: রাশেদ বলেছেন: ৫
৫. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সকাল ১০:৫৬
comment by: এন্থনীবাংলা বলেছেন: খুবই সুন্দর লেখা । ভাল লাগল
৬. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৩:৫৬
comment by: আশিক হাসান বলেছেন: রাশেদ ধন্যবাদ ,এন্থনীবাংলা আপনার ভাল লাগা দেখে আমারও খুব ভাল লাগলো , ধন্যবাদ আপনাকে।
৭. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৪:০২
comment by: জুয়েল বিন জহির বলেছেন: আশিক হাসান আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি আফ্রিকার জাতিসমূহকে নিয়ে লেখার জন্য। আপনার কাছ থেকে এ ধরনের লেখা নিয়মিত আশা করছি।
৮. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৪:১১
comment by: মিরাজ বলেছেন: ভাল লেখা।
ধন্যবাদ আশিক হাসান।
৯. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৪:১৪
comment by: মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: ভাল লাগলো ..............আপনার দু'পর্বের লেখা পড়ে ।
খারাপ লাগছে বুজাগালির জন্য .............
১০. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৪:৪৬
comment by: আশিক হাসান বলেছেন: ধন্যবাদ জুয়েল বিন জহির,মিরাজ এবং মেহরাব শাহরিয়ার ।

আসলে সুন্দরের মৃত্যু দেখে কারও ভাল লাগার কথা না , তারপর ও এই পৃথিবীতে তা ঘটে কিছু অসুন্দর মনের মানুষের জন্য @ মেহরাব শাহরিয়ার ।
১১. ০১ লা অক্টোবর, ২০০৭ ভোর ৫:০৫
comment by: কালপুরুষ বলেছেন: অসম্ভব ভাললাগায় মন ছুঁয়ে গেল।
১২. ০১ লা অক্টোবর, ২০০৭ ভোর ৫:২০
comment by: আশিক হাসান বলেছেন: ধন্যবাদ কালপুরুষ অসম্ভব ভাললাগার মত মন্তব্য করার জন্য ।
১৩. ১৬ ই জুলাই, ২০০৮ সকাল ৮:০১
comment by: কেএসআমীন বলেছেন: ভাল লিখেছেন...

আমাদের দেশে এর চেয়ে ভয়ংকর আকাম করছে আমাদের সরকারগুলা।

এগুলি সম্পর্কেও লিখুন প্লিজ... আপনি পারেবন...
১৪. ২০ শে জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১:০৭
comment by: আশিক হাসান বলেছেন: ভাই ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যর জন্য । তবে অনেক কিছু দেখলেও বলা যায়না । এই সম্পর্কে একটা মজার কৌতুক ও আছে ।

একবার কম্যুনিস্ট পার্টির এক আলোচনায় পার্টির বর্তমান প্রধান ক্রুশ্চেভ তার পূর্ববতী পার্টি প্রধানের খুব সমালোচনা করছিলেন ।

একসময় ভীড় থেকে এক লোক বলে উঠলো হঠাৎ

"এতই যখন সব জানতেন তখন প্রতিবাদ করেননি কেন ?"

ক্রুশ্চেভ রাগান্বিত স্বরে বলে উঠলেন "কে বললো, কে বললো এই কথা?"

পুরো হলরুম জুড়ে পিন পতন নিস্তব্ধতা কেও কোন কথা বললো না ক্রুশ্চেভের ভয়ে ।

তখন ক্রুশ্চেভ বললো "আমিও এই একই কারনে সেদিন কিছু বলতে পারিনি "

আশা করি বুঝতে পেরেছেন আমি কি বলতে চাইছি।

 



 


আসলে নিজের কথা বলতে গেলে প্রথমে মনে হয় কেও হয়তো একটা ভিডিও ক্যামেরা সামনে নিয়ে লাইভ শো করছে ।এবং আমি...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ১২৪৪৭