ভূমিকা
ছুটি মানে আনন্দ শুধুই আনন্দ । ছুটিতে ভুলে যাই ইচ্ছে করে অনেক দায়িত্ব আর কাজের কথা । মন চায় শুধু ছেলেমানুষী আর দুষ্টুমীতে সারাদিন কাটাতে । অবশেষে দীর্ঘ ৮ মাস পর পেলাম ৪ দিনের জন্য ছেলেমানুষী আর দুষ্টুমী করার সুযোগ । তাই আর দেরী না করে বেরিয়ে পড়লাম পরিবার সহ রাংগামাটি এবং কাপ্তাইকে এই বর্ষার অবগাহনে চোখ ভরে দেখার জন্য ।
এই পথ যদি না শেষ হয়....
অবশেষে বহু প্রতীক্ষিত ২০ জুন সকাল ০৭০০ টায় আমরা সকলে গ্রীন লাইনের বাসে রওয়ানা হলাম চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে । কাঁচপুর ব্রীজ অতিক্রম করতেই দেখতে পেলাম দুপাশের গ্রামগুলো ইতিমধ্যে বর্ষার জলে ডুবে ছোট্ট ছোট্ট দ্বীপে পরিনত হয়েছে ।
এভাবে একসময় দীর্ঘ পথ পরিক্রম করে আমরা অবশেষে বেলা প্রায় ০২৩০ টার দিকে পৌঁছালাম চট্টগ্রামে । এরপর শুরু হলো ভ্রমনের ২য় পর্ব অর্থাৎ চট্টগ্রাম থেকে রাংগামাটির উদ্দেশ্যে যাত্রা । পথে যেতে যেতে দেখা গেল বর্ষার অপরুপ নয়নভিরাম দৃশ্য । গ্রামের পর গ্রাম শুধু সবুজ আর সবুজ । জমিতে কৃষকের নতুন বোনা ধানের সবুজে যেন চারিদিকে সবুজের ঢল নেমেছে ।
আর মাঝে মাঝে নদীর পাশে চর পড়া অংশে খেলা করছে গ্রামের দূরন্ত দামাল ছেলের দল ।অনেকদিন এসব দৃশ্য দেখা হয়না আমাদের । ঢাকার ইটপাথড়ের কারাগারে থেকে মন যেন হাঁপিয়ে উঠছিলো ।আজ এতদিন পর মুক্ত খোলা বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে গিয়ে সেটা উপলদ্ধি করতে পারলাম।
চট্টগ্রাম থেকে রাংগামাটিতে যেতে হাটহাজারী হয়ে যেতে হয় । এবং হাটহাজারী থেকে সস্পূর্ন রাস্তাটি মসৃণ একেবারে রাংগামাটি পর্যন্ত । বিশেষ করে রাংগামাটির পাহাড়ী এলাকায় যেভাবে সেনাবাহিনীর ইন্জিনিয়ার কোর পাহাড় কেটে কার্পেটিং করা মসৃণ রাস্তা বানিয়েছে তা অবশ্যই প্রশংসার দাবী রাখে । পাহাড়ী রাস্তায় বাঁকগুলো একদিকে যেমন বিপদজনক অন্যদিকে অসম্ভব সুন্দর আর রহস্যময়
অবশেষে রাংগামাটি
অবশেষে আমরা রাংগামাটি এসে পৌছাঁলাম প্রায় সন্ধ্যা হয় হয় এমন সময়। উঠলাম আগে থেকে ঠিক করা সরকারী এক রেস্ট হাউসে। সবাই ভ্রমনে ক্লান্ত হলেও পথের সব অর্পূব দৃশ্য দেখে সবাই ছিলো রোমান্চিত । রাতে সবাই ফ্রেশ হয়ে খাবার খেয়ে বেরিয়ে পড়লাম আমাদের নিজস্ব ভাড়া করা মাইক্রোবাসে উদ্দেশ্যে রাতের পাহাড়ী শহর রাংগামাটিকে দেখার। রাংগামাটি শহরটি আকারে বেশ বড় নয় তবে এর বৈচিত্র্য এই শহরের মাঝে দিয়ে অসংখ্য ছোট ছোট উঁচু নিঁচু সড়কের অবস্হান এবং শহরের সমস্ত সড়কগুলো কার্পেটিং করা । তাই ড্রাইভের যেমন মজা পাওয়া যায় তেমনি যাত্রীদের জন্য ভ্রমন হয় আনন্দদায়ক ।
রাতের সংক্ষিপ্ত ভ্রমণ শেষে সবাই ফিরে আসলাম রেস্ট হাউসে ।অনেক রাত অবধি গল্প হল।পরদিন আমাদের গন্তব্যস্হল শুভলং তাই আর দেরী না করে সবাই গল্প সেদিনকার মত সাংগ করে ঘুমুতে গেলাম ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

