আমার প্রিয় পোস্ট

বৃষ্টিতে হাঁটতে ভাল লাগে আমার কারন কেউ দেখেনা দুচোখের জল ধুয়ে যায় বৃষ্টিধারায়

The Jewel of Medina(Freedom of speach এবং artistic license নামে মিথ্যার বেসাতি)

১৩ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৩:০৫

শেয়ারঃ
0 0 0




সম্প্রতি আমার ব্লগে একজন ব্লগার একজন পেশাদার সাংবাদিক ও আমেরিকান লেখিকা শেরী জোনসের লেখা তার জীবনের প্রথম ইতিহাস কেন্দ্রিক একটি উপন্যাস টির অনুবাদের একটি কষ্টকর কাজ হাতে নিয়েছেন । যার কাহিনী মূলত ইসলাম ধর্মের সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রসুল হজরত মোহাম্মদ (সাঃ) এবং তার পত্নী বিবি আয়েশা (রাঃ) কে নিয়ে রচিত হয়েছে।

লেখিকা শেরী জোনস যিনি বর্তমানে একজন পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে ১৯৭৯ সাল থেকে কাজ করে আসছেন । তিনি বর্তমানে ওয়াশিংটন ডিসি তে একটি আন্তজার্তিক সংবাদ সংস্থার ন্যাশনাল এফেয়ার্স বুরো তে কর্মরত আছেন ।তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন ম্যাগাজিনে প্রবন্ধ লেখালেখিতে নিজেকে ব্যস্ত রেখে , অবশেষে তার জীবনের প্রথম এবং একটি বিতর্কিত উপন্যাস The Jewel Of Medina লেখেন । তার নিজ ভাষ্যমতে দীর্ঘ ৬ বৎসর যাবৎ ব্যাপক গবেষনা এবং পড়াশোনা পর এই উপন্যাসে তিনি বিবি আয়েশা (রঃ) এবং হজরত মোহাম্মদ (সাঃ) মধ্যকার ভালোবাসার কাহিনী কে পশ্চিম বিশ্বে এই উপন্যাসে মাধ্যমে তুলে ধরেছেন । এবং তিনি এই উপন্যাসে হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে একজন সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করেছেন (তার ভাষ্যমতে)। এই উপন্যাস মূলত সাহিত্যকেন্দ্রিক হলেও এটি রচিত হয়েছে ঐতিহাসিক ঘটনাকে আবর্তন করে।

এবার আসা যাক বইটি বিতর্কিত হওয়ার পেছনের কারনগুলো । প্রথম প্রকাশের পূর্বে এই বইয়ের একটি কপি যখন প্রখ্যাত ইসলামিক স্টাডিজের প্রফেসর অধ্যাপক ডিনাইস স্পেলবার্গের কাছে এই লেখিকার অনুরোধে পাঠানো হয়। তিনি বইটি পড়ে সাথে সাথে তার নিজ প্রকাশক কে ডেকে এই বইটি প্রকাশনা করা থেকে বিরত থাকতে বলেন।এবং একই সাথে তিনি বিখ্যাত প্রকাশনী র‌্যানডম হাউসকেও এই বিষয়ে সাবধান করে দেন । এবং তারই মতামতের উপর ভিত্তি করে র‌্যানডম হাউস এই বইয়ের প্রকাশনা থেকে পিছিয়ে আসে ।

এবার আসা যাক এই বইটি সম্পর্কে ইসলামিক স্টাডিজের প্রফেসর অধ্যাপক ডিনাইস স্পেলবার্গের মন্তব্য :

In an interview, Ms. Spellberg told me the novel is a “very ugly, stupid piece of work.” The novel, for example, includes a scene on the night when Muhammad consummated his marriage with Aisha: “the pain of consummation soon melted away. Muhammad was so gentle. I hardly felt the scorpion’s sting. To be in his arms, skin to skin, was the bliss I had longed for all my life.” Says Ms. Spellberg: “I walked through a metal detector to see ‘Last Temptation of Christ,’” the controversial 1980s film adaptation of a novel that depicted a relationship between Jesus and Mary Magdalene. “I don’t have a problem with historical fiction. I do have a problem with the deliberate misinterpretation of history. You can’t play with a sacred history and turn it into soft core pornography.”

অতপর সার্বিয়ার এক প্রকাশনী দায়িত্ব নিয়ে শুরু করে এর প্রকাশনীর কাজ। এবার আসা যাক উপন্যাস সম্পর্কে altmuslim.com কে দেয়া লেখিকার একটি
সাক্ষাৎকারের কিছু চুম্বক অংশ ।

Did you prepare yourself for such a reaction?

Well, I did anticipate controversy. I consciously envisioned myself, for example, reading my book in a bookstore on a book tour and having people challenge the things I had written, or challenge my perceptions of Islam. I didn’t think much about people who didn’t like Muslims. Mostly I was aware of the sensitivities of Muslims. Because I have altered the historical record, the historical narrative.

I have done things like put a sword in Aisha’s hand. I have depicted this ancient culture, about which so little has actually been written… a lot of it was derived from my imagination. The characters themselves, many of the wives, there is so little known about them and their personalities. So I gave personalities to these women, whether they were actually like that or not. Who knows?

But I did all this in the service of what I see as a truth. My truth - this is my vision of what things would have been like based on my own experiences and my own research and my own intuition and observations of human nature. I’m very sure of the work I’ve done and the choices I’ve made. I know why I did everything I did in that book. Maybe at the time I was doing it I wasn’t always sure, but I revised this book seven times.

লেখাটি কে লেখিকা একটি Historical fiction হিসেবে দেখাতে চেয়েছেন ।

এই ফাঁকে আসুন একটু চোখ বুলিয়ে নেই Historical fiction আসলে বিষয়টি কি?

Historical fiction- Definition

Historical fiction presents readers with a story that takes place during a notable period in history, and usually during a significant event in that period.
Historical fiction often presents actual events from the point of view of people living in that time period.
In some historical fiction, famous events appear from points of view not recorded in history, showing historical figures dealing with actual events while depicting them in a way that is not recorded in history. Other times, the historical event complements a story’s narrative, occurring in the background while characters deal with events (personal or otherwise) wholly unrelated to recorded history. Sometimes, historical fiction can be for the most part true, but the names of people and places have been in some way altered.

As this is fiction, artistic license is permitted in regard to presentation and subject matter, so long as it does not deviate in significant ways from established history. If events should deviate significantly, the story may then fall into the genre of alternate history

এবং এই Historical fiction এর আড়ালে খুব সুক্ষভাবে তিনি চেষ্টা করেছেন একটি বিশেষ ধর্মের বিশেষ কিছু চরিত্রকে একজন লেখকের artistic license এর ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ইচ্ছেমত বিকৃত করতে ।

এবং এর প্রমান তিনি নিজেই সাক্ষাৎকারের প্রথম চিন্হিত অংশে উল্লেখ্য করেছেন।

২য় চিন্হিত অংশে তিনি নিজেই স্বীকার করলেন এই উপন্যাসের বেশীরভাগ অংশে তিনি নিজের কল্পনাকে ব্যবহার করেছেন কারন হিসেবে তিনি ইতিহাসের বর্ননার সীমাবদ্ধতাকে উল্লেখ করেন ।

কিন্ত কল্পনার রং চড়িয়ে তিনি ইতিহাসকে তার বইয়ের অনেক অংশে বিকৃত করে ছেড়েছেন।,

এবার আসুন লেখিকার কাহিনী সম্পর্কে আমরা ইতিমধ্যে আমাদের এক ব্লগারের অনুবাদের কিছু অংশ থেকে জানতে পেরেছি সাফওয়ানের সাথে যখন বিবি আয়েশা (রঃ) যখন মদীনায় প্রবেশ করছিলেন তখন নাকি চারিদিকে কেলেন্কারীর খবর শুনে
“ক্লান্তিতে আমার চোখ বন্ধ হয়ে আসল, নিজের অজান্তে আমার মাথা হেলে গেলো সাফওয়ানের চওড়া কাদে। “

উপন্যাসে এসেছে এইভাবে
I let my eyelids fall shut, avoiding my reflection in the stares of my umma, my community. I licked my cracked lips, tasting salt and the tang of my wretchedness. Pain wrung my stomach like strong hands squeezing water from laundry, only I was already dry. My tongue lolled like a sun-baked lizard. I rested my cheek against Safwan’s shoulder, but the horse’s trot struck bone against bone.

নেকলেস হারানোর ঘটনাটি বুখারী হাদিস থেকে বিবি আয়েশার নিজে বর্নিত ঘটনাটি পড়লে এই বিষয়ে পরি্ষ্কার ধারনা করা যায় ।
Volume 5, Book 59, Number 462:

কারন
ঘটনাটি লেখিকা এমন ভাবে বর্ননা করেছেন যেন মনে হচ্ছে বিবি আয়েশা (রঃ)যেন সাহাবী সাফওয়ানের (রঃ) সাথে মদিনা শহরে প্রবেশ করছেন । কিন্ত বিবি আয়েশা (রঃ) নিজে বুখারী হাদিসে বর্ননা করেছেন তিনি যখন সাহাবী সাফওয়ানের সাথে ফিরে আসছিলেন তখন মদীনার অদুরে প্রখর রোদ্রে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বিশ্রামরত সেনাবাহিনীর সাথে তিনি মিলিত হন ।

এবং বিবি আয়েশা (রঃ) যখন সাহাবী সাফওয়ানের (রঃ) সাথে ফিরে আসছিলেন মদীনার পথে তখন তিনি ছিলেন উটের পিঠে আর উটের রশি ধরে হেঁটে আসছিলেন সাহাবী সাফওয়ানের (রঃ) । এবং পর্দা প্রথা বা নবী পত্নীদের মুখ ঢাকার আয়াত নাজিলের পূর্বে এই ঘটনা ঘটে বলে সেদিন সাহাবী সাফওয়ানের (রঃ) সৌভাগ্য হয়েছিল বিবি আয়েশাকে একবার দেখার এবং চিনতে পারার এবং বিবি আয়েশা (রঃ) সাহাবী সাফওয়ানের কন্ঠস্বর শুনে তারপর পরই মুখে পর্দা দিয়ে ঢেকে নেন ।

এবং যেখানে সাহাবী সাফওয়ানের (রঃ) সাথে একাকীভাবে মদীনায় প্রবেশ তিনি করেন নি সেখানে

“ক্লান্তিতে আমার চোখ বন্ধ হয়ে আসল, নিজের অজান্তে আমার মাথা হেলে গেলো সাফওয়ানের চওড়া কাদে। “

এই লাইনটির প্রশ্নই আসেনা এবং এই লাইনটি শুধু লেখিকার দ্বারা স্বয়ং নির্লজ্জ মিথ্যার প্রান্জলতা তো নয় বরং এটা অপরদিকে নবীজী পত্নীর জন্য এক অশোভন উক্তি।

As this is fiction, artistic license is permitted in regard to presentation and subject matter, so long as it does not deviate in significant ways from established history. If events should deviate significantly, the story may then fall into the genre of alternate history

বিষয়টি কি ভেবে দেখবার নয় ? এই artistic license নামে লেখিকার কি কোন অধিকার আছে এই ধরনের ঘটনার অবতারনা করা যা ইতিহাসে উল্লেখ্য নেই এবং যেখানে একাকী মরুভূমির মত স্হানেও কোনপ্রকার গর্হিত অপরাধ থেকে তারা দুজনে ছিল মুক্ত এবং যেখানে বিবি আয়েশা (রঃ) নিজ বর্ননায় পাওয়া যায় যে তিনি উঠের পিঠে এবং লাগাম ধরে সাহাবী সাফওয়ান (রঃ) বিশ্রামরত সেনাদলের সাথে মিলিত হন । সেখানে তিনি কিভাবে artistic license এর বদৌলতে সম্পূর্ন ঘটনাটি বদলে দেন এইভাবে । এবং এখানেই তিনি ক্ষান্ত হননি বিবি আয়েশা (রঃ) এমন এক ব্যক্তির কাঁধে মাথা রাখালেন তার বর্ননায় ,যার ফলে বিবি আয়েশার চরিত্র উনি কতটুকু উজ্জল করলেন তা একজন সাধারন মুসলিম মাত্র ই বুঝতে পারবে।

আর কলংকের রটনা বিবি আয়েশা (রঃ) মদীনা প্রবেশের আরো পরে জানতে পারেন অথচ এখানেও ইতিহাস বিক্বতি ।

Yeah, that’s the term I heard…

It’s so funny! You know, really when I wrote this book, I was asked by various publishers, when people were considering making an offer on my book last year, “Who is your audience?” I always said my main audience is going to be Western women because I felt like Muslims already know these stories. In the West, people don’t know who Aisha is. People don’t know these stories and they’re wonderful stories. I think they’re stories from which we can all gain inspiration in terms of how to live better lives.

লেখিকা অপর এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন তার এই উপন্যাসের কাহিনী যেহেতু অধিকাংশ মুসলিম নরনারীর জানা আছে তাই তিনি মনে করেন এর মূল পাঠক হবে পশ্চিমা নারীরা।

তাহলে প্রশ্ন আসে স্বাভাবিক ভাবে একজন পশ্চিমা নারী পাঠক যখন তার উপন্যাসটি পড়বে তখন তার পক্ষে কি বোঝা সম্ভব কোনটি ইতিহাস থেকে নেয়া এবং কোনটি লেখিকার নিজস্ব কল্পনায় লেখা ।

তার পক্ষে কি কখনও কি জানা সম্ভব হবে যে নবীজি পত্নী সাহাবী সাফওয়ানের সাথে ঘোড়ার পিঠে মদীনা শহরে এভাবে প্রবেশ করেননি । আর সাফওয়ানের ঘাড়ে মাথা এলিয়ে দেয়া এটা যেমন একজন পশ্চিমা লেখিকার জন্য কল্পনা করা খুবই স্বাভাবিক বলে মনে হয় । একইভাবে পশ্চিমা পাঠকদের জন্য এটা কোন অপমানকর নাহলেও ।একজন মুসলমান মাত্রই জানে এই আচরন(একজন পরপুরুষের ঘাড়ে একজন বিবাহিত নারীর মাথা এলিয়ে দেয়া) একজন মুসলিম নারীর জন্য কতটুকু অশোভন এবং আপত্তিকর । এবং এই ধরনের কল্পিত ঘটনার নায়িকা যদি স্বয়ং নবী পত্নীকে বানানো হয় সেটা লেখিকার artistic license এর অধিকার কে লংঘিত করেকিনা আমার প্রশ্ন ?


আরেকটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন

Would it be safe to say that whatever literary license you took – I’ll give an example, the choosing of Safwan as a suitor for Aisha – is that in the service of telling a larger or broader truth or story?

Exactly. I hate to tell people what they should think of my book. Reader response is a dialogue between the writer and reader. I write it and you read it and everyone takes something different. In a way, I hate to talk about my book with these abstract terms because it’s like I’m telling you what you should read into the text.

But since this prologue has been so controversial, because of the insinuation that Aisha was maybe tempted and because we all know that Aisha wasn’t really engaged to Safwan – as a young girl she was actually engaged to someone else – this is a good example of how I made changes to service the story.

Aisha – the story is about her empowerment as a woman. Going from being a young girl who was married off by her parents. Her father – she was his property, essentially, even though he and Aisha had a very close and loving relationship. Still, she was his property to marry off to enhance his own status as Muhammad’s chief advisor and closest companion. She transcended that cultural limitation of being considered the property of men to become this powerful, empowered woman.

And so, I wanted to have her as a young girl, because of the culture she was in, wanting to be saved, wanting to be rescued from this situation of not having the power to make her own choices and not having the power to control her destiny. So, for her and Safwan, I made them childhood playmates. He is the one she focuses on as someone who can rescue her.

আসুন এবার লেখিকার এই উত্তরে । প্রথম চিন্হিত অংশে তিনি নিজেই স্বীকার করলেন যে we all know that Aisha wasn’t really engaged to Safwan – as a young girl she was actually engaged to someone else – this is a good example of how I made changes to service the story.
তাহলে প্রশ্ন আসে সেক্ষেত্রে কি তিনি কল্পিত ঘটনার অবতারণা করে বিবি আয়েশা (রঃ) চরিত্রকে কলংকিত করার চেষ্টা করলেন না ? আরেকটি দিক হচ্ছে যেই বিষয়টি ইতিহাস স্বীক্বত নয় তাহলে উনি কিভাবে সেটা তার উপন্যাসে স্হান দেন।
আর সবচাইতে দুঃখজনক এবং চিন্তার বিষয় হচ্ছে তিনি পশ্চিমা নারী পাঠকদের মাঝে বিবি আয়েশা (রঃ) সম্পর্কে কি ভূল তথ্য সরবারহ করছেন না ?

এবার আসা যাক লেখিকার ৬ বৎসরের সাধনায় তিনি কিভাবে চিত্রায়িত করেছেন আরবের কালচার বা সংস্কৃতিকে ।
প্রথমে আসা যাক খুব সাধারন একটি বিষয় । কারন মানুষের মনের ভাব বা আসল উদ্দেশ্য যখন সে আড়াল করতে চায় তখন কিন্ত তার ছোট ছোট ভুল বা আচরন অনেক কিছু প্রকাশ করে দেয় ।

“Thank al-Lah you have made it home safely, my A’isha,” he murmured.

“Where, by al-Lah, have you been? Why were you alone with a man
who is not your husband?”

“See how she shames al-Lah’s holy Prophet!” he cried. “Galloping through the center of town with her hands on another man and her hair waving like a harlot’s dress.”

উপরের সবকটি লাইন সরাসরি উপন্যাসের পাতা থেকে দেয়া হল । লক্ষ্য করুন ইংরেজীতে আমরা যখন আল্লাহ লেখি তখন লেখি ALLAH not AL-LAH

বর্তমানে আল্লাহ এমন একটি শব্দ যেটা শুধু মুসলিম নয় অমুসলিম সবাই জানে কিভাবে এটা ইংরেজীতে লেখতে হয় । আর যে অমুসলিম দীর্ঘ ৬ বৎসর যাবৎ ইসলামী ইতিহাস নিয়ে পড়াশুনা করেছে তার পক্ষে কি এটা ভুল না ইচ্ছাকৃত ভূল নাকি ৭ বার রিভাইসের(লেখিকার ভাষ্যমতে) পর প্রতি পাতায় টাইপিং মিসটেক । বিচারের ভার পাঠকের হাতে ছেড়ে দিলাম।

আপনার নাম যদি কেউ জানার পর ইচ্ছাকৃত ভাবে বিকৃত করে উচ্চারন করে তাহলে তার মনোভাব কতটুকু ইতিবাচক সে সম্পর্কে আপনার মনে প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক যেমন এই বিষয়টি।

এবার আসা যাক আরো কিছু প্রথাগত বিষয় । লেখিকার ৬ বৎসরের সাধনায় তিনি তার উপন্যাসে লেখেন….।

উপন্যাসে এসেছে এইভাবে

“A’ishah, “Both of them bowed to Muhammad…”

“A man with a black face as shiny as his bald head bowed before us: Bilal.” And when he walks in on his wife Sawdah preparing the food, “Muhammad greeted her with a deep bow.” `A’ishah gives the Prophet “a respectful bow.”

সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে ইসলাম ধর্মে এই bow বা মাথা নুইয়ে সম্মান জানানো বা কূর্নিশ প্রথা রাসুল্লাহর আমল থেকে আরবে এটা নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়েছিল ।মুসলমান একমাত্র নামাজে আল্লাহর সামনে মাথা নত করে। আর কেউ যখন রাসুলুল্লাহের কাছে কোন সমস্যা নিয়ে আসতো তখন রসুলুল্লাহ তার সমস্যা আগ্রহ নিয়ে শোনার জন্য তার কাছে ঝুকে তার সামনাসামনি বসতেন।

এই ধরনের ভুলগুলো আসলে প্রশ্ন তোলে লেখিকার পরিশ্রম সম্পর্কে । একইসাথে artistic license এর অপব্যবহারের মাধ্যমে এই উপন্যাস কে Historical fiction ক্যাটাগরিতে না ফেলে বরং স্বস্তা ভায়োলেন্স এবং সেক্স উপজীব্য একটি কাল্পনিক কাহিনী বলা ভুল হবেনা । যা ইতিমধ্য প্রফেসর স্পেলবার্গ তার মন্তব্যে বলেছেন ।

এবং এই বইটির বিষয়ে বারবার লেখিকা একটি কথাই বলেছেন তিনি নাকি এই উপন্যাসের মাধ্যমে বিবি আয়েশা এবং রাসুলুল্লাহর পজিটিভ দিকগুলি তুলে ধরতে চেয়েছেন । কিন্ত তার ইতিহাস বিকৃতি, মিথ্যা কাল্পনিক কাহিনীর সন্নিবেশ এবং ৬ বৎসরের পড়াশোনা দ্বারা অর্জিত ইসলামী এবং আরবের তৎকালীন সংস্কৃতি সম্পর্কে তার জ্ঞানের দৌড় দেখে তার মনোভাব সম্পর্কে সন্দিহান না হয়ে পারা যায়না ।

উপসংহারে বলা যায় এই বইটি সম্পর্কে একটা আগ্রহ প্রথমে তৈরী হয়েছিলো। কিন্ত লেখিকার লেখনীতে পরিষ্কার বোঝা যায় বিখ্যাত বা রাতরাতি ধনী লেখকদের খাতায় নিজের নাম লেখার জন্য এই উপন্যাসের অবতারণা করেছেন তিনি । আর এই স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে যতই মুসলমানদের খোঁচানো যাবে ততই বেস্ট সেলারের তালিকায় এই বইটির স্হান উপরে উঠতে থাকবে ।
তাই এ ধরনের লেখিকাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্হান নেয়ার জন্য মুসলমানরা যদি গতানুগতিক ভায়োলেন্স এর সাহায্য নেয় ,তাহলে সেটা লেখিকার উদ্দশ্যকে আরো সফল করে তুলবে ।

এক্ষেত্রে আমি মনে করি এধরনের লেখকদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ স্বরুপ তাদের দূর্বল স্হানে অর্থাৎ তার উপন্যাসকেই আঘাত করা উচিত । এই ইন্টারনেটের যুগে সেটা খুব সহজেই করা সম্ভব । তার এই উপন্যাসকে পিডিএফ ফরম্যাটে ই-মেইলের মাধ্যমে বিভিন্ন ওয়েবে এবং ই-বুক ওয়েবে ডাওনলোড করে দিলে খুব সহজেই এই বইয়ের কাটতি কমে আসবে । এছাড়া সুস্হ বিতর্কের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনাগুলো তুলে ধরা যেতে পারে। আশা করি অচিরেই এই বইটি পিডিএফ আকারে পাওয়া যাবে ।

আমি পেলে আপনাদের দিতে ভুলবোনা

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): The Jewel of Medina ;
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৩:১৪ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৩ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৩:১৭
স্বপ্নশিকারী বলেছেন: অনেক কিছু জানতে পারলাম।
১৩ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৫:০৯

লেখক বলেছেন: জানাতে পেরে আমারও ভাল লাগলো । ধন্যবাদ

২. ১৩ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৩:২৬
সজল বলছি বলেছেন: চমৎকার লেখা। ধন্যবাদ।
১৩ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৫:১০

লেখক বলেছেন: কষ্ট করে সম্পূর্ন লেখাটি পড়বার জন্য ধন্যবাদ

৩. ১৩ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৩:৩২
আলাউদ্দীন বলেছেন: আপনাকে এই লেখার জন্য ধন্যবাদ দিতেই হয়।ধন্যবাদ।
১৩ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৫:১১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ দিলেতো নিতেই হয় ।

৪. ১৩ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৩:৪১
বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: এসব ডাঃ আইজুদদিনের আজাইরা আমদানি..

লেখিকার মতো সেও নিজেরে কিছু হনুরে বানানোর ধান্ধায় আছে....
তাদের উভয়ের জন্য ঘৃণা।

ষ্পষ কাতর ইস্যু নিয়া ডাঃ আইজুদদিনের বিদেশী শয়তানের কাধে চড়ে মাঠ গরম করার চেষ্টা।

ধ্বংস হোক ঐ হাত যা দিয়ে এই ধরনের মিথ্যা প্রচারনা জন্ম নেয়। বিকৃত হোক ঐ মস্তিস্ক যা এসব ভাবে। নিশ্চয় তা হবে। খুব নিকটে।

১৩ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৫:১৮

লেখক বলেছেন: আসলে উনি কোন দৃষ্টিভংগী থেকে লিখছেন উনি সেটা ভালই জানেন ।
তবে আমি উনার অনুবাদকে একদিক থেকে সাধুবাদ জানাই এই কারনে যে উনার লেখা না পড়লে আমরা কিভাবে বুঝবো যে লেখাটা আসলে কতটুকু খারাপ এবং মিথ্যায় রন্জিত।

আর বয়কট বা উগ্রতা নয় বরং খোলামেলা আলোচনা এবং পোস্টে আমার শেষ প্যারাতে যেটা উল্লেখ করেছি সেটা করলেই এই ধরনের লেখা আরো কমে আসবে ।

আপনাকে ধন্যবাদ

৫. ১৩ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৩:৪৮
এক্সবিজনেস বলেছেন: একটা উপন্যাসে নানা রকমের তথ্যাদি থাকতেই পারে । কাটতি বাড়ানোর জন্য কিছু হাইলাইটেড চটকদার ঘটনার বিবরনীও থাকা অসমভব নয়


এ নিয়ে অযথা ক্যাও ম্যাও করবে উদ্দেশ্যবাদীরাই ।
১৩ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৫:২৮

লেখক বলেছেন: বিদ্রোহী ভৃগ

যেভাবে উত্তরটা দিয়েছেন একটু কড়কড়ে হয়ে গেছে ।

তবেআমি বলব একটু কষ্ট করে পোস্টের একটি জায়গায় আমি Historical fiction এবং artistic license উপর কিছুটা আলোকপাত করেছি সেটা পড়লে বুঝতে পারবেন আমার বা আমাদের আপত্তি টা কোন স্হানে ।

আপনাকে ধন্যবাদ।

৬. ১৩ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৩:৪৯
বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: আপনার লেখা পুরোটা কপি পেষ্ট করে ঐ কীটকে জবাব হিসেবে দিয়েছি। তাড়াহুড়ো বশত আপনার নাম স্বীকার করে কৃতজ্ঝতা দেয়া হয়নি। আশা করি ভুল বুঝবেন না।
১৩ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৫:৩০

লেখক বলেছেন: অসুবিধা নাই যেহেতু আপনে আমার নাম উল্লেখ করে দিয়েছেন।
তবে ঐ ব্লগে আমি আপনার আগেই পোস্ট করে দিয়েছি ফলে দুবার হয়ে গেল এই যা।

আপনাকে ধন্যবাদ

১৩ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৫:৩১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

৮. ১৩ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৩:৫৪
বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: এক্সবিজনেস বলেছেন: একটা উপন্যাসে নানা রকমের তথ্যাদি থাকতেই পারে । কাটতি বাড়ানোর জন্য কিছু হাইলাইটেড চটকদার ঘটনার বিবরনীও থাকা অসমভব নয়

এ নিয়ে অযথা ক্যাও ম্যাও করবে উদ্দেশ্যবাদীরাই ।

--------------
তো জনাব এক্সবিজনেস.. আসুন একটা ডিল করি। আপনার বাবা মা আর পারবারিক সামান্য তথ্য দিন আমি কাটতি বাড়ানোর জন্য একটু রং চড়িয়ে উপন্যাস লিখি। ভাল রয়্যিলটিও থাকবে। তো বলুন রাজি কিনা?
৯. ১৩ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৪:১৪
এস,আহমেদ বলেছেন:
চমৎকার তথ্য নির্ভর লেখা। আশাকরি এটা পড়ে অনেকেই আর অযথা হৈচৈ করে লেখিকার উদ্দেশ্য সফল হতে সাহায্য করা থেকে বিরত থাকবেন।

ধন্যবাদ।
১৩ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৫:৩২

লেখক বলেছেন: আমিও তাই মনে করি । ধন্যবাদ

১০. ১৩ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৪:৪০
সক্রেটিস বলেছেন: এত বড় লেকা পর্তারি না
১৩ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৩

লেখক বলেছেন: সময় নেন তাড়াহুরার তো কিছু দেখিনা

১৩ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৪

লেখক বলেছেন: ঠিক আছে অপেক্ষায় থাকলাম

১২. ১৩ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৪:৫৭
বিবর্তনবাদী বলেছেন: পুরোটাই পড়লাম। ঐ উপন্যাস পড়া হয় নাই, তবে আপনি যা উল্লেখ করলেন তা যদি সত্য হয়, তবে ব্যাপারটা চিন্তার বিষয়।

কিছুদিন পরে হয়ত দেখা যাবে ঐ উপন্যাসের রেফারেন্সেই কিছু ইসলাম বিরোধী প্রোপাগান্ডাকারি নাস্তিকরার আড়ালে লিখতে শুরু করবে, বিশিষ্ট ইসলাম গবেষক শেরী জোনস বলেছেন............. ইত্যাদি ইত্যাদি।


যা লিখলেন তা যদি সত্য হয় তবে আপনাকে ধন্যবাদ।

১৩ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৯

লেখক বলেছেন: কষ্ট করে পড়ার জন্য ধন্যবাদ । আসলে আমি প্রথম কিছু অংশ পড়েছি এবং সম্পূর্ন বইটা হয়ত হাতে পাবো ২/১ দিনের মধ্যে । যদি পাই আপনাদেরকে ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিবো ।

আপনাকেও ধন্যবাদ

১৩. ১৩ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৫:০৬
উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: চমৎকার আশিক ভাই। আমি প্যাচালীতে একটা ক্যাজুয়াল পোস্ট দিয়েছিলাম এ ব্যপারে। পরে অবশ্য আবার মুছে ফেলেছি কারন অহেতুক বিতর্ক হচ্ছিল।

আপনারটা বেশ গোছানো সুন্দর হয়েছে। ধন্যবাদ। আপাতত +।
১৩ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৫:৪২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ উম্মু আপু ।
প্যাচাঁলীতে অনেকদিন যাওয়া হয়না তাই দেখিনি । আর আপনার সুন্দর মন্তব্যর জন্য ধন্যবাদ

১৪. ১৩ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৫:৫১
ভোরের তারা বলেছেন: ভাল হয়েছে। অনেক ধন্যবাদ
১৪ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:৪৫

লেখক বলেছেন: মন্তব্যর জন্য ধন্যবাদ ।

১৪ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:৪৬

লেখক বলেছেন: থ্যান্কস !!

১৬. ১৩ ই অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০৮
বিডি আইডল বলেছেন: ধন্যবাদ...খুবই ভালো হয়েছে
১৪ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:৪৭

লেখক বলেছেন: মন্তব্যর জন্য ধন্যবাদ ।

১৭. ১৩ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ৯:৪৩
শান্তির দেবদূত বলেছেন: দারুন লিখেছেন ......

আসলে ইসলামের বিরুদ্ধে লিখলেই আজকাল, অতি সহজে সকলের দৃষ্টি আকর্ষন করা যায় বলে অলেখক, কুলেখকরা এই "ফ্রিডম অফ স্পিচের" দোহায় তুলে এই সব আবর্জনা লিখে থাকে।
১৪ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:৫০

লেখক বলেছেন: আর তাই এসব আবর্জনা গায়ে না মেখে সুকৌশলে এড়িয়ে যেতে হবে । এবং আবর্জনাগুলো থেকে যে সত্যি সত্যি গন্ধ ছড়ায় সেটা ঠান্ডা মাথায় অন্যদের বোঝাতে হবে ।

১৮. ১৩ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ৯:৫০
সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: বিকেলে পড়ার সময় হয়নি বলে প্রিয়তে রেখেছিলাম। এখন পড়লাম, জানা দরকার মনে করে। খুব গুছিয়ে লিখেছেন। আর্টিস্টিক লাইসেন্সের বলে ইতিহাস বিকৃত করার অধিকার আসলে কারো নেই। মাত্র ৬ বছরের 'সাধনা'য় উনি কতোটুকু ইসলাম জানতে পারেন? যাঁরা বছরের পর বছর ইসলামের ইতিহাস জানার জন্য শ্রম আর মেধা দিয়েছেন, তাঁদের তুলনায় উনার জ্ঞান নস্যি বললেও ভুল বলা হয়। আসলে উনি ধনী হওয়ার ধান্ধায় আছেন, এটাই ঠিক। আমাদেরও উচিত, লেখকের সাথে একমত, বই না কিনে বরং ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়া আর সূক্ষ্মভাবে তা ডিফেন্ড করা। বিবর্তনবাদি'র কথাটা ভালো লেগেছে, একদিন একটা স্বার্থান্বেষী দল এটার বাণীকেই 'কোরান'র বাণী (নাউজুবিল্লাহ) বলে চালানোর চেষ্টা করতে পারেন।
লেখককে ধন্যবাদ এই গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট টির জন্য।
১৪ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:৫২

লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্য পড়ে ভাল লাগলো ।ধন্যবাদ কষ্ট এবং ধৈর্য নিয়ে পড়ার জন্য ।

১৯. ১৪ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:০৪
নাজমুল। বলেছেন: অনেক কিছু জানতে পারলাম। খুব সুন্দর ভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন। আপনার তথ্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ। প্রিয়তে রেখে দিলাম। +
১৪ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:৫৪

লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্যর জন্য অনেক ধন্যবাদ । প্রিয়তে স্হান পাওয়ায় আনন্দিত ।

১৪ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ২:৫৯

লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ । আশা করি ভাল আছেন ।

২১. ১৪ ই অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৮:২৩
বিবিধ বলেছেন: পুরো লেখার উপর নজর বুলিয়েছি। ভালো করে পড়তে পারি নি। পড়লে বুঝা যাবে। তবে মনে হচ্ছে ভালো লেখা।
২২. ১৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৫:৩০
মাহবুব সুমন বলেছেন: এই "অপন্যাস" টি পড়ার ইচ্ছে আছে তবে কেনার ইচ্ছে আদৌ নেই।

ইসলামকে নিয়ে নোংরা কথা বল্লে মুক্তমনা উপাধী পাওয়া যায়। কারো হ্যাডম থাকলে ইহুদীদের নিয়ে উল্টা পাল্টা কিছু লিখুক না ! পুরা এন্টাই সেমিটিক বানিয়ে জায়গার উপর -- করে দেবে ।

আপনার লেখাটা ভালো লেগেছে, দুবার পড়লাম। গুড জব।
১৮ ই অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৯:১৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মাহবুব সুমন । আপনার মন্তব্য এবং কষ্ট করে দুবার পড়ার জন্য ।

২৪. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১০:১৬
বিডি আইডল বলেছেন: পুরো বইটির লিংক থাকলে দিয়ে দেন
২৫. ১১ ই এপ্রিল, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০৫
জলপাই দেশি বলেছেন: আপনাদের পড়ার জন্য লন্ডনে প্রকাশিত সাপ্তাহিক পত্রিকার একটা লেখা এখানে তুলে দিলাম। আশা করি পাঠকরা পড়ে মন্তব্য করবেন।


আমিনা ওয়াদুদ কেনো পুরুষের মতো হতে চান?

নও মুসলিম আমিনা ওয়াদুদ দু হাজার পাঁচ সালে নিউ ইয়র্কে জুমার নামাজে ইমামতি করে সংবাদ শিরোনাম হন। তিনি অন্যত্রও জুমার নামাজে ইমামতি করেছেন। কমপড়্গে একবার স্পেনে এবং একবার দড়্গিণ আফ্রিকায়। কিন' তার সে সকল ইমামতি মিডিয়া কাভারেজ পায়নি। তাই হয়তো এবার তিনি বিলাতে ছুটে এসেছেন। লন্ডনের অদূরে অবসি'ত অক্সফোর্ড শহরে চারজন মানুষের এক সমাবেশে জুমার নামাজে ইমামতি করে সংবাদ শিরোনাম হয়েছেন। মিডিয়া কাভারেজ যদি তার টার্গেট হয়ে থাকে তা হলে বলতে হয় তার বিলাত সফর সফল হয়েছে।
আমিনা ওয়াদুদ কেন জুমার নামাজে ইমামতি করতে চান? এটা নামাজ, রোজা, সাদাকাহ ইত্যাদির মতো বিশেষ সওয়াবের কাজ বলেই কি তিনি ইমাম হতে চান? তিনি একজন পন্ডিত মহিলা। আল-আজহার, কায়রো, মিশিগান, পেনসিলভানিয়া প্রভৃতি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি পড়াশোনা করেছেন। মিশিগান থেকে আরবী এবং ইসলামিক স্টাডিজে গবেষণা করে পিএইচডি অর্জন করেছেন। মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন বছর তিনি অধ্যাপনাও করেছেন। কুরআন-হাদীস এবং ইসলামের ইতিহাস তিনি ভালো-ভাবে অধ্যয়ন করেছেন। তিনি কি জানেন না আরবী ভাষায় ‘ইমাম’ শব্দের কোন স্ত্রীলিঙ্গ নেই? এই শব্দটিই বলে দিচ্ছে এ কাজটা পুরম্নষদের জন্যে নির্দিষ্ট। প্রশ্ন হতে পারে এটা কি লিঙ্গ-বৈষম্য নয়? আপনার দৃষ্টিতে হতে পারে লিঙ্গবৈষম্য, কিন' আমাদের দৃষ্টিতে নয়। আপনি সনত্মান ধারণ করতে পারেন, সনত্মানকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারেন। কিন' আমি পুরম্নষ তাই আমি এর কোনটাই করতে করতে পারিনা। আপনার পায়ের নিচে আপনার সনত্মানের জান্নাত। আমার পায়ের নিচে নয়, আমার স্ত্রীর পায়ের নিচে আমার সনত্মানের জান্নাত। আমি তো এটাকে লিঙ্গ বৈষম্য বলছিনা।
শেরি জোনস-এর সমর্থক মিস্‌ নোমানি এবং আপনার অন্যান্য নারীবাদী বন্ধুরা আসলে আপনাকে বিভ্রানত্ম করছে। আপনারা পুরম্নষদের শ্রেষ্টত্বের মাপকাঠি হিসেবে ধরে নিয়ে তাদের সাথে নিজেদের সব সময় তুলনা করেন। পাশ্চাত্যের নারীবাদীদের চিনত্মার আসল বিভ্রানিত্ম এখান থেকে শুরম্ন। আলস্নাহ নারীজাতিকে সম্মানিত করেছেন আলস্নাহ্‌ার সাথে সম্পর্কের ভিত্তিতে, পুরম্নষের সাথে তুলনা করে নয়। পাশ্চাত্য নারীবাদীরা খোদাকে সরিয়ে নিয়ে পুরম্নষের সাথে তুলনা করে মেয়েদের দেখছে। তাদের দৃষ্টিতে পুরম্নষরা যা করে তাই উত্তম। পুরম্নষরা তাদের কাছে শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি। এ জন্যেই তারা মনে করছে পুরম্নষরা যা করে এর সবগুলো না করলে পরিপূর্ণ নারী বা মানুষ হওয়া যাবেনা।
যেমন ছেলেরা ছোট করে চুল কাটে, এটা মেয়েদের করতে হবে। পুরম্নষরা অফিস-আদালতে কাজ করে, নারীদেরও কাজ করতে হবে। ছেলেরা সৈন্যবাহিনীতে যোগ দেয়, এখন মেয়েদেরও সেখানে যেতে হবে। পুরম্নষরা ইমামতি করে, তাই এখন মেয়েদেরও ইমামতি করতে হবে। মুসলিম নারী হিসেবে এটা কোন বিষয় নয় যে কে ইমামতি করলো। ছেলেরা করছে বলে কি কাজটা শ্রেষ্ঠ হয়ে গেলো? কুরআনে এ রকম কোন আয়াত বা হাদীসে এ রকম কোন বর্ণনা নেই যে যারা ইমামতি করবে তারা তোমাদের বা আলস্নাহ্‌র কাছে সম্মানিত। বরং হাদীসে এটা আছে তোমাদের মায়েরা তোমাদের কাছে সবচেয়ে মর্যাদাবান। মহানবী (সঃ) মায়েদের ব্যাপারে তিনবার বলার পর চতুর্থবার পিতার কথা বলেছেন। তিনি আরো বলেছে, দুটি মেয়েকে যে লালন-পালন করে বড় করবে তার স'ান জান্নাতে। কিন' ছেলেদের ব্যাপারে এ রকম কোন কথা নেই। তা হলে এটাকেও কি আমরা লিঙ্গবৈষম্য বলবো? আলস্নাহ মহিলাদের সম্মানিত করেছেন নারীবিষয়ক ব্যাপারে, পুরম্নষের সাথে তুলনা করে নয়। পুরম্নষকে আমরা যদি শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি মনে করি তা হলে আমরা কখনো সন'ষ্ট হতে পারবোনা।
মহিলাদের রম্নজি-রোজগার করতে ইসলাম নিষেধ করেনি, অনুমতি দিয়েছে। মদীনার মহিলারাও বাইরে কাজ করেছেন, আয়-উপার্জন করেছেন। কিন' বিষয়টাকে স্বতন্ত্র ভাবে বিচার করতে হবে, পুরম্নষদের সাথে তুলনা করে নয়। সুযোগ বা প্রয়োজন পড়লে স্বামীর পরিবর্তে যদি স্ত্রী আয়-উপার্জন করে তাতেও কোন দোষ নেই। কে পুরম্নষ এবং কে নারী সে বিচার না করে সুযোগ এবং প্রয়োজন সামনে রেখে এ ব্যাপারে সিদ্ধানত্ম নিতে হবে।
জুমার নামাজে ইমামতিকে যদি আমরা রাজনৈতিক দিক দিয়ে গ্রহণ করি তা হলে তা নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ হবে এবং তা কখনো শেষ হবেনা। মহানবী তো এটাও বলেছেন, নামাজে মহিলাদের জন্যে শ্রেষ্ঠ কাতার হচ্ছে শেষ কাতার। মনে হচ্ছে, আমিনা ওয়াদুদ এবং তার বন্ধুরা ভবিষ্যতে এ নিয়েও ঝগড়া বাক-বিতন্ডা করবেন। হয়তো বলবেন, আমরা মহিলারা কেন পেছনের কাতারে দাঁড়াবো? আমরা কোন দিক দিয়ে সামনের কাতারে দাঁড়াবার অযোগ্য? কিন' আসলে এটার সাথে রাজনৈতিক অধিকার বা মর্যাদার কোন দূরতম সম্পর্কও নেই। যারা নামাজের মাধ্যমে আলস্নাহ্‌র সনেত্মাষ চান তাদের অবশ্যই মহানবী প্রদর্শিত পন'ায়ই নামাজ আদায় করতে হবে। যার যখন যে ভাবে ইচ্ছা সে ভাবে নামাজ পড়লে চলবেনা।
নামাজে ইমামতি করা একটি ধর্মীয় ইবাদত, এটা কোন সামাজিক বা রাজনৈতিক কাজ নয়। ধর্মীয় কাজের সাথে কুরআন, হাদীস, ইজমা এবং কিয়াসের সম্পর্ক। কুরআন হাদীসের রেফারেন্স ছাড়া কোন ইবাদত করলে ইসলামের দৃষ্টিতে সেটা আর ইবাদত থাকেনা। শরিয়তের পরিভাষায় এর নাম বেদাত বা নব্য আবিষ্কার। আলেমদের মধ্যে অসংখ্য বিরোধ থাকলেও এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে কোন বিরোধ নেই। সকল মত ও পথের আলেম এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন যে ইবাদতে নতুন সকল সংযোজন সুস্পষ্ট বেদাত। তারা সবাই এ ব্যাপারেও একমত যে সকল বেদাতই বিভ্রানিত্মর পথ এবং বিভ্রানিত্ম মানুষকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়। পড়্গানত্মরে বৈষয়িক কাজের ব্যাপারে ইসলাম অনেক উদার। সেখানে মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি এবং বিবেচনা প্রয়োগের অসংখ্য সুযোগ রয়েছে। ইসলাম আমাদের সে সুযোগ কাজে লাগাতে উৎসাহ দেয়।
নামাজ যেহেতেু একটি ইবাদত সেহেতু মহিলারা নামাজে ইমামতি করতে পারেন কি না এ ব্যাপারে জানতে হলে আমাদের কুরআন হাদীসের দিকে দৃষ্টি দিতে হবে। আমিনা ওয়াদুদ ঠিকই বলেছেন, ক*রআনে এ ব্যাপারে ইতিবাচক বা নেতিবাচক কোন কথাই নেই। শুনেছি তিনি এটাও বলেছেন যে হাদীসে এ ব্যাপারে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। কথাটা আসলে ঠিক নয়। হাদীসে এ ব্যাপারে ইতিবাচক এবং নেতিবাচক উভয় প্রকার কথা আছে। ইতিবাচক কথা শুধুমাত্র মহিলাদের ড়্গে(েড) প্রযোজ্য। যে সমাবেশে শুধু মহিলারা উসি'ত আছেন সেখানে একজন মহিলা তাদের নামাজে ইমামতি করতে পারেন। হাদীসে নেতিবাচক কথা সরাসরি যেমন আছে, তেমনি আছে পরোড়্গ অনেক ইঙ্গিত। আবু দাউদ এবং তিরমিজিতে হযরত জাবের (রাঃ) বর্ণনা করেন, মহানবী (সঃ) মহিলাদের পুরম্নষদের ইমামতি করতে নিষেধ করেছেন। মহানবী (সঃ) আরো বলেছেন, তোমরা আমাকে যে ভাবে নামাজ পড়তে দেখছো, ঠিক সে ভাবে নামাজ পড়ো। তিনি কি মহিলাদের পেছনে নামাজ পড়েছেন, নাকি কোন মহিলাকে মসজিদে নববীতে ইমামতি করতে দিয়েছেন? রাসুলের যুগে তো নয়-ই, কোন যুগে কোথাও মহিলাদের জুমার নামাজে ইমামতির দৃষ্টানত্ম নেই।
কুরআন-হাদীসের পর ইসলামী শরিয়তের চতুর্থ উৎস হচ্ছে ইজমা বা সর্বসম্মত অভিমত। রাসুল (সঃ) এর হাতে গড়া সঙ্গী-সাথী সাহাবদের যুগ থেকে নিয়ে আজ পর্যনত্ম মুসলিম উম্মাহর সর্বসম্মত অভিমত হচ্ছে জুমার নামাজের ইমামতি পুরম্নষদের জন্যে নির্দিষ্ট। ইসলামের প্রায় দেড় হাজার বছরের ইতিহাসে এ নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলেনি। ইতোপূর্বে কোন মহিলা জুমার নামাজে ইমামতি করার জন্যে গোঁ ধরেননি। ইসলামের ইতিহাসে আমিনা ওয়াদদু প্রথম মহিলা যিনি ইমামতি করেই ড়্গানত্ম দেননি, ইমামতি করার জন্যে আমেরিকা থেকে আফ্রিকা, স্পেন এবং বিলাত সফর করেছেন।
কুরআন-হাদীসে ইমামের জন্যে কোন বিশেষ মর্যাদা নির্দিষ্ট নেই। যারা ইমামতি করেন তারা আলস্নাহ্‌র কাছে অধিক প্রিয় এমন কোন কথা কুরআন-হাদীসে আছে বলে আমরা জানিনা। আলস্নাহ্‌র কাছে প্রিয় লোকেরা শুধু ইমাম হতে পারবে, অথবা ইমমিতি বেহেশতে যাবার গ্যারান্টি - এমন কোন কথা কুরআন, হাদীস তথা ইসলামে থাকলে হযরত আয়শা, হযরত খাদিজা, হযরত ফাতিমা প্রমুখ সম্মানিত মহিলারা কোন না কোন ভাবে ইমামতি করতেন। আমরা জানি মহিলা সাহাবাদের মধ্যে হযরত আয়শা এবং উম্মে ওয়ারাকা ইমামতি করেছেন। মহানবী (সঃ) উম্মে ওয়ারাকাকে শুধু তার পরিবারের লোকদের নিয়ে, জুমা নয়, পাঞ্জেগানার নামাজে ইমামতির অনুমতি দিয়েছিলেন। ইসলামী পন্ডিতদের মতে এটা ছিল বিশেষ পরিপ্রেড়্গিতে একটি ব্যতিক্রমধর্মী অনুমতি। এর ভিত্তিতে গত দেড় হাজার বছরের মধ্যে কেউ জুমার নামাজ পড়াবার আব্দার তুলেনি। হযরত আয়শার হুজরায় যে সকল মহিলা জমায়েত হতেন তাদের নামাজে তিনি ইমামতি করতেন, অবশ্যই তা জুমার নামাজ ছিলনা।
আমিনা ওয়াদুদ একজন যোগ্য মুসলিম মহিলা। তার কাছ থেকে আমরা জুমার নামাজে ইমামতির চেয়ে অনেক বেশি খেদমত প্রত্যাশা করি। ইসলামে নারীর মর্যাদা নিয়ে তিনি বেশ কয়েকটি বই লিখেছেন। আলস্নাহ তাকে আরো অনেক কিছু লেখার যোগ্যতা দিয়েছেন। তিনি সে দিকে মনোনিবেশ করলে আমরা উপকৃত হবো। আমরা আশা করবো, যে বিষয়ে মুসলিম উম্মাহ্‌র মধ্যে কোন বিরোধ নেই সে বিষয় নিয়ে যেন অযথা বিরোধ সৃষ্টি করে নতুন ফেত্‌নার জন্ম না দেন।
সুত্র: সাপ্তাহিক পত্রিকা, লন্ডন

 

মোট সময় লেগেছে ১.০২৭১ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আসলে নিজের কথা বলতে গেলে প্রথমে মনে হয় কেও হয়তো একটা ভিডিও ক্যামেরা সামনে নিয়ে লাইভ শো করছে ।এবং আমি...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ