somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... ফিরে দেখা আরাফার ফেলে আসা দিন সন্ধ্যার আলো ধীরে ধীরে মৃয়মান হয়ে রাতের আধাঁরে ঢেকে যাচ্ছে চারিদিক। চারপাশে কেমন যেন এক পবিত্র নীরবতা বিরাজ করছে । দূরে কেউ যেন থেকে থেকে চাপাস্বরে কেঁদে চলেছে। পশ্চিমাকাশে গোধূলীর রক্তিমার শেষ আলো নিঃশেষ হতে চলেছে।আমি বসে আছি নীরবে চোখ বেঁয়ে অঝোর ধারায় চোথ থেকে গড়ি্যে পড়ছে অশ্রু।সকালে দ্বিপ্রহরের আগে মাকে সাথে নিয়ে আরাফাতের এই ময়দানে যখন এসেছিলাম তখন বারে বারে ফিরে চাইছিলাম জাবালে আর রাহমাতের দিকে মনের দৃশ্যপটে ভেসে উঠছিলো আজ থেকে হাজার বছর আগে আমাদের মানব পিতা হজরত আদম (আঃ) যখন সন্গী হাওয়া কে হারিয়ে খুজঁতে খুজঁতে তিনশত বছর পরে এই পবিত্র পাহাড়ের কোন এক চূড়ায় উঠে হাজারো আশংকায় সবকিছু ভুলে গিয়ে প্রতিপালক আল্লাহর কাছে তার কৃতভুলের জন্য বারবার ক্ষমা প্রার্থনা করছিলেন।


তখন আল্লাহরই ইশারায় তাঁর মনে ভেসে উঠলো বেহেশতে আল্লাহর আরশের গায়ে কোন এক স্থানে তিনি দেখেছিলেন লেখাছিলো "লা ইলাহা ইল্লালাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্ললাহ্"।তিনি মনে মনে ভাবলেন আল্লাহর কাছে তিনশত বছর ধরে একমনে গোনাহ্ মাফের জন্য কতইনা দোয়া করলেন অথচ এখনও তার সেই গোনাহ্ব্ মাফ আল্লাহ করলেননা। যদি আজ একবার আল্লাহর সাথে যেই মুহাম্মাদ নামটি লেখা আছে সেই নাম ধরে একবার ডেকে দেখি যদি আল্লাহর দয়া হয়।এই ভেবে যেই হজরত আদম (আঃ) এই জাবালে আর রাহমাতের উপর দাড়িয়ে ০৯ জ্বিলহজে তারিখে কাতরমনে আল্লাহকে বললেন "হে আল্লাহ তোমার আরশের লেখা একটি নাম আছে মুহাম্মাদ জানিনা সে কে তবে তোমার নামের পাশে যে নাম লেখা সে অবশ্যি তোমার কোন প্রিয় বন্ধুর নাম হবে আমি সেই মুহাম্মাদের নামের উছিলায় তোমাকে ডাকছি তুমি আমার গোনাহ্ মাফ কর"। এই দোয়ার সাথে সাথে আল্লাহ্ সাড়া দিলেন পিতা আদমের ডাকে । যেই গোনাহ্ মাফ পিতা আদমের তিনশত বছরে হয়নি ,এক মুহাম্মদের নামের কারনে সেই দোয়া আল্লাহ্পাক সাথে সাথে ক্ষমা করে দিলেন । সেইসাথে পিতা আদম কে বিবি হাওয়ার সাথে মিলন করিয়ে দিলেন এই পাহাড়ের কোন এক অংশে। সেই থেকে এই পাহাড় পরিচিতি পেয়েছে রাহমাতের পাহাড় বা জাবালে আর রাহমাতের নামে।



এই পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে মনে পড়ছে ১৪শত বছর আগে এরকমই একদিন শুক্রবার, ৯ জিলহজ, ১০ হিজরী সনে আরাফার দিন দুপুরের পর রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লক্ষাধিক সাহাবির সমাবেশে হজের সময় হাম্‌দ ও সানার পর স্বীয় ভাষণে ইরশাদ করেনঃ আল্লাহ ছাড়া আর কোনো মা’বুদ নেই। তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই। আল্লাহ তাঁর ওয়াদা পূর্ণ করেছেন। তিনি তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন। আর তিনি একাই বাতিল শক্তিগুলো পরাভূত করেছেন।

হে আল্লাহর বান্দারা! আমি তোমাদের আল্লাহর ইবাদত ও তাঁর বন্দেগির ওসিয়ত করছি এবং এর নির্দেশ দিচ্ছি। হে লোক সকল! তোমরা আমার কথা শোন। এরপর এই স্থানে তোমাদের সাথে আর একত্রিত হতে পারব কি না জানি না। হে লোক সকল! আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেছেন, হে মানবজাতি! তোমাদের আমি একজন পুরুষ ও একজন নারী থেকে পয়দা করেছি এবং তোমাদের সমাজ ও গোত্রে ভাগ করে দিয়েছি যেন তোমরা পরস্পরের পরিচয় জানতে পারো। তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই আল্লাহর দরবারে অধিকতর সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী, যে তোমাদের মধ্যে অধিক তাকওয়া অবলম্বন করে, সব বিষয়ে আল্লাহর কথা অধিক খেয়াল রাখে। ইসলামে জাতি, শ্রেণীভেদ ও বর্ণবৈষম্য নেই। আরবের ওপর কোনো আজমের, আজমের ওপর কোনো আরবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই। তেমনি সাদার ওপর কালোর বা কালোর ওপর সাদার কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। মর্যাদার ভিত্তি হলো কেবলমাত্র তাকওয়া।

আল্লাহর ঘরের হিফাযত, সংরক্ষণ ও হাজিদের পানি পান করানোর ব্যবস্থা আগের মতো এখনো বহাল থাকবে। হে কুরাইশ সম্প্রদায়ের লোকরা! তোমরা দুনিয়ার বোঝা নিজের ঘাড়ে চাপিয়ে যেন আল্লাহর সামনে হাযির না হও। আমি আল্লাহর বিরুদ্ধে তোমাদের কোনোই উপকার করতে পারব না। যে ব্যক্তি নিজের পিতার স্থলে অপরকে পিতা বলে পরিচয় দেয়, নিজের মাওলা বা অভিভাবককে ছেড়ে দিয়ে অন্য কাউকে মাওলা বা অভিভাবক বলে পরিচয় দেয় তার ওপর আল্লাহর লা’নত।

ঋণ অবশ্যই ফেরত দিতে হবে। প্রত্যেক আমানত তার হকদারের কাছে অবশ্যই আদায় করে দিতে হবে।

কারো সম্পত্তি সে যদি স্বেচ্ছায় না দেয়, তবে তা অপর কারো জন্য হালাল নয়। সুতরাং তোমরা একজন অপরজনের ওপর জুলুম করবে না। এমনিভাবে কোনো স্ত্রীর জন্য তার স্বামী সম্পত্তির কোনো কিছু তার সম্মতি ব্যক্তিরেকে কাউকে দেয়া হালাল নয়।

যদি কোনো নাক, কান কাটা হাবশি দাসকেও তোমাদের আমির বানিয়ে দেয়া হয় তবে সে যত দিন আল্লাহর কিতাব অনুসারে তোমাদের পরিচালিত করবে, তত দিন অবশ্যই তার কথা মানবে, তার প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করবে।
শোনো, তোমরা তোমাদের প্রভুর ইবাদত করবে। পাঁচ ওয়াক্ত সালাত যথারীতি আদায় করবে, রমজানের রোজা পালন করবে, স্বেচ্ছায় ও খুশি মনে তোমাদের সম্পদের জাকাত দেবে, তোমাদের রবের ঘর বায়তুল্লাহর হজ করবে আর আমিরের ইতা’আত করবে, তা হলে তোমরা জান্নাতে দাখিল হতে পারবে।

হে লোক সকল! আমার পর আর কোনো নবী নেই, আর তোমাদের পর কোনো উম্মতও নেই।
আমি তোমাদের কাছে দু’টো জিনিস রেখে যাচ্ছি। যত দিন তোমরা এ দু’টোকে আঁকড়ে থাকবে, তত দিন তোমরা গুমরাহ হবে না। সে দু’টো হলো আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাত। তোমরা দীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি থেকে বিরত থাকবে। কেননা তোমাদের পূর্ববর্তীরা দীনের ব্যাপারে এই বাড়াবাড়ির দরুন ধ্বংস হয়েছে।

এই ভূমিতে আবার শয়তানের পূজা হবে এ বিষয়ে শয়তান নিরাশ হয়ে গেছে। কিন্তু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয়ে তোমরা তার অনুসরণে লিপ্ত হয়ে পড়বে। এতে সে সন্তুষ্ট হবে। সুতরাং তোমাদের দীনের বিষয়ে তোমরা শয়তান থেকে সাবধান থেকো। শোনো, তোমরা যারা উপস্থিত আছো, যারা উপস্থিত নেই তাদের কাছে এই পয়গাম পৌঁছে দিয়ো। অনেক সময় দেখা যায়, যার কাছ পৌঁছানো হয় সে পৌঁছানেওয়ালার তুলনায় অধিক সংরক্ষণকারী হয়।

তোমাদের আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। তখন তোমরা কী বলবে? সমবেত সবাই সমস্বরে উত্তর দিলেনঃ আমরা সাক্ষ্য দিব, আপনি নিশ্চয় আপনার ওপর অর্পিত আমানত আদায় করেছেন, রিসালতের দায়িত্ব যথাযথ আনজাম দিয়েছেন এবং সবাইকে নসিহত করেছেন।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আকাশের দিকে পবিত্র শাহাদাত অঙ্গুলি তুলে আবার নিচে মানুষের দিকে নামালেন। হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থাকো। হে আল্লাহ। তুমি সাক্ষী থাকো।


সেই হজ্বের পর যখন নবীজি ফিরে আসলেন মদীনায় তারপর তিনি আর ফিরে যেতে পারেননি তার প্রিয় জন্মভূমি মক্কায় ।বিদায় হজ্বের ভাষনের ৭২ দিন পর প্রিয় নবী আল্লাহ পাকের সান্নিধ্যে গমন করেলন । কত ম্মৃতি আর ঐতিহাসিক ঘটনার স্বাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে ৭০ মিটার উচ্চতার এই পাহাড়টি। একে একে মানসপটে ভেসে উঠলো কত কাহিনী ,এরই মাঝে চারিদিক অন্ধকার হয়ে এসেছে প্রায় ।



মাগরিবের আজান ভেসে আসছে মসজিদে নামিরাহ্ থেকে । একে একে ফাঁকা হয়ে আসছে হাজীদের তাবু গুলো । ধীরলয়ে দূরের রাস্তা দিয়ে সারি বেঁধে বাসগুলো হাজীদের নিয়ে চলেছে মুজদালিফার দিকে । আমাদের তাঁবুর ভেতরে আমি আমার মা বসে আছি । নির্বাক কিন্ত কি এক অপার্থিব কাতরতা আর অনুনয় যেন নীরব চোখের ভাষা হয়ে ফুটে উঠছে আমাদের চোখের তারায়। ধীরে ধীরে সবকিছু গুছিয়ে মাকে নিয়ে হেঁটে চললাম দলের অন্যান্য সদস্যদের সাথে মুজদালিফার উদ্দেশ্য ।





পিছন ফিরে একবার তাকিয়ে দেখলাম আরাফাকে, জানিনা এই জীবনে আর কখনো কি আর আসা হবে কিনা । মনে এক অব্যক্ত যন্ত্রনা আর আশা তখনও বয়ে চলেছি সাথে নিয়ে আমার গুনাহ কি আল্লাহ মাফ করেছেন কি এই আরাফার দিনে? মনে আজও সেই আশার আলো নিয়ে অপেক্ষায় আছি। আবার কবে সৌভাগ্য হবে কিনা সেই আরাফার ময়দানে হাজির হবার। এখনও কানে ভেসে আসে নামিরাহ মসজিদের আজান আর পবিত্র সেই শব্দ লাব্বায়াক আল্লাহ হুম্মা লাব্বায়েক....আমি হাজির আল্লাহ আমি হাজির । আগামীকাল আরাফার দিন, এই দিন আল্লাহ তার রাহমাতের দ্বার খুলে দিবেন তার বান্দাদের জন্য আর অপেক্ষায় থাকবেন তার গুনাহগার বান্দাদের কাতর ক্ষমা প্রার্থনার আর সেইসাথে তিনি ক্ষমা করে দিবেন আমাদের কৃত গুনাহগুলোকে ।



কারন তিনিই একমাত্র পরম করুনাময় এবং পরম দয়ালু ,ক্ষমাকারী । হে আল্লাহ আমাদের কৃত গুনাহসমূহকে তুমি ক্ষমা করো , যেভাবে তুমি ক্ষমা করেছো হজরত আদম (আঃ) কে । হে আল্লাহ তুমি সকল হাজীদের হজ্বকে কবুল করো । আর যারা তোমার ঘরকে তওয়াফের জন্য অধীর অপেক্ষায় আছে ,তাদের কে তুমি তোমার ঘর এবং পবিত্র হজ্ব পালনের সুযোগ করে দাও। আমীন।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/29478155 http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/29478155 2011-11-05 01:14:48
আমার নোটবুকে বাসুদেবপুর মাদ্রাসা আর একটি যুদ্ধ

গভীর রাতে একটানা বর্ষার বৃষ্টিতে সামনে বসা বৃদ্ধ লোকটির চোখ দেখে মনে হচ্ছিলো ৪০ বছর আগে সেই একাত্তরের এক নবীন যোদ্ধা কৃষক যেন বসে আছে আমার সামনে। কিছুক্ষন আগে আমার প্লাটুনের সৈনিকদের নিয়ে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া অংশ হিসেবে প্রায় ২০ কিঃমিঃ পথ অতিক্রম করে , এই অজানা এক বাসুদেবপুর মাদ্রাসায় শত্রুর রসদ সরবরাহ কেন্দ্রের উপর রেইড অপারেশন কমান্ডার হিসেবে পরিচালনা করলাম। গভীর রাতে শত্রুর চোখ কে আড়াল করার জন্য প্রচন্ড বৃষ্টির মধ্যে প্রায় ৭০০ গজের মত পথ কখন ধানক্ষেত কখনওবা সরু নালা অতিক্রম করতে হয়েছে ক্রলিং করে ,ফলে সারা ইউনিফর্ম কাঁদা পানিতে একাকার আমার সাথে আমার সৈনিকদের অবস্থা একইরকম। কিন্ত রেইড অপারেশনটি বেশ সফলতার সাথে আমরা পরিচালনা করতে পেরেছি বলে সবাই বেশ উৎফুল্ল এবং ক্লান্ত ও বটে।

অপারেশনের মহড়া শেষে মাদ্রাসার মাঠের কোনে চাপকলের পানিতে টিপ টিপ বৃষ্টির মাঝে ইউনিফর্মের কাঁদা পানিতে ধুঁয়ে নিচ্ছিলাম ঠিক তখনই বৃষ্টির মাঝে এই বৃদ্ধের আবির্ভাব। হাতে ধরা হারিকেন আর আরেক হাতে পানি ভর্তি জগ ছাতাটা কৌশলে ঘাড়ের মাঝে চেপে রেখে বৃদ্ধ স্মিত একটি হাসি দিয়ে বললেন " বাজান মনে কিছু নিয়েননা আপনি এই ধানক্ষেত পুরোটা ক্রলিং করে এসেছেন অনেক কষ্ট হইসে একটু পানি খান "। কিছুটা অবাক হলাম অশীতিপর এই বৃদ্ধের মুখে সামরিক শব্দ ক্রলিং কথাটা উচ্চারিত হতে। আমার অবাক হওয়া দেখে সাথে সাথে বৃদ্ধটি বলে উঠলেন তার হারানো যৌবনের কথা ,।

অনেক দিন আগে সেই একাত্তরের টালমাটালের ঢেউ যখন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে তখন এই দিনাজপুরের চিলিরবন্দর পুলিশ থানা দখল করে নিয়েছে হানাদার বাহিনী আর তার সাথে যোগ দিয়েছে আলবদর আর রাজাকাররা । ঠিক তখনই এই বৃদ্ধের গ্রামে হাজির হলেন পশ্চিম পাকিস্তান এর সেনাবাহিনী থেকে পালিয়ে আসা এক বাংগালী সৈনিক যার গ্রাম ছিলো এই বাসুদেব পুর ,,,,,,,। তার নাম ছিলো মোতালেব ,,,,,;;'',,,,। এই বীর সেনানী গ্রামে এসে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করলেন দিনাজপুরের এই চিলির বন্দরে থানা হামলা করার জন্য। এই থানার চারপাশে তখন ব্যান্কার খুঁড়ে শক্ত প্রতিরক্ষা অবস্থান নিয়েছে হানাদার বাহিনী। আর আওটার পেরিমিটারে শক্ত পাহারায় আছে রাজাকার আর আলবদরের সদ্যসরা । এই বীর সেনানীর নেতৃত্বে তখন আমার সামনে বসা এই বৃদ্ধ সেদিনকার যুবক কৃষক স্বল্পকালীন ট্রেনিং এর উপর ভরসা করে আর ৫০০ জনের মত গ্রামবাসীরা হামলা করেছিলো সেই চিলির বন্দর থানা । প্রথমেই কোন বাধা না দিয়ে বরং সব রাজাকার আর আলবদররা আত্মসমর্পন করে মুক্তিবাহিনীর কাছে । কিন্ত তুমুল বৃষ্টির মত গোলাগুলির মাধ্যমে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলে থানার চারপাশে ব্যান্কার থেকে হানাদার বাহিনী।

বৃদ্ধ গভীর রাতে সেই মাদ্রাসার বারান্দায় তখন ও বলে চলেছে সেই ৪০ বছরের আগের ইতিহাস আর আমি সাথে কজন সৈনিক মন্ত্রমুগ্ধের মত তার কথা শুনছিলাম। বৃদ্ধ বললেন আমাদের গ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ সেই সৈনিক মোতালেব সবার সামনে বলে উঠলেন আমি জীবিত থাকতে আমার গ্রামে কোন হানাদার বাহিনীকে থাকতে দিবোনা এই বলে দুহাতে দুই গ্রেনেড নিয়ে তুমুল বৃষ্টির মত গোলাগুলীর মাঝে অকুতোভয় সেই বীর সেনানী শত্রু হানাদারদের ব্যান্কারের নিকটে গিয়ে একটি গ্রেনেড চার্জ করে আর অপর গ্রেনেডটি চার্জ করার আগে এক ঝাঁক বুলেট এসে তার বুকে এসে আঘাত করলে সাথে সাথে সেখানেই সেই বীর সেনানী শাহাদাৎ বরন করেন । তার লাশ যেন শত্রুরা কেড়ে নিতে না পারে সেজন্য কজন গ্রামবাসী এগিয়ে গেলে তারাও হানাদারদের বুলেটে শহীদ হন। অবশেষে দারুন এক সংগ্রামের মাঝে শেষ হয় সেদিনকার থানা দখলের যুদ্ধ ।

যে বীর সেনানীর প্রেরনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এই বিজয় অর্জিত হয় সেই বিজয় আর দেখা হয়ে উঠেনি সেই সৈনিকের । চোখ ছলছল দৃষ্টিতে বৃদ্ধ বয়সের অনিয়ন্ত্রিত আবেগে কাঁপা কাঁপা হাতে বৃদ্ধ মাদ্রাসার পেছনে বটগাছের কোনায় গভীর অন্ধকারে সিমেন্ট দিয়ে বাধাঁনো কবরটি দেখিয়ে বলে উঠলেন ঐ যে ওখানে শুয়ে আছে আমাদের গ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ সৈনিক মোতালেব । তাকিয়ে দেখতে পেলাম কবরটি আর সাথে সাথে মনে পড়লো এই কবরের পাশ দিয়ে কিছুক্ষন আগেই আমি ক্রলিং করে আসছিলাম রেইড করার জন্য।
ভাবতেই মনটা এক অদ্ভুত আনন্দে ভরে উঠলো যে প্রশিক্ষন গ্রহনকারী এক যোদ্ধা তারই এক পূর্বসূরী বীর যোদ্ধার কবরের পাশ দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে দেশকে শত্রু মুক্ত রাখার দৃপ্ত শপথে। হৃদয়ের অন্তঃস্হল থেকে গভীর শ্রদ্ধা জানালাম চিলির বন্দর থানা দখলের সেই যুদ্ধের শাহাদাৎ বরনকারী সেই বীর সেনানী আরো নাম না জানা অসংখ্য বীর যোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে।

তখনও বৃদ্ধ বলে চলেছেন তার আগুন ঝরানো সেই দিনগুলির কথা আর কথা মাঝে এই অশীতিপর কৃষক বৃদ্ধের মুখ থেকে শুনছিলাম আমাদের সামরিক জীবনের বহুল ব্যবহৃত পরিচিত শব্দ এল এম জি, এস এল আর , ট্রেন্চ ক্রলিং এরকম আরো অনেক শব্দ। বৃদ্ধ বলে উঠলেন "বাজান আপনাদের এই যুদ্ধের মহড়া দেখে আমার সেই একাত্তরের সেই দিনগুলির কথা মনে পড়ায় ছুটে এসেছি আপনাদের কথা বলতে আর আপনাদের একটু পানি খাওয়াতে। ৪০ বছর আগের সেই যোদ্ধার হাতে নতুন প্রজন্মের আরেক যোদ্ধা হিসেবে যেন তার হাত থেকে পানি নয় বরং দেশকে আরো বেশী করে ভালোবাসবার তৃষ্না নিবারনকারী সুধা পান করলাম । কিছুক্ষন পর আমার সৈনিকরা প্রস্তুত হয়ে রিপোর্ট করলো নিজেদের ফার্মবেস এ ফেরত যাবার জন্য । আমিও প্রস্তত হয়ে নিয়ে পিঠের উপর হ্যাভারস্যাক চাপিয়ে এসএমজিটাকে ক্রস করে নিলাম সামনে । আমি বিদায় নিলাম সেই বৃদ্ধের কাছ থেকে , বললাম দোয়া করবেন চাচা আমাদের জন্য আর এই দেশটার জন্য । উনি হাত তুলে বিদায় জানালেন । আমরা দৃপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে চললামা আমাদের গন্তব্যস্থানের দিকে।

পেছন ফিরে আর একবার দেখার চেষ্টা করলাম , দেখি সেই বৃদ্ধ এখনও দাঁড়িয়ে আছে হারিকেন হাতে বাসুদেবপুর মাদ্রাসার মাঠের কিনারায় , তার হারিকেনের আলোয় তার ছায়াটা যেন এক অশারীরির ন্যায় মনে হচ্ছে । ভোর হয়ে আসছে কিছুক্ষন আগে বৃষ্টি থেমে গেছে ,আকাশের মেঘ কেটে যাচ্ছে শেষ রাতের চাঁদ উঠেছে আকাশে। চাঁদের মায়াবী আলোয় ভেজা ইউনিফর্মে আমরা বাসুদেবপুর গ্রামের মেঠোপথ ধরে এগিয়ে চলেছি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক ক্ষুদ্র সেনাদল অগ্রভাগে আমি । সারা আকাশ জুরে চাঁদের আলোয় যেন চারিদিক ভেসে যাছ্চে আলোর বন্যায় ,,,,। দূরে এক বাঁশঝাড় থেকে রাতের পাখি থেকে থেকে ডেকে উঠছে । আমার মন এখনও যেন বাঁধা পড়ে আছে বাসুদেবপুর মাদ্রাসায় সেই বৃদ্ধের কাছে । আর মরা খালের সেই কিনায়ার বটবৃক্ষের ছায়ায় সেই শানবাঁধানো কবরের কাছে ,,। যেখানে শুয়ে আছে নীরবে নিভৃতে এই বাংলার একা দামাল বীর সেনানী মোতালেব যে একদিন ভালোবেসে গ্রেনেড নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো দেশকে স্বাধীন করতে ।

আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি

স্থানঃ বাসুদেবপুর,
চিলির বন্দর দিনাজপুর
সময়ঃ রাত ০৪৩০
তারিখঃ ২০ জুন ২০১১
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/29401872 http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/29401872 2011-06-24 19:06:12
শহরায়নে অভিবাসনের ভূমিকা এবং দূর্যোগ পূর্ব ও পরবর্তী সমস্যা (১ম পর্ব)
পেছনের কথা
প্রাকৃতিক দূর্যোগ বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য একটি আলোচিত বিষয়। যদিও এর ব্যাপ্তিকাল সেই অনাদিকাল থেকে এই দেশে বহমান। আমাদের দেশের মানুষ আজ প্রাকৃতিক দূর্যোগের সাথে সংগ্রাম করতে করতে এই সমস্যার সাথে অভিযোজন করতে শুরু করেছে বেশ কয়েক যুগ ধরে। জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে রেশ ধরে এই প্রাকৃতিক দূর্যোগের মাত্রা আমাদের দেশে অতীতের তুলনায় কয়েকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও আমাদের ভৌগলিক অবস্থান এবং সমুদ্র উপকূলের কোনাকৃতি আকারের জন্য এই অন্চলে ঘন ঘন সাইক্লোন বা ঘূর্নিঝড় হয়ে থাকে । কিন্ত বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারনে এই ঘূর্নিঝড়ের সংখ্যা এবং তীব্রতা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে । কিন্ত বাইরের বিশ্বের তুলনায় আমাদের দেশে এই প্রাকৃতিক দূর্যোগের বিষয়টি বেশ কম আলোচিত হয়ে আসছে । এমনকি অনেকে এই বিষয়গুলো সম্পর্কে তেমন একটা অভহিত নন। এর আগে এই বিষয়গুলো নিয়ে কিছু লেখা লিখেছিলাম । তারই ধারাবাহিকতায় এবারের পর্বটি একটু ভিন্ন ধারা নিয়ে লেখা হবে । সম্প্রতি হাইতি এবং চিলিতে ঘটে যাওয়া ভূমিকম্প এবং এর পরবর্তীতে যে বিষয়গুলো এই প্রাকৃতিক দূর্যোগকে কেন্দ্র করে উঠে এসেছে , সেই বিষয়গুলোকে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে আলোচনা করা। এই আলোচনার মাধ্যমে আমাদের সীমাবদ্ধতা এবং করনীয় বিষয়গুলো সম্পর্কে পাঠক কে সচেতন করাই এই লেখার মূল উদ্দেশ্য । আলোচনায় কোন তথ্য সংশোধনের প্রয়োজন পড়লে তার ভার পাঠকের উপর রইলো । এই লেখাটি মূলত শহরায়ন মুখী অভিবাসন এবং এর ফলে সৃষ্ট সমস্যা এবং এর ক্ষতিকারক দিকগুলো কিভাবে প্রাকৃতিক দূর্যোগের পরবর্তী সময়ে ত্রাণকার্যে নিয়োজিত মানবিক সংস্থার কাজকে প্রভাবিত করে ,সেই বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে ।



ভূমিকা

উনিশ শতক এবং বিশ শতকের শুরুতে বিশ্বজুড়ে শিল্পায়নের বিপ্লবে মানুষের জোয়ারের ঢেউ একে একে আছড়ে পড়তে শুরু করলো গ্রাম থেকে নতুন নতুন শহরের দিকে । ঝড়ের গতিতে একে একে শহর গড়ে উঠতে লাগলো বিশ্বজুড়ে । শহরের নাগরিক সুবিধা, নতুন নতুন কাজের চাহিদা এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের সম্ভবনা অন্যদিকে উচ্চশিক্ষা,পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা গ্রামের মানুষকে গ্রামীন জীবনের মায়া ভুলে বাধ্য করলো শহরে ঘর বাঁধার ।আর এই ঢেউ আজও অবিরত ভাবে একে একে আছড়ে পড়ছে শহরের বুকে । এক হিসাবে দেখা গেছে শহর অভিমুখী এই বিশাল গ্রামীন জনগোষ্ঠীর অভিবাসনের ফলে ২০০৮ এ বিশ্বের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক জনসংখ্যা বাস করবে শহরে ।২০৩০ এ শহরে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ৫বিলিয়নের দাড়াবে । এই ব্যাপক জনগোষ্ঠীর বিশাল একটি অংশ বাস করবে মূলত এশিয়া এবং আফ্রিকার শহরগুলোকে কেন্দ্র করে । এবং জাতিসংঘের একটি গবেষনায় দেখা গেছে এই দুই মহাদেশে শহর অভিমূখী অভিবাসনের হার সবচাইতে বেশী।

এশিয়া এবং আফ্রিকার শহরের আকার তুলনামূলকভাবে ছোট হলেও এই শহরগুলোর জনসংখ্যা অনেক বেশী । ফলে এই শহরগুলোর পক্ষে এখন আর সম্ভব হচ্ছেনা অভিবাসিত এই বিপুল গ্রামীন জনগোষ্ঠীর জন্য সকল নাগরিক সুবিধাদি সরবরাহ করা । এই অভিবাসনের ফলে একদিন এই শহররায়নের প্রক্রিয়া হয়েছে তরান্বিত কিন্ত আজ এই ব্যাপক অভিবাসিত জনগোষ্ঠীর ভারে শহররায়ন প্রক্রিয়া মুখ থুবড়ে পড়ছে । এবং এর ফলে শহর গড়ে উঠছে অপরিকল্পিতভাবে এবং এর ফলে একদিন শহরগুলো মৃত শহরে পরিনত হওয়া এখন শুধু সময়ের বিষয়।

আমাদের ঢাকা শহর
এখন দৃষ্টি ফেরানো যাক আমাদের ঢাকা শহরের দিকে । বর্তমানে যেন এই শহরটি ধুঁকে ধুঁকে চলছে এক অসুস্থ্য রোগীর ন্যায়।পানি নেই,বিদূৎ নেই , গ্যাস নেই ।কিন্ত আছে অহরহ লোডশেডিং,রাস্তায় ট্রাফিক জ্যাম আর আছে মানুষের আহাকার । কিন্ত এরপরও কি থেমে আছে মানুষের শহরমুখী হবার তাড়না । একটি গবেষনায় উঠে এসেছে প্রতিবছর ঢাকা শহরে ৫ লাখ করে নতুন মুখ যোগ হচ্ছে পুরোনো মুখের সাথে । কিন্ত ঢাকা থেকে গ্রামমুখী জনগনের সংখ্যা নেহাতই অপ্রতুল।ফলে ঢাকা শহরে বেড়েই চলেছে মানুষের ভীড় আর ঢাকা ক্রমান্বয়ে এগিয়ে চলেছে পরিকল্পনাহীন এক মৃতনগরীর ভাগ্যকে বরন করতে।প্রাকৃতিক দূর্যোগ আঘাত হানার আগেই আমরা যেন এক মানুষ্য দূর্যোগের সম্মুখীন এখন।

শহর থেকে আগত এই গ্রামের মানুষগুলোর ঠাঁই হয়েছে শহরের বস্তিগুলোতে ।অথচ তাদের এই শহরে আসার পেছনে ছিল স্বপ্ন এক স্বচ্ছল জীবনের । কিন্ত এই শহরের পক্ষে এখন আর সম্ভব নয় এই মানুষগুলোকে এক সুন্দর জীবন উপহার দেবার।এই পরিকল্পনা হীন শহরে আজ বস্তি থেকে সমাজের অপেক্ষাকৃত ভাল অবস্থানে যারা আছেন তারা কেউই নিরাপদ নন। কারন এই শহরটি দাড়িয়ে আছে এক নিঃশব্দ প্রাকৃতিক দূর্যোগ ভুমিকম্পের আশংকায়।ঢাকা শহরে বেশ কটি ভূমিকম্পের রেকর্ড থেকে গবেষকরা ধারনা করছেন একটি বড় মাত্রার ভূমিকম্পের ।কারন এই অন্চলে গ্রেট ইন্ডিয়ান নামে ভুমিকম্পটি রেকর্ড করা হয় ১৮৯৭ সালে এবং এই অন্চলে এই ধরনের বড়মাত্রার ভূমিকম্পগুলো সাধারনত ১০০ বছর পরপর আঘাত হেনে থাকে । সেদিক থেকে ইতিমধ্যে আমরা সেই সময় পার করে অতিরিক্ত সময়ের মধ্যে এগিয়ে চলেছি। আমরা আশংকামুক্ত নই এই কারনে এখন বেশকিছু দিন পরপর মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প আমাদের দেশে বিশেষ করে ঢাকায় রেকর্ড করা হচ্ছে।



দূর্যোগ এবং আমাদের পরিকল্পনা

অথচ আমাদের এই বিষয়ে নেই কোন মাথাব্যাথা । সরকারের পক্ষ থেকে গঠন করা হয়েছে খাদ্য ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রনালয়,এছাড়াও সরকার গঠন করেছে অতন্ত্য সময়োপযোগী দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বা Disaster Management Plan যার মাধ্যমে দেশের সরকার প্রধান থেকে একজন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়েছে। এছাড়া সরকার প্রতিটি পর্যায়ের কমিটির পূর্নাংগ বিবরন তৈরী করেছেন এবং দূর্যোগ পূর্ব এবং পরবর্তী দায়িত্ব কিভাবে পালন করা হবে তার উপর একটি Standing Order Procedure(SOP) তৈরী করেছেন। এমনকি আমাদের দেশের এই পরিকল্পনার মান এতটাই চমৎকার যে বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দূর্যোগ পরিকল্পনার মান অনেক উঁচুতে । বিশেষ করে আমাদের সাইক্লোন পুর্ব প্রস্ততি পরিকল্পনা একটি নিখুঁত এবং আন্তজার্তিক মানের একটি পরিকল্পনা যা ১৯৭৩ সালে তৎকালীন সরকার প্রধান বংগবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান বাংলাদেশে চালু করেন । এটিকে ইংরেজীতে বলে CPP বা Cyclone Preparedness Programme।

উপরোক্ত আলোচনার ফলে একটি ছোট ধারনা পাওয়া যায় যে আমাদের দেশে সরকারী পর্যায়ে দূর্যোগ পরিকল্পনা কি পর্যায়ে আছে । সম্প্রতি সরকার ঢাকা শহরের জন্য ভূমিকম্পের উপর বিশেষ পরিকল্পনা তৈরী করার জন্য সরকারী ১৭টি সংস্থাকে নির্দেশ প্রদান করলেও ,জানা মতে শুধুমাত্র স্বশস্ত্র বাহিনী বিভাগ থেকে ঢাকা শহরের উপর ভুমিকম্প পরবর্তী পরিকল্পনার একটি পূর্নাংগ খসড়া Contingency Plan দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে জমা দিয়েছে যাচাই বাছাইয়ের জন্য ।
( চলবে)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/29132527 http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/29132527 2010-04-10 22:29:56
জলবায়ু পরিবর্তন (১ম পর্ব) : Climate Justice In Hopenhagen ?

আশার শহর ,এই শহরের প্রতিটি মানুষের ভাষ্য এই শহরেই পৃথিবীর তাবৎ মানুষ খুঁজে পাবে তাদের এতদিনকার হারানো আশা । ফিরে পাবে ন্যায্য দাবী এক সবুজ পৃথিবীতে ঘর বাধঁবার । এই সপ্ন দেখছে নরওয়ের জেমস ক্লেয়ন একই সপ্ন দেখছে আফ্রিকার কালো মানুষ জেনায়ি । চীনের জিং ইয়াং অথবা ধুঁ ধুঁ পদ্মার বালুরাশিতে দাড়িয়ে থাকা কলিম । সকলের আশার আলো আর জলবায়ুর ন্যায্যতার দাবী নিয়ে এই মাসে ডেনমার্মের কোপেনহেগেনের বেলা সেন্টারে ৭ই ডিসেম্বর শুরু হয়েছিলো জাতিসংঘের ১৫ তম জলবায়ু বিষয়ক সম্মেলন সংক্ষেপে COP15। এই সম্মেলন শেষ হবে আগামী ১৮ই ডিসেম্বর । আর মাত্র দুদিন বাকী এই আশার শহরে আশার আলোকে দেখার প্রতীক্ষায় ।



দুদিন পরেই ভাগ্য নির্ধারন হবে এই বসুন্ধরার । ঠিক করা হবে আমরা আসলে কি করতে যাচ্ছি ভবিষৎ প্রজন্মের জন্য । এই ধরনী কি হবে মৃত্যুকূপ অথবা সবুজ শান্তির নীড় ? অনেক প্রশ্ন সবার মনে উঁকি দিয়ে যাচ্ছে কিন্ত আশার আলো এখনও এই সম্মেলনে দেখা যায়নি । বরং ক্ষনে ক্ষনে চাপা আশংকা সম্মেলনের অশনি সংকেত এই যেন বেজে না উঠে ।

গত ১৪ই ডিসেম্বর সোমবার দুপুরের পর একযোগে সব আফ্রিকান দেশসমূহের প্রতিনিধিরা সম্মেলন ওয়াক আউট করে বেরিয়ে আসে । তাদের অভিযোগ ছিলো উন্নত বিশ্বের দেশসমূহ গোপনে যড়যন্ত্র করে কিয়োটো প্রটোকল এর সময়সীমা বৃদ্ধি করার চেষ্টা করছে ।কারন এই জলবায়ু বিষয়ক চুক্তিতে যেটা জাপানে স্বাক্ষরিত হয়েছিলো ১৯৯৭ সালে ,সেখানে উন্নত বিশ্বের দেশসমূহের জন্য নির্দিষ্ট মাত্রার কার্বনের বেশী নিঃসরনের কারনে জরিমানা কথার বলা হয়েছে কিন্ত উন্নয়নশীল দেশসমুহের ক্ষতিপূরন দাবীর কোন বাধ্য বাধকতা জারীর কথা বলা হয়নি ।

অবশ্য পরে উন্নত বিশ্বের দেশসমুহ তাদের কে এই বিষয়ে আশ্বস্ত করলে তারা তাদের বয়কট প্রত্যাহার করে সম্মলনে ফিরে আসে । কিন্ত তারপরও কথা থেকে যায় , সম্মেলনের শুরুতে যেভাবে প্রতিদিন কোন কোন না ইস্যুতে একে একে নগ্নভাবে উন্নত বিশ্বের খোলস খুলে পড়ছে সকলের সামনে ফলে অবিশ্বাসের দেয়ালের ইটের গাঁথুনি প্রতিদিন বেড়েই চলেছে ।



সবশেষ সম্মেলনের যে আঘাত এসে পড়েছে তা হল গত ১৬ ডিসেম্বর ,জলবায়ু সম্মেলনের সভাপতি ডেনিশ পরিবেশ এবং জ্বালানী মন্ত্রী কোনি হেডেগার্ড পদত্যাগ করেন সভাপতির পদ থেকে এবং তার স্থলে এখন বাকী দিন দায়িত্ব পালন করবেন ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী নিজে ।

বিষয়টি যদিও কোনি ব্যক্ত করেন প্রেসের কাছে এইভাবে যে, আগামী ২দিন সম্মেলনে যেহেতু প্রায় ১১৯টি দেশের সরকার প্রধানগন অংশ নিবে তাই তার স্থলে ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী সভাপতিত্ব করলে বিষয়টি আরো গ্রহনযোগ্যতা পাবে । কিন্ত এই পদত্যাগের পেছনের কারটি সম্পর্কে অনেকে ধারনা করছেন ,কিছুদিন আগে ব্রিটিশ পত্রিকা গার্ডিয়ানে ডেনিশ প্রধানমন্ত্রীর জলবায়ু সম্মেলনের গোপন খসড়া ফাঁস হয় ।এই খসড়াতে ধারনা করা হয় সকল উন্নত বিশ্বের নেতৃবৃন্দের সম্মতিতে ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী নিজে এটা তৈরী করেন কিন্ত এই সম্পূর্ন বিষয়টি তিনি সম্মেলনের সভাপতি কোনি হেডেগার্ডকে অবহিত করেননি । এবং ফলাফল স্বরুপ তার পদত্যাগের ঘটনাটি ঘটে।






এদিকে গত কয়েকদিনে আশার আলো বলে আলোচিত হোপেনহেগেন ঘটে গেছে বেশ কটি বড় রকমের বিক্ষোভের ঘটনা ,গ্রেফতার হয়েছে কয়েকশ এমনকি শেষ পর্যন্ত ডেনিশ পুলিশকে ছুঁড়তে হয়েছে কাদাঁনে গ্যাস । এখন সকলের মনে একটি প্রশ্ন জেগে উঠছে আসলেই কি কোপেনহেগেন আশার আলো জ্বালিয়ে বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিত হতে পারবে হোপেনহেগেন হিসেবে ? পারবে কি উন্নত বিশ্বের নেতৃবৃন্দের চেতনাকে জাগ্রত করতে ? পারবে কি জলবায়ুর ন্যায্য ক্ষতিপূরন আদায় এবং সর্বোপরি এই বিশ্বকে ধ্বংস এর হাত থেকে রক্ষা করতে ? আর মাত্র একদিন বাকী আগামী ১৮ ই ডিসেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে সম্মেলন । ভবিষৎ এ আবার কবে এভাবে এত অধিকসংখ্যক সরকার প্রধানদের একই আলোচনার টেবিলে বসানোর সুযোগ ঘটবে এটা বলা অসম্ভব । তবে এই বিষয়ে সুনিশ্চিত যে এই সম্মেলন নিরাশার যদি পর্যবসিত হয় ।তাহলে আমরা সবাই দায়ী থাকবো আগামী প্রজন্মের কাছে ।

পুনশ্চ: আগামী পর্বের আলোচনাতে চেষ্টা করবো বিদেশী সাহায্য সহযোগিতা ছাড়া আমাদের নিজেদের কারনে আমরা যে পরিবেশ বিপর্যয়ের সৃষ্টি করছি তার একটি সচিত্র প্রতিবেদন দেয়ার। আমাদের সরকার প্রধানদের চেষ্টার আন্তরিকতা নিয়ে আমার কোন সন্দেহ নাই । কিন্ত একটি বিষয়ে মনে রাখতে হবে সকলকে যে শুধুমাত্র বিরাট অংকের অর্থ সংগ্রহ করলেই আন্তরিকতা প্রকাশ হয়না । বরং এই অর্থের সঠিক প্রয়োগ যদি না ঘটে তাহলে এই অর্থই হয়ে দাড়াঁবে সকল অনর্থের মূল । আর এই অর্থ সংগ্রের চেয়ে আরো বড় দায়িত্ব এই সরকারের রয়েছে । দেশের অভ্যন্তরে যেভাবে দলীয় এবং বিভিন্ন দল ও অসৎ ব্যবসায়ীদের হাতে পরিবেশ এর বিপর্যয় ঘটছে সেটা বন্ধ না করতে পারলে দেশ খুব দ্রুত একটি বিপর্যয়ের মুখে পড়বে । তাই জলবায়ু পরিবর্তনের উপর মূল ফোকাসের সাথে সাথে আমাদের নিজেদের কারনে যে দ্রুত পরিবেশের বিপর্যয় ঘটছে সেই বিষয়ের প্রতিও কঠোরভাবে দৃষ্টি ও ব্যবস্থা নিতে হবে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/29060599 http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/29060599 2009-12-17 16:26:20
তৃতীয় বিশ্বে জীবনের মূল্য মাত্র ২ ডলার !!!!!!!!

আপনাকে যদি প্রস্তাব দেয়া হয় আপনাকে ২ ইউরো বিলিয়ন ডলার দেয়া হবে । কিন্ত এর বদলে আপনাকে প্রথম বিশ্ব থেকে সাগ্রহে কিনে নিতে হবে ক্যান্সারের জীবানু এবং মৃত্যুবরন করতে হবে একজন ক্যান্সারের রোগী হিসেবে । বিষয়টি কিভাবে দেখবেন আপনি । হয়ত ভাবছেন পোস্টের শুরুতে কি সব পাগলের প্রলাপ বকছি ।

কিন্ত ঘটনাটি সেরকমই ঘটতে চলেছে আমাদের বহুল প্রত্যাশিত ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে আয়োজিত বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে । ধারনা করে হচ্ছে এ যাবৎ বিশ্বে কোন সম্মেলনে এত অধিক সংখ্যক দেশের প্রতিনিধি এবং রাষ্ট্রের প্রধানরা অংশগ্রহন করেননি । প্রায় ১৭০ টি দেশ এবং প্রায় ৮০০০ জন পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধি, বিভিন্ন রাষ্ট্রের সরকারের প্রতিনিধি এবং পরিবেশ,সমাজ,আবহাওয়া ও জলবায়ু সংক্রান্ত সকল ক্ষেত্রের বিজ্ঞানী ও গবেষকরা এই সম্মেলনে অংশগ্রহন করছেন । সকলের মুখে এবং অন্তরে একই দাবী এই বিশ্বকে সকলের জন্য নিরাপদ এক আবাসভূমি হিসেবে গড়ে তোলা । কিন্ত এই সপ্ন এবং আশার মুখে পানি ঢালা হয়েছে অতন্ত্য ধীর স্থির এবং কৌশলের আশ্রয় নিয়ে ।

গত মংগলবার গার্ডিয়ান পত্রিকা ফাঁস করে দিয়েছে ডেনমার্ক প্রধানমন্ত্রীর তৈরী করা একটি গোপন খসড়া যা কিনা কিছু দিনের মধ্যেই সম্মলনে প্রস্তাবাকারে উথ্থাপন করার কথা ছিল । এই ড্রাফট পেপারের সারমর্ম যা ছিল তা অনেকটা এরকম
১। কৌশলে শক্তি বা বাধ্যকতা আরোপের মাধ্যমে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোকে ধনতান্ত্রিক দেশ বা প্রথম বিশ্বের নিজেদের তৈরী করা কার্বন নিঃসরণের হারকে চাপিয়ে দেয়া ।

২। বেশী বিপদাপন্ন বা The most vulnerable country নামে আরেক টি বিশেষনের মাধ্যমে তৃতীয় বিশ্বের গরীব দেশগুলোকে আরেকটি শ্রেনীতে ভাগ করা ।

৩। জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ক অর্থলগ্নী খাতের মাধ্যমে জাতিসংঘের ভূমিকাকে দূর্বল বা সংকোচিত করা ।

৪। ২০৫০ সাল পর্যন্ত জনপ্রতি ১.৪৪ টনের বেশী কার্বন নিঃসরনের বাধ্যকতা আরোপ করা গরীব দেশগুলোর জন্য যেখানে এই কার্বন নিঃসরনের মাত্রা ধনী দেশগুলোর জন্য রাখা হয়েছে ২.৬৭ টন ।

এই ধরনের প্রস্তাবনা তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো সাথে আলোচনা ছাড়াই এই খসড়াতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে যা সম্পূর্ন সম্মেলনের উদ্দেশ্য উপর চপটোঘাত ছাড়া আর কিছুই নয়।

এই বিষয়ে অক্সফাম ইন্টারন্যাশনালের জলবায়ু নীতিমালা বিষয়ক উপেদেষ্টা এন্টোনিও হিল এই খসড়া সম্পর্কে বলেন যে" যদিও এটা একটা খসড়া এখনও পর্যন্ত কিন্ত এখানে যা বলা হয়েছে সেটা একটা বিষয়ের উপর ঝুঁকি কে বাড়িয়ে তুলছে যে একটা বিষয়ের উপর ধনীদেশগুলো যখন এক হয় তখন সেটা শুধুই গরীব দেশগুলোর জন্য বেদনার কারন হয়ে দাড়ায় ।"

এছাড়া হিল আরো বলেন " এই জলবায়ু সম্মেলনের আর্থিক ক্ষতিপূরনের তহবিল গঠনের বিষয়টির ভার প্রস্তবনায় বলা হয়েছে বিশ্ব ব্যান্ক এবং গ্লবাল ইনভায়রনমেন্ট ফ্যাকাল্টি আয়ত্বে রাখা হবে যা আরেকটি চিন্তার বিষয় হয়ে দাড়াবে । কারন এই পদ্ধতির ফলে জাতিসংঘের প্রতক্ষ্য কোন ভূমিকা আর থাকবেনা এই ক্ষতিপূরন বিষয়ে একক সির্ধান্ত দেবার ।" ফলে অদূর ভবিষৎতে জলবায়ু বিষয়ক কোন নীতি জাতিসংঘ ঘোষনা দিলেও অর্থছাড়ের বিষয়টি থাকবে বিশ্বব্যান্ক তথা ধনীদেশগুলোর হাতে । সেইক্ষেত্রে জাতিসংঘের আর কোন কার্যকরী ভূমিকাই থাকবেনা এই জলাবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়ে । অর্থাৎ সোজা বাংলায় বিচার মানি কিন্ত তালগাছ আমার

ধনীদেশগুলো তাদের অর্থনৈতিক শক্তি ,সামরিক শক্তি কে অক্ষুন রাখার জন্য যথেচ্ছার ভাবে পৃথিবীকে করবে কলুষিত এবং অবশ্যই নিজের দেশটিকে বাদ রেখে । আর সেটা কে হালাল করবার জন্য আর গরীব দেশগুলোর চোখে ঠুলি পরিয়ে আরো সামনের দিনগুলোতে কলুর বলদের মত ঘোরাবার জন্য আয়োজন করে এই ধরনের চমক ধাধাঁনো সার্কাসের আসর আর আমরা সেই কলুর বলদ অথবা সার্কাসের জোকারের মত সং সেজে ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে দাড়িঁয়ে থাকি কিছু পাওয়ার আশায় ।



গত অক্টোবরে সুযোগ হয়েছিলো সুইডেনের স্টকহোমে আয়োজিত ইউরোপীয়ান ডেভেলেপমেন্ট ডে সামিটে দর্শক হিসেবে যোগদানের । সেখানে উদ্বোধনী দিনে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে বক্তব্য রেখেছিলেন ভারতের প্রখ্যাত পরিবেশ এবং জ্বালানী বিষয়ক বিজ্ঞানী ডঃ রাজেন্দ্র কুমার পাচৌড়ী । তার নেতৃত্বে Intergovernmental Panel on Climate Change (IPCC) ২০০৭ সালে নোবেলে শান্তি পুরষ্কার লাভ করে ।তিনি বর্তমানে একই সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তিনি তার বক্তব্যে অতন্ত পরিষ্কার করে একটি কথা বলেছিলেন" যে একজন গবেষক একজন বিজ্ঞানী হিসেবে তার বা তার মত যারা এ বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তাদের পক্ষে আর অবশিষ্ট কিছু করার মত আর বাকী নাই । তাদের কাজের ফলাফল এখন প্রকাশিত। সমস্ত সুপারিশমালা এখন বিশ্ব নেতৃবৃন্দের হাতে । এখন তাদের সির্ধান্তের উপরই পৃথিবীর ভবিষৎ নির্ভর করছে ।এখন আর সময় নাই আশ্বাসের ,সময় নেই পরিকল্পনার । এখন সময় একটাই সেটা হচ্ছে ধনী গরীব সব রাষ্ট্রের এক কাতারে, পৃথিবীকে পরিবেশ দূর্যোগের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য এক প্লাটফর্মে দাড়িয়ে বাস্তবমুখী কাজ করা । তিনি তার বক্তব্য শেষ করেছিলেন মহাত্মা গান্ধীর এক স্মরনীয় বানী দিয়ে তিনি বলেছিলেন "গতি অর্থহীন যখন সেই গতির কোন গন্তব্য নেই" ।




তাই এই পৃথিবী যে সুপারসনিক গতিতে এগিয়ে চলছে সেই পৃথিবীর বিজ্ঞানের উৎকর্ষতা আর প্রযুক্তির লক্ষ্য যদি পৃথিবী এবং তার মানুষের সামগ্রিক উন্নতি বিধানের না হয় তাহলে সেই গতির আসলে কোন মূল্য নেই ।



আবার ফিরে আসি কোপেনহেগেনের সম্মেলনে । সবশেষে যে বিষয়টি এখন আলোচিত সেটি হচ্ছে বৈশ্বয়িক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত রাখার বিষয়ে ধনী এবং গরীব দেশগুলোর মাঝে টানপোড়েন । এখানে আসলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস বিষয়টি পরিমানে সামান্য মনে হলেও এর সাথে জড়িয়ে আছে সমুদ্রে উচ্চতা বৃদ্ধি এবং মালদ্বীপ এবং ক্যারাবীয়ান দ্বীপ দেশগুলোর তলিয়ে যাবার বিষয়টি । তাই এই ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলোর দাবী এই তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২ এর বদলে ১.৫ এর বেশী রাখা যাবেনা । এবং গত ১০ ডিসেম্বর ০৯ বিশ্বের আর্ধেক দেশসমূহ তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস প্রস্তাবটি একযোগে নাকচ করে দিয়েছে।



সবশেষে আরেকটি বিষয় সেই গার্ডিয়ান পত্রিকায় প্রকাশিত খসড়ার মাঝে অন্তর্ভূক্ত ছিল ক্ষতিপূরনের পরিমানের বিষয়টি । এই প্রস্তবনায় ইউরোপের দেশ সমূহ থেকে ২ বিলিয়ন ইউরো ডলারের কথা বলা হয়েছে ।যার পরিমান ডলারে দাড়ায় প্রায় ১০ বিলিয়নে । কিন্ত এই প্রস্তবনার সমালোচনা করে একজন চীনা প্রতিনিধি বলেন এই পরিমান সংখ্যার দিক হতে বেশী মনে হলেও এই সংখ্যাকে বিশ্বের জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে প্রতিজনের ভাগে পড়ে মাত্র ২ ডলার যা দিয়ে উন্নত বিশ্বে এক কাপ কফি পর্যন্ত খাওয়া যাবেনা ।



অথচ এই টাকার সংখ্যাকে মিডিয়ার প্রচারে কতইনা লোভনীয় ভাবে তুলে ধরা হচ্ছে আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর কাছে । এই সম্মেলনের শুরুতে কিছুটা আশাভংগের আশংকা থাকলেও সবার মনে ছিলো নতুন কিছু একটা হবার অথবা পাওয়ার । এই চাওয়া পাওয়ার মাঝে নেই কোন স্বার্থপরতা বরং ছিল সমগ্র মানবের জন্য এক সুন্দর আবাসভূমি গড়ার । কিন্ত আয়োজক দেশের প্রধানমন্ত্রীর গোপন খসড়া যেন সব আশা ভরসার উপর ছাই ঢেলে দিয়েছে । এ কোন বিশ্বের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা । এই একই সপ্তাহে অবাক বিস্ময়ে দেখলাম পৃথিবীর সবচাইতে মানবতার বিরুদ্ধে যেই দেশটি একের পর এক অত্যাচারের ইতিহাস গড়ে তুলছে সেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে দেয়া হচ্ছে নোবেল শান্তি পুরষ্কার । যেই সম্মেলনে আয়োজকরা শুনালেন এতদিন আশার বানী আজ তারাই মুখোশের আড়ালে তারা তাদের মসনদের ক্ষমতাকে কুক্ষিগত রাখার জন্য ষড়যন্ত্রের জাল বুনে চলেছে যার প্রমান সেই গোপন খসড়া। থলে থেকে বেরিয়ে পড়ছে সেই ইতিহাসের পুরোনো ঔপেনবেশিক ভুত ।

আমরা কোন পৃথিবীতে রেখে যাচ্ছি আমাদের অনাগত এবং আগত এই প্রজন্মকে ? এই প্রশ্ন আজ কম বেশী সবার মনে কিন্ত উত্তর কারো জানা নেই । ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/29057247 http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/29057247 2009-12-11 21:37:46
সুইডেনের গল্প - ৩
রাস্তায় বের হয়ে পড়লাম একটু চিন্তায় কারন হাতে নেই কোন সিটি ট্যুরের ম্যাপ । এছাড়া এখন ও আমার পাসপোর্ট আমার হাতে এসে পৌঁছেনি কারন আমাদের যাবতীয় অফিসিয়ালের ঝামেলা সাংগ করবার জন্য আমাদের টীমের সবার পাসপোর্ট একসাথে নেয়া হয়েছিলো সেটা হয়ত আজকেই একটু পড়ে সবাইকে দেয়া হবে । কিন্ত এ্যাডভেন্চারের লোভে আর নতুন একটি শহরকে নতুন চোখে বরন করে নেবার লোভে পাসপোর্টের কথা মনেই ছিলোনা । হোটেল থেকে বের হয়ে আর মন চাইছিলোনা পাসপোর্ট টা এখন কে দেবে তাকে খুঁজে সময় নষ্ট করার । তাই সির্ধান্ত নিলাম আপাতত আমার সামিটের আইডি কার্ড যেহেতু সাথে আছে অতএব এই কার্ডকে ভরসা করে বের হলাম একা একা শহর দেখতে ।





প্রথমে একটু সির্ধান্তহীনতায় ভুগলাম । কোনদিকে যাব ? বামদিকের রাস্তা দেখলাম ব্রীজ অতিক্রম করে চলে গেছে লেকের ওপারে একটি পাহাড়ের উপরে সম্ভবত একটি গীর্জার পাশ দিয়ে কোন এক অজানায় আর সেই রাস্তা ধার ঘেঁষে একটি সাদা ধবধবে রাজহাঁসের মত রাজসিক ভংগীতে একটি মধ্যযুগীয় পালতোলা নৌকা নোংগর বাধা অবস্থায় ।





ধারনা করলাম সম্ভবত এটি টুরিস্টদের আকর্ষনের জন্য একটি রেস্টুরেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে । আমার ডানদিকের রাস্তার একটি শাখা রাস্তা আবার কিছুদুর গিয়ে চলে গেছে একটি বাম দিকে রাজার প্যালেস মানে রাজপ্রাসাদের দিকে আরেকটি ডান দিকে মোড় ঘুরে চলে গেছে ব্যস্ত শহরের শপিং মলের দিকে ।






মনে মনে টস করে সির্ধান্ত নিলাম বামদিকে সেই সাদা পালতোলা জাহাজ আর লেকের ধাঁর ঘেঁষে পাহারের উপরে গীর্জার দিকে এগুনো যেতে পারে । যেই ভাবা সেই কাজ । হাঁটা দিলাম বাম দিকের রাস্তায় কিছু দূর এগুতে দেখি রাস্তার বাম দিকে বিশাল এক দালান আকার ইংগিতে মনে হল কোন মিউজিয়াম হবে হয়ত । প্রধান প্রবেশ পথে যেয়ে দেখি আমার অনুমান ই ঠিক ছিল । এটা স্টকহোমের ন্যাশনাল আর্ট মিউজিয়াম । এবং সেটা তখন বন্ধ ছিলো ।



যদিও আর্ট মিউজিয়াম অথবা কোন দেশের সভ্যতা বা সংষ্কৃতির প্রতি আমার বরারবের আকর্ষন ছিলো । কিন্ত এবার মৃত মিউজিয়ামের তুলনায় জীবন্ত নতুন দেশের মানুষ গুলোকে বেশী করে জানার আর দেখার কৌতুহলে আমি আবার এগিয়ে চললাম সামনের দিকে । ব্রীজের উপরে উঠে আসতেই যেন ক্লোজআপ শটে আগমনী শীতের এক স্নিগ্ধ এক রুপ হঠাৎ করে আমার চোখে ধরা দিলো । লোভ সামলাতে পারলাম না হাতের ডিজিটাল ক্যামেরায় আনাড়ীর মত যাই ভাল লাগলো স্ন্যাপ নিতে লাগলাম ।







কিন্ত এই জনহীন ছোট্ট ব্রীজে কোন মানুষজন না থাকায় আমার ছবিটা কিভাবে এই প্রকৃতির সাথে তোলা যায় এই চিন্তায় অস্থির হবার আগেই দেখি দূরে এক সুইডিশ নয়না হেঁটে চলেছে আপন মনে আর কানের আইফোনে সাথে হয়ত সুর মিলিয়ে গান গাইছিলো । ইশারায় আমি তাকে অনুরোধ করলাম আমার একটা ছবি তুলে দেবার জন্য। দেখলাম ইশারা করার সাথে সাথে সে দৌড়ে এপারে আমার কাছে এসে প্রথমে পরিষ্কার ইংরেজীতে বললো " আমিতো ভাল ফটোগ্রাফার নই তারপরও আমি দেখি চেষ্টা করে কতটুকু ভাল একটা ছবি তোলা যায় তোমার " উত্তরে আমিও তাকে আস্বস্ত করে বললাম " আমিও ছবির ভাল একটা সমঝদার নই তাই আমাকে ছবিতে দেখা গেলেই আমি খুশী হব"। যাই হউক সে আমার কয়েকটি ছবি তুলে ধন্যবাদ দিয়ে চলে গেলো দ্রুতপদে তার গন্তব্যে ।

চলবে
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/29051294 http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/29051294 2009-11-29 23:26:40
সুইডেনের গল্প - ২


গ্রান্ড হোটেল টি ১৮৭৪ সালে ১৪ জুনে উদ্বোধন করা হয় ।সে সময় হতে এই হোটেলে সুইডেন আগত সব নামীদামী মনীষীরা বিশেষ করে ১৯০১ সাল হতে সব নোবেল বিজয়ীরা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সেখানে অতিথি হিসেবে রাখা হত । এই হোটেলে শুনলাম আমাদের রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর এবং বর্তমানে সদ্য প্রয়াত মাইকেল জ্যাকসনের মত নামী তারকারা এই হোটেলে এসে থেকেছিলেন।যদি ও আমি এর কোন হিসাবের মধ্যই পড়িনা তারপরও আল্লাহর কাছে ধন্যবাদ আমার কাজের খাতিরে হলেও এই হোটেলের অতিথি হিসেবে সেবা নেয়ার সৌভাগ্য তিনি করে দিলেন বলে। বাসে থেকে নেমেই ছোট্ট এক দৌড়ে শীতের কামড় কে ফাঁকি দিয়ে মূল প্রবেশ পথ দিয়ে দ্রুত ঢুকে পড়লাম হোটেল গ্রান্ডের মূল লবীতে ।



ভেতরে ঢুকেই একটু অবাক হলাম ভেতরে পরিবেশ বেশ আরামদায়ক উন্ষতা। মেইন গেট পেরিয়ে কয়েক ধাপ সিড়ি তারপরে মূল লবী। সামনেই অভ্যর্থনায় দাড়িয়ে থাকা হোটেল স্টাফের কাছ থেকে রুমের পান্চিং কার্ড বুঝে নিয়ে লাগেজ নিয়ে ৪র্থ তলায় চললাম নিজের কক্ষে । উদ্দেশ্য প্রথমে কড়া করে একটা শাওয়ার তারপর ড্রেস চেন্জ করেই নিচে এসে কড়া কফিতে ভ্রমনের শেষ ক্লান্তি দূর করা তারপর পরবর্তী পরিকল্পনা ঠিক করা।

৪র্থ তলায় এসে রুম নম্বর খুঁজে বের করলাম আমার সাথে আমার একজন ভ্রমন সংগী আমার রুমমেট ।উনি দেখি আমার আগেই এসে পৌঁছে গেছেন । এবং রুমে লাগেজ রেখেই উনি বেরিয়ে গেছেন ।




আমি এই হোটেলে ঢুকে সবচেয়ে অবাক হয়েছি যে হোটেলটি যদিও সব ধরনের আধুনিক সুবিধার ব্যবস্থা রেখেছে কিন্ত সেইসাথে এই হোটেলের প্রাচীন ঐতিহ্যকে একসূতায় বেধে রেখেছে । তার প্রমান লবীতে চারধারের দেয়ালে মধ্যযুগীয় বিভিন্ন মনীষীদের পোর্ট্রেট ছোট্ট এক লাইব্রেরী রুমের বইয়ের তাকে অসংখ্য পুরোনো মলাটের বই এবং সব ধরনের আসবাব পত্র দেখে মনে হল অনেক পুরোনো এবং ভারী । এমনকি আমার রুমে একদিকে যেমন বিভিন্ন আধুনিক জিনিষপত্র দেখলাম সেইসাথে দেখলাম দেয়ালে লাগানো খুব পুরোনো এক ছোট্ট আলমিরা টাইপ । এই ধরনের আলমিরা বা দেয়াল তাক আমাদের দেশেও কিছু পুরোনো বাড়ীতে এখনও দেখতে পাওয়া যায় ।



যাই হওক ক্লান্ত শরীরে একে একে শরীর থেকে ওভারকোট এবং এর পড়ে কয়েক স্তরের শীত আবরনী খুলে অবশেষে ঢুকলাম বাথরুমে শাওয়ার নিতে । বেশ কয়েক ধরনের শাওয়ার ফ্লেভার মিক্স করে বেশ কষে গোসল করলাম বেশ গরম পানিতে । তারপর ঝরঝরে শরীরে আবার ও সেই ক্লান্তিকর কয়েক স্তরের শীতের আবরনী মানে প্রথমে ইনার তারপরে শার্ট পরে স্যুট এবং সবশেষে ওভারকোট ,গ্লাভস, কানটুপি হাতে নিয়ে চললাম গ্রাউন্ড লবীতে সকালের নাস্তা সারতে। ইতিমধ্যে পেটে অনবরত ঘন্টার বদলে সাইরেন বেজে চলছে ক্ষিধের জ্বালায়। একেতো অনেকক্ষন কিছু খাওয়া হয়নি তারওপর গরমপানির গোসলে সেই ক্ষুধা সূদে আসলে বেড়ে কয়েকগুনে দাঁড়িয়েছে।



নিচে এসে দেখলাম ঠিক রাস্তা ঘেঁষে বিশাল কাঁচের দেয়ালের ভেতরের হলরুমে সারি সারি টেবিলচেয়ারে বসে সবাই নাস্তার কাজ সারছে আর সামনে কাঁচের দেয়ালের ওপারে রাস্তা আর তার পরেই বিশাল লেকের শান্ত সমাহিত রুপ। সেটা ছিল অসাধারন এক সকাল বেলা আমার জীবনে । ব্যুফে ছিলো বলে নিজে যেয়ে অসংখ্য খাবারের মাঝে কিছু আইটেম বিশেষ করে অপরিচিত কিছু ফল তুলে নিলাম প্লেটে এছাড়া পরিচিতর মধ্যে নিলাম পাউরুটি,জেলী ,ডিম আর ফলের জুস । সবকিছু নিয়ে বসলাম টেবিলে তারপর শুরু করলাম পেটপূজা ।



কিছুক্ষন পর খাওয়া শেষ করে গরম কফিতে চুমুক দিতেই সুন্দরী এক সুইডিশ ওয়েট্রেস এসে জানতে চাইলো আমার কিছু লাগবে কিনা? উত্তরে ধন্যবাদ জানিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলাম কিছু সময়ের জন্য আশেপাশে আমি কি কোন দর্শনীয় জিনিষ দেখতে পারবো কিনা ? সে বিনীতভাবে আমাকে এই বিষয়ে হোটেল গাইডকে জিজ্ঞেস করতে বলে চলে গেলো। ঘড়িতে তখন প্রায় ৯ টা বাজতে চলেছে। আমার আজকে কোন কাজ নেই শুধু স্টকহোম শহর দেখে বেড়ানো ছাড়া । আগামীকাল থেকে শুরু হবে আমার অফিসিয়াল কাজ । যাই হওক এই পোস্টে আমার অফিসিয়াল কাজকে উহ্য রেখে আমি শুধু আমার ব্যক্তিগত ভ্রমনের বিষয়ে কথা বর্ননা করব ।

চলবে

বিশেষ দ্রষ্টব্য : আমার তোলা ছবিতে বেশ কয়েকজনের ছবি থাকাতে তাদের বিনা অনুমতিতে ছবিগুলো পোস্ট করতে না পারায় পোস্টের সাথে প্রসংগিক বিষয়ের ছবিগুলো নিজ সংগ্রহ থেকে না দিয়ে ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করে দিলাম ।তবে এবিষয়ে নিশ্চিত থাকতে পারেন দেয়া ছবিগুলোর সাথে বাস্তবের কোন হেরফের নাই। এই অসুবিধার জন্য আমি দুঃখিত।তবে পরের পোস্টে কিছু নিজের তোলা ছবি থাকবে অবশ্যই।

আগ্রহীরা গ্রান্ড হোটেলের এই ওয়েব এড্রেস থেকে হোটেলটি সম্পর্কে একটি ধারনা নিতে পারেন
Click This Link
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/29050655 http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/29050655 2009-11-27 23:21:46
সুইডেনের গল্প -১

সুইডেনের স্টকহোমের আরলান্ডা এয়ারপোর্টে অবশেষে আমাদের কাতার এয়ারলাইন্সের বিমানটি ক্লান্ত শরীরে রানওয়ের টারমাকে এসে দাড়ালো।তখন ও সকালের ঘন কুয়াশার চাদরে জড়িয়ে আছে স্টকহোমের শহরের অলিতে গলিতে আর রাস্তায়। ঘুম ভাংগা ক্লান্ত চোখে চোখ মেলে দেখতে চেষ্টা করলাম বিমানের ছোট্ট জানালা দিয়ে বাইরেরে অজানা পরিবেশকে ।



কিছুক্ষন পর বিমানে স্বল্প কজন সুইডিশ যাত্রীর সাথে নেমে আসলাম আমরা কিছু বাংলাদেশী।দরজার সামনে এসে দাড়িয়ে প্রথম টের পেলাম ঠান্ডা আর শীতের কামড় কাকে বলে । ভাগ্য ভাল বিমান থেকে বের হবার আগেই আমি গায়ে এই প্রথম ওভারকোট নামে একটি বিশাল বস্তু গায়ে চাপিয়ে দিয়েছিলাম ।যার কারনে ঠান্ডার কামড় থেকে শরীর কোন মতে বাচঁলেও বিমানের সিড়ি থেকে নেমে কিছু দূরে অপেক্ষামান বাসে পৌছাঁনোর আগেই গ্লাভস বিহীন হাতে জমে বরফ আর কান যেন ঠান্ডায় ভোঁ ভোঁ করছিলো। এই প্রথম জীবনে টের পেলাম ১ ডিগ্রী তাপমাত্রা কাকে বলে ।

বাসে উঠে বসতেই আমাদের কজন যাত্রী নিয়ে মসৃন গতিতে ছুটে চললো বিশাল আরামদায়ক বাসটি খোলা প্রান্তরের মাঝ দিয়ে।আরলান্ডা এয়ারপোর্টি স্টকহোমের মূল শহরটি থেকে বেশ কিছুটা দূরে । এয়ারপোর্ট থেকে মূল শহরে পৌঁছুতে সময় লাগে প্রায় ৪০ মিনিটের মত।ঘুম ঘুম চোখে তাকালাম বাইরের অজানা প্রকৃতিকে দেখবার জন্য। সারা আকাশ মেঘলা সূর্যের কোন দেখা নাই । এই সময়টা মানে অক্টোবার মাস থেকে এই স্কান্ডিনেভিয়ান দেশগুলো তে নাকি একদিকে যেমন ঠান্ডা পড়তে শুরু করে অন্যদিকে তুষার পড়ে নাকি সব রাস্তাঘাট সব বন্ধ হয়ে যায়।



আমাদের ভাগ্য ভাল আবহাওয়া পূর্বাভাষে নাকি এখনও পর্যন্ত নাকি তুষার পড়ার কোন সম্ভবনা দেখা যায়নি । আর এখানকার জনগন ও খুবই নির্ভরশীল এই আবহাওয়া পূর্বাভাষের উপর কারন এদের অনুমান এতটাই বিজ্ঞান নির্ভর যে অতীতে এর ব্যতিক্রম নাই বললেই চলে।বাইরের খোলা প্রান্তরের বেশ কিছুদূর পর চোখে পড়ে খামারবাড়ি বিস্তীর্ন সবুজ প্রান্তর আর নানান রং এর পাতা যুক্ত বৃক্ষের সমাহার।অদ্ভুত সেই দৃশ্য ফুল ছাড়া শুধুমাত্র বাহারী পাতার সমারোহে প্রকৃতি যে এত সুন্দর হতে পারে সেটা চোখে না দেখলে বিশ্বাসই করতামনা।



কিছুক্ষন পর বাসটি মূল শহরের ভেতরে প্রবেশ করলে রাস্তার দুপাশে খোলা প্রান্তরের চেহারা বদলে গেলো । বিস্তীর্ন সবুজ প্রান্তর, ফার্ম হাউস আর উইন্ডমিলের পরিবর্তে চোখে পড়লো বড় বড় দালানকোঠা যার বেশীর ভাগ পৃথিবীর নামকরা সব কোম্পানীর অফিস।



স্টকহোমের শহরের রাস্তাগুলো যেন এক বিশাল গোলকধাঁধার চক্কর ।শহরের বুকে রাস্তাগুলো যেন মাকড়সার জালের মত ছড়িয়ে আছে । কিন্ত সুশৃন্খল আর নান্দনিকতার ছোঁয়া নিয়ে ।মসৃন রাস্তাগুলোর উপরে বটবৃক্ষের মত ছায়া দিয়ে আগলে রেখেছে অসংখ্য ফ্লাই ওভার ।এখানে যারা গাড়ীচালক তাদের খুব সাবধানতার সাথে দেখে গাড়ী চালাতে হয় কারন একবার লেন ভুল করলে সঠিক রাস্তায় আসা অথবা পার্কিং এর জন্য লম্বা পথ পাড়ি দিতে হয় । সুইডিশরা জাতিগত ভাবে নিয়ম পালনে অভ্যস্ত তাই সড়কে কোন সমস্যা কারও খুব একটা হয়না।



রাস্তা ধরে আমাদের বাস এগিয়ে চলছে স্টকহোমের মসৃন রাস্তা ধরে তখন সকাল আনুমানিক ভোর ছয়টা বেজে ৩০ মিনিট ।রাস্তায় দেখলাম অসংখ্য গাড়ী ছুটে চলেছে। জিজ্ঞেস করে জানতে পারলাম সপ্তাহের দুইদিন বাদে বাকী পাঁচ দিন এরা খুব ভোরে প্রায় ০৫৩০ থেকে বাসা থেকে বের হয় কাজের উদ্দেশ্যে

প্রথম পর্ব শেষ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/29043886 http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/29043886 2009-11-15 15:29:38
স্টকহোমের একটি অন্যরকম সন্ধ্যা

সিগারেট আর গরম কফির ধূমায়িত পর্দার ভেতর দিয়ে আবারো ভালভাবে দেখার চেষ্টা করলাম তার সমাগত বার্ধক্যর পেছনের সেই সত্তর দশকের উদ্দাম এক যুবকের ছবি । ভদ্রলোক বলেই চলেছেন তার সেই স্বাধীনতা পূর্ব এবং পরবর্তী মুক্ত স্বাধীন দেশের কথা । তার দেশপ্রেম আর রাজনৈতিক গভীর বিশ্বাসের আর আদর্শের কথা । সময় যে কখন সন্ধ্যা পেরিয়ে গভীর রাতে এসে পৌছেঁ গেছে একদম টের পাইনি । আসলে গত দুদিন হল এই স্টকহোমে এসেছি । এখানে আসার পর থেকেই দিনের তাপমাত্রা শুন্য থেকে বড়জোর ২ ডিগ্রীর মধ্যে উঠানামা করছে আর সারাদিন আকাশ মেঘলা । এইখানে যেন হঠাৎ করে নামে রাতের আধাঁর । আর সে কারনেই স্টকহোমের হালুনদায় এই নিরভানা রেস্তোরায় এসে কখন যে গভীর রাত সমাগত টেরই পেলাম না । ঘড়ির দিকে তাকাতে ভদ্রলোক বলে বসলেন আজ তবে থাক আপনারা হয়ত ক্লান্ত আরেকদিন না হয় সেই অতীতের কথা বলা যাবে । কিন্ত সময়ের চেয়ে আমাদের তার সেই অতীতের সংগ্রাম তার গভীর দেশপ্রেম আর রাজনৈতিক বিশ্বাসের কথা জানার আগ্রহ ছিলো প্রবল ।তাই আবার আমাদের সম্মতিতে তিনি শুরু করলেন তার নিজের কথা বলার ।

আজকের এই স্বল্প ব্লগীয় পরিসরে হয়ত সম্ভব হবেনা তার জীবনের কথামালা সম্পূর্ন প্রকাশ করার । যদিও আমি ব্যক্তিগতভাবে কোন রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত নই বরং মাঝে মাঝে মনে হত আমার এই যারা রাজনীতি করে তাদের হয়ত কোন কাজ নেই বলে এসব করে বেড়ায়। কিন্ত সেই ভদ্রলোক আমার এই ধারনা সেদিনের স্টকহোমের প্রানবন্ত সন্ধ্যায় সম্পূর্ন বদলে দিলেন । দেশের প্রতি কি গভীর ভালোবাসা আর মমত্ব বোধ নিয়ে আজও তিনি বেঁচে আছেন সেই সূদুর সুইডেনের স্টকহোমে। হয়ত সেই পচাঁত্তরের কালো রাত বাংলাদেশের আকাশে ঢাকা না পড়লে তার মত অজস্র নিবেদিত কর্মীরা দেশছাড়া হতনা । হয়ত তারা আজ মাথা উঁচু করে এদেশে বাস করতেন। সেদিন তারা পরাজিত যোদ্ধার ন্যায় দেশত্যাগ করেছিলেন যার মর্ম যাতনার পরিষ্কার ছাপ আজও তার বাধর্ক্যের বলিরেখায় পরিষ্কার ফুটে উঠে । কথা প্রসংগে তিনি আক্ষেপ করে বললেন সেই অতীতের ন্যায় এই বর্তমানে আজ আর তার নিজ দল বা অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোতে নিঃস্বার্থ কোন রাজনৈতিক কর্মীকে খুঁজে পাওয়া যায়না । এই বিদেশের মাটিতেও দেখা যায় দেশের রাজনীতি নিয়ে নিজেদের মাঝে স্বার্থের হানাহানি আর নিজ দেশকে বিদেশের মাটিতে ছোট করা । রাজনীতি নিয়ে তিনি আজ আর স্বপ্ন তেমন একটা দেখেননা নাকি স্বপ্ন ভংগের ভয়ে দেখার ইচ্ছে করেননা সেই প্রশ্ন আর তাকে করা হয়নি।

হাজার হতাশার মাঝেও উপস্থিত বাংলাদেশী রা দুটো প্রশ্ন করলেন অনেক আগ্রহ নিয়ে । প্রথমত তারা জানতে চাইলেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসংগে আর বংগবন্ধু হত্যার বিচার প্রসংগে । মনে হচ্ছিলো আমরাই যেন তাদের কাছে বাংলাদেশ সরকারের মুখপাত্র । তবে এই দুটি বিষয় নিয়ে তাদের মাঝে আগ্রহ আর আশার আলো ছিলো । এক সময় রাতের খাবারের শেষ হবার সাথে সাথে রাতের গভীরতা বেড়ে চললো । একে একে চারপাশের সব টেবিল ফাঁকা হয়ে আসলো । শুধু আমরা কজন বিভিন্ন বয়সের বাংলাদেশী রা মিলে বসে থাকলাম । একসময় শুভরাত্রি জানিয়ে বেরিয়ে আসলাম নিরভানা রেস্টুরেন্ট থেকে । বারান্দায় দাঁড়িয়ে হোটেলের মালিক সেই ভদ্রলোকের সাথে ছবি তুললাম । বাংলাদেশে তাকে আসবার আমন্ত্রন জানালাম ।

গভীর শীতের রাতের কনেকনে ঠান্ডা বাতাসে ওভারকোট টা গায়ে চাপিয়ে তাড়াতাড়ি করে গাড়িতে উঠে বসলাম , গন্তব্য গ্রান্ড হোটেল । গাড়িতে হালকা সুরে বাংলা গান হচ্ছিলো । আর আমার মন যেন তখনও সেই নিরভানার টেবিলে পড়ে ছিলো । কানে তখন প্রতিধ্বনিত হচ্ছিলো সেই ভদ্রলোকের কথাগুলো । আমাদের অতীত ইতিহাস কবে লেখা হবে সঠিকভাবে ? কবে আমরা সব পন্কিলতা থেকে নিজেদের মুক্ত করতে পারবো ? কবে আমরা আমাদের সেই সত্যিকারের সোনারবাংলা কে খুঁজে পাবো ?
অনেকগুলো প্রশ্ন উত্তরগুলো কিভাবে দিবো তা জানিনা । শুধু জানি আমি গভীর প্রত্যয়ের সাথে সেই ভদ্রলোককে বাংলাদেশে ফিরে যাবার আমন্ত্রন জানিয়েছি । কারন তারা যেই দেশকে একদিন সংগ্রাম করে মুক্ত করেছে কিন্ত সময়ের ঘাত প্রতিঘাতে আজ তারা দেশ ছাড়া । আজ আমরা এই প্রজন্ম আবার সেই সময়ের প্রয়োজনে রুখে দাড়িঁয়েছি সেই সব মুখচেনা হায়েনার বিরুদ্ধে । আজ তাই আবার সময় এসেছে তাদের ঘরে ফেরবার যে ঘর তারা রক্তের দামে কিনেছিলো একদিন।

আর মাত্র কয়েকটা দিন তারপর স্টকহোমকে বিদায় জানিয়ে আবার দেশে ফিরে যাবো । আর হয়ত কখনো এই হালুনদার নিরভানা রেস্টুরেন্টে ফিরে আসা হবেনা । কখনো হয়ত এই টেবিলে বসে সেই দীর্ঘ দিন ঘরছাড়া মানুষগুলোর সাথে কথোপকথন হবেনা । কিন্ত তাদের ভালোবাসা আর দেশপ্রেমের সজীবতাকে এই বুকে ধারন করে যখন দেশে ফিরবো । তখন হয়ত অপেক্ষা করব সেই ঘরছাড়া মানুষ গুলোর ঘরে ফেরার অপেক্ষায় । ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/29038415 http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/29038415 2009-11-06 00:07:01
সুইডেনের স্টকহোম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা ?

কিছু দিন পর সুইডেনের স্টকহোমে কয়েকদিন থাকা হবে । কিন্ত এই দেশটি এবং এর রাজধানী সম্পর্কে আমার জ্ঞান ইন্টারনেট পর্যন্ত। তাই সুইডেন প্রবাসী কোন ব্লগার বা সুইডেন ভ্রমন করেছেন এমন কেউ থাকলে দয়া করে কয়েকটি তথ্য দিলে আমার বেশ উপকার হত ।

১। স্টকহোমে দর্শনীয় কোন কোন স্থানগুলো দেখা যেতে পারে এবং এইসব স্থানে যাবার ব্যবস্থা কি ? খরচ ডলারে কেমন পড়তে পারে ?

২।স্টকহোমে হোটেলের থাকার খরচ কেমন হতে পারে এবং এক্ষেত্রে মোটামুটি কম খরচে ভাল কোন হোটেল থাকলে তার নাম ?

৩। স্টকহোমে ইংরেজীর ব্যবহার কেমন ?

৪। স্টকহোমে কম খরচে মানসম্মত এবং হালাল খাবার কোথায় পাওয়া যেতে পারে ?

এছাড়া আরো কোন ভাল তথ্য থাকলে সেটা বোনাস হিসেবে আমার পাওনা থাকলো । আর উত্তরের জন্য আগাম ধন্যবাদ ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/29016612 http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/29016612 2009-09-27 19:59:47
মসজিদের দানবাক্স


মসজিদের দানবাক্স জিনিষটি আমাদের সবার কাছে খুবই পরিচিত একটি বস্তু । বিভিন্ন নামাজের আগে ও পরে এই দানবাক্সের হাতবদল হয় মুসল্লীদের মাঝে । আবার কখনো বা দেখা যায় খুতবার সময়ে ও এই বাক্সর গতি রুদ্ধ হয়না । আজ দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় মসজিদের এই দানবাক্সকে নিয়ে একটি শিক্ষামূলক ও চমকপ্রদ প্রবন্ধ পড়লাম । এই বিষয়টি আশা করি বাকীদের ও ভাল লাগবে । নিচের লিন্ক থেকে সংবাদটি আপনারা পড়ে দেখতে পারেন ।

মসজিদের দানবাক্স ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/29000897 http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/29000897 2009-08-28 12:22:24
হজ্বের সেই দিনগুলো - ৯ম পর্ব


উসতানে আয়েশা বা আয়েশার স্তম্ভ

এই স্তম্ভটির অবস্থান ছবিতে চিন্হিত স্থানে অবস্থিত। এই স্তম্ভটি উসতানে মোহাজিরীন বা মোহাজিরীনের স্তম্ভ নামেও পরিচিত কারন এখানে মদিনার মোহাজিরীনরা সাধারনত বসত।এই জায়গায় প্রথমদিকে হজরত মুহাম্মদ (সা: ) নামাজ পড়তেন পরে তিনি এই স্থানের পরিবর্তে উসতানে হান্নানাহ এর নিকটে নামাজ পড়া শুরু করেন।এই স্তম্ভ নিয়ে যে কাহিনীটি জানা যায় তা হল হজরত মুহাম্মাদ (সা: ) এর ওফাতের পর বিবি আয়েশা (রা: ) সর্বপ্রথম এই স্তম্ভর সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেন যে নবিজী (সা: ) এই স্তম্ভের বিষয়ে তাঁকে একদা বলেছিলেন যে এই মসজিদে নব্বীতে এমন এক জায়গা আছে যার ফজিলত এতই বেশী যে মানুষ যদি তা জানত তাহলে সেই স্থানটিতে নামাজ পড়ার জন্য লটারী ধরার জন্য লাইন ধরতো । অনেক এই স্থানটি তাঁকে দেখিয়ে দেওয়ার জন্য বললেন তিনি রাজী হননি কিন্ত হজরত আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের (রা: ) বারংবার অনুরোধে অবশেষে তিনি সেই স্থানটি দেখিয়ে দেন ।এই স্তম্ভের কাহিনীটি যেহেতু তিনি প্রথম বর্ননা করেন এবং তিনিই স্থানটি দেখিয়ে দেন তাই তার নামানুসারে স্তম্ভটির নামকরন করা হয়।

উসতানে তাওবাহ বা গুনাহ মাফের স্তম্ভ

এই স্তম্ভ আবু লুবাবাহ এর স্তম্ভ নামেও পরিচিত । হজরত আবু লুবাবাহ ছিলেন নবীজি (সা: ) সাহাবীদের একজন অন্যতম সাহাবী । মুসলমানদের সাথে বানু কুরায়জা নামক ইহুদী গোত্রে সাথে যুদ্ধ চলছিলো তখন এক পর্যায়ে মুসলমানরা এই গোত্রের সকলকে দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ করে রাখে ।একপর্যায়ে তিনি নিজের ধৈর্য্যর বাঁধ ভেংগে যুদ্ধাস্ত্র ত্যাগ করতে উদ্যত হন । যুদ্ধের পূর্বে এই গোত্রের ইহুদী দের সাথে তার সম্পর্ক ছিলো বিধায় তাকে ইহুদীরা ডেকে নিয়ে যায় তিনি সেই গোত্রে পৌঁছুলে ইহুদীরা তার সাথে প্রতারনার আশ্রয় নিয়ে তার সামনে কান্নায় ভেংগে পড়ে এবং আহাজারি করতে থাকে এবং একপর্যায়ে তারা সাহাবী হজরত আবু লুবাবাহ কে জিজ্ঞেস করে যে তাদের ভাগ্যে রাসুলুল্লাহ (সা: ) কি নির্ধারিত রেখেছেন । তাদের প্রতারনা বুঝতে না পেরে তিনি ইশারায় গলার সামনে হাত দিয়ে বুঝিয়ে দেন তাদের কতল করা হতে পারে । সেখান থেকে ফিরে এসে তিনি গোপন পরিকল্পনার কথা ফাঁস করে দেওয়ার অনুশোচনায় নিজেকে এই স্থানে অবস্থিত একটি খেঁজুর গাছের সাথে বেঁধে বলেন যতক্ষন না আল্লাহ তাকে এই কৃত গুনাহ থেকে ক্ষমা না করবেন ততক্ষন পর্যন্ত তিনি এই বাঁধন খুলবেননা । এই খবর যখন নবীজি (সা: ) কাছে পৌঁছুলো তিনি বললেন "যদি লুবাবাহ আমার কাছে আসতেন এই বিষয়ে তাহলে আমি তার গুনাহর জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতাম কিন্ত যেহেতু সে আল্লাহর কাছ থেকে সরাসরি ক্ষমা প্রার্থনা আবেদন করেছেন ।তাই আল্লাহ ক্ষমা না করা পর্যন্ত কিভাবে আমি তার বাধঁন খুলে দিতে পারি "

এইভাবে হজরত আবুলুবাবাহ (রা: ) বেশ কয়েকদিন কোনপ্রকার পানীয় এবং খাদ্য ছাড়া ছিলেন শুধুমাত্র নামাজ এবং প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেবার জন্য তার স্ত্রী এবং মেয়ে তার বাধঁন খুলে দিতো এবং কাজ শেষে আবার আগের মত তাকে বেঁধে রাখতো । এভাবে তার শ্রবননেন্দ্রিয় এবং দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হতে লাগলো । অবশেষে একদিন সকালে তাহাজ্জুদের নামাজের শেষে উম্মে সালামা (রা: ) ঘরে রাসুলুল্লাহ এর কাছে আল্লাহ অহী পাঠিয়ে সাহাবী হজরত আবু লুবাবাহ (রা: ) তওবা কবুলের ঘোষনা দিলেন। এই খুশীর সংবাদ নিয়ে যখন অন্যান্য সাহাবীরা তার বাধঁন খুলে দিতে চাইলেন । সাহাবী আবু লুবাবাহ (রা: ) বললেন যতক্ষন না পর্যন্ত রাসুলু্ল্লাহ স্বয়ং তার পবিত্র হাতে বাধঁন খুলে না নিবেন ততক্ষন পর্যন্ত তিনি নিজেকে মুক্ত করবেননা । অবশেষে ফজরের নামাজের সময় নবীজি (সা: ) মসজিদে নব্বীতে প্রবেশ করে তাকে বাধঁন মুক্ত করলেন । এই স্তম্ভটি তাই গুনাহ মাফের জন্য অত্যন্ত বরকতময় একটি স্থান হিসেবে মুসলিমদের কাছে পরিচিত ।



উসতানে আলী বা আলীর স্তম্ভ

এই স্থানে অবস্থিত স্তম্ভের নিকটে সাধারনত সাহাবী গন মসজিদে নব্বীর প্রহরীর দায়িত্ব পালন করতেন। এবং বেশীর ভাগ সময় এই দায়িত্ব পালন করতেন হজরত আলী (রা: )।


উসতানে শারীর বা বিশ্রামের স্তম্ভ

এই স্থানে অবস্থিত স্তম্ভের নিকটে রাসুলুল্লাহ (সা: ) ইতিকাফের সময় অবস্থান করতেন এবং বিশ্রাম করতেন । এই স্থানটি তার ইবাদতের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে বিধায় স্থানটি সেদিক থেকে বেশ তাৎপর্যপূর্ন এবং পবিত্র ।

উসতানে তাহাজ্জুদ

এই স্থানে অবস্থিত স্তম্ভের নিকটে রাসুলুল্লাহ (সা: ) এর জন্য গভীর রাতে একটি চাদর পাতা থাকতো সেখানে তিনি তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করতেন ।এবং কথিত আছে এই স্থানেই তিনি যখন পরপর তিন রাত্রি তারাবীহ নামাজ আদায় করেছিলেন । তখন তার পেছনে একাধারে এই তিন রাত্রি সাহাবীরা তা র পেছনে জামাতে দাড়িয়ে তার সাথে নামাজ পড়া দেখে তিনি ৪র্থ রাতে আর আসেন নি এই ভয়ে যে এই নামাজ আবার আল্লাহ পাক তার উম্মতের জন্য ফরয করে দেন ।

উসতানে ওফুদ

এই স্থানে অবস্থিত স্তম্ভের নিকটে সাধারনত রাসুলুল্লাহ (সা: ) তার সাথে দেখা করার জন্য আগত বিভিন্ন দেশের বা গোত্রের প্রতিনিধিদের সাথে দেখা করতেন ।


উসতানে জীবরীল বা জীবরীলের স্তম্ভ

এই স্থানে অবস্থিত স্তম্ভের নিকটে দিয়ে জীবরীল (আ: ) অহী নিয়ে নবিজীর কাছে আসতেন।

এই রিয়াজুল জান্নাতের মধ্যে প্রতিটি স্তম্ভের সাথে জড়িয়ে আছে এক একটি ইতিহাস আর আল্লাহ পাকের অশেষ রহমত এবং বরকত । তাই প্রতিদিন আগত হাজীদের ঢল লেগেই থাকে এই বিশেষ জায়গায় কোনমতে শুধু ২ রাকাত নামাজ পড়ে নিজের গুনাহ মাফ করার এক প্রবল বাসনার। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/28996159 http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/28996159 2009-08-19 01:49:07
উগান্ডার গল্প- শেষ পর্ব


এখানে বলে রাখা ভাল একটি কথা । উগান্ডার একটি বড় আয় আসে ইউ এনের থেকে। কারন এই দেশে ইউ এন তাদের লজিস্টিক বেইস তৈরী করেছে । এবং এই বেইস ক্যাম্প থেকে মূলত সমস্ত রসদ এবং সেনাসদস্যদের বহনকারী বিমানগুলো আফ্রিকার কংগো , সুদানসহ বেশ কটি দেশে ইউএনের পরিচালিত শান্তিরক্ষীবাহিনীগুলোতে অংশ নিয়ে থাকে ।এই বেইস ক্যাম্প এবং ইউ এনের রসদ সরবরাহকারী বিভিন্ন কোম্পানীগুলোর বিমানের উঠানামায় সারাক্ষন সরগরম থাকে এই এনটিব্বি এয়ারপোর্ট । এছাড়া বিভিন্ন দেশের থেকে আগত জাতিসংঘের পরিদর্শক দল এবং প্রচুর সংখ্যক সামরিক বেসামরিক কর্মকর্তা কর্মচারীগন অবকাশ যাপনের জন্য সময় পেলে ছুটে আসে এই ভিক্টোরিয়া লেকের তীর ঘেঁষা অবকাশ যাপন কেন্দ্রগুলোতে ।আর এই সব কিছু থেকে দারুনভাবে উপকৃত হচ্ছে উগান্ডার অর্থনীতি এবং এখানকার জনসাধারন ।



শপিং মল থেকে কিছুক্ষন পর বেরিয়ে আসলাম রাস্তায় ।আবার আমাদেরকে নিয়ে ট্যাক্সি ছুটে চললো কাম্পালার ন্যাশনাল থিয়েটার এর উদ্দেশ্য।এখানে আসার পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিলো এদেশীয় কিছু কারুশিল্প জাতীয় কিছু কেনাকাটার । ট্যাক্সি ড্রাইভার জানালো এখানে ন্যশনাল থিয়েটারের পেছনের লনে মূলত গ্রামের মহিলাদের হাতে বানানো কারুশিল্পের পন্য বেচাকানার একটা মার্কেট গড়ে উঠেছে । তবে সে না বললেও আমরা আকার ইংগিতে বুঝে নিলাম যে এখানেও ক্রেতা এবং বিক্রেতার মাঝে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয় দরদাম নিয়ে । আমরা সেই বুঝে প্রস্ততি নিলাম। তবে তার আগে আমরা ন্যাশনাল থিয়েটার টা আগে একটু ঘুরে দেখলাম ।দেখে মনে হল অনেকটা আমাদের দেশে বেইলী রোড অথবা টিএসসির চত্বরে যেমন ছেলেমেয়েদের আড্ডা চলে সারাক্ষন বিভিন্ন বিষয়ে । এখানেও পরিবেশটা একই মনে হল ।শুধু এই যা তারা ইংরেজী আর কেউ আন্চলিক আফ্রিকান ভাষায় কথা বলছে । আমাদের গ্রুপটিকে দেখে তারা অনেকই সম্ভাষন জানালো এবং তাদের আচরনে বেশ আথিত্যসুলভ আচরন দেখে ভাল লাগলো আমাদের ।থিয়েটার বিল্ডিংটা দেখে আমরা একটু তাড়াতাড়ি চলে গেলাম আমাদের মূল কাজে ।



পেছনের পরিবেশটা দেখে মন ভাল হয়ে গেল । সবুজ চত্বরে বেশ সাজিয়ে গুছিয়ে অনেকগুলো সুন্দর ভিলা শেপের দোকান । প্রতিটিতে অসংখ্য রকম এবং ধরনের কারুপন্যর পসরা সাজিঁয়ে বসে আছে দোকানীরা যার আবার অধিকাংশ মহিলা। দোকানগুলো আগে লাইন ধরে দেখা শুরু করলম ।



পন্যর ভেতরে চোখে পড়লো নানা আকৃতি এবং ধরনের মুখোশ ,নানা ধরনের ঢোল যেটা মূলত আফ্রিকান কংগো নামে পরিচিত এছাড়া আছে নানাধরনের হাতে তৈরী পুতুল এবং নানা বর্নের আফ্রিকান পোশাক এবং ফতুয়া ।






এছাড়াও আছে নানা রং এর পুতিঁ মালা,কাঠের তৈরী আফ্রিকান মানুষের মূর্তি,মহিলাদের পার্স আর আছে গৃহস্থালি ব্যবহার্য কাঠের তৈরী নানা ধরনের জিনিষ।ছবিতে দেখলে একটা আইডিয়া করা যায় যে এক একটা ছোট্ট দোকানে কত ধরনের জিনিষ দেখা মেলে।




যাই হউক সবশেষে শুরু হল সবচেয়ে একঘেঁয়ে পর্ব অর্থাৎ দরদাম করা । যদিও এই বিষয়ে আমি বরাবর বেশ মজা পাই কারন বিষয়টিতে কেমন জানি একটা ডিপ্লোমেটিক গন্ধ আছে । আর ব্যবসায়ী ঘরানার সন্তান বলে হয়ত রক্তের মধ্যে বিষয়টি ঢুঁকে গেছে ।অনেক দরদাম করে আমরা কিনলাম বেশ কিছু জিনিষ যার মধ্যে আছে কাঠের তৈরী পুতুল,মুখোশ আর কিছু শোপিস জাতীয় জিনিষ।বেশ দরদাম করাতে এক মহিলা দোকানী তো আমাকে বলেই বসলো আমি নাকি খুব দরদাম বুঝি ।যাই হওক মন্তব্যটা প্রসংশা না নিন্দনীয় ঠিক বুঝতে পারলামনা কিন্ত মনের মত জিনিষ কিনতে পেরেছি এই আনন্দে মার্কেট থেকে বেরিয়ে এসে আবার ট্যাক্সিতে উঠলাম এবং সেদিনকার মত ভ্রমন শেষ করে ফিরে চললাম আপন নিবাসে মানে আমাদের রেস্ট হাউসে।

রেস্ট হাউসে ফিরে এসে কিছুক্ষন টিভি রুমে কাটালাম ।এরপর কিছুক্ষন রেস্ট নিয়ে আবার বেরিয়ে পড়লাম রাতে লেক ভিক্টোরিয়া কে উপভোগ করার লোভে ।রেস্ট হাউস থেকে খুব বেশী হলে লেকের তীর ১৫০ গজ দূরে।রেস্টা হাউসের লোহার গেট পেরুতেই চোখেমুখে এসে লাগলো ঠান্ডা বাতাসের ঝাপটা ।



সামনে সীমাহীন কালো আধারের অসীমতা নিয়ে লেক ভিক্টোরিয়া যেন আমাদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে। দূরে কিছু রেস্ট হাউস আর হোটেলের আলো দেখা যাচ্ছে । অনেক দূরে বাতাসের ঝাপটার সাথে থেমে থেমে বেশ কিছুক্ষন পরপর আফ্রিকান মিউজিকের শব্দ ভেসে আসছে । অদূরে লেক ভিক্টোরিয়ার তীরে বেন্চে বসে আছে এক যুগল । তাদের কে বিরক্ত না করে আমরা ৩জনআরো কিছু দূর এগিয়ে গিয়ে ভিক্টোরিয়া লেকের পাশে এক রেস্ট হাউস কাম হোটেলের লনে গিয়ে বসলাম। লেকের ঠান্ডা বাতাসে চুলগুলো এলোমেলো হচ্ছিলো বারবার আর অসম্ভব এক ভালোলাগা আমাদের ৩জন কে যেন বিমোহিত করছিলো ।হালকা আফ্রিকান কন্গো মাদকতায় সূরের মূর্ছনায় আমরা যেন হারিয়ে যাচ্ছিলাম কোন এক অচেনা জগতে । হঠাৎ করে পেটের টানে আবার আমরা ফিরে আসলাম বাস্তবতায় ,দেরী না করে অর্ডার দিলাম প্রত্যকের জন্য একটা করে বিশাল ফ্রাইড তেলাপিয়া সাথে ফ্রেন্চ ফ্রাই আর সালাদ এবং একটি করে কোমল পানীয়। এই তেলাপিয়া মাছ হচ্ছে এখানকার একটি স্পেশাল আইটেম ।সরাসরি লেক ভিক্টোরিয়া থেকে এই মাছ চলে আসে হোটেলের ক্রেতার প্লেটে ।




রাতের তারাভরা আকাশে হুহু করা মন ঠান্ডা করা লেক ভিক্টোরিয়া তীরে হোটেলের লনে বসে বিশাল ভাজা তেলাপিয়া মাছ খাওয়ার সেই স্মৃতি এবং মাছের স্বাদ কখোনোই ভুলতে পারবোনা ।এখনও চোখ বন্ধ করলে সেই অপূর্ব রাতটির কথা মনে পড়ে । এখন ও যেন সেই লেক ভিক্টোরিয়া আমাকে হাতছানি দিয়ে ডাকে ।সেদিনের রাতে আমরা ডিনার সাংগ করে অনেকক্ষন বেরালাম লেকের ধার ঘেঁষে।তারপর রাত গভীর হয়ে এলে আমরা ফিরে চললাম রেস্ট হাউসে কারন পরদিন সকালে আবার বেরিয়ে পড়তে হবে নীল নদের উৎস আর বুজাগালি ফলস দেখবার জন্য ।

পূনশ্চ: নীল নদের উৎস আর বুজাগালি ফলসের উপর এর আগেই আমি লেখেছি তাই উৎসাহী ব্লগাররা সেটা আমার প্রথমদিকের পোস্টে পেয়ে যাবেন ।আর এখানেই আমার উগান্ডার ভ্রমন শেষ করে আমি দুদিন বাদে ফেরত যাই আমার নিজ কর্মস্থলে ।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/28987321 http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/28987321 2009-08-01 22:59:17
উগান্ডার গল্প-১


দুবাই এয়ারপোর্টে দীর্ঘক্ষনের যাত্রাবিরতির পর যখন নামলাম এনটিব্বিতে মন চাইছিলো রেস্ট হাউসে কখন পৌঁছে একটা লম্বা শাওয়ার নিবো ।এরপর এক মগ গরম কফি খেয়ে লম্বা একটা ঘুম। কারন আজকের ইউ এনের বিশেষ বিমানেই আবার রওয়ানা দিতে হবে উগান্ডা থেকে কন্গোতে।

এনটিব্বি এয়ারপো্র্টে চেকিং শেষ করে বের হতে হতে প্রায় ১ঘন্টা লেগে গেল। এয়ারপোর্টের বাইরে সে আরেক হুলুস্থুল কান্ডকারখানা চলছে । যাত্রীদের নিজেদের হোটেলে নেয়ার জন্য বেশ কিছু গাইড এবং ট্যাক্সিচালক তুফানমেইলের মত মুখস্ত বিজ্ঞাপনের আসর জমিয়ে বসেছে । আমাকে ধরলো ৪/৫ জনের একটি দল কিন্ত কিছুক্ষনের মধ্যই ৪ জন রনে ভংগ দিলো ।বাকী একজনের বড়শীতে আমি নিজেকে সাবধানে আটকিয়ে শুধু ট্যাক্সি ভাড়া করলাম ১৬০০০ শিলিং কারন আমার রেস্ট হাউস পূর্ব থেকেই নির্ধারিত ছিলো।ড্রাইভারকে রেস্ট হাউসের কথা বলতেই সে সহজেই চিনে নিলো । কারন এখানকার মানে এনটিব্বিতে অধিকাংশ রেস্ট হাউস গড়ে উঠেছে বিখ্যাত ভিক্টোরিয়া লেকের পাশে। অবশেষে প্রায় ২৫ মিনিটের ছোট্ট ট্যাক্সি ভ্রমন শেষে পৌঁছালাম আমার রেস্ট হাউসে।



এখানে আগেই এসে পৌঁছেছিলো বেশ কজন সহকর্মী,তাদের সাথে দেখা হল। সংক্ষিপ্ত আলাপ শেষ করে শাওয়ার নিতে ঢুকলাম বাথরুমে ।তড়িঘড়ি করে শাওয়ার শেষে কিচেনরুমে গিয়ে সৌভাগ্য বশত: এক মগ কফি পেয়ে গেলাম। বারান্দায় যেয়ে আরাম করে ইজি চেয়ারে গা এলিয়ে তাকালাম লেক ভিক্টোরিয়ার দিকে ।যদিও নামে লেক কিন্ত দৃষ্টিসীমার কাছে এ যেন এক সাগর ।যতদূর চোখ যায় সামনে শুধু পানি আর সেই পানির রং আকাশের কালো মেঘের সাথে সুর মিলিয়ে কালো ছায়ার মত যেন সমগ্র লেকের পানিতে ছড়িয়ে আছে




বারান্দা থেকে দাড়িঁয়ে দেখলাম কিছু স্কুলের ছেলেমেয়েরা এসেছে সম্ভব্ত লেকের উপর কোন শিক্ষামূলক কারিকুলামে অংশ নিতে ।একজন শিক্ষিকা কি যেন বলছে বাকীরা মনযোগ দিয়ে শুনছে আর নোটবুকে কি যেন টুকে নিচ্ছে। এদের শিক্ষাব্যবস্থার ধরনই অন্যরকম একেবারে হাতেকলমে এরা সরাসরি শিক্ষাগ্রহন করে।একটু পর এই দল চলে গেলে লেকের বিচসাইড এক্কেবারে ফাঁকা হয়ে গেল ।দূরে দেখা যাচ্ছে শুধু কিছু বিশাল বক জাতীয় পাখি অনেকটা আমাদের দেশে ধনেশ পাখির মত দেখতে ।সেগুলো এক পা উচুঁ করে কিছুক্ষন পরপর মাছ তুলে খাচ্ছে আর ধ্যানে বসছে,দূরে লেক সাইডের বেন্চে একাকী এক মেয়ে বসে আছে।চারিদিক কেমন যেন সবকিছু ভীষন নিরব আর মন্হর এই পরিবেশ।




এরই মাঝে খবর এলো ইউ এনের বেইস ক্যাম্প থেকে।আজকের বিশেষ বিমান যেটি বিকালে কাম্পালা থেকে কন্গোর কিনশাসা যাওয়ার কথা ছিলো সেই ফ্লাইট খারাপ আবহাওয়ার জন্য স্থগিত করা হয়েছে এবং পরবর্তী ফ্লাইট ২দিন পর রওয়ানা হবে ।দেশ থেকে রওয়ানা হবার পর থেকেই মন ভীষন খারাপ ছিলো এই খবরটি যেন হঠাৎ করে ভাল করে দিলো সব কিছু।দেরী না করে হালকা একটু ঘুম দিয়ে শরীর টাকে হালকা এবং ঝরঝরে করে নিলাম।পরবর্তী মিশন সাথে সাথে ঠিক করে নিলাম কজন সহককর্মী মিলে ।এই ২ দিন আমরা সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে চেষ্টা করব কাম্পালা এবং এনটিব্বি সেইসাথে ভিক্টোরিয়া লেককে আবিষ্কার করার ।প্রথমে ঠিক হল কিছু হালকা কেনাকাটা বিশেষ করে এদের দেশের নিজস্ব সংষ্কৃতিও শিল্প বিষয়ক জিনিষ কিনবো।যেই ভাবা সেই কাজ আমরা ৪ জন মিলে বেরিয়ে পড়লাম অচেনা এক শহর কাম্পালার উদ্দেশ্যে।


আমরা রেস্ট হাউস থেকে বেরিয়ে রাস্তায় উঠে অনেকক্ষন যাবৎ দাড়িয়ে আছি বাস আসার অপেক্ষায় । উদ্দেশ্য ছিল এনটিব্বি থেক বাসে কাম্পালা পৌঁছে সেখান থেকে ট্যাক্সি নিয়ে সারা শহর ঘুরবো। এই কৌশলে কিছু পয়সা বাঁচিয়ে বেশী ঘোরা হবে ।কিন্ত অনেকক্ষন দাড়িঁয়ে কোন বাসের দেখা নেই । আমাদের পাশে অনেকক্ষন দাঁড়িয়ে থাকা এক স্থানীয় এক মহিলা নিজে থেকে এসে বিশুদ্ধ ইংরেজীতে জিজ্ঞেস করলো আমি আপনাদের কোন সাহায্য আসতে পারি ? আমরা যেন হাতে চাঁদ পেলাম । তাকে আমাদের পরিকল্পনা খুলে বলতেই তিনি আমাদের দেখিয়ে দিলেন কোথায় যেয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তাকে অনেক ধন্যবাদ জানিয়ে আমরা অবশেষে নির্ধারিত স্থান থেকে আমাদের বাস পেলাম আর ধন্যবাদ দিলাম সেই অচেনা মহিলাকে আমাদের যেঁচে এসে সাহায্য করার জন্য ।



এই কাম্পালা শহরটি মূলত পাহাড়ের উপর গড়ে উঠেছে ।এই শহরের রাস্তাগুলোর চড়াই উৎরাই গুলো এর প্রকৃষ্ট উদাহারন । আমরা অবশেষে বাসে কাম্পালা এসে পৌঁছে ট্যাক্সি স্টান্ডে ট্যাক্সি ভাড়া করলাম । ট্যাক্সিতে উঠার সময় প্রথমেই ড্রাইভার আমাদের জিজ্ঞাসা করলো আমরা কি ভারতীয় নাকি উত্তরে বললাম বাংলাদেশী সেটা না শুনেই সে সহাস্য বদনে আমাদের প্রস্তাবে রাজী হল। পেছনে ৩জন আমি বসলাম ড্রাইভারের পাশে মূলত গল্প করার লোভে। আমার একটা বদঅভ্যাস আছে যেখানেই যাইনা কেন সেখানকার মানুষের সাথে আমার গল্প করে সেখানকার সাধারন মানুষের নানা ঘটনা জানার একটা আগ্রহ সবসময় কাজ করে ভেতরে। এই শহরে যেটা প্রথমেই নজরে পড়ে এখানকার প্রতিটি রাস্তায় কম করে হলেও ২/৩ টি মিশনারী স্কুল বা হাই স্কুল চোখে পড়ে । ড্রাইভারের কাছ থেকে জানতে পারলাম এখানকার শিক্ষিতের হার নাকি অনেক বেশী ।একসময় সময় বুঝে তাকে জিজ্ঞেস করলাম সে আমাদের কেন প্রথমে জিজ্ঞেস করেছিলো যে আমরা ভারতীয় নাকি?উত্তরে সে বললো সে ভারতীয়দের ঘৃনা করে কারন সমগ্র উগান্ডার ব্যবসা বানিজ্য সবকিছু এখন নাকি এখানকার ভারতীয়দের হাতে ।ফলে নিজদেশে তারা নাকি এখন ভারতীয়দের তুলনায় কম সম্পদের মালিক ।এছাড়া বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ করে দোকানগুলোতে নাকি ভারতীয় মালিকরা তাদের দেশীয় লোকজনকে চাকরী দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।
আমরা যখন শহরে ঘুরছি তখনই খবর এলো কাম্পালা শহরে কোন এক এলাকায় বসবারত ভারতীয় দের সাথে সেখানকার স্থানীয় অধিবাসীদের সাথে ভীষন মারামারি লেগেছে।


আমরা ট্যাক্সি ড্রাইভারকে বললাম এখানকার সবচেয়ে বড় একটা শপিং মলে নিয়ে যেতে ।সে আমাদেরকে অল্প সময়ের ভেতরে গার্ডেন সিটি শপিং মলে নিয়ে এলো ।অবশ্য আকারে বড় হলেও আমাদের দেশের বসুন্ধরার মত নয় বরং অনেকটা চট্রগ্রামের নিউমার্কেটের মত মনে হল।সেখানে আমরা প্রথমে সম্পূর্ন মল ঘুরে নিলাম এর মাঝে এক কাপ কফি খেতে গিয়ে ভালই ধরা খেলাম।জানিনা বিদেশী বলে কিনা এক কাপ কফির দাম নিলো প্রায় ৫ ডলারের মত।



মল থেকে বেরিয়ে আসার আগে বাটা স্টোর থেকে একজোড়া সাফারি কেডস নিলাম ২৫ ডলারে ।
কারন আগে থেকে এই কেডসের প্রতি একটু দূর্বলতা থাকায় আর দেরী না করে কিনে নিলাম।



চলবে >>>>

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/28985530 http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/28985530 2009-07-29 10:07:34
মোবাইল ফোন না পিস্তল ?

দেখতে নিরীহ আর গোবেচারা হলেও একটি মোবাইল ফোনের অন্তরালে হয়ত লুকিয়ে থাকতে পারে একটি পয়েন্ট টু টু বোরের মারনঘাতী পিস্তল ।না বিষয়টি কোন অলীক কল্পনা নয় ।সম্প্রতি বিশ্বে সন্ত্রাসজগতে এই ধরনের নতুন একটি অস্ত্রের সংযোজন ঘটেছে। ঘটনাটি প্রথমবার নজরে আসে ইতালী পুলিশের ।তারা যখন একটি ইতালীর মাফিয়া পরিবারে রেইড করে তখন অস্ত্রটি তাদের হাতে আসে।এই অস্ত্রটি মূলত ইতালী নেপলসের এক ব্যক্তি প্রথম ডিজাইন বা তৈরী করেন।

অস্ত্রটি মানে পয়েন্ট টু টু বোরের পিস্তলটি সুকৌশলে একটি মোবাইল ফোনের ভেতরে স্থাপন করা হয়।এক্ষেত্রে পিস্তলটির ককিং লিভার টি রাখা হয়েছে সেল ফোনের ঠিক পিছনে । মোবাইল ফোনটি সুকৌশলে মাঝামাঝি জায়গায় স্লাইডিং করে খোলা যায় ।এবং একসাথে ৪টি বুলেট লোড করে, কী প্যাডের একসারিতে ৪টি বাটন টিপে ৪টি বুলেট পরপর ফায়ার করা যায়।অর্থাৎ কী প্যাডের এই বাটন গুলি ট্রিগার হিসেবে কাজ করে।এবং মোবাইলের ফোনের এন্টিনাটি ব্যারেল হিসেবে কাজ করে।এই মোবাইলে গায়ে একটি নকল ডিসপ্লে স্থাপন করা আছে যা এটিকে আরো বিশ্বাসযোগ্য করে তুলে একটি নিরীহি মোবাইল হিসেবে।



এই ধরনের অস্ত্রটি মোবাইলের ভেতর লুকানো থাকে বলে এখন বিশ্বের বিভিন্ন এয়ারপোর্ট এবং নিরাপত্তা স্থাপনাগুলোতে মোবাইল ফোন স্কানার এর মাধ্যমে পরীক্ষা করে ঢোকানো হচ্ছে।সাধারনত এই মোবাইলটি ওজনে কিছুটা ভারী হয় ।তাই এই ওজন বিষয়টি বাহ্যিকভাবে সন্দেহের উদ্রেক তৈরী করে বলে প্রাথমিকভাবে এটি সহায়তা করে নিরাপত্তাকর্মীদের চিন্হিত করতে । এই মোবাইলের একটি ভিডিও চিত্র দেয়া হল


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/28975726 http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/28975726 2009-07-09 14:22:49
MICHEAL JACKSON - YOU ARE NOT ALONE

হঠাৎ তোমার চলে যাওয়ার সংবাদ যেন বজ্রপাতের মত আচমকা আঘাত করল আমাকে ।কখোনো ভাবিনি তোমাকে এত দ্রুত আমরা হারাতে যাচ্ছি ।চেষ্টা করলেও ঠিক মনে আসেনা ছোটবেলায় ঠিক কবে তোমায় প্রথম দেখেছিলাম। কিন্ত আমার শৈশব থেকে শুরু করে তারুন্যে তুমি ছিলে আমার মানসপটে।তোমার গান আমাকে কাদাঁত,কখনো হাসাতো। বিদূৎ ঝলকের মত মন্চে তোমার আবির্ভাব যেন বারবার মনে করিয়ে দিতো ,তোমার তুলনা তুমি নিজেই ।মন্চে তুমি ছিলে ঈশ্বরের ন্যায় ক্ষমতাধর।




তোমার কন্ঠের জাদুতে লক্ষ লক্ষ নারী, পুরুষ শিশুর ন্যায় কান্নায় ভেংগে পড়ত।আবার কখনো বা আনন্দের অশ্রুতে সিক্ত হত ।তোমার এক একটি গান যেন ছিলো বিশ্ব মানবতার জন্য ।তাইতো তুমি ছিলে এই পৃথিবীর একান্ত আপন । আজ দেখো তোমার চলে যাওয়ার খবরে পৃথিবীর একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে,শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার হৃদয়ে একটাই কষ্ট গুমড়ে উঠছে তুমি নেই আমাদের মাঝে । তুমি ছিলে আমাদের সবার ।আমাদের প্রতিটি হৃদয়ের কান্না আর অব্যক্ত যন্ত্রনা তুমি শুনিয়েছিলে এই পৃথিবীর ক্ষমতাধর দের ।



এর মাঝেও জানিনা কি কারনে তুমি হয়েছিলে বিতর্কিত ,হয়ত তোমার প্রতি ঈর্ষায় অথবা তোমার ভুলেই তুমি জড়িয়ে পড়েছিলে কিছু ভুলভ্রান্তিতে । কিন্ত এতকিছুর পরও তুমি ছিলে আমাদের সবার মধ্যমনি । কিছুদিন আগে শুনেছিলাম তোমার বন্ধু ইউসুফের উপস্থিতিতে তুমি নাকি ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছো শুনে একজন মুসলমান হিসেবে কিছুটা খুশী হলেও আমি জানি তুমি সবার সব ধর্ম সব বর্নের মানুষের তুমি । তোমার ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট গান এর একটা বড় প্রমান । কিন্ত মনে মনে কিছুটা অভিমান করেছিলাম যখন দেখলাম তুমি তোমার নিজের গায়ের রং পরিবর্তন করে শ্বেতাংগ রুপ ধারন করেছো।যাই হোক এটা তোমার একান্তই ব্যক্তিগত বিষয় কিন্ত তোমার পরবর্তী গানগুলো শুনে আমার ভুল ভাংলো আমি যেন আবার তোমাকে আগের রুপেই ফিরে পেলাম।

তোমার দৃষ্টিভংগী ছিলো সবার চাইতে আলাদা । পৃথিবীর সবচাইতে ক্ষমতাধর রাষ্ট্রে বাস করেও তুমি ছুটে গিয়েছিলে তোমার গানের বিষয়বস্তুর সাথে মিল রেখে কখনো আফ্রিকা আবার কখনো বা ব্রাজিলের শহরপল্লীর আঙিনায়।তোমার নাচ তোমার গান যেন একে অপরের পরিপূরক । এক একটি গান যেন একটি পৌরনিক কাহিনী আবার কখনো বা একটি কঠিন বাস্তবতা





তুমি চলে গেলে জীবনের এমন একটি সময় যখন মানুষ আরো কিছুদিন বাঁচে । মানুষ বেঁচে থাকে নিজের প্রয়োজনে আর তোমার বেঁচে থাকার দরকার ছিলো আমাদের জন্যে ,এই পৃথিবীর জন্যে । এই প্রকৃতি ,এই নৈসর্গিকতা এই পৃথিবী আজ হারিয়েছে তার একজন প্রিয় সন্তান কে । আর কে আছে তোমার মত যুদ্ধবিরোধী আর পৃথিবী বাঁচানোর সংগ্রামে হ্যামিলনের মত গান গেয়ে উদ্ধুদ্ধ করবে আমাদের । এখনও কানে বাজে তোমার পৃথিবীকে নিয়ে EARTH গানটি ।



তুমি শিশুদের কে নিয়ে একটি বাসযোগ্য পৃথিবীর কথা বলেছিলে ।তুমি তোমার গানে প্রযুক্তি আর আবেগের সংমিশ্রনে স্বপ্ন দেখিয়েছিলে আমাদের কে এক যুদ্ধ আর হিংস্রতার বিপরীতে সুন্দর এক পৃথিবীর ।



তোমার গানে তোমার কন্ঠের আবেগ আর অপূর্ব ভংগীমায় তুমি নাড়া দিয়েছিলে আমাদের মানব স্বত্তাকে ।যুদ্ধের বিরুদ্ধে সেই We've Had Enough WAR গান এখনও কান পেতে শুনি ।



আজ তুমি নেই আর কখোনো তোমাকে আমরা ফিরে পাবনা আমাদের মাঝে । আজ আর তোমার পদচারনায় মুখরিত হবেনা পৃথিবীর মন্চ। তুমি শুধু আমরিকার নও মাইকেল তুমি আমাদের সবার । তোমার স্বপ্ন চির জাগরিত থাকুক এই পৃথিবীর মানুষের বুকে । তুমি আজ আমাদের সবাইকে ফেলে চলে গেছো তোমার স্বপ্নের পৃথিবীর কাছে । কিন্ত মনে রেখ মাইকেল সেখানে তুমি একা নও আমরা সমস্ত পৃথিবীর শান্তিকামী মানুষেরা আছি তোমার সাথে । তুমি তো গেয়ে শুনিয়েছিলে একদিন এই গান আজ যা তোমার প্রস্থানবেলায় তোমার স্মরনে উৎসর্গ করলাম মাইকেল । ভাল থেকো, যেখানেই থাক ,যত দূরে ।

YOU ARE NOT ALONE


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/28971533 http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/28971533 2009-06-30 02:41:28
সেভিংস ডে লাইট


গাড় অন্ধকারে ডুবে আছে ছোট্ট এই বেড়ার ঘরের চারধার । এর মাঝে কলিম উদ্দীনের সম্বল এই টিমটিমে আলো দেয়া সবেধন নীলমনি এক কূপি। অনেকদিন ধরে বাপের কাছে তার আব্দার ছিলো বড় গোছের একটা হারিকেনের । কিন্ত অভাবের সংসারে তার ঠেলাগাড়ি চালনো বাপের পক্ষে সেই আশা পূরন করা সম্ভব না । আর হবেই বা কিভাবে এই দূর্দিনের বাজারে কলিম উদ্দীনের স্কুলের খরচ চালাতে গিয়ে তার হিমশিম খাবার যোগাড় ,তার উপর আছে সংসারে পাঁচটা মুখের খাবার যোগানো । তাই কলিমের আর সেই হারিকেন এখনও কেনা হয়নি । সকাল হলেই বাপ যায় ঠেলাগাড়ি চালাতে আর মা বের হয় বাসাবাড়িতে ঝিঁয়ের কাজ করতে । কলিমের ছোট ৩ টি ভাইবোন সব মিলে সারাদিন বস্তির চারধারে ধূলায় লুটোপুটি খায় । এই সময়টা একমাত্র আল্লাহ তাদের দেখে থাকে ।

কলিম সকাল ১০টায় বেরিয়ে পড়ে স্কুলের পথে । আসতে আসতে তার প্রায় বিকেল। অবশ্য এখন সে আর স্কুলে যায়না বরং বস্তির ঝুপড়ি ঘরে এখন সে প্রস্ততি নিচ্ছে এসএসসি পরীক্ষার। কলিমের মনে পড়ে যায় এইত কিছুদিন আগেও তাদের সব ছিলো কিন্ত সর্বনাশা পদ্মার বুকে এখন সে সব শুধুই স্মৃতি । গ্রামের রহিম বাড়ীর ছেলে এখন ঢাকায় চালায় ঠেলাগাড়ী আর তার বউ বাসা বাড়ীতে কাজ করে । কিন্ত এত হতাশার মাঝেও এখন ও যেন আশার আলো জ্বালিয়ে রেখেছে তাদের ছেলে কলিম উদ্দীন । ছেলের অসম্ভব পড়াশোনার প্রতি ঝোঁক দেখে কলিমের পিতা তার শতকষ্টের মাঝেও কলিমের লেখাপড়া খরচ চালিয়ে যাচ্ছে । কলিম মনে মনে স্বপ্ন দেখে একদিন সেও বড় হবে অনেক বড় ।

চোখের উপর নোনা ঘামের জ্বলুনিতে কঠিন বাস্তবে ফিরে আসে কলিম । একমনে কূপির টিমটিমে আলোয় খুঁজে ফেরে তার ভবিষৎতের আলোকে । কিন্ত এদিকে কূপির আলোও ক্রমে ক্রমে ক্ষীন হয়ে আসছে তেলের অভাবে । আর গাড় অন্ধকার গ্রাস করে নিছ্ছে কলিমদের ঘরের বেড়ার দেয়ালকে । এখনও যে অনেক পড়া বাকী অথচ হাতেও অঢেল সময় । কিন্ত এদিকে টাকাও নেই হাতে একদম ,যে তেল কিনে পড়বে । কলিমের মনে হতাশা গ্রাস করে। কিছুই আর ভাল লাগেনা । ছোট্ট ঝুপরি ঘর থেকে বেরিয়ে আসে বাইরে। কিন্ত এখানেও যেন গাড় অন্ধকার ঘিরে আছে কলিমের চারধার ।বস্তির চারধারে বিশাল বিশাল উঁচু আকাশচুম্বী অট্টালিকার দেয়ালগুলো ঘিরে রেখেছে কলিমদের বস্তিটা দিনের বেলায় ও তাই নেই কোন সূর্যের আলো । কলিম মাথা উঁচু করে তাকিয়ে দেখে এক অট্টালিকার মাথায় টাওয়ারের গায়ে রোদের ঝলকানি ,তার কাছে মনে হয় এযেন মরীচিকা যাকে দেখা যায় কিন্ত ছোঁয়া যায়না ।

দূরে কোথায় যেন রেডিওতে সংবাদের পাঠিকা বলছে আগামী ১৯শে জুন ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে নেয়া হবে ১ঘন্টা আগে । ফলে জনগন সূর্যের আলো আরো বেশী ব্যবহার করে বিদূৎ সাশ্রয় করতে পারবে । এবং এর ফলে দেশ এবং জাতির বিদূৎ ঘাটতি কিছুটা লাঘব হবে ।

দিনের পড়ন্ত বেলায় কলিমের ঝুপড়ি ঘরে গ্রাস করে রেখেছে অনাহূত গাড় অন্ধকার । বস্তির সেই ঝুপড়ি ঘরের সামনে একাকী এক স্কুল পড়ুয়া বালক বসে আছে অধীর আগ্রহে তার পিতার অপেক্ষায় । তার ছোট্ট কূপিতে আলো জ্বলে উঠবে কখন তার প্রতীক্ষায় ।

আসছে ১৯ শে জুন কলিম কি তার ঘড়ির কাঁটাটি ১ঘন্টা আগাবে ?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/28961218 http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/28961218 2009-06-07 02:54:54
হজ্বের সেই দিনগুলো - ৮ম পর্ব

মসজিদে নব্বীর যে স্থানকে দেখার জন্য সহস্র মাইল থেকে ছুটে আসা সেই রাসুলের পবিত্র রওজা মোবারক কে দেখার জন্য আমরা সকলেই ছিলাম উদগ্রীব ।তাই সকালের ফরয নামাজ শেষে দলের সিনিয়র সদস্য সারওয়ার ভাইকে খুব করে ধরলাম চলেন ভাইয়া দেখে আসি একবার রওজা মোবারক । তিনি হেসে বললেন এত অস্থির হওয়ার কিছু নাই আর এখন সকালে সেখানে যে অবস্থা সেই ভীড়ে কিছুই দেখা যাবেনা ।তিনি বুদ্ধি দিলেন যেহেতু আজ আমাদের মদীনার প্রথম দিন অতএব দলের সবার উচিত আজকের দিনটি মসজিদে নব্বীতে নামাজ পড়া আর বিশ্রাম নিয়ে নিজেকে এখানকার আবহাওয়ার সাথে নিজেকে মানিয়ে নেয়া ।



যেহেতু তাকে আমরা নীতিগতভাবে দলের লীডার এবং একাধারে গাইড হিসেবে মেনে নিয়ে ছিলাম। তাই আর কোন উচ্চবাক্য না করে সেদিনকার মত মনের ইচ্ছা মনে চেপে সাধারন ভাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে আদায় করে আর বাকী সময়টুকু গেস্ট হাউসে দিনের খাবার খেয়ে কাটিয়ে দিলাম। এদিকে সারওয়ার ভাই ও বসে নেই তিনি কিছুক্ষন পরপর তার বিগত হজ্বের নানা ঘটনাগুলো আমাদের কাছে বর্ননা করে যাচ্ছিলেন। বিশেষ করে মসজিদে নব্বীতে কোথায় কি আছে এবং কোন কোন স্থানগুলো বিশেষভাবে প্রসিদ্ধ ।



মসজিদে নব্বীতে সমস্ত জায়গা লাল বেশ মোটা কার্পেটে আবৃত কেবলমাত্র রিয়াজুল জান্নাহ স্থানটি সবুজ কার্পেটে আবৃত । এই স্থানটিতে আল্লাহ পাকের প্রিয় হাবীব আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (সা: ) খালি পায়ে দৈনিক পাঁচবার এই স্থানে বিচরণ করেছেন এবং এই জায়গাটি তার বাসস্থানের কাছাকাছি হওয়ায় এই জায়গাটিতে তিনি সর্বাধিক অবস্থান করেছিলেন। রিয়াজ মানে বাগান আর জান্নাত মানে বেহেশত অর্থাৎ বেহেশেতের বাগান হিসেবে সরাসরি আল্লাহ পাক তাঁর প্রিয় হাবীবের সর্বাধিক বিচরনকৃত এই স্থানটি কেয়ামতের পর সরাসরি জান্নাতের সাথে সংযুক্ত করে নিবেন শেষ বিচার দিনে ।



এই স্হানটির নিকটেই আছে রাসুলের রওজা মোবারক এবং এই রিয়াজুল জান্নাহতে বিশেভাবে উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে এই স্থানে বেশ কটি পয়েন্টে সর্বমোট ৮টি পিলার বা স্তম্ভ অবস্থিত । এবং এর একটি স্তম্ভকে ঘিরে জড়িয়ে আছে এক একটি সত্য ঘটনা । এবং প্রতিটি ঘটনার সাথে কোন না কোন ভাবে জড়িয়ে আছে আল্লাহ পাকের বিশেষ নেয়ামত , করুনা অথবা মোজেযা ।

যারা হজ্বে এবং মসজিদে নব্বীতে যাবেন তাদের সুবিধার জন্য আমি এখানে প্রতিটি স্তম্ভের পেছনের ঘটনাগুলো এবং একইসাথে সবগুলো স্তম্ভের অবস্থান এখানে তুলে ধরার জন্য চেষ্টা করব । আরবীতে পিলার বা স্তম্ভ কে বলে উসতান বলে। তাই নিচের নামগুলো উসতান বলে অভিহিত করব যাতে সেখানে যেয়ে সহজেই মনে পড়ে যায়।

উসতান বা স্তম্ভসমূহের নাম

১। উসতানে হান্নানাহ বা হান্নানাহের স্তম্ভ অথবা ক্রন্দনরত স্তম্ভ
২। উসতানে আয়েশা বা আয়েশার স্তম্ভ
৩। উসতানে তওবা বা তওবার স্তম্ভ
৪। উসতানে শারীর বা শারীরের স্তম্ভ
৫। উসতানে আলী বা আলীর স্তম্ভ
৬। উসতানে ওয়াফুদ বা প্রতিনিধি স্তম্ভ
৭। উসতানে তাহাজ্জুদ বা তাহাজ্জুদের স্তম্ভ
৮। উসতানে জিবরীল বা জিবরীলের স্তম্ভ

নিচে একটি স্কেচের মাধ্যমে পিলার গুলোর অবস্থান তুলে ধরলাম পাঠকের সুবিধার্থে । কারন বাস্তবে দেখা গেছে রিয়াজুল জান্নাতে প্রবেশ করলে মনের অবস্থা এমন দাড়াঁয় তখন পিলার গুলো চিনতে একেতো কষ্ট হয় । এছাড়া নানা মানুষের নানা মতে অনেকেই বিভ্রান্ত হয়।




উসতানে হান্নানাহ বা হান্নানাহের স্তম্ভ অথবা ক্রন্দনরত স্তম্ভ



এই পিলারটির নাম উসতানে হান্নানাহ বা ক্রন্দনরত পিলার হওয়ার পেছনে একটি সুন্দর ঘটনা আছে। যেই ঘটনাটি রাসুল (সা: ) এর জীবনে একটি আল্লাহ প্রদত্ত মোজেযা হিসাবে বিবেচিত । এই স্থানে মূলত নবিজী নামাজ পড়তেন এবং জুম্মার খোতবার সময়ে এই স্থানে একটি ছোট জীবন্ত খেঁজুর গাছ ছিলো যার গায়ে তিনি হেলান দিয়ে খোতবা পড়তেন । পরবর্তীতে যখন মসজিদের উন্নয়নের সাথে সাথে নবিজী (সা: ) এর জন্য একটি মিম্বর তৈরী করা হয় ।তখন তিনি সেই খেঁজুর গাছের পরিবর্তে সেই মিম্বরে দাঁড়িয়ে খোতবা পড়ছিলেন ।ঠিক এই সময় সারা মসজিদে দেয়ালে গায়ে কারও যেন ফুঁপানো কান্নার আওয়াজ প্রতিধ্বনিত হতে লাগলো এবং উপস্থিত সবাই সেটা শুনতে পেলেন । উপস্থিত সবাই দেখলো সেই খেঁজুর গাছের থেকে যেন এই আওয়াজ আসছিলো । রাসুলুল্লাহ (সা: ) সেই গাছের নিকটে যেয়ে তার গায়ে হাত রাখা মাত্রই সেই কান্নার আওয়াজ থেমে গেল। রাসুলুল্লাহ (সা: ) উপস্থিত সব সাহাবাকে উদ্দেশ্য করে বললেন " এর আগে এর নিকটে আল্লাহর জিকির শোনা যেত এবং মিম্বর তৈরী হওয়ার পর এই জিকির না শুনতে না পেরে এই গাছটি কেঁদে উঠেছে ।আমি যদি এর গায়ে হাত না রাখতাম তাহলে কেয়ামতের পূর্ব পর্যন্ত এই কান্না থামতোনা ।"
এই গাছটি পরবর্তীতে মরে শুকিয়ে গেলে এই স্থানেই একে পুঁতে ফেলা হয় এবং রাসুলুল্লাহ (সা: ) ওফাতের পর আব্দুল বিন ওয়ালিদের শাসন আমলে এই স্থানে একটি মিম্বর তৈরী করা হয় যার নাম মেহরাবে নাবী। এই মেহরাবে নাবীর দিকে মুখ করে দাঁড়ালে এর ডান দিকের পিলার টি হচ্ছে উসতানে হান্নানাহ ।

চলবে ...
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/28956510 http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/28956510 2009-05-27 15:17:40
হজ্বের সেই দিনগুলো - ৭ম পর্ব


অন্যদিকে যেন কালের স্বাক্ষী হয়ে বছরের পর বছর দাড়িয়ে আগলে রেখেছে রাসুলের এই প্রিয় মসজিদকে । প্রবেশ পথে ঢুকতে দুধারে দাঁড়িয়ে ছিলো দুজন প্রহরী যাদের কাজ মূলত মসজিদের অভ্যন্তরে কেউ যেন খাবার বা ব্যাগে ভরে কোন জিনিষ,ক্যামেরা বা কাপড়চোপর ভেতরে না নিতে পারে । অবশ্য কেউ যদি জুতা রাখার ব্যাগ নিয়ে যায় সেক্ষেত্রে তারা নিষেধ করেনা ।



প্রবেশ দ্বার থেকে যে পথ ধরে মুসল্লীরা মসজিদে প্রবেশ করে ,মসজিদের অভ্যন্তরে সেই পথের দুধারে রাখা আছে সারি সারি প্লাস্টিকের ড্রাম সদৃশ্য কনটেইনার।এসব কনটেইনারে আলাদা করে হালকা গরম এবং শীতল জমজমের পানি রাখা আছে ।ওয়ান টাইম ব্যবহারের জন্য প্লাস্টিকের গ্লাসের জন্য পাশেই আছে সুন্দর হোল্ডার । এছাড়া সমগ্র মসজিদের মেঝে শুধু চলাচলের পথ ব্যাতীত মনোরম ডিজাইনের লাল কার্পেটে আচ্ছাদিত। একমাত্র রিয়াদুস জান্নাত বা বেহেশতের টুকরো বলে চিন্হিত স্হানটি সবুজ গালিচায় মোড়া।যার অবস্থান মহানবী ( সা: ) রোজা মোবারকের ঠিক পাশেই।এই স্থানের বিষয়ে পরে বিস্তারিত আলোচনা থাকবে ।




মসজিদের সবচেয়ে মন কাড়ে যে অংশটি সেটা হল গোল্ড প্লেটেড বিশাল আকারের অসংখ্য ঝাড়বাতি । এগুলোর আলোয় মসজিদের অভ্যন্তরে যেন ঝলমল করছে সর্বদা । কিন্তু অবাক হবার বিষয় যে এত আলোর সমাহারের পরও মসজিদের অভ্যন্তরে এক ধরনের স্নিগ্ধভাব সর্বদা বিরাজমান।



মসজিদের প্রবেশগেটের বিশাল থামে কিছু অংশ সোনার কারুকাজের বৈচিত্রতা সমান নজর কাড়ে আগত মুসল্লীদের। এছাড়া মসজিদের অভ্যন্তরে অসংখ্য থাম বা পিলার গুলো পিতলে মোড়ানো যার গায়ে ঝাড়বাতির বিচ্ছুরিত আলোর প্রতিফলন মসজিদের অভ্যন্তরে আলোর পরিমান বহুগুনে বাড়িয়ে দিয়েছে



আমরা সদলবলে সবাই একসাথে তাড়াতাড়ি এক সুবিধাজনক জায়গায় বসে পড়লাম । দলে আমরা কজন যারা নতুন তারা তখন ও এক মোহাচ্ছন্ন অবস্থায় চারিদিক তাকিয়ে দেখছিলাম। আর মনে তখন খেলা করছিলো অনেক কিছু। একদিকে বিস্ময় কাজ করছিলো স্হাপত্যশৈলী অবলোকন করে । অন্যদিকে অসম্ভব ভাল লাগায় আচ্ছন্ন ছিলাম এইভেবে যে অবশেষে আল্লাহপাক তার প্রিয় বন্ধুর শেষ বিশ্রামস্থল এবং প্রিয় মসজিদে নব্বীতে আমাকে আসার সুযোগ করে দিয়েছেন এই ভেবে । ভাবনার সূতা ছিঁড়ে ভোরের সুবেহ সাদিকের আলো ফোটার সাথে সাথে করুন সুরে অথচ ভরাট গলায় সুললিত কন্ঠে মুয়াজ্জিন আযান দিলো । সমস্ত মসজিদের ভেতরে সে এক অদ্ভুত পরিবেশের সৃষ্টি হলো আযানের শব্দগুলো দেয়ালে দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হয়ে মনে এক অসম্ভব ভালো লাগার আবেশ তৈরী করলো ।



নামাজ পড়ে প্রথম দিন সকালে আমরা সদলবলে বেরিয়ে আসলাম মসজিদ থেকে । ভোরের আলো তখন ফুটে উঠেছে । সকালবেলার আলোতে ভাল করে লক্ষ্য করলাম এই প্রথম মদীনা শহরকে। বিশাল চওড়া রাস্তা গুনে দেখলাম আট লেনের আর রাস্তার পাশে ফুটপাত দিয়েই মনে হয় দুই লেনে গাড়ি চলাচল করতে পারবে ।অবশ্য এই বিশাল ফুটপাত বছরের বেশীর ভাগ সময়ে খালি পড়ে থাকলেও হজ্বের সময় এর প্রয়োজনীতা উপলদ্ধি করা যায়।



আমাদের গেস্ট হাউসটা ছিলো মসজিদে নব্বী থাকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে। তাই যাতায়তেরর সময় খুব একটা বেগ পেতে হয়নি ।বরং নামাজ পড়তে আসা যাওয়ার পথে নজরে পড়তো নানা দৃশ্য । যে এলাকায় আমাদের গেস্টহাউসটা ছিলো তার আশাপাশে জমজম হোটেল,ঢাকা হোটেল নামে প্রায় গোটা দশেক বাংলাদেশী রেস্টুরেন্ট ছিলো।



আমরা মদীনায় থাকাকালীন সময়ে একটি জুম্মা পেয়েছিলাম সেদিন দেখলাম এলাকাটি হয়ে উঠেছিলো বাংলাদেশীদের মিলনমেলা। অনেকই সেদিন মূলত এসেছিলো হজ্বে আসা তাদের পরিচিত বা আত্মীয়দের সাথে দেখার জন্য ।

মসজিদে নব্বীর প্রবেশের ঠিক বাইরে অর্থাৎ এর চারধারে মসজিদ এলাকাসংলগ্ন স্থানজুড়ে গড়ে উঠেছে অসংখ্য পাচঁতারা হোটেলের অবস্থান ।এই হোটেলগুলোর আন্ডারগ্রাউন্ডে আবার গড়ে উঠেছে চোখ ধাধাঁনো শপিংমল।





এই মলগুলোতে সকল ধরনের দ্রব্যসামগ্রীর সমাহার লক্ষ্য করা যায় । কি নেই এখানে খাবার থেকে শুরু করে ইলেকট্রনিক্স ,পোশাক আশাক ,গহনাগাটির দোকান তাছাড়া আছে হাজীদের আকৃষ্ট করার জন্য নানা ডিজাইনের জায়নামাজ ,তাসবীহ এছাড়া ইসলামিক কালিওগ্রাফির উপর ডেকোরেশেনের কাজ পাথড়,চামড়া এবং নানা ধরনের ধাতুর উপর । এবং তাদের দামও বেশ চড়া ছিলো।



আমাদের স্বল্প বাজেটে আমরা আগে থেকে ঠিক করে রেখেছিলাম আমরা মূলত দেশে আত্মীয়য়স্বজনের জন্য জায়নামাজ আর তাসবীহ কিনবো আর অবশিষ্ট টাকা থাকলে হয়তোবা দেশে ফেরার আগে কিছু সোনার হালকা কিছু অলংকার কিনবো স্ত্রীর জন্য।

এখানে একটা কথা বলে রাখা ভাল যেহেতু আমরা হজ্বের নিয়্যতে মূলত এখানে আসা তাই পারতপক্ষে আমরা খুব কমই এসেছিলাম এই শপিংমল গুলো দেখতে ।

চলবে....।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/28956222 http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/28956222 2009-05-26 22:27:10
হজ্বের সেই দিনগুলো - ৬ষ্ঠ পর্ব

মসজিদের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছিলাম যখন মন তখন নষ্টালজিক ভাবনায় আক্রান্ত হয়ে ফিরে গিয়েছিলো ইতিহাসের সেই ৬২২ খ্রিষ্টাব্দের ২২ সেপ্টেমবারে সোমবারে , এই মাত্র খবর এসেছে মহানবী (সাঃ) কুবায় ৩দিন অবস্থানের পর রওয়ানা দিয়েছেন তার উট কাসওয়ায় চড়ে মদীনা তথা সেদিনকার ইয়াসরিবের উদ্দেশ্যে । মহানবী (সাঃ) উটের পিঠে চড়ে চলছেন তাকে অনুসরন করে পিছনে চলছে কয়েকশ মুসলমান এবং স্থানীয় নারী পুরুষের দল কেউ হাঁটে কেউবা আবার ঘোড়া আর উটের পিঠে চড়ে ।পথে মধ্যে একে একে পাঁচটি গোত্র নবীজি (সাঃ) কে তাদের সাথে থেকে যাবার জন্য অনুরোধ করলেন । কিন্ত বিনয়ের সাথে অনুরোধ ফিরিয়ে দিয়ে নবীজি বললেন "আমার উটকে আপন ইচ্ছায় চলতে দাও । সেই সির্দ্ধান্ত নেবে আমি কোথায় আমার আবাস গড়বো।"



এদিকে ইয়াসরিবের দ্বারপ্রান্তে পথের দুধারে শিশু থেকে শুরু করে কিশোর কিশোরীর দল দফা হাতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে নবীজিকে সালাম জানানোর জন্য, বিগত দিনগুলো তারা রচনা করেছে নবীজির প্রসংশামূলক গান । আজ এই দিনে সেই গান তারা গেয়ে নবীজিকে তাদের মাঝে বরন করে নিবে। প্রতীক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে বৃদ্ধ যুবক ,পৌঢ় আর নারীর দল । সবাই আছে সেই মানুষটির প্রতীক্ষায় যিনি সমগ্র বিশ্বের জন্য আল্লাহর কাছ থেকে প্রেরিত হয়েছেন ।তিনি সরাসরি আল্লাহর সাথে কথা বলেন এবং আল্লাহর বানীকে পৌঁছে দেন মানুষের কাছে ।তিনি মক্কার আল আমীন যিনি কুরায়েশ দের কাছে সমাদৃত বিশ্বাসী এবং সত্যবাদী হিসেবে ।

অবশেষে শহরের দ্বারপ্রান্তে উটের পায়ে ধূলা উড়িয়ে মুজাহিদের দল নিয়ে মহানবী (সাঃ) প্রবেশ করলেন ইয়াসরিব শহরে। কিশোর কিশোরীর দল গেয়ে উঠলো মহানবীর প্রশংসা স্তুতি দফায় বেজে উঠলো সুরের মূর্ছনা । মহানবী (সাঃ) উট কাসওয়ায় বসে আছেন আর আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছেন এক নতুন দিনের সূচনায় । উট এগিয়ে চলছে তার আপন মনে । অবশেষে উটটি এসে থামলো মালিক বিন নাজ্জাজের বাসার সামনে। নবীজি উট থেকে নেমে সামনে একটি বাসা যার মালিক আবু আইউব (রা: ) সাথে দেখা করলেন । তার অভিভাবকত্বে থাকা দুটি শিশু সাহল এবং সুহায়েলের জমিটি তিনি পছন্দ করলেন এবং কিনে নিলেন ন্যায্য দামে । এবং সেখানে তিনি একটি মসজিদ নির্মানের আদেশ দেন । মহানবী (সাঃ) বলেন "এটাই হবে আমার গৃহ, আমার ইবাদতের স্থান এবং আমার চিরস্থায়ী বিশ্রামের স্থান"।



মহানবী (সাঃ) ইয়াসরিবে একসময় যে হিজরত করবেন এবং এটাই হবে তার আবাসস্থল একথা বিভিন্ন আসমানী কিতাবে ভবিষ্যবানী করা হয়েছিল। Peace or Destruction গ্রন্হে হাজী মাহবুব কাশিম 'তাফরিহুল আসকিয়া ফিল আহওয়াল উল আম্বিয়া গ্রন্হের বরাত দিয়ে একটি ঘটনার কথা উল্লেখ্য করেন। ঐ ঘটনাটি মহানবী (সাঃ) এর ইয়াসরিবে হিজরত সম্পর্কিত।

ইয়ামেনের রাজা তিব্বা স্বীয় রাজ্য থেকে সিরিয়া ও ইরাক বিজয়ের উদ্দেশ্যে বের হন । যাত্রাপথে তিনি এমন এক স্থানে এসে উপস্থিত হন যা বর্তমানে মদীনা নামে সুপ্রসিদ্ধ।জায়গাটি তার খুব ভাল লাগে তাই তিনি তার নিজ পুত্রকে ঐ স্থানের গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত করেন । কিন্তু ঘটনাচক্রে সেই স্থানের লোকজন মিলে যড়যন্ত্র করে রাজা তিব্বার ছেলে কে হত্যা করে । নিজ পুত্রের এহেন পরিনতি রাজা তিব্বাকে ক্ষুদ্ধ করে তোলে ।তিনি ই স্থানের লোকজন সহ স্থানটিকে পৃথিবী থেকে নিশ্চিন্হ করে দেয়ার উদ্দেশ্যে সিরিয়া থেকে মদীনায় গমন করেন । তার নিজ সৈন্যদলের সহায়তায় তিনি সমস্ত কিছু ধ্বংস করে দেন । কিণ্তু অবাক বিস্ময়ে পরদিন লক্ষ্য করেন সবকিছু আগের মত আছে যা গতকাল তিনি ধ্বংস করেছিলেন।এভাবে বারবার চেষ্টা করেও তিনি যখন এই শহরটির কিছুই করতে পারলেন না ।
এসময় তার সাথে প্যালাইস্টাইনে এবং সিরিয়ায় যুদ্ধের সময় বন্দী চারশ ইহুদী ছিলো এবং তারা তাদের আসমানী কিতাব তাওরাত সম্পর্কে পুরোপুরি ওয়াকিবিহাল ছিলো।তাঁরা রাজা তিব্বাকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে তিনি তার শক্তির ব্যবহার যতখুশী করতে পারেন । কিন্তু এই স্থানটি তিনি কিছুতেই ধ্বংস করতে পারবেননা।

কারন এস্থানটি হবে সর্বশেষ নবীর আবাসস্থল। তাদের তাওরাত থেকে আনীত এই ভবিষ্যৎ বানী আসলেই সঠিক কিনা তা পরীক্ষা করার জন্য রাজা তিব্বা একটি পরীক্ষার ব্যবস্থা করলেন । দুজন বৃদ্ধ ইহুদী তাওরাত গ্রন্হ হাতে একটি উন্মুক্ত স্থানে অগ্নিকুন্ডের উপর দিয়ে সম্পুর্ন অক্ষত অবস্থায় হেঁটে গেলেন ।এরপর রাজা তাদের দুজন যাজক কে তাদের সেইসময়ে সবচেয়ে বেশী পূজিত অগ্নিদেবতার দুটি মূর্তি হাতে হেঁটে যেতে বললেন সেই একই অগ্নিকুন্ডের উপর দিয়ে এবং তারা ঐ অগ্নিকুন্ড অতিক্রম তো করতেই পারলেন না এবং আগুনে দগ্ধ হলেন।



নবীজি (সাঃ)এর হিজরতের অনুরসনকৃত পথ

অবশেষে রাজা তিব্বা বিশ্বাস করলেন তাওরাতে যা বলা হয়েছে সেই ভবিষ্যৎ বানীর উপর।এবং এখানেই শেষ নয় তিনি তার এই মদীনা শহরের ধ্বংস পরিকল্পনা বাতিল করলেন । তিনি মুক্ত করে দিলেন তার চারশ বন্দি ইহুদীদের এবং তাদের সেখানে তিনি বসতি গড়ে দিলেন । এভাবে সৃষ্টি করলেন নতুন একটি শহরের তার নামানুসারে শহরটির নাম হল ইয়া তিব্বা নামে । সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে শহরের নামে ইয়াসরিব এ পরিবর্তিত হয়।মহানবী (সাঃ) যখন এই শহরে আসেন তখন এই শহরটি ইয়াসরিব নামে পরিচিত ছিল।

রাজা তিব্বা তার প্রতিষ্ঠিত শহরটির সাহাউল নামে এক বৃদ্ধ ইহুদীর হাতে এক পত্র দিয়ে বললেন তার জীবদ্দশায় যদি সেই প্রতিশ্রুত শেষ নবীর দেখা পান যেন তার হাতে এই পত্রটি দেন ।আর না হলে তার পুত্রকে একই কথা বলে যেন বংশ পরস্পরায় তারা এই পত্রটি শেষ নবীর হাতে দেয়ার ব্যবস্থা করেন।অবশেষে ১০৪০ বছর পরে যখন মহানবী (সাঃ) এর মদীনায় আসার সময় প্রায় সমাগত তখন এক দল লোক মদীনা থেকে মক্কা গেলেন নবীজির (সাঃ) সাথে দেখা করার জন্য ।সেই দলে আইয়ুব আনসারী নামে এক ব্যক্তি আবু লাইলা নামে একজন যাত্রীর কাছে সেই রাজা তিব্বার পত্রখানি দিয়ে বলেন এই পত্রটি যেন নবীজিকে দেয়া হয়।আর তিনি নিজ থেকে এই পত্রটি না চাইলে যেন পত্রটি ফেরত আনা হয়।
এই প্রতিনিধি দলটি যখন নবীজি (সাঃ) সাথে দেখা করতে গেলেন নবীজি তখন আল্লাহর মারফতে জানতে পারলেন ঘটনাটি এবং তিনি স্বয়ং আবু লাইলাকে উদ্দেশ্যে করে বললেন "তোমার নাম আবু লাইলা। রাজা তিব্বার আমাকে দেয়া পত্রখানি তোমার কাছে আছে সেই পত্রটি আমাকে দাও "।উপস্থিত সবাই অবাক হল এই ভেবে যে এবারই প্রথম আবু লাইলা নবীজির কাছে এসেছিলেন তাকে নবীজির চেনার কথা নয়। নবীজির আদেশে আবু লাইলা সবার সামনে পত্রখানি বের করে জোড়ে জোড়ে পড়লেন:

" আপনার প্রশংসা ঘোষনা করে এবং আপনার নিরাপত্তা ও কল্যান প্রাথর্না করে আমি আপনাকে ,হে মুহাম্মদ( আপনার উপর আল্লাহর শান্তি বর্ষিত হোক)জানাচ্ছি: আমি আপনাকে গ্রহন করার এবং সেই কিতাবের ওপর বিশ্বাস স্থাপনের ঘোষনা করছি , যে কিতাব আল্লাহ আপনার মাধ্যমে প্রেরন করবেন। আমি আরও ঘোষনা করছি যে, আমি আপনার ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছি এবং আমি আপনার আল্লাহকে সব কিছুর স্রষ্টা হিসেবে গ্রহন করেছি।ইসলামী শরীয়তের সব বিধান, যা আল্লাহর তরফ থেকে আপনার কাছে আসবে , আমি গ্রহন করার ঘোষনা করছি।

'শেষ বিচারের দিনে আমি যেন আল্লাহর ক্ষমা পাই সেজন্য আমি আপনার সুপারিশ প্রার্থনা করছি এবং আপনি যেনো আমাকে বিস্মৃত না হন। আপনার আগমনের পূর্বেই আমি আপনাকে এবং ইসলাম সম্পর্কে আপনার বানী আমি গ্রহন করেছি এবং এ কারনে আমি আপনার প্রথম শিষ্য ও অনুসারী । আপনাকে গ্রহন করার দাবীর স্বপক্ষে আমি আপনার পূর্বপুরুষ ইবরাহীম খলিলুল্লাহর( আল্লাহর বন্ধু ইবরাহীম)ধর্মেও ধর্মান্তরিত হয়েছি এবং আমি এখন তার স্বর্গীয় বানীর ওপর বসবাস করছি।"

ইয়েমেনের রাজা তিব্বার
সীল ও স্বাক্ষর
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/28955567 http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/28955567 2009-05-25 19:07:21
হজ্বের সেই দিনগুলো - ৫ম পর্ব


অবশেষে সমস্ত অপেক্ষার পালা শেষ করে আমরা অধীর আগ্রহে রওয়ানা হলাম আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মাদ (সাঃ)এর প্রিয় মসজিদ "মসজিদে নব্বী" কে প্রথমাবারের মত দেখবার জন্য।প্রতিটি পদক্ষেপে যতই এগিয়ে চলছিলাম ততই মনের ফ্রেমে কল্পনায় ভেসে উঠছিলো নবীজির এক একটি ঘটনা।

আজ থেকে হাজার বছর আগে এই মদীনার দিগন্তে মরুভূমির তপ্ত লু হাওয়ায় ধূলো উড়িয়ে ছোট্ট এক কাফেলা এগিয়ে চলছে । ধীরে ধীরে তাদের ক্লান্ত মলিন চেহারায় ভেসে উঠছে নতুন এক দিনের স্বপ্ন। পেছনে ফেলে আসা জীবনের সেই চরম লান্ছনার আর বন্চনার ইতিহাস কে পেছনে ফেলে তারা এগিয়ে চললো দৃপ্ত পদক্ষেপে মদীনা সেদিনকার ইয়াসরিব শহরের প্রবেশ দ্বারের দিকে। সবার আগে এগিয়ে চলছেন আল্লাহর অশেষ রহমতের ধারায় সিক্ত আমাদের প্রিয় নবীজি (সাঃ) ।ধূলায় ধূসরিত রিক্ত হস্তে সেদিন আমাদের প্রিয় নবীজি শুধুমাত্র আল্লাহর আদেশে হিজরত করে চলে এসেছিলেন সেদিনকার ইয়াসরিব অর্থাৎ আজকের মদীনায়।যখন তিনি চলে আসছিলেন বারবার ফিরে দেখছিলেন তার প্রিয় শহর মক্কার দিকে। নিজ বংশধর কোরায়েশদের চরম অত্যাচারের পরও মাটি কামড়ে আকঁড়ে ধরে রেখেছিলেন এই মক্কাকে বুকের সাথে। আজ সেই মক্কাকে ছেড়ে চলে যেতে হচ্ছে আল্লাহর আদেশে ।উটের পিঠে উঠার আগে তিনি মক্কার দিকে তাকালেন। শহরের সবকিছু তার দৃষ্টিতে ভাস্বর হয়ে উঠলো । স্মৃতির পাতায় জমে থাকা সব হাসিকান্নার স্মৃতিগুলো একে একে তাঁর চোখের সামনে ভেসে উঠলো।নীরবে তিনি একদৃষ্টিতে সেদিকে তাকিয়ে বলে উঠলেন করুন কন্ঠে " এ পৃথিবীর সব জায়গার চেয়ে তুমি আমার কাছে সুন্দর মনে হলেও তোমাকে আমার ছেড়ে চলে যেতে হচ্ছে। তোমার লোকগুলো যদি আমাকে তাড়িয়ে না দিতো আমি তোমাকে কখোনই ছেড়ে যেতাম না। পাহাড় ত‌্যাগ করার পূর্বে নবিজী (সাঃ) শেষবারের মত মক্কার দিকে তাকালেন। তিনি বললেন " হে আল্লাহ! পৃথিবীর সব শহরের মধ্যে যে শহরটিকে আমি সবচেয়ে বেশি ভালবাসি, সেই মক্কা থেকে আপনি আমাকে নিয়ে যাচ্ছেন । আপনি আমাকে এমন একটি শহরের নিয়ে যান যে শহরটি আপনার কাছে সবচেয়ে প্রিয়।"
মক্কার মাটির ঘ্রান যেনে নবীজির বুকের সাথে মিশে আছে ।আজো যেন সেই নবীজির প্রিয় পা মোবারকের পদচিন্হ মিশে আছে এই মরুভূমির বুকে ।

ঠান্ডা বাতাসের ধাক্কায় ফিরে আসলাম বাস্তবতায় । প্রায় ৫ মিনিট হতে চললো হোটেল থেকে রওয়ানা দিয়েছি সদলবলে। দূর থেকে ভেসে আসলো সুমুধূর আযানের ধ্বনি ।এখানে ফজরের আযানের আগে তাহাজ্জুদের নামাজের জন্য আলাদা আযান হয় আমরা সেই আযান তখন শুনছছিলাম । ভোরের আলো ফুটতে তখন অনেক বাকী ,দেখলাম প্রসস্ত রাস্তার দুপাশের ফুটপাথ ধরে এগিয়ে চলছে সবাই মসজিদে নব্বীতে ফজরের নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে ।দূর থেকে চোখে পড়লো মসজিদে নব্বীর উঁচু মিনার । ধীরে ধীরে মানসপটে ভেসে উঠলো প্রিয় মসজিদে নব্বীর পূর্ন আবয়ব ।



আমাদের প্রিয় নবীজি (সাঃ) ঘুমিয়ে আছেন এই মসজিদের কোন এক প্রান্তে পবিত্র রওজা মোবারকে তার প্রিয় সাহাবী হজরত আবু বকর (রঃ) এবং হজরত উমর (রাঃ) সাথে। আর কিছুক্ষনের মধ্যে পা রাখতে যাচ্ছি এমন এক পবিত্র স্থানে ,যেই স্বপ্ন এতদিন লালন করে আসছিলাম মনের কোনে । অবশেষে আল্লাহ পাক আমাকে নিয়ে আসলেন তার মেহমান হিসেবে তার প্রিয় হাবীবের প্রিয় মসজিদে নব্বীতে । সমস্ত প্রসংশা আল্লাহ পাকের যিনি আমাকে এই সৌভাগ্য দান করলেন জানিনা কবে কোথায় কোন ভাল কাজের প্রতিদান হিসেবে এই সুযোগ আমার ভাগ্যে জুটলো।



মনে এক অদ্ভুত ভাল লাগা নিয়ে পা রাখলাম মসজিদে নব্বীর আঙিনায়। দেখলাম একটি সবুজ গালিচা পাতা সামনের প্রবেশ দ্বারের থেকে মসজিদের ভেতরের দরজা বরাবর। পাশের আরো অনেকগুলো গেইট দিয়ে লোকজন আসা যাওয়া করছে । একটি গেইট দিয়ে শুধুমাত্র মহিলারা প্রবেশ করছে । মসজিদের প্রায় ২০০ গজ আঙিনা পেরিয়ে অবশেষে হাজারো মানুষের ভীড় ঠেলে পা রাখলাম মসজিদের অভ্যন্তরে মন জুড়িয়ে গেলো শীতল পরশে । সারা মসজিদ জুড়ে চলছে কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা । ঢোকার মুখে প্রবেশ দ্বারে ছাদ থেকে ঝুলছে বিশাল এক ঝাড়বাতি স্বর্নের প্রলেপে মাখা ।



মসজিদের অভ্যন্তরে ঢোকার মুখে দেয়ালের দুদিকে বিশাল দুটো কাঠের তাক জুতা রাখার জন্য । অবশ‌্য অনেকে জুতা রাখার জন্য সাথে কাপরের ব্যাগ সাথে করে নিয়ে আসে । আমরাও এরকম জুতার ব্যাগ বাংলাদেশ থেকে সাথে করে নিয়ে এসেছিলাম।কারন এই কাঠের তাকে জুতা রাখলে একটি সমস্যা হয় সেটা হল অনেক সময় জুতা ভুলে বেহাত হয়ে যায় অথবা জুতা বদলের ঘটনা ঘটে ।

মসজিদে নব্বী ইসলামের মর্যাদাপূর্ন স্থান হিসেবে মক্কার মসজিদ আল হারেমের পরই এর স্থান। এবং তৃতীয় স্থান হিসেবে এর পর প্যালাইস্টাইনের মসজিদ আল আকসা মসজিদটি। রাসুলুল্লাহ (সাঃ)বলেছেন একজন মুসলমান এই পৃথিবীতে শুধুমাত্র তিনটি ধর্মীয় স্থানে জিয়ারতের উদ্দেশ্যে ভ্রমন করতে পারে । এগুলো হল মক্কার মাসজিদ আল হেরেম যেখানে কাবা ঘর অবস্থিত,এরপর মদীনার মসজিদে নব্বী এবং সবশেষে প্যালাইস্টাইনের মসজিদ আল আকসা ।



নবীজি (সাঃ) মদীনায় মসজিদে নব্বী সর্বপ্রথম নির্মান করেন । পরবর্তীতে খলিফাদের সময়ে এটা পরিবর্তিত এবং পরিবর্ধিত হয়ে বর্তমানের রুপ ধারন করেছে। সর্বপ্রথম হজরত মুহাম্মাদ (সাঃ)এই মসজিদটি নির্মান করেন খেঁজুরগাছের খুঁটি আর কাদামাটির দেয়াল তৈরীর মাধ্যমে । প্রথমদিকে এই মসজিদে ৩টি প্রবেশপথ ছিলো দক্ষিনে বাবে রাহমাত ,পশ্চিমে বাবে জীবরীল এবং বাবে আল নিসা পূর্বে ।প্রথমদিকে এই মসজিদের কিবলা নির্ধারিত ছিলো উত্তরে জেরুসসালেমের আল আকসা মসজিদের দিকে পরবর্তীতে কিবলা পরিবর্তন হয়ে নতুন দিক দক্ষিনে মক্কা মুখী করা হয়। (এই কিবলা পরিবর্তনের ঘটনাটি যে মসজিদে সংঘটিত হয়েছিলো সেটি পরের কোন এক পর্বে মসজিদের ছবি সহ বর্ননা থাকবে।)



মসজিদে নব্বী তে রওজা মুবারকের গেট থেকে বের হলে সামনে দৃষ্টি প্রসারিত করলে চোখে পড়ে অদূরে জান্নাতুল বাকী কবরস্থানের প্রবেশ দ্বার । আর ঠিক বাম দিকে এগুলে কিছুদূর পরেই বাবে জিবরীলের প্রবেশদ্বার ।এই দ্বারের নাম আল্লাহর বার্তা বাহক ফেরেসতা জিবরীল (আঃ) এর নামে নামকরন করা হয় কারন নবিজী (সাঃ) জীবদ্দশায় তিনি বহুবার মানুষের বেশে এই দ্বারের সামনে রাসুলুল্লাহ (সাঃ)এর সাথে দেখা করেন ওহী নিয়ে ।

আসুন এই ফাঁকে একটি গান শুনি । গানটি আমার মেয়ে প্রায় শুনে সাথে আমিও। আশা করি আপনাদেরও ভাল লাগবে ।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/28953899 http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/28953899 2009-05-21 23:09:55
মেঘ বালিকার দেশে


" এমনি করে কাজল কালো মেঘ
জ্যৈষ্ঠমাসে আসে ঈশান কোণে।

এমনি করে কালো কোমল ছায়া
আষাঢ়মাসে নামে তমাল‐বনে।
এমনি করে শ্রাবণ‐রজনীতে
হঠাৎ খুশি ঘনিয়ে আসে চিতে।
কালো? তা সে যতই কালো হোক,
দেখেছি তার কালো হরিণ‐চোখ।"

আজকে সারাদিন ভাবছিলাম মেঘকে নিয়ে লেখবো । জীবনে দেখা বিভিন্ন সময়ে এই মেঘের সৌন্দর্যকে নিয়ে আজ কিছু একটা ভাবতে ইচ্ছে করছে । জাগতিক দূঃখ কষ্ট আর দৈন্যতা নিয়ে যখন আমরা হতাশ হয়ে অসহায়ের মত আকাশের দিকে লক্ষ্য করি । তখন কখনো কখনো আকাশে গায়ে কালো মেঘ দেখে মনের বিষন্নতা হয় হালকা। আবার কখনো দেখি মেঘহীন আকাশের গায়ে কেমন যেন অসহ্য নীলের ছড়াছড়ি । মন তখন ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে আরো । আবার কখনো বা এই বিষন্ন মন কারও নীলের মাতোয়ারায় আনন্দে উদ্বেলিত হয়।



কখনো বা এই আকাশের কালো মেঘ আমাদের মনে আশংকার সৃষ্টি করে প্রচন্ড ঝড়ের। মারাত্বক ক্ষয়ক্ষতির দুঃশিন্তায় আমরা অস্থির হয়ে পড়ি । আবার কখনোবা দীর্ঘ অনাবৃষ্টির আর খরায় যখন মাঠঘাট বিদীর্ন আমরা আনন্দে উল্লাসে ফেটে পড়ি ঈশান কোনে পুন্জিভূত কালো মেঘের ঘনঘটায় । আমরা চাতকের ন্যায় অধীর আগ্রহে আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রতীক্ষা করি বৃষ্টি ধারার। আমাদের জীবনধারায় আবহমান কাল থেকে এই মেঘের সাথে জড়িয়ে আছে আমাদের হাসি কান্না, নানা কাহিনী ,শ্লোকগাঁথা। মেঘকে ঘিরে রচনা হয়েছে নানা সাহিত্য,গান আর গল্প কবিতা। আমাদের জীবনে যেন ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে এই মেঘ।



মেঘ কে কখনো কল্পনা করা হয়েছে অশনি সংকেতের ন্যায় আবার কখনোবা মেঘ হয়েছে মেঘবালিকার ন্যায়। গল্পের নায়ক, নায়িকার চুলকে তুলনা করেছে মেঘের ন্যায় পেঁজা তুলো তুলো ন্যায় । আবার কখনো বা পদ্মার এক মাঝির জীবন কাহিনীতে মেঘ আবির্ভূত হয়েছে ভিলেনের ন্যায়। যে কিনা ঝড় হয়ে তছনছ করে দিয়েছে তার জীবনকে । পদ্মা ,মেঘনা , যমুনা কিংবা সমুদ্রের তীরবর্তী অন্চলের মানবের জীবনধারার উপর রচিত অধিকসংখ্যক কাহিনীতে এই কারনে মেঘের আবির্ভাব ভিলেনের মত ।



আবার আসুন শহরকেন্দ্রিক জীবন ধারায় এখানে মেঘ স্বাভাবিক ভাবে রচিত হয়েছে প্রেমকাহিনীর আবহ তৈরীর জন্য এক গুরুত্বপূর্ন মাধ্যম হিসেবে । ধরা যাক নায়িকা কি কারনে সকালে ঘুম থেকে উঠে বারান্দায় যেয়ে দেখলো সারা আকাশ জুড়ে কালো মেঘের ঘনঘটা অম্নি নায়িকার মন আনঁচান করে উঠলো নায়কের কথা মনে পড়ে । আরো মনে পড়লো অনেক কথাই যেন তাকে বলা হয়ে উঠেনি । আর সেটা বলার জন্য সাথে মোবাইলে "হ্যালো " ব্যাকগ্রাউন্ডে রেজওয়ানা চৌধুরীর গলায় বৃষ্টির গান



এই মেঘ থেকে শুধুমাত্র নায়ক নায়িকা নয় তার সাথে পৌড়রাও বাদ যায়না । অফিসে কর্মরত অবস্থায় চল্লিশার্দ্ধ ব্যাক্তি যখন লক্ষ্য করে জানালার ফাঁক গলে সারা আকাশ জুড়ে কালো মেঘ তিনি ও প্রয়োজন বোধ করেন আজ তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরে গিন্নীর সাথে একটু সুখ দূঃখের কথা বলার। আর ওদিকে গিন্নীও বসে নেই আকাশের কালো মেঘ দেখে তিনিও রান্নাঘরে কোমড়ে শাড়ি বেধে লেগে গেছেন বেগুনভাজা ,ইলিশ আর খিচুঁরীর পাঁকাতে ।



বাচ্চারাও এই মেঘ দেখে করে নানান রকম প্ল্যান। সকালে ঘুম থেকে উঠেই কালো মেঘের ঘনঘটায় তারা উল্লাসিত হয়ে নানারকম অজুহাতে স্কুলে না যাওয়ার চেষ্টা করে । এরপর গোপনে তো আছেই বিকল্প প্ল্যান স্কুল পালিয়ে মেঘলা দিনে বাদল হাওয়ায় খেলে বেড়ানো । কিন্ত এই শহরে আবার কিছু ছিন্নমূল,বস্তিবাসীদের মন হয়ে উঠে ভারাক্রান্ত কারন এই কালোমেঘের ঘন বর্ষন তাদের অবস্থাকে করে তুলবে আরো করুন এবং অসহায় ।



শহরের বেকার আর ভবঘুরের জন্য মেঘ হচ্ছে সময় কাটানোর এক সুন্দর মাধ্যম । অলসমনে তারা একমনে আকাশের গায়ে মেঘের আকার আকৃতিতে খুঁজে ফেরে প্রিয় কোন মানুষের মুখ অথবা আপন মনে আঁকে কোন চিত্র ।

এইভাবে দিন যায় দিন আসে শহর গ্রাম জনপদের সুখ কখনো বা দূঃখকে সাথে নিয়ে আসে মেঘ । কখনও আসে শরৎ এ কাশ ফুলের সাদা রং এর রুপের চাদরে । আবার কখনো বা আসে বৈশাখে রুদ্র মূর্তিতে ঘনঘোর কালো রুপ ধরে। আর বর্ষায় এই মেঘ সবচাইতে মোহনীয় আর কমনীয় রুপে আসে এই ধরনীর বুকে। শান্ত, ধীর, হালকা কালো বর্নের মেঘেরসারি যখন সারা আকাশ জুরে রুপের পসরা সাজিয়ে বসে তখন এই মন শুধু চায় উদাসী মনে আকাশের গায়ে রুপসী মেঘকে প্রানভরে দেখি । আর কবি বলে উঠে ছন্দের দোলায় .....

আমি কবি-সেই কবি-
আকাশে কাতর আঁখি তুলি হেরি ঝরা পালকের ছবি!
আন্‌মনা আমি চেয়ে থাকি দূর হিঙুল-মেঘের পানে!



এই কোলাহলমুখর ব্যস্ত নাগরিক জীবনের তীব্রগতির সাথে পাল্লা দিয়ে দৌড়তে গিয়ে যখন হাঁপিয়ে উঠি তখন মনের কল্পনায় নিজেকে আবিষ্কার করি মেঘেদের রাজ্যে ।চোখ বন্ধ করে উপলদ্ধি করি চারপাশে তীব্র বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ।আর কল্পনার চোখে দেখি আমার চারপাশে সাদা মেঘের অসংখ্য পাহারের সারি আর সেইসাথে ভেসে আসে কানে বর্ষার মেঘের মেঘনাদ ।

অনেকক্ষন হলো মেঘ কে নিয়ে লেখছি আসুন এবার না হয় এই মেঘলা দিনে কান পেতে শুনি কিছুক্ষন সেই মেঘের গুরুগুরু মেঘনাদের সাথে বর্ষার রিমঝিম সুরেলা সংগীত ।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/28952210 http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/28952210 2009-05-18 10:45:41
হজ্বের সেই দিনগুলি - ৪তম পর্ব

হজ্বের নানা রকম প্রস্ততির সাথে সাথে একটি বিষয় সবসময় লক্ষ্য রাখা উচিত যেন কোন ক্রমেই স্বাস্থ্যহানি না ঘটে । এবং হজ্ব ফ্লাইটের আগে বিশেষ করে ১০/১২ দিন আগে থেকে সব প্রস্ততি শেষ করে বিশ্রামে থাকাটা ভাল। কারন বিমানে উঠার পর থেকে পরবর্তী সময়গুলো বেশ ব্যস্ততায় কাটাতে হয় এবং একেবারে ব্যাগ লাগেজ সহ হোটেলে না উঠা পর্যন্ত বিশ্রাম নেয়া সম্ভব হয়না। আর এয়ারপোর্টে অল্প কিছু আনুষ্ঠানিকতা সারতে বেশ সময় লেগে যায় ।কারন এসময়টা মদীনা বা জেদ্দা এয়ারপোর্টে বিশ্বের নানা দেশ থেকে প্রতিঘন্টায় হাজার হাজার হাজী এসে ভিড়তে থাকে ।





হজ্বের অল্প কিছুদিন আগে রওয়ানা হলে বেশ ঝক্কি ঝামেলা পোহাতে হয় হাজীদের । একে নতুন দেশ অচেনা স্থান ,গরম আবহাওয়া মানিয়ে নিতে নিতে হজ্বের মত কষ্টকর ইবাদত শুরু হয়ে যায় ।ফলে অনেকে অসুস্থ হয়ে যায় ।তাই সবচেয়ে উত্তম হয় হাজীরা বিশেষ করে বয়োবৃদ্ধ যারা তারা যদি হজ্বের ৮/১০ দিনআগেই মক্কায় পৌঁছে যায় ।ফলে হজ্ব শুরু হওয়ার আগেই তারা সেখানকার আবহাওয়ার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে।এ প্রসংগে একটি কথা বলে রাখা ভাল দেশ থেকে রওয়ানা হওয়ার আগে অবশ্যই সাথে একটি ছোট আকারের ব্যাগে কিছু কিছু প্রয়োজনীয় ঔষধ সাথে নিয়ে রাখা ভাল এক্ষেত্রে কারও যদি কোন পূর্বের সমস্যা থেকে থাকে তাহলে সেই রোগের ঔষধ নিতে হবে । এছাড়া সাধারনত মাথা ব্যাথা,জ্বর,পেট খারাপ ইত‌্যাদি সমস্যার জন্য সহজলভ্য ভাল ঔষধ এবং শরীরের ব্যাথার জন‌্য বিষেশ করে নিতে পারেন মুভ স্প্রে ।এটি দীর্ঘক্ষন হাঁটার পরে অনেক সময় দরকার পড়ে।

তাছাড়া প্রচন্ড গরমে অনেক সময় ঠোটে ঘা হয় ।এইজন্য কিছু অয়েন্টমেন্ট জাতীয় ক্রীম সাথে নিতে পারেন।একটি কথা বলে রাখা ভাল যদিও সবাই জানে যে হাজীদের জন্য সেখানে অনেক ডাক্তার সেবা দেয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে ।কিন্ত আমি প্রয়োজনের সময় দেখেছি এই সেবা পেতে অনেকে ভুক্তভোগীর শিকার হয়। আর সৌদিআরবের ফার্মেসীগুলোতে সাধারন এই ঔষধগুলোর মূল্যে অনেক বেশী হয়ে থাকে । উদাহারনস্বরুপ আমি একটি অয়েন্টমেন্ট ক্রীম কিনি বাংলাদেশী ৬০০ টাকা মূল্যে অথচ একই ক্রীম বাংলাদেশে থেকে কিনলে খরচ হত ২৮ থেকে ৩০ টাকা। এবং বিদেশে থাকাকালীন সময়ে সন্চিত অর্থ যথাসম্ভব অপচয় কম করলে অনেক সুবিধা হয়।

অবশেষে দেখতে দেখতে চলে এল সেই মাহেণ্দ্রক্ষন । সব আত্মীয়স্বজনদের সাথে দেখা করে মাকে নিয়ে রওয়ানা হলাম জিয়া আন্তজার্তিক এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে ।বিকাল ৪টায় সউদিয়া এয়ারলাইন্সে আমাদের নির্ধারিত হজ্ব ফ্লাইট।সেই মোতাবেক আমরা ৩ ঘন্টা আগেই বিমান বন্দরে পৌঁছে গেলাম। সেদিন সকাল থেকে আমাদের এজেন্সী ভিসা না পাওয়ায় আমরা বেশ টেনশনে ছিলাম ।তবে আল্লাহ এর অশেষ রহমতে যাওয়ার আগেই সেটা পেয়ে গিয়েছিলাম।তবে সমস্যা বাধলো আমাদের দলে আমার মা আর আনিস ভাইয়ের পাসপোর্ট নিয়ে ।ভুল করে এজেন্ট তাদের পাসপোর্ট রেখে এসেছিলো অফিসে । এদিকে সমস্ত হাজীরা যখন একে একে ইমিগ্রেশনে ঢুঁকে পড়ছিলো তখন আমরা কজন অধীর আগ্রহে তীর্থের কাকের মত অপেক্ষা করছিলাম আমাদের এজেন্টের জন্য । অবশেষে তাকে দেখা গেলো উর্ধ্ব শ্বাসে দুহাতে দুটো পাসপোর্ট উচু করে ধরে বিজয়ীর বেশে ছুটে আসছে । আমরা অবশেষে ৩০ মিনিট বাকী থাকতে কোন মতে দৌঁড়ে ঢুকে পড়লাম ইমিগ্রেশন কাউন্টারে । এখানে আমাদের সাহায্যর হাত বাড়িয়ে দিলো আমার স্কুলের বন্ধু রাজু এবং তপন আমার স্ত্রীর চাচাতো ভাই ।দুজন বেস্ট এয়ারে চাকুরীর সুবাদে তারা আমাদের নানাভাবে সাহায্য করে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে গেল প্যাসেন্জার ওয়েটিং কাউন্টারে ।ইতিমধ্যে তখন শুরু হয়ে গেছে যাত্রীদের বিমানে উঠার পালা। এর মধ্যে আসরের আযানের সময় হয়ে গেলো আমরা কজন দ্রুত নামাজ পড়ে নিলাম ।




এরপর আমরা মানে আমাদের দলের সফরসংগীরা যথাক্রমে আমি ,মা ,আমার ফুপাতো ভাই ইমতিয়াজ , তার খালাতো ভাই আনিস এবং ফুপাতো ভাই সারওয়ার , বন্ধু ডাক্তার আজিজ এবং উনার আম্মা ।সব মিলিয়ে পুরুষ ৫ জন এবং মহিলারা ২জন লাইন ধরে দাড়ালাম সবার শেষে । মনে মনে ভাবছিলাম শেষ পর্যন্ত জায়গা হবে কি না । বিমানে প্রবেশ করে পড়লাম আরেক বিপত্তিতে ।আমরা একসাথে কোথাও জায়গা পাচ্ছিলাম না । অবশেষে এক স্টুয়ার্ড আমাদের কে ইকনমি ক্লাশ থেকে উঠিয়ে নিয়ে বিজনেস ক্লাশে জায়গা করে দিলো। সেখানে আমরা আমাদের যার যার মাকে পাশে নিয়ে নির্বিঘ্নে বসলাম। যাই হউক সব ভাল যার শেষ ভাল আমরা ইকনমির ক্লাশের টিকিটে স্থান পেলাম বিজনেস ক্লাশে ।আল্লাহর অশেষ রহমতে আমাদের শুরুটা বেশ ভালই হল ।



আমরা বেশ কিছু দিক থেকে ভাগ্যবান ছিলাম । আমাদের দলের সিনিয়র সারওয়ার ভাই ছিলেন ।যাকে আমরা ভাই বললেও ওনার বয়স প্রায় ৭০ বছর ছিল। এবং এর মধ্যে তিনি আমাদের সাথে ১৮ তম হজ্ব পালনের জন্য যাচ্ছিলেন। উনি ছিলেন তাই একজন অভিজ্ঞ গাইডের মত । এবং পরবর্তীতে সেটা তিনি প্রতি ক্ষনে ক্ষনে প্রমান করেছিলেন। এবং তিনি না থাকলে আমাদের হজ্বের কাজগুলো এত সহজে করতে পারতামনা।আরেকদিক থেকে আমরা ভাগ্যবান ছিলাম সেটা হল আমাদের আরেক সফরসংগী ডা: আজিজ ভাই যিনি ন্যাশনাল হসপিটালে নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ। তিনি আমাদের সময়ে সময়ে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসা সেবা দিয়ে দ্রুত সুস্থ করে তুলতেন ।এমনকি তিনি অন্যরা কেউ সাহায্যর জন্য আসলে শত ক্লান্ত থাকলেও সেবা করতে দ্বিধা করতেন না । আমার দেখা ভাল মানুষগুলোর মধ্যে তিনি ছিলেন একজন।



যাই হউক ঠিক সময়মত আমরা কজন সফরসংগী অবশেষে বিমান যাত্রার জন্য মানসিক ভাবে প্রস্তুত হলাম । কিন্ত সময় যত ঘনিয়ে এলো আমার মা ততই অস্থির হয়ে উঠলেন কারন এটাই ছিলো তার জীবনের প্রথম বিমানযাত্রা তার ছেলেমানুষী ভয় দেখে তাকে অভয় দিচ্ছিলাম আর মনে মনে বেশ হাসি পাচ্ছিলো ,তাকে দেখে মনে হচ্ছিলো একটি ছোট্ট মেয়ে যে কিনা ভীত এবং একই সাথে কৌতুহলী কি হয় এই ভেবে ।এর মাঝে বিমানের একটা ইন্জিনে কি সমস্যা দেখা দেওয়াতে বিকাল ৪টা পরিবর্তে ঠিক সন্ধ্যা ৬টায় আমাদের বিমান ডানা মেললো সউদী আরবের পবিত্র শহর মদীনার উদ্দেশ্যে ।


বিমানের স্টুয়ার্ড এবং এয়ার হোস্টেসগুলো আমাদেরকে বেশ আপন করে নিলো অল্পক্ষনের মাঝে। আমাদের সাথে তাদের ব্যবহার ছিলো আন্তরিক ।আমার মা তার মানসিক ভীতি অল্প সময়ের ভেতরে কাটিয়ে উঠে আমাকে একের পর এক প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে যাচ্ছিলেন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ।আর আমিও বাবার ভূমিকা নিয়ে একের পর এক "কেন"জাতীয় প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়ার চেষ্টা করছিলাম ।এরমাঝে আমরা বিমানে আমরা মাগরিব এবং এশার নামাজ সীটের মাঝে বসে কোনমতে আদায় করলাম।এরই মাঝে হালকা নাস্তা এরপর ভারী ডিনার সেরে একটা হালকা ঘুম দিয়ে উঠেই দেখি জানালা দিয়ে নীচে পবিত্র মদীনা শহরের আলো ঝলমলে শহর দেখা যাচ্ছে।



মনে পড়লো প্রিয় রসুলের কথা যতই ধীরে ধীরে বিমান মাটির কাছাকাছি চলে আসছিলো ততই মনের তীরে ভীর করলো অনেক স্মৃতিকথা । একদিন এই শহরের তপ্ত মরুর লু হাওয়ার সাথে বয়ে আসলো সিন্গ্ধ শীতল সজীব বাতাসের পরশ । সেদিনকার অধীর আগ্রহে অপেক্ষামান ইয়াসরিববাসীরা চেয়ে দেখলো ধূলায় ধূসরিত ক্লান্ত একদল নরনারী এক জোত্যির্ময় পূরুষের নেতৃত্বে দীপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে আসছে তাদেরই শহরের পানে।সেই পূরুষ আর কেউ নয় আমাদের প্রিয়নবী বিশ্বের জন্য প্রেরিত রহমত, হজরত মুহাম্মাদ (সাঃ)। তিনি যখন এই শহরের পথ ধরে এগিয়ে চললেন বেজে উঠেছিলো কিশোর কিশোরীর হাতে দাফা ।তারা গেয়ে ছিলো সেদিন আমাদের নবীজির নামে প্রশংশামূলক অনেক গান । আজও যেন হাজার বৎসর পূর্বের সেই গান ইথারে ভেসে বেড়াচ্ছে । চোখ বন্ধ করলেই যেন হারিয়ে যাচ্ছিলাম সেই ইতিহাসের পাতার মাঝে ।



অবশেষে আমরা দীর্ঘ প্রায় ০৬ ঘন্টা বিমানযাত্রা শেষে মদীনার প্রিন্স মোহাম্মাদ বিন আব্দুল আজিজ এয়ারপোর্টে আমাদের বিমান অবতরণ করলো। স্টুয়ার্ড আর এয়ারহোস্টেস কে ধন্যবাদ জানিয়ে আমরা একে একে নেমে আসলাম বিমানের সিড়ি বেয়ে। এরপর শুরু হল একঘেঁয়েমী লাইনে দাঁড়িয়ে ইমিগ্রশনের কাজ গুলো সাড়া।সব কাজ শেষে আমাদের বলা হল আমাদের নিজ নিজ লাগেজ গুলো বুঝে নেয়ার জন্য ।



আমাদেরকে বলা হল আমাদের লাগেজগুলো বাইরে নামানো আছে । এবং বাইরে এসে যে দৃশ্য দেখলাম সেটা অতন্ত্য অপমান জনক ছিলো আমাদের জন্য । বিমানের প্রায় ৪০০ যাত্রীর লাগেজ গুলো কতৃর্পক্ষ এলোমেলো ভাবে ফেলে রেখেছিলো পথের উপর। মনে একটা তৃপ্তির স্বাদ নিয়ে প্রিয় নবীজির শহরে পা রেখে ভাল লাগছিলো সেখানে অল্প সময়ের মধ্যে জায়গা করে নিলো অপমান আর রাগ। আসলেই নবীজি নেই তাই আজকের এই মদীনাবাসীরা ভুলে গেছে আল্লাহর ঘরের অতিথিদের কিভাবে বরণ করতে হয় ।



যা হউক কোন মতে আমরা একে একে আমাদের লাগেজগুলো খুঁজে বের করে বাসে উঠিয়ে বসলাম । আমাদের মাঝে সারওয়ার ভাই একের পর এক স্থান দেখিয়ে গাইডের মত বর্ননা করে যাচ্ছিলেন তার নিজস্ব ভংগীতে।কিছুক্ষনের মধ্যে আমাদের বাস রওয়ানা দিলো হোটেলে উদ্দেশ্যে । আমরা অবশেষে যখন হোটেলে পৌছাঁলাম তখন প্রায় রাত ১২টা বাজে । আমরা মালামাল হোটেলের রুমে উঠিয়ে সেদিন ঘুমাতে গেলাম ।ভোরে ফজরের নামাজের সময় আবার উঠে আমরা রওয়ানা হলাম জীবনে প্রথমবারের মত নবীজীর প্রিয় মসজিদ মসজিদে নব্বীতে নামাজ পড়ার উদ্দেশ্যে । ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/28948554 http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/28948554 2009-05-09 22:40:40
হজ্বের সেই দিনগুলো - ৩য় পর্ব

হজ্বের প্রস্ততি

হজ্বে যাবার জন্য ২০০৭ বছরের শুরু থেকেই মানসিকভাবে প্রস্ততি নেয়া শুরু করলাম । এ বিষয়ে আমাকে সবচাইতে বেশী সাহায্য করেছিলো আমার ফুপাতো এক বড়ভাই যিনি ইতিমধ্যে একবার হজ্ব সম্পন্ন করে ২য়বার তার আম্মার জন্য বদলী হজ্বের জন্যে প্রস্ততি নিচ্ছিলেন । চাকুরীগত কারনে আমার জন্য এই বিষয়ে সময় দেয়াটা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছিলো, বিশেষ করে কোন এজেন্সীর মাধ্যমে হজ্বে যাবো এই বিষয়ে সির্ধান্ত নেয়া । অবশেষে আমার সেই ফুপাত ভাই এর পরিচিত কিছু আত্মীয় এবং বন্ধুর সাথে যাওয়ার জন্য মনস্থির করলাম এবং সেইভাবে সব ধরনের প্রস্ততি নেয়া শুরু করলাম ।হজ্বে যাবার জন্য সব চাইতে বেশী জরুরী যেই বিষয়টি আমি মনে করি তা হল কি উদ্দেশ্যে আমি হজ্ব করছি । এই হজ্ব কি আমি আমার নিজ সন্তষ্টির জন্য করছি ? এই হজ্ব কি আমি আমার সামাজিক সম্মান ও প্রতিপত্তি বৃদ্ধি করবার জন্য করছি ? এই হজ্ব কি আমি কারও চাপে পড়ে করছি? এই হজ্ব কি আমি শুধুমাত্র একজন মুসলমান হিসেবে ফরয দায়িত্ব তদুপরি আল্লাহর সন্তষ্টির জন্য করছি?

আমার ব্যক্তিগত মত হচ্ছে এই হজ্বের উদ্দেশ্য প্রথমত আল্লাহ আমাকে হজ্বে যাবার জন্য শারিরীক এবং মানসিকভাবে যোগ্য করেছেন তার এই নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য আমি হজ্বে যাচ্ছি ।আমি হজ্বে যাচ্ছি শুধু আল্লাহকে খুশী করার জন্য এবং সর্বশেষে আমি আল্লাহর বান্দা হিসেবে আমার উপর ফরয একটি দায়িত্ব সম্পন্ন করবার জন্য আমি হজ্বে যাচ্ছি ।

মানসিকভাবে প্রস্ততি গ্রহনের সাথে সাথে আরেকটি বিষয়ের দিকে লক্ষ্য রাখা উচিত সেটা হল শারিরীক সুস্থতার প্রতি । অনেক সময় দেখা যায় এই হজ্বের বিষয়ে অনেকের কাছ থেকে নানা ধরনের মন্তব্য শুনে অনেকে হজ্বে যাবার পূর্বেই অসুস্থ হয়ে যান । হজ্ব আল্লাহর ইবাদত সমূহের মধ্যে একটি শারিরীকগত দিক থেকে কষ্টকর একটি ইবাদত । কিন্ত তাই বলে এতে ঘাবড়াবার কিছু নেই । কারন প্রতিবছর নানা দেশ থেকে অনেক বৃদ্ধ বৃদ্ধারা এই হজ্ব করছেন এবং এই বিষয়ে সবচেয়ে জরুরী বিষয় একটি সেটি হল মনের জোর । আর হজ্বে যাবার আগে প্রচুর পরিমানে হাঁটা এবং সুষম খাদ‌্য গ্রহন সেইসাথে হজ্বের আনুষ্ঠানিকতার উপর পড়াশোনাই একজন হাজী কে সঠিক ভাবে গড়ে তোলে আল্লাহর ঘরে একজন প্রকৃত মেহমান হিসেবে উপস্থিত হবার।




হজ্ব বিষয়ক পড়াশোনা


হজ্বের বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের বইয়ের বাজারে পাওয়া যায় কিন্ত এ বিষয়ে যেই সম্যসায় একজন নতুন হাজী প্রায় পড়ে থাকেন সেটি হল হজ্বের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতায় তারতম্য ।বিশেষ করে কোন কোন বইতে দোয়া দরুদের আধিক্য দেখা যায় বেশী অন্য বইগুলোর তুলনায়।ফলে কোনটি সঠিক আর কোনটি বেঠিক এই দুইয়ের দোলাচলে পড়ে হাজীরা সঠিক দিকনির্দেশনা পেতে ব্যর্থ হন। এক্ষেত্রে ভাল হয় যদি বেশ কিছু বই পড়া যায় তাহলে পাঠকের কাছে একটি ধারনা তৈরী হয়ে যাবে ।কারন সঠিক বিষয়গুলো অধিকসংখ্যক বইতে একইরকম পাওয়া যাবে । এছাড়া আরো ভালো হয় যদি কোন পূর্বের হজ্বের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কোন আলেম হাজ্বীর কাছ থেকে কিছু জানা যায়। এছাড়া প্রতিবছর হজ্বের পূর্বে বিভিন্ন এজেন্সী গুলো হজ্ব মেলার আয়োজন করে থাকে । সেই মেলায় যেমন একদিকে অনেকগুলো এজেন্সী গুলোকে একস্থানে পাওয়ায় তাদের মধ্যে তুলনা করে নিজ বাজেটে মধ্যে একটি ভাল হজ্ব প্যাকেজ বেছে নেয়া যায় । অন্যদিকে এই এজেন্সীগুলো তাদের নিজ নিজ লিফলেটের পাশাপাশি কিছু হজ্ব বিষয়ক নির্দেশিকা বিনামুল্যে সরবরাহ করে থাকে । সেই বইগুলর মাধ্যমে এই বিষয়ে একটি ভাল ধারনা লাভ করা যায়।
এছাড়া আরো ভাল হয় যদি সম্ভব হয় হজ্বের উপর ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক চ্যানেলের একটি ডকুমেন্টারী ফিল্ম "ইনসাইড মক্কা"এই ভিডিওটি দেখার । ভিডিওটি বসুন্ধরা বা যে কোন ভাল একটি কালেকশনের দোকানে খোঁজ করলে পাওয়া যাবে ।



হজ্ব এজেন্সী নির্বাচন

একদিকে মানসিক আরেকদিকে শারিরীকভাবে প্রস্ততি গ্রহন চলছে আরেকদিকে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রক্ষা করে চলছিলাম এজেন্সীর সাথে । একটি বিষয়ে খেয়াল রাখা উচিত এজেন্সী নির্বাচনে । একবারে নতুনদের জন্য সবচেয়ে ভাল হয় পরিচিতিদের মধ্যে যারা একবার হজ্ব করে এসেছেন তাদের মাধ্যমে খোঁজখবর নেয়া তাদের নিজ নিজ এজেন্সীগুলো সম্পর্কে । আর কারো পক্ষে যদি সেটা সম্ভব না হয় তাহলে তার জন্য উচিত হজ্ব মেলায় গিয়ে সরেজমিনে যাচাই করে নেয়া তার জন্য কোন এজেন্সী সবচাইতে ভাল হবে ।




সাথে কি নেব

অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষন চলে এলো একসময় যেই দিনটির অপেক্ষায় ছিলাম এতদিন । আমার সাথে আমার মা ছিলেন আমার জীবনের প্রথম হজ্বের সংগীনি হিসেবে । আমি আমার প্রস্ততির সাথে সাথে আমার মাকে একই সাথে সাহায্য করছিলাম তাঁর নিজ প্রস্ততির বিষয়ে । একে একে যখন সবধরনের আনুষাংগিক বিষয়গুলো যেমন মোয়াল্লেমের ফী , বিমান টিকিট এবং পাসপোর্টের জন্য প্রয়োজনীয় ফর্ম পূরন করা এই বিষয়গুলি সমাধান করছিলাম । একইসাথে বাজার থেকে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিষ যেমন ইহরামের কাপড় , মুজদালিফায় অবস্থানের জন্য স্লিপিং ব্যাগ এরকম আরো টুকিটাকি বহু জিনিষ কিনতে হচ্ছিলো দোকান থেকে। এই জিনিষগুলো একটি বর্ননা সাথে কোথা থেকে কেনা যায় সেটার একটি তালিকা দেয়া হল আপনাদের সুবিধার্থে ।



১। ইহরামের কাপড় - ০২ সেট ( সূতির কাপরের এক সেট আরেকটি তোয়ালে কাপরের সেট নেয়া যেতে পারে রাতে মুযদালিফার শীতের বিষয়টি মাথায় রেখে)



২। মুযদালিফায় রাতে খোলা মাঠে শোবার জন্য এক সেট স্লিপিং ব্যাগ বা হালকা বিছানা ।

৩।সম্পূর্ন ভ্রমনের বিষয়টি মাথায় রেখে পাজামা এবং পান্জাবীর সেট মোট ৪/৫ টি নেয়া যেতে পারে । এই পোশাকে স্বাছন্দ্যবোধ না করলে ঢিলেঢালা প্যান্ট শার্ট ও সাথে নিতে পারেন।এবং হজ্বের আগে বা পরে পায়ে দেবার জন্য স্যান্ডল শ্যু নেয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে ।কারন মসজিদে প্রবেশের সময় জুতা খোলার ঝামেলা কম হবে।তবে বিমানে ভ্রমনের সময় সমস্যা না হলে স্যান্ডল শ্যু খারাপ নয়। যেমন আমাদের সময় বিমানে গুটি কয়েকজন বাদে আমরা সব হজ্ব যাত্রীদের পোশাক ছিল পাজামা পান্জাবী এবং স্যান্ডল শ্যু ।



মহিলাদের ক্ষেত্রে ভাল হয় সালোয়ার কামিজের ৪/৫ টি সেট সাথে নিলে ।তাছাড়া হেজাবের ২/৩ টি সেট সাথে থাকা ভাল আর কালো হেজাবের পাশাপাশি সাদা হেজাব বিশেষ করে মাথায় স্কার্ফ বা ওড়না নিলে ভাল কারন রোদে কালোর তুলনায় সাদা বা হালকা রং এর কাপরে তাপ শোষন কম হয়।

৪। জুতা রাখার একটি কাপড়ের ব্যাগ।
৫। ২/৩ টি মাথায় দেবার টুপি।




৬।একটি কোমরবন্ধনী ইহরামের কাপড়কে বেঁধে রাখাবার জন্য।এই বন্ধনীতে একটি পকেট থাকে বিশেষ করে টাকা রাখবার জন্য।

৭। আরেকটি কাপড়ের ব্যাগ গলায় ঝুলিয়ে রাখবার জন্য যেখানে পাসপোর্ট, তাসবীহ ইত্যাদি রাখবার জন্য।এই ব্যাগটি রেডিমেট পাওয়া যায় দোকানে ।

৮। টয়লেট্রিজ সামগ্রী যেমন সাবান ,টুথপেস্ট,সেভিং ফোম,রেজার তোয়ালে বা গামছা ইত্যাদি সাথে নেয়া ।এক্ষেত্রে বিশেষ করে ভ্রমনের সময় হিসেব করে কাপড় ধোবার জন্য গুড়া সাবানের প্যাকেট কিনলে অনেক ভাল। যা পরবর্তীতে অনেক কম কষ্টে কাপড় ধোয়ার মত একটি কাজকে সহজ করে দেয় ।

৯।গুটি কয়েক বই যেখানেপছন্দের দোয়া দরুদ আছে । এছাড়া সব স্থানে বিশেষ করে মসজিদগুলোতে কোরআন শরীফের সহজলভ্যতা আছে ।তাই কষ্ট করে বাংলাদেশ থেকে বহন না করলেও চলবে ।

১০।মোবাইল এবং চার্জার ।কিছু সাদা কাগজ এবং কলম সাথে রাখা ।

১১। সাথে কালো গগলস নিলে ভাল হয় কারন কোন কোন সময় প্রখর রোদে চোখে সমস্যা হতে পারে ।

হজ্বের কেনাকাটার জন্য ঢাকায় দুটি স্থান বেশ প্রসিদ্ধ ।একটি হচ্ছে বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটের পাশের মার্কেট টি আরেকটি হচ্ছে কাকরাইলের তাবলীগ মসজিদের ভেতরে অবস্থিত একটি দোকান। এই জায়গা গুলো ছাড়াও অন্যান্য মার্কেট গুলোতে হজ্বের মওসুমে এই সব জিনিষ কিনতে পাওয়া যায় ।



এছাড়া আর ও ভাল হয় হজ্বের গাইড বইগুলো থেকে তালিকা থেকে একটা আইডিয়া নিয়ে নিজের পছন্দ মোতাবেক একটি তালিকা পূর্ব থেকে তৈরী করে নেয়া । তবে যে বিষয়টি সব সময় মনে রাখা উচিত যে হজ্বের সফর বা ভ্রমন অন্যান্য দেশ ভ্রমন থেকে একেবারেই অন্যরকম এক ভ্রমন ।তাই এই ভ্রমনে সাথে কি নেবেন এবং নিবেন না তা নির্ভর করছে আপনার হজ্ব কে কেন্দ্র করে ।আরেকটি বিষয় সবসময় হালকা জিনিষপত্র সাথে থাকলে বহনের সুবিধা থাকে সে বিষয়টি মনে রাখা ভাল ।

চলবে ....।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/28946768 http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/28946768 2009-05-05 18:55:46
হজ্বের সেই দিনগুলো - ২য় পর্ব

হজ্বে যেই প্রচুর অর্থের ব্যয় হয় তা কি দান করা উত্তম নয় ?

প্রতিবছর দেশ থেকে প্রচুর সংখ্যক হাজী হজ্ব পালনের জন্য যে প্রচুর অর্থের ব্যয় করেন তার পরিবর্তে সেই অর্থ দেশের গরীব দুঃখীদের মাঝে বিতরন করলে সেটা কি আরো উত্তম নয় কি ? প্রতিবছর হজ্বের মওসুমে এই সকল প্রশ্ন ফিরে ফিরে আমাদের মনে আসে । আবার কোন কোন ব্যক্তি এই বিষয়ে হৃদয় নিংড়ানো ভাষায় অত্যন্ত মর্মস্পর্শী গল্প ফেঁদে বসেন ।

এই ধরনের গল্প পড়ে আমরা অনেকে মনে মনে ধরে নেই আসলে হজ্বে যাবার দরকার কি ? এই অর্থ গরীব দুঃখীদের মাঝে দান করা কি আরও ন্যায় সংগত নয় ?
ইসলামে প্রতিটি ক্ষেত্রে এই দান কে সব সময় অগ্রাধিকার এবং উৎসাহিত করা হয়েছে । ।ইসলাম কখোনো ভুলে যেতে বলেননি পাশে অনাহারে থাকা উপবাসী প্রতিবেশীর কথা ।আর সেজন্য দারিদ্রতা নামক অভিশাপ থেকে সমাজকে মুক্ত রাখার জন্য ইসলাম যাকাত কে করেছে ফরয প্রতিটি সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য।আর দানের জন্য জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে উন্মুক্ত রেখেছে দরিদ্র মুসলিম ভাইকে সাহায্য করার জন্য ।আমরা যদি প্রতিটি সামর্থ্যবান মুসলমান আজ সঠিকভাবে যাকাত প্রদান করতাম তা হলে হজ্বের টাকা দান করার প্রশ্ন উঠতোনা । আমাদের সবার একটি কথা মনে রাখা উচিত হাত কখোনো পায়ের পরিপূরক হতে পারেনা হয়তো ঠেকার কাজ করানো যেতে পারে ।তবে সেটা কখোনো স্থায়ী সমাধান হতে পারেনা । তাই যে সমাজে যাকাত কে ফাঁকি দেয়া হয় সেখানে এক মাঝারী আয়ের ব্যক্তির হজ্বের উদ্দেশ্যে সারা জীবনের জমানো টাকায় কখোনো দারিদ্রতা দূর হয়না ।

কিন্ত একটি কথা আমরা সকলে ভুলে যাই যে ইসলাম কোথাও কখোনো ভারসাম্য নষ্ট করেনি। একজন সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য হজ্ব ফরয হওয়ার পূর্বে সাধারনত তার জন্য যাকাত ফরয হয় । আর তার হজ্বে যাবার পূর্বে তার জন্য ইতিমধ্যে ইসলাম তাকে দায়িত্ব প্রদান করে সমাজের দুঃখীদের প্রতি তার সামাজিক দায়িত্ব পালনের এবং এভাবে সে একজন মুসলমান হিসেবে এগিয়ে যায় ইসলামের পথে ,পরিপূর্নতার দিকে ।এখানে প্রথমেই উল্লেখ্য করা হয়েছে ইসলাম একটি ঘর যে ঘরটি ৫টি খুঁটির উপর ভর করে দাঁড়িয়ে আছে ।আর সে ঘরের একজন স্বার্থক বাসিন্দা হিসেবে সে ঘরে বাস করতে হলে তাকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে এর প্রতিটি খুঁটির দিকে । কারন এই খুঁটির সাথে ঘরটির অস্তিত্ব এবং সেইসাথে তার অস্তিত্বও জড়িত। তাই একটি খুঁটি দিয়ে আরেকটি খুঁটিকে প্রতিস্থাপন নয় বরং প্রতিটি খুঁটিকে প্রয়োজনীতার আলোকে গুরত্ব সহকারে বিচার বিবেচনা করতে হবে ।
এ প্রসংগে সূরা আল ইমরানের আয়াত ৯৭ আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন যে



মাকামে ইব্রাহীমের

“এতে রয়েছে মাকামে ইব্রাহীমের মত প্রকৃষ্ট নিদর্শন। আর যে, লোক এর ভেতরে প্রবেশ করেছে, সে নিরাপত্তা লাভ করেছে। আর এ ঘরের হজ্ব করা হলো মানুষের উপর আল্লাহর প্রাপ্য; যে লোকের সামর্থ্য রয়েছে এ পর্যন্ত পৌছার। আর যে লোক তা মানে না। আল্লাহ সারা বিশ্বের কোন কিছুরই পরোয়া করেন না।”



আমার দেখা অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি আমাদের দেশে প্রতিবছর যে বিপুল সংখ্যক হাজী হজ্ব করতে যায় তার অধিকাংশই মধ্যবিত্ত বা গ্রামের প্রবাসী ব্যক্তির গরীব পিতা যে কিনা তার ছেলের অনেক দিনের কষ্টের জমানো টাকায় হজ্ব করছে ।আর সে অনুপাতে বিত্তশালীদের সংখ্যা অনেক কম ।তাই গরীব দুঃখীদের সাহায্য করার জন্য এই সকল লোকের অর্থ কে উপজীব্য করে নয় । বরং সেই বিত্তশালীদেরকে তাদের উপার্জিত সাদা আর কালো টাকার উপর সঠিক যাকাত প্রদানের জন্য এবং সমাজের গরীবকে দানের জন্য উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে মর্মস্পর্শী ভাষায় কাহিনী লিখে তাদের কে ইসলামের সঠিক পথে পরিচালিত করাই উত্তম বলে মনে করি ।দেহের পা এবং হাত যদি স্বস্থানে থেকে নিজ নিজ কাজ সঠিক ভাবে করে তাহলে কোন বিকল্পর প্রশ্নই আসেনা ।তাই হজ্বের টাকা দানের বিকল্প হিসেবে নয় বরং হজ্ব পালনের জন্যই বিবেচ্য বলে মনে করি।

পবিত্র কোরআনে হজ্বের গুরুত্ব :



সূরা আল বাক্বারাহ, আয়াত সংখ্যাঃ ১২৫

যখন আমি কা’বা গৃহকে মানুষের জন্যে সম্মিলন স্থল ও শান্তির আলয় করলাম, আর তোমরা ইব্রাহীমের দাঁড়ানোর জায়গাকে নামাযের জায়গা বানাও এবং আমি ইব্রাহীম ও ইসমাঈলকে আদেশ করলাম, তোমরা আমার গৃহকে তওয়াফকারী, অবস্থানকারী ও রুকু-সেজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখ।



সূরা আল বাক্বারাহ, আয়াত সংখ্যাঃ ১৮৫

নিঃসন্দেহে সাফা ও মারওয়া আল্লাহ তা’আলার নিদর্শন গুলোর অন্যতম। সুতরাং যারা কা’বা ঘরে হজ্ব বা ওমরাহ পালন করে, তাদের পক্ষে এ দুটিতে প্রদক্ষিণ করাতে কোন দোষ নেই। বরং কেউ যদি স্বেচ্ছায় কিছু নেকীর কাজ করে, তবে আল্লাহ তা’আলার অবশ্যই তা অবগত হবেন এবং তার সে আমলের সঠিক মুল্য দেবেন।

সূরা আল বাক্বারাহ, আয়াত সংখ্যাঃ ১৯৬

আর তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ্জ্ব ওমরাহ পরিপূর্ণ ভাবে পালন কর। যদি তোমরা বাধা প্রাপ্ত হও, তাহলে কোরবানীর জন্য যাকিছু সহজলভ্য, তাই তোমাদের উপর ধার্য। আর তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত মাথা মুন্ডন করবে না, যতক্ষণ না কোরবাণী যথাস্থানে পৌছে যাবে। যারা তোমাদের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়বে কিংবা মাথায় যদি কোন কষ্ট থাকে, তাহলে তার পরিবর্তে রোজা করবে কিংবা খয়রাত দেবে অথবা কুরবানী করবে। আর তোমাদের মধ্যে যারা হজ্জ্ব ওমরাহ একত্রে একই সাথে পালন করতে চাও, তবে যাকিছু সহজলভ্য, তা দিয়ে কুরবানী করাই তার উপর কর্তব্য। বস্তুতঃ যারা কোরবানীর পশু পাবে না, তারা হজ্জ্বের দিনগুলোর মধ্যে রোজা রাখবে তিনটি আর সাতটি রোযা রাখবে ফিরে যাবার পর। এভাবে দশটি রোযা পূর্ণ হয়ে যাবে। এ নির্দেশটি তাদের জন্য, যাদের পরিবার পরিজন মসজিদুল হারামের আশে-পাশে বসবাস করে না। আর আল্লাহকে ভয় করতে থাক। সন্দেহাতীতভাবে জেনো যে, আল্লাহর আযাব বড়ই কঠিন।

আয়াত সংখ্যাঃ ১৯৭

হজ্জ্বে কয়েকটি মাস আছে সুবিদিত। এসব মাসে যে লোক হজ্জ্বের পরিপূর্ণ নিয়ত করবে, তার পক্ষে স্ত্রীও সাথে নিরাভরণ হওয়া জায়েজ নয়। না অশোভন কোন কাজ করা, না ঝাগড়া-বিবাদ করা হজ্জ্বের সেই সময় জায়েজ নয়। আর তোমরা যাকিছু সৎকাজ কর, আল্লাহ তো জানেন। আর তোমরা পাথেয় সাথে নিয়ে নাও। নিঃসন্দেহে সর্বোত্তম পাথেয় হচ্ছে আল্লাহর ভয়। আর আমাকে ভয় করতে থাক, হে বুদ্ধিমানগন! তোমাদের উপর তোমাদের পালনকর্তার অনুগ্রহ অন্বেষণ করায় কোন পাপ নেই।

আয়াত সংখ্যাঃ ১৯৮
তোমাদের উপর তোমাদের পালনকর্তার অনুগ্রহ অন্বেষন করায় কোন পাপ নেই। অতঃপর যখন তওয়াফের জন্য ফিরে আসবে আরাফাত থেকে, তখন মাশ‘ আরে-হারামের নিকটে আল্লাহকে স্মরণ কর। আর তাঁকে স্মরণ কর তেমনি করে, যেমন তোমাদিগকে হেদায়েত করা হয়েছে। আর নিশ্চয়ই ইতিপূর্বে তোমরা ছিলে অজ্ঞ।

আয়াত সংখ্যাঃ ১৯৯

অতঃপর তওয়াফের জন্যে দ্রুতগতিতে সেখান থেকে ফিরে আস, যেখান থেকে সবাই ফিরে। আর আল্লাহর কাছেই মাগফেরাত কামনা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাকারী, করুনাময়।

আয়াত সংখ্যাঃ ২০০

আর অতঃপর যখন হজ্জ্বের যাবতীয় অনুষ্ঠানক্রিয়াদি সমাপ্ত করে সারবে, তখন স্মরণ করবে আল্লাহকে, যেমন করে তোমরা স্মরণ করতে নিজেদের বাপ-দাদাদেরকে; বরং তার চেয়েও বেশী স্মরণ করবে। তারপর অনেকে তো বলে যে পরওয়াদেগার! আমাদিগকে দুনিয়াতে দান কর। অথচ তার জন্যে পরকালে কোন অংশ নেই।

সূরা আল ইমরান, আয়াত সংখ্যাঃ ৯৬

নিঃসন্দেহে সর্বপ্রথম ঘর যা মানুষের জন্যে নির্ধারিত হয়েছে, সেটাই হচ্ছে এ ঘর, যা মক্কায় অবস্থিত এবং সারা জাহানের মানুষের জন্য হেদায়েত ও বরকতময়।

সূরা হাজ্ব আয়াত সংখ্যা ২৬ থেকে ২৯ পর্যন্ত

যখন আমি ইব্রাহীমকে বায়তুল্লাহর স্থান ঠিক করে দিয়েছিলাম যে, আমার সাথে কাউকে শরীক করো না এবং আমার গৃহকে পবিত্র রাখ তাওয়াফকারীদের জন্যে, নামাযে দন্ডায়মানদের জন্যে এবং রকু সেজদাকারীদের জন্যে।




এবং মানুষের মধ্যে হজ্বের জন্যে ঘোষণা প্রচার কর। তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং সর্বপ্রকার কৃশকায় উটের পিঠে সওয়ার হয়ে দূর-দূরান্ত থেকে।

যাতে তারা তাদের কল্যাণের স্থান পর্যন্ত পৌছে এবং নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নাম স্মরণ করে তাঁর দেয়া চতুস্পদ জন্তু যবেহ করার সময়। অতঃপর তোমরা তা থেকে আহার কর এবং দুঃস্থ-অভাবগ্রস্থকে আহার করাও।

এরপর তারা যেন দৈহিক ময়লা দূর করে দেয়, তাদের মানত পূর্ণ করে এবং এই সুসংরক্ষিত গৃহের তাওয়াফ করে।

আল ফাতহ, আয়াত সংখ্যাঃ ২৭

আল্লাহ তাঁর রসূলকে সত্য স্বপ্ন দেখিয়েছেন। আল্লাহ চাহেন তো তোমরা অবশ্যই মসজিদে হারামে প্রবেশ করবে নিরাপদে মস্তকমুন্ডিত অবস্থায় এবং কেশ কর্তিত অবস্থায়। তোমরা কাউকে ভয় করবে না। অতঃপর তিনি জানেন যা তোমরা জান না। এছাড়াও তিনি দিয়েছেন তোমাদেরকে একটি আসন্ন বিজয়।

পবিত্র কোরআনে বর্ণিত উপরোক্ত আয়াতগুলো পর্যালোচনা করে হজ্বের উপর আল্লাহতায়ালার আরোপিত গুরুত্বতা সম্পর্কে একটি ধারনা পাওয়া যায়।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/28945916 http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/28945916 2009-05-03 19:21:54
হজ্বের সেই দিনগুলো-১ম পর্ব পটভুমিকা:
বছর ঘুরে আবার আসছে হজ্বের মওসুম। সেই সুদূর পবিত্র মক্কা এবং মদীনা থেকে ভেসে আসছে আমন্ত্রন বার্তা ।আল্লাহর ঘরে মেহমান হবার জন্য যারা নিজেকে প্রস্তুত করছেন বা করবেন তাদের জন্য মূলত আমার এই নিজ অভিজ্ঞতা লব্ধ জ্ঞান থেকে এই পোস্ট। আশা করি সীমিত জ্ঞানের আলোকে লেখা বলে ভুল হলে সংশোধন করবেন।আর ভাল লাগলে পোস্টের স্বার্থকতা।এই লেখার মাঝে থাকবে ইতিহাসের কিছু ঘটনা,নিজের একান্ত কিছু অনুভূতি,কিছু টিপস যা হজ্বের সময়ে কিছু অনর্থক কষ্টকে লাঘব করবে আর অসংখ্য ছবি কিছু নিজের তোলা আর কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রকৃত।



“লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক ..। “

শৈশবে দেখা সেই হজ্বের দৃশ্য এখনও চোখে ভাসে । সাদা ইহরামের কাপড় পরিহিত লাখো হাজীর কন্ঠে একই সুর আর মনে সেই একই তাওহীদের বাণী । লাখো কন্ঠে সম্মিলিত গর্জন “লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক —– আমি হাজির হে আল্লাহ, আমি হাজির । আমি হাজির, নেই কোন শরীক তোমার ,তুমি এক । আমি হাজির সকল নেয়ামত সে শুধু তোমারই । সকল সাম্রাজ্যর মালিক একমাত্র তুমি। নেই কোন তোমার শরীক ”

সুপ্ত বাসনার সূত্রপাত সেই থেকে । ধর্ম বিষয়টি যদিও কখোনো আমার উপর পরিবার পক্ষ থেকে সেভাবে চাপিয়ে দেয়া হয়নি । কিন্ত ছোটবেলা থেকেই দাদীর কাছ থেকে হাতে খড়ি হয়েছিলো ধর্মীয় আচার আচরণ বিশেষ করে নামাজ শিক্ষার। নিয়মিত না হলেও নামাজ পড়তাম ছোটবেলা থেকেই ।কোন ধরনের চাপ না থাকা স্বত্তেও বরং দাদীর অনুপ্রেরনায় ভালবাসতে শুরু করলাম পিতৃপ্রদত্ত ইসলাম ধর্মকে।

ছোটবেলা থেকে লক্ষ্য করতাম প্রতিবছর হজ্বে যে সকল হাজী বিশেষ করে আমাদের দেশ থেকে অংশ নিতেন তার অধিকাংশ ছিলেন ৬৫ এর উর্ধ্বে ।ফলে ধারণা করে নিয়েছিলাম হজ্বে যাবার উপযুক্ত বয়স হয়ত এটাই । কিন্ত বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমার এই ধারণা ভুল বলে প্রমানিত হল। যদিও এখনও আমাদের দেশে অনেকের মাঝে আজও এই ধারনা পোষন করতে দেখা যায়।
আর এই ধারনার পেছনে কাজ করে থাকে নানাবিধ কারন । কেউ কেউ আছেন সব বুঝেন এবং জানেন কিন্ত এই ভয়ে হজ্বে যান না কারন হজ্ব থেকে এসে তাকে নিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন করতে হবে এবং উছৃন্খলতা পরিহার করে একজন মুসলমান হিসেবে জীবনযাপন করতে হবে ।

আর কেউবা এসবের ধার ধারেন না মোটেও তারা মূলত হজ্বে যান কারন নামের পাশে আলহাজ্ব শব্দটি তাদের রাজনৈতিক,সামাজিক এবং ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য। আর এর প্রমান হজ্ব থেকে আসার সময় কতিপয় হাজীর লাগেজে ,ব্যাগেজে এবং সর্বত্র নামের আগে আলহাজ্ব শব্দটির প্রকট ব্যবহার ।

আর কারও কারও অভিপ্রায় আরো হাস্যকর তারা মনে করেন হজ্বে যাবার উপযুক্ত সময় বৃদ্ধকালে ,মৃত্যুর পূর্বে জীবনকে সম্পূর্নভাবে উপভোগ করে সেটা ন্যায় বা অন্যায় যে পথেই হউক । তারপর হজ্বে গিয়ে সব গুনাহ মাফ চেয়ে বেহেশত নিশ্চিত করা ।



হজ্ব কেন?

একজন সাধারন মুসলমান হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের হজ্ব সম্পর্কে এইটুকু মৌলিক জ্ঞান থাকা দরকার যে ,হজ্ব হচ্ছে ইসলামের মূল ৫টি স্তম্ভের একটি স্তম্ভ বা খুঁটি । একটি ঘরের অস্তিত্ব যেমন এর খুঁটির উপর নির্ভর করে এবং এর আবশ্যকীয় যে কোন একটি খুঁটির অভাবে যেমন ঘরটির অস্তিত্বর ভারসাম্যর ব্যাঘাত ঘটে ।ঠিক তেমনি ইসলামের যে ৫টি খুঁটির উপর দাঁড়িয়ে আছে তার একটি খুঁটির নাম হজ্ব। অতএব আমি যদি নিজেকে মুসলিম হিসেবে দাবী করি এবং এই ইসলাম নামক ঘরটির ছায়ায় স্থান নিতে চাই তাহলে এর প্রতিটি খুঁটির সাথে নিজেকে আত্মিক এবং শারিরীকভাবে সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে ।এই ঘরের প্রতিটিট নিয়ম কানুন আমাকে মেনে চলতে হবে । এখানে একটি প্রশ্ন মনে স্বাভাবিক ভাবে জাগতে পারে । ৫টি স্তম্ভের মধ্যে ১টি হল নামাজ আর বাকী ৪টি হল যাকাত ,রোজা,হজ্ব এবং সবার আগে আল্লাহর একত্ববাদের উপর ঈমান বা বিশ্বাস স্থাপন করা ।এখন প্রতিটি মুসলমান নামাজ ,রোজা এবং ঈমান স্থাপনের কাজগুলি করতে পারলেও সবার পক্ষে কি যাকাত প্রদান এবং হজ্ব পালন করা কি সম্ভবপর হয় ? কারন এই দুটো সম্পূর্নভাবে নির্ভর করে সামর্থ্যর উপর।

যাকাত প্রদানের বিষয়টি যেমন সম্পদের নির্দিষ্ট পরিমান না থাকলে প্রযোজ্য হয়না ঠিক তেমনি হজ্ব পালনের আর্থিক বা শারিরীক সামর্থ্য না থাকলে একইভাবে সেই মুসলমানের উপর হজ্ব ফরয হয়না ।তবে ক্ষেত্রে বিশেষে যদি শুধুমাত্র আর্থিক সামর্থ্য থাকলে এবং শারিরীকভাবে সামর্থ্য না থাকলে সেক্ষেত্রে একজন অসুস্থ বা বয়স্ক মুসলমান আরেকজন হাজীর মাধ্যমে বদলী হজ্ব করিয়ে নিতে পারে ।

তাই আল্লাহ যখন কোন মুসলিম পুরুষ বা মহিলাকে হজ্বে পালনের সামর্থ্য দেন তার উচিত সময়ক্ষেপন না করে দ্রুত হজ্বের প্রস্তুতি গ্রহণ করা ।মহিলাদের ক্ষেত্রে হজ্বে যাবার সময় অবশ্যই সফর সংগী হিসেবে ধর্মীয় বিধি অনুযায়ী যার সাথে বিবাহ সম্পর্ক হয়না এমন আত্মীয়ের সাথে যাওয়া উত্তম। মনে রাখতে হবে যখন থেকে একজন মুসলিমকে হজ্বে যাবার সামর্থ্য আল্লাহ তাকে দান করেন তখন থেকেই সেই মুসলিম আল্লাহর কাছে প্রতিটি মূহুর্তের জন্য দায়বদ্ধ থাকেন তাঁর নিজ সময়ক্ষেপনের জন্য ।

যাকে আল্লাহ তার নিয়ামতের দ্বার উন্মুক্ত করে দেন এবং পরিপূর্ণ করেন । এবং হজ্বে যাবার সামর্থ্য দান করেন ।তখনই তার জন্য হ্জ্ব ফরয হয়ে যায় । এবং কে জানে এই বছরের পরেই হয়ত তার সামর্থ্যকে কেড়ে নেয়া হবে অথবা সেই ব্যক্তি চির বিদায় নিবে এই পৃথিবীর বুক থেকে ।তাই সময় থাকতেই আল্লাহর ঘরে মেহমান হবার আমন্ত্রণ পত্র যারা পেয়েছেন ,তাদের উচিত দেরী না করে আল্লাহ পাকের দরবারের দাওয়াত কবুল করে নেয়া । মনে রাখবেন এই আমন্ত্রণ আল্লাহ পাক অনেকের ভাগ্যে এই জীবনে দান করেন না যা আপনি পেয়েছেন। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/28945126 http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/28945126 2009-05-01 20:37:49
বনসাই




সাধ্য ছিলো আকাশ কে ছোঁয়ার
মাটির গভীরে সুপ্ত শিকড়ের ভালোবাসায় মাটির সাথে ঘর বাধার ।

ইচ্ছে ছিলো স্ব মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে
মহীরুহের ছায়া হয়ে ধরনীর বুকে বেঁচে থাকার

এক বটবৃক্ষের চারার ছিলো শুধু এইটুকু আকুতি
স্ব মহিমায় উদ্ভাসিত হবার এতটুকু আকাংখা।

স্বপ্ন বুনে যায় সে নয়নভিরাম শোকেসের কাঁচে চোখে রেখে
দিনের পর দিন।

নীল আকাশ কে ছোঁয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে ছোট্ট এক বনসাই।

আকাশ তার হয়নি ছোঁয়া আর , মাটির গভীরে ভালোবাসার ঘর বাঁধার

অপরাধ তার এতটুকুই

বটবৃক্ষ না হয়ে ,
হয়ে ছিল সে ছোট্ট এক বনসাই




কবিতা লেখা অনেক কঠিন বিষয়গুলির একটি তবু মাঝে মাঝে কিছু দৃশ্য দেখে ছোট ছোট বোধের জন্ম নেয় মনের কোনে । কিছু একটা লিখতে মন চায় । সেই বোধগুলোকে সুন্দর কিছু শব্দের বেড়াজালে বাধতে মন চায় ।

এই লেখাটা কবিতা হয়েছে আমি তা দাবী করতে চাইনা কারন এখানে যারা কবিতা লেখে থাকে তারা এইটা আমার চেয়ে ভাল বুঝবেন । তবে আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলতে চাই কিছুদিন আগে জানালার ধারে শোকেসের ভেতর এক বনসাই কে দেখে মনে হলে ও যেন কিছু বলতে চাচ্ছে । ওর নিরব ভাষাকে মনে হল কিছুটা বুঝতে পেরেছিলাম সেই বনসাই এর দুঃখ টা শুধু শেয়ার করলাম সবার সাথে ।

সবার শেষে এইটুকুই বলতে চাই প্রকৃতি যেভাবে সৃষ্টি এবং যে নিজস্ব গতিতে এগিয়ে চলে তাকে সেভাবেই চলতে দেয়া উচিত । সৌন্দর্যের দোহাই দিয়ে প্রকৃতির সৌন্দর্যকে ধ্বংস করা উচিত নয়।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/28862450 http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/28862450 2008-10-31 12:02:06
বৃষ্টি কে বলছি

জলের নেই কোন গন্ধ নেই কোন রুপরস ।তবু এই জলকে বুকে ধারন করে যখন নদী ভরা প্লাবনের জোয়ারে যৌবনাবতী চঞ্চল চপলার ন্যায় ছুটে চলে নদী হয়ে উঠে যৌবনের প্রতীক। জলের ধারা যখন সগর্জনে জলপ্রপাতের ন্যায় আছড়ে পড়ে কঠিন পাথড়ের বুকে আমরা শিহরিত হই তার শব্দে ।




এই জল যখন আকাশের গায়ে কালো মেঘে ভর করে নামে অঝোর ধারায় বৃষ্টি হয়ে এই বসুন্ধরার বুকে। আমরা হারিয়ে যাই আমাদের বৃষ্টিস্নাত স্মৃতির পাতা রোমন্হনে । গভীর রাতে দোচালা টিনের ঘরে ঝমঝম কখনো বা রিমঝিম শব্দের বৃষ্টি শুনেনি তার শৈশবে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যাবে ।

যদিও জলের নেই নিজস্ব গন্ধ বা রুপরস কিন্ত বৃষ্টির আছে গন্ধ, আছে রুপ ,আছে শব্দ । তাই বৃষ্টি মানুষকে ভাবায় কখনোবা কাঁদায় । বৃষ্টির সাথে মাটি থেকে উঠে আসা সোঁদা গন্ধ মানুষকে তার শিকড়ের তার মাটির কথা মনে করিয়ে দেয় ।তাইতো বৃষ্টির সাথে সাথে মনে পড়ে যায় প্রচন্ড বৃষ্টিতে স্কুল পালিয়ে মাঠে খেলে বেড়ানোর সেই দিনগুলি কথা।



বৃষ্টির সাথে সাথে যখন চারপাশের রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যায় নিমিষে ,হয়তো বা দেখা যায় গলির মাথায় একাকী এক পথিকের ঘরে ফেরা । তখন মনে হয় নিজেকে সেই পথিকের মত যে সারাটি জীবন কাটিয়ে আজ জীবন সায়ান্থের শেষ প্রান্তে সেই পথিকের মত ভীষন একাকী ।



রাস্তার মোড়ে চায়ের দোকানে পাশে ফুটপাথে রাখা খালি টেবিলটা যেন মনে করিয়ে দেয় সেই কফি হাউসের কথা । টেবিল টি শুধু আছে, নেই শুধু এর চারধারে আড্ডায় জমিয়ে রাখা প্রানবন্ত মানুষগুলো ।



মনে পড়ে যায় কৈশোরে প্রথম ভালা লাগা । বৃষ্টির দিনে পাশের বাড়ীর খোলাছাদে উজ্জল হলুদ ফ্রকে ছুটে বেড়ানো সেই মেয়েটির কথা ।



জলের সাথে জল খেলা করে যখন তারই প্রতিধ্বনি শুনি কান পেতে । মেঘের গর্জনের সাথে ফোঁটা ফোঁটা জল নেমে আসছে ধরনীর বুকে আমি শুনছি সিম্ফনীর মূর্ছনা।





বৃষ্টি প্রকৃতিকে করে সিক্ত। ধুয়ে মুছে দেয় ধূলায় ধূসরিত পাতাগুলোকে।যেন মনে হয় অনেকদিনের পাপবোধ রিক্ততা শুন্যতা কে বৃষ্টি জলে বিসর্জন দিয়ে প্রকৃতি আজ মুক্ত।




যেন প্রকৃতি আজ সেই নিষ্পাপ শিশুটির মত পরিশুদ্ধ হয়ে বিধাতার পানে চেয়ে আছে আশীর্বাদে ধন্য হতে ।








বৃষ্টি সারা আকাশ আজ ভেংগে তুমি ঝড়ে পরো । এসো তুমি আমার জীবনে আশীর্বাদ হয়ে ।ধুয়ে মুছে নিয়ে যাও যত হতাশা আর পন্কিলতা । জীবনকে করো পরিশুদ্ধ । আজ অনেকদিন পর খুব ইচ্ছে করছে তোমার জলে সিক্ত হয়ে আমার পাপকে বিসর্জন দিতে , আমার হতাশাকে নতুন স্বপ্নে বদলে দিতে । আমার কৈশোরের প্রেম,হারানো বন্ধু ,
আমার না দেখা স্বপ্ন সব কিছুকে একবার ছুঁয়ে দেখতে ।




বৃষ্টিতে হাঁটতে ভাল লাগে আমার কারন কেউ দেখেনা এই দুচোখের জল ধুয়ে যায় বৃষ্টিধারায়



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/28859610 http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/28859610 2008-10-25 20:24:43
জাতিসংঘে কাজ করার একটি সূবর্ন সুযোগ !!!!!

সম্প্রতি জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে বাংলাদেশ সহ বেশকটি দেশের জন্য পি-২ গ্রেডের জন্য রিক্রুটমেন্টের আবেদন অনলাইনে নেয়া হচ্ছে । এবং এর সময়সীমা ৩১শে অক্টোবর পর্যন্ত ।

এখানে উল্লেখ্য যে জাতিসংঘে পি২ ,পি৩ এবং পি৪ এই গ্রেডগুলো বিদ্যমান।তারমধ্য পি২ তে রিক্রুটমেন্টের পর যখন সেই কর্মীর কাজ গ্রহনযোগ্যতা পায় তখন সে ধারাবাহিকভাবে পরীক্ষা দিয়ে পরবর্তী ধাপগুলোতে পদোন্নতি নিয়ে এগিয়ে যায় ।

বাংলাদেশের জন্য নিম্মলিখিত বিষয়গুলোতে লোক নেয়া হবে

১।প্রশাসন
২।অর্থনীতি
৩।ফিন্যান্স
৪। ইনফোরমেশন টেকনোলজী
৫।পাবলিক ইনফোরমেশন
৬।সিকিউরিটি
৭।সোশ্যাল এফেয়ার্স
৮।পরিসংখ্যান

এবং প্রার্থীকে নিম্ম লিখিত যোগ্যতা থাকলেই শুধুমাত্র সে এই পি২ তে আবেদন করতে পারবে।

যোগ্যতা
১। ইংরেজী বা ফেন্চ ভাষায় অনর্গল কথা বলা এবং লেখার পারদর্শীতা
২।এবং প্রার্থীর বয়সসীমা হতে হবে ৩১ শে ডিসেম্বর ২০০৯ এ ৩২ এর বেশী নয়।
৩। যদি কোন বিষয়ে আবেদন সংখ্যা বেশী হয় সেক্ষেত্রে বোর্ড যোগ্যতার উপর বিচার করে মেইলের মাধ্যমে পরীক্ষার জন্য বাছাইকৃত প্রার্থীদের জানিয়ে দিবে।
৪। প্রার্থীর কমপক্ষে একটি ফার্স্ট লেভেল ইউনিভার্সিটি ডিগ্রি (ব্যাচলর) থাকতে হবে



১ বছর ইউএনে কাজ করার নিরিখে বলতে পারি ।যদিও এই কাজে যথেষ্ঠ বিপদের ঝুঁকি কখনো কখনো থাকে ।তবে একই সাথে নিউইয়র্কের হেড অফিসের মত আন্তজার্তিক পরিমন্ডলে কাজ করার সুযোগও মেলে।ইউ এন এ আমি দেখেছি প্রচুর পরিমান ভারতীয় এবং পাকিস্তানীদের আইটি সেক্টরে কাজ করতে ,এবং এক্ষেত্রে বাংলাদেশী রা এখন কোন অংশে কম নয়।সুযোগ পেলে আমাদের দেশের অনেক ছেলেমেয়েরা একাজে তাদের যোগ্যতার প্রমান দিতে সক্ষম।

আর ইউএনের চাকরীর সবচেয়ে লোভনীয় দিকটি হচ্ছে এর বেতন এবং অন্যান্য সুবিধাদি।

যাই হোক খবরটি জেনে আপনাদের জানাতে ওয়েবে দিয়ে দিলাম যারা আগ্রহী তারা খোঁজ নিয়ে অতি শীঘ্রই আবেদন করুন কারন ৩১ শে অক্টোবর হচ্ছে শেষ সময়সীমা। আর অন্যদের জানাতেও ভুলবেননা ।

এই আবেদনে যারা পরীক্ষা দিয়ে চূড়ান্তভাবে পরীক্ষা দিয়ে মনোনীত হবেন তারা নিম্নের ইউ এন অফিসে নিয়োগ পেতে পারেন আদ্দিস আবাবা,বৈরুত,ব্যান্কক,জেনেভা মেক্সিকো,নাইরোবি,নিউইয়র্ক,সান্তিয়াগো এবং ভিয়েনা




বিস্তারিত জানতে নিচের লিন্কে ক্লিক করুন

Click This Link


http://www.un.org/depts/OHRM/examin/2009e.pdf

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/28855552 http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/28855552 2008-10-16 16:05:31
The Jewel of Medina(Freedom of speach এবং artistic license নামে মিথ্যার বেসাতি)


সম্প্রতি আমার ব্লগে একজন ব্লগার একজন পেশাদার সাংবাদিক ও আমেরিকান লেখিকা শেরী জোনসের লেখা তার জীবনের প্রথম ইতিহাস কেন্দ্রিক একটি উপন্যাস টির অনুবাদের একটি কষ্টকর কাজ হাতে নিয়েছেন । যার কাহিনী মূলত ইসলাম ধর্মের সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রসুল হজরত মোহাম্মদ (সাঃ) এবং তার পত্নী বিবি আয়েশা (রাঃ) কে নিয়ে রচিত হয়েছে।

লেখিকা শেরী জোনস যিনি বর্তমানে একজন পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে ১৯৭৯ সাল থেকে কাজ করে আসছেন । তিনি বর্তমানে ওয়াশিংটন ডিসি তে একটি আন্তজার্তিক সংবাদ সংস্থার ন্যাশনাল এফেয়ার্স বুরো তে কর্মরত আছেন ।তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন ম্যাগাজিনে প্রবন্ধ লেখালেখিতে নিজেকে ব্যস্ত রেখে , অবশেষে তার জীবনের প্রথম এবং একটি বিতর্কিত উপন্যাস The Jewel Of Medina লেখেন । তার নিজ ভাষ্যমতে দীর্ঘ ৬ বৎসর যাবৎ ব্যাপক গবেষনা এবং পড়াশোনা পর এই উপন্যাসে তিনি বিবি আয়েশা (রঃ) এবং হজরত মোহাম্মদ (সাঃ) মধ্যকার ভালোবাসার কাহিনী কে পশ্চিম বিশ্বে এই উপন্যাসে মাধ্যমে তুলে ধরেছেন । এবং তিনি এই উপন্যাসে হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে একজন সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করেছেন (তার ভাষ্যমতে)। এই উপন্যাস মূলত সাহিত্যকেন্দ্রিক হলেও এটি রচিত হয়েছে ঐতিহাসিক ঘটনাকে আবর্তন করে।

এবার আসা যাক বইটি বিতর্কিত হওয়ার পেছনের কারনগুলো । প্রথম প্রকাশের পূর্বে এই বইয়ের একটি কপি যখন প্রখ্যাত ইসলামিক স্টাডিজের প্রফেসর অধ্যাপক ডিনাইস স্পেলবার্গের কাছে এই লেখিকার অনুরোধে পাঠানো হয়। তিনি বইটি পড়ে সাথে সাথে তার নিজ প্রকাশক কে ডেকে এই বইটি প্রকাশনা করা থেকে বিরত থাকতে বলেন।এবং একই সাথে তিনি বিখ্যাত প্রকাশনী র‌্যানডম হাউসকেও এই বিষয়ে সাবধান করে দেন । এবং তারই মতামতের উপর ভিত্তি করে র‌্যানডম হাউস এই বইয়ের প্রকাশনা থেকে পিছিয়ে আসে ।

এবার আসা যাক এই বইটি সম্পর্কে ইসলামিক স্টাডিজের প্রফেসর অধ্যাপক ডিনাইস স্পেলবার্গের মন্তব্য :

In an interview, Ms. Spellberg told me the novel is a “very ugly, stupid piece of work.” The novel, for example, includes a scene on the night when Muhammad consummated his marriage with Aisha: “the pain of consummation soon melted away. Muhammad was so gentle. I hardly felt the scorpion’s sting. To be in his arms, skin to skin, was the bliss I had longed for all my life.” Says Ms. Spellberg: “I walked through a metal detector to see ‘Last Temptation of Christ,’” the controversial 1980s film adaptation of a novel that depicted a relationship between Jesus and Mary Magdalene. “I don’t have a problem with historical fiction. I do have a problem with the deliberate misinterpretation of history. You can’t play with a sacred history and turn it into soft core pornography.”

অতপর সার্বিয়ার এক প্রকাশনী দায়িত্ব নিয়ে শুরু করে এর প্রকাশনীর কাজ। এবার আসা যাক উপন্যাস সম্পর্কে altmuslim.com কে দেয়া লেখিকার একটি
সাক্ষাৎকারের কিছু চুম্বক অংশ ।

Did you prepare yourself for such a reaction?

Well, I did anticipate controversy. I consciously envisioned myself, for example, reading my book in a bookstore on a book tour and having people challenge the things I had written, or challenge my perceptions of Islam. I didn’t think much about people who didn’t like Muslims. Mostly I was aware of the sensitivities of Muslims. Because I have altered the historical record, the historical narrative.

I have done things like put a sword in Aisha’s hand. I have depicted this ancient culture, about which so little has actually been written… a lot of it was derived from my imagination. The characters themselves, many of the wives, there is so little known about them and their personalities. So I gave personalities to these women, whether they were actually like that or not. Who knows?

But I did all this in the service of what I see as a truth. My truth - this is my vision of what things would have been like based on my own experiences and my own research and my own intuition and observations of human nature. I’m very sure of the work I’ve done and the choices I’ve made. I know why I did everything I did in that book. Maybe at the time I was doing it I wasn’t always sure, but I revised this book seven times.

লেখাটি কে লেখিকা একটি Historical fiction হিসেবে দেখাতে চেয়েছেন ।

এই ফাঁকে আসুন একটু চোখ বুলিয়ে নেই Historical fiction আসলে বিষয়টি কি?

Historical fiction- Definition

Historical fiction presents readers with a story that takes place during a notable period in history, and usually during a significant event in that period.
Historical fiction often presents actual events from the point of view of people living in that time period.
In some historical fiction, famous events appear from points of view not recorded in history, showing historical figures dealing with actual events while depicting them in a way that is not recorded in history. Other times, the historical event complements a story’s narrative, occurring in the background while characters deal with events (personal or otherwise) wholly unrelated to recorded history. Sometimes, historical fiction can be for the most part true, but the names of people and places have been in some way altered.

As this is fiction, artistic license is permitted in regard to presentation and subject matter, so long as it does not deviate in significant ways from established history. If events should deviate significantly, the story may then fall into the genre of alternate history

এবং এই Historical fiction এর আড়ালে খুব সুক্ষভাবে তিনি চেষ্টা করেছেন একটি বিশেষ ধর্মের বিশেষ কিছু চরিত্রকে একজন লেখকের artistic license এর ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ইচ্ছেমত বিকৃত করতে ।

এবং এর প্রমান তিনি নিজেই সাক্ষাৎকারের প্রথম চিন্হিত অংশে উল্লেখ্য করেছেন।

২য় চিন্হিত অংশে তিনি নিজেই স্বীকার করলেন এই উপন্যাসের বেশীরভাগ অংশে তিনি নিজের কল্পনাকে ব্যবহার করেছেন কারন হিসেবে তিনি ইতিহাসের বর্ননার সীমাবদ্ধতাকে উল্লেখ করেন ।

কিন্ত কল্পনার রং চড়িয়ে তিনি ইতিহাসকে তার বইয়ের অনেক অংশে বিকৃত করে ছেড়েছেন।,

এবার আসুন লেখিকার কাহিনী সম্পর্কে আমরা ইতিমধ্যে আমাদের এক ব্লগারের অনুবাদের কিছু অংশ থেকে জানতে পেরেছি সাফওয়ানের সাথে যখন বিবি আয়েশা (রঃ) যখন মদীনায় প্রবেশ করছিলেন তখন নাকি চারিদিকে কেলেন্কারীর খবর শুনে
“ক্লান্তিতে আমার চোখ বন্ধ হয়ে আসল, নিজের অজান্তে আমার মাথা হেলে গেলো সাফওয়ানের চওড়া কাদে। “

উপন্যাসে এসেছে এইভাবে
I let my eyelids fall shut, avoiding my reflection in the stares of my umma, my community. I licked my cracked lips, tasting salt and the tang of my wretchedness. Pain wrung my stomach like strong hands squeezing water from laundry, only I was already dry. My tongue lolled like a sun-baked lizard. I rested my cheek against Safwan’s shoulder, but the horse’s trot struck bone against bone.

নেকলেস হারানোর ঘটনাটি বুখারী হাদিস থেকে বিবি আয়েশার নিজে বর্নিত ঘটনাটি পড়লে এই বিষয়ে পরি্ষ্কার ধারনা করা যায় ।
Volume 5, Book 59, Number 462:

কারন
ঘটনাটি লেখিকা এমন ভাবে বর্ননা করেছেন যেন মনে হচ্ছে বিবি আয়েশা (রঃ)যেন সাহাবী সাফওয়ানের (রঃ) সাথে মদিনা শহরে প্রবেশ করছেন । কিন্ত বিবি আয়েশা (রঃ) নিজে বুখারী হাদিসে বর্ননা করেছেন তিনি যখন সাহাবী সাফওয়ানের সাথে ফিরে আসছিলেন তখন মদীনার অদুরে প্রখর রোদ্রে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বিশ্রামরত সেনাবাহিনীর সাথে তিনি মিলিত হন ।

এবং বিবি আয়েশা (রঃ) যখন সাহাবী সাফওয়ানের (রঃ) সাথে ফিরে আসছিলেন মদীনার পথে তখন তিনি ছিলেন উটের পিঠে আর উটের রশি ধরে হেঁটে আসছিলেন সাহাবী সাফওয়ানের (রঃ) । এবং পর্দা প্রথা বা নবী পত্নীদের মুখ ঢাকার আয়াত নাজিলের পূর্বে এই ঘটনা ঘটে বলে সেদিন সাহাবী সাফওয়ানের (রঃ) সৌভাগ্য হয়েছিল বিবি আয়েশাকে একবার দেখার এবং চিনতে পারার এবং বিবি আয়েশা (রঃ) সাহাবী সাফওয়ানের কন্ঠস্বর শুনে তারপর পরই মুখে পর্দা দিয়ে ঢেকে নেন ।

এবং যেখানে সাহাবী সাফওয়ানের (রঃ) সাথে একাকীভাবে মদীনায় প্রবেশ তিনি করেন নি সেখানে

“ক্লান্তিতে আমার চোখ বন্ধ হয়ে আসল, নিজের অজান্তে আমার মাথা হেলে গেলো সাফওয়ানের চওড়া কাদে। “

এই লাইনটির প্রশ্নই আসেনা এবং এই লাইনটি শুধু লেখিকার দ্বারা স্বয়ং নির্লজ্জ মিথ্যার প্রান্জলতা তো নয় বরং এটা অপরদিকে নবীজী পত্নীর জন্য এক অশোভন উক্তি।

As this is fiction, artistic license is permitted in regard to presentation and subject matter, so long as it does not deviate in significant ways from established history. If events should deviate significantly, the story may then fall into the genre of alternate history

বিষয়টি কি ভেবে দেখবার নয় ? এই artistic license নামে লেখিকার কি কোন অধিকার আছে এই ধরনের ঘটনার অবতারনা করা যা ইতিহাসে উল্লেখ্য নেই এবং যেখানে একাকী মরুভূমির মত স্হানেও কোনপ্রকার গর্হিত অপরাধ থেকে তারা দুজনে ছিল মুক্ত এবং যেখানে বিবি আয়েশা (রঃ) নিজ বর্ননায় পাওয়া যায় যে তিনি উঠের পিঠে এবং লাগাম ধরে সাহাবী সাফওয়ান (রঃ) বিশ্রামরত সেনাদলের সাথে মিলিত হন । সেখানে তিনি কিভাবে artistic license এর বদৌলতে সম্পূর্ন ঘটনাটি বদলে দেন এইভাবে । এবং এখানেই তিনি ক্ষান্ত হননি বিবি আয়েশা (রঃ) এমন এক ব্যক্তির কাঁধে মাথা রাখালেন তার বর্ননায় ,যার ফলে বিবি আয়েশার চরিত্র উনি কতটুকু উজ্জল করলেন তা একজন সাধারন মুসলিম মাত্র ই বুঝতে পারবে।

আর কলংকের রটনা বিবি আয়েশা (রঃ) মদীনা প্রবেশের আরো পরে জানতে পারেন অথচ এখানেও ইতিহাস বিক্বতি ।

Yeah, that’s the term I heard…

It’s so funny! You know, really when I wrote this book, I was asked by various publishers, when people were considering making an offer on my book last year, “Who is your audience?” I always said my main audience is going to be Western women because I felt like Muslims already know these stories. In the West, people don’t know who Aisha is. People don’t know these stories and they’re wonderful stories. I think they’re stories from which we can all gain inspiration in terms of how to live better lives.

লেখিকা অপর এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন তার এই উপন্যাসের কাহিনী যেহেতু অধিকাংশ মুসলিম নরনারীর জানা আছে তাই তিনি মনে করেন এর মূল পাঠক হবে পশ্চিমা নারীরা।

তাহলে প্রশ্ন আসে স্বাভাবিক ভাবে একজন পশ্চিমা নারী পাঠক যখন তার উপন্যাসটি পড়বে তখন তার পক্ষে কি বোঝা সম্ভব কোনটি ইতিহাস থেকে নেয়া এবং কোনটি লেখিকার নিজস্ব কল্পনায় লেখা ।

তার পক্ষে কি কখনও কি জানা সম্ভব হবে যে নবীজি পত্নী সাহাবী সাফওয়ানের সাথে ঘোড়ার পিঠে মদীনা শহরে এভাবে প্রবেশ করেননি । আর সাফওয়ানের ঘাড়ে মাথা এলিয়ে দেয়া এটা যেমন একজন পশ্চিমা লেখিকার জন্য কল্পনা করা খুবই স্বাভাবিক বলে মনে হয় । একইভাবে পশ্চিমা পাঠকদের জন্য এটা কোন অপমানকর নাহলেও ।একজন মুসলমান মাত্রই জানে এই আচরন(একজন পরপুরুষের ঘাড়ে একজন বিবাহিত নারীর মাথা এলিয়ে দেয়া) একজন মুসলিম নারীর জন্য কতটুকু অশোভন এবং আপত্তিকর । এবং এই ধরনের কল্পিত ঘটনার নায়িকা যদি স্বয়ং নবী পত্নীকে বানানো হয় সেটা লেখিকার artistic license এর অধিকার কে লংঘিত করেকিনা আমার প্রশ্ন ?


আরেকটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন

Would it be safe to say that whatever literary license you took – I’ll give an example, the choosing of Safwan as a suitor for Aisha – is that in the service of telling a larger or broader truth or story?

Exactly. I hate to tell people what they should think of my book. Reader response is a dialogue between the writer and reader. I write it and you read it and everyone takes something different. In a way, I hate to talk about my book with these abstract terms because it’s like I’m telling you what you should read into the text.

But since this prologue has been so controversial, because of the insinuation that Aisha was maybe tempted and because we all know that Aisha wasn’t really engaged to Safwan – as a young girl she was actually engaged to someone else – this is a good example of how I made changes to service the story.

Aisha – the story is about her empowerment as a woman. Going from being a young girl who was married off by her parents. Her father – she was his property, essentially, even though he and Aisha had a very close and loving relationship. Still, she was his property to marry off to enhance his own status as Muhammad’s chief advisor and closest companion. She transcended that cultural limitation of being considered the property of men to become this powerful, empowered woman.

And so, I wanted to have her as a young girl, because of the culture she was in, wanting to be saved, wanting to be rescued from this situation of not having the power to make her own choices and not having the power to control her destiny. So, for her and Safwan, I made them childhood playmates. He is the one she focuses on as someone who can rescue her.

আসুন এবার লেখিকার এই উত্তরে । প্রথম চিন্হিত অংশে তিনি নিজেই স্বীকার করলেন যে we all know that Aisha wasn’t really engaged to Safwan – as a young girl she was actually engaged to someone else – this is a good example of how I made changes to service the story.
তাহলে প্রশ্ন আসে সেক্ষেত্রে কি তিনি কল্পিত ঘটনার অবতারণা করে বিবি আয়েশা (রঃ) চরিত্রকে কলংকিত করার চেষ্টা করলেন না ? আরেকটি দিক হচ্ছে যেই বিষয়টি ইতিহাস স্বীক্বত নয় তাহলে উনি কিভাবে সেটা তার উপন্যাসে স্হান দেন।
আর সবচাইতে দুঃখজনক এবং চিন্তার বিষয় হচ্ছে তিনি পশ্চিমা নারী পাঠকদের মাঝে বিবি আয়েশা (রঃ) সম্পর্কে কি ভূল তথ্য সরবারহ করছেন না ?

এবার আসা যাক লেখিকার ৬ বৎসরের সাধনায় তিনি কিভাবে চিত্রায়িত করেছেন আরবের কালচার বা সংস্কৃতিকে ।
প্রথমে আসা যাক খুব সাধারন একটি বিষয় । কারন মানুষের মনের ভাব বা আসল উদ্দেশ্য যখন সে আড়াল করতে চায় তখন কিন্ত তার ছোট ছোট ভুল বা আচরন অনেক কিছু প্রকাশ করে দেয় ।

“Thank al-Lah you have made it home safely, my A’isha,” he murmured.

“Where, by al-Lah, have you been? Why were you alone with a man
who is not your husband?”

“See how she shames al-Lah’s holy Prophet!” he cried. “Galloping through the center of town with her hands on another man and her hair waving like a harlot’s dress.”

উপরের সবকটি লাইন সরাসরি উপন্যাসের পাতা থেকে দেয়া হল । লক্ষ্য করুন ইংরেজীতে আমরা যখন আল্লাহ লেখি তখন লেখি ALLAH not AL-LAH

বর্তমানে আল্লাহ এমন একটি শব্দ যেটা শুধু মুসলিম নয় অমুসলিম সবাই জানে কিভাবে এটা ইংরেজীতে লেখতে হয় । আর যে অমুসলিম দীর্ঘ ৬ বৎসর যাবৎ ইসলামী ইতিহাস নিয়ে পড়াশুনা করেছে তার পক্ষে কি এটা ভুল না ইচ্ছাকৃত ভূল নাকি ৭ বার রিভাইসের(লেখিকার ভাষ্যমতে) পর প্রতি পাতায় টাইপিং মিসটেক । বিচারের ভার পাঠকের হাতে ছেড়ে দিলাম।

আপনার নাম যদি কেউ জানার পর ইচ্ছাকৃত ভাবে বিকৃত করে উচ্চারন করে তাহলে তার মনোভাব কতটুকু ইতিবাচক সে সম্পর্কে আপনার মনে প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক যেমন এই বিষয়টি।

এবার আসা যাক আরো কিছু প্রথাগত বিষয় । লেখিকার ৬ বৎসরের সাধনায় তিনি তার উপন্যাসে লেখেন….।

উপন্যাসে এসেছে এইভাবে

“A’ishah, “Both of them bowed to Muhammad…”

“A man with a black face as shiny as his bald head bowed before us: Bilal.” And when he walks in on his wife Sawdah preparing the food, “Muhammad greeted her with a deep bow.” `A’ishah gives the Prophet “a respectful bow.”

সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে ইসলাম ধর্মে এই bow বা মাথা নুইয়ে সম্মান জানানো বা কূর্নিশ প্রথা রাসুল্লাহর আমল থেকে আরবে এটা নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়েছিল ।মুসলমান একমাত্র নামাজে আল্লাহর সামনে মাথা নত করে। আর কেউ যখন রাসুলুল্লাহের কাছে কোন সমস্যা নিয়ে আসতো তখন রসুলুল্লাহ তার সমস্যা আগ্রহ নিয়ে শোনার জন্য তার কাছে ঝুকে তার সামনাসামনি বসতেন।

এই ধরনের ভুলগুলো আসলে প্রশ্ন তোলে লেখিকার পরিশ্রম সম্পর্কে । একইসাথে artistic license এর অপব্যবহারের মাধ্যমে এই উপন্যাস কে Historical fiction ক্যাটাগরিতে না ফেলে বরং স্বস্তা ভায়োলেন্স এবং সেক্স উপজীব্য একটি কাল্পনিক কাহিনী বলা ভুল হবেনা । যা ইতিমধ্য প্রফেসর স্পেলবার্গ তার মন্তব্যে বলেছেন ।

এবং এই বইটির বিষয়ে বারবার লেখিকা একটি কথাই বলেছেন তিনি নাকি এই উপন্যাসের মাধ্যমে বিবি আয়েশা এবং রাসুলুল্লাহর পজিটিভ দিকগুলি তুলে ধরতে চেয়েছেন । কিন্ত তার ইতিহাস বিকৃতি, মিথ্যা কাল্পনিক কাহিনীর সন্নিবেশ এবং ৬ বৎসরের পড়াশোনা দ্বারা অর্জিত ইসলামী এবং আরবের তৎকালীন সংস্কৃতি সম্পর্কে তার জ্ঞানের দৌড় দেখে তার মনোভাব সম্পর্কে সন্দিহান না হয়ে পারা যায়না ।

উপসংহারে বলা যায় এই বইটি সম্পর্কে একটা আগ্রহ প্রথমে তৈরী হয়েছিলো। কিন্ত লেখিকার লেখনীতে পরিষ্কার বোঝা যায় বিখ্যাত বা রাতরাতি ধনী লেখকদের খাতায় নিজের নাম লেখার জন্য এই উপন্যাসের অবতারণা করেছেন তিনি । আর এই স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে যতই মুসলমানদের খোঁচানো যাবে ততই বেস্ট সেলারের তালিকায় এই বইটির স্হান উপরে উঠতে থাকবে ।
তাই এ ধরনের লেখিকাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্হান নেয়ার জন্য মুসলমানরা যদি গতানুগতিক ভায়োলেন্স এর সাহায্য নেয় ,তাহলে সেটা লেখিকার উদ্দশ্যকে আরো সফল করে তুলবে ।

এক্ষেত্রে আমি মনে করি এধরনের লেখকদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ স্বরুপ তাদের দূর্বল স্হানে অর্থাৎ তার উপন্যাসকেই আঘাত করা উচিত । এই ইন্টারনেটের যুগে সেটা খুব সহজেই করা সম্ভব । তার এই উপন্যাসকে পিডিএফ ফরম্যাটে ই-মেইলের মাধ্যমে বিভিন্ন ওয়েবে এবং ই-বুক ওয়েবে ডাওনলোড করে দিলে খুব সহজেই এই বইয়ের কাটতি কমে আসবে । এছাড়া সুস্হ বিতর্কের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনাগুলো তুলে ধরা যেতে পারে। আশা করি অচিরেই এই বইটি পিডিএফ আকারে পাওয়া যাবে ।

আমি পেলে আপনাদের দিতে ভুলবোনা
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/28854196 http://www.somewhereinblog.net/blog/ashiquehasan007blog/28854196 2008-10-13 15:05:39