নরসুন্দর মানু'র কানে ড়াশু স্যারের ধমকটা বেশি বাজিল
"এই বিশ্রী পাট ক্ষেত(ড়াশু'র দাঁড়ি-মোছ) আমি ক্ষুরাইতে পারবনা।" মানু ক্ষীণস্বরে বলিয়া উঠিল।
"নচ্ছার পোলা, যা করতে করলাম তাই কর।" ড়াশু'র মেজাজ আজ বড়ই বেগুন-ভাজা-উনুন মনে হইল।
"এক বুদ্ধি দিই। গ্যালবালাইজিং করে ফেল। টাকা বাঁচব, সময় বাঁচব। ঐ টাকা দিয়ে আরো বেশি করে গাঁজ্ঞা ফুঁকতে পারবা।"
"রে -রে। ব্যাটার, তোর বুদ্ধির তারিফ করা লাগে।" ড়াশু লালচে কালো গোঁফের ফাঁকে ফাঁকে বাঁকা দন্ত্যসরাশি প্রদর্শন করিয়া হাসিতে লাগিল।
অতএব, বিকাল্যবেলায় তাহাদের দু'জনকে দেখা গেল একত্রে কাঁকনবালাদের বসতবাড়ির সীমানায়। ড়াশু'র মুখমন্ডল শোচনীয়, গ্যালবালাইজিং কাজে ধরে নাই; বরং ফোস্কায় মুখ চিঁরিবেঁরি অবস্থা। মানু তার এবারে ঈদে কেনা জাঙ্গিয়া তথা হাফ-প্যান্টটা পরিধান করিয়াছে। মুশকিলের কথা হইল, কোমর চিক্কনার কারণে ক্ষাণিক বাদে বাদে তাকে প্যান্টটা উপরে উঠিয়ে নিতে হইতাছে।
কাঁকনবালা অদ্য বিকালে ছাদের কাক তাড়ানোর জন্য গীত করিবে, ড়াশু গোপন সংবাদে জানিয়াছে। কাঁকনের গলা কাঁক প্রজাতির থেকে কিছুটা নিম্নগামী হলেও ড়াশু'র প্রেমিক মনে তা ধরা পড়িবে না; কাঁকনবালা ভাবিতে থাকিল
"কেরে। ওখানে কে?" রাহি রাহি কন্ঠে চিৎকার সহকারে উপস্থিত হল পাড়ার নব্য মাস্তান তাইম্মা গোলাবী বান্দর
ড়াশু আর মানু পলায়নের নিমিত্তে পথ খুঁজিতে লাগিল। কিন্তু বিধির কি লীলা! গোলাবী বান্দর তাহাদের সম্মুখে এসে পড়িল। সে খামচি আর ঘুঁসি দিয়ে ড়াশু'র ফোস্কাসকল ফাটাইয়া দিয়া মুখমন্ডল বিকৃত করিয়াদিল। আর, মানুর প্যান্ট ধরিয়া এমন হেচ্কা টান দিল যে তাহা খুলিয়া পড়ার উপক্রম হইল।
-------------------------------------------------------------------
পরিশিষ্ট - ড়াশু প্রাইমারী ইস্কুলের শিক্ষকতা ছেড়ে বালিকা বিদ্যালয়ে (অনেক বালিকার সমাগম
( বিশেষ দ্রষ্টব্য - জীবিত ও মৃত কোন ব্যক্তবিশেষের সাথে এই গল্পের কোন প্রকার মিল নাই। মিল পাইলে তাহা কাকতালীয় গণ্য করা হবে এবং পাঠক নিজেই দোষী সাব্যস্ত হবেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

