আমার আব্বা আর মেজো ভাইয়ের পশু পাখি পালার প্রতি অনেক ঝোঁক ছিলো। এখন অবশ্য কিছুই নেই। তারই কিছু স্মৃতি আপনাদের সাথে শেয়ার করা।
আমার জন্মেরও আগে ভাইয়া একটা কুকুর পালতো, নাম টাইগার। তার কাজই ছিলো লোকের গায়ে লাফ দিয়ে ওঠা। অবশ্য কখনো কাউকে কামড়ায়নি সে। খুব ভয় পেতো লোকজন বাসায় ঢুকতে। পরে কারা যেন শত্রুতা করে বিষ খাইয়ে মেরেছিলো টাইগারকে।
সত্তর এর দশকের শেষের দিকে আব্বার এক ফরেস্টার বন্ধু আব্বাকে একটা হরিণ শাবক গিফট করেছিলো (যদিও বিষয়টা পরিবেশ গত দিক দিয়ে খুবই অন্যায়, এখন বুঝি)। মেয়ে হরিণ, তার জন্য একটা আলাদা ঘর ছিলো, অনেক বড় ঘেরা বারান্দা সহ। খুব ভালোই চলছিলো, হঠাৎ হরিনটার শিং গজাতে শুরু করলো, এবং সেই অনাকাংখিত ঘটনায় মানসিক ভারসাম্য হারায় হরিণটা। দেয়ালে মাথা ঠোকা শুরু করে। পরে সবার পরামর্শে আরও কষ্ট যাতে না পায় তাই মেরে ফেলা হয়। সেই অনেক ছোট্ট বেলায়ও আমি খুব কষ্ট পেয়েছিলাম।
আমাদের বাসার পিছনে অনেকটা জায়গা, ওখানে অনেক গুলো বেজি থাকতো একসময়। ভাইয়া একটা বেজি পোষা শুরু করলো। সে ক্ষিদা লাগলে আম্মার কাছে যেত এবং গুটি গুটি করে চলে যেত রান্নাঘরে। তারপর মিটসেফের কাছে নাক দিয়ে বুঝাতে চাইতো যে সে খেতে চায়। আম্মা যখন নামায পড়তো কোলের মধ্যে যেয়ে বসে থাকতো। বেজি টারও করুণ মৃত্যু হয় পাড়ার দুষ্টু ছেলেদের হাতে।
বান্দর ছিলো একটা, মাঝে মাঝেই তার বান্দরামি চাগান দিয়ে উঠতো, কিন্তু ভাইয়ার মাইর খেয়ে সে কিছুদিনের জন্য সোজা হয়ে যেত। অনেক বছর পর ভাইয়া আরো একটা বানর পুষেছিলো। সেটা একদিন বেশী ঝোলাঝুলি করতে যেয়ে একটা কারেন্টের তার ধরে টান দেয় এবং শক খেয়ে মারা যায়। ওদিন বাসায়ও কেউ ছিলোনা।
একবার বিড়ালের কয়েকটা বাচ্চা হলো। আমরা নাটক দেখতাম আর টেবিল টেনিসের বল মেঝেতে ছেড়ে দি্তাম। বাচ্চাগুলো বলটা ধরার খুব চেষ্টা করতো কিন্তু থাবায় লেগে বারবার ছুটে যেত। ছানাটাও বারবার ওটার পিছনে ছুটতো।
এছাড়া টিয়া, আর কথা বলা ময়না তো ছিলোই।
আর আমার একটা ছাগল ছিলো, ওটাকে নিয়ে আমার একটা পোষ্ট ও আছে।
ছবি কৃতজ্ঞতা
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুন, ২০০৮ সকাল ৮:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


