আমার এক কাজিন আছে। রাতে যখনই চোখ লাগে ঠিক তখনই ফোন করবে। আমার ঘুমের ১২.০৫ বাজিয়ে দেয়। দেখা যায় পরীক্ষার আগেরদিন বিরক্ত করছে। যদি বলি যে পরীক্ষা শুরু হবে তার ঘ্যানঘ্যানানি, তোদের তো সারা বছরই ক্লাস আর পরীক্ষা, তোমরা তো ভাল ছাত্রী, তোরা পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে পড়িস, তুই তো বড়লোক, তুই তো নিরালায় কার সাথে ঘুরে বেড়াস (যার কোনটাই ঠিক নয়), .......... আর এজন্যই আমাদের খোজখবর রাখিস না।
আমি ওকে শায়েস্তা করার জন্য পাগলপ্রায় হয়ে গেছিলাম। তারপর একদিন আমি ওকে রাত ৩টার সময় ফোন করলাম,
ডিজেলের লিটার কত করে রে?
৪০ টাকা।
ও আচ্ছা বলে ফোন রেখে দিলাম।
ও সাথে সাথে আবার ফোন করল কিন্তু আমি ফোন রিসিভ করলাম না।
এরপর একদিন আমি জানতাম ২দিন পর ওর পরীক্ষা। সারারাত ওকে কল করলাম আর ও রিসিভ করলেই কেটে দেই। টেনশনে ওই কয়েকবার ফোন করল। আমি রিসিভ করে কোন কথা বলি নি। তারপরের দিন সকাল ৮টা পর্যন্ত এভাবে বিরক্ত করার পর দেখলাম ওর ফোন অফ না হলে আরো করতাম।
এর কয়েকদিন পর প্রত্যেকদিন রাতে ৩টার সময় ফোন করি কারন ২টার সময় ঘুমাতে যায়। আর জিজ্ঞেস করি,
১ম দিন: কেমন আছিস?
মোড়াতে মোড়াতে সেই ভাবে বলে, এই আছি আরকি!......
ও আছিস তাহলে, বলে রেখে দিলাম।
এভাবে ৩দিন করার পর ৪র্থ দিন ও ফোন করলে এবার আমি রিসিভ করলাম।
কি রে কি খবর তোর? কি সব শুনছি, আমি বললাম।
গাধাটা বলল, কি শুনছিস, আমি কয়টা মেয়ে ভাগালাম, তাই!
কিছু শোনার কথা বললেই খালি মেয়ে ভাগানোর কথা মনে আসে, তাই না?
অপমানিত হয়ে শুকনোভাবে বলল, কি শুনছিস?
তুমিই জানো তুমি কি করেছ, আমাকে কেন জিজ্ঞেস করিস, বলে আমি হাসতে শুরু করলাম।
এবার ও ভাব দেখালো ওর এ ব্যাপারটা সে পাত্তা দিচ্ছে না। অনেকক্ষন ধরে বকবক করার পর বলল, আপু শোন আমার ফোনের টাকা প্রায় শেষ লাইনটা যে কোন সময় কেটে যেতে পারে। তারপর আবার বকবক করতে করতে লাইন কেটে গেল। আমি ৫ মিনিট পর ফোন করে রাগ দেখিয়ে বললাম, আমার সাথে কথা বলতে ইচ্ছা হয় না সোজাসুজি বলবি, লাইন কেটে কেন অপমান করলি! শোন আর কক্ষনও আমাকে ফোন করবি না।
ওর ফোনে যেহেতু টাকা নাই আর ঐদিন ফোন করতে পারলো না। পরেরদিন সকাল ৯টায় ও ফোন করলো আমি রিসিভ করলাম না।
কিছুক্ষণ পরে ফোন করে আমি বললাম, তোকে না বলেছি আর ফোন করবি না! দেমাগ দেখানোর বেলায় খুব আছো, বলে ফোন রেখে দিলাম।
গাধাটা তারপর থেকে আর ফোন করে না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

