মুক্তি
২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১:১৪
এখন আমি মেডিকেলের মর্গে পড়ে থাকা একটা মৃতদেহ। আজ বিকাল বেলা আমি আত্নহত্যা করেছি। জানি আত্নহত্যা মহাপাপ, তারপরও করেছি। আমার জীবনটা কেন এমন হল? আমার কি খুব বেশি চাওয়া ছিল? খুব কি আকাঙ্খা ছিল? অথচ আমার পাওয়া ছিল খুবই সামান্য।
আমার জীবনটা আমার জন্ম থেকে শুরু হয়নি তার আগের থেকে আমার শিকড়, আমার বাবা থেকে।
আমার বাবা গ্রামের সাধারন ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে রাজনীতি জড়িয়ে ক্ষমতা পাওয়ার লালসায় খুনের সাথে জড়িত হয়েছিলেন। তারপর তার পড়াশুনা আর এগোয় নি। আমার বাবা গ্রামে ফিরে যান, মাকে বিয়ে করেন কিন্তু রাজনীতিটা উনি ছাড়তে পারেন নি। একসময় দেশে যখন যৌথবাহিনী খুব ধরপাকড় শুরু করলো, তখন আমরা স্বপরিবার ঢাকাতে চলে এলাম। এখানে আমার বাবা পুরোপুরি বেকার, গ্রাম থেকে খুব সামান্যই টাকাপয়সা আমাদের সংসার চালানোর জন্য আনা হতো। ঢাকাতে জীবনযাত্রার এই লাগামহীন চালের সাথে খাপ খাওয়ানো খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তাছাড়া আমাদের কিছু সচ্ছল আত্নীয় স্বজন আমাদের কিছু সাহায্য করতো। কিন্তু অন্যের কাছ থেকে সাহায্য নেওয়াটা খুবই অপমাণজনক লাগতো আমার কাছে।
তারপরও খেয়ে না খেয়ে চলে যাচ্ছিল আমার এই জীবন। খুব স্বপ্ন ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ব। কিন্তু যখন ভর্তি ফরম কিনব তখন আমার বাবার হাত একেবারে শূন্য। আমাদের খাওয়ার ব্যবস্থাই তখন ঠিকমত হচ্ছিল না। নিজেকে বুঝ দিলাম আমি খুব মেধাবী না, চান্স নাও পেতে পারি। ফরম কিনলে শুধু শুধু খরচ হত। এরপর যখন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরম ছাড়লো, আমি বাবার কাছে টাকা চাইলে বাবা দিতে পারল কিন্তু আমার বখে যাওয়া ভাই ওটা কেড়ে নিয়ে গেল।
সাইন্স পড়ার অনেক খরচ। আমি সাইন্স পড়লে আমার ভাইয়ের পড়ার খরচ জুটবে না বলে আমি সাইন্স পড়িনি। মায়ের ইচ্ছা ছিল তার ছেলেকে ডাক্তার বানাবে, আমি তো মেয়ে!
ভাইটা আমার বখে গেছে, আমার টাকাটাও যখন আজকে নিয়ে গেল, তখন আমার মনে হচ্ছিল এত ছোট হয়ে কোন উদ্দেশ্যবিহীন জীবনের চেয়ে মৃত্যু অনেক সহজ। তাই গলায় ওড়না পেচিয়ে নিজেকে মুক্ত করলাম।
আমি কি মুক্ত করতে পেরেছি নিজেকে? নাকি নতুন বেড়াজালে আটকে ফেললাম? আমার মৃত্যুটা আমার জন্যই স্বাভাবিক হলো না, আমার আত্নাটাও আল্লাহ্' র কাছে মাফ পাবে না।
আমার জীবনের প্রথম অধ্যায় এখানেই শেষ হল আর শুরু হল দ্বিতীয় অধ্যায় যা আরো ভয়ংকর।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুন, ২০০৯ বিকাল ৫:৪৫ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
প্রকৃতি প্রেমিক বলেছেন:
সমস্যা জীবনেরই অংশ। পালিয়ে লাভ নাই। কামনা করি আপনি সফল হোন।
লেখক বলেছেন: সমস্যাটা আমার না। এটা একটা গল্প
লেখক বলেছেন: জবান সাফ করেন
লেখক বলেছেন: আপনার হেলমেটটাও জটিল। ধন্যবাদ
মৈথুনানন্দ বলেছেন:
এটা কি লিখেছো? কি লিখেছো?? কি লিখেছো??? নিজেও জানোনা।
লেখক বলেছেন: মাতাডা টাল কি লিখছি নিজেও জানি না, ম্যাকলাদা
মানুষ বলেছেন:
খুকী, খুব ভাল লিখেছো
লেখক বলেছেন: আমি পামে ফুলে গেলাম (ক্লোজআপহাসি)
শমশের আলম শোভন বলেছেন:
আপনেরা কি সবাই খুলনার লুক?
লেখক বলেছেন: আমরা মানে কারা?
লেখাটি ভাল লাগার তালিকায় আমিও আছি।
শমশের আলম শোভন বলেছেন:
আসলে কইতাছিলাম যে ৪/৫ জন পোলা আপনার বল্গে রেগুলার কমেন্টায়, হেরা আর আপনে হগ্গলেই কি খুলনার লুক নাকি?
বিষাক্ত মানুষ বলেছেন:
খুকি তো ভয়ংকর লিখতে জানো ....
নরাধম বলেছেন:
ভুত নাকি? মরে গেলে বলগায় কেমতে?
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
দেখি আউলার আউলা মাথা দিয়া এর পর কি বাইর হয়। অপেক্ষায় আছি,।
চানাচুর বলেছেন:
এইটা আবার কখন লিখলি! ভাল হয়েছে।@বুন্ডাল্স
ভালো লেগেছে
কারন হৃদয়ে নাড়া দিয়েছে......কারন পড়তে পড়তে ক্লান্তি আসেনি......... ছন্দ পতন ঘটেনি... কিছু একটা ভাবিয়েছে আমাকে
অতৃপ্ত আত্নার লেখা
শ্বাসরুদ্ধ চিঠিটা আমাকে
কাঁদিয়েছে কিছু কিছু।
রাশেদ বলেছেন:
বাবারে! এইডা মিস কইরা গেছিলাম।
েজবীন বলেছেন:
দারুন লাগলো.....
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
লেখাটা সত্যিই খুব ভাল ছিল।
লেখক বলেছেন: এরকম মনখারাপ টাইপ লেখা আর কোনদিন লিখবো না
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















