somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নুরুল ভাইকে নিয়ে লেখা পোস্ট পড়ে এই পোস্টটা লিখতে ইচ্ছা হল

০৭ ই জুন, ২০০৮ রাত ৯:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তখন আমি ক্লাস ফোরে পড়ি, আমরা দাদার মিলাদে দাদার বাড়িতে যাচ্ছিলাম, বাস থেকে নেমে নৌকায় যেতে হবে। নৌকা নদীর থেকে খালের মধ্যে ঢোকা মাত্রই আব্বুর চিৎকার শুরু হল, ঐ দেখ তোমার বড়ফুপুর ঘর.....ঐ দেখ...:)


১ ঘন্টা হয়ে যায় কিন্তু বড়ফুপুর বাড়ি আর আসে না, এভাবে প্রায় ৩ ঘন্টা নৌকায় চলার পর আমরা পৌছালাম আমাদের গন্তব্যে। তখন বর্ষাকাল ছিল তাই নৌকা ভিড়ল আমাদের বাড়ির ঘাটে। ঘাটে দাড়িয়ে চিৎকার করে সবাইকে ডাকছে সাইফুল ভাই (আমার চাচাতো ভাই) বর্ষাকালে দাদারবাড়িটা একটা দ্বীপের মত পানির মাঝে ভাসতে থাকে, চারপাশে পানি দ্বারা পরিবেষ্টিত আর মাটি দিয়ে উচু করা কিছুটা অংশ, সেখানে
মূলত আমাদেরই আত্নীয়স্বজনেরা থাকে। বলতে গেলে ছোট্ট গ্রামটা ওইটাই.....গ্রামের
সবাই প্রায় আমাদের আত্নীয়স্বজন। অনেকগুলো পুকুর আছে যেগুলো বর্ষাকালে পানিতে ভরে বিলের সাথে মিশে যায়......চারিদিকে শুধু পানি আর পানি.....সেদিকে তাকালে শুধু শাপলা ফুল সাদা...গোলাপী....বেগুণি.....আর মাঝেমাঝে কচুরিপানার বেগুনীফুল। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে গেলে নৌকা লাগে...তাই প্রায় সবারই নিজস্ব নৌকা আছে।


যে কথা বলছিলাম, সাইফুল ভাই আমার বড়বোনের বয়সী। দাদার বাড়িতে গেলে আমরা একসাথেই ঘোরাফেরা করতাম। আমরা ছোট ছিলাম তাই যারা একটু অপেক্ষাকৃত বড় ছিল বিশেষ করে আপুরা আমাদের অপমান করে সবখান থেকে তাড়িয়ে দিচ্ছিল। শেষে সাইফুল ভাই বলল, চল আমরা নৌকায় করে ঘুরতে যাই। আমরা ছোটরা নাচতে নাচতে রাজী হয়ে গেলাম, আমাদের ৭/৮ জনের একটা দল। নৌকা যখন পুকুর পেরিয়ে বিলের মধ্যে গেল আমরা শাপলা ফুল তোলা শুরু করলাম....এর আগে আমি কখনও বেগুনী শাপলা দেখি নি......তারপর পানির দিকে তাকালে দেখলাম পানির মধ্যের গাছগুলোয় শ্যাওলা পড়ে আরো সুন্দর লাগছে.....নৌকায় বসে আমরা এটা সেটা গল্প করছি, সাইফুল ভাই তার ছোটবোনের উপর কি কারণে যেন একটু রেগে গেল, নৌকার বৈঠা দিয়ে দিল মাথায় হালকা বাড়ি। সাথে সাথে সে বিলের মধ্যে নেমে পুকুর সাতরিয়ে বাড়ি চলে গেল। আমরা ওকে থামাতে গেলাম...সাইফুল ভাই বলল, ওকে যেতে দে...আমরা আর কিছু বললাম না..শেষে আমাদের না নৌকায় ফেলে ও পালায়।

ভূতের ভয় দেখানোর যে কাহিনী নিয়ে সবাই লাফালাঝি করছে সেটাও সাইফুল ভাইই আমাদের শিখিয়েছিল। কিন্তু সেখানে আমরা ট্রায়াল দিতে পেরেছিলাম না কারণ আমাদের সব দাদীরাই ততদিনে এ দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন, কেউ সাদা শাড়ি পরে না।

এর কিছু দিনপর সাইফুল ভাই ফুটবল খেলতে যেয়ে পা ভেঙ্গে ডাক্তার দেখাতে খুলনায় আসলো। আমরা তখন দিনরাত লুডু খেলায় মেতে থাকতাম। বুবু আর ও ছিল বিশিষ্ট চোরটা। ওরা একদলে যেত আর আমি আর আমার মামাতোবোন একদলে যেয়ে অনেস্ট প্লেয়ার হবার জন্য হারতাম :( আমাদের বাসায় তখন এক কাজের মেয়ে ছিল যার একটা ছেলে ছিল রেজাউল। ছেলেটা ছিল তখন ৩/৪ বছরের। বহুত জ্বালাতো আমাদের...যা করবো তাই তাকে দেখাতে হবে...তাকে খেলতেও নিতে হবে(আমরা চানাচুরকেই নিতাম না কিন্তু তাকে নিতে হবে)....আমরা নিতে চাইতাম না তারপরও তার মায়ের আম্মুর কাছে নালিশ /:) আমরা বিরক্ত হয়ে ওইটাকে চকলেটের লোভ দেখিয়ে গর্তের মধ্যে, বস্তার উপর তুলে রেখে খেলতে চলে যেতাম :#)


এরই মধ্যে সাইফুল ভাইয়ের বড়বোনের বিয়ে ঠিক হল। আমাদের বাসায় অনুষ্ঠান হবে......তখন টিভিতে বিশ্বনাটক হয়েছিল একটা বানরের ঠ্যাং নিয়ে কিছু একটা ঠিক মনে নাই। ওই নাটক দেখে আমরা অনেক ভয় পেলাম, গায়েহলুদের দিন সবাই নীচে ব্যস্ত আমরা উপরে বসে রাতের বেলায় টিভি দেখছি, সাইফুল ভাই বাথরুমে গেল, বুবু দরজা বাইরে থেকে আটকে রেখে বাথরুমের লাইট বন্ধ করে চিল্লাতে লাগলো, ওরে কে কোথায় গেলি...ভয় লাগছে...কারেন্ট চলে গেলে..ওরে সাইফুল ভাই তুই কই? সাইফুল ভাই দরজা আটকানো দেখে বুঝল সব বুবুর শয়তানি...কিছুক্ষণ পরে আমরা লাইট জ্বালিয়ে যখন দরজা খুললাম..দেখলাম ভয়ে রাগে সাইফুল ভাই চোখ লাল করে বের হল...কিন্তু কাউকে কিছু বলল না। ও অনেক মজার মজার ছড়া বানাতে পারতো....যেমন আমরা আমাদের আরেক চাচাতো ভাইকে ক্ষেপাতাম...রিগ্যান কহে টুম্পামনি সাজিয়ে দাও আমায়..বানিজ্য করিতে যাবো সুদূরপানে...চীন দেশে...(তারপরে ভূলে গেছি :()


অনেকদিন আমাদের সাথে থাকার পর সাইফুল ভাই সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে গেল। তার ৫/৬ মাস পরে সাইফুল ভাই আবার আসলো ডাক্তার দেখাতে। ঠিক সেইসময় আমার মেজচাচার মেয়েরাও আসলো বেড়াতে। এদের সাথে অনেকদিন পরে দেখা হওয়ায় আমরা এদের সাথে গল্পে এত মত্ত হয়ে গেছিলাম যে সাইফুল ভাই কে নিচে যেয়ে কেমন আছো জিজ্ঞেস করে আর কোন কথা না বলেই আবার আমরা উপরে এসে গল্প করতে লাগলাম। রাত ৯টার দিকে সাইফুল ভাইকে ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হল...তখনও আমরা খেয়াল করলাম না। রাত সাড়ে দশটায় ফোন করে আরিফ ভাই (সাইফুল ভাইয়ের বড়ভাই) বলল, সাইফুল ভাই মারা গেছে। আমরা কিছুই বুঝতে পারলাম না...কিভাবে এসব হল...শুধু এটুকুই জানলাম গ্রামে ওর বেশ কিছুদিন ধরে জ্বর থাকতো তাই এখানে ওকে ভাল করে দেখাতে আনা হয়েছিল। কি যে হয়েছিল তা আল্লাহই জানেন।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৩
৩৩টি মন্তব্য ৩২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×