ভদ্রলোকের বয়স হয়েছে তবুও মনটা এখনও রঙীন তবে খুব বেশি বয়স বলাও চলে না, মাত্র ৮০+। এখন রোজ সকালে ৫০:৩০ এ পায়ে জাম্প কেডস পরে পাশের বাসার পার্টনার চিকনমিয়াকে গ্রামীন ফোন দিয়ে কল করে জগিং করতে যান। এ সময় গ্রামীনের কলরেট খুবই কম মাত্র ৩০ পয়সা
আজকে এই লোকের জন্মদিন। আগেই বলেছি, উনার মনটা রঙীন, তাই কেক কেটে মোমবাতিতে ফু দিয়েই উনি জন্মদিন পালন করেন। আজ বিকালে জন্মদিনের পার্টি রেখেছেন, কিছু বন্ধুদের দাওয়াত দিয়েছেন। এ নিয়ে বেশ একসাইটেড তিনি। আজকে জগিং করছেন বেতালে, নেচে নেচে মনে বারবার একই প্রসঙ্গ আসছে....মিস আকলিমা কি আজকে আসবে?!! আসলে তিনি কি করবেন...সালাম দিবেন নাকি হাই হ্যালো বলবেন?....নাহ সালাম দেয়াটা বড্ডো সেকেলে, মিস আকলিমা পছন্দ করবে না। উনি কি মোচড় দিয়ে কথা বলবেন নাকি সিম্পল ভাবে বলবেন?.....নাহ আকলিমা মাচ মোর আধুনিক পুরোপুরি বাংলা লাইক করবে না। উচিত হবে বাংলিশ ভাষায় কথা বলা যেমন, খুব ভাল না বলে খুব গুড আসলেই ভেরি ভাল এভাবে বলা...এসব কথা ভেবে একা একা মনের অজান্তে খিল খিল করে হেসে উঠছিলেন বাদর চৌধুরী।
চিকন মিয়া: দুস্তো হাসো ক্যান?
বাদর চৌধুরী: কামঅন চিকি!! তোমাকে সো মেনি টাইমস বলেছি, শুদ্ধভাষায় কথা বলো, ইউ নো আকলিমার সামনে যদি তুমি দিস ওয়েতে কথা বলো তাহলে আই উইল বি লজ্জিত!!
চিকন মিয়া: চরি দুস্তো আর হইবো না।
বাদর চৌধুরী: ওউ নো!! তুমি আবার দ্যাট ভাবেই বলছো.....
......
এরকম আলোচনা চলছিল দুইজনের মাঝখানে। ঠিক তাদের উল্টো পিঠেই জগিং করছিল আরেক বৃদ্ধা কাঁকন তার নাতনী তানজুকে নিয়ে।
কাঁকন: এই লোকটা এখানে কেন?
তানজু: কোন লোকটা দাদী?
কাকন: ওহ্ তানজু কতবার বলেছি আমাকে দাদী না আপী বলবে!!
তানজু: ওকে আপী স্যরি
কাকন: এই লোকটা কি বদ মতলবে এখানে!! খালি আমার পিছে !! এত লোক যে ক্যানো আমারই পিছে ঘুরে!! উহ্ অসহ্য!! এদের জন্য কোথাও সাজগোজ করেও বের হতে পারি না!! খালি ছেলেদের অত্যাচার!!......
তানজু: কোন লোকটা?
কাকন: ওই যে বুড়ো হাবড়া টা লাল টি শার্ট পরা....
তানজু বেশ অবাকই হল কারণ সে অধিকাংশ সময় তার বৃদ্ধা দাদীর সাথে থাকে কিন্তু লাল টিশার্ট পরা লোক মানে বাদর চৌধুরীকে সে আজই প্রথম দেখছে
তানজু কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল কিন্তু তার আগেই তার দাদী বুড়োটাকে শাসাতে লাগল: কি আগে কখনও সুন্দরী মেয়ে দ্যাখোন নি!! অসহ্য কোথাকার!! আবার আপনি ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে আছেন!!
বাদর চৌধুরীর মুখটা ঠিক এরকম হয়ে গেল
বার্থ ডে পার্টিতে মিস আকলিমা তার বান্ধবী কাকনকে নিয়ে এসেছে। পার্টিতে মিস আকলিমাকে দেখে বাদর চৌধুরী গান শুরু করল, প্রেমে পড়েছে মন প্রেমে পড়েছে........:#>
মিস আকলিমা বাদর চৌধুরীর গানের রুচিবোধে বেশ বিরক্ত হলো তবে কিছু বলল না। এরই মাঝে কাকন ভঙ্গি করলো যেন গানটা তাকে দেখে গাইছে বাদর চৌধুরী, আর আকলিমার কাছে শুরু করলো যা না তা বলতে। তুই জানিস না আকিরা (আকলিমাকে কাকন শর্টে আকিরা বলে) এই অসভ্যটা আজকে খালি আমার হাত ধরতে বাকি রেখেছে!!
আকলিমা ভাবল আজকেই শেষ এই লোকের বাসায় আর না!! কি লজ্জায় না পড়তে হল কাকনের সামনে:!> তারপরও কাকনকে বলল, না তো এই লোক তো বেশ ভদ্র। তুমি বোধহয় অন্য কারো কথা বলছো।
কাকন: আরে নাহ আমি কি তোমার মত বুড়ি নাকি!!
আকলিমার প্রচন্ড রাগ হল কিন্তু কিছু বলল না। (এক বুড়ি আরেক বুড়িকে বলে নানী আরকি!!
বাদর চৌধুরী ভাবল আজকেই আকলিমাকে তার ভালবাসার কথা বলতে হবে আর সে একা থাকতে পারছে না। সে তাকে বউ করতে ব্যাকুল এখন.....
একরকম চিৎকার করেই বাদর চৌধুরী বলল, আকলিমা উইল ইউ ম্যারি মি?
ঠাসস্
তুমি আমাকে মারলে, বাদর চৌধুরী গালে হাত দিয়ে বলল।
এরপর আরো ২টা ঠাসঠাস শব্দ হল আর মুহূর্তেই চুরমার হয়ে গেল প্রেমিক পুরুষ বাদরের স্বপ্নগুলো......

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

