ছোটবেলায় যখন বেড়াতে যেতাম কোথাও নিজের জামা জুতা নিয়ে সব সময়ই খুব চিন্তিত থাকতাম। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখতাম আমার জামায় কোন খুত পেয়েছি বেড়াতে যাবার পর নাহলে স্যান্ডেলের কিছু হয়েছে এমনকি যদি কিছু নাও হতো স্যান্ডেলে সামান্য কাদা লাগলেও মনে হতো, ইশ!! আমার আর মান সন্মান থাকলো না
একবার খুব শখ হল এক কাজিনকে চিঠি লিখবো। সে ছিল গুলবাজ, উল্টাপাল্টা সাহসীকতার গল্প করতো যা শুনে মেজাজ খারাপ হতো। তাই হুমকিমূলক চিঠি পেয়ে তার অবস্থা দেখার দেখতে চাইছিলাম। চিঠির বিষয়বস্তু থাকবে এই টাইপ যে, কোন এক গুন্ডার নাম দিয়ে লিখবো আমার এলাকায় চলিস আমাকে সালাম দিস না!!
যদি সকালে বিকালে সালাম না দিস তোকে কোনদিন যে আমার মোটরসাইকেলের নিচে ফেলবো। আর তোকে মেরে চুন মেরে ৫হাত মাটির নিচে পুতো রাখবো(সেই সময়ে আলোচিত এক খুনের ঘটনা পড়েছিলাম পেপারে, যেখানে চুন মেরে ৫হাত মাটির নিচে পুতে রাখার কথা বলা হয়েছিল) কিন্তু খালি ভাবলামই লিখতে পারলাম না। কারণ পেটপাতলা আমি মুখ ফসকে আম্মুকে বলে ফেললাম আর বকা খেলাম।
আমি যখন ইন্টারে পড়তাম আমার বান্ধবী আর আমি চিঠি লিখতাম অনেক। আশেপাশের ছোট বাচ্চা বা ওদের বাসার কাজের মেয়েকে দিয়ে সেই চিঠি আনা নেয়া করতাম। আমরা ছবিও ব্যবহার করতাম চিঠিতে যেমন, রোজার ঈদে আমরা চাঁদ একে ইধমোবারক জানাতাম চিঠিতে আর কোরবানীর ঈদে গরু একে। একবার ওদের বাসার কাজের মেয়ে ছোট্ট চিরকুট নিয়ে আসলো আমাদের বাসায়। আমার এক ফুপু আছেন যিনি কাজের কথা শোনেন না কিন্তু অকাজের কথা শোনেন। এবং সবসময় ভাতিজিদের চোখে চোখে রাখতে ভালবাসেন। উনি সেই চিঠিটা খপ করে কেড়ে নিয়ে আম্মুকে খুজতে লাগলেন। আম্মু নানীবাড়ি ছিল তাকে ডেকে পাঠালেন। তারপর বললেন, দ্যাখো আউলার মাস্টার তাকে চিঠি দিয়েছে!! আম্মু বিরক্ত হয়ে বলল, ওইটা ওর বান্ধবী লিখেছে।
গাছে চড়তে বড়ই ভালোবাসতাম আমি কিন্তু আব্বুর ভয়ে তেমন উঠতে পারি নি। একবার জামরুলগাছে আমি আর এক কাজিন চড়ে হাতে নাতে ধরা খেলাম। আব্বু গাছ থেকে সাথে সাথে নামতে বলল। নামার পর বিরাট লেকচার দিল গাছ থেকে পড়ে হাত পা ভাংবে..... আরেকবার কুল খাবার জন্য সানসেটে উঠলাম আমরা ২জন। সানসেট থেকে কুল পাড়া বেশ সহজ ছিল। এরই মধ্যে আব্বু বাসায় আসলো। আমরা বারান্দার গ্রিল বেয়ে উঠেছিলাম আব্বু বারান্দায় চেয়ার পেতে বসলো। আমরা তো এবার নামার পথ হারালাম। আমার আরেক কাজিন আমাদের ২টাকে আবার নিচের থেকে ভয় দেখাতে লাগলো আব্বুকে ডেকে আনবে। এমতাবস্থায় আমার কাজিন সানসেট থেকে লাফ দিয়ে নিচে নেমে পায়ে ব্যথা পেল, আমি ভয়ে আর নামবো না। ওদিকে একজন তো ভয় দেখিয়েই যাচ্ছে। শেষে পাশের বাসা থেকে মই আনতে গেল সানসেটে ওঠা ভাইটা। ও মই আনলো ঠিক তক্ষুনি আবার মেজমামা গেটের কাছে হাজির আর মই ওর হাতে। বলা বাহুল্য কিছু না বেশ কিছু কথা শুনলাম ২জনে
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৪:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



