নারী অধিকার নিয়ে কালকে নাড়িয়া একটা পোস্ট দিয়েছিল ও যদিও ফান পোস্ট দিয়েছিল বলেই আমার মনে হয়েছে। তারপরও কিছু বিষয় নিয়ে বলতে ইচ্ছা হল তাই এই পোস্ট, কারণ উল্লেখ করলাম আজকাল তো কৈফিয়ত ই দিতে হয় পোস্ট কেন এবং কি উদ্দেশ্যে দিচ্ছি।
মেয়েদের ক্ষেত্রে যেটা সবচেয়ে কমন অধিকারের অসমতা দেখা যায় সেটা হচ্ছে ইসলামে নারীদের যতটুকু অধিকার দিয়েছে অর্থাৎ ভাইদের অর্ধেক বোনেরা পাবেন। এই অর্ধেকটাও অধিকাংশ ক্ষেত্রে বোনদের দেয়া হয় না।
এরপর আসি বেতন বৈষম্যের বিষয়ে আমি এ পর্যন্ত কোন নারী শ্রমিককে দেখি নি পুরুষ শ্রমিকের সমান মজুরি পেতে।
একই সমান কাজ এবং একই কাজ করেও দেখেছি একজন মহিলাকে পরীক্ষা দিয়ে প্রমোশন পেতে তাও তার প্রমোশনের নির্ধারিত সময়ের থেকে একবছর পরে এবং তার পুরুষ সহকর্মীকে ঠিকসময়ে পরীক্ষা ছাড়া প্রমোশন পেতে।
অনেকক্ষেত্রেই দেখা যায় নারীদেরকে ওই সমস্ত জায়গায় কাজ দেয়া হয় যেখানে তারা ননপারফর্মার। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে ব্যাংকগুলোতে ক্যাশে মেয়েদেরকে বসানো হয়। এটা আমি খুলনাতে যে কয়টা ব্যাংক দেখেছি সবগুলোতেই এই সিস্টেম।
সেদিন ক্যাশের এক আপু সকালে ট্রানজ্যাকশান পিরিয়ড শুরু হবার আগে আমাদের বাসায় (ফ্রন্টডেস্কে) বেড়াতে এসেছিলো। এক লোক আপুকে দেখে সালাম দিয়ে ৩২০০ দাতের হাসি দিল। আপু তাকে উদ্দেশ্য করে একটা গালি দিল। তারপর বলল, ঐ লোক তাকে আগেরদিন বলেছে, ম্যাডাম আপনার ড্রেসটা খুব সুন্দর। আপু বলল, তাহলে ভাবীকে একটা কিনে দেন। ঐলোক বলল, নাহ সে আপনার মত অত সুন্দরী না তার ফিগার আপনার মত সুন্দর না (বেহায়ার মত হাসি দিয়ে) এরপর ঐ লোক আপুকে বলল, আপনি একটু দাড়ান আমি আপনাকে ভাল করে দেখি।
এখন নারী অধিকারের প্রশ্ন যখন আসে তখন অবশ্যই আমাকে এই সুযোগটা দেয়া উচিত আমরাও ছেলেদের বলবো, আপনি দাড়ান আমি আপনাকে ভাল করে দেখি। বাসে উঠলে কখনও বলবো না, আমি মেয়ে তাই আমাকে বসতে দেয়া হোক অথবা আমি টিচারের কাছে যেয়ে বলবো না , আমি মেয়ে আমার বাসা দূরে আমার ভাইভা আগে নেয়া হোক।
কিছু বিষয় আছে যেখানে অধিকারের কথা বলাটা অবান্তর। যেমন কোন কর্মজীবী নারী যখন মা হয় তখন অনেকক্ষেত্রেই তাকে চাকরি ছেড়ে দিতে দেখা যায়। এটাকে যদি বলা হয় তার হ্যাসবেন্ড এর কারণে ছাড়ছে এটা বলা অবশ্যই অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঠিক না। মায়েরা সাধারনত সন্তানের কথা ভেবেই এধরনের সিদ্ধান্ত নেয়। এখানে অধিকারের কিছু নেই।
আমি আমার কথা বলি কখনোই আমাকে বাসা থেকে মেয়ে এভাবে বলা হয় না। কিংবা কোন বিষয়ে লিমিট দেয়া হয় না কিন্তু তাই বলে কি আমি একা রাত ১২টায় বাসায় ফিরতে পারি?! পারি না এটাও অধিকারের কিছু না। কিছু বিষয় মেনে নিতে হয় পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে।
অধিকার বিষয়টা যার যার নিজের কাছে আমি অধিকার চাইবো সাথে কিছু এক্সট্রা সুবিধাও চাইবো তাহলে তো সালিশ মানি তালগাছ আমার টাইপ কথা হয়ে গেল।
সবকিছুর পরে একটা কথাই বলতে চাই আমি নারী হিসেবে না একজন মানুষ হিসেবে আমার অধিকার চাই।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১২:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


