somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

...এখনও যেন সে আওয়াজ শুনি...

১৮ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১২:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ক্লাস নাইনে পড়ার সময় আমাদের ক্লাসে একটা মেয়ে ভর্তি হল, ক্লাসের কেউ মেয়েটাকে পছন্দ করলো না। তার অনেক কারণ ছিল, যেমন ও খুব সহজেই যেটা অপছন্দ করতো সেটা বলে দিতো। আমরাও পছন্দ করতাম না, আমার পাশে সাধারণত ও বসতো, আমি ওর সাথে কথা বললে আমার বান্ধবীরা আমাকে কথা শোনানোর সাথে বিভিন্ন ধরনের শাস্তি দিতো। ওর পছন্দের জায়গা ছিল, পেছনের দিকের কোণার বেঞ্চ। যেহেতু কেউ ওকে দেখতে পারতো না, কেউ ওকে তার নিজের জায়গা দিতে রাজী ছিল না। একদিন ক্লাসের অন্য কয়েকটা মেয়ের সাথে কোণার জায়গা নিয়ে ওর ঝগড়া বাধলো, ও কেদে ফেললো। এবার আমার ৩ বান্ধবীর মন গলল, আমরা আমাদের বেঞ্চের কোণাটা ওকে ছেড়ে দিলাম।

এবার আমরা বুঝলাম ওকে গ্রুপে ঢোকানোয় আমাদের অনেক লাভ হয়েছে, যেমন : সবচেয়ে রাগী সন্তোষ স্যারকে একদিন পাল্টা জবাব দেয়ার পর স্যার তোতলাতে শুরু করলেন, গোলাম আজম স্যার ও থাকলে আর আমাদের পড়া ধরতেন না, সেকেন্ড মাওলানা স্যারের নামে নালিশ করতে গেলাম হেডস্যারের কাছে ও কি সুন্দর করেই না নালিশ করে দিল, আর ছেলেদের সাথে তো কথাই নেই ক্লাসে স্যারের সামনেই বলে বসলো তোকে এমন চড় মারবো এরপর থেকে হিসাবমত কথা বলবি, একদিন এক ছেলের উপর এমন ক্ষেপলো যে ছুটির পর ওকে না মেরে বাসায়ই যাবে না......এ রকম হাজার কাজ।

অনেক হাসির কান্ড কারখানা করতো ও যেমন: একবার পরীক্ষার সময় ও হাদিস আরবীতে মুখস্ত না করে বেঞ্চে লিখলো(নকল), পরীক্ষার মাঝখানে আমাকে বলে কোথায় লিখেছিলাম খুজে পাচ্ছি না আমাকে বল!!

ও আবার মাঝে মাঝে আমাদের শাসাতো। এই তোরা এতো হাসাহাসি কেন করিস? এত কথা বলে কেন এ্যানার্জি নষ্ট করিস?

ওর নাম ছিল জেসমিন। একদিন ওর পাশের বাসার এক মেয়ে ওকে জেসি বলে ডাকলো, আমাদের আর পায় কে ওর নাম দিলাম মাছি।

আমার দেখা খুব কম ভাল মেয়েদের মধ্যে ও একজন। ওর বাসার অবস্থা আমাদের মত এত সহজ ছিল না। ওকে সবসময়ই তার বড় ভাইয়ের ভয়ে থাকতে হতো। আমরা রেজাল্টের ব্যাপারে উদাসীন ছিলাম, ও ছিল সিরিয়াস। একদিন কেমিষ্ট্রি ক্লাসে আমরা কথা বলছিলাম, হাসি আসলো আমরা কলম নিচে ফেলে ৩ জন হাসতে লাগলাম, ও সহ আরেকটা মেয়ে ম্যামের কাছে ধরা খেল। ওর কপাল এমনই ছিল, ওই সময় ওর ভাই কি কাজে স্কুলে এসেছিল, দেখলো ও দাড়িয়ে আছে। তারপরে শুনেছিলাম ওর ভাই ওকে স্কুলে পড়া পারে নি ভেবে মেরেছিল।

ওর এক ফুপাতো ভাই ছিল নয়ন। ও নয়নকে পছন্দ করতো, নয়ন ওকে ঘুরাতো। ওই বয়সী মেয়েরা সাধরানত ভুল বেশি করে...হয়তো বা। আমাদের সাথে যতদিন স্কুলে ছিল ওর মাথার থেকে নয়নের ভূত ছাড়ায় রেখেছিলাম। কলেজে ভর্তি হবার সময় ও বয়রা কলেজে প্রথমে ওয়েটিং এ থাকায় অন্য একটা কলেজে ভর্তি হয়েছিল প্রথমে। পরে ও যখন বয়রা কলেজে ভর্তি হয়েছিল, একদিন বয়রা কলেজে দেখা হয়েছিল। বোরখা ধরেছিল তখন আমাকে হঠাত ভিড়ের মধ্যে হাত ধরে টান দেয়, তারপর কি যেন বলতে চাইছিল, ক্লাসের টাইম হয়ে যাওয়ায় আর কথা হয় নি। যখন অন্য কলেজে পড়তো তখন ওর সাথে আমাদের স্কুলের একটা মেয়ের সাথে খাতির হয়, ওই মেয়ের সাথেই ও বিভিন্ন স্যারের কাছে পড়তে যেতো, তখন ওই মেয়ে ওকে কুবুদ্ধি দেয় বাসা থেকে পালাতে।

ওর মাথাটা ছিল পাগলামীতে ভর্তি। একদিন ও বাসা থেকে পালায় কারও সাথে না, একাই পালায়.... তারপরে ওর কোন খোজ পাই নি। আর ওর বাসার লোকজনও তেমন আন্তরিক ছিল না, তাই আর নিজের থেকে খোজও নিই নি ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও।

ওর স্কুল ড্রেসে একটা পকেট ছিল যেখানে ও ছোট একটা স্টিলের গ্লাস আর কয়েন রাখতো। ও যখন হাটতো তখন ঝনঝন আওয়াজ হতো....এখনও যেন সে আওয়াজ শুনি...
২১টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×