ক্লাস নাইনে পড়ার সময় আমাদের ক্লাসে একটা মেয়ে ভর্তি হল, ক্লাসের কেউ মেয়েটাকে পছন্দ করলো না। তার অনেক কারণ ছিল, যেমন ও খুব সহজেই যেটা অপছন্দ করতো সেটা বলে দিতো। আমরাও পছন্দ করতাম না, আমার পাশে সাধারণত ও বসতো, আমি ওর সাথে কথা বললে আমার বান্ধবীরা আমাকে কথা শোনানোর সাথে বিভিন্ন ধরনের শাস্তি দিতো। ওর পছন্দের জায়গা ছিল, পেছনের দিকের কোণার বেঞ্চ। যেহেতু কেউ ওকে দেখতে পারতো না, কেউ ওকে তার নিজের জায়গা দিতে রাজী ছিল না। একদিন ক্লাসের অন্য কয়েকটা মেয়ের সাথে কোণার জায়গা নিয়ে ওর ঝগড়া বাধলো, ও কেদে ফেললো। এবার আমার ৩ বান্ধবীর মন গলল, আমরা আমাদের বেঞ্চের কোণাটা ওকে ছেড়ে দিলাম।
এবার আমরা বুঝলাম ওকে গ্রুপে ঢোকানোয় আমাদের অনেক লাভ হয়েছে, যেমন : সবচেয়ে রাগী সন্তোষ স্যারকে একদিন পাল্টা জবাব দেয়ার পর স্যার তোতলাতে শুরু করলেন, গোলাম আজম স্যার ও থাকলে আর আমাদের পড়া ধরতেন না, সেকেন্ড মাওলানা স্যারের নামে নালিশ করতে গেলাম হেডস্যারের কাছে ও কি সুন্দর করেই না নালিশ করে দিল, আর ছেলেদের সাথে তো কথাই নেই ক্লাসে স্যারের সামনেই বলে বসলো তোকে এমন চড় মারবো এরপর থেকে হিসাবমত কথা বলবি, একদিন এক ছেলের উপর এমন ক্ষেপলো যে ছুটির পর ওকে না মেরে বাসায়ই যাবে না......এ রকম হাজার কাজ।
অনেক হাসির কান্ড কারখানা করতো ও যেমন: একবার পরীক্ষার সময় ও হাদিস আরবীতে মুখস্ত না করে বেঞ্চে লিখলো(নকল), পরীক্ষার মাঝখানে আমাকে বলে কোথায় লিখেছিলাম খুজে পাচ্ছি না আমাকে বল!!
ও আবার মাঝে মাঝে আমাদের শাসাতো। এই তোরা এতো হাসাহাসি কেন করিস? এত কথা বলে কেন এ্যানার্জি নষ্ট করিস?
ওর নাম ছিল জেসমিন। একদিন ওর পাশের বাসার এক মেয়ে ওকে জেসি বলে ডাকলো, আমাদের আর পায় কে ওর নাম দিলাম মাছি।
আমার দেখা খুব কম ভাল মেয়েদের মধ্যে ও একজন। ওর বাসার অবস্থা আমাদের মত এত সহজ ছিল না। ওকে সবসময়ই তার বড় ভাইয়ের ভয়ে থাকতে হতো। আমরা রেজাল্টের ব্যাপারে উদাসীন ছিলাম, ও ছিল সিরিয়াস। একদিন কেমিষ্ট্রি ক্লাসে আমরা কথা বলছিলাম, হাসি আসলো আমরা কলম নিচে ফেলে ৩ জন হাসতে লাগলাম, ও সহ আরেকটা মেয়ে ম্যামের কাছে ধরা খেল। ওর কপাল এমনই ছিল, ওই সময় ওর ভাই কি কাজে স্কুলে এসেছিল, দেখলো ও দাড়িয়ে আছে। তারপরে শুনেছিলাম ওর ভাই ওকে স্কুলে পড়া পারে নি ভেবে মেরেছিল।
ওর এক ফুপাতো ভাই ছিল নয়ন। ও নয়নকে পছন্দ করতো, নয়ন ওকে ঘুরাতো। ওই বয়সী মেয়েরা সাধরানত ভুল বেশি করে...হয়তো বা। আমাদের সাথে যতদিন স্কুলে ছিল ওর মাথার থেকে নয়নের ভূত ছাড়ায় রেখেছিলাম। কলেজে ভর্তি হবার সময় ও বয়রা কলেজে প্রথমে ওয়েটিং এ থাকায় অন্য একটা কলেজে ভর্তি হয়েছিল প্রথমে। পরে ও যখন বয়রা কলেজে ভর্তি হয়েছিল, একদিন বয়রা কলেজে দেখা হয়েছিল। বোরখা ধরেছিল তখন আমাকে হঠাত ভিড়ের মধ্যে হাত ধরে টান দেয়, তারপর কি যেন বলতে চাইছিল, ক্লাসের টাইম হয়ে যাওয়ায় আর কথা হয় নি। যখন অন্য কলেজে পড়তো তখন ওর সাথে আমাদের স্কুলের একটা মেয়ের সাথে খাতির হয়, ওই মেয়ের সাথেই ও বিভিন্ন স্যারের কাছে পড়তে যেতো, তখন ওই মেয়ে ওকে কুবুদ্ধি দেয় বাসা থেকে পালাতে।
ওর মাথাটা ছিল পাগলামীতে ভর্তি। একদিন ও বাসা থেকে পালায় কারও সাথে না, একাই পালায়.... তারপরে ওর কোন খোজ পাই নি। আর ওর বাসার লোকজনও তেমন আন্তরিক ছিল না, তাই আর নিজের থেকে খোজও নিই নি ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও।
ওর স্কুল ড্রেসে একটা পকেট ছিল যেখানে ও ছোট একটা স্টিলের গ্লাস আর কয়েন রাখতো। ও যখন হাটতো তখন ঝনঝন আওয়াজ হতো....এখনও যেন সে আওয়াজ শুনি...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


