ক্লাস ওয়ানে থাকতে আমি ফাইনাল পরীক্ষায় অংকে ১০০ পেয়েছিলাম সেই সময় আমার এক ফুপাতো ভাই এসেছিলেন (উনি সম্পর্কে ভাই হলেও বয়সে আব্বুর থেকেও বড়)। উনি আমার উপর খুবই খুশি হলেন। এরপর আত্নীয় স্বজন মহলে আমি ভাল স্টুডেন্ট হিসেবে পরিচিত হলাম
এরপর উনি যখনই আসেন আমাকে একটা প্রশ্ন ধরতেন। ধর, একটা গাছে ১৭টা পাখি, আমি একটা বন্দুক দিয়ে গুলি করলাম। একটা পাখি মরে গেল গাছে কয়টা পাখি থাকলো?
প্রথমদিন আমি ১৬টা বললাম কিন্তু পরেরদিন থেকে আর ভুল উত্তর দিতাম না। এই প্রশ্নটা আমাকে অনেক বড় হবার পরও উনি জিজ্ঞেস করতেন।
আমি তখন ক্লাস সিক্সে পড়ি তখন ওই ভাই একবার এসে ইংরেজি গ্রামার বই আনতে বললেন। আমি আনলাম আর ফ্যাসাদে পড়লাম। উনি জুট রচনা বের করে প্রতিটা বাক্যের কোনটা কোন পার্টস অফ স্পিচ তা বুঝাতে লাগলেন। আমি অসহায় হয়ে সব শুনলাম এরপর আমাকে উনি জার্নি বাই বোট দিয়ে বললেন, ওটার প্রতিটা পার্টস অফ স্পিচ বের করতে। আমি স্বভাবমত আম্মুর কাছে কাঁদতে গেলাম পাত্তা পেলাম না। তখন বুবু আর আরো ২টা কাজিন বলল, উনাকে যেকোন স্থানে দেখমাত্র পালিয়ে বাচতে পারো, তো সমস্যার সমাধান। আমি নানীবাড়িতে আশ্রয় নিয়ে ওইবার রক্ষা পেয়েছিলাম।
আমি যখন ক্লাস সিক্সে পড়ি তখন প্রথমকবারের মত ফেইল করি। বাংলা ১মপত্রে ৩০ পেয়েছিলাম। ওইবার পরীক্ষা খারাপ দিয়ে আমি রিক্সার উপরে বসে ভাবছিলাম আম্মুকে কি জবাব দিবো
এরপর ৩ বছর আমার ফেইল করা থেমে থাকলো। ক্লাস নাইনের প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় আমি ফিজিক্সে ০২ পেলাম। সাথে অংকে ২৬ পেলাম। ২বিষয়ে ফেইল করায় আমাকে রেজাল্ট দিল না। তখন বাসায় এক কাজিনের বিয়ে হচ্ছিল, আমি স্কুলে যাচ্ছিলাম না। আমার বড়মামীও একটা স্কুলের টিচার। আমাদের ক্লাস টিচারের সাথে তার দেখা হয়ে গেল, আর ওই স্যার মামীর হাতে রেজাল্টশীট ধরিয়ে দিল। মামী বড়মামাকে দেখালো, মামা নানীবাড়িতে আমাকে ডেকে পাঠালো। তারপর ঝাড়ি দিল, মানুষ ১/২ মার্কের জন্য ফেইল করে আর তুমি ২ পাও?!!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


