আমার প্রিয় পোস্ট
- কে কেমন লেখে? - এস এম মাহবুব মুর্শেদ
- অমিত আহমেদের বৃষ্টিদিন রৌদ্রসময় গল্প গ্রন্থ বিষয়ে আলোচনা (১) - জামাল ভাস্কর
- অমিত আহমেদের 'গন্দম' পড়ে ব্লগীয় রিভিউ - সন্ধ্যাবাতি
- রাহেলা হত্যা মামলার নিখোঁজ আলামত ও অন্যান্য দলিল - ফয়সল নোই
- ব্লগারদের বই নিয়ে ব্লগব্লগর- ১ - শেখ জলিল
- রহস্য সাহিত্যের ক্যাপ্টেন- কাজী আনোয়ার হোসেন - নিশাত
নটরডেমিয়ান ১: নবীনবরনের ব্যবচ্ছেদ (ব্যাচ '৯৯)
৩১ শে মে, ২০০৭ ভোর ৬:২৭
নটরডেমের গেটের কাছে দাড়িয়ে বিতৃষ্ণা নিয়ে ভেতরে তাকাই। বাবা-মার পীড়াপীড়িতে নটরডেমে পড়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে, আমার ইচ্ছা ছিল ঢাকা কলেজে পড়ার, স্কুলের সব বন্ধুরাও ঢাকা কলেজেই। বাবা-মার ধারনা আমি যে রকম ট্যাটন, ঢাকা কলেজে ঢুকে গোল্লায় চলে যাব। আমার জন্য দরকার শক্ত হাতের শক্ত তদারকি।
কলেজটা লাল-নীল কাগজে বেশ ভালই সাজিয়েছে। ভেতরে কয়েকজন দোস্ত থাকার কথা। ঢোকার পথেই বিপত্তি। দু'জন শিশুসুলভ সিনিয়র ভাই গলায় ঢালাও মমতা নিয়ে বললেন, "ভাইয়া, নতুন ব্যাচ?"
আমি "জ্বী" বলেছি কি বলিনি তারা একটা "স্বাগতম হে নবীন" লেখা কাগজের টুকরো পিন দিয়ে আমার শার্টে আটকাতে গিয়ে পিন আমূল আমার বুকে ঢুকিয়ে দিল। সে এক রক্তারক্তি কান্ড। আমি এতটাই বিহবল যে টু শব্দটাও গলা দিয়ে বেরুলো না, দেখলাম এক ফোঁটা রক্ত শার্টে মিশে গেল। গর্দভ বড় ভাই দু'টো চরম বিব্রত হয়ে "স্যরি ভাইয়া, স্যরি ভাইয়া" করতে লাগলেন। মনটা খারাপ হয়ে গেল। এই হচ্ছে কলেজের ছাত্রদের অবস্থা! এই কলেজেই পড়তে হবে দু'দুটো বছর!
কলেজের মাঠে প্যান্ডেলের মত সাজানো হয়েছে। ধানমন্ডি গভঃ বয়েজ হাই স্কুলে পড়েছি, ঢাকা কলেজের নবীন বরনে কনসার্ট দেখতে (পড়ুন মারামারি করতে) কম যাওয়া হয়নি। এখানে সিন দেখি পুরা উল্টা। সবাই বাবা-মা-ভাই-বোন নিয়ে সপরিবারে উপস্থিত। আমি শামিয়ানায় ঢুকে দোস্তদের খোঁজ করি। ইমতিয়াজ, ফয়সাল, রনি, নিয়াজ, বনি আরও অনেকের সাথেই দেখা হয়ে যায়।
রনি কানে কানে বলে, "দোস্ত, এখনও সময় আছে, ঢাকা কলেজে যাই গা চল।"
আমি গা লাগাই না।
নিয়াজ গোমড়া মুখে বলে, "বাবা-মা আসতে চাচ্ছিলেন, আমি দিয়েছি ঝাড়ি, বলেছি নবীন বরনে গার্জিয়েনরা যায় নাকি! এখানে অবস্থা দেখেছিস, স্টুডেন্টদের চেয়ে গার্জিয়েন বেশী!"
ওকে আর কি বলবো, আমারও বাসায় একই কাহিনী হয়েছে।
ইমতিয়াজ বলে, "দোস্ত অনেকে বোন নিয়ে এসেছে। ঐ কর্ণারে সবুজ জামা পড়া মেয়েটাকে দেখ... চরম না?"
এরই মাঝে অনুষ্ঠান শুরু হয়ে যায়। নটরডেম যে কেবল ভাল ছাত্র বানায় না, শুদ্ধ মানুষও বানায় সেটাই ইনিয়ে বিনিয়ে সবাই বললেন। স্টেজে লম্বা সাদামাটা ফাদার পিশাতো উঠে চমৎকার বাংলায় নিজের বক্তব্য রাখলেন। এরপর শুরু হয়ে গেল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। নাচ-গান-আবৃত্তি উপভোগ করছি, এমন সময় স্টেজে আসলেন নাদুস নুদুস মায়া মায়া মার্লিন ক্লারা পিনেরু। টইটম্বুর গলায় বললেন, "এবার একটা অবাক কান্ড হয়েছে! প্রতিবার আমাদের পুরানো ছাত্ররা পারফর্ম করে। এবার তোমাদেরই একজন আমাকে একটু আগে বলেছে সেও কিছু করতে চায়। কোন প্রস্তুতি ছাড়াই স্টেজে উঠছে, ওকে অনেক, অনেক হাততালি।"
স্টেজে উঠে এলো হাড়গিলে এক ছেলে, টাইট জিন্স আর লাল রঙের শার্ট পড়া। মাথায় আবার ফুটকি মারা লাল ব্যান্ডানা।
ম্যাডাম জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি কি পারফর্ম করবে?"
ছেলেটি মেয়েলি গলায় বলল, "ক্লাসিকাল ড্যান্স!"
আমি মনে মনে বললাম, হে ধরণী, দ্বিধা হও!
ছেলেটি মনে হয় পকেটে সব সময় ক্যাসেট নিয়ে ঘুরে, সেটা বের করে ম্যাডামকে দিয়ে বলে, "এটাতে মিউজিক আছে আপা!"
গান শুরু হতেই আমার পিলে চমকে উঠলো, চটুল হিন্দি গান, "গোরে গোরে মুখরেপে কালে কালে চশমা..."
আর সেই সাথে খ্যামটা নাচ। দর্শকরা দু'ভাগে ভাগ হয়ে শামিয়ানার নিচে বসে ছিল। বাম দিকে নতুন ছাত্ররা, ডান দিকে গার্জিয়েনরা। আমি দেখলাম খ্যামটা নাচের সাথে সাথে ডান দিকের সবার মুখ অন্ধকার হয়ে গেল। ছেলেটির কেরামতি আছে বলতে হবে, দেহের প্রতিটা অঙ্গ গরলের মত ওঠানামা করছে। দেখা গেল ছেলের আগ্রহটা আসলে গার্জিয়েন সাইডের বড় আপাদের দিকে। সোজা ঐ দিকে তাকিয়ে তার কোমড় সঞ্চালনের বিশেষ পারদশিতা পুরোদমেই প্রকাশ্যমান। নাচের ফাঁকে কাবিল ছেলে আবার মাথার ব্যান্ডানাটা খুলে নিখুঁত নিশানায় সবুজা জামা পড়া আপুর দিকে ছুঁড়ে দিল। আমি মুগ্ধ চোখে ছেলেটার হাতের টিপ দেখছি, ইমতিয়াজ কানে কানে বলল, "কান্ডটা দেখলি? হারামজাদার পুঁইতা ফালামু আজ।"
হঠাৎই গান বন্ধ হয়ে যায়। আমরা দেখি মিশকালো ঠোটের শ্যামলা রাগী চেহারার একজন মানুষ স্টেজে উঠে আসেন। কান ধরে ছেলেটিকে স্টেজের পাশে এমন এক জায়গায় নিয়ে যান যেখানে সাবাই তাদেরকে দেখতে পাবে ঠিকই কিন্তু মনে হবে তিনি কাজটা আড়াল করার চেষ্টা করছেন। কিছু বোঝার আগেই ছেলেটার গালে গুনে গুনে পাঁচটা বিরাষি শিক্কার চড় পড়ে। আমাদের সেই প্রথম পরিচয় নটরডেমের ত্রাস টেরেন্স পিনেরু স্যারের সাথে। সারা মাঠে তখন পিনপতন নিঃস্তব্ধতা।
একটু পরেই আবার উঠে এলেন মার্লিন ক্লারা পিনেরু, তাঁর সেই ঢলঢল গলায় বললেন, "যে ছেলেটি নাচলো সে কিছু বলতে চায়!"
কান্না জড়া গলায় থেমে থেমে কথা আসে ছেলেটার, "আ....আমি বলেছিলাম ক্লাসিকাল ড্যান্স দেখাবো... কি....কি...কিন্তু যা দেখিয়াছি তা ছিল অশ্লীল... আমি ক্ষমাপ্রার্থী।"
ইমতিয়াজ কানে কানে বলল, "উচিৎ শিক্ষা হয়েছে শালার!"
বিস্মিত আমি গুম হয়ে ভাবলাম, এইরে কলেজে উঠেও স্যারদের মার খেতে হবে নাকি! স্টেজে এলেন লিংকন ভাই, উঠেই ধরলেন হ্যাপি আখন্দের "চলনা ঘুরে আসি..." সময়টা মন্দ কাটে না।
সুর্য ডোবার সাথে সাথে অনুষ্ঠান শেষ। দোস্তরা মিলে বাইরে এসে একটা টং দোকানে সিগারেট চাই। সিনিয়র এক ভাই উঠে আসেন। জলদ কন্ঠে বলেন, "ফার্স্ট ইয়ার?"
"জ্বী ভাইয়া!"
"তাহলে মাইকেল মামুর দোকানে যাও। রফিক মামুর দোকান সিনিয়রদের জন্য, ঠিকাছে? আর যেন না দেখি এখানে।"
আমরা মিনমিনে গলায় "জ্বী ভাইয়া" বলে সরে আসি। এতক্ষনে নটরডেমকে কলেজ বলে মনে হয়, পরিচিত আবহাওয়ায় মনটাও ভাল হয়ে আসে। নাহ, যতটা ম্যাড়মেড়ে ভেবেছিলাম কলেজটা, ততটা মনে হয় না!
© অমিত আহমেদ
(চলতে পারে)
প্রকাশ করা হয়েছে: বায়স্কোপ বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুন, ২০০৭ রাত ১২:৪৯ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
অমিত আহমেদ বলেছেন:
আরে ভাই টেরেন্সের মাইরই তো খাইছে! টেরেন্স স্যারের নামটা লিখিনি? ভুল হয়ে গেছে... দাঁড়ান ঠিক করি।
হনুমানজী বলেছেন:
গাট্টাগোট্টা টেরেন্স না! আমারে একবার দিসিল মাইর গরীবে নেওয়াজের কেলাসে কমলা মারামারির লাগি
আতরাফ রহমান বলেছেন:
মনে করিয়ে দিলেন।
অমিত আহমেদ বলেছেন:
ঠিকই বলেছেন, এক কথায় আসলে টেরেন্সের বর্ননা দেয়া সম্ভব না। আমাকে মাইর দেয় নাই তবে টি.সি. দিতে নিছিল... পরে বলবো সে কাহিনী।
হনুমানজী বলেছেন:
ভালা আসিল। দ্যা প্যাট্রিয়ট কবিতা যেই আবেগ নিয়া পড়াইসিলো
অমিত আহমেদ বলেছেন:
সম্ভবত ওই ছেলেই ওই দিনই কলেজে শেষ আসা। পরে অনেক খুঁজেছি, পাইনি।
অমিত আহমেদ বলেছেন:
আচ্ছা, টেরেন্স স্যার নাকি মারা গেছেন? সত্যি নাকি কথাটা? কিভাবে?
হনুমানজী বলেছেন:
আতরাফ রহমান কবেকার ব্যাচ
হনুমানজী বলেছেন:
বলগেই তো কার পোস্টে দেকলাম পেরায় তিন মাস আগে
আতরাফ রহমান বলেছেন:
আমি ৯৮ এইচ এস সি।
অমিত আহমেদ বলেছেন:
সেটা কি সত্যি? আমার কিন্তু বেশ লাগতো উনাকে।
হনুমানজী বলেছেন:
বাচ্চা পুলাপাইন বুড়া হইয়া গেলাম
অমিত আহমেদ বলেছেন:
আতরাফ ভাই, আপনি আমার জাস্ট আগের ব্যাচ তাহলে। কোন গ্রুপে ছিলেন?
হনুমানজী বলেছেন:
আমারো । যতই পেডাপেডি করুক, ভালা পাইটো টেরেন্স। মাজে সাজে কইতো ভালা হইয়া যা
ফরিদ বলেছেন:
অই মিয়া মনে আছে নাকি? ন্রৃত্যপ্রদর্শন করতে করতে যে চান্দুর ব্যান্ডানা উড়ে গেছিল মনে করায়া দিলা মিয়া। গ্রুপ??
অমিত আহমেদ বলেছেন:
উড়ে যায় নাই... ওইটা সে ইচ্ছে করেই মেয়েদের দিকে ছুড়ে দিছিল!আমি প্রথম দুই মাস ছিলাম গ্রুপ সেভেনে... পরে বায়োলজী নেয়ার গ্রুপ থ্রীতে ছিলাম বাকিটা সময়।
তোমার গ্রুপ?
ফরিদ বলেছেন:
হতভাগা বেকুবদের চান্স গ্রুপ এইট। তুমি সেভেন হইলে তো সামনা সামনি ছিলাম কিছুদিন। আমি অবশ্য কম্পু নিসিলামঃ) আরেকটু ফাকি মারার জন্য।
ফরিদ বলেছেন:
আমারে কেউ মনে রাখে নাইঃ( দেশের বাইরে থেকে সব শেষ। তুমি কই মিয়া?
অমিত আহমেদ বলেছেন:
কানাডাতে আছি, বছর ছয় হয়ে গেল... তুমি কই?
মৃন্ময় আহমেদ বলেছেন:
আমাগো নবীন বরনের সময় যা একখান বৃষ্টি হইছিলো না!
কনফুসিয়াস বলেছেন:
মজা লাগলো পড়ে! চালিয়ে যান।
অমিত আহমেদ বলেছেন:
বলার আছে অনেক কিছুই!
অনাহুত আগন্তুক বলেছেন:
গ্রুপ এইট এখন অনেক চেন্জ হয়ে গেসে। এ বছর একটা ছেলে ১৪তম হয়েছে বুয়েটে.. যতদূর সম্ভব গতবছর সেন্ট আপ ২ এর ২য় ছিল গ্রুপ এইটের..তাও ভালো যে আপনারা সেমি-ক্লাসিকাল মিউসিক দেখেছেন - আমাদের বছর আমরা 'নটরডেমিয়ান নাটিকা' দেখেছি .. (এখন সম্ভবত এটা ট্র্যাডিশন হয়ে যাচ্ছে) সেখানে একটা ছেলে দাঁড়িয়ে বলে.. 'এটা কি অন্য কলেজ পাইসো? যে ঢুকবে-বেরোবে? ঢুকবে-বেরোবে? ঢুক...' তারপর ৮-১০ বার বলার পর অঙ্গভঙ্গি দেখে সবাই হাসতে হাসতে শেষ, আর ফাদাররা ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে..
নটরডেমে গ্রুপ এইটটা সবচেয়ে ফ্রাস্ট্রেটিং জায়গা.. HSCর ইংলিশ মিডিয়ামের বইপ্ত্র নেই, তো খামাখা একটা ইংলিশ মিডিয়াম খুলে রাখার কি মানে হয় ? এখন তাও যা কিছু বেরোচ্ছে - বাংলা থেকে বিদঘুটে অনুবাদ করে.. হাস্যকর!
স্বপ্নের ফেরিওয়ালা বলেছেন:
টেরেন্স পিনেরু বহু জালাইছেন...ইংলিশ পেপার থেকে বাংলা করতে বাধ্য করতেন, আজব আজব বিষয়ে ইংলিশে ফ্রি-হান্ড লিখতে বাধ্য করতেন । লাভ টা অবশ্য ভুক্তভোগীদেরই হইছে । ওনার সাম্প্রতিক খবর দিতে পারেন কেউ ?
~
অনাহুত আগন্তুক বলেছেন:
ও আমরা টেরেন্সকে পাইনি.. কিন্তু টেরেন্সের গল্পগুলো মনে হয় অমর হয়ে যাচ্ছে.. অনেকেই টেরেন্সের কথা বলে আমাদের বোঝাতো আমরা কত লাকি, তারপরে টেরেন্সের অনুকরণ শুরু করতো.. বিশেষ করে ভিকির সায়েন্স ফেয়ারের পর.. 'তোমাদের লজ্জা করে না, নটরডেমের ছাত্র হয়ে মুখ হাঁ করে ভিকারুন্নেসার সামনের রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে? তোমরা তো পিনেরুকে পাওনি, পেলে একদম সব কটা কে..'
স্বপ্নের ফেরিওয়ালা বলেছেন:
টেরেন্স এর সাথে প্রথম স্বাক্ষাতের কাহিনী টা বলতে হ্য় । প্রথম দিন ক্লাস...সবারই একটু গা-ছাড়া ভাব । দুইটা দল বেশ ভারি...আমরা এক্স-আইডিয়াল এক দিকে, এক্স-জোসেফাইন আরেক দিকে । ২য়/৩য় পিরিয়ডে দেখি ইংলিশ ক্লাস...নিবেন টেরেন্স পিনেরু । নামটা ইন্টারেস্টিং ঠেকলো...এরই মধ্যে জোসেফাইন-গ্রেগরীয়ানরা বলা শুরু করলো টেরেন্স আসতেসে...বলাটার মধ্যে কেমন যেন ভয় মিশানো...যেন মালটা অন্য গ্রহের । যা হোক...একটা মধ্য বয়সী লোক ক্লাসে অদ্ভুত ভঙ্গিতে ঢুকে সোজা টেবিলের উপর বসলো...ট্রেডমারক হাসিতে প্রথম ডায়ালগঃ “তোমরা কি আমাকে চেনো?” জোসেফস-গ্রেগরীয়ানস বাদে বাকীরা বললাম “না” । দ্বিতীয় ডায়ালগঃ “আমি কিন্তু তোমাদের সবাইকে চিনি...তোমাদের প্রত্যেকের পারসোনাল ফাইল আমি পড়েছি” । নিজেদের আসামী-টাসামী মনে হল...কই আসলাম রে বাবা । তার পরে পরিচয় পরব । তৃতীয় ডায়ালগঃ “আমার একটা মাত্র বউ, একটা মাত্র মেয়ে” । তার পরে আমরা আমাদের নাম, স্কুল বললাম । এরপরে তিনি ঘোষনা দিলেন আমরা একদমই ইংলিশ জানিনা আর সেটা প্রমান করতে নামলেন জোরেসোরে...যার দুই ভুক্তভোগীর একজন আমি ।
দুইটা বছরে তার কান্ডকীরতির শেষ নাই । প্রচুর জালাইছেন...কিছু শিখছিও...কৃতজ্ঞ আমি । এইতো সেদিন...অথচ টেরেন্স এর সাথে প্রথম স্বাক্ষাতের পরে ১৭ বছর কেটে গেল প্রায়!! হায়রে জীবন...
~
ধুসর গোধূলি বলেছেন:
আহাহা, মারলিন ম্যাডাম!আমি শিওর আপনেরা ইংরেজীর শারমিন ম্যাডাম আর ইকোনমিক্সের মৃধা ম্যাডামরে দেখেন নাই!
বারান্দা দিয়া হাঁইটা গেলে কেলাশ রাইখা চাইয়া থাকতাম, ফলাফল-
কানে ধইরা কতো খাড়াইছি ক্লাশে!
স্বপ্নের ফেরিওয়ালা বলেছেন:
আমারা ভরতি হওয়ার কিছুদিন পরে ই মারলিন ম্যাডাম ঢুকছিলেন । ঐ সময় সবথেকে নাম করছিলেন মৃদুলা ভট্টাচায্...প্রমিলা ম্যাডামের বোন । শারমিন / মৃধা ম্যাডামদের পাই নাই / মনে নাই !
অমিত আহমেদ বলেছেন:
অনাহুত আগন্তুক - টেরেন্স স্যার ছাড়া এন.ডি.সি. কল্পনা করতেও বাঁধে আমার! তোমার অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।--
স্বপ্নের ফেরিওয়ালা - দ্যাট সাউন্ডস লাইক টেরেন্স, হো হো হো
--
ধুসর গোধূলি - শারমিন আর মৃধা ম্যাডামকে পাই নাই। রোজমেরী ম্যাডাম আসছিল আমাদের সময় প্রথম।
মিতেব বলেছেন:
thnxফাটাফাটি লিখেন তো আপনি......
কিংকর্তব্যবিমূঢ় বলেছেন:
নটরডেমের নবীন বরণ আমাদেরটা বেশ বোরিংই ছিল ... "এসো হে নবীন" মার্কা গান টান দিয়া ভর্তি ... স্যারেরাও বোধহয় জানতেন যে পোলাপনের বোরিং লাগবে, তাই একটু পর পর মাইকে ঘোষণা "এই নবীনবরণ ফাংশনের উপর তোমাদের প্রথম কুইজ হবে" ... কলেজের হাওয়া লাইগা গেছে গায়ে ... কে আর কান দেয় ঐসব কথায় ... ভাবছিলাম চাপাবাজি ......
পরে দেখি কিসের কি ... আসলেই এক সপ্তা পরেই কুইজ ... একটা প্রশ্ন ছিলো এইরকম "নবীনবরণ অনুষ্ঠানে কোন গানটি চলার সময় বৃষ্টি শুরু হয়" ...
...
সেই কুইজে একশতে পাইছিলাম একুশ :-)
কেমিকেল আলী বলেছেন:
কি অবস্থা বস?
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

















.
নাচুনে পোলার কপাল ভাল টেরেন্সের মাইর খায় নাই ...