এরই মাঝে খবর পেলাম বেয়াড়া নটরডেম কলেজ নাকি ঠিক করেছে তারা তবু অ্যাডমিশন টেস্ট নেবে। আমি নির্ভরযোগ্য সূত্রে খবর পেলাম, সেই টেস্ট কেবল লোক দেখানো, আসল নিয়োগ টেবুলেশন শীট দেখেই করা হবে। আর ঢাকা কলেজে তো নিশ্চিত, যেমন বলেছি, সেখানটাতেই আমার পড়ার ইচ্ছা। বাবা মা কিছুদিন কোচিং সেন্টারে ঢোকার জন্য চাপাচাপি করে অবশেষে ক্ষ্যামা দিলেন।
নটরডেম, ঢাকা কলেজ আর রাইফেলসের অ্যাডমিশন ফর্ম কিনে জমা দিলাম। রাইফেলসের ফর্ম কেনার নেপথ্যে আরেক কাহিনী, পরে বলবো কোন দিন। সে যাই হোক, নটরডেমে টেস্টের দিন গেছি কোন প্রিপারেশন ছাড়া। কারন, চান্স না পেলে ঢাকা কলেজ ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না। পরীক্ষায় দেখলাম গার্ড বলে কিছু নেই, স্যার ম্যাডাম চা-বিস্কুট খাচ্ছেন। সে সুযোগে অনেকেই দেখাদেখি করে চমৎকার পরীক্ষা দিয়ে দিল। আমি পাত্তাও দিলাম না। খাতা জমা দেয়ার পরে আমাকে অবাক করে দিয়ে স্যার বললেন (কে গার্ডে ছিলেন মনে নেই, সম্ভবত বকুল স্যার), "আমরা আসলে দেখেছি কে কতটা সৎ, যারা দেখাদেখি করেছে তাদের আমরা কিছু না বললেও নাম লিখে নিয়েছি, ওরা আগেই বাদ পড়ে যাবে।" আমি মনে মনে বললাম, "খাইছে আমারে!"
ইন্টারভিউ এর ডাক চলে এল, আমার ইন্টারভিউ নিয়েছিলেন সম্ভবত ডি.কে.রায় স্যার আর প্রমীলা ভট্টাচার্যী ম্যাডাম।
প্রথম প্রশ্ন প্রমীলা ম্যাডামের, "থাকো মিরপুরে, এত দূরে সময় মত আসতে পারবে?"
আমি বললাম, "চেষ্টা করবো ম্যাডাম!"
ডি.কে.রায় স্যার সময়ানুনর্তিতা নিয়ে একটা নাতিদীর্ঘ ভাষন দিয়ে দিলেন। দ্বিতীয় প্রশ্নটাও করলেন তিনিই,
"ধানমন্ডি বয়েজের ছেলেরা তো সব বেয়াড়া ধরনের, 'সিম্পল রেস্টুরেন্টে' বসে আড্ডা দেয়। নটরডেমের নিয়মের সাথে মানিয়ে নিতে পারবে?"
আমরা যে রেস্টুরেন্টে আড্ডা দিতাম তার নাম "সিম্পল রেস্টুরেন্ট" বটে! রাগ ছাপিয়ে বিস্ময়টাই গলায় ফুটে ওঠে। আমি বলি, "চেষ্টা করবো স্যার!"
তৃতীয় প্রশ্নটাও তাঁর, "এত কলেজ থাকতে নটরডেম কেন?"
আমি বললাম, "কারন, আমার বাবা মনে করেন নটরডেমের মত নিয়মে চলা প্রতিটা ছাত্রের জন্য আবশ্যক।"
ব্যাস, ইন্টারভিউ শেষ।
ফলাফল চলে এলে জানলাম আমার অ্যাডমিশন হয়েছে, ক্লাস করতে হবে গ্রুপ সেভেনে।
© অমিত আহমেদ
(চলতে পারে)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মে, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



