তোমার সুরে সুরে সুর মেলাতে

সামরিক বাহিনীর সৈনিকদেরকে অমিত আহমেদের খোলা চিঠি

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৩:০৩

শেয়ারঃ
0 19 0


পিলখানা বিডিআর সদর দপ্তরে গোলাগুলির খবর প্রথম পাই জিটকে এক বন্ধুর কাছ থেকে। তখনি বাঁধ ভাঙার আওয়াজ ব্লগে ঢুকি; দেখি ব্লগাররা ইতিমধ্যেই লাইভ ব্লগিং শুরু করে দিয়েছেন। এরপরে যোগ দেয় সচলায়তন আর ক্যাডেট কলেজ ব্লগ। আমি তিন ব্লগেই চোখ রেখে ঠায় বসে থাকি। মাঝে মাঝে নানান সংবাদ মাধ্যমের আপডেট; আমাদের আড্ডা সাইটে স্ট্রিমিং বাংলা ভিশন সংবাদ।

নানান গুজব এড়িয়ে পরে যখন নিশ্চিত খবর পাওয়া গেলো ভেতরে কী হচ্ছে তখন; একদম সত্যি কথা বলি; আমার প্রাথমিক চিন্তাটা ছিলো খুবই সরল, "দেখ, এবার মজাটা দেখ!" আমার সহানুভূতি বলেন সমর্থন বলেন আর পক্ষপাত বলেন; সবই ছিলো বিডিআর জওয়ানদের জন্য। ওরা বলেছে ওদের উপর সেনা অফিসারেরা নির্যাতন করে, দমিয়ে রাখার চেষ্টা করে। সেটা তারা কাদের সাথে করে না?

ভাই শোনেন,
খুব ছোটবেলায় মেজর আনোয়ারের লেখা "হেল কমান্ডো" পড়ে মাথায় মেজরের একটা কথা ঢুকে গিয়েছিলো, "নারীর প্রেমের চেয়ে আমার কাছে দেশপ্রেম অনেক বড়।" আমার স্বপ্ন হয়ে উঠেছিলো বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীতে ঢোকার। সময়ের সাথে কী হলো বলেন তো? কী হলো যে আমার সামরিক বাহিনীর নাম নেবার আগে একটা গালি বসাতেই হয়? কী হলো যে খোদ বাংলাদেশের সেনারা আটক আছেন শুনে আমার কোনো উদ্বেগ আসে না?

আমি জানি, আপনারাও জানেন, বেশির ভাগ বাংলাদেশীদের প্রাথমিক অনুভূতি এমনই ছিলো। এই ঘটনার প্রাথমিক পর্যায়ে বাংলাদেশের মানুষ সামরিক কর্মীদের কোনো সহানুভূতি দেখায়নি। আমার পরিচিত যে ক'জন মানুষ সামরিক বাহিনীতে আছেন তাদের সবার কথাতেই আমি প্রতিশোধ স্পৃহা ছাপিয়ে এই নিয়ে অভিমানটাই বেশি দেখেছি। বাংলাদেশের মানুষ আপনাদের এতটা অপছন্দ করে এটা ইউনিফর্মের আবরণ ভেদ করে আপনারা হয়তো কখনোই বুঝতে পারেন নি। ফেসবুকে সেনা বন্ধুর স্ট্যাটাসে দেখলাম দেশ জুড়ে অনেক তরুন সৈনিকই রেজিগনেশন লেটার জমা দিচ্ছেন। তাদের অভিমান, "দেশের মানুষ আমাদেরকে চায় না; আমরা কেনো সামরিক বাহিনীতে থাকবো?"

ভাইরে,
কখনো কী ভেবেছেন, কেনো বাংলাদেশের মানুষ আপনাদের প্রতি বিরূপ?

বাংলাদেশের মানুষ বারে বারে আপনাদের কাছ থেকে প্রতারিত হয়েছে। আমরা একাধিকবার সামরিক শাসন; ব্যর্থ ক্যু দেখেছি। আপনাদের গুলিতে আমাদের বন্ধুকে মরতে দেখেছি। আপনাদের বুটের তলে পাহাড়ি ভাই-বোনের অধিকার লুন্ঠিত হতে দেখছি। আচ্ছা, বাদ দেন না হয়! এগুলো জাতীয় সমস্যা। আমরা বাংলাদেশীরা আমাদের নিজেদের গায়ে আঁচ না লাগলে এত বড় ব্যাপারে মাথা ঘামাই না। সেই ব্যক্তি পর্যায়েও আমাদের অনেক কিছু দেখা হয়ে যায়। আমার হয়তো সংবাদপত্রে পড়া পাহাড়ি নির্যাতনের কথা মনে থাকবে না। কিন্তু ক্যান্টনমেন্টে লেন পরিবর্তন করার দোষে বৃদ্ধ রিক্সাওয়ালাকে আপনাদেরই কারো একজনের লাথি মারার কথা মনে থাকবে। কারণ এগুলো আমাদের চোখের সামনে ঘটেছে।

আপনারা শপথ নিয়েছেন, "জল, স্থল, অন্তরীক্ষে যেখানে যাইবার আদেশ হইবে সেইখানে যাইতে বাধ্য থাকিব।" শপথ নিয়েছেন, "জীবনের বিনিময়ে হইলেও বাংলার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করিব।" তাই যে কোনো সমস্যায় আমাদের আপনাদের কথা মনে হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগে, বিদেশী অতিথির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, সাফ গেমসে সোনার দৌড়ে টিকে থাকতে, এমন কী যানযট নিরসনে! এর সব হয়তো আপনার করার কথা ছিলো না। এসব কিছু করার শপথ হয়তো আপনি নেননি। গরীব আমাদের বিন্দু বিন্দু করে উপার্জন করা টাকাগুলোর একটা বড় অংশ চলে যায় প্রতিরক্ষা খাতে। তাই আমরা আপনাদের কাছ থেকে এসব দাবি করি। আমাদের মনে হয় না এগুলো বাড়তি কোনো কাজ। দেশের জন্য এই কাজগুলো করার সামর্থ্য আমাদের সবার নেই। আপনাদের আছে। তাই এই কাজগুলো করে যখন আপনারা যখন আমাদের আঙুল তুলে দেখিয়ে দেন তখন আমাদের ভালো লাগে না। যখন আপনারা আমাদের "ব্লাডি সিভিলিয়ান" বলেন, আমাদের ভালো লাগে না। আমাদের মনে হয় আমাদের খুব প্রিয় কেউ আমাদের গালে চড় বসিয়ে দিলো। বাংলাদেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে দুর্নীতি ঢুকে পড়েছে। আপনাদের মধ্যেও। আমাদের দেশ রক্ষার ভার যাঁদের হাতে, তাদের মাঝে দুর্নীতি আমাদের ভালো লাগে না।

কিন্তু ভাই,
আমাদের এই রাগ, এই ক্ষোভ, এই অভিমান আপনাদের উপর করার হক আমাদের আছে। কারণ আমরা আপনাদের ভালোবাসি। আপনারা আমাদের দেশের মানুষ। আমাদের ভাই। আমরা আপনাদের গালি দেই। কিন্তু ভিনদেশী কেউ দিলে আমাদের মাথায় রক্ত উঠে যায়। আমরা নিজেরা আপনাদের নির্যাতনের কথা বলি। কিন্তু ভিনদেশী কেউ জিজ্ঞেস করলে মাথা উঁচু করে লাইবেরিয়ার গল্প শুনিয়ে দেই। আমরা আপনাদের অবিশ্বাস করি। কিন্তু ভিনদেশী কাউকে বলতে একবিন্দু দ্বিধা হয় না যে আমাদের সেনা পৃথিবীর সেরা। আমরা আপনাদের খলনায়ক বলি। কিন্তু আমাদের সব চেয়ে জনপ্রিয় কল্পনায়ক "মাসুদ রানা"কে বানাই সেনা সদস্য। আমরা আপনাদের ভরসা করি না। কিন্তু দেশের যে কোনো সংকটে আমাদের আপনাদের কথা মনে পড়ে।

আমরা নিজেদের বাড়িতেই ঝগড়া করি, রাগ করি, চিল্লাই। পড়শীর বাড়িতে না। আমাদের ভালোবাসাকে ভুল বুঝবেন না। অবহেলা করবেন না।

বিডিআর বিদ্রোহের খবরে আমার প্রাথমিক অনুভূতি তো বললাম। পরের কথা বলি। যখন নিশ্চিত হই বিডিআর কার্যালয়ে সেনা খুন হয়েছেন, আমার বুক কেমন চিনচিনিয়ে ওঠে। পরে যেখন শুনি সেই সংখ্যা শতাধিক তখন আমার আর কিচ্ছু ভালো লাগে না! এক একটা লাশ উদ্ধার হয়। আমি মেহেদী মুছে না যাওয়া নববধূর কান্নার ছবি দেখি। বাবাকে হারিয়ে শিশুর চিৎকার দেখি। সহকর্মী হারিয়ে অন্য সেনাদের গোঙানি দেখি। আমার চোখ জ্বালা করে ওঠে। আমার নিজেকে খুব, খুব ছোট মানুষ হয়! সেনা ভাইদের পাশে দাঁড়াতে ইচ্ছে হয়।

আজ দেখুন, সারা দেশ জুড়ে মানুষ আপনাদের শোকে বিহ্বল হয়ে আছেন। প্রথম ধাক্কার সেই "ঠিকই আছে" মনোভাব আর নেই। আজ আমাদের সবার চোখেই জল। কেনো জানেন? কারণ স্বজনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা নারী-পুরুষ-শিশুর বেদনাক্লিষ্ট মুখ আমার মতোই সবার বুকে কাঁপ ধরিয়ে দিয়েছে। সবাই হঠাৎ করেই বুঝতে পেরেছে একজন সেনা আর কেউ নয়, রক্ত মাংসেরই মানুষ। তাদেরও মা আছে, বাবা আছে। ভাই-বোন-স্ত্রী আছে। তাদেরকেও কেউ "বাবা" বলে ডাকে। তারাও আমাদের মতোই ভাতের সাথে ডাল মাখিয়ে খান। ইলিশের মৌসুমে বাজার থেকে ইলিশ কিনে আনেন। বিকেলে স্ত্রীর সাথে টিভি দেখেন। রাতে সন্তানকে পড়া দেখিয়ে দেন। ছুটির দিনে মা'কে ডাক্তার দেখাতে নিয়ে যান। এমনটা তো আমরা সব সময় বুঝতে পারি না!

আমরা তিন দিন ধরে শোক পালন করবো। আমার মতো সারা দেশের মানুষই রাতে ঘুমাতে গিয়েও শুধু এপাশ-ওপাশ করবেন। কারণ আমাদের ভাই খুন হয়েছেন; আমাদের ভাইয়ের হাতেই। এ যে কতো বড় কষ্ট, কতো বড় বেদনা; এই কষ্ট আর বেদনা যেনো আর কোনো বাংলাদেশীর কোনো দিনও পেতে না হয়। বিডিআরের প্রতি আপনাদের ক্ষোভ আমরা বুঝি। খুনি বিডিআর জওয়ানদের বিচার হোক; শাস্তি হোক। এটা আমি চাই; সারা দেশের মানুষ চায়। কিন্তু রক্তপাত করে সেই শোধ তুলবেন নারে ভাই। একই কষ্ট আমাদের আরেকবার দেবেন না। বিচার ব্যবস্থায় ভরসা রাখুন।

বিডিআর বিদ্রোহ আসলেই বিদ্রোহ ছিলো কিনা তা নিয়ে এখন আমাদের সন্দেহ দানা বাঁধছে। অনেকেই অনেক রকম কন্সপিরেসি থিয়োরি নিয়ে আসছেন। কিন্তু তাদেরও তো ক্ষোভ ছিলো। অনেক জওয়ানও তো নিহত হয়েছেন। আচ্ছা থাক, এসব নিয়ে আমি কিচ্ছু বলবো না, শুধু বলবো এই যে এই বিভৎস হত্যাকান্ড আপনাদেরকে আমাদের কাছে নিয়ে এসেছে, এখান থেকে আর দূরে সরে যাবেন না। আমরা আপনাদের কাঁধে সমবেদনার হাত রাখতে চাই। আমরা আপনাদেরকে "ভাই" বলে ডাকার অধিকার ফেরত চাই। যে ভুলগুলো আগে হয়েছে, করে ফেলেছেন, সেগুলো আর করবেন না। আপনারা "দায়িত্ব" আর "সম্মান"-এর শিক্ষা পেয়েছেন। সেই শিক্ষা বিফলে যেতে দেবেন না। আমি জানি অল্পকিছু অফিসারের জন্য আপনাদের মাথাতে দুর্নীতির বোঝা চলে এসেছে। দায়িত্ব আর সম্মানের কথা চিন্তা করে তাদের একঘর করে ফেলুন। শুধু আপনারা কেনো, বদলাতে হবে আমাদেরকেও। এই মর্মান্তিক ঘটনা থেকে আমরা সবাই শিক্ষা নেবো। আমরা একাত্তরের চেতনায় নতুন করে দেশ গড়তে শিখবো।

ভাইরে,
আমাদের দেশের মানুষেরা খুব সরল। আমরা মনে রাখি না, ভুলে যাই। পরম শত্রুকেও আমরা ক্ষমা করে দেই। সেই ভালো মানুষীর সুযোগ নিয়ে রাজাকারেরা সংসদে আস্ফালন করতে পারে। কোথাকার কোন শর্মিলা বোস লিখে দিতে পারে একাত্তরে নারী ধর্ষণ হয়নি। পাকিস্তান রাষ্ট্রপতির বিশেষ দূত জিয়া ইস্পাহানি শুয়োরের বাচ্চা বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে বলার সাহস পায়, "যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি উত্থাপনের সময় এখন নয়।" আর আপনারা তো আমাদের দেশের সূর্য সন্তান। আমাদের বুকে আপনাদের জন্য যে ভালোবাসা যে গর্ব ছিলো তা তো কখনো মুছে যায় নি! যেমন ছিলো তেমনই আছে। শুধু বারে বারে আমাদের ভালোবাসা ঠেলে দিয়েছেন বলে এতো দূরে সরে গেছে যে হঠাৎ যেনো আমরাও ঠাওর পাই না। আপনারা একধাপ নেমে শুধু একবার আমাদের কাতারে আসুন। এরপরে দেখুন আমরা আপনাদের জন্য কী করি! আমাদের দেশটাতে অনুসরণ করার মতো নায়কের খুব অভাব রে ভাই। একবার আপনাদেরকে নায়ক ভাবার সুযোগ দিন। দেখবেন, বাংলাদেশের মানুষ আপনাদের জন্য জান লাগিয়ে দেবে।

আমি, একজন বাংলাদেশী হিসেবে, বুকে হাত রেখে আজ আপনাদেরকে এই ওয়াদা করলাম!

© অমিত আহমেদ

 

প্রকাশ করা হয়েছে: সাম্প্রতিকস্বগতক্তি  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৪:২১ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৩:০৬
নাজিরুল হক বলেছেন: "শুনলাম দেশ জুড়ে তরুন সৈনিকেরা রেজিগনেশন লেটার জমা দিচ্ছেন। তাদের অভিমান, "দেশের মানুষ আমাদেরকে চায় না; আমরা কেনো সামরিক বাহিনীতে থাকবো?"

কোথায় শুনেছেন ? সূত্র উল্লেখ করুন।
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৩:১০

লেখক বলেছেন: ফেসবুকে সেনা বন্ধুর স্ট্যাটাস। লেখায় উল্লেখ করে দিলাম।

২. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৩:০৯
নুরুজ্জামান মানিক বলেছেন: ++++++
খুব ভাল লিখেছেন অমিত । খুব ।
০১ লা মার্চ, ২০০৯ রাত ২:৩৮

লেখক বলেছেন: আর ভালো লাগে না মানিক ভাই। বাঙালি আর কতো দেখবে?
ধন্যবাদ।

৩. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৩:১৪
সহেলী বলেছেন: কিছু কথার সাথে সহমত ।
৫. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৫
মাহবুব সুমন বলেছেন: তেনারা এসব পড়েন না।
৬. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৮
রাজর্ষী বলেছেন: +++++
একেবারে মনের কথা বলেছেন। ধন্য্বাদ এমন সুন্দর পোস্টের জন্য। আমার মতে এটাই সেরা পোস্ট এই ঘটনার জন্য। এরপরে আর কি কথা থাকতে পারে? ও হ্যা স্টিকি করা হলে ভালো হতো।
০১ লা মার্চ, ২০০৯ রাত ২:৩৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ রাজর্ষী।

৮. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৪:১০
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন: স্টিকি করা হউক.......।
৯. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৪:১৮
সাদাকালোরঙিন বলেছেন: ধন্যবাদ অমিত। খুব সুন্দর করে লিখেছেন মনের কথাগুলো ।
০১ লা মার্চ, ২০০৯ রাত ২:৩৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

১০. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৪:৪৯
পজিটিভ২৯ বলেছেন: তেনারা ব্লাডি সিভিলিয়ানদের ব্লগ খুব কমই পড়েন।
০১ লা মার্চ, ২০০৯ রাত ২:৪১

লেখক বলেছেন: ঢালাও ভাবে এমন মন্তব্য করা ঠিক নয়। আমার পরিচিত যে সেনাদের কথা বলেছি তাদের সাথে ব্লগের মাধ্যমেই পরিচয়। নিচে স্ক্রল করে গিয়ে দেখেন, এখানেও এক সেনা মন্তব্য করেছেন।

কাইকেই বাতিল করে দিতে হয় না।

১১. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৫:০১
আনিক বলেছেন: পজিটিভ২৯ বলেছেন: তেনারা ব্লাডি সিভিলিয়ানদের ব্লগ খুব কমই পড়েন।

কথাটা মনে হ্য় ঠিক নয় ।
১২. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:১৬
অলস ছেলে বলেছেন: অনেক ভালো লিখেছেন। অনেক আবেগ দিয়ে সত্য কথা লিখেছেন।
১৩. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:০৩
চোখের আলোয় বলেছেন: অমিত ভাই, আপনার লেখা দেখে মন্তব্য না করে থাকতে পারলাম না। হ্যাঁ, আমি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন সদস্য। আপনার মত আমারো রক্ত মাংসের উপলব্ধি রয়েছে। আমিও মানুষ। গত কয়েক দিনে ব্লগে, মিডিয়ায় সর্বত্র সেনাবাহিনীর প্রতি তীব্র বিদ্বেষ, ঘৃণা দেখে খুব কষ্ট পাচ্ছিলাম। হতাশ হয়েছিলাম আমাদের এই তীব্র শোকের সময়ে সাধারনের প্রতিক্রিয়ায়। এর পুরো দায় ভার তো আমাদেরই নিতে হবে। কিন্তু এর জন্য আমাদের মুল্যটা অনেক বেশী দিতে হল। আপনারা নিহত অনেক অফিসারদের কে টিভি, পত্রিকায় দেখেছেন, আর আমি তাদের অনেক কে ব্যাক্তিগত ভাবে চিনি। আমাদের কষ্টটা অনেক অনেক বেশী। আমরা চিন্তাও করি নাই, যে আমাদের সেনাবাহিনীর অন্যতম সেরা, চৌকশ, সৎ অফিসার কর্নেল গুলজার এর লাশ সুয়ারেজ লাইনে বের হয়ে আসবে। ইনি সেই অফিসার, যার একক নেত্তৃতে দেশ ব্যাপী জঙ্গী বাদ দমন হয় এবং শায়খ আব্দুর রাহমান ও বাংলা ভাইরা ধরা পড়ে। তিনি র‌্যাব ইন্টেলিজেন্স থেকে মাত্র জানুয়ারীতে বাংলাদেশ রাইফেলস এ যোগদান করেন এবং তারপর এক মাসের ছুটি কাটিয়ে বিডি আর সিলেটে এক সপ্তাহ অফিস করে গত মংল বার ঢাকা এসে মৃত্যু আলিঙ্গন করেন। প্রতিটি মৃত্যুই কষ্টের, সেটা আরো বেশী কষ্টের যখন দেশ প্রেমিক অফিসারের মৃত্যু এভাবে হয়। তার পরিবারের কাছে, আমাদের কাছে কেমন লাগে যখন দূনী্তিবাজ অফিসাররা বিদ্রোহের শিকার বলা হয়। তখন কি আর চাকরী করতে ইচ্ছে করে বলেন? ঢালাও ভাবে সকল রাজনীতি বিদ দের যেমন দোষ দেওয়া অন্যায়, তেমনি পুলিশ, আর্মি, বিডি আর সবাইকে ঢালাও ভাবে বলাটা অন্যায়। দোষ-গুন মিলে প্রতিটি মানুষ। আর অনেক মানুষ মিলেই একটা অর্গানাইজ়েশন গড়ে উঠে। আমার মনে হয়না আমি কোনদিন দূঃ স্বপ্নেও কাউকে ব্লাডি সিভিলিয়ান গাল দিয়েছি। আমার বাবা ও তো একজন সিভিলিয়ান। কাকে গালি দিব? জাতির অনেক সংকটে আমরা এগিয়ে গিয়েছি, আমাদের হয়ত অনেক ভুল ছিল, কিন্তু সংকট সমাধানে আমাদের সর্ব শক্তি দিয়ে চেষ্টা করেছি। আমরা তো এই জাতির বাহিরের কেউ নই। আর এটাই আমাদের কর্তব্য। কিন্তু আজ যখন সেনাবাহিনীর সবচেয়ে বড় এই সংকটে সাম হোয়ার ইন ব্লগে দেখি কিছু মানুষ বিকৃ্ত আনন্দে মেতে উঠেছেন তখন নিজের উপরে আস্থা হারিয়ে ফেলি। সেনা বাহিনীকে পছন্দ করেন এমন মানুষ বাংলাদেশে আসলেই কম। তাহলে কেন, কার জন্য এই সেনা বাহিনী তে থাকব আমি? দেশ ও জাতীর সেবা করতে এসে ভালোবাসার বদলে ঘৃ্ণাই যদি আমার প্রাপ্য হয়- কোণ মেরুদন্ড সম্পন্ন মানুষ এর পর আর চাকরী করতে পারবেনা। আমার জায়গায় আপনি থাকলেও তেমনি করতেন। আমাদের পরিবার অপমানিত, আমি আর তাদের অপমানিত হতে দিতে পারিনা, আমাকে সেই অধিকার কেউ দেয়নি।

আর একটা কথা, গত দুদিনে আর্মির প্রতি বিদ্বেষ অনেক কমে গেছে আমি জানি- এত গুলো মানুষ মারা গেছে জেনে আপনারাও শোকাহত। আপনারা
আজ দুদিন হল তা জেনেছেন আমরা ২ দিন আগেই তা জেনেছি। আপনারা যখন ব্লগে সেনা বাহিনীকে তুলোধুনা করে ফেলছেন, তখন আমরা জানি আমাদের ভাইদের মেরে ফেলা হচ্ছে এখন, টুকরো টুকরো করে ম্যানহলে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। তারপর ও আমরা সংযম এর পরিচয় দিয়েছি। শক্তিতে অনেক বেশী থাকার পর ও নিরীহ প্রান বাঁচানোর জন্য সংঘাতে যাইনি। খুব খেয়াল করে দেখবেন আমাদের বি্রুদ্ধে আপনাদের একটা আশংকা ও আমরা সত্যি হতে দেইনি। ধীর ও স্হীর থেকেছি। আমরা ধৈর্য ধরে আছি, থাকব, বিশ্বাস রাখুন আমাদের উপরে। বিডি আর আমাদেরই গড়ে তোলা সংঘটন। আমাদের ই ভাই। এ লজ্জা আমাদের ও। তবে যারা এ ঘৃ্ন্য হত্যাকান্ডের সাথে সরাসরি সম্প্ররকিত , তাদের মাফ করে দিয়ে ১৯৭১ এর মত ভুল আমরা করতে পারিনা। এই নব্য রাজাকারের সন্তানদের আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। ১৪ ডিসেম্বরের ১৯৭১ এর পুনরাবৃত্তি ২৫ এ ফেব্রুয়ারীতে হল, দেশ হারাল সূ্র্য সন্তানদের। এদের শাস্তির মুখোমুখি করা আপনার, আমার সবার দ্বায়িত্ব। এরা পিলখানা থেকে অস্ত্র নিয়ে সারা দেশে লুকিয়ে পড়েছে। আপনার আসে পাশেই এখন আছে। এদের ধরিয়ে দিন, সাহায্য করুন। যারা সাধারন, নিরপরাধ সৈনিক, তাদের কে এক কাতারে ফেলে বিচার করা হবেনা, আপনারা সবাই সেটা দেখতে পারবেন। এই সেনাবাহিনী অনেক বদলেছে এবং আরো বদলাবে- আপনাদের ও কিন্তু তাতে অবদান রাখতে হবে। আমি এই ব্লগের মেম্বার অনেক দিন ধরে, আজি প্রথম লিখলাম, আর আজি শেষ। সেনা বাহিনী থেকে বের হয়ে গেলে আশাকরি নিয়মিত লিখব। ভাল থাকুন সবাই।

০১ লা মার্চ, ২০০৯ রাত ৩:০০

লেখক বলেছেন: আপনার এই মন্তব্য আমাদের অনেককেই নতুন করে ভাবতে শেখাবে। শুধু বলবো - রাগ করে সেনা বাহিনী ছেড়ে দেবেন না। এই পৃথিবীতে ভালো মানুষের মাথাতেই অভিযোগের বোঝা বেশি ভারী ঠেকে। আপনার মতো সৈনিক আমাদের দেশের খুব দরকার।

ভালো থাকবেন।

১৪. ০১ লা মার্চ, ২০০৯ রাত ৩:০৮
ফারহান দাউদ বলেছেন: "আমাদের ভাই খুন হয়েছেন; আমাদের ভাইয়ের হাতেই। এ যে কতো বড় কষ্ট, কতো বড় বেদনা; এই কষ্ট আর বেদনা যেনো আর কোনো বাংলাদেশীর কোনো দিনও পেতে না হয়। বিডিআরের প্রতি আপনাদের ক্ষোভ আমরা বুঝি। খুনি বিডিআর জওয়ানদের বিচার হোক; শাস্তি হোক। এটা আমি চাই; সারা দেশের মানুষ চায়। কিন্তু রক্তপাত করে সেই শোধ তুলবেন নারে ভাই। একই কষ্ট আমাদের আরেকবার দেবেন না। বিচার ব্যবস্থায় ভরসা রাখুন।

বিডিআর বিদ্রোহ আসলেই বিদ্রোহ ছিলো কিনা তা নিয়ে এখন আমাদের সন্দেহ দানা বাঁধছে। অনেকেই অনেক রকম কন্সপিরেসি থিয়োরি নিয়ে আসছেন। কিন্তু তাদেরও তো ক্ষোভ ছিলো। অনেক জওয়ানও তো নিহত হয়েছেন। আচ্ছা থাক, এসব নিয়ে আমি কিচ্ছু বলবো না, শুধু বলবো এই যে এই বিভৎস হত্যাকান্ড আপনাদেরকে আমাদের কাছে নিয়ে এসেছে, এখান থেকে আর দূরে সরে যাবেন না। আমরা আপনাদের কাঁধে সমবেদনার হাত রাখতে চাই। আমরা আপনাদেরকে "ভাই" বলে ডাকার অধিকার ফেরত চাই। যে ভুলগুলো আগে হয়েছে, করে ফেলেছেন, সেগুলো আর করবেন না। আপনারা "দায়িত্ব" আর "সম্মান"-এর শিক্ষা পেয়েছেন। সেই শিক্ষা বিফলে যেতে দেবেন না। আমি জানি অল্পকিছু অফিসারের জন্য আপনাদের মাথাতে দুর্নীতির বোঝা চলে এসেছে। দায়িত্ব আর সম্মানের কথা চিন্তা করে তাদের একঘর করে ফেলুন। শুধু আপনারা কেনো, বদলাতে হবে আমাদেরকেও। এই মর্মান্তিক ঘটনা থেকে আমরা সবাই শিক্ষা নেবো। আমরা একাত্তরের চেতনায় নতুন করে দেশ গড়তে শিখবো। "

হ্যাঁ।
১৬. ০১ লা মার্চ, ২০০৯ সকাল ৯:১১
নাজিম উদদীন বলেছেন: বিডিআরের প্রতি যে সহানুভূতি বলেন সমর্থন বলেন আর পক্ষপাত বলেন তা এখন আর নাই। মিডিয়া ভুল করেও আর নতুন ভুল করবে না।
১৭. ০১ লা মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১২:৩৪
সুজনবাঙালী বলেছেন: ঠিকাছে।
মউআ'কে এক ফুন মারি তারপর মন্তব্য দিমু!
উনি বলেচেন যে কিচু বলার আগে তাদের রিং দিতে।
১৮. ০১ লা মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১২:৩৫
জেরী বলেছেন: কারো প্রতি যাতে কোন অবিচার করা না হয়.......।
২০. ০১ লা মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১২:৪২
বাঙাল যুবক বলেছেন: @ চোখের আলোয়।

ধৈর্য্য ধারন করে সামরিক বাহিনীতে থেকে যান। মিডিয়ার প্রচারণায় আমরা হয়তো ভুল ধারনা করেছি। আবার সেটা শুধরেও নিচ্ছি। মিডিয়াও এখন আত্মসমালোচনা করছে। সুতরাং ছেড়ে যাওয়া কোন সমাধান নয়।
২১. ০১ লা মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৬
তুইরাজাকার বলেছেন: অমিত তোমাকে আরেকবার স্যালুট, স্যালুট ঐ সেনাদের যারা দেশের প্রয়োজনে এগিয়ে এসেছেন সবসময়। সে আর্মি হোক, আর বিডিআরই হোক। অমিতের কষ্টগুলো আমাদের সবার কষ্ট। একটা আর্মি মারা যাওয়া মানে আমাদের বুকে ছুরি মারা। ঠিক সেভাবেই বিডিআর প্রতিও আমাদের একই মনোভাব। তারাও আমাদেরই। এখন দেশের সবার কাজ হবে ঐসকল রাজাকারদের খুজে বের করা যারা জোর করে আরও একটা ১৪ ই ডিসেম্বর ঘটাল। মানুষ খুন করে কোন শান্তি আসে নাই, আসবে না। তারপরও ঐ ঘৃন্য রাজাকারগুলোকে খুজে বের করাও কিন্তু সরকার, আর্মি ও জনগনের দায়ীত্ব!
২২. ০১ লা মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১২:৫৫
অরণ্য আনাম বলেছেন: সেনা বাহিনী কিংবা বিডিআর তো আর দুধ নয়, যে এক ফোঁটা লেবুর রস পরলো, সব নষ্ট হয়ে গেলো, সব ফেলে দিতে হবে।

সিভিলিয়ানদের মধ্যে রয়েছে সবচেয়ে বড় দুর্নীতি বাজ লোকেরা। আর সামরিক বা আধা-সামরিক বাহিনীকে সবাই একটি "আদর্শ" হিসেবে দেখতে চায়। যখন দু-একজন কে দুর্নীতি করতে দেখে তখন, মাতম উঠে, গেল, আর্মি গেল, সব "ব্লাডি করাপটেড আর্মি"। কিন্তু কেন? কেন তাঁদের এভাবে মারা হবে, আর সাধারণ জনগণ উল্লাস করবে? যারা মারা গেচে, তাঁরা তো এই দেশের মানুষ। তাঁরা তাঁদের যোগ্যতায় আর্মি অফিসার হয়েছে। এটাই কী তাঁদের দোষ?
২৩. ০১ লা মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১২:৫৬
অশ্ব ডিম্ব বলেছেন: মনের কথা গুলো বলেছেন। একমত....
২৪. ০১ লা মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১২:৫৬
মুকুট বলেছেন: ধন্যবাদ, অনেকাংশে মনের কথাই বলেছেন!


২৫. ০১ লা মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১:০০
তািবজ বলেছেন: মনটা খুব খারাপ !

see this link:

Click This Link
২৮. ০১ লা মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১:০৩
ইয়ামিন বলেছেন: @চোখের আলোয়: ভাই আপনার কমেন্টটা পড়ে নিজেকে খুবই অপরাধি মনে হচ্ছে। দেশকে ভালোবেসে দয়া করে কোন ভুল সিদ্ধান্ত নিবেন না। বাংলাদেশের মানুষ খুবই আবেগপ্রবন, আপনিও তার ব্যাতিক্রম নন, সেনা বাহিনী, বিডিআর, সাধারন মানুষ সবাই তো আমরা একই দেশের মানুষ, সবাই ভাই ভাই.....আসুন কস্ট করে হলেও এ শোক আমরা সামলাই.....যার যার অবস্হান থেকে। পরাজয়ে ডরে না বীর....। সব গ্লানি মুছে আবার নতুন করে শুরু করি চলুন...
২৯. ০১ লা মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১:১১
ব্রাইট বলেছেন: সহমত!

দেশপ্রেমিক হলে আগে দেশের কথা চিন্তা করতে হবে। দেশের যাতে ভালো হয় সেই কাজটিই করতে হবে। পরে ব্যাক্তি বা গোষ্ঠীগত মান অপমান ও তার বদলা নেয়ার চিন্তা করতে হবে।

কয়েকজন দেখছি রাজনীতিকদের মতে বলতেছেন - "আমি দেশের অংশ, আমার ভালো মানেই দেশের ভালো, আমার অপমান মানে দেশের অপমান, আমার ক্ষতি মানে দেশের ক্ষতি। তাই বদলা নিতে হবে।" এরকম ক্ষুদ্র চিন্তা করলে হবে না।
৩০. ০১ লা মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১:১৪
আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন: নতুন করে আর কী বলবো! নিজের লেখা থেকে একটা অংশ তুলে দিই :

...............অবশেষে কেউ একজন তাদের ইউনিফর্মগুলো খুলে নিলে আমার সামনে থেকে অফিসার-জওয়ান পার্থক্য ঘুচে যায়, দেখি সবগুলো মুখই মানুষের মুখ। আমি তাই মানুষের পক্ষ নিই। দেখি, তাদের কেউ হয়তোবা গ্রামের কৃষক-পরিবার থেকে আসা যুবক, একটু 'ভালো' থাকার বা 'সুন্দর জীবনের স্বপ্ন চোখে মেখে তাকিয়ে আছে; কেউ হয়তো মধ্যবিত্ত, বা নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের যুবক, 'সিকিউরড' নিরাপদ জীবনের স্বপ্ন মাখা চোখ নিয়ে তাকিয়ে আছে! তাদের সকলের চোখেই একটি মর্যাদাপূর্ণ জীবনের স্বপ্ন, একটু ভালোভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন। টের পাই, ইউনিফর্ম খুলে ফেলার পর যে লোকটিকে দেখতে পাচ্ছি, সে নিতান্তই এক সাধারণ মানুষ, ঠিক যেন আমারই মতো! আমাদের চাওয়াগুলোও যেন এক- একটু নিশ্চয়তা, একটু মর্যাদা, একটু সুন্দর জীবন! আমি নিথর হয়ে থাকা মুখগুলোর মধ্যে নিজেকেই দেখি, জীবনের ভয়ে পালিয়ে বেড়ানো অথবা রাতের অন্ধকারে গুম হয়ে যাওয়া মুখগুলোর মধ্যে নিজেকেই খুঁজে পাই!

আমি তথাকথিত লেখকসুলভ নির্মোহতা আর ধরে রাখতে পারি না, এই মর্মান্তিক-ভয়াবহ-অসহনীয় মৃত্যু, এই অনিশ্চিত-নিরাপত্তাহীন-পলাতক জীবন আর তার মধ্যে বিমূঢ় হয়ে থাকা চিরদুঃখী মাতৃভূমিকে দেখে আমার চোখ ভিজে ওঠে, কেবলই চোখ ভিজে ওঠে...
৩১. ০১ লা মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১:২০
বটগাছ বলেছেন: সেনাবাহিনীদের একটি বড় অংশ সাধারন মানুষকে ব্লাডি সিভিলিয়ান ছাড়া কিছু ভাবে না, ভাববেও না। আপনাকে যদি সম্মানের সাথে ১ দিন বেঁচে থাকা আর অসম্মানের সাথে ১০০ দিন বেঁচে থাকার যুযোগ দেয়া হয় তাহলে আপনি কোনটি বেছে নেবেন? আমাদের সেনাবাহিনী বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মানুষের এতোটা অসম্মান করেছে যে তা এই গণহত্যার সমান না হলেও কোন অংশে কম হবে না। তাদের অতীত ইতিহাসটা এমন যে তাদের সম্মান করতে বড় কষ্ট হয়, তাদেরকে আপন ভাবতে বড় কষ্ট হয়। অসম্মানের সাথে বেঁচে থাক্র চেয়ে মৃত্যুই শ্রেয় মনে করি আমরা। অপারেশন ক্লিনহার্টের সময় ওরা কোন কোন এলাকায় সম্মানিত ব্যাক্তিকেও কান ধরে উঠবস করিয়েছে। ওদের সাধারন মানুষের সম্মান বোঝার মতো ক্ষমতা নেই। আর্মিদের কাছে সাধারন মানুষের এই অসম্মানের এরকম উদাহরন হাজারখানেক দেয়া যাবে। এই বিডিআর বিদ্রোহের পেছনে কি আছে আমরা জানি না। না জানা পর্যন্ত কোন ধরনের মন্তব্য করতে চাই না। তবে আর্মির মাঝে দুর্নীতি হয় এইটা কেউ বললে বিশ্বাস করবো না। প্রতিরক্ষাখাতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ থাকে প্রতিবছর। তবে এবারের বিদ্রোহে সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা আর্মি কিংবা বিডিআরের হয়নি, হয়েছে দেশেরই।
৩২. ০১ লা মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১:৩০
জেমস কালাহান বলেছেন: খুব ভালো লাগলো পোস্ট পড়ে। ভাই বুকের মধ্যে একটা ভারি বাতাস যেন সব সময় এইকয় দিন জমে আছে। কি করবো বুঝতে পারছি না। খারাপ লাগছে এই কথা ভেবে যে আমরা সাধারন মানুষগুলো কিন্তু অসহায় হয়ে গেলাম। আমার সত্যি খুব গর্ব ছিলো যে একটা দিকে আমরা সব সময় আমাদের প্রতিবেশী দেশ গুলোর থেকে এগিয়ে থাকবো আর তা হলো আমাদের ঐক্য। আজ আমরা সেটার ভরসা ও করতে পারছি না।

অন্যায়কারীর প্রতি আমার কোন সহমর্মিতা নেই কিন্তু এই দুর্যোগ এর সময় আমার মনে হয় প্রথম এ আমাদের দেশের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা করা উচিত। আমরা কিন্তু এখন দুই-তিনটা আর্মির গাড়ি একসাথে দেখলেই ভয় পাচ্ছি, মনে হয় কি যেন আবার হবে।

সেনানিবাস এর নিরাপত্তা খুব কড়া কড়ি চলছে, আমি প্রায় প্রতি সন্ধায় হাটি ১২নং সেনানিবাস বরাবর রাস্তা ধরে,আমাকে গতকাল ঢুকতে দেয়নি,বল্ল আর যাওয়া যাবেনা। অস্ত্র নিয়ে পাহাড়া দিচ্ছে অফিসার কোয়ার্টার। এত সব ভয় থেকে মুক্তি চাই আমরা।

যে অন্যায় করেছে সে শাস্তি পাক কিন্তু আমি চাই আমরা সকল এ এক হয়ে তারপর তাকে শাস্তি দেই।
৩৪. ০১ লা মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১:৩৯
অন্যআনন বলেছেন: রাজনীতিবিদ, সেনাবাহিনী, বিডিআর, RAB, পুলিশ সব জনপ্রতিনিধি, জনস্বার্থরক্ষীদের কাছেই দেশ আজ অরক্ষিত। এরা জনবিচ্ছিন্ন ও দুর্নীতির পালক। এদের নিজের মধ্যে রয়েছে "অবিশ্বাস"-এর সম্পর্ক। এদের মধ্যে যারাই পাওয়ার হাতে পায়, নষ্ট হয়ে যায় বা নষ্ট বলেই পাওয়ার হাতে পেতে চায়।

পেশার দ্বায়িত্ব ও সম্মান দুর্নীতির টাকা ভাগাভাগির কাছে কিছুই না। এদের মধ্যকার এই দুর্বল ও স্বার্থান্বেষী সম্পর্কের সুযোগ নিয়েছে রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি। এমন একটা বাজে প্র্যাকটিস আমাদের মধ্যে গ্রো করছে যার ভয়াবহতা আমরা দেখছি।
৩৫. ০১ লা মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১:৫৫
েপচাইললা বলেছেন: @ চোখের আলোয় : ভাই, আমার স্বপ্নের সর্বোচ্চ শিখরে ছিল পেশিবহুল শরীরে জলপাই রঙের পোশাক জড়ানোর স্বপ্ন। বুকে ও কাঁধে অনেকগুলো ব্যাচ থাকবে ঝলমল করবে, সূর্য সেখানে প্রতিফলিত হবে না-সেখান থেকেই সূর্যের শক্তি ঠিকরে বেরুবে। দেশের মাটিকে অপমান করার সাহস কেউ দেখালে, কেউ আমার দেশের স্বাধীনতা-স্বার্বভৌমত্বের দিকে চোখ তুলে তাকাবে তার চোখ ঝলসিয়ে দেব সেই সূর্যের শক্তিতে, হাতের রশির মত মাসলের ফাঁসে জড়িয়ে দমবন্ধ করে মারব।

ভাই, আমার স্বপ্ন সত্যি হয়নি, আপনারটা হয়েছে। আজ লোকে আপনাদের ঘৃণা করে কিন্তু বিশ্বাস করুন আপনারাই সেটা তুলে এনেছেন। আপনি যখন একটা পোশাক গায়ে তুলে কিংবা আমাদেরই টাকায় কেনা ভারী কোন অস্ত্রের জোরে আমার কোন ভাইকে লাথি দেন কিংবা গালি দেন ব্লাডি সিভিলিয়ান বলে তখন আমার অন্তর থেকে ঘৃণা ছাড়া আপনি আর কিইবা আশা করতে পারেন?

আমি জানি সবাই-ই দোষী নয়। ভাই দেশপ্রেম আমাকে আপনাকে একবিন্দুতে নিয়ে যেতে পারে-কিন্তু দেশের মানুষগুলোর প্রতি ভালবাসা না থাকলে কি হবে এই দেশ দিয়ে? তাদেরকে ভালবাসবে কারা? হতভাগা এই মানুষগুলোর যে ্আর যাওয়ার জায়গা নেই।

ভাই, অনেক হয়েছে। আসুন দেশটা গড়ি - আপনার আমার যার যার অবস্থান থেকে। আপনি আর্মি থেকে বের হয়ে আসবেন না। এই আপনিই হয়তো একদিন সর্বোচ্চ পর্যায়ের অফিসার হয়ে দূর করবেন সকল অনিয়ম ফিরিয়ে আনবেন আগের সেই বিশ্বাস। আমরা আবারও আপনাকে নিয়ে- আপনাদের নিয়ে গর্ব করতে চাই।

আর প্রতিশোধের স্পৃহা থেকে আবারও একটা শোক আনবেন না। বিশ্বাস করুন আপনি যেমন আমার ভাই, তারাও তেমনি। আমার বুক একবার খালি হয়েছে আরেকবার খালি করবেন না।

@ লেখক : ধন্যবাদ ভাই, এরকম একটি পোস্টের জন্য। কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ পোস্টটা স্টিকি করার জন্য।
৩৬. ০১ লা মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১:৫৬
েপচাইললা বলেছেন: @ চোখের আলোয় : ভাই, আমার স্বপ্নের সর্বোচ্চ শিখরে ছিল পেশিবহুল শরীরে জলপাই রঙের পোশাক জড়ানোর স্বপ্ন। বুকে ও কাঁধে অনেকগুলো ব্যাচ থাকবে ঝলমল করবে, সূর্য সেখানে প্রতিফলিত হবে না-সেখান থেকেই সূর্যের শক্তি ঠিকরে বেরুবে। দেশের মাটিকে অপমান করার সাহস কেউ দেখালে, কেউ আমার দেশের স্বাধীনতা-স্বার্বভৌমত্বের দিকে চোখ তুলে তাকাবে তার চোখ ঝলসিয়ে দেব সেই সূর্যের শক্তিতে, হাতের রশির মত মাসলের ফাঁসে জড়িয়ে দমবন্ধ করে মারব।

ভাই, আমার স্বপ্ন সত্যি হয়নি, আপনারটা হয়েছে। আজ লোকে আপনাদের ঘৃণা করে কিন্তু বিশ্বাস করুন আপনারাই সেটা তুলে এনেছেন। আপনি যখন একটা পোশাক গায়ে তুলে কিংবা আমাদেরই টাকায় কেনা ভারী কোন অস্ত্রের জোরে আমার কোন ভাইকে লাথি দেন কিংবা গালি দেন ব্লাডি সিভিলিয়ান বলে তখন আমার অন্তর থেকে ঘৃণা ছাড়া আপনি আর কিইবা আশা করতে পারেন?

আমি জানি সবাই-ই দোষী নয়। ভাই দেশপ্রেম আমাকে আপনাকে একবিন্দুতে নিয়ে যেতে পারে-কিন্তু দেশের মানুষগুলোর প্রতি ভালবাসা না থাকলে কি হবে এই দেশ দিয়ে? তাদেরকে ভালবাসবে কারা? হতভাগা এই মানুষগুলোর যে ্আর যাওয়ার জায়গা নেই।

ভাই, অনেক হয়েছে। আসুন দেশটা গড়ি - আপনার আমার যার যার অবস্থান থেকে। আপনি আর্মি থেকে বের হয়ে আসবেন না। এই আপনিই হয়তো একদিন সর্বোচ্চ পর্যায়ের অফিসার হয়ে দূর করবেন সকল অনিয়ম ফিরিয়ে আনবেন আগের সেই বিশ্বাস। আমরা আবারও আপনাকে নিয়ে- আপনাদের নিয়ে গর্ব করতে চাই।

আর প্রতিশোধের স্পৃহা থেকে আবারও একটা শোক আনবেন না। বিশ্বাস করুন আপনি যেমন আমার ভাই, তারাও তেমনি। আমার বুক একবার খালি হয়েছে আরেকবার খালি করবেন না।

@ লেখক : ধন্যবাদ ভাই, এরকম একটি পোস্টের জন্য। কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ পোস্টটা স্টিকি করার জন্য।
৩৭. ০১ লা মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১:৫৭
েপচাইললা বলেছেন: স্যরি, দু'বার হয়ে গেছে। লেখক অথবা কর্তৃপক্ষ মুছে দিন প্লিজ।
৩৯. ০১ লা মার্চ, ২০০৯ দুপুর ২:১২
আব্দুল্লাহ শহীদ বলেছেন: ইহা এক মাতালের প্রলাপ। ভারতীয় মদ খাইয়া মাতাল অইয়াছে।
আমাদের সেনা বাহিনী আমার গর্ব, আমাদের গৌরব। আমরা আছি তাদের সাথে।
৪০. ০১ লা মার্চ, ২০০৯ দুপুর ২:১২
বাঙাল যুবক বলেছেন: এখন দরকার ঐক্য। ইস্পাত কঠিন ঐক্য।

পোষ্টটি পড়ুনঃ

Click This Link
৪১. ০১ লা মার্চ, ২০০৯ দুপুর ২:১৪
শাহীন রহমান বলেছেন: ভাই একটা কথা কী? নিজের মানুষ ব্যাথা দিলে অন্তরে লাগে। চড় বসিয়ে দেবার পর মনে মনে ভাবছে যার কথা সব সময় জীবন থাকতে মানার চেষ্টা কির অার সে কিনা অামায় ভাবে পর।
৪২. ০১ লা মার্চ, ২০০৯ দুপুর ২:৩১
রাগ ইমন বলেছেন: চোখের আলোয় , আপনার মন্তব্যটা পড়ে স্রেফ আপনাকে বলার জন্যই লগ ইন করলাম । দেশবাসী আপনাদের চায় না , ঘৃণা করে বলছেন কি ভাবে কে জানে । কি ভাবে বুঝলেন আপনাদের চায় না ? মিডিয়াই কি সব? আপনাদের জীবনের প্রতি এক এক জন বাঙালীর কি পরিমান মায়া সেইটা যদি আপনাকে দেখাতে পারতাম ! যখন মিডিয়া সেনা বাহিনীকে ভিলেন বানিয়ে ধুনছে , যখন ভিতরের খবর কেউ জানে না , তখনো আমার দেখা প্রতিটা বাংগালী ( উঠতে বসতে সেনা শাসনকে গালি দেওয়া বাংগালী) সব কিছু ভুলে পাগলের মত সবার খোঁজ করেছে । বার বার চেয়েছে , যাই ঘটুক , অফিসাররা যেন নিখোঁজ থেকে ফেরত আসেন, নিহতে পরিণত না হন , যদিও সমস্ত ইনটুইশন বলছিলো কেউ বেঁচে নেই, থাকার কথা না । তবু , মিছে আশা , তবু আল্লাহর দরবারে মিনতি করা । এই কি ঘৃণার প্রকাশ ?

নাহ, সেনাবাহিনীর প্রতি যতই অসন্তোষ থাকুক , সেইটা ভাই দুর্নীতির প্রতি রাগ । অন্যায় আচরনের প্রতি রাগ । বারংবার গণতন্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে আমাদের নেতাশূন্য করে দেওয়ার রাগ । গত দুই বছরে বাংলাদেশকে ঠেলে আজকের বাংলাদেশে টেনে আনার রাগ । কিন্তু ঘৃণা ? কখনোই না । যারা চিহ্নিত অপরাধী ( দুর্নীতিবাজ, খুনি , ষড়যন্ত্রকারী) তারা ছাড়া অন্য কাউকেই মানুষ দোষারোপ করে নাই । সিস্টেমের বিরুদ্ধে করেছে , সাধারন সৈনিকের বিরুদ্ধে করে নাই ।

আপনি গুলজারের কথা বললেন । শাকিলের কথা কেন বললেন না? তাহলে কি আপনি নিজেও তাকে ঘৃণা করেছেন কখনো তার কৃত কর্মের জন্য ?

বাহিনী ছাড়বেন না । সৎ মানুষ গুলো জায়গা ছেড়ে দিলে অসৎ এর সুযোগ বাড়ে ।

যেই সমস্ত কারন আপনাদের মত মানুষের ভাবমূর্তি আমাদের কাছে খারাপ করেছে , যাদের কারনে পুরো বাহিনী জন মানুষের বিপরীতে দাঁড়িয়ে গেছে , সেই কারন গুলাকে মানুষ ঘৃনা করছে , মানুষকে নয়। সবাইকে নয় ।

আরেকটা জিনিস বুঝতে হবে , ভালো রাজা দেশের জন্য মানুষের জন্য অনেক উপকারী -- এই সব বলে রাজতন্ত্র টিকিয়ে রাখা ঠিক নয় । কারন রাজতন্ত্র সিস্টেমটাই জনবিরোধী একটা সিস্টেম । ঠিক সেই রকম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ভিতরে এই রকম কিছু সিস্টেম টিকিয়ে রাখা হয়েছে , হচ্ছে , যেগুলোর আমূল পরিবর্তন দরকার ।

আপনার কষ্টটা আমি খুব ভালো করেই অনুভব করতে পারি । সব মুখই তো পরিচিত মুখ ।যেদিকে তাকাই কেবল আত্মীয়, বন্ধু, ভাইয়া, আঙ্কেল আন্টিদের আর্তনাদ । এর বিপরীতে ভাবুন, কতটা কষ্ট থেকে মানুষ তার "আপন মানুষের" বিরুদ্ধে কথা বলে , কেন বলে ।

আমরা বিশ্বাস করে দেশকে প্রতিরক্ষার জন্য আপনাদের হাতে তুলে দেই, দেশ মানেকি শুধু মাটি ? সেনাবাহিনীর ৭৫ থেকে আজকে পর্যন্ত হয় খুনীর জন্ম দিয়েছে নয়ত খুনীকে প্রোটেকশন দিয়েছে । দেশের মানুষের বিরুদ্ধে যায়, এই রকম সিদ্ধান্ত গুলো নেওয়া বা মেনে নেওয়া --- এইটা কি দেশ রক্ষা হলো ?
৪৩. ০১ লা মার্চ, ২০০৯ দুপুর ২:৪৬
পারভেজ বলেছেন: একমত।
চমৎকার করে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত ব্যক্ত করেছেন।
৪৪. ০১ লা মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৩:০৫
মিছে মন্ডল বলেছেন: @চোখের আলোয় ভাই, আপনাদের প্রতি রইলো আমার লাল সালাম ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালবাসা.....
৪৫. ০১ লা মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৩:০৮
নীড় সন্ধানি বলেছেন: @চোখের আলোয়
প্রথম দিন আমিও বিডিআরকে সমর্থন করেছিলাম এটাকে বঞ্চনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মনে করে। কিন্তু গত তিন দিন ধরে আমার চোখে জল, আমার বুকে চাপ চাপ ব্যাথা, একেকটা লাশ উদ্ধার হয়, ব্যাথার ওজন বাড়তে থাকে। আমার কোন স্বজন মারা যায়নি তবু আমি কেন স্বজন হারানোর ব্যাথা অনুভব করছি।

দেখলেন তো ঢালাওভাবে সেনাবাহিনীকে সবাই ঘৃনা করে ধারনাটা কত ভুল। আমরা আপনাদের পাশেই আছি। সারা বাংলাদেশ আছে। শুধু একটা অনুরোধ, সুদিনে আমাদের কথা ভুলে যাবেন না।

অমিত আহমেদকে ধন্যবাদ এমন চমৎকার একটা লেখা উপহার দেয়ার জন্য।
৪৬. ০১ লা মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৩:০৯
রােশদ সুলতান তপু বলেছেন: অমিত, আমি কখনোই কোন স্টিকি পোস্টকে প্রিয়তে নেই না কিন্তু এই পোস্টকে না নিয়ে পারলাম না। আপনার লেখায় একজন মানুষ- হ্যাঁ একজন মানবিকতা সম্পন্ন মানুষের মনুষত্বই মূর্ত হয়ে উঠেছে। আপনার লেকাটা পড়তে পড়তে যে কখন চোখ দিয়ে দুফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়েছে তা নিজেই টের পাইনি।
টিভিতে বা ডেইলি স্টারে নিশ্চয়ই ওই সৈন্যের ছবিটা দেখেছেন সবাই যিনি এপিসি কারের উপরে বসে চোখ মুছছিলেন। যে মুহুর্তে একজন সৈনিকের সবচাইতে কঠিন থাকার কথা- যা তারা থাকেনও- ঠিক সেই মুহুর্তে সেই সৈনিকটিই যখন নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেন না- আবেগের বাইরে রাখতে পারেরনা- সেটা কি সহকর্মীদের মৃত্যুর কারণে নাকি ভাইয়ের হাতে সহকর্মী হারানোর মতো এক অভাবনীয় ঘটনার কারণে- আমার তা জানা নেই। তবে এখন সারা বাংলাদেশই এক হয়ে গেছে- কান্নার অশ্রু আর বোবা মুখের ভাষা এখন সবই এক হয়ে গেছে- বড় মূল্যের বিনিময়ে আমরা এই একাত্মতা পেলাম- বড় মূ্ল্যের বিনিময়ে।

অমিত- আপনার বর্ণনার ভাষা অপূর্ব- তারপরও সৃষ্টিকর্তার কাছে চাইবো আপনাকে যেন কখনও এই ধরনের অপূর্ব কোন লেখা লিখতে না হয়- আর আমাকেও যেন এই ধরনের লেখার প্রশংসা করে কোন কমেন্ট না করতে হয়।

আপনাকে আবারও শুভেচ্ছা। আপনি ভাল থাকবেন।

৪৭. ০১ লা মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৩:২৬
পথিক!!!!!!! বলেছেন: আপনার মত প্রাথিমক অনুভূতি অনেকেরই ছিল।
আমারো , কিন্তু সেটা ভুল ছিল
কারন কেবল দাবীদাবা নয়..এর পেছনে আরো গভীর ষড়যন্ত্র ছিল ..খুবই খারাপ ঘটনা ছিল ...এখন শিউর,...
সেনাবাহিনী খারাপ কিছু করেছে বলেই তার উপর এই নির্মম বর্বর ঘটনা কোন ভাবেই মানা যায়না....

না কোন ভাবেই না।
৪৮. ০১ লা মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৩:৫১
ইচ্ছে বলেছেন: খুব সুন্দর করে গুছিয়ে আমাদের মনের কথাগুলো বলার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।
৪৯. ০১ লা মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৫:০১
হাসান শহীদ ফেরদৌস বলেছেন: সকল দেশপ্রেমিক বাঙ্গালির জন্য ভালবাসা এবং ভালবাসা। আজ আমাদের অনেক শোকের দিন, কষ্টের দিন, সবাইকে আপন করে নেবার দিন। সবার মুখ চেয়ে আজ আমরা প্রতিজ্ঞা করি, অপরাধীর শাস্তি আর নিরাপরাধীর নিরাপত্তার।
৫০. ০১ লা মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৫:১৪
আফরোজা সোমা বলেছেন: Amit,

Chamotkar likhechhen. Bhalo laglo.

Ashustho, ashohay manush jeebon bachate daktarer kachhe jai...r shujok bujhe shei daktar parom trata theke hoye uthen koshai bonik... r aamra charom durdine parom nirvorota korte chai jader upor tader-e ahongkari but chepe boshe aamader-e buker upor....
Ei hotta kander par aamiio asthir chhhilam..nirghum chhilam durraat.... shara rat tv'r dike cheye ...barbar eke oke phone kore.. kete kechhe shomoy....

jara nrishangsho hoyechhe aami tader drristanto mulok shasti chai....kintu eki jole..matite thekeo uponibeshik charchay nijeder shanit korchhen jara...tara ki aaadou daraben shokoler shamotole..
৫১. ০১ লা মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৫:২৭
মাহবুব মাসুম বলেছেন: অমিতকে ধন্যবাদ তার লেখার জন্য । ধন্যবাদ চোখের আলোয় -কে। আসলে আমাদের বুকের ভেতরের চাপা ক্ষোভ বা কান্না যাই থাকুক না কেন প্রশমনের সুযোগ থাকা উচিত। সেনাবাহিনী বা বিডিআর উভয়েরই সংস্কার হওয়া উচিত । মৃত্যুর হিসাব শেষ হবে কিছুদিনের মধ্যেই কিন্তু এ দুটি প্রতিষ্ঠানের নৈতিক মনোবল এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের যে ক্ষতিহয়েছে তা কবে দূর হবে বা আদৌ পূরন হবে কি না তা কেউ বলতে পারে না।
৫২. ৩০ শে আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৬:০৩
সৈয়দ সাইফুল আলম শোভন বলেছেন: একটাই প্লাস দেওয়া যায়। নিয়মটা এই জায়গায় না হলে ভাল হতো।
৫৩. ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫৭
kazibondhu বলেছেন: ধুর মিয়া, বাজেট নিয়া না বুইঝা ই কি লেইক্কা দিলেন, বোইদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের বড় অংশ কোত্থিকা আসে, সেইটা জানেন? খালি লেইক্কা দিলেন চামে চামে দুইডা গালিও দিলেন, ধুর ধুর ধুর
৫৪. ১৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১০:১১
ক্ষতিগ্রস্থ বলেছেন: আপনার পোস্টটা দেয়ার সময় আমার চোখে পড়েনি, চোখে পড়ার পরিস্থিতি ছিল না. অবশ্য মাস দুই-তিন পরে দেখেছিলাম, কিন্তু তখন আমার কমেন্ট করার অনুমতি ছিল না. এত দীর্ঘদিন পরে আমার কমেন্ট হয়ত অপ্রাসঙ্গিক, কিন্তু প্রিয়তে থাকা পোস্টগুলো দেখতে গিয়ে মনে হল, এত পরে কমেন্ট করাটা কিছুটা অপ্রাসঙ্গিক হতে পারে, অবাম্তর হবে না.

নির্দিষ্টভাবে আপনার পোস্টের ব্যপারে আমার কমেন্ট ‘চোখের আলোয়’ এর মতই (যদিও তার মত করে এমন গুছিয়ে লেখার যোগ্যতা আমার নাই এবং তার সাথে আমার ব্যক্তিগত কোন পরিচয়ও নেই).

তবে ‘চোখের আলোয়’ এর মত আমারও ক্ষোভ হয়েছিল, হতাশা জন্মেছিল. ব্লগ পড়ে আমি আমার ব্যক্তিগত প্রতিবাদলিপি লিখেছিলাম ধারাবাহিকভাবে, Under Watch-এর কারণে আমার পোস্টগুলো সবার অগোচরে ছিল.

আপনার অভিযোগগুলো আমি বাতিল করছি না, কিন্তু সেখানে অভিযুক্তের পক্ষ সমর্থনের সুযোগ আপনি অনুমোদন করেন এবং আমার পোস্টগুলোর টার্গেট পাঠক আপনিও– এমন বিশ্বাস থেকে আমার পোস্টগুলো পড়ে দেখার অনুরোধ জানাচ্ছি. Click This Link

ধন্যবাদ.

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৬৮১ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
© অমিত আহমেদ: যে কোনো লেখা যে কোনো মাধ্যমে পুনপ্রকাশের অধিকার কেবলমাত্র লেখকের অনুমতি সাপেক্ষে।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ