তোমার সুরে সুরে সুর মেলাতে

মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও 'মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস'

৩০ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১২:৩২

শেয়ারঃ
0 2 0


মুহম্মদ জাফর ইকবালকে নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলবেন। কেউ তাঁর লেখার কথা বলবেন। কেউ বলবেন পেশার কথা। কেউ পারিবারিক, কেউ প্রাতিষ্ঠানিক, কেউ আবার তাঁর নেয়া উদ্যোগগুলোর কথা বলবেন। কেউ তাঁকে স্বর্গ উচ্চতায় উঠিয়ে রাখবেন। কেউ তাঁকে নিয়ে কথা বলার মতো মানুষ বলেই মনে করবেন না। তাঁকে নিয়ে সমালোচনা প্রশংসা সব চলবে। কারণ সমকালীন বাংলাদেশে তিনি সবচেয়ে চেনা মানুষদের একজন। বাংলাদেশের মানুষ তাঁর নাম জানে। চেহারা চেনে। কোনো মানুষ এত উপরে উঠে গেলে বিতর্ক এড়াতে পারে না; তাঁকে প্রতি পদে মানুষের ভালোবাসা আর সমালোচনা নিয়ে চলতে হয়।

অস্বীকার করার উপায় নেই; মুহম্মদ জাফর ইকবাল আমার জীবনের সাথে জড়িয়ে আছেন। শৈশবে "দিপু নাম্বার টু", "হাত কাটা রবিন", "আমার বন্ধু রাশেদ" পড়ে আপ্লুত হয়েছি। এই বইগুলো আমার ছেলেবেলা রঙিন করেছে। কৈশোরে তাঁর সায়েন্স ফিকশন গল্পগুলো, বিশেষ করে "কপোট্রনিক সুখ দুঃখ" বই পড়ে বিস্ময়ে বাকহারা হয়েছি। হতাশ হয়েছি তাঁর উপন্যাসগুলোর দুর্বল বুনোনে। সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে তাঁর কলাম পড়তে ভালো লাগে; ভালো লাগে কলাম জুড়ে তাঁর মুক্তচিন্তা বিচ্ছুরণ। পাঠকদের প্রতি তাঁর সম্মানবোধ। আবার হতাশ হই যখন দেখি এতো জ্ঞানী একজন মানুষের গবেষণায় যেমন সময় দেবার কথা ছিলো তেমন তিনি দিচ্ছেন না। মাথা ঘামাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিতে। তাঁর এসব ব্যক্তিগত ব্যাপারে আমি খুশি কিংবা হতাশ হই, কারণ যেভাবেই হোক তিনি আমাদের কাছের মানুষ হয়ে গেছেন।

একজন মানুষ যখন এভাবে অন্যের জীবনে ঢুকে পড়েন তখন তাঁর মধ্যে যে ক্ষমতাটা জন্মায় সেটা ব্যবহার করে অনেক কিছুই করে ফেলা যায়। একটা ছোট্ট লেখা কথা কিংবা সাক্ষাতকারও আর ছোট থাকেনা। তাই জনপ্রিয় মানুষদের কাছে আমাদের অনেক চাওয়া পাওয়া জমে থাকে। আমাকে যদি এখন জিজ্ঞেস করা হয় আমি বলবো, মুহম্মদ জাফর ইকবালের কাছে আমার সেই চাওয়া পূর্ণ হয়েছে!

বইটা আমি পড়েছি। ছোট্ট বই। খুব সহজ ভাষায় লেখা। মোটেই বিস্তারিত নয়। নতুন প্রজন্মের জন্য এমনই দরকার। তথ্য যা আছে তাও মোটামুটি আগে থেকে জানা। বেশি তথ্য দিয়ে বই ভারী করা হয়নি, একদম যা জানা খুব দরকার, তাই। তবুও বইটা পড়তে গিয়ে আমি বারে বারে শিউরে উঠেছি। আমার গায়ের রোম দাঁড়িয়ে গেছে। আমার মনে হয়েছে এই বই নতুন প্রজন্মের পড়া উচিত। অবশ্যই পড়া উচিত!

জানলাম এই বইয়ের পেছনের মানুষগুলোর ইচ্ছে বইটা যতো বেশি মানুষের হাতে পারা যায় পৌঁছে দেয়া। মুনাফার আশা কারোরই ছিলো না। বইমেলায় তাই দাম খুব কম রাখা হয়েছিলো। বইমেলার পরেও বইটা উঠিয়ে না রেখে অন্তর্জালে তুলে দেয়া হয়েছে। আমি অনুরোধ করবো বইটা দয়া করে যেখানে যেভাবে পারেন ছড়িয়ে দিন। ফেসবুকে, ব্লগে, আপনার অন্তর্জাল পাতায়, ইমেইলে, প্রিন্ট নিয়ে, যেভাবে সম্ভব হয় সেভাবেই। তাঁর কাজ তিনি করেছেন, এবার বাকিটা আমাদের উপরে।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অনেক বড় শক্তি।
নতুন প্রজন্মকে সেই শক্তির স্বাদ নিতে দিন!

© অমিত আহমেদ

সরাসরি ডাউনলোড লিংক
বড় আকারে
ছোট আকারে

বই এর ওয়েবসাইট

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): বইস্বাধীনতা১৯৭১ইতিহাস ;
প্রকাশ করা হয়েছে: সাম্প্রতিক  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১২:২১ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ৩০ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১২:৩৯
স্বদেশ হাসনাইন বলেছেন: এইটা জামাতিগো রাইতের ঘুম হারাম করছে।
৩১ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১২:০০

লেখক বলেছেন: কথা সত্য।

৩. ৩০ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৫
সহেলী বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ পোষ্টের জন্য ।
৪. ৩০ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৬
অচেনা বাঙালি বলেছেন: একমত। বইটা প্রত্যেক বাঙালির সংগ্রহে থাকা উচিৎ।
৫. ৩০ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৮
প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব বলেছেন: ধন্যবাদ অমিত সুন্দর করে বিষয়টা তুলে ধরার জন্য...

"মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অনেক বড় শক্তি।
নতুন প্রজন্মকে সেই শক্তির স্বাদ নিতে দিন।"

ভুত থেকে ভুতে ... চলুক...
৩১ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১২:০১

লেখক বলেছেন: ভুত থেকে ভুতে চলুক।

৭. ৩০ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১:০১
শামায়েল বলেছেন: ডাউনলোড চলছে।

সহেলী বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ পোষ্টের জন্য।
৯. ৩০ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১:১৪
নির্ঝরিনী বলেছেন: প্রিয়তে থাকলো, সময় করে পড়ে নেওয়া যাবে।

ধন্যবাদ পোস্টের জন্য।
১০. ৩০ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১:২৩
আকাশভরাতারা বলেছেন: প্রিয়তে

শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
১১. ৩০ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১:২৩
ভাবারূ বলেছেন: আমি আমার খুব প্রিয় একজন বন্ধুকে অসাধারণ এ বইটি পড়তে দিয়েছিলাম। সে পড়ে বলল.. বইটি আওয়ামিলীগ ঘেঁষা। মন্তব্য শুনে বিস্ময়ে হতবাগ হওয়া ছাড়া আমার আর কোন উপায় ছিল না।

যাহোক, গর্তের ব্যাঙ গর্ত থেকে বের না হতে চাইলে কিছু করার নেই। কিন্তু ব্যঙাচিদের জন্য পৃথিবীটাকে উন্মুক্ত করে দেওয়া আমাদেরই দায়িত্ব। ++
৩১ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১২:০২

লেখক বলেছেন: এমন কিছু মানুষ থাকবেই। ওদের কথায় হতাশ হবেন না।

"গর্তের ব্যাঙ গর্ত থেকে বের না হতে চাইলে কিছু করার নেই। কিন্তু ব্যঙাচিদের জন্য পৃথিবীটাকে উন্মুক্ত করে দেওয়া আমাদেরই দায়িত্ব।"

এটাই আসল কথা।

১৪. ৩০ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ২:১২
তন্ময় ভট্টাচার্য বলেছেন: স্বদেশ হাসনাইন বলেছেন: এইটা জামাতিগো রাইতের ঘুম হারাম করছে।
১৭. ৩০ শে মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৩:০৯
দি ওয়ান বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ।
১৮. ৩০ শে মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৩:১০
সত্যের মত বদমাশ বলেছেন: ডাউনলোড করছিলাম/পড়ছি।
২০. ৩১ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১:১১
রায়হান(তন্ময়) বলেছেন: পড়েছি। অসাধারন লেগেছে। প্রত্যেকটি বাঙালীর পড়া উচিৎ বইটি। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ বিষয়টি তুলে ধরার জন্য।
৩১ শে মার্চ, ২০০৯ ভোর ৬:১৪

লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ বইটা পড়ার জন্য।

২১. ১১ ই মে, ২০০৯ দুপুর ২:৫৬
জুলফিকার বলেছেন:
ধন্যবাদ অমিত।
প্রিয়-তে তুলে রাখলাম।
জাফর ভাই আমার খুব প্রিয় মানুষ।
বাংলাদেশ গেলে আমি একবার না একবার তাঁর সাথে দেখা করার চেষ্টা করি।
এই বইটি পড়ার ইচ্ছে রইলো।

 

মোট সময় লেগেছে ১.৫০৩৩ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
© অমিত আহমেদ: যে কোনো লেখা যে কোনো মাধ্যমে পুনপ্রকাশের অধিকার কেবলমাত্র লেখকের অনুমতি সাপেক্ষে।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ