আমার প্রিয় পোস্ট

আওরঙ্গজেব

একটি গণহত্যাংশ । ৬ বছরের মাথায় আদালতের রায়

২২ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৮:৩৩

শেয়ারঃ
0 0 0

১. ঘটনা স্হল: গুজরাট।

২. ঘটনার সময়: ২০০২ সালের ৩ মার্চ।

৩. সংক্ষিপ্ত ঘটনা: গুজরাট দাঙ্গার সময় বিলকিস বানু তার পরিবারের ১৭ জনের সাথে নিজ গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছিলেন। এই সময় পথে অভিযুক্তরা তাকে ঘিরে ধরে। বিলকিস বানুর পরিবারের ১৪ জন সদস্যকে তার চোখের সামনে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়। নিহতদের মধ্যে বিলকিস বানুর চার বছরের এক শিশুকন্যাও ছিল। এই ঘটনার সময় বিলকিস বানু ছয় মাসের সন্তানসম্ভবা ছিলেন। ঘাতকরা তাকে গণধর্ষণ করে ও নির্মম প্রহার করে। মৃত মনে করে বিলকিস বানুকে জঙ্গলে ফেলে দেয়া হয়।

৪. আদালতে বিচার: ঘাতকদের আড়াল করার চেষ্টা এবং বিলকিস বানুর এফআইআর গ্রহণ না করার মামলায় আগেই তাকে চার বছর বিচার বিভাগীয় হেফাজতে কারাগারে থাকতে হয়। নরেন্দ্র মোদি সরকারের পুলিশ প্রমাণ নেই বলে মামলাটি খারিজ করে দিয়েছিল। কিন্তু পরে সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশে এই মামলাটি পুনরায় শুরু হয়। বিলকিস বানুর নিরাপত্তার কারণে সুপ্রিমকোর্ট মামলাটি গুজরাট থেকে মুম্বাইতে স্খানান্তরিত করেন। সিবিআইও অনুরোধ করেছিল, নিরপেক্ষ সাক্ষ্য প্রদান গুজরাটে সম্ভব নয়। এই মামলাটির তদন্তভার ছিল সিবিআই'র ওপর।

৫. আদালতের রায়: বিলকিস বানুর গণধর্ষণ ও ১৪ জনকে হত্যা মামলায় ১১ জনের যাবজ্জীবন ঘোষণা করা হয়েছে।

আদালত গুজরাটের হিন্দুত্ববাদী ১৩ ব্যক্তির শাস্তি ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। দ্বাদশতম অভিযুক্ত সোমাভাই গৌরী একজন পুলিশ অফিসার ছিলেন। তাকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের এক ব্যক্তি মামলা চলাকালীন মারা যায়। বাকি সাতজন অভিযুক্তকে উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে মুক্তি দেয়া হয়েছে।

৬. বিলকিস বানুর সাক্ষাতকার:
বিলকিস বানু পরে এক প্রেস কনফারেন্সে বলেন, তার ইনসাফ পাওয়ার প্রচেষ্টায় গুজরাট সরকার কোনো ধরনের সহযোগিতা করেনি বরং প্রতিবìধকতার সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, যে সাতজন অভিযুক্তকে প্রমাণের অভাবের কথা বলে ছেড়ে দেয়া হয়েছে, তাদেরও শাস্তি দেয়া উচিত ছিল। এই সাতজনের মধ্যে রয়েছে পাঁচজন পুলিশ অফিসার এবং এক ডাক্তার দম্পত্তি। তারা অভিযুক্তদের সহায়তা এবং প্রমাণ লোপের চেষ্টা করে। বিলকিস বানু ও সিবিআই'র উকিল তিনজন অভিযুক্তর জন্য মৃত্যুদণ্ডের আপিল করেছিল। কিন্তু আদালত তাদের শুধু যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।

৭. উপসংহার:
এরকম কত বিলকিস বানু গুজরাটের সে কলঙ্কজনক গণহত্যায় মারা গেছে অথবা নির্মম নির্যাতনের পরে বেঁচে গিয়ে বিচারের আশায় দিন গুনছে তার হিসেব কজনেই বা জানে। বিলকিস বানু সেদিনের নৃশংস ঘটনায় মারা গেলে, আজ ঘাতকরা এ শাস্তি থেকে বেঁচেই যেত! তাই আজ ঘাতকরা ঘটনার সময় তাদের সামান্য ভুলের জন্য আপসিস করতেই পারে! মৃত মনে করে বিলকিস বানুকে জঙ্গলে ফেলে না দিয়ে অন্যদের মতো হত্যা করে ফেললেই ভাল হতো! হায় মানবতা!

ছবি বর্ণনা ও সূত্র:
ছবি ১: Flames engulf shops set alight by rioters in Ahmedabad on February 28, 2002. Police used gunfire and tear gas to control hundreds of Hindus targeting Muslim-owned shops and sparking a running street battle with police and Muslim residents. (AFP)

ছবি ২: LAST REFUGE: A child injured in the riots sits inside an Ahmedabad mosque after his father took shelter there. (Reuters)

ছবি ৩: A Muslim man stranded on the first floor of his house and surrounded by Hindu rioters begs to nearby policemen to rescue him in Ahmedabad on Friday.

ছবি ৪:
Bilkis holds her son Mohammad, while her husband Yakub looks during a press conference in New Delhi on Monday. (AFP)

 

সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৮:৩৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২২ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৮:৪৭
বুড়া শাহরীয়ার বলেছেন: ভাল পোস্ট।
অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।+
২. ২২ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৯:০২
কণা বলেছেন: মানুষ কত নির্মম হতে পারে... ভাবতে গেলে শিউরে উঠি....



৩. ২২ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৯:১০
শান্ত বলেছেন: ধণ্যবাদ, তথ্য জানানোর জন্য। এসব ব্যাপারে ধর্মনিরপেক্ষ নামধারী দাদাদের চামচা গোষ্ঠি কি বলে?

দাদাপন্থীরাতো সমাধান দেন যে ভারতের মত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হলে সাম্প্রদায়িকতা দূর হবে, কিন্তু ভারতে উগ্রবাদী হিন্দুদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সংখ্যালঘু মুসলমানরা এদের অবর্ননীয় জুলুম-নির্যাতনের শিকার হচ্ছে প্রতিদিন, এমনকি খৃস্টানরাও বাদ যাচ্ছেনা। এসব ব্যাপারে পশ্চিমা বিশ্ব একেবারে নিরব তাদের স্বার্থের কারণে। আমাদের দেশে সংখ্যালঘুদের সাথে মুসলমানদের অনেক বেশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিদ্যমান। এখানে যদি কেউ ব্যক্তিগত বিরোধের কারণেও কোন হিন্দুদের বাড়িতে কেউ ঢিলও ছোঁড়ে তাহলে ঐ দাদা গোষ্ঠিরা তাকে সাম্প্রদায়িক দাংগা বলে তাদের পোষ্য মিডিয়াতে ফলাও করে প্রচার করে। এরা সবাই মিলে তখন হায় হায় রব করে উঠে এবং পারলে দেশে ভারতকে আগ্রাসনের আহবান জানায়।

আমরা চাইনা ভারতীয় হিন্দুদের মত উগ্রবাদী হতে, চাইনা ওদের মত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের লেবাস পরে সংখ্যালঘুদের উপর হত্যা-ধর্ষণ, লুন্ঠনসব বর্বর নির্যাতন চালাতে। মুসলিম-হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃস্টানসহ সকল ধর্মাবলম্বী যে ভাবে মিলে মিশে বাস করছে আমাদের বাংলাদেশে এরকম নজীর খুব বিরল।
২২ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৯:২১

লেখক বলেছেন: সুন্দর মতামতের জন্য ধন্যবাদ।

৪. ২২ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৯:২৪
ফারজানা মাহবুবা বলেছেন: তিন নাম্বার ছবিটা দেখে আমি তখন খুব কেঁদেছিলাম। গুজরাটের কথা মনে হলেই মনে হয় মানুষ যখন বর্বর হয়, তখন তা পশুদের বর্বরতাকেও হার মানায়।
২২ শে জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৩:২৭

লেখক বলেছেন: আপনি ২০০২ এর গুজরাট ও ২৮শে অক্টোবর ২০০৬ এর পল্টন কোনটাকে বেশী ভয়াবহ মনে করেন?

অনেকের মতে গুজরাট হবে হয়তো।

৫. ২২ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৯:২৭
বাঙাল যুবক বলেছেন: এই বিচার গুজরাট গণহত্যার একটি ক্ষুদ্র অংশের বিচার। আমরা আশা করি বাকী হত্যার ও তার নির্দেশ দাতাদের বিচার হবে।
৬. ২২ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৯:৫৮
নাবিক বলেছেন: এরপরেও নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হয়। কবে যে এ হানাহানি শেষ হবে? মানুষ মানুষকে মানুষ মনে করতে শিখবে!!
২২ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১০:২১

লেখক বলেছেন: নরেন্দ্র মোদি মুখ্যমন্ত্রী।

৭. ২২ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১০:১৭
মিশন বলেছেন: মানুষ কত নির্মম হতে পারে... ভাবতে গেলে শিউরে উঠি....
ভাল পোষ্ট এর জন্য ধন্যবাদ। আওরঙ্গ ভাই কমন আছেন।
২২ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১০:২২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৮. ২২ শে জানুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১২:১৮
বিবেক সত্যি বলেছেন: তথ্যবহুল প্রামাণ্য পোষ্টটির জন্য ধন্যবাদ..
১০. ২২ শে জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৩:০০
দিগন্ত বলেছেন: ধন্যবাদ। আমি খুব খুশী বিচার হয়েছে দেখে। যারা অপরাধ করেছিল তারা আরো বেশী হারে শাস্তি পাক এই ইচ্ছাপ্রকাশ করি।
২২ শে জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৩:২৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

১১. ২২ শে জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৩:০২
দিগন্ত বলেছেন: সারা ঘটনায় দেশ, মিডিয়া সবাই বিলকিস বানুর সাথে ছিল। সুতরাং কিছু গুন্ডা কি করে তাতে দেশের কিছু যায় আসে না। ভবিষ্যতেও এরকম আরো বিচার হবে ও তাতে গুণ্ডাদের শাস্তি হবে।
১২. ২২ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ৮:১০
ফজলে এলাহি বলেছেন: বিচারের রায় যথার্থ হয়েছে বলে আমি মনে করি না। ১৪ জনকে হত্যা ও মৃতবৎ ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন???? সত্যিকারের ইনসাফ হতো যদি হত্যার বদলে হত্যা কার্যকর হতো।
১৩. ২৩ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১০:৫১
আওরঙ্গজেব বলেছেন: মতামতের জন্য সকলকে ধন্যবাদ।
১৫. ২৭ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১:১৭
'ভিমরু' বলেছেন:

এক বিলকিস বানুর বিষয়ে বিচারের রায় বের হয়েছে। এরকম হাজারো বিলকিস বানু রয়েছে। তাদের বিচারের রায় কবে হবে?

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯২৪৪ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আস্সালামু আলাইকুম,

এই ব্লগের নিয়মাবলী:
১. পোস্ট রিলেটেড কমেন্ট ছাড়া অন্য কমেন্ট মুছে ফেলা হবে।
২. অভদ্র ভাষা ব্যবহারকারীদের ব্লক করার আগে এক-বা...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই