somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... অভিবাসন ও অস্ট্রেলিয়া
এক জরিপ অনুসারে বিশ্বের কমপক্ষে ১৮ বছর বয়সী ৭০ কোটি মানুষ এমূহূর্তে অপেক্ষায় আছেন যারা সুযোগ পেলেই অন্যদেশে পাড়ি দিয়ে স্হায়ী ভাবে বসবাস করবেন। এদের মধ্যে ১৬ কোটি ৫০ লাখের প্রথম পছন্দ আমেরিকা। এর পরের পছন্দগুলো ইউরোপ (১৩ কোটি), কানাডা (সাড়ে ৪ কোটি), সৌদি আরব (৩ কোটি) এবং অস্ট্রেলিয়ায় (আড়াই কোটি)। ইউরোপের মধ্যে পছন্দের শীর্ষে বৃটেন অথবা ফ্রান্স (মোট সাড়ে ৪ কোটি), স্পেন (সাড়ে ৩ কোটি) এবং জার্মানী (আড়াই কোটি)।

অভিবাসনের কারন গুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে উন্নত জীবন যাপন। দক্ষ শ্রমিকরা মূলত বেশি আয়ের আশায় উন্নত দেশের মাইগ্রেশন করেন। ঊনিশ ও বিশ শতকে ইউরোপ-আমেরিকার প্রবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে প্রচুর দক্ষ শ্রমিক এসব দেশে পাড়ি জমান। এর পরের কারণ গুলোর মধ্যে আছে দারিদ্র থেকে মুক্তি, উচ্চশিক্ষা, চাহিদা অনুযায়ী চাকুরী প্রাপ্তি, বিয়ে, যুদ্ধ ও প্রাকৃতিক দূর্যোগ। শেষোক্ত দুটি কারণে মানুষ প্রথমে শরণার্থী হয়ে আসেন ও পরে স্হায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পান। এছাড়া বেশি বয়সী মানুষ অবসর নেয়ার সময় বেশি খরচের দেশ হতে কম খরচ ও ভাল আবহাওয়ার দেশে স্হায়ী ভাবে চলে যান। যেমন, বয়স্ক মানুষরা বৃটেন থেকে ষ্পেন ও ইটালীতে এবং কানাডা থেকে আমেরিকার ফ্লোরিডা ও টেক্সাসে চলে যান।

অনেকের মতে অভিবাসনের এই ব্যবস্হা মূলত মানবশক্তি পাচার (Human capital flight) বা মেধা পাচার (brain drain)। যেসব উন্নত দেশে অভিবাসীরা আসেন সেসব দেশের জন্য এ ব্যবস্হাকে বলা হয় মেধা আহরণ (Brain gain)। কারণ, মূলত অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ হতে মেধাবী ও দক্ষ জনশক্তি উন্নত বিশ্বে পাড়ি জমান উন্নত জীবন ও সুস্বাস্হ্যের আশায়। মেধাবী এসব অভিবাসীকে তাদের নিজেদের দেশের সরকার স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জ্ঞান ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলে, কিন্তু দূ:খের বিষয় জনগনের বিপুল রাজস্ব ব্যয়ে শিক্ষিত এসব মানুষ তাদের মেধা ও দক্ষতা কাজে লাগায় অন্য আরেকটি দেশের উন্নয়নে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিনিময়ে কিছু পরিমাণ বিদেশী মূদ্রা ছাড়া আর কিছুই জোটেনা দূর্ভাগা মাতৃদেশগুলোর। এসব দূর্ভাগা দেশে সবসময় প্রচুর পরিমাণে মেধা ও দক্ষতার অভাব থাকে, ফলে অযোগ্য লোকেরা গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকে ও দেশের উন্নয়নে কোন সম্ভাবনা থাকে না।

অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন শুরু হয় ৫০ হাজার বছর আগে যখন এখনকার আদিবাসীদের পূর্বপূরুষরা আসেন মালে দ্বীপপূঞ্জ (মালেশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও পাপুয়া নিউগিনি) হতে। ইউরোপীয়রা প্রথম আসেন ১৭৮৮ সালে এবং এরপর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় তাদের উপনিবেশ গড়ে তোলেন। এই বছরের ২৬শে ফ্রেব্রুয়ারী বৃটেনের প্রথম জাহাজ দাগী আসামীদের নির্বাসন দেয়ার জন্য সর্বপ্রথম সিডনীতে আসেন। এই দিনটি এখন সরকারী ভাবে অস্ট্রেলীয়া দিবস (Australia Day) হিসেবে পালিত হয়, কিন্তু আদিবাসীদের কাছে পরিচিত টিকে থাকার দিন (Survival Day) বা অনুপ্রবেশ দিবস (Invasion Day) হিসেবে। ভ্রমণ খরচ বেশি হওয়ার কারণে এরপর থেকে খুব কম মানুষ এখানে আসত। ১৮৯১ সালের পর থেকে স্বর্ণের খনিতে কাজ করার জন্য বৃটেন, আয়ারল্যান্ড, জার্মানী ও চীন থেকে প্রচুর লোক আসতে শুরু থেকে। এসময়টি স্বর্ণযুগ (Gold rush era) হিসেবে পরিচিত। এর মধ্যে চীনের অভিবাসীরা সাদা ইউরোপীয়দের থেকে নানান রকম বিপদের সম্মূখীন হন এবং তাদের পক্ষে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ১৯০১ সালে সর্বপ্রথম অভিবাসন আইন (Immigration Restriction Act 1901) জারী করা হয় যা ইউরোপীয় সাদা মানুষ ছাড়া অন্যদের অস্ট্রেলিয়ায় আসা ও থাকার উপর নিয়ণ্ত্রণ আরোপ করে। এজন্য এই আইন সাদা আইন হিসেবে পরিচিত (The White Australia policy)।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অস্ট্রেলিয়ায় জাপানের অনুপ্রবেশ টেকানোর জন্য সরকার বিপুলসংখ্যায় অভিবাসী আনার সিদ্ধান্ত নেন। এসময় লাখ লাখ ইউরোপীয় এবং ১ লাখের উপর ব্রিটিশ অভিবাসী হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় আসেন। শর্ত ছিল শুধু ভাল স্বাস্হ্যের অধিকারী ও বয়স ৪৫ এর নিচে হতে হবে। কিন্তু সাদা আইনের কারণে ইউরোপের বাইরের অসাদা মানুষরা আসতে পারেননি। ১৯৭০ সালে অভিবাসন আইনের বড় ধরনের পরিবর্তন ও পরবর্তীতে সুযোগ-সুবিধা তুলে নেয়ার কারণে অনেকে আসতে অনাগ্রহী হয়ে পড়েন। ২০০১ সালের পর থেকে শরণার্থী হিসেবে প্রচুর মানুষ এখানে আশ্রয় নেন। গত দশকে বিশেষ করে জন হাওয়ার্ড প্রধানমণ্ত্রী থাকাকালীন সময়ে সবচেয়ে বেশি অভিবাসী আসেন। ২০০৬ সালের মাঝামাঝি সময়ের হিসেব অনুযায়ী অস্ট্রেলিয়ার প্রায় ৫০ লাখ অধিবাসীর জন্ম অস্ট্রেলিয়ার বাইরে। এর মধ্যে প্রথম বৃটেন (সাড়ে ১১ লাখ), দ্বিতীয় নিউজিল্যান্ড (পৌনে ৫ লাখ) এবং তৃতীয় চীন (পৌনে ৩ লাখ)। আরো উল্লেখ্য ইটালী (সোয়া ২ লাখ), ভারত (দেড় লাখ), জার্মানী (সোয়া ১ লাখ), মালেশিয়া (১ লাখ), লেবানন (পৌনে ১ লাখ), শ্রীলংকা (৭১ হাজার), আমেরিকা (৬৫ হাজার), আয়ারল্যেন্ড (৫৭ হাজার) এবং বসনিয়া-হার্জেগোভিনিয়া (৪৭ হাজার)।

যা বলছিলাম, গত দশকে অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসী সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। ১৯৯৩ সালে মাত্র ৩০ হাজার লোক অস্ট্রেলিয়ায় আসলেও ২০০৩-০৪ সালে এ সংখ্যা ১ লাখ ১৮ হাজার, ২০০৫-০৬ সালে ১ লাখ ৩১ হাজারের বেশি এবং ২০০৬-০৭ সালের লক্ষ্য ছিল ১ লাখ ৪৪ হাজার, ২০০৭-০৮ সালের লক্ষ্য ১ লাখ ৪২ হাজার ৮০০ এবং ২০০৮-০৯ সালের লক্ষ্য ৩ লাখ যা দ্বিতীয় বিশ্ব যু্দ্ধের পরে এক বছরে সর্বোচ্চ। কিন্তু ২০০৮-০৯ সালে সরকার অর্থনৈতিক মন্দার কারণে উল্লেখিত লক্ষ্য হতে শতকরা ১৪ ভাগ কম অভিবাসী আনার সিদ্ধান্ত নেন। মূলত দক্ষ শ্রমিকারাই এখানে আসেন। ২০০৫ সালে আফ্রিকা থেকে ১৮ হাজার, এশিয়া হতে ৫৫ হাজার (মূলত: ভারত ও চীন থেকে), দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া হতে ২১ হাজার, বৃটেন হতে ১৮ হাজার, দক্ষিণ আমেরিকা হতে দেড় হাজার এবং পূর্ব ইউরোপ থেকে প্রায় আড়াই হাজার।

আপনারা যে দেশের অভিবাসী হতে চান সেদেশের সরকারী ওয়েবসাইটে গেলেই সকল তথ্য পাবেন। আপনাকে যে কোন এজেন্ট বা মিডিয়া সরকারী ওয়েবসাইটের চেয়ে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য দিতে পারবে না। অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য খবরাখবর পাওয়া যাবে অস্ট্রেলিয়ার সরকারের ইমিগ্রেশন ওয়েবসাইটে (http://www.immi.gov.au/)। অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসনে প্রতারনা সম্পরকে সচেতন হতে দরকারী টিপস পাবেন http://www.immi.gov.au/migration-fraud/। আবেদন পত্র অনলাইনে বা ডাকযোগে পাঠানো যায়। দক্ষ জনশক্তি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসী হতে চাইলে মূলত: আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা বিবেচনা করা হয়। সব ধরনের ভিসার ক্ষেত্রে ১৬ বছরের অধিক বয়সী সকল আবেদনকারী নিজেদের দেশসহ যেসব দেশে ১২ মাসের বেশি বসবাস করেছেন সে সব দেশ হতে চারিত্রিক সনদ প্রদান করতে হবে।

এদেশের সরকার প্রতিবছর যেসব ক্ষেত্রে দক্ষ লোকের প্রয়োজন ষেগুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করেন। এছাড়া প্রতিটি প্রদেশ তাদের নিজস্ব তালিকাও প্রকাশ করে থাকে। এই দুটি তালিকা Skilled Occupation Lists (SOL) নামে পরিচিত। আবার যে সব প্রতিষ্ঠান কাজের জন্য বাইরে থেকে দক্ষ লোক আনতে চায় তাদের আলাদা তালিকা (Employer Nomination Scheme Occupation List, ENSOL) আছে। জুলাইর ১ তারিখ থেকে কার্যকর নতুন তালিকাগুলো অনলাইনে পাওয়া যাবে (http://www.immi.gov.au/skilled/sol/)। এই তালিকাগুলো অনুসারে বাংলাদেশ থেকে যেসকল ক্ষেত্রে বেশি লোক যেতে পারে সেগুলো হলো ইন্জিনিয়ার (কম্পিউটার, সিভিল, ইলেক্ট্রিকাল, মেকানিকাল, মেরিন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল, এগ্রিকালচার, কেমিক্যাল ইত্যাদি), আর্কিটেক্ট, ডাক্তার, ডেন্টিস্ট, মেডিকেল সার্জন, কম্পিউটার (আইটি) প্রোগ্রামার, একাউন্টেন্ট এবং নার্স। আরো বেশি জানার জন্য উপরের অনলাইন লিন্কে দেখুন।

দক্ষ জনশক্তি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় মূলত: দু'ধরনের ভিসার আবেদন করা যায়। প্রথমত: সাধারণ (General Skilled Migration, GSM) ও এম্প্লয়ার স্পন্সরড (Employer Nominated Scheme, ENS বা Regional Sponsored Migration Scheme, RSMS) ভিসা। একজন আবেদনকারী এই দু'টির যেকোনটিতে আবেদন করতে পারেন। GSM ভিসার আবেদনকারীর আবেদনের সময় উপরের প্রদত্ত SOL তালিকা দু'টির যে কোনটিতে দক্ষতা দেখাতে হবে। আবেদনের পূর্বে অস্ট্রেলিয়ার কোন প্রতিষ্ঠান হতে চাকুরীর নিশ্চয়তা (Offer letter) পাওয়ার প্রয়োজন নেই। ভিসা পাওয়ার বা অস্ট্রেলিয়ায় আসার পরে চাকুরী খোঁজে নিতে পারেন। আবেদনকারীকে অবশ্যই ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সী হতে হবে, ইংরেজীতে ভাল দক্ষ হতে হবে এবং সাম্প্রতিক কাজের অভিজ্ঞতা অথবা সাম্প্রতিক অস্ট্রেলীয় ডিগ্রীর অধিকারী হতে হবে। GSM ভিসা আবার দু'ধরনের - স্বাধীন (Independant) এবং স্টেট (State sponsored) বা ফ্যামিলি স্পন্সরড (Family sponsored)। স্বাধীন GSM ভিসার আবেদনে শুধু আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা তাঁর দক্ষতায় বিবেচনা করা হবে। এক্ষেত্রে প্রদেশ, পরিবার বা অন্য কোন ধরনের স্পন্সরশীপের প্রয়োজন নেই। তবে তাকে অবশ্যই পয়েন্ট টেস্টে কমপক্ষে ১২০ পয়েন্ট পেতে হবে। বয়সের জন্য ১৫ (৪০-৪৪ বছর) থেকে সর্বোচ্চ ৩০ (১৮-২৯ বছর) পয়েন্ট, ইংরেজী ১৫ (IELTS সব band এ ৬) বা ২৫ পয়েন্ট (IELTS সব band এ ৭), শিক্ষা ও অভিজ্ঞতায় (nominated occupation এবং অবশ্যই SOL এ আছে) থেকে সর্বোচ্চ ৬০ (ডিপ্লোমা, ডিগ্রী ও অভিজ্ঞতা) পয়েন্ট, সাম্রতিক কাজের অভিজ্ঞতায় (গত ৪ বছরের মধ্যে ৩ বছর) ১০ (nominated occupation) বা ৫ (SOL এর অন্য যেকোন occupation) পয়েন্ট, অস্ট্রেলিয়ায় সাম্রতিক কাজের অভিজ্ঞতায় ১০ পয়েন্ট, কমপক্ষে দু'বছরের অস্ট্রেলীয় ডিগ্রী ২৫ (পিএইচডি) বা ১৫ (মাস্টারস বা ব্যাচেলর) পয়েন্ট, কমিউনিটি ভাষায় ৫ পয়েন্ট (বাংলাও একটি কমিউনিটি ভাষা হিসেবে স্বীকৃত), অস্ট্রেলিয়ার কোন কম জনবসতিপূর্ণ এলাকায় পড়ালেখা করলে ৫ পয়েন্ট এবং স্ত্রীর শিক্ষা, ইংরেজী দক্ষতা ও কাজের অভিজ্ঞতার জন্য আরো ৫ পয়েন্ট।

এছাড়া একধরনের GSM ভিসা (Regional Residence visa) আছে যার আবেদনকারীকে আবেদনের পূর্বে আত্নীয় বা কোন প্রাদেশিক সরকার কর্তৃক স্পন্সরশীপের কারণে অস্ট্রেলিয়ার কিছু নির্ধারিত এলাকায় কোন Provisional ভিসায় কমপক্ষে ২ বছর বসবাস করবেন এবং এই সময়ে সে জায়গায় কমপক্ষে ১ বছর full time কাজ করবেন।

GSM ভিসার আবেদনকারীর প্রয়োজনীয় দক্ষতায় ঘাটতি থাকলে তিনি কোন প্রদেশের সরকার বা নিজের কোন নিকটাত্নীয় দ্বারা বাছায় হতে পারেন। তাঁকে পয়েন্ট টেস্টে কমপক্ষে ১০০ পয়েন্ট পেতে হবে, কিন্তু ১২০ পয়েন্টের নিচে বলে তাঁর স্পন্সরশীপ প্রয়োজন। স্পন্সরশীপের আবেদনকারীকে আগে সেই প্রদেশের সরকারের সাথে যোগাযোগ করে স্পন্সরশীপের ব্যবস্হা করতে হবে। অথবা Family sponsored হলে স্পন্সরকারী ও আবেদনকারীকে অনেকগুলো শর্ত মানতে হবে। আবেদনকারী অভিবাসী অস্ট্রেলিয়া আসার পরে স্পন্সরকারী তাঁকে প্রথম ২ বছর থাকা-খাওয়ার খরচ দেবেন, আবেদনকারীর সন্তানদের দেখাশুনা যদি তিনি ইংরেজীতে দক্ষতা বাড়ানোর ক্লাশে যোগ দেন এবং চাকুরী পেতে সম্ভাব্য সাহায্য করবেন। মূল আবেদনকারী বা মূল আবেদনকারীর স্ত্রী বা স্বামীর নিকটাত্নীয় (ছেলে-মেয়ে, বাবা-মা, ভাই-বোন, চাচা-চাচী, ভাইপো-ভাইঝি, খালা-খালু, ভাগ্নে-ভাগ্নী) স্পন্সর করতে পারবেন। স্পন্সরকারীকে অস্ট্রেলিয়ার অধিবাসী, কমপক্ষে ১৮ বছর বয়সী এবং অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসী অথবা অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডের নাগরিক হতে হবে। উল্লেখ্য, State sponsored ভিসায় আসলে অভিবাসীকে সে প্রদেশে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত থাকতে হবে। এর পরে তিনি স্বেচ্চায় সে প্রদেশে বা অন্য প্রদেশে থাকতে পারেন।

অধিকাংশ GSM ভিসার আবেদন ফি ২৫৭৫ ডলার, কিন্তু Regional Residence ভিসার ফি ২৩৫ ডলার। ১৮ বছরের বেশি বয়সী Dependant (স্বামী বা স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে) ইংরেজিতে অদক্ষ (IELTS score গড়ে ৪.৫ এর কম) হলে প্রতিজনের জন্য আরো ৩৫৭৫ ডলার দিতে হবে।
আরো বিস্তারিত দেখুন অনলাইনে Click This Link

ENS ভিসার আবেদনকারীকে অবশ্যই আবেদনের পূর্বে তার দক্ষতা (nominated occupation) ENSOL লিস্টে দেখাতে হবে এবং অস্ট্রেলিয়ার কোন প্রতিষ্ঠান হতে চাকুরীর (Full time, কমপক্ষে ৩ বছর) নিশ্চয়তা (Offer letter) ও স্পন্সরশীপ পেতে হবে। RSMS ভিসার আবেদনকারীকেও অবশ্যই আবেদনের পূর্বে অস্ট্রেলিয়ার কোন কম জনবসতিপূর্ণ এলাকার প্রতিষ্ঠান হতে চাকুরীর (Full time, কমপক্ষে ২ বছর) নিশ্চয়তা (Offer letter) ও স্পন্সরশীপ পেতে হবে। উভয় ধরনের ভিসার মূল আবেদনকারীকে ৪৫ বছরের কম বয়সী এবং তাঁর সংশ্লিষ্ট কাজটি করার প্রয়োজনীয় শিক্ষাঘত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ENS ভিসার ক্ষেত্রে nominated occupation এ কমপক্ষে ৩ বছর অথবা পূর্বে কোন অস্হায়ী ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় ২ বছর, এর মধ্যে কমপক্ষে সাম্প্রতিক ১ বছর স্পন্সরকারীর সাথে অথবা অস্ট্রেলিয়ায় প্রাপ্ত নতুন চাকুরীতে বেতন ১৬৫০০০ ডলারের বেশি হতে হবে এবং আবেদনকারীকে আবেদনের পূর্বেই তাঁর দক্ষতা কোন উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান থেকে যাচায় (Assessment) করতে হবে। যেমন, কম্পিউটার বা আইটি প্রোগ্রামারদের জন্য Australian compute society এবং মেকানিকাল, সিভিল, ইলেক্ট্রিকাল ইন্জিনয়ারদের জন Engineers Australia। অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে আবেদন করলে এই উভয় ধরনের ভিসার আবেদনে মোট খরচ হবে ২১৯০ ডলার, অস্ট্রেলিয়ার ভিতরে থেকে আবেদন করলে খরচ ৩০৩০ ডলার। মূল আবেদনকারী ইংরেজিতে অদক্ষ (IELTS score গড়ে ৪.৫ এর কম) হলে অতিরিক্ত ৭১৬৫ ডলার দিতে হবে। ১৮ বছরের বেশি বয়সী Dependant (স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে) ইংরেজিতে অদক্ষ (IELTS score গড়ে ৪.৫ এর কম) হলে প্রতিজনের জন্য আরো ৩৫৭৫ ডলার দিতে হবে। আরো বিস্তারিত অনলাইনে দেখুন Click This Link এবং Click This Link

ডাক্তারী পেশার কেউ অস্ট্রেলিয়ায় ষ্হায়ী ভাবে থাকতে চাইলে তাঁকে অবশ্যই মেডিকেল রেজিস্ট্রেশন (Full medical registration) করাতে হবে। মেডিকেল রেজিস্ট্রেশনের ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে হলে সরকারী সংস্হা ডক্টর কানেক্ট (DoctorConnect) এর সাথে যোগাযোগ করুন: http://www.doctorconnect.gov.au/। মেডিকেল রেজিস্ট্রেশন হয়ে গেলে তাঁকে উপরে বর্ণিত ENS বা RSMS ভিসার যেকোনটির জন্য আবেদন করতে হবে।

নার্সিং পেশার চাহিদা অস্ট্রেলিয়ায় খুবই বেশি। একজন নার্সের প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় ষ্হায়ী ভাবে বসবাসের জন্য GSM, ENS বা RSMS ভিসার যেকোনটির জন্য আবেদন করতে পারেন। আগ্রহী নার্সরা The Australian Nursing and Midwifery Council Limited (ANMC)এর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন: http://www.anmc.org.au/।

পরিশেষে বলব, আপনি যে ধরনের ভিসার জন্য আবেদন করুন না কেন, মুটামুটি নিচের পয়েন্ট গুলো অনুসরন করুন:
(১) আপনার পেশা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতার মাধ্যমে কোন ধরনের ভিসা আপনার জন্য সবচেয়ে উপযোগী তা ঠিক করুন। সবচেয়ে ভাল হয়, মানে ঝামেলা সবচেয়ে কম হয়, যদি আপনি Independant GSM ভিসার জন্য আবেদন করেন।
(২) ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় ইংরেজী দক্ষতা দেখানোর জন্য IELTS পরীক্ষায় অংশগ্রহণ। Dependant (১৮ বছরের বেশি বয়সী স্বামী বা স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে) এর ইংরেজী দক্ষতা অনেক সময় পরে দেখালেও চলে, সাধারণত আপনার ভিসা যখন হয়ে যাবে সে সময় আপনাকে হয় Dependant এর জন্য ইংরেজী দক্ষতা (IELTS score গড়ে ৪.৫ এর কম) দেখাতে হবে বা প্রতিজনের জন্য আরো ৩৫৭৫ ডলার দিতে হবে। এই টাকায় অস্ট্রেলিয়ায় আসার পরে সরকার কিছু ইংরেজী কোর্স করতে বলবে। তবে Dependant স্বামী বা স্ত্রীর জন্য GSM ভিসায় পয়েন্ট দাবী করলে তাঁর ইংরেজী দক্ষতা আগে দেখাতে হবে।
(৩) যদি স্পন্সরশীপের প্রয়োজন হয় তবে তা তৈরী করুন। আত্নীয় স্পন্সর করলে ঝামেলা কম। প্রাদেশিক সরকারের স্পন্সরশীপের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রদেশের সাথে যোগাযোগ করুন। তাদের দক্ষতা যে সব ক্ষেত্রে অভাব আছে সেগুলোর কোন একটিতে আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতা দেখাতে হবে। এম্প্লয়ার স্পন্সরশীপের জন্য আগে চাকুরীর দরখাস্ত করুন। চাকুরী হয়ে গেলে এম্প্লয়ার তখন আপনাকে স্পন্সর করার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা করবে।
(৪) ভিসার জন্য প্রয়োজন হলে আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতা Assessment করানোর জন্য প্রয়োজনীয় সংস্হায় পাঠান। উপরে বর্ণিত তালিকা গুলোতে আপনার পেশার সংশ্লিষ্ট সংস্হার খোঁজ পাবেন।
(৫) ১৬ বছরের অধিক বয়সী সকল আবেদনকারী ১২ মাসের বেশি যে সব দেশে বসবাস করেছেন সে সব দেশের পূলিশ বা স্বরাষ্ট্র মণ্ত্রনালয় হতে চারিত্রিক সনদপত্র সংগ্রহ করুন। অনেক ক্ষেত্রে এই সনদগুলো আপনার ভিসা যখন হয়ে যাবে তখন লাগবে, তাই এজন্য তাড়াহুড়ো করে সময় নষ্ট করার দরকার নেই।
(৬) অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র ঠিক করুন, যেমন: সব আবেদনকারীর পাসপোর্ট সাইজ ছবি, পাসপোর্টের কপি, জন্ম সনদ, মূল আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও অভিজ্ঞতা সনদ।
(৭) মেডিকেল পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। তবে সাধারণত ভিসা হয়ে গেলে ভিসা অফিসার সকল আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট ডাক্তারের কাছে গিয়ে মেডিকেল করতে বলবেন। মেডিকেলের সকল খরচ আবেদনকারীর। ডাক্তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট ভিসা অফিসারের কাছে পাঠিয়ে দেন। কিছু কিছু ভিসার ক্ষেত্রে (অস্ট্রেলিয়ায় থাকাকালীন সময়ে আবেদন করা হয় এমন ভিসার জন্য) মেডিকেল পরীক্ষা আগে করার প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার Medibank Health Solutions (http://www.medibankhealth.com.au) প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও রিপোর্ট ভিসা অফিসে পাঠয়ে দেয়। তাই আপনি শুধু মেডিকেল পরীক্ষার রশীদ আবেদনের সময় জমা দিবেন।
(৮) আবেদন অনলাইনে বা ডাকযোগে করা যাবে। প্রয়োজনীয় ফি ক্রেডিট কার্ড বা মানি অর্ডারে পরিশোধ করতে হবে। অনলাইন আবেদনে সকল কাগজ পত্রের কপি colour scan করে upload করতে হবে। ডাকযোগে আবেদন করলে কাগজ পত্রের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে।
(৯) ভিসা অফিস আবেদনের পরে আপনাকে একটি রেফারেন্স নাম্বার (Transaction Reference Number, TRN) দিবে। অনলাইনে এই TRN দিয়ে আপনার অবেদনের স্ট্যাটাস সময় সময় চেক করুন: Click This Link প্রয়োজনে ই-মেইল করুন।
(১০) ভিসা প্রসেসিং হতে ৩ থেকে ১২ মাস বা তার চেয়েও বেশি সময় লাগতে পারে। এম্প্লয়ার ও প্রাদেশিক স্পন্সরশীপের আবেদন দ্রুত প্রসেস হয়। সময় যাই লাগুক, যেহেতু অভিবাসন আইন দ্রুত পরিবর্তন হয় এবং সে কারণে আপনার আগের আবেদনে কোন সমস্যা হবে কিনা তা খোঁজ খবর নেয়ার জন্য মাঝে মধ্যে http://www.immi.gov.au/ ওয়েবসাইটে চোখ রাখুন। বিস্তারিত জানার জন্য প্রয়োজনে TRN দিয়ে ই-মেইল করুন।
(১১) ভিসা হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট অফিসে পাসপোর্ট নিয়ে গিয়ে ভিসার লেভেল লাগিয়ে ফেলুন। ভিসায় কোন শর্ত থাকলে সেগুলো ভালভাবে জেনে নিন এবং সে শর্তগুলো আপনাকে মেনে চলতে হবে।

একজন স্হায়ী অভিবাসী অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। তাঁকে আবেদনের অব্যবহিত পূর্বে কমপক্ষে ৪ বছর বৈধভাবে অস্ট্রেলিয়ায় থাকতে হবে, এর মধ্যে কমপক্ষে ১ বছর স্হায়ী অভিবাসী হিসেবে। বিস্তারিত দেখুন অনলাইনে http://www.citizenship.gov.au/।

[লেখাটি প্রকাশিত: ২৩.১০.২০১০ এবং ৩০.১০.২০১০]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/29273044 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/29273044 2010-11-16 08:31:44
কিছু মৃত্যু এবং আমাদের মৃত্যু প্রস্তুতি প্রত্যেককে (একদিন) মরতে হবে এবং অবশেষে তোমাদের আমার কাছে ফিরে আসতে হবে - আনকাবূত ৫৭।

আমার উম্মতের (পার্থিব) জীবন ৬০ থেকে ৭০ বছরের। খুব কমই এর বেশী বাঁচবে - রাসুলুল্লাহ সা:, তিরমিযী।

'প্রতিদিনই আমরা আমাদের মতো মানুষকে মরতে দেখি, কিন্তু নিজেদের মৃত্যুর কথা ভুলে যাই' - আলী রা:।

.১.
অনেকদিন ব্লগে লেখা হয়না ব্যস্ততার কারনে। গতকাল বুয়েটের প্রিয় বন্ধু নাঈমের স্ত্রীর মৃত্যু সংবাদ পেয়ে খুব খারাপ লাগল। নাঈম বিয়ে করেছিল খুব সম্ভবত: বুয়েটে যখন আমরা দ্বিতীয় বর্ষে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর একটি পূত্র সন্তান জন্ম দিয়ে ভাবী ২৩ অক্টোবর মারা যান (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন - নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং তারই নিকট প্রত্যআবর্তনকারী)। বেচারা নাঈমের এখন ১ মাস বয়সী এই পূত্র সন্তান এবং এর আগের ৬ ও ৯ বছর বয়সী দুই কন্যা সন্তানের যত্ন নিতে হবে। নাঈমের বাবা-মা মারা গেছেন বেশ ক'বছর আগে।

.২.
নাঈমকে ই-মেইলে সান্তনা দিয়ে কাজ শেষে বাসায় ফিরে গেলাম। মাগরিবের নামায শেষে বাসায় এসে শুনলাম - আব্বা বাংলাদেশ থেকে ফোন করেছিল - দাদী মারা গেছে (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন - নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং তারই নিকট প্রত্যআবর্তনকারী)। এরকম একটা খবরের জন্য মানসিক প্রস্তুতি ছিল - কারন দাদী গত ২-৩ বছর যাবত শয্যাশায়ী। বয়স আশি-নব্বয়ের কোটায়। আমরা বড় হয়ে দেখেছি দাদীর চোখে দেখা ও কানে শোনা নিয়ে সমস্যা হচ্ছিল। সমস্যা দিন দিন বেড়েছে। বাইরে পড়তে আসার আগে দাদী বলেছিল, আর কত পড়া লেখা? তখনও হাঁটতে চলতে পারতো। পরে বিভিন্ন রোগে শয্যাশায়ী। আজ আম্মা ফোনে বলল, প্রথম নাতী হিসেবে দাদী আমাকে এত বেশী আদর করতো যে, আমার বাইরে থাকাটা অনেকটা অপছন্দ করত। সবসময় আমার জন্য দোয়া করতো।

সেই দাদীকে হারালাম বিপদে যে আমার আশ্রয় ছিল। আম্মা-আব্বার বকাঝকা বা মারের পরে দাদী ছিল সান্ত্বনা। আজ বড় হয়েছি, আম্মা-আব্বার শাসন নেই, সে জন্য হয়ত: দাদীর আর প্রয়োজন নেই! কিন্তু আজ আমি মনে মনে বড়ই শূন্যতা অনুভব করছি। বিদেশে থাকার কারনে, দাদীকে গত বছর পাঁচেক দেখিনি। ইচ্ছা ছিল এবার দেশে গিয়ে দেখবো, আমার ছেলে-মেয়েরা প্রথম বারের মতো দেখবে - আর মাত্র ২-৩ সপ্তাহ পরে!

.৩.
এখানে অস্ট্রেলিয়ায় মানুষের মৃত্যু সংবাদ মাঝে মাঝে পাই। কিন্তু সময়ের অভাবে জানাযা পড়া হয়না। গত ৫ বছরে একটি মাত্র জানাযা পড়েছি। পিএইচডি করার সময় পাকিস্তানী মানছুরের মেয়ে শেযা ৬-৭ মাস বয়সে (খুব সম্ভবত) মারা গিয়েছে। শেযা আমার মেয়ের সমবয়সী। আমরা কয়েকজন কান্ট্রিসাইড থেকে মেলবোর্ন এসেছি জানাযা ও কবর দিতে। একটি কবরে চারজন বাচ্চা কবর দেয়া হয়। জানাযা শেষে সন্ধ্যা নাগাদ ফিরে গিয়েছি। একমাত্র মেয়ের মৃত্যুতে মানছুর ও ভাবী শোকাভিবূত ছিলেন অনেকদিন। আমার মেয়েকে দেখলে বেশ আদর করতেন।


.বন্ধুরা, আমাদেরও মরতে হবে.
দুনিয়ায় এমন কেউ নাই যে মৃত্যুর মতো এই সত্যটিকে উপেক্ষা করতে পারেন। স্রষ্টায় বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী কেউ বলতে পারবে না - আমি অনন্তকাল ধরে বেঁচে থাকবো। তবে বিশ্বাসীদের মতে, এই জীবনের পরেও আরেকটি জীবন আছে। তাই আমাদের সে জীবনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।

রাসুলুল্লাহ সা: বলেছেন, কবর হলো পরকালীন দুনিয়ার প্রথম ধাপ (আমলের প্রথম ইন্টারোগেশন)। যে কেউ এখানে পাশ করলো, তার পরের ধাপগুলো সহজ হয়ে যাবে। যে কেউ এখানে ফেল করলো, তার পরের ধাপগুলো কঠিন হয়ে যাবে। - তিরমিযী, ইবনে মাজাহ্, হাকীম।

দেখুন, দাদী বৃদ্ধা, নাঈম ভাবী মাঝবয়সী, আর শেযা মাত্র এ পৃথিবীর আলো দেখেছে। যে কারো ডাক যেকোন সময় আসতে পারে। বয়স কোন ফ্যাক্টর নয়। তাই আসুন আমরা সবাই এই শাশ্বত: সত্যের জন্য প্রস্তুতি নিই।

পরিশেষে, যারা মারা গেছেন, আল্লাহ কাছে তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করি। পরকালের যাত্রার জন্য আমাদের সকলের প্রস্তুতি যেন ভালভাবে হয় সে দোয়া করি।

(ছবিসূত্র: গুগল)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/29033264 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/29033264 2009-10-28 08:31:38
বুয়েট ও বাংলাদেশের বিজ্ঞান গবেষকদের প্রতি
সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার একটি আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে বুয়েটের শিক্ষকদের লেখা একটি গবেষণা রিপোর্ট পড়তে গিয়ে আমার দাঁত ভাঙ্গার উপক্রম। লেখাটির লেখক হচ্ছেন বুয়েটের Institute of Information and Communication Technology (IICT) নামের প্রতিষ্ঠানের একজন প্রভাষক, Electrical and Electronic Engineering (EEE) বিভাগের একজন অধ্যাপক ও Civil Engineering (CE) বিভাগের একজন সহকারী অধ্যাপক। Abstract এবং introduction-র কয়েক লাইন পড়তে আমাকে বারবার পড়ে বুঝতে হয়েছে। পরিশেষে, বিরক্ত হয়ে পড়া বন্ধ করে রেখে দিয়েছি। এরকম অবস্হায় যে কোন রিভিউয়ার লেখাটি অগ্রহণযোগ্য (rejection) হিসেবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

অনেকের মতে, বুয়েট ও বাংলাদেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার মান আন্তর্জাতিক মানের হলেও, মূল সমস্যা অন্য জায়গায়। তরুণ গবেষকদের ইংরেজীতে দক্ষতার অভাবে গবেষণা রিপোর্টে presentation হয় খুব দূর্বল। ফলে পাঠকরা বুঝতে পারেন না, লেখাটিতে আসলে কি আছে। রিভিউয়াররা সব ভলান্টারিলি কাজ করেন। তাই যে কোন লেখা মান সম্পন্ন লেখা দূর্বোধ্য হলেও তাঁরা বুঝতে পারেন না, বুঝার জন্য বেশি চেষ্টাও করেন না ও সহজে reject করেন। এজন্য রিভিউয়ারদের কোন জবাবদিহিতাও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নেই।

উল্লেখিত লেখাটির মূল লেখক IICT-র একজন প্রভাষক। তাই স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বাস, তাঁর ইংরেজীতে দক্ষতা কম (হয়ত: বাংলা মিডিয়ামে পড়ে আসার কারণে) ও গবেষণা রিপোর্ট লেখার অভিজ্ঞতা তেমন নেই। অথচ তিনিই হয়তো কষ্ট করে গবেষণার মূল কাজটি করেছেন ও লেখাটি লিখেছেন। তাই অভিজ্ঞতার অভাবে তাঁর গবেষণা ভাল মানের হলেও লেখার মান ও presentation খুব দূর্বল। আমার বিশ্বাস অন্য দুজন লেখক, যাঁরা বুয়েটের নামকরা অধ্যাপক (শ্রদ্ধার সাথে বলছি), তাঁরা হয়তো লেখাটি একবারও ভালভাবে পড়ে দেখেননি। ভূল-ত্রুটি শোধরে দিয়ে মূল লেখককে পরামর্শ দেননি। কিন্তু বিদেশের বড় বড় ডিগ্রীর বদৌলতে তাঁদের এই কাজের যথেষ্ঠ অভিজ্ঞতাও আছে। হয়তো সময়ের অভাবে তাঁরা তা করেননি।

এতে তাঁরা দুটি বড় ঝুঁকি নিয়েছেন। প্রথমত, যা সহজেই অনুমেয়, রিভিউয়াররা লেখাটি পড়তে গিয়ে দূর্বোধ্য হলে reject করবেন। এতে একটি সম্ভাবনাময় তরুণ গবেষকের (মূল লেখক) আগ্রহে ভাটা পড়া অস্বাভাবিক নয়। দ্বিতীয়ত, তাঁদের নামের সাথে লেখাটিতে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ প্রযুক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বুয়েটের নাম লেখা আছে। এতে বিদেশের একজন পাঠক বুয়েট সম্পর্কে কি ধারণা করবেন - একথা হয়ত: তাঁরা চিন্তাও করেননি। অধিকন্তু, বুয়েট ও বাংলাদেশের অধ্যাপকদের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। অথচ আমরা জানি, বিদেশের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মানসম্পন্ন ডক্টরেট করে ও ন্যুনতম গবেষণা রিপোর্ট প্রকাশ করেই তাঁরা অধ্যাপক পদে নিয়োগ পেয়েছেন। তাই একজন বাংলাদেশী হিসেবে তাঁদের যোগ্যতা সম্পর্কে কোন সন্দেহ না করলেও, তাঁদের আন্তরিকতা নিয়ে সন্দেহ করছি বৈকি (পাঠক, এতে তাঁদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা এতটুকুও কমে যায়নি)। কিন্তু একজন বিদেশী সাত-পাঁচ না ভেবে সরাসরি তাঁদের ও তাঁদের প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ করতে পারেন।

বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ব্যাপারটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এমনকি বাংলাদেশী যেসব প্রফেসর ও গবেষক এখানে কাজ করেন তাঁরা অত্যন্ত আন্তরিক। তাঁদের গবেষণা রিপোর্টে আন্তর্জাতিক মান পুরো মাত্রায় বিরাজমান। যে সব বাংলাদেশী ছাত্র তাঁদের অধীনের উচ্চ শিক্ষার জন্য আসেন, তাদেরকে তাঁরা অত্যন্ত দরদ দিয়ে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণার কলা কৌশল শিক্ষা দেন। একটি কনফারেন্স বা জার্নাল রিপোর্ট কিভাবে লিখতে হবে তাও আন্তরিক ভাবে শিখিয়ে দেন। এজন্য বিশেষভাবে উল্লেখ্য অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক (Gippsland School of Information Technology-র প্রধান) ড: মানজুর মোর্শেদ। তিনি ছাত্রদের তাঁর বাসায় ডেকে নিয়ে হাতে কলমে শিখিয়ে দেন কিভাবে একটি কনফারেন্স বা জার্নাল রিপোর্ট লিখতে হয়। তাঁর নিপুন হাতের পরিচর্যায় অল্প সময়ে ছাত্ররা ইংরেজী লেখা ও গবেষণার ফলাফল presentation-এ দক্ষ হয়ে উঠে। আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয়, কম্পিউটারে রিপোর্ট লেখার বিভিন্ন software (যেমন, MS Word, Latex) এর প্রথম বা advance ব্যবহার অনেক ছাত্ররা তাঁর কাছেই প্রথম শিখে। ড: মানজুর মোর্শেদের Latex-এ লেখা পিএইচডি Thesis template মোনাশ সহ অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশী-বিদেশী পিএইচডি ছাত্ররা ব্যবহার করেন।

আরেকটি বিষয়, গবেষণায় ন্যুনতম সম্পৃক্ত না থেকে একটি গবেষণা রিপোর্টে নিজের নাম লেখক হিসেবে দিয়ে কৃতিত্ব নিতে আমরা অনেকে পছন্দ করি। কিন্তু যাঁরা এটা করেন, তাঁদের বায়োডাটায় গবেষণা রিপোর্টের সংখ্যা বাড়লেও তাঁরা কয়েকটি ঝুঁকি নিয়ে থাকেন। প্রথমত, এই চর্চাটি নৈতিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ। একটি গবেষণা বা এর রিপোর্ট লেখায় লেখক হিসেবে একজন ব্যক্তির ন্যুনতম সম্পৃক্ততা বাধ্যতামূলক। যদি কেউ ন্যুনতম সম্পৃক্ততা ছাড়াই লেখক হন, তবে তা ঠিক নয়। দ্বিতীয়ত, উপরে উল্লেখিত ঘটনার মতোই লেখক তাঁর নিজের ও প্রতিষ্ঠানের দূর্নামের ঝুঁকি নিয়ে থাকেন। তৃতীয়ত, বায়োডাটায় গবেষণা রিপোর্টের সংখ্যাধিক্যের জন্য চাকরীতে প্রমোশন হলেও, কার্যত তাঁরা ছাত্র ও সহকর্মীদের কাছে হাস্যাস্পদ হয়ে যান।

আমাদের দেশে এই ভূল চর্চাটি ব্যাপক। বাইরে একেবারে নেই বললেই চলে। মেলবোর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন বাংলাদেশী গবেষক তাঁর একটি লেখায় একই বিভাগের একজন অস্ট্রেলীয় অধ্যাপকের (যিনি বাংলাদেশী গবেষকটির একজন supervisor ও বটে) নাম লেখক হিসেবে দিতে অনুমতির জন্য গত এক মাস ধরে অপেক্ষা করছেন। অধ্যাপক সাহেব নিজের নাম ব্যবহারের অনুমতি দিতে চান, তবে এর আগে তিনি দেখতে চান লেখাটিতে কি আছে, লেখাটি তাঁর নিজের ও প্রতিষ্ঠানের নামের সাথে মানাবে কিনা। উল্লেখ্য, এর আগে তিনি বাংলাদেশী গবেষকটির আরেকটি লেখায় শুদ্ধ ইংরেজী লেখার ব্যাপারে যথেষ্ট সাহায্য করেছেন।

পরিশেষে বলব, আমাদের দেশের মেধা ও যোগ্য গবেষকদের অভাব নেই। এর প্রমাণ, আন্তর্জাতিক কম্পিউটার প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় বুয়েটের কম্পউটার প্রকৌশলের ছাত্ররা বরাবরই ঈর্ষনীয় সাফল্য ধরে রেখেছে। ভারত ও চীনসহ বিশ্বের অনেক নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়কে তাঁরা হারিয়েছেন। এছাড়া বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক কৃতি গবেষক প্রথম শ্রেণীর আন্তার্জাতিক জার্নালে তাঁদের গবেষণা নিয়মিত প্রকাশ করে থাকেন। এক্ষেত্রে যাঁরা পিছিয়ে আছেন, এক-আধটু পরিচর্যার মাধ্যমেই তাঁরাও বিশ্বমানের গবেষকদের কাতারে শামিল হতে পারেন। বাংলাদেশের যে সকল শিক্ষকরা বাইরের ডিগ্রী নিয়ে এসেছেন, তাঁদের সকলেই কম-বেশি গবেষণার সকল কলাকৌশল জানেন। তাঁদের একটু আন্তরিকতা, একটু সময়, সহকর্মীদের সাথে একটু সহযোগিতা তরুণ গবেষকদের অনেক উপরে নিয়ে যেতে পারে। পরিণামে শুধু বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বাংলাদেশও বিজ্ঞান চর্চায় বিশ্বে মর্যাদার আসনে সমাসীন হবে।

লেখাটি প্রকাশিত: নয়াদিগন্ত, সোনার বাংলাদেশ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28972454 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28972454 2009-07-02 08:21:07
'সোয়াইন ফ্লু' ও শুকর ব্যবসায় মন্দাভাব
চলমান অর্থনৈতিক মন্দার এই সময়ে সোয়াইন ফ্লুর বিরূপ প্রভাব দ্রুত স্পষ্ট হয়ে উঠছে। পর্যটনকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ছাড়াও ইতিমধ্যে লন্ডনসহ কয়েকটি শহরে শেয়ার বাজারেও ধ্বস নেমেছে। অর্থনীতির আরেকটি ক্ষেত্রে এ রোগের বিরূপ প্রভাব লক্ষ্যনীয়, আর তা হচ্ছে বিশ্বব্যাপী শুকরের মাংসের ব্যবসা। শুকরের মাংসের চাহিদা ইতিমধ্যে বেশ কমে গেছে। বিশ্বে কানাডা এ মাংসের সবচেয়ে বড় রফতানীকারক দেশ। এখন সে দেশেও 'সোয়াইন ফ্লু' আক্রান্ত রোগী সনাক্ত করা হয়েছে এখবর বের হওয়ার পরে তাদের শুকরের মাংসের ব্যবসায় মন্দাভাব নেমে এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের শুকরের মাংস উতপাদনকারী সংস্হার সভাপতি এগের কিংমা ব্যবসার মন্দাভাব কাটাতে জোর গলায় বলছেন, তাদের মাংস সোয়াইন ভাইরাস মুক্ত। আমেরিকায়ও শুকরের মাংসের ব্যবসায় অনুরূপ মন্দাবস্হা।

কেউ কেউ বলছেন, সোয়াইন ফ্লুর সাথে শুকর ব্যবসার মন্দাভাবের মূল কারণ, এই ফ্লুর নামকরণে। ইংরেজীতে swine মানে শুকরজাতীয় সর্বভূক প্রাণী (যেমন, pig, hog ও boar) যাদের শরীর অত্যধিক চর্বিযুক্ত এবং যাদের খাট ঘাড় ও লম্বা নাক আছে।

ইতিহাস থেকে (Merrium-Webstar online dictionary), 'swine fever' কথাটির প্রথম প্রচলন হয় আফ্রিকায় ১৮৮৬ সালে এবং রোগটি 'African swine fever' নামেও পরিচিত। এর জন্য দায়ী ডিএনএ ভাইরাসের বৈজ্ঞানিক নাম হল 'Asfivirus Asfarviridae'। রোগটি মূলত swine প্রজাতির শুকরদের হয়। রোগটির উপসর্গ স্বাভাবিক ইনফ্লুয়েঞ্জার মতোই। গায়ে প্রচণ্ড ব্যথা, ক্ষুধামন্দা, জ্বর, গলায় ব্যথা, বমিভাব ও শারীরিক দুর্বলতার উপসর্গের কথা জানা গেছে। রোগটি 'pig plague' নামেও পরিচিত। ইংরেজী উইকিপিডিয়া থেকে জানা যায়, এই রোগটি ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডে ও ১৯৭৮ সালে আমেরিকায় দেখা যায়।

বলা হচ্ছে, মানুষের মাঝে 'সোয়াইন ফ্লু' নামক রোগটির কারণ H1N1 নামক আরেকটি ভাইরাস। তাই স্বভাবতই শুকর ব্যবসায়ীদের দাবী মানুষের শরীরে এই সোয়াইন সেই সোয়াইন নয় যা শুকরদের হয়। আমেরিকার Agriculture Secretary টম ভিলসাক বলেছেন, মানুষের মাঝে এরোগের কারণ খাদ্য থেকে নয়, ফলে এর নামকরণ 'সোয়াইন ফ্লু' করাটা ভূল ছিল। প্যারিসভিত্তিক বিশ্ব স্বাস্হ্য সংস্হাও এই নামকরণের বিরোধিতা করেছেন। কেউ বলছেন, এরোগের নামকরণ হওয়া উচিত 'Mexico flu', কেউ বলছেন 'North American influenza'।

মানুষের সোয়াইন ফ্লু এবং শুকরের শুকরের সোয়াইন ফ্লুর মাঝে সম্পর্ক প্রকৃতপক্ষে আছে কিনা তা বিজ্ঞানীদের ভবিষ্যত গবেষণাই হয়ত: বলে দেবে। অনেকের হয়ত মনে আছে ২০০২-০৩ সালে হংকং, চীন, সিঙ্গাপুরে SARS (Severe acute respiratory syndrome) নামক অনুরূপ ফ্লুর কারণ হিসেবে শুকরের মাংসকেই দায়ী করা হয়েছিল এবং তখনও বিশ্বব্যাপী শুকর ব্যবসায় মন্দাভাব দেখা দিয়েছিল। ইংরেজী উইকি থেকে জানা যায়, ২০০২ এর নবেম্বর থেকে ২০০৩ এর জুলাইয়ে এরোগে মোট ৮,০৯৬ জন আক্রান্ত হয় এবং ৭৭৪ জন মারা যায়। কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্য রোগটির প্রাদূর্ভাব থেমে যাওয়ার পরে এনিয়ে আর কোন গবেষণার ফল জানা যায়নি। বিশ্বের মানুষ জানতে পরেনি SARS এর মূল কারণকি আসলেই শুকর থেকে এসেছে? এক্ষণে মানুষের 'সোয়াইন ফ্লু'র ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটবে বলে অনেকে মনে করছেন।

উল্লেখ্য, বিশ্বের বড় বড় ধর্মগ্রন্হগুলোতে মদের মতো শুকরের মাংসও অপবিত্র বস্তু হিসেবে খাওয়া হারাম করা হয়েছে (দেখুন, বাইবেলের ওল্ডটেস্টামেন্ট: ডিউটরনমি ১৪:৮-৯, লেভিটিকাস ১১:৭-৮, আল-কোরআন ২:১৭৩, ৫:৩, ৬:১৪৫, ১৬:১১৫)। ধর্মীয় পন্ডিতদের মতে আল্লাহ শুকর খাওয়া হারাম করার মূল কারণ গুলোর মধ্যে রয়েছে, এটি অপবিত্র, এর মাধ্যমে ৭০ টিরও বেশি রোগ ছড়ায় (বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত) এবং এটি নৈতিক অধ:পতনের জন্য দায়ী। Taenia Solium বৈজ্ঞানিক নামের মারাত্নক কৃমি শূকরের মাংস থেকে আসে এবং এর ডিম রক্তের মাধ্যমে শরীরের সব জায়গায় পৌঁছে যায় ও পরিণামে স্মৃতিশক্তি লোপ, হৃদরোগ ও অন্ধত্ব সহ অন্যান্য রোগ হয়। শুকরের মাংসের অতিরিক্ত চর্বি মানসিক রোগ ও হৃদরোগের জন্যও দায়ী। আগেই বলা হয়েছে, শুকর সর্বভূক প্রাণী, ফলে এটি সবধরণের ময়লা খায়। এদের মালিকরা যতই এদের পরিস্কার রাখার চেষ্টা করুক নোংরা হওয়ায় এদের স্বভাব। এমনকি একটি শুকর অন্য একটি শুকরকে নিজের প্রিয় শুকরের সাথে যৌনকাজ করার আহ্বান জানায় (যা প্রাণীকুলের মধ্যে বিরল)। ধর্মীয় পন্ডিতদের মতে শুকরের মাংস খেলে মানুষের মাঝে উপরে উল্লেখিত রোগ-বালাই ছাড়াও শুকরের অনুরূপ স্বভাব সৃষ্টি হয়। ফলে এরা নিজের স্বামী বা স্ত্রীকে নির্দ্বিধায় অন্যের সাথে পরিবর্তন করে। পাশ্চাত্যের শুকরভোগীদের দ্বারা এরকম ঘটনা অহরহ পত্রপত্রিকায় দেখা যায়।

এর কারণ, ইহুদী ও মুসলমানরা শুকরের মাংস খাওয়া থেকে ধর্মীয় কারণে বিরত থাকলেও, খ্রীস্টানরা এ বাঁধা মানে না। তারা নিউ টেস্টামেন্টের কিছু বাক্যের ভূল ব্যাখ্যা দিয়ে বলছে, ঈসা (আ: ) নিজেই তাওরাতের (বাইবেলের ওল্ডটেস্টামেন্ট) শুকরের মাংস নিষিদ্ধ বিষয়ক নিয়ম ভঙ্গ করেছেন। যেমন, ম্যাথিউ (১৫:১৭) ও মার্কে (৭:১৮-২০) ঈসা (আ: ) বলেছেন, 'তোমরা কি দেখনা? বাইরে থেকে ঢুকে কোন কিছুই মানুষকে অপবিত্র করে না। এটা বাইরে থেকে এসে হৃদয়ে প্রবেশ করে না, পাকস্হলীতে যায় এবং এরপরে বাইরে চলে যায়।' বাইবেল লেখকরা ব্যাখ্যায় বলেছেন 'এর মাধ্যমে ঈসা (আ: ) সব খাদ্য জায়েজ বলে ঘোষণা করেছেন'। অথচ সবাই জানেন (এমনকি খ্রীস্টানরাও, দেখুন ম্যাথিও ৫:১৭-২০, ২৩:২৩), ঈসা (আ: ) কোন নতুন ধর্মীয় নিয়ম আনেননি, তিনি মুসা (আ: ) এর নিয়মগুলো পূন প্রতিষ্ঠার জন্য এসেছেন। তাই শুকর জায়েজ বিষয়ক কথাবার্তা বাইবেল লেখকদের উদ্ভাবন বৈ কিছু নয়।

পরিশেষে বলতে হয়, আজ মানুষ মূলত আল্লাহ প্রদত্ত নিয়ম না মানার কারণেই জীবনের সকল ক্ষেত্রে নানা সমস্যায় পড়ছে। বিশ্বব্যাপী ধূমপান, অবৈধ যৌনতা, মদ ও শুকরের মাংস ভক্ষণের মাধ্যমে বছরে হাজার হাজার লোকের মৃত্যু ও শত শত পরিবার ভেঙ্গে গেলেও এগুলো থেকে মুনাফাভোগীরা ও শয়তানের পদাংক অনুসারীরা কখনও এসব পরিত্যাগ করবে না। আন্তার্জাতিক ভাবে মিডিয়ায় এসবের সর্বনাশী কুফল সেভাবে প্রচার হয়না। রসায়নে ডক্টরেট করা এক বন্ধু বলেছিলেন, এসবের ব্যবসার সাথে জড়িত দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলো বছরে কোটি কোটি টাকা খরচ করে যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারগুলোতে ধূমপান, অবৈধ যৌনতা, মদ ও শুকরের মাংসের কুফলের উপর কোন গবেষণা না হয়। এর পরেও যা হয় সেসবের ফলাফল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তারা মানুষের কাছে পৌঁছতে দেয়না। কিন্তু দায়িত্বশীল মিডিয়া ও প্রতিষ্ঠানের উচিত সাধারণ মানুষদের এব্যাপারে অবশ্যই সতর্ক করা। সরকার ও জনসচেতনমূলক সংস্হাগুলো 'সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: ধূমপান স্বাস্হ্যের জন্য ক্ষতিকর, স্বাস্হ্য মহাপরিচালক' মার্কা দায়সারা বিজ্ঞাপণ দিলে কাজ হবেনা। বরং এর জন্য দরকার এসব নিষিদ্ধকরণ আইন ও সঠিক বাস্তবায়ন। (লেখাটি প্রকাশিত,নয়াদিগন্ত)।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28945248 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28945248 2009-05-02 04:43:52
অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষাঃ তথ্য ও অভিজ্ঞতা লেখাটি প্রকাশিত)

প্রতি বছর অস্ট্রেলিয়াতে উচ্চশিক্ষার জন্য কয়েক লাখ ছাত্রছাত্রী বাইরে থেকে আসে। সরকারি হিসাবমতে, ২০০৩ সালে এ সংখ্যা ছিল ৩ লাখেরও বেশি। বাংলাদেশ থেকেও প্রতি বছর কয়েক হাজার ছাত্রছাত্রী পড়তে আসে। তবে যোগ্যতা থাকলেও উপযুক্ত তথ্যের অভাবে অনেকে ইচ্ছা সত্ত্বেও আসতে পারে না। অনেক সময় দেশ-বিদেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সংস্থা বা মিডিয়ার মাধ্যমে অনেক ছাত্রছাত্রী আর্থিকভাবে প্রতারিত হয়। এ ক্ষেত্রে শুধু অর্থ নয়, তারা নিজেদের জীবনের মূল্যবান সময়ও হারিয়ে ফেলে। এ জন্য দরকার উপযুক্ত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য।
অস্ট্রেলিয়াতে উচ্চশিক্ষার জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাবে দেশটির সরকার নিয়ন্ত্রিত ওয়েবসাইটগুলোতে। কারণ সরকারি ওয়েবসাইটগুলোতে অস্ট্রেলিয়াতে আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখাবিষয়ক বিভিন্ন পরিবর্তন, সংযোজন ও বিয়োজনগুলো নিয়মিত আপডেট করা হয়। এ ছাড়া ‘আইডিপি অস্ট্রেলিয়া’ (International Development Program-Australia) আন্তর্জাতিকভাবে অস্ট্রেলিয়ান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একমাত্র সমন্বিত প্রতিনিধি। বাংলাদেশে এর অফিস ঢাকার গুলশান ২ নম্বর গোলচক্কর থেকে অল্প দূরে কামাল আতাতুর্ক এভিনিউতে। ফোনঃ ৯৮৮৩৫৪৫, ই-মেইলঃ

অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক শিক্ষা সংস্থার ‘স্টাডি ইন অস্ট্রেলিয়া’ হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া সরকারের আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখাবিষয়ক অফিসিয়াল ওয়েবসাইট। এখানে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম, বিভিন্ন বিষয়, পড়ালেখা ও থাকা-খাওয়ার খরচ, বৃত্তি, ভিসা, আবেদন প্রক্রিয়া, থাকা-খাওয়ার সুবিধা ও অস্ট্রেলিয়ায় জীবনযাপন সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। এ ছাড়া প্রতিটি অনুমোদিত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানা যেতে পারে। অস্ট্রেলিয়ায় বা অন্য যেকোনো দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়া দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ব্যাপার। এ জন্য একজন ছাত্র বা ছাত্রীকে অনেক আগে থেকে পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নিতে হয়। সর্বপ্রথম অস্ট্রেলিয়ায় আসার জন্য পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি শুরু করি ২০০৩ সালে। সে সময় ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরে মাস্টার্সের গবেষণা কাজে ব্যস্ত ছিলাম। ভর্তির আবেদনপত্রের সাথে বৃত্তির জন্যও আবেদন করি। কিন্তু প্রস্তুতির অভাবে আমার IELTS (International English Language Testing System) স্কোর আশানুরূপ না হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তির সুযোগ ও থাকা-খাওয়ার বৃত্তি পেলেও সবচেয়ে প্রয়োজনীয় টিউশন ফি ও মেডিকেল ইন্স্যুরেন্স পরিশোধকারী IPRS (International Postgraduate Research Scholarships) বৃত্তি পাইনি। পরের বছর বাংলাদেশ থেকে IELTS-এ প্রয়োজনীয় স্কোর করতে সক্ষম হলে আমি পূর্ণ বৃত্তি লাভ করি।

এখানে স্নাতকোত্তর কোর্সগুলোতে প্রচুর গবেষণা বৃত্তি থাকলেও স্নাতকপূর্ব কোর্সগুলোতে বৃত্তি নেই বললেই চলে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিটি বিষয়ে মোট সিট ও বৃত্তির সংখ্যা নির্দিষ্ট। সাধারণত যেকোনো বিষয়ে বৃত্তিসহ ভর্তির আবেদনকারীকে একই বিষয়ে বৃত্তি ছাড়া ভর্তির আবেদনকারীর চেয়ে কয়েক গুণ বেশি প্রতিযোগিতায় পড়তে হয়। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাধারণত কোনোরূপ পক্ষপাতিত্ব না করে সব আবেদনকারীর মধ্য থেকে তাদের প্রয়োজনীয় সংখ্যক সবচেয়ে ভালো ছাত্রছাত্রীদের ভর্তির সুযোগ দেয় এবং এদের মধ্য থেকে শীর্ষস্থানীয় আবেদনকারীদের নির্দিষ্টসংখ্যক বৃত্তি দিয়ে থাকে।

বৃত্তি না পেলেও এখানে পার্টটাইম কাজের প্রচুর সুযোগ আছে। পার্টটাইম কাজ হিসেবে একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রোগ্রামিং, টিউটরিং, মার্কিং ছাড়াও বাইরে অন্যান্য কাজ করা যায়। ছাত্রছাত্রীরা সাধারণত সাপ্তাহিক ছুটি ও বছর শেষের লম্বা ছুটিতে (নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি) পার্টটাইম চাকরি করে সারা বছরের পড়ালেখার খরচ জোগাড় করে। উল্লেখ্য, স্টুডেন্ট ভিসার শর্ত হিসেবে একজন ছাত্র বা ছাত্রী সেমিস্টার চলাকালে সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারে। বৃত্তিপ্রাপ্তদের জন্য কোথাও (যেমন মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়) সপ্তাহে ১৫ ঘণ্টা। তবে বছর শেষের লম্বা ছুটিতে যে যত খুশি কাজ করতে পারে। অস্ট্রেলিয়াতে উচ্চশিক্ষার জন্য আসার ছয়টি মূল ধাপ আছে। এগুলো হলো­ পড়ার পরিকল্পনা, বিষয় নির্বাচন, ভর্তির আবেদন, ভিসার আবেদন, দেশত্যাগের আগে করণীয় এবং অস্ট্রেলিয়াতে পৌঁছার পর করণীয়।

১. পড়ার পরিকল্পনাঃ সর্বপ্রথম একজন ছাত্র বা ছাত্রীকে দেখতে হবে, তার নিজের ক্যারিয়ারের জন্য কোন ধরনের কোর্স বা বিষয়ে সে আগ্রহী। সে কোন বিষয়ে পড়ালেখা করতে চায়, তার বর্তমান যোগ্যতা কতটুকু, সে যে বিষয়ে আগ্রহী তা শেষ করতে কত সময় লাগবে এবং সর্বোপরি, সে কোথায় এ বিষয়ে পড়তে আগ্রহী তাও ঠিক করা প্রয়োজন। উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়াতে চার ধরনের পড়ালেখার জন্য একজন শিক্ষার্থী আসতে পারে­ বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি, কারিগরি ডিগ্রি, স্কুল-কলেজ এবং ইংরেজি ভাষা শিক্ষা।

এর পর প্রতিটি আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীকে পড়াকালীন খরচের কথা আগেভাগে চিন্তাভাবনা করে পরিকল্পনা করতে হয়। টিউশন ফি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিষয়ভেদে বিভিন্ন হয়। থাকা-খাওয়ার খরচও অস্ট্রেলিয়ায় জায়গাভেদে বিভিন্ন। মনে রাখা প্রয়োজন, ভিসার আবেদনের সময় প্রয়োজনীয় খরচের সামর্থø দেখাতে ব্যর্থ হলে সাধারণত ভিসার আবেদন গ্রাহ্য হয় না। এখানে স্নাতকপূর্ব কোর্সের আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীদের বেশির ভাগ পূর্ণ খরচ দিয়ে পড়ালেখা করে। কারণ স্নাতকপূর্ব কোর্সে আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তির সংখ্যা খুবই সীমিত এবং তাদের জন্য ঋণের ব্যবস্থাও নেই। অনুরূপভাবে ডিপ্লোমা ও অন্য কোর্সগুলোতে বৃত্তি নেই বললেই চলে। তবে স্নাতকোত্তর গবেষণাভিত্তিক কোর্সে বেশ কিছু বৃত্তি আছে, যেমন IPRS, AusAid, গ্র্যাজুয়েট বৃত্তি ইত্যাদি।

২. বিষয় নির্বাচনঃ অস্ট্রেলিয়ার সরকার তাদের যেসব বিষয়ে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীদের সুযোগ দেয, সেগুলো থেকে একজন ছাত্র বা ছাত্রীকে নিজের পড়ার পরিকল্পনা অনুসারে একটিকে বেছে নিতে হয়। সরকারি ওয়েবসাইটে একটি বিষয় বাছাই করার পর এই বিষয়টি যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ আছে, সেগুলোর তালিকা পাওয়া যায়। এখান থেকে এক বা একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাছাই করা যেতে পারে। এর পর দেখতে হবে, এসব বাছাইকৃত প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি পড়ার জন্য একজন ছাত্র বা ছাত্রীর কী কী যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন, খরচ কেমন হবে ইত্যাদি। যোগ্যতার পরিমাপ প্রতিষ্ঠানটির মান ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর নির্ভর করে।

অনেক বিষয়ে (যেমন এমবিএ) ভর্তির জন্য কাজের অভিজ্ঞতা একটি পূর্বশর্ত হতে পারে। এ ছাড়া ভর্তিচ্ছু একজন ছাত্র বা ছাত্রীর আগের একাডেমিক রেকর্ড ও ইংরেজি দক্ষতা (যেমন IELTS) অস্ট্রেলিয়ার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নূøনতম চাহিদার কম হলে সাধারণত ভর্তি, বৃত্তি বা ভিসা কোনোটির আবেদনই বিবেচনা করা হয় না। উল্লেখ্য, বৃত্তির জন্য আবেদন করলে ইংরেজি ভাষায় প্রয়োজনীয় দক্ষতা (IELTS স্কোর) ভর্তির আবেদনপত্রের সাথে পাঠাতে হয়।

৩. ভর্তির আবেদনঃ একজন ছাত্র বা ছাত্রী একাধিক বাছাইকৃত প্রতিষ্ঠানে পৃথকভাবে ভর্তির আবেদন করতে পারে। ভর্তির আবেদনপত্র সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা যায় অথবা প্রতিষ্ঠানের ভর্তি শাখায় যোগাযোগ করলে তারা সাধারণ ‘অ্যাপ্লিকেশন প্যাকেজ’ পোস্ট করে পাঠিয়ে দেয়। পূরণকৃত আবেদনপত্রের সাথে আবেদনকারীকে আগের একাডেমিক রেকর্ডের পূর্ণ বিবরণ (মার্কশিট, ট্রান্সক্রিপ্ট) ও সনদ, ইংরেজি ভাষার যোগ্যতা (যেমন IELTS স্কোর) ও অভিজ্ঞতার সনদ সংযুক্ত করতে হয়। এর পর আবেদনকারী তার আবেনদপত্র সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় এজেন্ট যেমন­ আইডিপি অস্ট্রেলিয়ার (Internationlal Development Program-Australia) মাধ্যমে বা সরাসরি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভর্তি শাখায় পোস্ট করে পাঠাতে পারে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবেদনপত্র পাওয়ার পর আবেদনকারীর যোগ্যতা যাচাই করে তাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফলাফল জানায়।

৪. ভিসার আবেদনঃ একজন আবেদনকারী কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে অফার লেটার পেলে স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে হয়। আবেদনের জন্য নির্ধারিত ফরম পূরণ করে ভিসা আবেদন ফিসহ জমা দিতে হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভিসার জন্য আবেদনের আগে এক সেমিস্টারের টিউশন ফি পরিশোধ এবং অস্ট্রেলিয়ার সরকার অনুমোদিত যেকোনো কোম্পানির সাথে ১ বছরের মেডিক্যাল ইন্স্যুরেন্স করতে হয়। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভর্তির নিশ্চয়তা সনদ (ECOE-Electronic Conformation of Enrolment) ইস্যু করে, যা ভিসার আবেদনপত্রের সাথে জমা দিতে হয়। এ ছাড়া আবেদনকারীকে পড়ালেখার সময় খরচের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ টাকা ব্যাংকে আছে কি না, এর ব্যাংক হিসাব ভিসার আবেদনপত্রের সাথে জমা দিতে হয়। উল্লেখ্য, বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীরা প্রয়োজনীয় খরচের জোগান তাদের বৃত্তি থেকে দেখাতে পারে। প্রাপ্ত বৃত্তি কোন খাতে (টিউশন ফি, মেডিক্যাল ইন্স্যুরেন্স, থাকা, খাওয়া) এবং বছরে কত দেবে তা স্পষ্টভাবে অফার লেটারে উল্লেখ থাকে। অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশন স্টুডেন্ট ভিসার সব যোগ্যতা পূর্ণ হলে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর জন্য প্রি-ভিসা ((Pre-visa) ইস্যু করে। এ সময় নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে একজন অনুমোদিত ডাক্তারের কাছে মেডিক্যাল টেস্ট করাতে হয়। এর পর অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশন স্টুডেন্ট ভিসা ইস্যু করে। উল্লেখ্য, প্রাপ্ত স্টুডেন্ট ভিসায় পার্টটাইম কাজের অনুমতি না থাকলে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছে এজন্য আবেদন করলে সাধারণত অনুমতি পাওয়া যায়।

৫. দেশত্যাগের আগে করণীয়ঃ ভিসা পাওয়ার পর তারিখ ঠিক করে বিমানের টিকিট কিনতে হয়। সাধারণত কোর্স শুরু হওয়ার ১-২ দিন আগে অস্ট্রেলিয়ায় এসে পৌঁছলে চলে। দেশত্যাগ করে নতুন জায়গায় যাওয়ার আগে একজন ছাত্র বা ছাত্রীকে আরো কিছু বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে হয়। যেমন­ অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়ার উপযুক্ত পোশাক জোগাড় এবং প্রাথমিকভাবে থাকা-খাওয়ার জন্য অন্য কারো সাথে আগে থেকে যোগাযোগ করা ইত্যাদি। উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ার প্রায় সব বড় বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (যেমন­ মোনাশ, মেলবোর্ন, সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে) আন্তর্জাতিক অফিস ছাড়াও বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন বা মুসলিম স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন আছে। তাদের সাথে যোগাযোগ করলে কোনো সাহায্যকারী বন্ধু পাওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া অনেক সময় সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিমানবন্দর থেকে রিসিভ করে নিয়ে আসে। এ জন্য প্রতিষ্ঠানকে আগেই জানাতে হয়।

৬. পৌঁছার পর করণীয়ঃ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে কাগজে-কলমে ভর্তির শেষ ফরমালিটি সম্পন্ন করতে হয়। অনেক সময় কোর্স শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামের আয়োজন করে, যেখানে কোর্স সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। নতুন ছাত্রছাত্রীদের এরকম প্রোগ্রামে উপস্থিত থাকা আবশ্যক। এ ছাড়া থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা ঠিকমতো না হলে প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক অফিসে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

ওয়েবসাইট তথ্যসূত্রঃ
1.http://www.goingtouni.gov.au/
2. http://www.studyinaustralia.gov.au/
3. http://www.immi.gov.au/students/index.htm
4. http://www.idp.com/bangladesh/
লেখকঃ অস্ট্রেলিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্ট ডক্টরেট করছেন
E-mail : ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28943034 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28943034 2009-04-27 06:11:10
ছাত্রলীগের অপরাজনীতি রোধে নৈতিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ভূমিকা:
মানুষের মাঝে ভাল-মন্দ দুই গুনাবলীই বর্তমান। জন্মের পরেই একটি শিশুর মাঝে বাবা-মা, পরিবার, পাড়া-প্রতিবেশীর মাধ্যমে ভাল-মন্দের বীজ সর্বপ্রথম অন্কুরিত হয়। পরবর্তীতে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া-লেখার সময় সহপাঠী, বয়োজ্যেষ্ঠ ও শিক্ষকদের মাধ্যমে সে অন্কুর হয় বেড়ে উঠে ফলবান হয় অথবা পরিবেশের প্রভাবে শিশুটির স্বাধীন চিন্তা-চেতনা প্রয়োগের মাধ্যমে সেই আগের অন্কুরের মরণ হয় ও বিপরীতধর্মী একটি বীজের অন্কুরোদগম হয়ে দ্রুত বেড়ে উঠে ফলবান হয়। পরবর্তীতে জীবনের বৃহত্তর অঙ্গনে সে বৃক্ষ ফল দিতে থাকে।

ছাত্রলীগের সাম্প্রতিক কর্মকান্ড:
সব মানুষের ক্ষেত্রে এ বিশেষ প্রাকৃতিক বিষয়টি সত্য হলেও দেশে ক্ষমতাধর আওয়ামী-ছাত্রলীগের ক্ষেত্রে এসময়ে বিষয়টি বেশি চোখে পড়ছে। ক্ষমতার আগে ২৮শে অক্টোবর ২০০৬ সালে ঢাকার রাজপথে লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে সাপের পরিবর্তে প্রতিপক্ষের মানুষ হত্যার রক্ত এখনো মুছে যায়নি। লগি-বৈঠা পরে নিজেদের দলের বিরুদ্ধে একাধিকবার ব্যবহারের নজিরও মিডিয়ায় এসেছে। ক্ষমতা লাভের পরে ছাত্রলীগের সন্ত্রাস এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, মনে হচ্ছে একেবারে নিয়ন্ত্রণহীন! এরা সারাদেশে খুন, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, চুরি-ডাকাতি করেই ক্ষান্ত হয়নি, ইতিমধ্যে এদের কারণে দেশের বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। রাবি, ঢামেক, ঢাবি, চবি, জবি, জাবিতেসহ দেশের বিভিন্ন কলেজে এরা শুধু প্রতিপক্ষের ছাত্রদের যখম ও খুন করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং এরা নিজেদের দলের ছাত্রদেরও প্রতিপক্ষ বানিয়েছে হীন স্বার্থের জন্য। কয়েকদিন আগে খুন হয়েছেন ঢামেকর এক ছাত্র যিনি ছাত্রলীগের একটি গ্রুপের সম্পাদক। খবরে প্রকাশ, মেডিকেল কলেজ ও এলাকায় মাদক ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণের লড়ায়ের জের ধরে এ হত্যাকান্ড।

এবার আসুন পত্রিকা থেকে লীগের কিছু সাম্প্রতিক কাজের নমূনা দিয়ে এর নেতৃবৃন্দ ও শুভাকাঙ্কীদের ব্যর্থতা তুলে ধরব।

ক) ঘটনা ১: - লক্ষ্মীপুরে কিশোরী ধর্ষণ
২ এপ্রিলের দুটি পত্রিকার দুটি সংবাদ পড়ে আজকের এই লেখাটির অবতারণা করার ইচ্ছা হয়েছে। প্রথমটি হচ্ছে (প্রথম আলো), লক্ষ্মীপুরে যুব, ছাত্র ও তরুণলীগের নেতাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা। লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার বামনীতে এক প্রবাসীর কিশোরী মেয়েকে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক ইউসুফ আজম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে একদল যুবক গত শুক্রবার রাতে ওই কিশোরীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে পাশের সুপারি বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে ইউসুফ আজম (২৮), ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বেল্লাল হোসেন (৩৫), উপজেলা তরুণলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সুজন কুমার ঘোষ (২৫) ও উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি মুকুল পাটওয়ারী (৩৫) ও অজ্ঞাত এক যুবক। এ নিয়ে আইনের আশ্রয় নিলে আরও খারাপ পরিণতির হুমকি দেওয়ায় তার পরিবার ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। মেয়েটি বলে, ‘ধর্ষকেরা ঘটনার পর থেকে পুলিশি সহযোগিতা না নেওয়ার জন্য আমাদের শাসিয়েছে। আমার ওপর অমানুষিক ও বর্বর নির্যাতনের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’

খ) ঘটনা ২: - বগুড়ায় হিন্দুদের বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ
দ্বিতীয় ঘটানাটি, স্বাধীনতা বিরোধী হিসেবে জামাত-শিবিরকে যুদ্ধাপরাধের জন্য দায়ী করা হলেও, নয়াদিগন্ত পত্রিকায় (২ এপ্রিল) দেখলাম, বগুড়ায় আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ মামলা করেছেন এক হিন্দু। বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগ সহসভাপতি আকবর আলীর (৬৫) বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে হিন্দুদের বাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটের মামলা হয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ১৯৭১ সালে শান্তি (পিস) কমিটির অন্যতম নেতা ছিলেন আকবর আলী। তিনি পূর্ব একডালা গ্রামের লালমন প্রামাণিকের পুত্র। ১৯৭১ সালের ১৭ মে আকবর আলী পাকিস্তানি হানাদার সৈন্য ও রাজাকারদের সাথে নিয়ে ধোন্দার হিন্দুপাড়ায় চৈতন্য দাসের বাড়িতে হামলা ও লুটপাট শেষে অগ্নিসংযোগ করেন। বাদি চৈতন্য দাস প্রাণভয়ে পাশে দুপচাঁচিয়া উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামে আশ্রয় নেন। মামলায় বলা হয়, আকবর আলী পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর লুট, ধর্ষণ ও হত্যায় সহযোগিতা করেছেন। আসামী নিজেই স্বীকার করেছেন, ১৯৭১ সালের আগে তিনি ছাত্রলীগে ছিলেন।

দ্বিতীয় ঘটনাটি সরকার বিরোধী পত্রিকায় আসলেও, ২০০৭ সালে জানুয়ারীর ২৯-৩০ তারিখে ৭১ এ যুদ্ধাপরাধের তালিকায় পরিচিত অনেক নামের সাথে ততকালীন আওয়ামীলীগের কয়েকজন নেতা ও ৭০ সালের নির্বাচনে জেতা আওয়ামী সাংসদদের নামও এসেছিল। সে সময় এ ফিচারটি ব্যাপক ঝড় তুলেছিল। দু:খের বিষয়, সংখ্যা দুটি এখন আর প্রথমআলোর অনলাইন আর্কাইভে নেই।

হিন্দুদের উপর অত্যাচার-নির্যাতন ও তাদের সম্পত্তি দখলের সাথে আওয়ামীলীগের নেতারা সহ অন্য অনেকেই করেছেন। তবে ধর্মভিত্তিক দল জামাতের উপর মিডিয়া বড় বেশি নাকোশ মনে হয়। চট্টগ্রামের বিপ্লবী বিনোদ বিহারী (বয়স ৯০ এর অধিক) ৭১ সালে আওয়ামীলীগের অনুরূপ কাজকর্ম ও সিটি মেয়র মহিউদ্দীন চৌধুরী কর্তৃক শহরে হিন্দুদের জমি দখলের প্রতিবাদে বিগত মেয়র ও সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগকে পরাজিত করার লক্ষ্যে প্রতিদ্বন্ধিতা করতে চেয়েছিলেন বলে খবরে প্রকাশ পেয়েছে।

গ) পিলখানার ঘটনায় লীগ!
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুটি কথা না বললেই নয়। সাম্প্রতিক পিলখানায় বিডিআর কর্তৃক সেনাবাহিনীর ৬০ জনেরও বেশি চৌকস অফিসার হত্যার পেছনে সরকার ও তাদেরকে ক্ষমতায় আনা প্রতিবেশী ভারতের হাত রয়েছে বলে অনেকেই মনে করেন। উল্লেখ্য, মহান মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস সময়ে আমাদের সর্বমোট অফিসার শহীদ হয়েছেন ৫৪ জন। মাত্র ৩৩ ঘন্টায় প্রায় ৬৫ জন অফিসার হত্যার পেছনে নিশ্চয় বড় ধরনের ষড়যন্ত্র আছে। বিরোধীদল ও মিডিয়া ইতিমধ্যে ঘটনার আগে-পরে সরকারের কতিপয় এমপি ও আওয়ামী নেতাদের (যুবলীগ নেতা সাংসদ মির্যা আযম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, স্বরাষ্ট্রমণ্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী) কর্মততপরতা থেকে সন্দেহের তীর সরকারের প্রতি তাক করেছে। এছাড়া বার বার কথা দিয়েও ঘটনার সময় প্রধানমন্ত্রীর সেনাবাহিনী অভিযানের অনুমতি না দেয়া, ঘটনার সময় প্রধানমণ্ত্রী কর্তৃক সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা (যা বিদ্রোহীদের হত্যায় উতসাহ দিয়ে থাকতে পারে) ও ঘটনার পরে ৮-১০ হাজার বিডিআর কে ৫ নং গেইট দিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যেতে সহায়তা করার অভিযোগ উঠেছে সরকারের ও আওয়ামী-ছাত্রলীগের নেতাদের উপর। অধিকন্তু ঘটনার সময় ছাত্রলীগ ও বাম ছাত্রদলগুলোর নেতা কর্মীরা বিদ্রোহী বিডিআরদের সমর্থন দিয়ে পিলখানার আশে-পাশে মিছিল করেছে। ঠিক ঘটনার সময় কোন তথ্যের ভিত্তিতে তারা বিদ্রোহী বিডিআর খুনীদের সমর্থন করেছে তা অবশ্যই সন্দেহযুক্ত। তার মানে কি তারা আগে থেকে ঘটনার পরিকল্পনা সম্পর্কে ইংগিত পেয়েছিল? সর্বশেষ, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সাথে প্রাক্তন বিডিআর সুবেদার ও স্হানীয় আওয়ামীলীগের ওয়ার্ড সভাপতি তোরাব আলীর প্রত্যক্ষ সম্পর্ক এখন পরিস্কার। তার ছেলে শীর্ষ সন্ত্রাসী লেদার লিটন একাধিকবার র‌্যাবের হাতে ধরা পড়লেও ভোটের পরপরই জেল থেকে গোপনে মুক্তি ও এরপরেই পিলখানার ঘটনায় তার নেতৃত্বে হত্যাকান্ড হয়েছে বলে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।

ঘ) ব্যর্থ সুশীল সমাজ!
এরও আগে দেশের নামকরা পত্রিকার একাধিক বাঘা বাঘা সম্পাদক ও কলামিস্ট এবং সুশীল সমাজ শুভাকাঙ্খী হিসেবে সরকার ও আওয়ামী-ছাত্রলীগকে উপদেশ দিয়ে কোন ফল হয়নি। অবস্হাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, সরকার পরিস্হিতি নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে দায়িত্ব এড়াতে ব্যস্ত। একটি প্রথমসারির পত্রিকার সম্পাদকের অনুযোগ-অনুরোধ উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রী উষ্মা করে বলেছিলেন, তাঁর সরকার এখনো শিশু, এসব ঠিক করতে সময় লাগবে অথচ কেউ সরকারকে সময় দিতে প্রস্তুত নয়। সম্প্রতি সংসদে এক মণ্ত্রী বলেছেন, ছাত্রলীগের মধ্যে নতুনভাবে অনুপ্রবেশকারীরা এসব করছে। অথচ বিভিন্ন মিডিয়ার খবরে নিশ্চিত করে বলা যায় মণ্ত্রীর কথা সত্য নয়। প্রধানমণ্ত্রীর কথায় মনে হচ্ছে, আওয়ামী-ছাত্রলীগের লোকজন গত পাঁচ বছর উপোস ছিলেন, এখন সবে মাত্র খাদ্য পেয়েছেন। এক্ষনে গোগ্রাসে না গিললে ক্ষমতা প্রাপ্তিটা একান্তই বৃথা! তাঁদের মনে রাখা উচিত, ৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর করুণ পরিণতির জন্য তাদের এই খায়-খায় স্বভাব অনেকটা দায়ী। সেই নারকীয় হত্যা কান্ডের আগে বঙ্গবন্ধুর ছেলেদের দ্বারা একাধিক ব্যাংক লুট, সেনাকুন্জ থেকে এক উচ্চপদস্হ আর্মি অফিসারের স্ত্রীকে অপহরণ, ও আওয়ামী নেতাদের গমচুরি, কম্বলচুরি উল্লেখযোগ্য। ৯৬-০১ সালে ক্ষমতার পরে ২০০১ সালের ভরাডুবিও একই কারণে।

ঙ) অবশেষে হাসিনার সারেন্ডার!
ইতিমধ্যে শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক প্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। এতো চেষ্টা করেও যখন ছাত্রলীগকে থামানো গেলনা, তখন অনেকের মতে অনেকটা অভিমান করে নেতৃ সরে গেলেন, যদি এতে কাজ হয়। পরের দিন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের বৈঠকে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সেক্রেটারী বিক্ষোভের মুখে বৈঠক ত্যাগ করেন। পরে ১০১ নেতা সংবাদ সম্মলেনে কিছু দাবীদাওয়া পেশ করেন।


নৈতিক শিক্ষা ও আমাদের শিক্ষা ব্যবস্হা:
লেখার শুরুতে, শিশুদের ভালো-মন্দের শিক্ষা তথা নৈতিক শিক্ষার কথা বলছিলাম। আমাদের সাধারণ শিক্ষাব্যবস্হা সহ বেশিরভাগ ছাত্রসংগঠনের আভ্যন্তরীন শিক্ষা ও অনশীলন ব্যবস্হায় নৈতিক শিক্ষার কোন গুরুত্ব নেই, থাকলেও উল্লেখযোগ্য নয়। তাদের কোন সভায় নেতারা তাদের কর্মীদের ভাল কাজের হিসেব যেমন নামাজ-রোজা করে কিনা হিসেব নেন বলে কারো জানা আছে কিনা জানি না। মনে রাখা উচিত, ধর্ম তথা নৈতিক শিক্ষার আলো ছাড়া কখনো একটি সত ও যোগ্য দল গড়া সম্ভব নয়। ছাত্রলীগের সৃষ্টি থেকে আজ পর্যন্ত একই ধারা অব্যাহত রয়েছে বলে এর অতীত ও বর্তমান বৃক্ষ ও ফল একই। দেশের হাতে গুনা দু'একটি দল ছাড়া অন্য সকল দলের ক্ষেত্রেও বিষয়টি সমভাবে প্রযোজ্য। বিগত জোট সরকারের পতনের পেছনে জোটের বৃহত্তম দলটির নির্বিচারে নৈতিকতার সীমালঙ্গন দায়ী।

অথচ অতীত থেকে শিক্ষা না নিয়ে বর্তমান সরকার নৈতিক শিক্ষার প্রতি তাদের স্বভাবসুলভ বিদ্বেষ পোষণ করে ধর্মহীন শিক্ষা ব্যবস্হা চালু করার কথা জোর গলায় বলছেন। ৭২ সালের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান চালুর জন্য তোড়জোড়ও এরমধ্যে শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের সকল সরকারী-বেসরকারী মাধ্যম থেকে নৈতিক শিক্ষার যতসামান্য আজ চোখে পড়ছে সবই বন্ধ হয়ে যাবে। যেসকল দল আভ্যন্তরীণভাবে নৈতিকতার অনুশীলন করেন তারাও আইনগত সংকটে পড়বেন - সন্দেহ নেই। আর ৭৫ এর আগের কুদরত-ই-খুদা কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী একমুখী ধর্মহীন শিক্ষাব্যবস্হা প্রতিষ্ঠা হলে সরকারের পক্ষে মক্তব-মাদ্রাসাগুলোও বন্ধ করতে আইনগত সকল বাঁধা দূর হয়ে যাবে।

গত বছরের শেষের দিকে ঢাবি-রাবি সহ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খোঁড়া অজুহাতে মাদ্রাসা ছাত্র ভর্তি বন্ধের অপচেষ্টা করা হয়। সম্প্রতি বিভিন্ন ঘটনায় মিডিয়ায় মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ব্যাপক অপপ্রচারের মাধ্যমে জনমতও গঠন করা হচ্ছে। উদাহরণ স্বরূপ, গ্রীন-ক্রিসেন্ট নামক ব্রিটিশ এনজিওর এতিমখানাকে মাদ্রাসা ও জঙ্গীঘাঁটি বলে অপপ্রচার চালানো হয়। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনাকেও একই উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসবের মধ্যে সরকারের একমণ্ত্রী সংসদে মাদ্রাসা শিক্ষাকে নিয়ন্ত্রণ করারও ঘোষণা দিয়েছেন। ভাবখানা এমন, দেশের সকল সন্ত্রাস ও জঙ্গী সমস্যার জন্য মক্তব-মাদ্রাসাগুলো দায়ী। অথচ, বাস্তব অভিজ্ঞতা এ তথ্য স্বীকার করে না। দেশে সরকারীভাবে এ পর্যন্ত যত শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম ঘোষিত হয়েছে তার মধ্যে একজনও মাদ্রাসা শিক্ষিত নেই। দেশের বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা নিত্য সন্ত্রাসের সাথে জড়িত তাদের কেউ মাদ্রাসা শিক্ষিত কিনা জানা নেই। এমনকি লেখার শুরুতে উল্লেখিত আওয়ামী-ছাত্রলীগের এখনকার সবচেয়ে আলোচিত সন্ত্রাস ও হত্যায় মাদ্রাসার কেউ তাদের সহযোগী হয়ে অংশগ্রহণ করেছে কিনা খোদ আওয়ামী-ছাত্রলীগও স্বীকার করবে না। তাহলে কেন সরকারের বাস্তবতা ও সত্যবিরোধী পদক্ষেপ?

উপসংহার:
আমাদের শিক্ষা ব্যবস্হা সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে, তবে তা নৈতিক শিক্ষাকে উপেক্ষা করে নয়। নৈতিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করে আধুনিক শিক্ষা সংযোজনের মাধ্যমে একমুখী শিক্ষা ব্যবস্হা চালু করতে হবে। এর মাধ্যমে একজন শিশু বড় হয়ে একজন বড় ডাক্তার, ইন্জিনিয়ার, আইনবিদ বা ব্যবসায়ী হওয়ার পাশাপাশি নৈতিকমান সম্পন্ন মানুষ হওয়ার সুযোগ পাবে। এরফলে এসকল শিশু পরিণত বয়সে ভাল-মন্দের পার্থক্য সহজে বুঝতে পারবে এবং কার্যত দেশের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব জায়গা থেকে খুন, মাদকসেবন, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, চুরি-ডাকাতি ও ধর্ষণ বন্ধ হয়ে যাবে। তাই আসুন, নৈতিক শিক্ষা সম্বলিত একমূখী শিক্ষা ব্যবস্হার মাধ্যমে আমরা সন্ত্রাসমুক্ত একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার দিকে মনোযোগী হই।

(লেখাটি প্রকাশিত)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28935602 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28935602 2009-04-09 05:51:54
বিডিআরকে শেষ পর্যন্ত রক্ষীবাহিনীতে রূপান্তরের চক্রান্ত?
২ এপ্রিলে প্রথম আলো পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠার 'বিডিআর পুনর্গঠনে সহায়তা দিতে প্রস্তুত ভারত' শীর্ষক লেখাটি পড়ে চিন্তাশীল মহলে আজ এমন প্রশ্ন জাগছে - বিডিআর কি ক্রমে ভারত ও আওয়ামীলীগের অনুগত রক্ষিবাহিনীতে পরিণত হবে। দিল্লিতে বিডিআর-বিএসএফের শীর্ষ বৈঠক শেষে বিডিআর পুনর্গঠনে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। নয়াদিল্লিতে দুই বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক শেষে গত বুধবার (১ এপ্রিল) এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিএসএফের প্রধান এম এল কুমায়াত বলেন, ‘বিডিআর পুনর্গঠনে বাংলাদেশ সরকারকে সব ধরনের সহায়তা দিতে আমরা প্রস্তুত।’ সংবাদ সম্মেলনে বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনার পর ভারতের ভূমিকার জন্য বিএসএফকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিডিআরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মইনুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সংকটের সময় বিএসএফ বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছে। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতেও তাদের এ ভূমিকা অব্যাহত থাকবে।’

কি আশ্চর্য কথা! আজ দেশের সকলে জানেন, পিলখানার ঘটনায় কারা বিদ্রোহী ও হন্তারক, আর কারা ভিক্টিম ও ক্ষতিগ্রস্হ। এ ঘটনা দেশী-বিদেশী মিডিয়ায় প্রথমদিকে বিডিআরের দাবী-দাওয়া নিয়ে কলহ হিসেবে প্রচার পেলেও পরে প্রায় ৬৫ জন সেনাকর্মকর্তা হত্যা কান্ডের পরে সকলে নিশ্চিত হন এটা নিচক ভাইয়ে-ভাইয়ে কোন কলহ নয়, বরং অনেকদিন আগে করা একটি সুচতুর বিদেশী গোয়েন্দা দলের পরিকল্পনার ফসল, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার আতন্দ্র প্রহরী এই বিডিআর-সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করার পরিকল্পনা করা হয়। এখন ক্রমে তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

পিলখানার ঘটনায় যেহেতু সেনাবাহিনী ভিক্টিম ও ক্ষতিগ্রস্হ, সে জন্য ভারতের প্রস্তাব হওয়া উচিত ছিল, ‘সেনাবাহিনী পুনর্গঠনে সহায়তা দিতে প্রস্তুত ভারত’। বিডিআর মহাপরিচালকের কথানুসারে ঘটনাটি ‘বিডিআর বিদ্রোহ’ হলে, বিডিআর (কতিপয় জওয়ান) অবশ্যই বিদ্রোহী। অথচ ঘটনার শুরু থেকে আজ পর্যন্ত ভারতের প্রভাবাধীন দেশের সংখ্যাগরিষ্ট মিডিয়ায় বিডিআরকে পরোক্ষভাবে ভিক্টিম হিসেবে চিত্রায়িত করা হচ্ছে ও প্রকৃত ভিক্টিম সেনাবাহিনীর ও তাদের পরিবারের কোন সংবাদ না দিয়ে বিডিআরের প্রতি দেশবাসীর সহানুভুতি আদায় করা হচ্ছে। এক্ষণে নয়াদিল্লিতে দুই বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে বিএসএফ কর্তৃক বিডিআর পূনর্গঠনের প্রস্তাবের মাধ্যমে ভারত, বাংলাদেশ সরকার ও ভারতের আজ্ঞাবহ মিডিয়ার গোপন অভিলাষ প্রকাশ হয়ে যাচ্ছে।

বাস্তবে সেনাবাহিনীর চৌকস অফিসারদের নেতৃত্বে বিডিআর সীমান্তে অহরহ বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশী মানুষ হত্যা, কৃষকদের জমির ফসল ও গবাদি পশু লুট ও বাংলাদেশ সীমান্ত বিভিন্ন গ্রাম ও বঙ্গোপসাগরে জেগে উঠা দ্বীপ দখলের বিরুধ্বে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। ১৯৯৮ সালে রৌমারীর ঘটনায় সেনাবাহিনীর এক মেজরের নেতৃত্বে বিএসএফের দখলে থাকা বাংলাদেশের একটি গ্রাম মুক্ত করেছিল এই বিডিআর। পরে ভারতের চাপে তখনকার আওয়ামী সরকার সে গ্রাম শুধু ফিরিয়েই দেয়নি, বরং সে সেনাবাহিনীর অফিসারকে পুরুস্কার স্বরূপ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণে এই বিডিআর এমনিভাবে দেশের জন্য সফলভাবে কাজ করে যাচ্ছে। রৌমারীর ঘটনার পর থেকে ভারতের পরিকল্পনা কিভাবে বিডিআরকে বশে আনা যায়। পিলখানার ঘটনার মাধ্যমে সেনাবাহিনী-বিডিআরকে মুখোমুখী দাঁড় করিয়ে ভাইয়ে-ভাইয়ে যুদ্ধে এদেরকে পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন করে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষাকে দূর্বল করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিডিআরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মইনুল ইসলামের ‘জ্বি হুজুর’ টাইপের মন্তব্য দেখে মনে হচ্ছে মানসিকভাবে নবনিযুক্ত ডিজি সাহেব কতটা পরাজিত। সকলে জানেন, পিলখানার ঘটনার সময় বিএসএফ বিডিআর ও দেশের সকল বিডিআর সদরে মোবাইলে মেসেজ দিয়ে উত্তেজিত করেছিল তাদেরকে যেন বিডিআর রক্ষায় আমন্ত্রণ জানানো হয়। পরে ভারতের টেলিগ্রাফ পত্রিকায় বাংলাদেশে ভারতের শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানোর ভারত সরকারের একটি পরিকল্পনার কথাও প্রকাশ পায়। তাই বিডিআরের ডিজি সাহেবের মন্তব্য হওয়া উচিত ছিল, রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মতো, ‘সীমান্ত অতিক্রম করার দু:সাহস যদি বিএসএফ দেখাতো, তবে তার পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ হতো’।

উল্লেখ্য, পাঠকের জ্ঞাতার্থে, মহান মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস সময়ে আমাদের সর্বমোট অফিসার শহীদ হয়েছেন প্রায় ৫৪ জন। পিলখানার ঘটনায় মাত্র ৩৩ ঘন্টায় প্রায় ৬৫ জন অফিসার হত্যার পেছনে ষড়যন্ত্র থাকার যে আশংকা দেশের মানুষ করছে তা আজ প্রকাশ হয়ে যাচ্ছে। বিরোধীদল ও কিছু দেশপ্রেমিক মিডিয়া ইতিমধ্যে ঘটনার আগে-পরে সরকারের কতিপয় এমপি ও আওয়ামী নেতাদের (যুবলীগ নেতা সাংসদ মির্যা আযম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, স্বরাষ্ট্রমণ্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী) কর্মততপরতা থেকে সন্দেহের তীর সরকারের প্রতি তাক করেছে। এছাড়া বার বার কথা দিয়েও ঘটনার সময় প্রধানমন্ত্রীর সেনাবাহিনী অভিযানের অনুমতি না দেয়া, ঘটনার সময় প্রধানমণ্ত্রী কর্তৃক সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা (যা বিদ্রোহীদের হত্যায় উতসাহ দিয়ে থাকতে পারে) ও ঘটনার পরে ৮-১০ হাজার বিডিআর কে ৫ নং গেইট দিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যেতে সহায়তা করার অভিযোগ উঠেছে সরকারের ও আওয়ামী-ছাত্রলীগের নেতাদের উপর। অধিকন্তু ঘটনার সময় ছাত্রলীগ ও বাম ছাত্রদলগুলোর নেতা কর্মীরা বিদ্রোহী বিডিআরদের সমর্থন দিয়ে পিলখানার আশে-পাশে মিছিল করেছে। ঠিক ঘটনার সময় কোন তথ্যের ভিত্তিতে তারা বিদ্রোহী বিডিআর খুনীদের সমর্থন করেছে তা অবশ্যই সন্দেহযুক্ত। তার মানে কি তারা আগে থেকে ঘটনার পরিকল্পনা সম্পর্কে ইংগিত পেয়েছিল? সর্বশেষ, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সাথে প্রাক্তন বিডিআর সুবেদার ও স্হানীয় আওয়ামীলীগের ওয়ার্ড সভাপতি তোরাব আলীর প্রত্যক্ষ সম্পর্ক এখন পরিস্কার। তার ছেলে শীর্ষ সন্ত্রাসী লেদার লিটন একাধিকবার র‌্যাবের হাতে ধরা পড়লেও ভোটের পরপরই জেল থেকে গোপনে মুক্তি ও এরপরেই পিলখানার ঘটনায় তার নেতৃত্বে হত্যাকান্ড হয়েছে বলে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। অভিযোগ আছে, লেদার লিটন দেশে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের সময় পালিয়ে ভারতে চলে যায়। সেখানে বসবাস করে, বিভিন্ন ব্যবসা করে ও মোবাইলে তার সাঙ্গপাঙ্গ দিয়ে স্বদেশে চাঁদাবাজি করে। এমনকি তার ভারতীয় পাসপোর্ট আছে এমনও অভিযোগ আছে। সময় মতো দেশে

মোটকথা, আজ প্রমাণিত পিলখানার ঘটনা সেদিন ভাইয়ে-ভাইয়ে কোন কলহ ছিলনা। বরং প্রতিবেশী ভারতের বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নস্যাত করার সুদুর প্রসারী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ। আর এর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় রয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়া দেশের সর্ববৃহত দলটির বর্তমান সরকার। তাই বিএসএফ কর্তৃক বিডিআর (যারা বাস্তবে সীমান্তে পরস্পরের প্রতিপক্ষ!) পূনর্গঠনের প্রস্তাব বাস্তবতার নিরিখে অন্তসারশূন্য। এর মাধ্যমে বিডিআরকে সেনাবাহিনীর অধীনতা থেকে মুক্ত করে বিএসএফের হাতে পূনর্গঠনের দায়িত্ব ‘বাঘে-মহিষে এক ঘাটে জল খাওয়া’র মতোই একটি ব্যাপার। ব্যাপারটি সম্ভব হতে পারে, যদি বিডিআর ডিজির মতো বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট সবাই ‘জ্বি হুজুর’ মার্কা হন, যেমনটি ঐতিহাসিক ভাবে আওয়ামীলীগ ও তার সরকার। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা দূর্বল হয়ে যাবে ও বাংলাদেশ সহজে ভারতের অনুগত আরেকটি নেপাল বা ভূটান হয়ে যাবে। কপাল আরো বেশি খারাপ হলে, কাশ্মীর হওয়াটা বিচিত্র নয়। (লেখাটি প্রকাশিত)।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28934654 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28934654 2009-04-07 05:17:54
দুদক ও আলোর নির্বাচনী এজেন্ডা : জমিরুদ্দীনের সংসদ-কর্মী বনাম হাসিনার গণভবন
নির্বাচনের আগে যেখানে সরকার, হাইকোর্ট, দুদক সকল নামী-বেনামীদের জেলমুক্ত করে নিষ্পাপের সার্টিফিকেট দিচ্ছে, সে মুহুর্তে হঠাৎ করে সিঙ্গাপুরে কোকোর পাচারকৃত টাকার ব্যাপারে দুদক কর্তৃক মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশে অনেকে দুদকের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ১৯ তারিখ পত্রিকায় লিড নিউজ হিসেবে আসার পরদিন থেকেই হাসিনা ও আওয়ামীলীগ মোক্ষম অস্রটি একাধিক নির্বাচনী সমাবেশে প্রয়োগ করেছেন। অন্যদিকে কোকোর বিরুদ্ধে দুদকের এই ঘোষণার পরে বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যরিস্টার রফিকুল হক বা আইনজীবী ব্যরিস্টার মাহবুব উদ্দীনের ডিফেন্সিভ বক্তব্য প্রথমআলো কাভারেজ দেয়নি। প্রথমআলোর নির্বাচনী মিশন স্পষ্ট হয়ে যায় যখন পরের দিন কোকোসিমেন্স নিয়ে দুটি মূল লিড নিউজ ছাপে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে।

আজকের প্রথমআলো স্পীকার জমিরুদ্দীন সরকারকে নিয়ে মূল লিড নিউজটি ছাপিয়েছে - যার টাইটেল - "নির্বাচনী প্রচারে জমিরুদ্দীনের স্পীকারগিরি"। যেকোন সচেতন পাঠক দেশের একটি প্রধান দৈনিকের সামান্য সৌজন্যতাবোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন নি:সন্দেহে। পুরো রিপোর্ট পড়ে যা বুঝলাম, তিনি সংসদের দুজন কর্মচারীকে রেখে নির্বাচনী প্রচারে আচরণবিধি লঙ্গন করেছেন। 'স্পীকারগিরি' শ্লেষাত্মক শব্দটা তাও পঞ্চগড়ের এক মানুষের, হয়তো জমিরুদ্দিন বিরোধী কারো। তা নিরপেক্ষতার দাবীদার দৈনিকের মূল লিড নিউজের হেডিং হয় কিভাবে? তারা এরকম নিউজ লেখে জামাতীদের বিরুদ্ধে। কিভাবে তা একজন স্পীকারের বিরুদ্ধে আসে? জমিরুদ্দিন প্রকাশ্যে ইসির অনুমতি নিয়েই নির্বাচন করছেন। একজন কারেন্ট স্পিকারকে ন্যুনতম সন্মান দেওয়াও কি প্রথমআলোর নির্বাচনী এজেন্ডার ব্যত্যয় ঘটাবে?

প্রথমআলো ভুলে গেছে, তার নেত্রী হাসিনার কথা। ২০০১ সালে নির্বাচনের আগে তত্ত্ববধায়ক সরকার ক্ষমতা নেয়ার সময় হাসিনা গণভবন দখল করে নেন। তিনি দাপটের সাথেই সাংবাদিকদের কাছে পূর্ণ আস্থা সহকারে দাবি করেছেন যে, যদ্দিন তিনি রাজনীতি করবেন তদ্দিন গণভবনেই থাকবেন। পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হওয়ার নিশ্চিত ব্যবস্থা করেই তো তিনি অল্পদিনের জন্য ক্ষমতা হস্তান্তর করেছেন! তাই তিন মাস পরই আবার তাকে যখন গণভবনে আসতেই হবে, তখন খামাখা তল্পিতল্পা নিয়ে যাওয়া-আসার প্রয়োজন কি?

আর হাসান মশহুদের দূর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কথা ভুলেও প্রথমআলোতে আসবে না। কারণ, মতি-মাহফুজ-মশহুদ-ফখরুদ্দিন সবাই এখন সরকারী লোক। তারা ঘন ঘন একে অপরের প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করেন সরকারী প্রয়োজনে! কেউ সরকারী গাড়িতে, কেউ বা ব্যক্তিগত গাড়িতে; কেউ পতাকা নিয়ে, কেউ বা পতাকা ছাড়া, এই যা পার্থক্য!

আমার এক বিএনপি সমর্থক বন্ধুর সাথে একবার ঝগড়া হলো প্রথমআলোর নিরপেক্ষতা নিয়ে। বেচারা আমাদের অনেকের মতো পত্রিকাটির দারুণ ভক্ত। তার মতে, প্রথমআলো পুরোপুরি নিরপেক্ষ, জামাতের বিরুদ্ধে লিখলেও বিএনপি-আওয়ামীলীগের মধ্যে কোন পার্থক্য করে না। বন্ধুটি আজ আমার কাছে নেই, দূরে থাকে। আমার এই পোস্টটি পড়লে তার কি প্রতিক্রিয়া হবে জানি না।

বিএনপির মনে রাখা উচিত, ২০০১-০৬ এই পাঁচ বছরে এরকম প্রপাগান্ডার মাধ্যমেই এরা বিএনপি ভেঙ্গে এলডিপি, বিএলডিপি, বিকল্পধারা, সংস্কারবাদী গঠন করেছে। ধানের শীষের খাস ভোটারদের অনেকে নৌকায় সিল মারবে এবারের নির্বাচনে।

একদিনে এগুলো হয়নি। আসন্ন নির্বাচনে তারা এর ফাইনাল ফল পাওয়ার জন্য এখন মরিয়া হয়ে ভদ্রতার ন্যূনতম সীমা না রেখেই প্রপাগান্ডার স্তুপ করে ফেলছে ওরা। প্রতিদিন আলোতে চোখ রাখুন, শুধু বিটিভি বা আওয়ামীলীগ সমর্থিত টিভি চ্যানেল নয়, বিএনপির চ্যানেল গুলোর উপরও চোখ রাখুন। অন্ধকার আপনাদের দৃষ্টিগোচর হবেই।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28886645 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28886645 2008-12-23 11:07:15
এটাই কি মগবাজারে আটক জয় সম্পর্কীয় সেই লিফলেট? Stemming the rise of islamic extremism in bangladesh শীর্ষক এই থিসিসের উপর একটি রিভিউ লেখা ইতিমধ্যে ব্লগে পোস্ট করেছি। গতকাল পত্রিকায় দেখতে পেলাম কিছু নিরীহ বুয়েটের ছেলেকে আওয়ামীলীগের লোকজন ধরে পূলিশে দিয়েছে জয়ের লেখার বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করার উদ্দেশ্যে লিফলেট বিলি করতে গিয়ে। আমিও একটা লিফলেট পেলাম এবং কেউ কি বলতে পারেন এটা সেই লিফলেট কিনা?

লিফলেটে উল্লেখিত কথাগুলো জয়ের থিসিসের সাথে সঠিকভাবে সম্পর্কিত হলে দেশের মানুষ উপকৃত হবে - এতে সন্দেহ নাই, তা জয় বা আওয়ামীলীগের পক্ষে বা বিপক্ষে যাই হউক। যদি বিপক্ষে হয়, তাহলে দেশের মানুষ ও সেনাবাহিনী সম্পর্কে যে কথা গুলো সারা বিশ্বের মানুষের কাছে প্রচার করা হচ্ছে, তা এদেশের মানুষের কাছে প্রচার করতে সমস্যা কোথায়? সমস্যা হলে বুঝে নিতে হবে, জয় ও আওয়ামীলীগের দূর্বলতা আছে। এর আগের লেখায় জয়কে লেখক বাংলাদেশের আহমেদ সালাবী বলেছেন। তাহলে কি লেখকের কথায় সত্য? তবে দেশের মানুষকে বাংলাদেশকে ইরাক বানানোর পূর্বে সতর্ক করা অবশ্য প্রয়োজন।
















লিফলেটটি:

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং তার দোসরদের চিনে রাখুন, প্রত্যাখ্যান করুন

শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় সম্প্রতি কার্ল জে· সিওভাক্কো নামক ইরাকে গণহত্যাকারী এক হানাদার মার্কিন সেনা-সদস্যের সাথে মিলে বাংলাদেশকে আমেরিকার লুটপাটের ক্ষেত্র বানানোর এক নীলনকশা তৈরী করেছেন। সম্প্রতি আমেরিকায় এই নীল নকশাটি প্রণীত ও প্রকাশিত হয়েছে। দেখুনঃ http://www.harvardir.org/articles/1784

কে এই কার্ল জে· সিওভাক্কো?
সিওভাক্কো মার্কিন সেনাবাহিনীর এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি ইউনিটের সাবেক ফার্স্ট লেফটেনেন্ট, হানাদার মার্কিন বাহিনীর একজন ঘাতক হিশেবে ২০০৩ সালে ইরাকে সংঘটিত গণহত্যায় অংশ নেন। বর্তমানে তিনি মার্কিন সেনা ও গোয়েন্দা বাহিনীর পরামর্শক হিসেবে বুজ এলেন হ্যামিল্টন নামে একটি কনসালটেন্ট ফার্মে কর্মরত আছেন।

আমাদের প্রাণপ্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ সর্ম্পকে সজীব ওয়াজেদ জয় ও কার্ল জে· সিওভাক্কোর দুঃখ হলঃ
. বাংলাদেশে ইসলামী চেতনার ব্যাপক প্রচার ও প্রসার ঘটেছে। এমনকি বাংলাদেশের শাসকদলেও ইসলামী মূল্যবোধের প্রভাব বেড়েছে (তাদের ভাষায়ঃ It opened the door to increased islamic influence on the governing party. paragraph-6)

. বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের অতন্দ্রপ্রহরী, অকুতোভয় সেনাবাহিনীতে ধর্মপ্রাণ সরল মাদ্রাসা ছাত্রদের যোগদানের হার বেড়েছে, যা তাদের
নীলনকশা বাস্তবায়নে প্রবল বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। (তাদের ভাষায়ঃ The astronomical growth of islamists in the military is troubling to say the least. paragraph-8)

. বিগত পাঁচ বছরে বাংলাদেশে পর্দানশীন ধর্মপ্রাণ মহিলার সংখ্যা বেড়েছে এবং এই দুই চক্রান্তকারী পরিকল্পনা এঁটেছেন, ধর্মের এই জোয়ার ঠেকাতে হবে। (তাদের ভাষায়ঃ Can the Awami Leage stop the growing tide of Islamism in a country that has seen the sale of borkas rise nearly 500 percent in the last five years? Paragraph-9)



শাহ জালাল, শাহ মখদুম, খান জাহান ও শাহ আমানতের বাংলাদেশে ইসলামের ব্যাপক প্রচার প্রসারে আতংকিত সজীব ওয়াজেদ জয় ও কার্ল জে· সিওভাক্কো- এই দুই চক্রান্তকারী যেসব পরিকল্পনা এঁটেছেনঃ

. আমাদের শ্রদ্ধাভাজন আলেম ওলামারা হলেন “ক্যান্সার স্বরূপ” এবং এদেরকে শুদ্ধ করার জন্য ক্যামোথেরাপী দিতে হবে। (দেখুনঃ
Paragraph-10)

. শ্রদ্ধাভাজন আলেম ওলামাদের মধ্যে বিভাজন তৈরী করতে হবে এবং তাদেরকে কোরানের ধর্মনিরপেক্ষ ব্যাখ্যা দিতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। (দেখুনঃ
Paragraph-11)

. মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে ক্রমান্বয়ে বিলুপ্ত করে তার স্থলে ধর্মবিরোধী সেকুলার স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই লক্ষ্যে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমন ভাবে রূপান্তরিত করতে হবে যাতে মাদ্রাসা ছাত্ররা ধর্মের চেয়ে পুঁজিবাদী ভোগবাদকে বেশী প্রাধান্য দেয়। (তাদের ভাষায়ঃ This enlightened education would show students that there is more to the world than only religion and that there are additional opportunities to earn a livelihood than merely religious or radically religious pursuits. Paragraph-14)

. হেফজখানা, যেখানে পবিত্র কোরআন শরীফ মুখস্থসহ বুকে ধারণ করা হয়, সেগুলো ক্রমান্বয়ে নিস্ক্রিয় করে দিতে হবে। (দেখুনঃ Paragraph-15)

. ধর্মবিরোধী সেকুলার যুবকদেরকে সেনাবাহিনীতে অধিক হারে যোগদান করাতে হবে যাতে করে আমাদের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী ভারত-মার্কিন-
ইসরাইল চক্রের সেবাদাস হয়ে উঠতে পারে। (দেখুনঃ Paragraph-17)

. বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী মার্কিনী পুঁজিবাদ ও ভোগবাদের বিরুদ্ধে ইসলামের যে নৈতিক সংগ্রাম ও সম্ভাবনা রয়েছে তার বিরুদ্ধে সেবাদাস মোল্লাদের কাজে লাগাতে হবে। (Paragraph-18)


দেশপ্রেমিক ভাই ও বোনেরা,
আমেরিকা ও তার দোসর ভারত ইসরাঈল ও ইউরোপীয় চক্র; বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাদী-ভোগবাদী আধিপত্য কায়েমের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর বিপরীতে ইসলামের যে নৈতিক সংগ্রাম ও সম্ভাবনা রয়েছে তা ব্যর্থ করে দেয়ার জন্য এই পুঁজিবাদী গোষ্ঠী দেশে দেশে তাদের দালাল তৈরী করেছে। তাদেরই এদেশীয় একজন দোসর হলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। আসুন, এদের চিনে রাখি এবং সর্বক্ষেত্রে প্রতিরোধের জন্য প্রস্তুতি নিই। এখন সময় এসেছে সিদ্ধান্ত নেবার।

বিপ্লবী জনপ্রতিরক্ষা আন্দোলন]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28886577 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28886577 2008-12-23 06:00:41
হেমন্ত কারেকারের মৃত্যু নিয়ে অপপ্রচার ও ভারতে সংখ্যালঘু মন্ত্রীর পদত্যাগ
বিশ্বের প্রচারমাধ্যমে হেমন্তের মৃত্যু নিয়ে অপপ্রচার:
সারা বিশ্বের গণমাধ্যমে দেখানো হয় পুলিশ অফিসার হেমন্ত কারকারে বুলেট প্রুফ জ্যাকেট পরে হোটেলে সন্ত্রাসীদের ধরতে গেলে গুলিতে নিহত হন। অথচ এখন দেখা যাচ্ছে ঘটনা ভিন্ন।

মহারাষ্ট্র সহ মালেগাঁও বিস্ফোরনের তদন্তে হেমন্ত ভারতের হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসী সংঘঠন আরএসএস, শিবসেনা, বিজেপি, হিন্দু পুরোহিত ও সেনাবাহিনীর কতিপয় অফিসারের যোগসূত্রের প্রমাণ পান। এজন্য মুম্বাই ঘটনার আগে তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল আরএসএস, শিবসেনা ও বিজেপি।

মুম্বাই হামলা নিয়ে আবদুর রহমান আন্তুলের প্রশ্ন:
তিনি পার্লামেন্টে এবং মিডিয়ার কাছে বলেন, জঙ্গি হামলার সময় সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ স্থান ছিল তাজ হোটেল, ওবেরয় হোটেল ও ইহুদি সেন্টার নরিম্যান হাউস। হেমন্ত কারকারে এগুলোর কোনো দিকে না গিয়ে কেন এবং কাদের কথায় কামা হাসপাতালের কাছে একটি সরু গলিতে ঢুকে পড়লেন সে সম্পর্কে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি আরো বলেন, এই ধরনের উত্তেজনাপূর্ণ সময় একই গাড়িতে দু’জন গুরুত্বপূর্ণ পুলিশ অফিসারের ওঠার নিয়ম নেই। কিন্তু কেন হেমন্ত কারকারে পুলিশের এই নিয়ম ভঙ্গ করে আরো দু'জন গুরুত্বপূর্ণ অফিসারকে গাড়িতে তুলেছিলেন সে সম্পর্কেও অনুসন্ধান প্রয়োজন।

আন্তুলেও এও বলেন, হিন্দুত্ববাদী কিছু সংগঠনের সন্ত্রাসী তৎপরতা ও বিস্ফোরণে যুক্ত থাকা সম্পর্কে হেমন্ত কারকারে তদন্ত করছিলেন। আর এ জন্য তাকে হত্যার হুমকিও দেয়া হয়। কাজেই মুম্বাইতে সন্ত্রাসী হামলার সুযোগে অন্য কোনো গোষ্ঠী হেমন্ত কারকারেকে হত্যা করেছে কি না আন্তুলে সেই দিকেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

আবদুর রহমান আন্তুলের মন্তব্য নিয়ে বিজেপি, সঙ্ঘ পরিবার ও গণমাধ্যম তীব্র হইচই শুরু করে। বিজেপি'র পার্লামেন্ট সদস্যরা বলেন, আন্তুলের মন্তব্য পাকিস্তানের পক্ষে গিয়েছে। কিন্তু আবদুর রহমান আন্তুলে কখনোই বলেননি, মুম্বাইতে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদীরা হামলা করেনি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28885735 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28885735 2008-12-21 15:19:15
সংশোধন: দূর্নীতিবাজদের বিচার চাই ।। আসন্ন নির্বাচনে দূর্নীতিবাজ প্রার্থীকে নাকচ করে আপনার ভোটাধিকার পবিত্র রাখুন ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরে দেশের মানুষ কেন হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছিল? কাদের কারণে ৩ বছরের মাথায় একজন প্রবল জনপ্রিয় নেতার এমন পতন ঘটেছিল? নিজদলের ক্ষমতালিপ্সুদের হাতে কেন তাঁকে প্রাণ দিতে হয়েছিল? তখনতো কথিত যুদ্ধাপরাধীরা সংসদ বা ক্ষমতায় ছিলনা? তাহলে কেন বঙ্গবন্ধুকে সময় হওয়ার আগেই এপৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হয়েছিল? কারণ একটাই - বঙ্গবন্ধুর দূর্নীতিবাজ প্রশাসন।
২. যুদ্ধাপরাধও অন্যায় ও অসৎ কাজ। প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীরাও নীতিহীন দূর্নীতিবাজ।

বিশেষ এক শ্রেণীর ব্লগারদের আন্দোলনের (!) মুখে সমমনা ব্লগ কর্তৃপক্ষ নির্বাচনের পূর্ব মুহুর্তে যুদ্ধপরাধ ইস্যুকে স্টিকি করে আসন্ন নির্বাচনে একটি বিশেষ দল বা গোষ্টির পক্ষে কাজ করছেন। ভারত ও ইসরাঈলের অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের শ'খানেক সংবাদপত্র, টিভি চ্যানেল, ওয়েব সাইটের মতো সামহোয়্যারও ব্যতিক্রম নয় বলে মনে হচ্ছে।

যুদ্ধাপরাধ ইস্যুটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হলেও স্বাধীনতার পর থেকেই রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে। তখনকার আওয়ামীলীগ সরকার সঠিক বিচারের মাধ্যমে সকল রাজাকার-আলবদরের বিচার করলে আজ এনিয়ে জাতি দ্বিধা বিভক্ত হতো না। নির্বাচন আসলেই এনিয়ে এই বিশেষ গোষ্ঠিটি আন্দোলন জোরদার করে। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের আগেও অনুরূপ ঘটেছিল। নির্বাচনের পরে ক্ষমতায় গিয়ে আওয়ামীলীগ ও তার মিত্ররা তাদের নিজেদের এই দাবীটি ডিপফ্রিজে তুলে রেখেছিল। এখন আবারো শুরু করেছে। অনেকের বিশ্বাস নির্বাচনের পরে এবারো ১৯৯৬ সালের পূনরাবৃত্তি হবে।

যুদ্ধাপরাধীদের চেয়েও স্বাধীনতার ৩৮ বছর পরে সবচেয়ে মারাত্মক যে বিষবৃক্ষ আমাদেরকে আজও পিছিয়ে রেখেছে তা হচ্ছে দূর্নীতি। এর কারণেই দূর্নীতিতে আমরা হ্যাট্রিক সহ কয়েকবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছি। গত তিনটি নির্বাচিত সরকারের পতনের মূলেও ছিল এই দূর্নীতি। ১/১১ এর পত্তনও এই দূর্নীতির কারণে।


আর ভোটের পবিত্রতার কথা বলছেন? আল-কোরআনে আল্লাহ বলেছেন অন্যায় ও অসৎ (সীমালঙ্গনকারী) কাজে তোমরা পরস্পর সহযোগী হয়ো না। অন্যায় ও অসৎ কাজে নিয়োজিত যেকোন একজন নেতাদের নির্বাচিত না করে সৎ প্রার্থীদের নির্বাচিত করলে দেশ ও দেশের মানুষদের উপকার হবে।

কারা কারা দূর্নীতিবাজ? একজন নেতা যদি যুদ্ধাপরাধী হয় তাহলে সেও একজন অসৎ ও সীমালঙ্গনকারী দূর্নীতিবাজ। এছাড়া ঘোষখোর, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ সবাই দূর্নীতিবাজ।

একথাগুলো যেকোন একজন ক্ষুদ্র দেশপ্রেমিক বাংলাদেশীও অস্বীকার করতে পারবেন না। তাই আসন্ন নির্বাচনে আমাদের শ্লোগান গঁদবাঁধা সস্তা রাজনৈতিক বুলি না হয়ে হওয়া উচিত -

দূর্নীতিবাজদের বিচার চাই ।। আসন্ন নির্বাচনে দূর্নীতিবাজ প্রার্থীকে নাকচ করে আপনার ভোটাধিকার পবিত্র রাখুন।

কর্তৃপক্ষ হয়তো দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থে ব্লগের স্টিকি পরিবর্তন করবেন, দূর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবেন এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট না হয়ে নিরপেক্ষতার প্রমাণ দেবেন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28885196 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28885196 2008-12-20 12:48:20
গোবরে পদ্মফুল
যারা ইসলামের নাম দেখলেই দুর্গন্ধ খুঁজে পায় তারা এই পজিটিভ ঘটনাকে চেপে গেছে, তেমন গুরুত্ব দিয়ে ছাপায়নি। বাংলাদেশ বা কোন মুসলিম দেশে কোন সংখ্যালঘুর নির্যাতনের অভিযোগ এরা খুব ফলাও করে প্রচার করে। জামাত-উদ-দাওয়ার জনহিতকর কাজটি তারা সেভাবে প্রচার করেনি। তবে ইত্তেফাক এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম দেখিয়েছে ছবিসহ রিপোর্ট ছেপে। ইত্তেফাক লিখেছে পাকিস্তানের নামকরা দাতব্য সংস্থা জামাত-উদ-দাওয়ার সমর্থনে দেশটির হায়দ্রাবাদে কয়েকশ হিন্দু ও খ্রিস্টান নারী-পুরুষ বিক্ষোভ মিছিল করেছে। তারা পাকিস্তান সরকার কর্তৃক সংস্থার সব কার্যালয় বন্ধ, তাদের বহু কর্মী-কর্মচারী-কর্মকর্তাকে গ্রেফতার এবং তাদের সব নেতাকে গৃহবন্দী করার প্রতিবাদ জানান হয়। বিড়্গোভকারীদের বেশিরভাগই সিন্ধু প্রদেশের থর মরম্নভূমি অঞ্চল থেকে হায়দ্রাবাদে এসে বসতি স্থাপনকারী।

বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণকারী হিন্দু সমাজপতি ভাই চাঁদ জানান, জামাত-ই-দাওয়ার উপর পাকিস্তান সরকারের আরোপিত কড়াকড়ির দরম্নন তাদের জীবনযাপন হুমকির মুখে পড়েছে। কেননা জামাত-উদ-দাওয়া মরম্নভূমির জনবসতি এলাকায় পানীয়জলের প্রয়োজন মেটাতে অনেক কূপ খনন করেছে। যদি সংস্থার উপর এরকম কড়াকড়ি চলতে থাকে তবে তাদের এই পানীয়জলের কূপ কর্মসূচি ব্যাহত এমনকি বন্ধ হয়ে যাবে। যার পরিণাম মরম্ন বসতি এলাকার মানুষের জন্য হবে বিপর্যয়কর। তিনি আরও বলেন দাতব্য সংস্থাটি সব সময়ই আমাদের সহায়তা দিয়ে আসছে। তারা জঙ্গি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত এটা আমি বিশ্বাস করি না। আমরা পাকিস্তানের মুসলিম নাগরিক নই। কিন্তু তা সত্ত্বেও সংস্থাটি সবসময় আমাদের সাহায্য-সহায়তা দিয়ে আসছে।


ভারতের হিন্দু সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আরএসএস-শিবসেনা-বিজেপির কীতিকলাপের কথা সকলেই জানে। গুজরাট সহ ভারতের সর্বত্র জঙ্গি হামলায় হাজার হাজার মুসলমান হত্যার জন্য এরা দায়ী। এরা বোমা হামলা ঘটিয়ে ইসলাম নামধারী সংগঠনের নাম দিয়ে অপপ্রচারে নেমে পড়ে। সম্প্রতি ভারতের মহারাষ্ট্র সহ কয়েকটি স্হানে এরকম বোমা হামলার সাথে এদের সম্পর্ক প্রমাণিত হওয়ার পরে এরা হৈ চৈ শুরু করে। এরা প্রকাশ্যে তদন্তকারী কর্মকর্তা হেমন্ত কারেকারকে হত্যার হুমকি দেয়। সর্বশেষ মুম্বাই হামলায় রহস্যজনক ভাবে তিনি নিহত হন। সকলে পাকিস্তানভিত্তিক দাতব্য সংঘটন 'জামাত-উদ-দাওয়া' কে দায়ী করলেও হেমন্তের মৃত্যুর ঘটনাকে সযত্নে এড়িয়ে গেছে। এমনকি ভারতের কংগ্রেস সরকারও ভোট হারানোর ভয়ে বিজেপির সাথে সুর মিলিয়েছে। সারাবিশ্বের প্রচার মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়েছে। এর ফলে মুম্বাই হামলার পেছনে আরএসএস-শিবসেনা-বিজেপি সহ অন্য বিদেশী গোয়েন্দা সংস্হা জড়িত থাকার বিষয়টা চাপা পড়ে যায়। উল্লেখ্য, হেমন্তকে হত্যা করে কোন মুসলিম সংগঠনই এখন লাভবান হবে না, কারণ তিনিই ভারতে ২০০৩-২০০৭ সাল পর্যন্ত অনেক বোমা হামলার পেছনে আরএসএস-শিবসেনা-বিজেপির সম্পর্ক প্রমাণ পেয়েছেন।

লক্ষ্যনীয় বিষয় হচ্ছে, এহেন অপকর্ম প্রমাণের পরে ভারতে এসব হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো নিষিদ্ধ হয়নি। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এদের একটিকে নিষি্দ্ধের দাবী উঠলে ভারত-ইসরাঈলের লবির চাপে তা সম্ভব হয়নি। অধিক্ন্তু গুজরাটের মুসলমান হত্যার সাথে জড়িত এই সংগঠন গুলোর এক ভারতীয়-আমেরিকান মহিলা কর্মকর্তা কে ওবামা তার নতুন প্রশাসনে অন্তর্ভুক্ত করেন। কিছু ভারতীয়-আমেরিকান এনিয়ে প্রতিবাদ করলে মহিলা সরাসরি তার সংযোগ থাকার কথা স্বীকার করেছেন, তবে বলেন সে সময় তিনি এদের সন্ত্রাসবাদিতার ব্যাপারে অজ্ঞ ছিলেন। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28885120 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28885120 2008-12-20 08:42:49
হেমন্ত কারেকারের মৃত্যু নিয়ে অপপ্রচার ও ভারতে সংখ্যালঘু মন্ত্রীর পদত্যাগ
মুম্বাই হামলা নিয়ে প্রশ্ন:
তিনি পার্লামেন্টে এবং মিডিয়ার কাছে বলেন, জঙ্গি হামলার সময় সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ স্থান ছিল তাজ হোটেল, ওবেরয় হোটেল ও ইহুদি সেন্টার নরিম্যান হাউস। হেমন্ত কারকারে এগুলোর কোনো দিকে না গিয়ে কেন এবং কাদের কথায় কামা হাসপাতালের কাছে একটি সরু গলিতে ঢুকে পড়লেন সে সম্পর্কে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি আরো বলেন, এই ধরনের উত্তেজনাপূর্ণ সময় একই গাড়িতে দু’জন গুরুত্বপূর্ণ পুলিশ অফিসারের ওঠার নিয়ম নেই। কিন্তু কেন হেমন্ত কারকারে পুলিশের এই নিয়ম ভঙ্গ করে আরো দু'জন গুরুত্বপূর্ণ অফিসারকে গাড়িতে তুলেছিলেন সে সম্পর্কেও অনুসন্ধান প্রয়োজন।

আন্তুলেও এও বলেন, হিন্দুত্ববাদী কিছু সংগঠনের সন্ত্রাসী তৎপরতা ও বিস্ফোরণে যুক্ত থাকা সম্পর্কে হেমন্ত কারকারে তদন্ত করছিলেন। আর এ জন্য তাকে হত্যার হুমকিও দেয়া হয়। কাজেই মুম্বাইতে সন্ত্রাসী হামলার সুযোগে অন্য কোনো গোষ্ঠী হেমন্ত কারকারেকে হত্যা করেছে কি না আন্তুলে সেই দিকেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

আবদুর রহমান আন্তুলের মন্তব্য নিয়ে বিজেপি, সঙ্ঘ পরিবার ও গণমাধ্যম তীব্র হইচই শুরু করে। বিজেপি'র পার্লামেন্ট সদস্যরা বলেন, আন্তুলের মন্তব্য পাকিস্তানের পক্ষে গিয়েছে। কিন্তু আবদুর রহমান আন্তুলে কখনোই বলেননি, মুম্বাইতে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদীরা হামলা করেনি।


বিশ্বের প্রচারমাধ্যমে হেমন্তের মৃত্যু নিয়ে অপপ্রচার:
সারা বিশ্বের গণমাধ্যমে দেখানো হয় পুলিশ অফিসার হেমন্ত কারকারে বুলেট প্রুফ জ্যাকেট পরে হোটেলে সন্ত্রাসীদের ধরতে গেলে গুলিতে নিহত হন। অথচ এখন দেখা যাচ্ছে ঘটনা ভিন্ন।

মহারাষ্ট্র সহ মালেগাঁও বিস্ফোরনের তদন্তে হেমন্ত ভারতের হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসী সংঘঠন আরএসএস, শিবসেনা, বিজেপি, হিন্দু পুরোহিত ও সেনাবাহিনীর কতিপয় অফিসারের যোগসূত্রের প্রমাণ পান। এজন্য মুম্বাই ঘটনার আগে তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল আরএসএস, শিবসেনা ও বিজেপি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28885110 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28885110 2008-12-20 06:02:44
ঈদ নিয়ে নজরুলের কয়েকটি কবিতা -.১.-
চাহি নাকো দুম্বা উট,
কতটুকু দান? ও দান ঝুট।
চাই কোরবানি, চাই না দান।
রাখিতে ইজ্জত ইসলামের
শির চাই তোর, তোর ছেলের,
দেবে কি? কে আছ মুসলমান?

-.২.-
মনের পশুরে করো জবাই,
পশুরাও বাঁচে, বাঁচে সবাই।
কসাই-এর আবার কোরবানি!
আমাদের নয়, তাদের ঈদ,
বীর-সূত যারা হলো শহীদ,
অমর যাদের বীরবাণী।

-.৩.-
ওরে কৃপণ, দিসনে ফাঁকি আল্লাহে
তোর পাশের ঘরে গরীব কাঙাল কাঁদছে যে,
তুই তারে ফেলে ঈদগাহে যাস সঙ সেজে,
তাই চাঁদ উঠলো এল না ঈদ
নাই হিম্মত নাই উম্মিদ
শোন কেঁদে কেঁদে বেহেশত হতে
হজরত আজ কী চাহে
[ঈদজ্জোহা]

-.৪.-
ঈদ মোবারক, ঈদ মোবারক।
দোস্ত দুশমন পর ও আপন
সবার মহল আজি হউক রওনক
যে আছ দূরে যে আছ কাছে
সবারে আজ মোর সালাম পৌঁছে
সবারে জানাই এ দিল্‌ আশক।

-.৫.জাকাত
দে জাকাত, দে জাকাত, তোরা দেরে জাকাত।
তোর দীল্‌ খুলবে পরে, ওরে আগে খুলুক হাত
দেখ্‌ পাক কোরান, শোন্‌ নবীজীর ফরমান
ভোগের তরে আসেনি দুনিয়ায় মুসলমান
তোর একার তরে দেন্‌নি খোদা দৌলতের খেলাত
তোর দরদালানে কাঁদে ভুখা হাজারো মুসলিম,
আছে দৌলতে তোর তাদেরও ভাগ­ বলেছেন রহিম,
বলেছেন রহমানুর রহিম, বলেছেন রসূলে করিম,
সঞ্চয় তোর সফল হবে, পাবিরে নাজাত
...
এই জাকাতের বদলাতে পাবি বেহেশ্‌তি সওগাত।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28879682 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28879682 2008-12-07 15:30:31
'এক মুঠ নুন দ্যাও' , 'দু:খিনী বাংলাকে বাঁচাও' 'দুষ্কৃতিকারী দমনের নামে চরম সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম: পাবনার যুবতী মেয়েরা ইজ্জতের ভয়ে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে বেড়াচ্ছে।' - ইত্তেফাক, ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭৪।

'এক মুঠ নুন দ্যাও' - ইত্তেফাক, ১ আগস্ট ১৯৭৪।

'দু:খিনী বাংলাকে বাঁচাও' - ইত্তেফাক, ১০ আগস্ট ১৯৭৪।

স্বাধীনতার অব্যবহিত পরের সে দিনগুলো আমরা ভুলিব কেমনে? ১৯৭২-১৯৭৫ সালের আওয়ামী-বাকশালী সরকারের আমলে বাংলাদেশের মানুষের করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে ইত্তফাকের উপরের দুটি সংবাদ হেডিং থেকে। মানুষের মন-মগজে ঢুকা অনৈতিকতা আজও আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের রয়ে গেছে। যে স্বপ্ন ও স্বাদ নিয়ে এদেশের তরুণরা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে দেশ শাসন করল তা আজও পূরণ হয়নি।

যারা মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিলেন, তাদের হাতে দেশের সর্বনাশা দশা তখনকার পত্রিকাগুলোতে কিছুটা হলেও পাওয়া যায়। উল্লেখ্য, কয়েকটি বাছাইকৃত সংবাদপত্র ছাড়া স্বাধীন গণমাধ্যমের উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল আওয়ামী-বাকশালী সরকার। ফলে সরকার নিয়ন্ত্রিত মাধ্যমগুলোতে সে সময় যততুকু ফুটে উঠেছে তা প্রকৃত অবস্হার অনেক বাইরে।

এরকম আরো কিছু সাংবাদ:
'গেল হপ্তার রাজনীতি: রক্ষীবাহিনীর রুদ্রমূর্তির সামনে ইতিহাস থমকে দাঁড়িয়েছিল' - ইত্তেফাক, ২৭ জানুয়ারী ১৯৭৪।

'ক্ষুদার্ত মানুষের আর্তচিৎকারে ঘুম ভাঙ্গে'- ইত্তেফাক, ২৩ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪।

'ওরা বুভুক্ষ মানুষের গ্রাস কাড়িয়া লইতেছে' - ইত্তেফাক, ৩০ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪।

'ক্ষুধার আগুন জ্বলিতেছে' - ইত্তেফাক, ১ অক্টোবর ১৯৭৪।

'ঢাকায় প্রতিদিন ৮৪ জনের লাশ দাফন'- ইত্তেফাক, ১ অক্টোবর ১৯৭৪।

'উত্তনাঞ্চলে অনাহারে ও কলেরায় দৈনিক দেড় সহস্র লোকের মৃত্যু' - ইত্তেফাক, ৯ নভেম্বর ১৯৭৪।

'স্মাগলিং হয় সীমান্ত এলাকা হইতে এ খবর সবারই জানা, কিন্তু সরকারী খাদ্য গুদামেও যে এই কারবার হইয়া থাকে তাহার খোঁজ কেহ রাখেন কি?' - ইত্তেফাক, ১ নভেম্বর ১৯৭৪।

'গরীব মানুষ খেতে পায় না, টাউটরা মজা লুটছে' - গণকন্ঠ, ২৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭২।

'লাইসেন্স পারমিটের জম-জমাট ব্যবসার যাতাকলে পড়ে মানুষ খাবি খাচ্ছে' - গণকন্ঠ, ২৯ আগস্ট ১৯৭২।

(চলবে)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28878518 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28878518 2008-12-05 07:02:20
এইডস্‌ প্রতিরোধে একটি পূর্নাঙ্গ প্রেস্ক্রিপ্শন eFluxMedia.com.

বর্তমান শতাব্দীর এক আতংক ঘাতকব্যাধি এইডস্‌। বিগত আশির দশকে এইডস্‌ নামের ঘাতকব্যাধির সাথে মানুষ পরিচিত হয়। ১৯৮১ সালে আমেরিকায় প্রথম এইডস্‌ রোগ ধরা পড়ে। বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে বাংলাদেশেও এই মরণব্যাধি হানা দিয়েছে। ওষুধ আবিষ্কৃত না হওয়ায় বিজ্ঞানের চরম সাফল্যের যুগেও মানুষকে থমকে দিয়েছে ঘাতকব্যাধি এইডস্‌। আর এর পরিণতি নিশ্চিত মৃত্যু। ইসলামের অনুশাসন বাস্তবায়নের মাধ্যমে এইডস্‌ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। পবিত্র কুরআন শরীফ গবেষণা করে দেখা গেছে­­ আদ, সামুদ জাতি হস্তমৈথুন, যৌনাচার ইত্যাদিতে দারুণ আসক্ত হয়ে পড়ায় তাদের ভিতর এ ধরনের রোগের উৎপত্তি ঘটেছিল। এটি সম্পূর্ণ প্রকৃতি বিরোধী অনুশীলনের ফলাফল ছাড়া আর কিছুই নয়।

এ রোগের বিস্তার লাভের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হচ্ছে অবৈধ যৌনমিলন। তবে আজ তা আফ্রিকা ও ইউরোপ মহাদেশ থেকে ভারত, চীন, কম্পোডিয়া, মায়ানমার, থাইল্যান্ডসহ পার্শ্ববর্তী অনেক দেশসহ বাংলাদেশেও মহামারী আকারে এই রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। তবে সে সব দেশে অবাধ সমকামিতা সে সব দেশে এইডস্‌ ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করছে। এইডস্‌-এর ভয়াবহ ঝড় থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বাংলাদেশের সামাজিক মূল্যবোধ ও জীবনাচরণ এইডস্‌ সংক্রমণের জন্য সহায়ক নয়। তবে বাংলাদেশের তিনদিক থেকে ভারত। ফলে বাংলাদেশেও ভয়াবহ এইডস্‌ ঝুঁকির আশংকা রয়েছে।

এইডস্‌ প্রতিরোধে ইসলামঃ
ধর্মীয় অনুশাসন পালনের মাধ্যমে এইডস্‌ সংক্রমণ প্রতিরোধ সম্ভব। এইডস্‌ প্রতিরোধে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আজ থেকে প্রায় ১৪শ’ বছর পূর্বে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর মাধ্যমে মহান আল্লাহ মানব জাতিকে সুস্থ জীবনযাপনের জন্য অনেক দিকনির্দেশনা দিয়ে গিয়েছেন। আর সে সব বিধি-বিধান বর্তমানে পালিত না হওয়ার কারণে এইডস্‌-এর মত ভয়াবহ রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটছে।

ক. ধর্মীয় অনুশাসন পালনের নির্দেশঃ
ইসলাম ধর্ম শান্তির ধর্ম। ইসলামকে পূর্ণভাবে অনুশাসনের মাধ্যমেই কেবলমাত্র শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। মহান আল্লাহ তায়ালা পূর্ণভাবে ইসলামকে পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে ধর্মীয় অনুশাসন পালন না করার কারণে অবাধ মেলামেশার মাধ্যমে মরণব্যাধি এইডস্‌ ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ছে।

খ. অবাধ যৌনমিলন নিষিদ্ধকরণঃ
অবাধ যৌনমিলন তথা ব্যভিচারই ভয়াবহ ব্যাধি ও সামাজিক অনাসৃষ্টির কারণ। বর্তমান বিশ্বে হত্যা, সামাজিক বিশৃক্মখলা ও ভয়াবহ এইডস্‌সহ নানা ধরনের দুরারোগ্য রোগের যে ছড়াছড়ি তা মূলতঃ নারী-পুরুষের অপকর্মে লিপ্ত থাকার ফল। আর এই কারণে ইসলাম ব্যভিচারের এই অপরাধকে সব অপরাধের চেয়ে গুরুতর হিসাবে সাব্যস্ত করেছে এবং এ অপরাধের শাস্তি অন্যসহ অপরাধের শাস্তির চেয়ে কঠোর করেছে। মহান আল্লাহ বলেন, ব্যভিচারিণী নারী, ব্যভিচারী পুরুষ, তাদের প্রত্যেককে একশত করে বেত্রাঘাত কর। (সূরা নূর-২)।

গ. অসামাজিক ও অশ্লীল কাজ নিষিদ্ধকরণঃ
যুগে যুগে অতি উৎসাহী, বিকৃত চিন্তা-চেতনার অনুসারী কিছু সংখ্যক লোক শয়তানের প্ররোচণায় নানা রকম অসামাজিক, অশ্লীল এবং পাশবিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। বর্তমান বিশ্বের সর্বাপেক্ষা ভয়াবহ আতংক সৃষ্টিকারী মরণব্যাধি এইডস্‌ ও তেমনি ঘৃণিত অশ্লীল অপরাধ। কুরআনের ঘোষণা “তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তী হয়ো না, কারণ উহা নিকৃষ্টতম অশ্লীলতা ও মহাপাপ।” কুরআনে অন্যত্র বলা হয়েছে­ “হে ঈমানদারগণ! তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। যে কেউ শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করিবে যখন তো শয়তান নির্লজ্জতা ও মন্দকাজের আদেশ করবে। যদি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া তোমাদের প্রতি না থাকত, তবে তোমাদের কেউ কখনো পবিত্র হতে পারবে না। কিন্তু আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পবিত্র করেন। আল্লাহ সব কিছু জানেন ও শোনেন।” (সূরা নূর-২১)

ঘ. ভয়ংকর মহামারীর ব্যাপারে সতর্কঃ
অশ্লীল, বেহায়াপনা ও অশালীন আচার-আচরণের মাধ্যমে মানুষ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত হয়ে যায়। ঘৃণা এই অশ্লীল কাজের মাধ্যমেই ভয়ংকর মহামারী রোগ সৃষ্টি হয়। রাসূল (সাঃ) বলেন, “যখনই কোন জাতি বা সম্প্রদায় অশ্লীল ঘৃণ্য কাজে লিপ্ত হয়, তখনই তাদের মধ্যে এমন এক ভয়ংকর মহামারী দেখা দেয় যা তারা কখনো অতীতে দেখেনি।” (ইবনে মাজাহ)। এ ব্যাপারে কুরআনের ঘোষণা- “স্থলে ও জলে মানুষের কৃতকর্মের করুণ বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ছে। আল্লাহ তাদেরকে তাদের কর্মের শাস্তি আস্বাদন করতে চান। যাতে তারা ফিরে আসে।” (সূরা রুম-৪১)

ঙ. সমাজ-সভ্যতাকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার নির্দেশঃ
পৃথিবীতে সমাজ-সভ্যতাকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য সকল প্রকার মন্দ, দোষণীয়, অশ্লীল ও অশালীনতা থেকে বেঁচে থাকার জন্য ইসলাম মানব জাতিকে নির্দেশ দিয়েছে। আর এ অশ্লীলতা থেকে বাঁচার মাধ্যমে এইডস্‌ নামক মহামারী থেকেও বাঁচা যায়। আল্লাহ বলেন, “তোমরা তাদেরকে আহার দেই- নির্লজ্জতার কাছেও যেয়ো না, প্রকাশ্য হোক কিংবা অপ্রকাশ্য।” অন্য জায়গায় বলা হয়েছে­ “আমি কত জনপদের ধ্বংস সাধন করেছি যার অধিবাসীরা ছিল পাপী এবং তাদের পর সৃষ্টি করেছি অন্য জাতি।” (সূরা আম্বিয়া-১১)

চ. বিয়ে প্রথার মাধ্যমেঃ
ইসলাম মানবতার ধর্ম। ধর্ম কেবল বিধি-নিষেধ আরোপ করেই ক্ষ্যান্ত হয়নি বরং বৈধভাবে উপভোগ করার জন্য দিকনির্দেশনা দিয়েছে। ব্যভিচার প্রতিরোধ তথা সুস্থ জীবনযাপনের জন্য ইসলাম বিয়ের নির্দেশ দিয়েছে। আল কুরআনে বলা হয়েছে­ “তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তাদের বিয়ে সম্পাদন করে দাও এবং তোমাদের দাস-দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্ম পরায়ণ তাদেরও। তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের সচ্ছল করে দিবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।” (সূরা নূর-৩২)

ছ. ব্যভিচারে উৎসাহ জোগায় এমন কাজ নিষিদ্ধ করুনঃ
পৃথিবীতে এমনও অনেক দেশ আছে যেখানে ব্যভিচার তথা অশ্লীলতাকে উৎসাহ করা হয়। অথচ মানব জাতির জন্য এটা চরম বিপর্যয়মূলক লজ্জাকর কর্মকাণ্ড। ব্যভিচারকে ইসলাম নিষিদ্ধ করেছে। কুরআনে এসেছে­­ “ঈমানদার নারীদের বলুন! তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে অবনত করে এবং তাদের যৌনাঙ্গ হেফাজত করে।” (সূরা নূর-৩১)

জ. লজ্জাস্থানকে হিফাজতের নির্দেশঃ
রাসূল (সাঃ) বলেছেন, “তোমরা দু’টি জিনিসের তথা মুখ ও লজ্জা স্থানের জিম্মাদারী নাও, আমি তোমাদের জান্নাতের জিম্মাদারী নেবো।” অতএব লজ্জাস্থানের হিফাজতের মাধ্যমে ব্যভিচার থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। তাই পর্দার বিধান হিসাবে লজ্জাস্থানের হিফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। আল্লাহ বলেন, “মুমিনদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গ হেফাজত করে, এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে।” (সূরা নূর-৩০)

ঝ. লজ্জাস্থান হিফাজতকারী ক্ষমার ঘোষণাঃ
ব্যভিচার সংক্রান্ত যত ধরনের পাপ কাজ সংঘটিত হয় সব লজ্জাস্থান বা যৌনাঙ্গের মাধ্যমে হয়ে থাকে। আর এ পাপাচারের মাধ্যমে বিভিন্ন মহামারী দেখা দেয়। এইডস্‌ তার অন্যতম একটি। মহান প্রভু লজ্জাস্থান হেফাজতকারীকে ক্ষমার ঘোষণা দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন, “যৌনাঙ্গ হিফাজতকারী পুরুষ, যৌনাঙ্গ হেফাজতকারী নারী, আল্লাহর অধিক যিকিরকারী পুরুষ ও যিকিরকারী নারী তাদের জন্য আল্লাহ প্রস্তুত রেখেছেন ক্ষমা ও মহাপুরস্কার।” (সূরা আহযাব-৩৫)

ঞ. পতিতাবৃত্তি ইসলামে নিষিদ্ধঃ
বর্তমান সমাজে দেশ-বিদেশে যে পতিতাবৃত্তি অবিরাম চলছে ইসলাম এটাকে কোনক্রমেই সমর্থন করে না বরং এ ব্যাপারে ইসলাম সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞ জারি করেছে। আরও পতিতাবৃত্তির দরুন অবাধ যৌনমিলনের ফলে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে বিভিন্ন রোগসহ এইডস্‌ নামক মরণব্যাধিতে। কুরআনের দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা “তোমরা তাদেরকে আহার দেই- নির্লজ্জতার কাছেও যেয়ো না। প্রকাশ্যে হোক কিংবা অপ্রকাশে।” (সূরা আনআম-১৫১)

পরিশেষে আমরা বলতে পারি, ব্যভিচার, অশ্লীলতা এইডস্‌ নামক মরণব্যাধিকে ইসলাম ঘৃণা করে। আর এসব অপকর্ম থেকে বেঁচে থাকার মাধ্যমেই ইহকাল ও পরকালে কল্যাণ লাভ সম্ভব। মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদেরকে আমাদের দেশসহ বিশ্বের সকল দেশকে এর ভয়াবহতা থেকে রক্ষার তৌফিক দিন। আমীন।

লেখকঃ মোহাম্মদ আদেলউদ্দিন আল মাহমুদ
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
ফোন: ০১৭১৬ ২৪২৪৫৭
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28877531 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28877531 2008-12-03 05:51:12
জয়ের থিসিস, আইএসআই এর কাজিন এবং বাংলাদেশের আহমেদ সালাবী ১.
বিশিষ্ট কবি, কলামিষ্ট ও চিন্তাবিদ ফরহাদ মজহারের মাধ্যমে শেখ হাসিনা পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয়ের হার্ভাড ইন্টারন্যাশনাল রিভিউ প্রকাশিত একখানা থিসিস এর কথা আমরা জানতে পারি। Stemming the rise of islamic extremism in bangladesh শীর্ষক এই থিসিস প্রকাশিত হয়েছে গত ১৯ নভেম্বর ২০০৮ জার্নালটির অনলাইন ভার্সনে। এটির মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন জায়গায় তার ভাষায় ইসলামপন্থী বা মৌলবাদীদের ক্রমবর্ধমান প্রভাব। থিসিসটির উপর কোন মন্তব্য করার আগে এতে উপস্থাপিত তথ্যগুলোর সারাংশ করতে পারি এভাবে,

ক. কোন একাডেমিক জার্নালে প্রকাশিত আর্টিকেল প্রথমে লেখকদের পরিচিতি তুলে ধরা একটা সাধারন নিয়ম। যা সাধারনত লেখক নিজেই সরবরাহ করে থাকেন। সজিব ওয়াজেদ জয় এখানে নিজেকে পরিচিত করিয়েছেন এভাবে, Sajeeb A. Wazed is an adviser to Sheikh Hasina, the former Prime Minister of Bangladesh and President of the Awami League, the largest and oldest political party in Bangladesh. He has been a key negotiator for the Awami League on several occasions, most recently in the negotiations for the restoration of democracy in Bangladesh with the present military government.
এখানে জয়ের দেওয়া দুটি গুরুত্বপূর্ন তথ্য পাওয়া যায়। বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটি সামরিক সরকার ( military government ) এবং এই সরকারের সাথে তিনি বা তার দল আওয়ামী লীগের সাথে একটি সমঝোতা ( negotiation )
হয়েছে .
খ. জয়ের থিসিসের সহযোগী লেখক কার্ল যে কিওভাক্কো একজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা, যিনি ইরাক ও সৌদী আরবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ধরনের গবেষনামূলক আর্টিকেলে সহযোগী লেখক মূলত প্রধান লেখকের পরামর্শক হিসেবেই থাকেন।

গ. বাংলাদেশের ইসলামপন্থীরা পাকিস্তানের সাথে একীভূত হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে , The Islamists tend to support reunification with the Islamic Republic of Pakistan.

ঘ. বাংলাদেশে ইসলামী সন্ত্রাসবাদের বিস্তার বাড়ছে আর এটা হচ্ছে সেনাবাহিনীতে দিন দিন ইসলামপন্থী সদস্যের সংখ্যা বাড়ার কারনে। Before this madrassa Entrance Exam campaign, only 5 percent of military recruits came from madrasses in 2001. By 2006, at the end of the BNP’s reign, madrassas supplied nearly 35 percent of the Army recruits (গত ২০০১ সালের শেষে মাদ্রাসা থেকে মাত্র ৫ শতাংশ ছাত্র সেনাবাহিনীতে চান্স পেত সেখানে ২০০৬ সালে এটা বেড়ে হয়েছে ৩৫%)। সেনাবাহিনীতে ইসলামপন্থীদের বৃদ্ধির এই হার তার মতে অত্যন্ত্ উদ্দেগজনক।

ঙ. গত পাচ বছরে বাংলাদেশে রোরখার ব্যবহার বা বিক্রি বেড়েছে ৫০০ শতাংশ, Can the Awami League stop the growing tide of Islamism in a country that has seen the sale of burkas rise nearly 500 percent in the last five years?

চ. ২০০১ সালের আগে যেকোন নির্বাচনের প্রধান মৌলবাদী দল জামায়াত সর্বোচ্চ ৩ টি আসন পেয়েছে, The greatest number of seats that JI had ever garnered in any election prior to 2001 was three.

ছ. লেখক বাংলাদেশে ইসলামপন্থীদের উপরোক্ত প্রভাব সম্পর্কে তথ্য দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, তা মোকাবেলার একটি সেকুলার পন্থাও পেশ করেছেন। এর মধ্যে মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন, সেকুলার প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হাসপাতাল নির্মান উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও সেকুলার ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সেনাবাহিনীতে সেকুলার মনোভাবাপন্ন সদস্য বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

একজন ছাত্র গবেষক হিসেবে যতটুকু জানি আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত প্রবন্ধ/নিবন্ধে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের বিপরীতে সূত্র (reference) উল্লেখ থাকে। জয়ের থিসিসের উপরোল্লিখিত গুরুত্বপূর্ন তথ্যের সমর্থনে কোন সূত্র নেই। প্রধান মৌলবাদী দলটির সংসদিয় আসন সম্পর্কে দেওয়া তথ্যটিও সঠিক নয়। তথ্যসূত্র উল্লেখ ছাড়াই আন্তর্জাতিক কোন জার্নালে এ ধরনের থিসিস প্রকাশ হার্ভাড ইন্টারন্যাশনাল রিভিউ এর গ্রহন যোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে,সন্দেহ নেই।

২.
জয়ের থিসিসের মাহাত্ম্য বুঝতে হলে আরেকটু গভীরে যেতে হবে। যেখানে তিনি বাল্যকাল থেকে গ্রাজুয়েশন পর্যন্ত থেকেছেন সেই দেশটির মিডিয়া ও অন্যান্য প্রপাগান্ডা মেশিনগুলো কিভাবে বাংলাদেশ বিশেষ করে এর সেনাবাহিনীকে নিয়ে কি ধরনের গোয়েবলসীয় প্রচার চালাচ্ছে তার কিছু ছিটে ফোটা নমুনা তুলে ধরতে পারি এভাবে,

ক. হিরন্ময় কার্লেকার। ভারতের দি পাইওনিয়ার পত্রিকার বাংলাদেশ বিশয়ক নিয়মিত কলামিষ্ট। বাংলাদেশ কি পরবর্তী আফগানিস্তান হতে যাচ্ছে (Bangladesh, The Next Afganistan?) বইয়ের লেখক। তার মতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা শাখা ডিজিএফ পাকিস্তানের আইএসআই এর কোলন বা কার্বন কপি। গত ১১ সেপ্টেম্বর ২০০৮ দি পাইওনিয়ার পত্রিকায় লিখেছেন, The caretaker Government has removed some of the pathologically anti-Indian elements from Bangladesh's Directorate-General of Force's Intelligence, which is a clone of Pakistan's ISI.

খ. ১৯ জানুয়ারী ২০০৮ টাইমস অব ইন্ডিয়া Bangladesh spy agency DGFI spreading roots in east india শীর্ষক সংবাদে লিখেছে, DGFI is trying to turn its plan of establishing a sovereign Islamic state in the North-East into reality. The agency is receiving support from ISI (বাংলাদেশের ডিজিএফআই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি স্বাধীন স্বার্বভৌম ইসলামী রাষ্ট্রের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। এতে তারা আই এস আই মদত পাচ্ছে)

গ. ভারতীয় গবেষক শ্রী জয়দীপ সাইকিয়া ২০০৪ প্রকাশিত Terror sans frontiers. Islamic terrorism in north-east india গ্রন্থে লিখেছেন, ইসলামী মৌলবাদীরা বাংলাদেশ ও আসামের কিছু মুসলিম অধ্যূসিত অঞ্চল নিয়ে একটি বৃহত বাংলা বা মুঘলীস্তান যা কিনা হবে একটি স্বাধীন ইসলামী রাষ্ট্র গঠনের চেষ্টা করছে। সেটার পেছনে পাকিস্তানের আইএসআই ও বাংলাদেশের ডিজিএফআই কাধে কাধ মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

ঘ. গত ১ লা নভেম্বর ২০০৮ ভারতীয় টেলিভিশন আবিএন এর সিনিয়র সাংবাদিক সুমন চক্রবর্তি লিখেন,
ULFA, Bangladesh DGFI join hands to wreak havoc. এতে মি. চক্রবর্তি লিখেন, সম্প্রতি আসামের সিরিজ বোমা হামলার পেছনে আইএসআই ও ডিজিএফআই এর হাত রয়েছে। উল্লেখ্য, সুমন চক্রবর্তি বাংলাদেশর অনলাইন সংবাদপত্র বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোরের ভারতীয় ব্যুরো প্রধান এবং তিনি প্রায়শই এই নিউজ নেটওয়ার্ক সংবাদ শিরোনাম করেন.

ঙ.ভারতের সামরিক জার্নাল Frontier India Strategic and Defence এ গত ১ নভেম্বর ২০০৮ এ The Fulcrum of Easter Evil. DFGI directs terrorism and Jihad against India শীর্ষক প্রবন্ধে মলয় কৃষ্ণ ধর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে পরিচয় করিয়ে দেন এভাবে,
It also controls the political destiny of Bangladesh and interferes in Indian’s security concerns. In fact, it is the cousin of the ISI.

ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম, গবেষক, রাষ্ট্রীয় প্রচারযন্ত্র গত পাচ-সাত বছর ধরে অবিরাম প্রচারনা চালাচ্ছে বাংলাদেশে ইসলামী সন্ত্রাসীদের আখড়ায় পরিনত হয়েছে। তাদের এই প্রচারনা শুধুমাত্র সাধারন লেভেলেই নেই বরং ২০০১ সালের পর থেকে বলা হচ্ছে সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা সরাসরি এসবের সাথে জড়িত। আগে উলফাসহ অন্যান্য জাতিয়তাবাদি সেকুলার বিদ্রোহী গ্রুপ গুলোকে সহযোগীতা দানের কথা বলা হলেও এখন আরো একধাপ এগিয়ে বলা হচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নাকি ভারতের মাটিতে কথিত ইসলামী রাষ্ট্র গঠনের পিছনেও মদদ দিচ্ছে।

৩.
বাংলার আনাচে কানাচে মূর্খ শিক্ষিত সবার মুখে নিমক হারামীর প্রতিক হিসেবে যেমন উচ্চারিত হয় মীর জাফর,ঠিক ইরাকী জনগনের মাঝেও বহুল উচ্চারিত একটি নাম আহমেদ সালাবী।ইরাকী ন্যাশনাল কংগ্রেসের নেতা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ও সহযোগীরা যেসব অভিযোগের কারনে ইরাক দখল করে রক্তের হোলি খেলছে তার একটি অভিযোগ হচ্ছে ইরাক বা সাদ্দামের হাতে ছিল ব্যপক মানব বিদ্বংসী মারনাস্ত্র, জীবানু অস্ত্র এমনকি পরমানু অস্ত্রও। আর এসব তথ্যের মূল সরবরাহকারী ছিল আহমেদ সালাবী ও তার সহযোগীরা। সাংবাদিক এডাম রষ্টেনের মতে, আহমেদ সালাবীর তথ্যই আমেরিকা, বৃটেন ও অন্যদের ইরাক দখল করার পিছনে মূল কারন হিসেবে কাজ করে। এক সময়ের দানশীল শক্তিশালী ইরাকী জাতি আজ পথের ভিখারী হলেও সালাবীরা কথিত গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করে মিলিয়ন বিলিয়ন ডলার কামিয়েছেন। খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারী ভাষ্যমতে, During the period from March 2000 through September 2003, the U.S. State Department paid nearly $33 million to the Iraqi National Congress, according to a General Accounting report released in 2004. Subsequently, Chalabi's Iraqi National Congress was paid about $335,000 per month by the Defense Intelligence Agency until May 18, 2004.
ইরাক দখল শেষ, একতরফা যুদ্ধও শেষ। তন্য তন্য করে খুজেও পাওয়া গেলনা সালাবীদের দেওয়া সেই গোপন জীবানু অস্ত্র বা মারনাস্ত্রের সন্ধান। সালাবীর তথ্য সঠিক হবার দরকার ছিল না। গত ২০০৪ ফেব্রুয়ারীর লন্ডনের দি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, We are heroes in error. As far as we're concerned, we've been entirely successful. That tyrant Saddam is gone and the Americans are in Baghdad. What was said before is not important. The Bush administration is looking for a scapegoat

সজিব ওয়াজেদ জয় তার থিসিসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে একটি মৌলবাদী বাহিনী হিসেবে চিত্রিত করার প্রয়াস পেয়েছেন। এক্ষেত্রে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ও কথিত গবেষক আনন্দ কুমার,ভাস্কর রায়, সুমন চক্রবর্তী, হিরন্ময় কার্লেকার,বিভূতি ভূষন নন্দী, জয়দীপ সায়কিয়া, বি রামন, কে পি এস গিল, সুভাষ কাপিলা, আর উপাধারন প্রমূখ যেভাবে গত পাচ-সাত বছর বিরামহীন প্রচার প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে তার একটি বর্ধিত সংস্করন বলা যায় জয়ের কথিত থিসিসকে। এক্ষেত্রে তাদের টার্গেট বাংলাদেশের স্বাধীন স্বকীয়তার অন্যতম উপাদান ইসলাম,ইসলামী শিক্ষা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং দেশ প্রেমীক সেনাবাহিনী। তাদের থিসিসে কোন উল্লেখযোগ্য তথ্যসূত্র উল্লেখ থাকে না। নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যই গবেষনামূলক প্রবন্ধ হিসেবে চালিয়ে দেন।

আহমেদ সালাবীরা হাজারো মিথ্যা তথ্য দিয়ে বুশ ব্লেয়ারদের ডেকে এনে নিজের জন্ম ভুমিকে মহাশ্মশানে পরিনত করেছে। এক্ষেত্রে অজুহাত ছিল কথিত weapons of mass destruction. জয় বা তার সহযোগীরা সেনাবাহিনীতে ইসলামী জুজুর ভয় দেখিয়ে সোনার বাংলাদেশকে কি ইরাক বা আফগানিস্তান বানানোর স্বপ্ন দেখছেন? এখানে একটা কথা না বললেই নয়, মার্কিন দখলদারদের নিরাপত্তা ও মদদে আহমেদ সালাবী উপপ্রধানমন্ত্রী হতে পেরেছিলেন ঠিকই, কিন্ত সেই দখলদার মার্কিন বাহিনীর তত্ত্বাবধানে কথিত ২০০৫ এর নির্বাচনে ইরাকী জনগন যতটুকু সুযোগ পেয়েছিল তাতে সালাবীর দল ইরাকী ন্যাশনাল কংগ্রেসকে কোন আসনই দেয়নি, ভোট পেয়েছিল মাত্র ০.৫% শতাংশ।

সূত্র: সোনার বাংলাদেশ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28877070 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28877070 2008-12-02 05:28:29
আজারবাইজানে ধর্মনিরপেক্ষ (!) সরকারের মুসলিম নিপীড়ন চরমপন্হাকে উৎসাহ দিচ্ছে
আজারবাইজানের মোট জনসংখ্যার ৯৩ দশমিক ৪ শতাংশ হচ্ছে মুসলমান। স্বাধীনতার পর থেকে সেখানে ইসলামের পুনঃজাগরণের সূচনা হয়। স্বাধীনতার স্বীকৃতি দিলেও বাংলাদেশের মতো আজারবাইজানেও বিশ্বমোড়লেরা দেশের তথাকথিত ধর্মনিরপক্ষতার পতাকা ধারী রাজনৈতিকদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রতিষ্ঠা করছে। দেশটির সেক্যুলার সরকারের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ ২০০৩ সালে তার পিতার পর একটি বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। তার বিরুদ্ধে এখন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির ধর্মীয় স্বাধীনতা লক্ষ্যণীয়ভাবে সংকুচিত করার অভিযোগ উঠেছে। তিনি মুসলমান নামধারী হয়েও নানাভাবে সোভিয়েত আমলের মতোই মুসলিম দমন-পীড়ন চালিয়ে যাচ্ছেন। আর বরাবরের মতোই আন্তর্জাতিক সংখ্যাগরিষ্ট মিডিয়ার অবহেলার স্বীকার বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম জনগোষ্টির মতো আজারবাইজানের মুসলমানদের দূর্দশার কথাও আমরা জানতে পারছি না।

প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ ইতিমধ্যে দেশটির প্রধান ইসলামিক দলকে নিষিদ্ধ করেন ও মসজিগুলো বন্ধ করে দেন। এমনকি সম্প্রতি তিনি মসজিদের চত্বরেও নামায পড়া নিষিদ্ধ করে প্রকান্তরে জনসম্মুখে নামায পড়া নিষিদ্ধ করে দেন। এমনকি ইসলামের ৫ম স্তম্ভ হজ্ব পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব ভ্রমণের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

দেশটির সাধারণ জনগণের অনেকের মতে সরকার ভুল কৌশল অবলম্বন করছে। সোভিয়েত সরকারের মত নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে সরকার আজারবাইজানের সমস্যা সমাধান করছে।

অনেকের ধারণা, সর্বত্রই সরকারের এই বাতিল নীতি হিতে বিপরীত হতে পারে। ধর্মীয় শিক্ষা প্রদানের জন্যে সরকারের কোন কর্মসূচি নেই, তাই চরমপন্থীরা শূন্যস্থান পূরণের চেষ্টা চালাচ্ছে। চরমপন্থীরা দেশের উত্তরাঞ্চলের গ্রামের পথ ধরেছে। আগস্ট মাসে রাজধানী বাকুর মসজিদে গ্রেনেড হামলাসহ সাম্প্রতিক সময় সহিংস ঘটনার সাথে জড়িত গ্রুপগুলোর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। কারণ ইসলামের সঠিক শিক্ষা তাদের দেয়া হচ্ছে না।

কয়েক দশকের সোভিয়েত দমন-পীড়নের অবসানের পর লোকজন চাচ্ছে একটু ধর্মীয় স্বাধীনতা উপভোগ করতে। বিদ্রোহ এখানে অত্যাসন্ন। প্রকৃত পক্ষে দমন নিপীড়নের মাধ্যমে মানুষের স্বাভাবিক অধিকার হরণ করে কখনও সুফল বয়ে আনা সম্ভব নয়। বিশ্বের সব জায়গায় অনুরূপ কৌশলের ফলাফল আমরা দেখতে পাচ্ছি - কাশ্মীর, প্যালেস্টাইন, মিন্দানাও (ফিলিফিন্স), পাকিস্তান, আফগানিস্তান, চেচনিয়া, সোমালিয়া, সুদান।

সূত্র: ইসলাম অনলাইন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28872018 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28872018 2008-11-21 06:01:25
সুদ নির্ভর বিশ্ব অর্থনীতির ধ্বস O শরিয়া ভিত্তিক অর্থনীতির প্রসার ।। অর্থপ্রতিষ্ঠানের পরে এবার দেশ দেউলিয়া! ছবি: (A) নিউইয়র্ক শেয়ার বাজার, (B) নিউইয়র্কে নাসডাক প্রতিষ্ঠানের বাইরে থেকে মানুষ এর বাজারের অবস্হা দেখছে, (C) পতন ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার কমাচ্ছে, (D) প্রতিদিন বেকারের সংখ্যা বাড়ছে।

হে ঈমানদারগণ! তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খেয়ো না। আর আল্লাহকে ভয় করতে থাক, যাতে তোমরা কল্যাণ অর্জন করতে পারো। (আল-কোরআন ৩:১৩০)

ভূমিকা:
মিডিয়াতে বিশ্ব অর্থনীতিতে সাম্প্রতিক ধ্বসের কাহিনী নিয়ে প্রায় ফিচার আসছে। সুদ নির্ভর বিশ্বঅর্থনীতির এই বিপর্যয়ের কারণে বিশ্বে ইসলামিক অর্থনীতি বা শরিয়া ভিত্তিক অর্থনীতির ব্যাপক প্রসার ঘটবে বলে মালেশিয়া ও বিশ্বব্যাপী অর্থনীতি বিশারদরা বলছেন।

আমেরিকা ইউরোপের অর্থপ্রতিষ্ঠান ধ্বসের সংক্ষিপ্ত খবরের পরে আমরা শরিয়া ভিত্তিক অর্থনীতির আশাপ্রদ খবরের দিকে নজর দিব।


আমেরিকার বেইল-আউট বিল:
বিশ্ব অর্থনীতির কর্ণধার আমেরিকার বড় বড় অর্থপ্রতিষ্ঠান গুলো (যেমন, ওয়াল স্ট্রিট) একের পর এক দেউলিয়া ও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সে দেশের সরকার সম্প্রতি বেইল-আউট বিল পাশ করেছেন অর্থনীতি পূনুরুদ্ধারের জন্য। কিন্তু এতে এখনো কোন সাফল্য আসেনি।


ইউরোপে ধ্বস:
এদিকে দেনার দায়ে দেউলিয়া হতে যাচ্ছে জার্মানির দ্বিতীয় বৃহত্তম বন্ধকি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান হাইপো রিয়েল এস্টেট। প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৈঠকে জার্মানির অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে ৫০ হাজার কোটি ডলারের উদ্ধার পরিকল্পনার প্রস্তাব গৃহীত হয়নি। অবশেষে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল হাইপো রিয়েল এস্টেটকে বাঁচাতে আমেরিকার মতো সরকারী বিনিয়োগ নিয়ে এগুচ্ছেন


এবার দেশ দেউলিয়া!
আমেরিকা-ইউরোপের অর্থ মন্দার প্রভাবে বিভিন্ন অর্থপ্রতিষ্ঠানের পরে এবার দেউলিয়া হতে বসেছে ইউরোপের একটি দেশ - আইসল্যান্ড। সুদভিত্তিক ব্যাংকিং খাতে বিশাল উন্নতির ফলে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মাথাপিছু আয়ের দেশ হচ্ছে আইসল্যান্ড! কিন্তু তাদের মুদ্রার মান এখন এক লাফে নেমে অর্ধেকে গিয়ে ঠেকেছে। ধারদেনায় জর্জরিত হয়ে একের পর এক ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাংক ল্যান্ডসব্যাংক ও গ্রাহকের সাথে সবরকম লেনদেন স্হগিত করেছে। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ব্যাংকটি জাতীয়করণের ঘোষণা দেয়।


বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংক গুলোর সুদের হার হ্রাস!
তীব্র অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে বিশ্বের প্রধান প্রধান নয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কমিয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ, হংকং, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংক, কানাডা, সুইডেন, চীন ও সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পাশ্চাত্যের অর্থনীতিতে ধ্বসের হাওয়া লাগতে পারে আমাদের বাংলাদেশেও। সেজন্য বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের নির্বাহীদের ইতিমধ্যে এ বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছে


জাপানে সুদের হার সর্বনিম্ন:
আমেরিকার পরে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ জাপানে সুদের হার বিশ্বের সর্বনিম্ন, মাত্র ০.৫ শতাংশ। তাই তাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদ কমানোর কোন উদ্যোগ নেয়নি।


শরিয়াভিত্তিক অর্থনীতি:
খুব হিসাব নিকাশের দরকার নেই। বড় অর্থনীতিবিদ হওয়ার দরকার নেই বিষয়টি বুঝার জন্য। বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক সুদের হার হ্রাস প্রমাণ করে, সুদহীন ব্যবসা সবচেয়ে বেশি স্হিতিশীল।


বিশ্বব্যাপী শরিয়াভিত্তিক অর্থনীতির সাম্প্রতিক প্রভাব বিষয়ক কতিপয় খবর তুলে ধরছি:

১.
ইন্টারন্যাশনাল হ্যারাল্ড ট্রিবিউনে উমেশ দেশাইয়েরINVESTING: Islamic finance offers safeguards to investors রিপোর্টে বলা হয়েছে, শরিয়াভিত্তিক অর্থনীতির স্বচ্ছতা ও শক্ত ভিত এখন বিশ্ব অর্থনীতি ধ্বসে আক্রান্ত বিনিয়োগকারীদের আকর্ষন করছে। ফলে সুদ ভিত্তিক ঋনী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এ এক মহা বিপদ সংকেত!

বিনিয়োগকারীরা বলছেন, ইসলামী অর্থনীতি প্রচলিত সুদভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ে অনেক বেশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। ফলে বিনিয়োগকারীরা এটা বুঝতে পারেন, কখন একটা অর্থপ্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হতে পারে। এছাড়া ইসলামী অর্থনীতিতে অর্থপ্রতিষ্ঠানও একজন বিনিয়োগকারী। ফলে সকল বিনিয়োগকারীর সমন্বিত প্রচেষ্ঠায় যেকোন সংকট দ্রুত কাটিয়ে উঠা সম্ভব।

২.
আমিরাত বিজনেসের West eyes Islamic finance market share রিপোর্টে লেখা হয়েছে, পশ্চিমা অর্থপ্রতিষ্ঠান গুলো এখন ক্রমেই শরিয়াভিত্তিক অর্থনীতির দিকে ঝুঁকছে। কুয়েতের ফিনান্স হাউস বলছে, ২০১০ সালের মধ্যে শরিয়াভিত্তিক অর্থনীতির সর্বমোট সম্পদ হবে ১ ট্রিলিয়ন ডলার, যা বর্তমানে ৭৫০ বিলিয়ন ডলার।

৩.
মালেশিয়ার দ্য স্টারের Islamic finance strong despite global credit crisis রিপোর্টে বলা হয়েছে সাম্প্রতিক বিশ্ব অর্থনীতি ধ্বসের দাগ শরিয়াভিত্তিক অর্থনীতি এখনও অনুভব করেনি। ব্যাংক নেগারার গভর্ণর মিসেস জেতি আখতার আজিজ এক বিবৃতিতে অনুরূপ কথা বলেন। তিনি বলেন, ইসলামী অর্থনীতি সবসময় একটি প্রডাক্টিভ খাতে (প্রজেক্ট) অর্থ বিনিয়োগ করে এবং প্রজেক্ট থেকে উদ্ভূত লাভ-ক্ষতি শেয়ারের কারণে ইসলামী অর্থ প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বসের আগেই উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করছে।


উপসংহার:
অতএব এটা নিশ্চিত ভাবেই বলা যায়, বিশ্বের সুদভিত্তিক অর্থনীতির মন্দাভাব শরিয়াভিত্তিক অর্থনীতিতে মানুষের আস্হার সৃষ্টি করছে। এর ফলে আশা করা যায়, ভবিষ্যতে বিশ্বের মানুষ এরকম অর্থনৈতিক ধ্বস থেকে রেহাই পাবে।

ইসলামী শরিয়া তাই বলছে।
হে ঈমানদারগণ! তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খেয়ো না। আর আল্লাহকে ভয় করতে থাক, যাতে তোমরা কল্যাণ অর্জন করতে পারো। (আল-কোরআন ৩:১৩০)

অথচ শরিয়াভিত্তিক অর্থনীতি সম্পর্কে জ্ঞানের অভাবে মানুষ নেগেটিভ ধারণা পোষণ করে।
... তারা বলেছেঃ ক্রয়-বিক্রয় ও তো সুদ নেয়ারই মত! অথচ আল্লা’হ্‌ তা’আলা ক্রয়-বিক্রয় বৈধ করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন। ... (আল-কোরআন ২:২৭৫)

এছাড়া এটা আল্লাহর ইচ্ছা যে, সুদকে তিনি ধ্বংস করে দিবেন।
আল্লাহ্‌ তা’আলা সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দান খয়রাতকে বর্ধিত করেন। ... (আল-কোরআন ২:২৭৬)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28852557 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28852557 2008-10-09 08:42:26
আউটলুক (ইন্ডিয়া) এর প্রতিবেদন: ২০০৩ সাল থেকে মসজিদে বোমা হামলার সাথে বজরং দল দায়ী Some Bombs Get Defused: Just who is a terrorist? Definitions change when it comes to the Hindutva extreme. (এটা দুই পৃষ্ঠা ব্যাপী ফিচার। পাঠকদের কষ্ট করে পড়ার অনুরোধ করছি।)

আবারো হাঁটে হাঁড়ি ভাঙলো। আসল ঘটনা বের হল। হিন্দু মৌলবাদী বজরং দলের (the militant youth wing of the Vishwa Hindu Parishad - VHP) দুজন কর্মী বোমা বানাতে গিয়ে বোমা বিস্ফোরনে নিহত হয়। সরকার কর্তৃক এই ঘটনা তদন্তে প্রমাণিত হলো ২০০৩ সাল থেকে বিভিন্ন মসজিদে হামলা সহ অনেক সন্ত্রাসী কাজকর্মে এ দলটি প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। এর প্রশিক্ষিত কর্মীরা কাজ সমাধা করে মুসলিম সেজে (দাঁড়ি, টুপি লাগিয়ে) এবং কাজ শেষে বিভিন্ন মিডিয়ায় বিভিন্ন মুসলিম সংঘটনের নামে দায়িত্ব স্বীকার করে।

ক. ঘটনা: ২০০৬ সালের এপ্রিলে মহারাস্ট্রের নান্দেদে আরএসএস এর এক সদস্যের বাড়িতে বোমা বানাতে গিয়ে বাড়ির মালিক সহ ২ জন মারা যায় এবং ৪ জন আহত হয়। এরা সবাই বজরং দলের কর্মী।

খ. তদন্ত প্রতিবেদন: উপরের ঘটনায় মহারাস্ট্রের এন্টি টেররিজম স্কোয়াড় (Maharashtra Anti-Terrorism Squad’s - ATS) এর তদন্তে যা বের হলো:

১. বজরং দলের কর্মীরাই সেই বাড়িতে বোমা বানাচ্ছিল,

২. তাদের লক্ষ্য মসজিদ। ২০০৩ সাল থেকে ৩ টি মসজিদে তারা বোমা হামলা চালিয়েছে (Mohammadiya Masjid in Parbhani ~November 2003~, Quadriya Masjid in Jalna ~August 2004~, Meraj-ul-Uloom Madrassa/Masjid in Purna ~August 2004~),

৩. ২০০৮ এর আগস্টে কানপুরে অনুরূপ একটি ঘটনায় কানপুরে বজরং দলের কর্মীরা বোমা বানাতে গিয়ে আবারো ২ জন নিহত হয় (ছবি দুটি কানপুরের এই ঘটনার),

৪. এদের একজন ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের নামে ই-মেইল লিখে আল-আরাবী নাম দিয়ে,

৫. উল্লেখিত বাড়ি গুলোতে নকল দাঁড়ি, মোজ ও শেরওয়ানী পাওয়া গেছে বজরং দলের কর্মীরা যেগুলো ব্যবহার করে (মুসলিম সেজে) ঘটনাস্হলে যেতো,


গ. উপসংহার:
আসলে ভারতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা অনেকটা নিয়মিত ঘটনা। সপ্তাহে না হলেও মাসে অন্তত: একবার পত্রিকায় বোমা হামলায় মানুষ আহত-নিহত হওয়ার ঘটনা ছবি সহ শোভা পায়। বরাবরের মতো ভারতের সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের উপর দোষ চাপায়। সাম্প্রতিক বোমা হামলার পরে সবচেয়ে দু:খজনক ঘটনা হলো ৭ জন বাংলাদেশী কে হুজি বা হিজবুত তাহরী কর্মী সাজিয়ে ভারতীয় আর্মিরা গুলি করে হত্যা করে। আমাদের দেশের পত্রিকাগুলো এসব ফলাও করে প্রকাশ করে। কিন্তু আমাদের সরকারের ভারতের প্রতি নতজানু নীতি ও মিডিয়াগুলোর দেশপ্রেমের অভাবে অন্যান্য ইস্যুসহ ইস্যুতেও একটি শক্তিশালী অবস্হান নিতে বারবার ব্যর্থ হ্ই।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28850568 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28850568 2008-10-03 07:18:48
ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশীদের মুছে দেবোঃ আদভানি মানবজমিনের লিডিং খবরটা মিস করেন, এজন্য এই পোস্ট।

গুয়াহাটির এক জনসভায় ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র নেতা লালকৃষ্ণ আদভানি বলেছেন, আমরা ড়্গমতায় গেলে বাংলাদেশীদের মুছে দেবো। তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে ‘অপদার্থ’ বলে অভিহিত করেছেন। বলেছেন, মনমোহন নাচেন দলনেত্রীর সুতোর টানে। দিলিস্নর মেহরৌলিতে বোমা বিস্ফোরণের জন্য তিনি ‘অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশী’দের দায়ী করে বলেন, আসামের দুই সমস্যা- বাংলাদেশীদের বন্যা ও ব্রহ্মপুত্রের বন্যা। আমি জানতে পেরেছি মেহরৌলির বিস্ফোরণ ক’দিন আগে হওয়া দিলিস্ন, ব্যাঙ্গালোর বা আহমেদাবাদের বিস্ফোরণের মতো নয়। এটি বাংলাদেশীদের করা। দলে দলে বাংলাদেশী আসামে ঢুকছে। লালকৃষ্ণ আদভানি আরও বলেন, এদের অনেককেই পাঠা"েছ আইএসআই। অথচ রাজ্যের সরকার তা জেনেও মানতে রাজি নয়। গতকাল ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা এ খবর দিয়ে ‘আদভানির নিশানা বাংলাদেশীরাই’ রিপোর্টে আরও জানায়-

একেবারে দুয়ে দুয়ে চার। দিলিস্নর মেহরৌলির বিস্ফোরণের পেছনে বাংলাদেশীদের হাত রয়েছে বলে সন্দেহ করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সন্দেহের আঙুল দিলিস্নতে বসবাসকারী অবৈধ বাংলাদেশীদের দিকেই। আবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকার সময় দিলিস্ন থেকে বাংলাদেশী হটানোর ডাক দিয়েছিলেন যিনি, সেই লালকৃষ্ণ আদভানি সোমবার হাজির আসামের জনসভায়। যে রাজ্য ‘বাংলাদেশী খেদাও’ আন্দোলন নিয়ে গনগনে হয়ে রয়েছে। মেহরৌলির বিস্ফোরণ কার্যত আসামের কংগ্রেস সরকারের বিরম্নদ্ধে আদভানির হাতে তাজা অস্ত্র তুলে দিল। গুয়াহাটিতে আয়োজিত জনসভায় তিনি বলেন, ‘আসাম ও উত্তর-পূর্বে দলে দলে ঢুকতে থাকা বাংলাদেশীরা এভাবেই গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ে নাশকতার ছক কষছে। সব জেনেও বসে রয়েছে কংগ্রেস। আমরা ড়্গমতায় এলে বাংলাদেশীদের মুছে দেবো।’ গুয়াহাটিতে বিজয় সংকল্প সমাবেশে বক্তৃতা দেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। বিশ হাজারি ভিড়ের কাছে তার প্রতিশ্রম্নতি, আমরা ড়্গমতায় এলে হিন্দু ও মুসলিম সব ধর্মে সমান গুরম্নত্ব দিয়ে তীর্থ স্হানগুলোর জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় গড়বো। অনুপ্রবেশ থেকে মূল্যবৃদ্ধি, সবের পেছনেই ‘মেরম্নদণ্ডহীন মনমোহন সিংহ’-এর ভূমিকা রয়েছে বলে আদভানির মত। আদভানি বলেন, অবিভক্ত সোভিয়েত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট বুলগানিন ও কমিউনিস্ট পার্টির সম্পাদক ক্রুশ্চেভ যখন জয়পুরে আসেন, তখন ওই দেশ থেকে বলে দেয়া হয়েছিল, প্রোটোকল যাই হোক না কেন, কমিউনিস্ট দেশে প্রেসিডেন্টের থেকে দলীয় সম্পাদকের মান বেশি। তাই অভ্যর্থনা থেকে আপ্যায়ন, সব ক্ষেত্রেই ক্রুশ্চেভকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়। এই দেশে মনমোহন-সোনিয়া যেন বুলগানিন আর ক্রুশ্চেভ। কারণ ৭ নম্বর রেসকোর্স থেকে আজ ক্ষমতার কেন্দ্র ১০ জনপথের বাড়িতে। তিনি বলেন, আমি আদতে করাচির লোক। দেশভাগের পর থেকে সব প্রধানমন্ত্রীকে দেখলাম, তিনটি মন্ত্রিসভাতেও ছিলাম। মনমোহন সিংহ সৎ, ভাল মানুষ সন্দেহ নেই। কিন্’ দলনেত্রীর সুতোয় নাচা এমন অপদার্থ প্রধানমন্ত্রী আগে দেখিনি। মেহরৌলির বিস্ফোরণ ও শিলং থেকে তাকে প্রাণে মারার হুমকি দেয়ার সূত্র টেনে আদভানি যা বলেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও একই কথা মনে করছে। তাদের বক্তব্য, কাল মেহরৌলির বিস্ফোরণের সঙ্গে সিমি বা ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনদের বিস্ফোরণ পদ্ধতিতে কোন মিল নেই। এই দুই দল পরিকল্পনা মাফিক প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে উচ্চমানের বিস্ফোরকের সাহায্যে বিস্ফোরণ ঘটায়। কিন্তু মেহরৌলির ঘটনা যেন বেপাড়ার দুষ্কৃতিদের বোমাবাজির মতো। সেখানে পটাসিয়াম ক্লোরাইড ও নাইট্রোজেনের সঙ্গে সালফিউরিক এসিড মিশিয়ে বিস্ফোরক বানানো হয়েছে। বোমার ড়্গতি করার ড়্গমতা বাড়াতে ব্যবহার করা হয় পেরেক, ঘুড়ির মাঞ্জার মতো স্প্লিন্টার। দিলিস্ন পুলিশের বক্তব্য, বোমায় ব্যবহৃত অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বাজারে সহজলভ্য। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের খবর, দড়্গিণ দিলিস্নতে বিস্ফোরণের পরে জুলাই-আগস্ট নাগাদ গোয়েন্দারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে রিপোর্ট দিয়েছিল যে, দিলিস্নতে বসবাসকারী বিরাট সংখ্যক বাংলাদেশীর একটি অংশের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদীদের যোগাযোগ রয়েছে। ১৯৯৭ সালে পরপর বিস্ফোরণের পরে প্রায় ৫০ জন বাংলাদেশীকে আটক করা হয়েছিল। তখনই এই তথ্য জানা যায়। ২০০৭ ও ২০০৮ সালে এদের বিরম্নদ্ধে গোয়েন্দারা বারবার রিপোর্ট দিয়েছেন। হুজি’র সঙ্গে এদের যোগাযোগ নিয়েও বহু রিপোর্ট জমা পড়েছে। জানানো হয়েছে বহু বাংলাদেশীর সন্ধান মিলছে না।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28850311 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28850311 2008-10-02 07:15:40
ইসি'র উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবিধান বিরোধী গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধনের উদ্দেশ্য কি? ক. ভূমিকা:
আপাত: দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করলেও, সুস্হ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকার ও ইসি আন্তরিক নয়। খালেদা-হাসিনা-নিজামীকে মুক্তি দিলেও, সম্প্রতি হাসিনার বিরুদ্ধে একটি মামলায় জামিন না হওয়া এবং খালেদা-নিজামীর বিরুদ্ধে আরেকটি মামলার চার্জশীট আদালতে উপস্হাপনে দুদকের প্রস্তুতি থেকে প্রতীয়মান - নির্বাচনের আর আড়াই মাস বাকী থাকলেও দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে সরকার ও ইসি নির্বাচনী কর্মসুচীর পরিবর্তে সরকারের বিরুদ্ধে দাবী-দাওয়া আদায়ের কর্মসূচী দিতে বাধ্য করছে। যার ফলে, নির্বাচন নিয়ে সংশয় ও গণতন্ত্রের উত্তরণের আশু সম্ভাবনা নেই বলে অভিজ্ঞমহল মনে করছেন।

এর মধ্যে সবচেয়ে বড় বাঁধার সৃষ্টি করেছে, ইসি স্বয়ং। নির্বাচনের তিন মাস আগে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে রাজনৈতিক দলগুলোর রেজিষ্ট্রশনের কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছে। এর মধ্যে কিছু শর্ত দেশের সংবিধান বিরোধীও বটে। আজকের লেখায় ইসির সংবিধান বিরোধী শর্তগুলো আলোচনা করা হলো।


খ. ইসি কর্তৃক সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ (সংশোধনী)অধ্যাদেশ-২০০৮:

৯০/সি, উপধারা ১:
নিম্নলিখিত অধ্যাদেশে বর্ণিত বিধানে যেসব দল নিবন্ধনের অযোগ্য বিবেচিত হবে, যদি-
ক. যে সব দলের গঠনতন্ত্রের কোনো ধারা বা উপধারা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়।

খ. কোনো দলের গঠনতন্ত্রের ধারা-উপধারায় ধর্মীয় প্রাধান্য বা বৈষম্য বা ভাষাগত বৈষম্য বা নারী-পুরুষের বৈষম্য থাকে।

গ. দলের নাম, পতাকা, প্রতীক অথবা অন্য কোন কর্মকাণ্ড সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য ভীতিকর অথবা দেশকে কোনো বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে পারে।

ঘ. দলের অফিস বা শাখা বা কমিটির কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের মূল চেতনার পরিপন্থী হলে।


গ. বাংলাদেশ সংবিধানে কি আছে:
বাংলাদেশের সংবিধানের ২৬(২) ধারায় বলা হয়েছে রাষ্ট্র সংবিধানের এই ভাগের কোন বিধানের সাথে অসামঞ্জস্য কোন আইন প্রণয়ন করে না এবং অনুরূপ কোন আইন প্রণীত হলে তা এই ভাগের মৌলিক অধিকার পরিপন্হী। কোন বিধানের সাথে যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ ততখানি বাতিল বলে গণ্য হবে। সংবিধানের ২৮(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষ ভেদে বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করে না। সংবিধানের প্রস্তাবনার শুরুতেই বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বলে শুরু হয়েছে। সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বলে স্বীকার করা হয়েছে। সংবিধানের প্রস্তাবনায় রাষ্ট্র পরিচালনার ৪টি মৌলিক নীতির কথা বলা হয়েছে। তার মধ্যে দ্বিতীয়টিই হলো সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের কথা বলা হয়েছে।


ঘ. ইসির গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধনীর উদ্ধেশ্য কি?:
অতএব, সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের নামে নির্বাচন কমিশন (ইসি) বিভিন্ন ইসলামী রাজনৈতিক দলসমূহের নিবন্ধন এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার বাইরে রাখার যে পরিকল্পনা নিয়েছে তা দেশের সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক। এ ধরনের আইনের মাধ্যমে নাস্তিক কমিউনিস্ট ও তথাকথিত ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদীদের হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে ব্রতী হয়েছে ইসি। একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে নির্বাচনের বাইরে রাখা অথবা ক্ষমতায় আসতে না দেয়ার হীন উদ্দেশ্যে এই আইন করা হয়েছে।

উল্টোভাবে বলা যায়, ইসলামের সাথে সম্পূর্ণ বিরোধিতাকারী নাস্তিক কমিউনিস্ট বা ধর্ম নিরপেক্ষতার নামে সেক্যুলার কোন দলের নিবন্ধন হতে পারে না এমন আইন প্রণয়ন সংবিধান সমর্থন করে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের মত একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সংবিধান বিরোধী আইন প্রণয়ন করেছে। তাদের উদ্দেশ্য হলো একটি বিশেষ গোষ্ঠীর প্রেসক্রিপশন বাস্তবায়ন করা।


ঙ. উন্নত বিশ্বে ধর্মীয় রাজনৈতিক দল:
ধর্মের নামে দল থাকতে পারবে না এমন আইন পৃথিবীর কোন গণতান্ত্রিক দেশে নেই। জার্মানীর মত ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টি বর্তমানে ক্ষমতাসীন। এর আগেও এই দল ক্ষমতায় ছিল। জাপানিজ বুদ্ধিষ্ট পার্টি জাপানের প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই খৃস্টান ধর্মের নামে দল রয়েছে। জন এফ কেনেডি ছাড়া সকল প্রেসিডেন্টই ছিলেন প্রটেস্টান। ইংল্যান্ডের রাজা প্রটেস্টান খৃস্টান পার্টির।

এসব উন্নত গণতান্ত্রিক দেশে ধর্মীয় দল থাকতে পারলে, বাংলাদেশে থাকতে কার্যত কোন অসুবিধা নেই। বরঞ্চ না থাকতে দেয়াটা বাংলাদেশের সংবিধান বিরোধী।


চ. উপসংহার:
সরকার কর্তৃক নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার মাধ্যমে গণতন্ত্রে উত্তরণের যে সম্ভাবনা দেশের মানুষের মাঝে জেগেছিল, এক সপ্তাহের মাঝেই তা ফিকে হয়ে গেল। সংবিধান বিরোধী তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও ইসি ক্ষমতার পুরো দেড়-দুই বছর জুড়ে নানান কাজ-কর্মে ও কথায় নিজেদের বিতর্কিত করছে। এমতাবস্হায় নির্বাচন নির্দিষ্ট সময়ে না করে নির্বাচন পেছানোর প্লাটফরম সরকার নিজেই তৈরী করছে বলে অনেকে মনে করেন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28849610 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28849610 2008-09-30 06:54:46
শ্রদ্ধাঞ্জলী বনাম শ্রদ্ধাঞ্জলি
যতদুর জানি, শব্দটি 'শ্রদ্ধাঞ্জলি' হবে, 'শ্রদ্ধাঞ্জলী' নয়।

হাইস্কুল জীবনে হেড মাস্টার কর্তৃক বাংলা ক্লাসে নতুন নতুন বাংলা শব্দ শেখা ও বানান ভুলের মাশুল হিসেবে নম্বর কর্তনের কথা মনে পড়ে গেল। যেমন, বাঞ্চনীয় ও অবাঞ্চনীয় শব্দদ্বয়ের বানান, মানে ও ব্যবহার বুঝতে আমাদের অনেকের কষ্ট হয়েছিল।

তাছাড়া, কয়েক বছর আগেও 'শ্রদ্ধাঞ্জলি' শব্দটি নিয়ে জাতীয় দৈনিক গুলোতে হৈ চৈ পড়ে গিয়েছিল। সম্ভবত: কোন এক মরহুম জাতীয় নেতার প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি বা মানপত্রের ব্যাপারে লেখা হয়েছিল।

আশা করি, কর্তৃপক্ষ বানান ভুলের বিষয়টির দিকে নজর দিবেন।

ধন্যবাদ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28849209 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28849209 2008-09-29 10:00:02
১/১১ কে কাছ থেকে দেখা প্রেসিডেন্টের সাবেক উপদেষ্টা মোখলেস চৌধুরীর এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার 1/11 is nothing but 1 uses to be the president and other 11 are being used for the purpose.

জাতীয় নেতা ও সেনাবাহিনী প্রধান সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য:

- ১/১১ এর কথা খালেদা জিয়া বিশ্বাস করেননি।

- শেখ হাসিনা জানতেন ১২ জানুয়ারী ২০০৭ এর মধ্যে মার্শাল ল’ হবে।

- ড. কামাল হোসেন, বি. চৌধুরী এবং কর্নেল অলি দীর্ঘদিন থেকে এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর জন্য ইন্ধন দিয়ে যাচ্ছিলেন।

- সর্বোপরি, ১/১১ হল একজন দূর্নীতিবাজ উচ্চবিলাসী সেনাপ্রধান ম ইউ আহমেদের প্রেসিডেন্ট হওয়ার আকাঙ্খা।

" তিনি (ম ইউ আহমেদ) এই কাজগুলো করছেন। দীর্ঘ সময় ধরে পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি কাজ করছেন প্রেসিডেন্ট হবার জন্য এবং রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবার জন্য। খন্দকার মোস্তাক আহমেদ যখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন তখন লেফটেন্যান্ট ম ইউ আহমেদ মোস্তাক সাহেবের সিকিউরিটির দায়িত্ব পালন করেছিলেন বেশ কয়েক দিন বঙ্গভবনে। তার সহকর্মীরা বলেন, ম ইউ আহমেদ নাকি দুর্নীতির মাধ্যমে সেনা বাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। তার যে উচ্চতা সেটা দেখলেই বুঝতে পারবেন একজন সেনা বাহিনীর কর্মকর্তা হবার উচ্চতা তার নেই। কিন্তু কীভাবে তিনি সেনা বাহিনীতে ঢুকলেন? অনেকেই বলেন, তিনি প্রথম দিনই ঢুকেছিলেন দুর্নীতির মাধ্যমে এবং তার সম্পর্কে মাহমুদুর রহমান বলেছেন-তার বড় ভাই ইকবাল ইউ আহমেদ ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি। সেনা প্রধানের ভাইতো এই রকম পোস্টে থাকতে পারেন না বিধি অনুযায়ী। এ ব্যাংক থেকে তিনি বা তার আতীয়- স্বজন কত টাকা নিয়েছেন, দেশে বিদেশে কী করছেন, কোন ব্যবসায়ী এজেন্টের সাথে রয়েছেন- এইগুলো সবাই জানেন। তিনি কত লোন নিয়েছেন এবং ফেরত দিয়েছেন, কোথায় থেকে এসেছে- এ সবই পত্র পত্রিকায় এসেছে। এখন নিজে দুর্নীতিবাজ হয়ে জাতিকে দুর্নীতি মুক্ত করবেন এমন কথা যদি কেউ মনে করেন- তাহলে এটুকু বলতে চাই­ আগে নিজে সৎ হন তারপর অন্যকে সৎ হতে বলুন। এখন তারা ক্ষমতার লোভে অন্ধ হয়ে গিয়েছেন। আল্লাহ বলেছেন সীমা লংঘন করো না, আমি সীমা লংঘনকারীদের বরদাস্ত করি না। কিন্তু তারা প্রতিনিয়ত সীমা লংঘন করছেন। যাদের যে কাজ তারা সেই কাজ করছেন না।

বিস্তারিত সাক্ষাতকার পড়ুন: খবরের প্রবাস পাতায়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28849178 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28849178 2008-09-29 07:08:33
‘না-এর শক্তি তুমি জানো’ - ডালিয়া সাত্তার ব্যাথায় কাতর সন্তানের মুখ,
সাপের ফণার মতো ছোবলরত বিষধর মিডিয়া-
সব কিছু উপেক্ষা করে
তুমি বলেছো ‘না’।

জনগণের পায়ে বেড়ি দেয়ার,
বিশ্বাসঘাতকতা, আঁতাত আর কৌশলে ক্ষমতার শিকে ছেঁড়ার
সকল লোভকে তুমি
তিতুমীরের ঈমান
বখতিয়ারের সাহস
আর নূর হোসেনের দেশপ্রেম দিয়ে
বলে দিয়েছো ‘না’।

কেননা ‘না’-এর শক্তি তোমার জানা-
কালেমার শুরু হচ্ছে ‘না’,
বাহান্নর শ্লোগান ছিল ‘না’,
একাত্তরের মন্ত্র হলো ‘না’।
‘না’-এর শক্তিবলেই তুমি তাড়িয়েছিলে
সিন্দাবাদের বুড়ো শয়তানের মতো
বাংলাদেশের কাঁধে জেঁকে বসা
বেহায়া স্বৈরাচার।

এবারো তুমি
‘না’-এর উপর দাঁড়িয়ে রয়েছো অবিচল।
দেখবে সব সব বেঈমান পালিয়ে যাবে,
মেরুদণ্ডহীন সরীসৃপের দল
মাটিতে গড়াগড়ি করতে করতে
লুকাবে গিয়ে অন্ধকার গর্তে,
আর ছিন্ন হয়ে যাবে
মাকড়সার জালের মতো
বিস্তৃত সকল ষড়যন্ত্রের জাল।

জেনে রেখো সাহসীর বীরত্বগাথাই গড়ে দিয়েছে
চিরন্তন বাংলাদেশের ইতিহাস।’]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28842010 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28842010 2008-09-12 06:33:02
লতিফুরকে অসৎ বলায় আলো-স্টার সংক্ষুদ্ধ! আগের পোস্ট

সুনিতা পালের
When the media turns into evil লেখার ফলোআপ হিসেবে গতকাল দৈনিক আমারদেশে
বাংলাদেশের মিডিয়ায় উলফার বিনিয়োগ! শিরোনামের রিপোর্টের পরে আজকের আমাদেরদেশে প্রথমআলো-ডেইলি স্টারের প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের মন্তব্য ছাপা হয়েছে।

প্রতিবাদে লতিফুর-মতিউর-মাহফুজ লতিফুরকে অসৎ বলায় সংক্ষুদ্ধ হয়েছেন! প্রতিবেদকের বক্তব্যে লতিফুর-মতিউর-মাহফুজের সততাকে আবারো প্রশ্নবিদ্ধ করে বলা হয়েছে, ২০০৭ সালের ২৮ শে সেপ্টেম্বর আলো-স্টারে প্রকাশিত শীর্ষ ৮০ দূর্নীতিবাজদের তালিকায় লতিফুরের নাম ৪০ নাম্বারে কিভাবে আসল?

আমি যতটুকু দেখেছি, আমাদেরদেশের গতকালের লেখাটি পুরোপুরি সুনিতা পালের আমেরিকান ক্রনিকলে লেখা থেকে নেয়া। আমাদের দেশে গতকালের লেখা আসার অনেক আগেই ইন্টারনেটে অন্যান্য ম্যাগাজিনে সুনিতার মূল লেখা বা এর ফলোআপ এসেছে। যেমন, আসাম ট্রিবিউন। আলো-স্টার আসাম ট্রিবিউনে প্রতিবাদও করেছে, ছাপানো হয়েছে (২৮ আগস্ট ২০০৮)। ভাল কথা। কিন্তু লতিফুর-মতিউর-মাহফুজ আসাম ট্রিবিউনে প্রতিবাদ পাঠানোর চেয়ে অনেক আগেই কেন আমেরিকান ক্রনিকলে সুনিতার মূল লেখার প্রতিবাদ পাঠালো না? আমাদের দেশের আজকের প্রতিবাদে এরা উল্লেখ করেনি যে এরা মূল লেখার প্রতিবাদ করেছে বা তা উমুক তারিখে ছাপানো হয়েছে। মূল লেখা প্রকাশিত হয়েছে ৯ জুন ২০০৮ তারিখে

আমেরিকান ক্রনিকল তো আর বাংলাদেশ ভারতের মানুষ পড়ে না! সম্ভবত: নিজেদের দূর্বলতা গুলো দেশের লোকদের ও দাদাদের চোখে পড়ে যাওয়ায় লজ্জায় পড়ে প্রতিবাদ পত্র পাঠিয়েছে!

গতকাল আমার পোস্টের পরে অনেকে বলেছেন, আলো-স্টার হলো ইন্ডিয়ার দালাল আর উলফা হলো ইন্ডিয়ার বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপ। তাই দু'বিপরীত পার্টি থেকে টাকা নিয়ে চামচামি করা অসম্ভব ব্যাপার হতে পারে। কিন্তু লতিফুর হলো একজন খাঁটি ব্যবসায়ী! আর আপনারা স্বীকার করবেন যে, এরকম বেশিরভাগ ব্যবসায়ীর সততার ব্যাপারে আমার আপনার মনে প্রশ্ন সবসময়ই আছে। বিএনপি পন্হী ব্যবসায়ী হয়েও তিনি ও তার মিডিয়া আগাগোড়া আওয়ামী-বাম-ভারতের স্বার্থ রক্ষা করছেন। এরা ব্যবসা ও সাংবাদিকতা করে দেশ সেবার জন্য নয়। এরা এসব করে টাকার জন্য। যত টাকা তত লাভ, তা যে পথেই আসুক! এ হল এদের থিউরী।

মনে পড়ছে, ইত্তেফাকে প্রকাশিত হয়, এক জাতীয় নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনা 'র' ও 'আইএসআই' দুই বৈরী দেশের গোয়েন্দা থেকে ডোনেশন মানি নিয়েছেন!

শেখ হাসিনা পারলে, লতিফুর পারবে না কেন? রাজনীতি, ব্যবসা, মিডিয়া সবই এদের কাছে ব্যবসা - টাকা বানাবার হাতিয়ার! দেশ সেবার মাধ্যম নয়!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28838989 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28838989 2008-09-05 07:57:09
ট্রান্সকম (আলো-স্টার) গ্রুপ চলে উলফার টাকায়!! When the media turns into evil

গতকাল দৈনিক আমারদেশে এর একটি ফলোআপ এসেছে।
বাংলাদেশের মিডিয়ায় উলফার বিনিয়োগ! শিরোনামে। ভারতের মিডিয়াতে একই ধরনের খবর দেখুন।

এরআগে বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় সুনিতার লেখাটি ঝড় তুলেছে। এই ব্লগেও হয়তো অনেক লেখা এসেছে। আমি আজকে আলো-স্টার-উলফার লগো দেখে কিছু মিল খুঁজে পেলাম। তা পাঠকদের সাথে শেয়ার করতে চাই।

আলো-স্টার-উলফার লগো দেখে আশ্চর্য হলাম এজন্য যে, তিন প্রতিষ্ঠানই প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেছে আলো/সূর্য/তারকা! রঙ্গীন লগোতে আলো-উলফার দুটি একই রঙ! আর প্রথমআলোর লগোতে ৫ টি উর্ধমূখী আলোক রশ্মি, উলফার লগোতেও ৫টি (উর্ধমূখী) পূর্ণ আলোক রশ্মি! স্টারের ৫ টি উর্ধমূখী ও দুটি লেফ্ট-রাইট (উলফার মতো), প্লাস ৫ টি নিম্নমূখী। আর আয়না নামক যে FM রেডিও স্টেশনের মালিকানা উলফার অর্থে ট্রান্সকম গ্রুপ সম্প্রতি লাভ করেছে তার সাথে 'আলো' বিষয়টি জড়িত! 'আলো' ছাড়া আয়নাতে কিছু দেখা যায়না।

এই বিষয়গুলো কাকতালীয় হলেও, সুনিতা পালের লেখার বিশ্বাসযোগ্যতা কিছুটা হলেও বাড়িয়ে দিচ্ছে! সুনিতার লেখায় এসেছে, উলফা লতিফুর রহমানকে দিয়ে ডেইলিস্টারের শেয়ার কিনে নেয় ও পরে প্রথমআলো প্রতিষ্টা করে। এজন্য প্রথমআলোর সাথে এত বেশি মিল!

বিস্তারিত জানার জন্য অবশ্যই সুনিতা পালের মূল ইংরেজি লেখাটি পড়তে ভূলবেন না। ধন্যবাদ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28838553 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28838553 2008-09-04 06:55:13
এ কোন অপসংস্কৃতির প্রচলন করছে প্রগতিবাদীরা! বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে মোমবাতি প্রজ্জলন করে ২১শে আগষ্টের গ্রেনেড হামলায় হতাহতদের স্মরন করা হয় মোমবাতি জ্বালিয়ে। ছবিসূত্র: প্রথমআলো, ২২-০৮-২০০৮।

আজকাল প্রায়ই পত্রিকায় দেখা যায়, কোন কোন শোক দিবসে মোমবাতি জ্বালিয়ে শোক পালন করা হয়। অনেক সময় মোমবাতি জ্বালিয়ে রবীন্দ্রনাথের গান, 'আগুনের পরশমনি ছোঁয়াও প্রাণে' সমবেত কন্ঠে গেয়ে অনুষ্ঠান শুরু করা হয়। আর প্রগতির ধ্বজাধারী একশ্রেণীর মিডিয়াফলাও করে সেগুলো প্রচারও করে! আমাদের কেউ কেউ এসব অনুষ্ঠানে গিয়ে বুঝে বা না বুঝে এসব ফলো করি।

আগুন নি:সন্দেহে মহান আল্লাহর একটি সৃষ্টি। এর তাপ ও আলোক শক্তি রয়েছে। মানুষের উপকারে লাগে। কিন্তু ভ্রান্ত আকীদার ধারকরা প্রাচীনকাল থেকে মানুষের মাঝে অগ্নিপূজা, সূর্য পূজা চালু করেছে। মহানবীর (সা: ) সময় ইরানের মানুষরা ছিল অগ্নি পূজক।

এসব মুশরিকি সংস্কৃতি একদিনে শুরু হয় না। কেউ কেউ 'ছোট' একটি গন্ডিতে প্রথমে চালু করে, পরে মানুষের বৃহত্তর গন্ডিতে জ্ঞানের অভাবে এসব অপসংস্কৃতি ঢুকে যায়। এর চূড়ান্তরূপ হচ্ছে, মানুষ এক আল্লাহকে বাদ দিয়ে মানুষেরই গড়া বহু খোদার বন্দেগী করা।

রাসুল (সা: ) এর সময় আরববাসীরা লাত-উজ্জা সহ যেসব পাথর মূর্তির পূজা করত, এসব তাদের পূর্বপূরুষ বাইরে থেকে নিয়ে এসেছিল। কোনটি কেউ ব্যবসা করতে গিয়ে পথের থেকে কুড়িয়ে এনেছিল। পরে এসব তাদের সবচেয়ে বড় খোদায় পরিণত হয়।

ঢাকায় ফুলার রোডে এক সড়ক-সংযোগ স্হলে দেখেছিলাম, অনেকগুলো আবক্ষ মূর্তি। এসবের অনেক গুলোই হয়তো ১৯৯৮-২০০০ সালের দিকে বসানো হয়েছে। কিছু মূর্তি চেনা যায়, বঙ্গবন্ধু, রবীন্দ্রনাথ। বেশীরভাগ অনেকে চেনেন না। কালের আবর্তনে দেখা যাবে, হয়ত: একদিন বাংলাদেশের মানুষ এসব মূর্তির পূজা শুরু করেছে! (আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন, আমিন।)

এসব মূর্তির স্হাপন করলে ঐসব মৃত মানুষদের কি লাভ, আর আমদেরই বা কি লাভ? আসলে মৃত লোকদের কোন লাভ নেই। করণ, তারাএটা হয়ত জানেনই না যে, তাদের মূর্তি বানিয়ে জনসম্মূখে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। আর আমাদের লাভও নেই। আমরা আবেগ বশত: মনে করছি, আমরা এভাবে এসব মহান পূরুষদের সন্মান করছি। আসলে কি তাই?

এসব মৃত মহান মানুষদের সন্মান ও উপকার করার ও আমাদের লাভবান হওয়ার দুটি পথ আছে। একটি হচ্ছে, মহান আল্লাহর কাছে তাদের জন্য দোয়া করা, তাদের বেহস্ত লাভের ধর্ণা দেয়া। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে, এসব মানুষের ভাল কাজগুলো আলোচনা করে আমাদের শিক্ষা লাভ করতে হবে।

আরেকটি কথা, মোমবাতি জ্বালিয়ে সমবেত সংগীত গেয়ে কোন অনুষ্ঠান শুরু না করে আমরা বিসমিল্লাহ ও কোরআন পাঠ করে শুরু করতে পারি।

আমাদেরকে এসব আকীদাগত ভূল ও অপসংস্কৃতি থেকে দূরে থাকতে হবে। ইসলামী আকীদাকে আমাদের জীবনে অনুশীলন করতে হবে। এতে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মও সঠিক আকীদার শিক্ষা লাভ করতে পারবে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28833499 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28833499 2008-08-22 06:48:16
শিক্ষিত (!) ভদ্রলোক দেখুন | কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ আমার পোস্টে পোস্ট বিষয়ক কমেন্ট না করে ফালতু কমেন্ট করার জন্য র‌্যাভেনস্বপ্নবাজ সহ তিন জনের কমেন্ট মুছে দিয়েছি এবং বলেছি, "পোস্ট রিলেটেড কমেন্ট ছাড়া অন্য কমেন্ট মুছে ফেলা হল। ধন্যবাদ।"

এর পরে, র‌্যাভেন ও স্বপ্নবাজ নামক শিক্ষিত ভদ্দর লোকদের কাজ ছবিতে দেখুন।

এরা নাকি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রীধারী, অথচ, এরা ভদ্রতা ও শিষ্টাচারের কিছুই শিখেনি। বাংলাদেশের গ্রামের অনেক অশিক্ষিতও এদের চেয়ে ভাল ব্যবহার জানেন।

এখন আমি এদের ব্যাণ করেছি ও কর্তৃপক্ষের কাছে নালিশ করেছি। দেখি, কর্তৃপক্ষ কি ডিশিশন নেন। এর আগে একাধিকবার কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষতার ব্যাপারে প্রশ্ন উঠেছে।

উল্লেখ্য, আমার ব্লগে লেখা আছে, এই ব্লগের নিয়মাবলী: ১. পোস্ট রিলেটেড কমেন্ট ছাড়া অন্য কমেন্ট মুছে ফেলা হবে। ২. অভদ্র ভাষা ব্যবহারকারীদের ব্লক করার আগে এক-বা একাধিক সতর্কতা দেয়া হতে পারে। ৩. এক বা একাধিক নিয়মাবলী লঙ্গনকারীদের ব্লক করা হবে। আসুন আমরা সুন্দরকে জানি ও গ্রহণ করতে শিখি। ধন্যবাদ।

র‌্যাভেন ও স্বপ্নবাজ যদি প্রকৃতপক্ষে ভদ্র ও শিক্ষিত হন, তবে আমার এই প্রকাশ্য পোস্টের পরে ইনারা এর পরে কারো পোস্টে বাজে কমেন্ট ও গালগালি করবেন না। আর যদি করেন, প্রমাণিত হবে এরা প্রকৃতই ভদ্দর (!) লোক।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28811920 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28811920 2008-06-21 08:45:31
তুরস্কের আদালতে অদ্ভুত সেকুলারিজম তুরস্কের মেয়েরা স্কার্ফ পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে ঢুকার আগে স্কার্ফ খুলে ঢুকতে বাধ্য হয় মানবাধিকার পরিপন্হী কালো সেক্যুলার আইন ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বাধ্যবাধকতার কারণে। বর্তমান সরকার সংসদের সংখ্যাগরিষ্ট ভোটে সে আইন রহিত করলে, দেশটির সেক্যুলার সাংবিধানিক আদালত আইনটিকে পূনর্জীবিত করে। ছবিসূত্র: মিডল ইস্ট টাইমস

তুরস্কে হিজাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সঙ্কট বিরাজ করছিল। সম্প্রতি সেখানে মেয়েদের বিশ্ববিদ্যালয়ে হিজাব পরিধান করার ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে হিজাব ব্যবহার করার অনুমোদন দেয়া হয়। কিন্তু মাত্র কয়েক দিন আগে তুরস্কের সর্বোচ্চ আদালত এই সংবিধান সংশোধনের অনুমতি বাতিল করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে ছাত্রীদের হিজাব ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার জন্য পার্লামেন্টের ৪১১ জন ডেপুটি, অর্থাৎ প্রায় ৮০ শতাংশ ডেপুটি, সংবিধান সংশোধনের পক্ষে রায় দেন। ফলে হিজাব পরা বা মাথায় স্কার্ফ দেয়ার অনুমতি মেলে। প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ গুল তা অনুমোদন করেন। সংবিধান সংশোধন করার পর সরকারের পক্ষ থেকে মেয়েদের হিজাব বা হেডস্কার্ফের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়।

সর্বশেষ রায়কে তুরস্কের ক্ষমতাসীন ‘একে পার্টি’ সমালোচনা করেছে। ‘একে পার্টি’র ভাইস চেয়ারম্যান ডেনগির মীর মেহমেত ফিরাত বলেন, ‘কোর্ট নিজেই সংবিধান লঙ্ঘন করেছে। কোর্ট শুধু যে আইন পার্লামেন্টে পাস হয়, তা পরীক্ষা করে দেখতে পারে। কিন্তু সংবিধানের ধারার ওপর রায় দিতে পারে না।’ তিনি দলের উচ্চপর্যায়ের ছয় ঘন্টাব্যাপী এক জরুরি বৈঠকের পর এ মন্তব্য করেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এরদোগান সভাপতিত্ব করেন। ভাইস চেয়ারম্যান আরো বলেন, ‘এ সিদ্ধান্ত পার্লামেন্টারি কর্তৃত্বের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ। এটা ক্ষমতার পৃথকীরণ আইনের লঙ্ঘন।’ এ দিকে কোর্টের এ ধরনের প্রচেষ্টার প্রতিবাদে গত শুক্রবার তুরস্কের বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্কার্ফ পরা নারীরাও ছিল। এই প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে এরা এদের ক্ষোভ প্রকাশ করে। তুরস্কের চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ক্ষমতাসীন পার্টি হচ্ছে এন্টি-সেকুলার কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু এবং তারা চায় এই দলকে নিষিদ্ধ করা হোক। ক্ষমতাসীন দলের প্রায় ৭১ জন সদস্যসহ প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টকে রাজনীতি থেকে যেন আগামী পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করার জন্য চেষ্টা করা হবে মেয়েদের বিশ্ববিদ্যালয়ে হেডস্কার্ফ পরার অনুমতি প্রদানকেই সাংবিধানিক আদালত একেপ পার্টির বিরুদ্ধে একটি প্রমাণ বা দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করে। তারা মনে করে এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে একে পার্টির সাথে ইসলামের গভীর সংযাগ আছে এবং তাদের এন্টি সেকুলার অ্যাজেন্ডাও আছে। সরকার দাবি করে মেয়েদের কলেজগুলোকে হেডস্কার্ফ পরা নিষিদ্ধের ফলে মেয়েদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এরা বলে এটা ব্যক্তিগত স্বাধীনতারই অংশ।

আমরা তুরস্কের কোর্টের এই সিদ্ধান্তে শঙ্কিত। এটা একধরনের অদ্ভুত সেকুলারিজম, যা ডিক্টেটর মোস্তফা কামাল পাশা সে দেশকে উপহার দেন। কামাল পাশা নিজে পশ্চিমা সভ্যতার অনুসারী ছিলেন। তিনি আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ও ইসলামিক শিক্ষার বিরুদ্ধে কঠোর ও চূড়ান্ত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। তিনি ভারত উপমহাদেশের মোগল সম্রাট আকবরের মতো তার্কির আকবর হিসেবে তার শক্ত হাতে ইসলামিস্টদের দমনের জন্য পরিচিত। একটা সাংবিধানিক আদালতের এই রায় একটা রাজনৈতিক রায়। আমরা মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন দেশে এ রকম রায় মাঝে মধ্যে দেখে থাকি। আমরা দু:খের সাথে এ কথা বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, এই টার্কিশ আদালত সেকুলারিজমের ধর্মীয় স্বাধীনতার কিংবা গণতন্ত্রের কিছু বোঝে না, যারা পলিটিক্যাল সায়েন্সের ছাত্র এবং যারা এ বিষয়ের লেখক ও শিক্ষক তারা জানে যে হিজাব কোনোভাবেই সেকুলারিজম বা গণতন্ত্রেরবিরোধী নয়। আসলে এটা সর্বোচ্চ পর্যায়ের মৌলবাদিতা যা আলট্রা সেকুলারিস্টরা তুরস্কে দেখাচ্ছে। এটা তুরস্ক ছাড়াও ফন্সান্সসহ অন্যান্য কিছু পশ্চিমা দেশেও লক্ষ করা যায়।

কিন্তু ইতিহাস বলে এরা ব্যর্থ হবে। হিজাব আন্দোলন বিশ্বব্যাপী শক্তিশালী হবে। ব্যাপক হবে। কেননা নিপীড়ন, নির্যাতন জনগণের শক্তিই বাড়ায়। তাদের সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে। আমরা এই ব্যাপারে সব গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই।

লিখেছেন: শাহ আবদুল হান্নান (লেখক : চিন্তাবিদ, সাবেক সচিব, বাংলাদেশ সরকার)।
সূত্র: নয়াদিগন্ত উপসম্পাদকীয় (২১-০৬-২০০৮)।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28811913 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28811913 2008-06-21 08:04:22