somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... অভিবাসন ও অস্ট্রেলিয়া
এক জরিপ অনুসারে বিশ্বের কমপক্ষে ১৮ বছর বয়সী ৭০ কোটি মানুষ এমূহূর্তে অপেক্ষায় আছেন যারা সুযোগ পেলেই অন্যদেশে পাড়ি দিয়ে স্হায়ী ভাবে বসবাস করবেন। এদের মধ্যে ১৬ কোটি ৫০ লাখের প্রথম পছন্দ আমেরিকা। এর পরের পছন্দগুলো ইউরোপ (১৩ কোটি), কানাডা (সাড়ে ৪ কোটি), সৌদি আরব (৩ কোটি) এবং অস্ট্রেলিয়ায় (আড়াই কোটি)। ইউরোপের মধ্যে পছন্দের শীর্ষে বৃটেন অথবা ফ্রান্স (মোট সাড়ে ৪ কোটি), স্পেন (সাড়ে ৩ কোটি) এবং জার্মানী (আড়াই কোটি)।

অভিবাসনের কারন গুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে উন্নত জীবন যাপন। দক্ষ শ্রমিকরা মূলত বেশি আয়ের আশায় উন্নত দেশের মাইগ্রেশন করেন। ঊনিশ ও বিশ শতকে ইউরোপ-আমেরিকার প্রবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে প্রচুর দক্ষ শ্রমিক এসব দেশে পাড়ি জমান। এর পরের কারণ গুলোর মধ্যে আছে দারিদ্র থেকে মুক্তি, উচ্চশিক্ষা, চাহিদা অনুযায়ী চাকুরী প্রাপ্তি, বিয়ে, যুদ্ধ ও প্রাকৃতিক দূর্যোগ। শেষোক্ত দুটি কারণে মানুষ প্রথমে শরণার্থী হয়ে আসেন ও পরে স্হায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পান। এছাড়া বেশি বয়সী মানুষ অবসর নেয়ার সময় বেশি খরচের দেশ হতে কম খরচ ও ভাল আবহাওয়ার দেশে স্হায়ী ভাবে চলে যান। যেমন, বয়স্ক মানুষরা বৃটেন থেকে ষ্পেন ও ইটালীতে এবং কানাডা থেকে আমেরিকার ফ্লোরিডা ও টেক্সাসে চলে যান।

অনেকের মতে অভিবাসনের এই ব্যবস্হা মূলত মানবশক্তি পাচার (Human capital flight) বা মেধা পাচার (brain drain)। যেসব উন্নত দেশে অভিবাসীরা আসেন সেসব দেশের জন্য এ ব্যবস্হাকে বলা হয় মেধা আহরণ (Brain gain)। কারণ, মূলত অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ হতে মেধাবী ও দক্ষ জনশক্তি উন্নত বিশ্বে পাড়ি জমান উন্নত জীবন ও সুস্বাস্হ্যের আশায়। মেধাবী এসব অভিবাসীকে তাদের নিজেদের দেশের সরকার স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জ্ঞান ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলে, কিন্তু দূ:খের বিষয় জনগনের বিপুল রাজস্ব ব্যয়ে শিক্ষিত এসব মানুষ তাদের মেধা ও দক্ষতা কাজে লাগায় অন্য আরেকটি দেশের উন্নয়নে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিনিময়ে কিছু পরিমাণ বিদেশী মূদ্রা ছাড়া আর কিছুই জোটেনা দূর্ভাগা মাতৃদেশগুলোর। এসব দূর্ভাগা দেশে সবসময় প্রচুর পরিমাণে মেধা ও দক্ষতার অভাব থাকে, ফলে অযোগ্য লোকেরা গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকে ও দেশের উন্নয়নে কোন সম্ভাবনা থাকে না।

অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন শুরু হয় ৫০ হাজার বছর আগে যখন এখনকার আদিবাসীদের পূর্বপূরুষরা আসেন মালে দ্বীপপূঞ্জ (মালেশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও পাপুয়া নিউগিনি) হতে। ইউরোপীয়রা প্রথম আসেন ১৭৮৮ সালে এবং এরপর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় তাদের উপনিবেশ গড়ে তোলেন। এই বছরের ২৬শে ফ্রেব্রুয়ারী বৃটেনের প্রথম জাহাজ দাগী আসামীদের নির্বাসন দেয়ার জন্য সর্বপ্রথম সিডনীতে আসেন। এই দিনটি এখন সরকারী ভাবে অস্ট্রেলীয়া দিবস (Australia Day) হিসেবে পালিত হয়, কিন্তু আদিবাসীদের কাছে পরিচিত টিকে থাকার দিন (Survival Day) বা অনুপ্রবেশ দিবস (Invasion Day) হিসেবে। ভ্রমণ খরচ বেশি হওয়ার কারণে এরপর থেকে খুব কম মানুষ এখানে আসত। ১৮৯১ সালের পর থেকে স্বর্ণের খনিতে কাজ করার জন্য বৃটেন, আয়ারল্যান্ড, জার্মানী ও চীন থেকে প্রচুর লোক আসতে শুরু থেকে। এসময়টি স্বর্ণযুগ (Gold rush era) হিসেবে পরিচিত। এর মধ্যে চীনের অভিবাসীরা সাদা ইউরোপীয়দের থেকে নানান রকম বিপদের সম্মূখীন হন এবং তাদের পক্ষে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ১৯০১ সালে সর্বপ্রথম অভিবাসন আইন (Immigration Restriction Act 1901) জারী করা হয় যা ইউরোপীয় সাদা মানুষ ছাড়া অন্যদের অস্ট্রেলিয়ায় আসা ও থাকার উপর নিয়ণ্ত্রণ আরোপ করে। এজন্য এই আইন সাদা আইন হিসেবে পরিচিত (The White Australia policy)।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অস্ট্রেলিয়ায় জাপানের অনুপ্রবেশ টেকানোর জন্য সরকার বিপুলসংখ্যায় অভিবাসী আনার সিদ্ধান্ত নেন। এসময় লাখ লাখ ইউরোপীয় এবং ১ লাখের উপর ব্রিটিশ অভিবাসী হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় আসেন। শর্ত ছিল শুধু ভাল স্বাস্হ্যের অধিকারী ও বয়স ৪৫ এর নিচে হতে হবে। কিন্তু সাদা আইনের কারণে ইউরোপের বাইরের অসাদা মানুষরা আসতে পারেননি। ১৯৭০ সালে অভিবাসন আইনের বড় ধরনের পরিবর্তন ও পরবর্তীতে সুযোগ-সুবিধা তুলে নেয়ার কারণে অনেকে আসতে অনাগ্রহী হয়ে পড়েন। ২০০১ সালের পর থেকে শরণার্থী হিসেবে প্রচুর মানুষ এখানে আশ্রয় নেন। গত দশকে বিশেষ করে জন হাওয়ার্ড প্রধানমণ্ত্রী থাকাকালীন সময়ে সবচেয়ে বেশি অভিবাসী আসেন। ২০০৬ সালের মাঝামাঝি সময়ের হিসেব অনুযায়ী অস্ট্রেলিয়ার প্রায় ৫০ লাখ অধিবাসীর জন্ম অস্ট্রেলিয়ার বাইরে। এর মধ্যে প্রথম বৃটেন (সাড়ে ১১ লাখ), দ্বিতীয় নিউজিল্যান্ড (পৌনে ৫ লাখ) এবং তৃতীয় চীন (পৌনে ৩ লাখ)। আরো উল্লেখ্য ইটালী (সোয়া ২ লাখ), ভারত (দেড় লাখ), জার্মানী (সোয়া ১ লাখ), মালেশিয়া (১ লাখ), লেবানন (পৌনে ১ লাখ), শ্রীলংকা (৭১ হাজার), আমেরিকা (৬৫ হাজার), আয়ারল্যেন্ড (৫৭ হাজার) এবং বসনিয়া-হার্জেগোভিনিয়া (৪৭ হাজার)।

যা বলছিলাম, গত দশকে অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসী সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। ১৯৯৩ সালে মাত্র ৩০ হাজার লোক অস্ট্রেলিয়ায় আসলেও ২০০৩-০৪ সালে এ সংখ্যা ১ লাখ ১৮ হাজার, ২০০৫-০৬ সালে ১ লাখ ৩১ হাজারের বেশি এবং ২০০৬-০৭ সালের লক্ষ্য ছিল ১ লাখ ৪৪ হাজার, ২০০৭-০৮ সালের লক্ষ্য ১ লাখ ৪২ হাজার ৮০০ এবং ২০০৮-০৯ সালের লক্ষ্য ৩ লাখ যা দ্বিতীয় বিশ্ব যু্দ্ধের পরে এক বছরে সর্বোচ্চ। কিন্তু ২০০৮-০৯ সালে সরকার অর্থনৈতিক মন্দার কারণে উল্লেখিত লক্ষ্য হতে শতকরা ১৪ ভাগ কম অভিবাসী আনার সিদ্ধান্ত নেন। মূলত দক্ষ শ্রমিকারাই এখানে আসেন। ২০০৫ সালে আফ্রিকা থেকে ১৮ হাজার, এশিয়া হতে ৫৫ হাজার (মূলত: ভারত ও চীন থেকে), দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া হতে ২১ হাজার, বৃটেন হতে ১৮ হাজার, দক্ষিণ আমেরিকা হতে দেড় হাজার এবং পূর্ব ইউরোপ থেকে প্রায় আড়াই হাজার।

আপনারা যে দেশের অভিবাসী হতে চান সেদেশের সরকারী ওয়েবসাইটে গেলেই সকল তথ্য পাবেন। আপনাকে যে কোন এজেন্ট বা মিডিয়া সরকারী ওয়েবসাইটের চেয়ে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য দিতে পারবে না। অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য খবরাখবর পাওয়া যাবে অস্ট্রেলিয়ার সরকারের ইমিগ্রেশন ওয়েবসাইটে (http://www.immi.gov.au/)। অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসনে প্রতারনা সম্পরকে সচেতন হতে দরকারী টিপস পাবেন http://www.immi.gov.au/migration-fraud/। আবেদন পত্র অনলাইনে বা ডাকযোগে পাঠানো যায়। দক্ষ জনশক্তি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসী হতে চাইলে মূলত: আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা বিবেচনা করা হয়। সব ধরনের ভিসার ক্ষেত্রে ১৬ বছরের অধিক বয়সী সকল আবেদনকারী নিজেদের দেশসহ যেসব দেশে ১২ মাসের বেশি বসবাস করেছেন সে সব দেশ হতে চারিত্রিক সনদ প্রদান করতে হবে।

এদেশের সরকার প্রতিবছর যেসব ক্ষেত্রে দক্ষ লোকের প্রয়োজন ষেগুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করেন। এছাড়া প্রতিটি প্রদেশ তাদের নিজস্ব তালিকাও প্রকাশ করে থাকে। এই দুটি তালিকা Skilled Occupation Lists (SOL) নামে পরিচিত। আবার যে সব প্রতিষ্ঠান কাজের জন্য বাইরে থেকে দক্ষ লোক আনতে চায় তাদের আলাদা তালিকা (Employer Nomination Scheme Occupation List, ENSOL) আছে। জুলাইর ১ তারিখ থেকে কার্যকর নতুন তালিকাগুলো অনলাইনে পাওয়া যাবে (http://www.immi.gov.au/skilled/sol/)। এই তালিকাগুলো অনুসারে বাংলাদেশ থেকে যেসকল ক্ষেত্রে বেশি লোক যেতে পারে সেগুলো হলো ইন্জিনিয়ার (কম্পিউটার, সিভিল, ইলেক্ট্রিকাল, মেকানিকাল, মেরিন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল, এগ্রিকালচার, কেমিক্যাল ইত্যাদি), আর্কিটেক্ট, ডাক্তার, ডেন্টিস্ট, মেডিকেল সার্জন, কম্পিউটার (আইটি) প্রোগ্রামার, একাউন্টেন্ট এবং নার্স। আরো বেশি জানার জন্য উপরের অনলাইন লিন্কে দেখুন।

দক্ষ জনশক্তি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় মূলত: দু'ধরনের ভিসার আবেদন করা যায়। প্রথমত: সাধারণ (General Skilled Migration, GSM) ও এম্প্লয়ার স্পন্সরড (Employer Nominated Scheme, ENS বা Regional Sponsored Migration Scheme, RSMS) ভিসা। একজন আবেদনকারী এই দু'টির যেকোনটিতে আবেদন করতে পারেন। GSM ভিসার আবেদনকারীর আবেদনের সময় উপরের প্রদত্ত SOL তালিকা দু'টির যে কোনটিতে দক্ষতা দেখাতে হবে। আবেদনের পূর্বে অস্ট্রেলিয়ার কোন প্রতিষ্ঠান হতে চাকুরীর নিশ্চয়তা (Offer letter) পাওয়ার প্রয়োজন নেই। ভিসা পাওয়ার বা অস্ট্রেলিয়ায় আসার পরে চাকুরী খোঁজে নিতে পারেন। আবেদনকারীকে অবশ্যই ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সী হতে হবে, ইংরেজীতে ভাল দক্ষ হতে হবে এবং সাম্প্রতিক কাজের অভিজ্ঞতা অথবা সাম্প্রতিক অস্ট্রেলীয় ডিগ্রীর অধিকারী হতে হবে। GSM ভিসা আবার দু'ধরনের - স্বাধীন (Independant) এবং স্টেট (State sponsored) বা ফ্যামিলি স্পন্সরড (Family sponsored)। স্বাধীন GSM ভিসার আবেদনে শুধু আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা তাঁর দক্ষতায় বিবেচনা করা হবে। এক্ষেত্রে প্রদেশ, পরিবার বা অন্য কোন ধরনের স্পন্সরশীপের প্রয়োজন নেই। তবে তাকে অবশ্যই পয়েন্ট টেস্টে কমপক্ষে ১২০ পয়েন্ট পেতে হবে। বয়সের জন্য ১৫ (৪০-৪৪ বছর) থেকে সর্বোচ্চ ৩০ (১৮-২৯ বছর) পয়েন্ট, ইংরেজী ১৫ (IELTS সব band এ ৬) বা ২৫ পয়েন্ট (IELTS সব band এ ৭), শিক্ষা ও অভিজ্ঞতায় (nominated occupation এবং অবশ্যই SOL এ আছে) থেকে সর্বোচ্চ ৬০ (ডিপ্লোমা, ডিগ্রী ও অভিজ্ঞতা) পয়েন্ট, সাম্রতিক কাজের অভিজ্ঞতায় (গত ৪ বছরের মধ্যে ৩ বছর) ১০ (nominated occupation) বা ৫ (SOL এর অন্য যেকোন occupation) পয়েন্ট, অস্ট্রেলিয়ায় সাম্রতিক কাজের অভিজ্ঞতায় ১০ পয়েন্ট, কমপক্ষে দু'বছরের অস্ট্রেলীয় ডিগ্রী ২৫ (পিএইচডি) বা ১৫ (মাস্টারস বা ব্যাচেলর) পয়েন্ট, কমিউনিটি ভাষায় ৫ পয়েন্ট (বাংলাও একটি কমিউনিটি ভাষা হিসেবে স্বীকৃত), অস্ট্রেলিয়ার কোন কম জনবসতিপূর্ণ এলাকায় পড়ালেখা করলে ৫ পয়েন্ট এবং স্ত্রীর শিক্ষা, ইংরেজী দক্ষতা ও কাজের অভিজ্ঞতার জন্য আরো ৫ পয়েন্ট।

এছাড়া একধরনের GSM ভিসা (Regional Residence visa) আছে যার আবেদনকারীকে আবেদনের পূর্বে আত্নীয় বা কোন প্রাদেশিক সরকার কর্তৃক স্পন্সরশীপের কারণে অস্ট্রেলিয়ার কিছু নির্ধারিত এলাকায় কোন Provisional ভিসায় কমপক্ষে ২ বছর বসবাস করবেন এবং এই সময়ে সে জায়গায় কমপক্ষে ১ বছর full time কাজ করবেন।

GSM ভিসার আবেদনকারীর প্রয়োজনীয় দক্ষতায় ঘাটতি থাকলে তিনি কোন প্রদেশের সরকার বা নিজের কোন নিকটাত্নীয় দ্বারা বাছায় হতে পারেন। তাঁকে পয়েন্ট টেস্টে কমপক্ষে ১০০ পয়েন্ট পেতে হবে, কিন্তু ১২০ পয়েন্টের নিচে বলে তাঁর স্পন্সরশীপ প্রয়োজন। স্পন্সরশীপের আবেদনকারীকে আগে সেই প্রদেশের সরকারের সাথে যোগাযোগ করে স্পন্সরশীপের ব্যবস্হা করতে হবে। অথবা Family sponsored হলে স্পন্সরকারী ও আবেদনকারীকে অনেকগুলো শর্ত মানতে হবে। আবেদনকারী অভিবাসী অস্ট্রেলিয়া আসার পরে স্পন্সরকারী তাঁকে প্রথম ২ বছর থাকা-খাওয়ার খরচ দেবেন, আবেদনকারীর সন্তানদের দেখাশুনা যদি তিনি ইংরেজীতে দক্ষতা বাড়ানোর ক্লাশে যোগ দেন এবং চাকুরী পেতে সম্ভাব্য সাহায্য করবেন। মূল আবেদনকারী বা মূল আবেদনকারীর স্ত্রী বা স্বামীর নিকটাত্নীয় (ছেলে-মেয়ে, বাবা-মা, ভাই-বোন, চাচা-চাচী, ভাইপো-ভাইঝি, খালা-খালু, ভাগ্নে-ভাগ্নী) স্পন্সর করতে পারবেন। স্পন্সরকারীকে অস্ট্রেলিয়ার অধিবাসী, কমপক্ষে ১৮ বছর বয়সী এবং অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসী অথবা অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডের নাগরিক হতে হবে। উল্লেখ্য, State sponsored ভিসায় আসলে অভিবাসীকে সে প্রদেশে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত থাকতে হবে। এর পরে তিনি স্বেচ্চায় সে প্রদেশে বা অন্য প্রদেশে থাকতে পারেন।

অধিকাংশ GSM ভিসার আবেদন ফি ২৫৭৫ ডলার, কিন্তু Regional Residence ভিসার ফি ২৩৫ ডলার। ১৮ বছরের বেশি বয়সী Dependant (স্বামী বা স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে) ইংরেজিতে অদক্ষ (IELTS score গড়ে ৪.৫ এর কম) হলে প্রতিজনের জন্য আরো ৩৫৭৫ ডলার দিতে হবে।
আরো বিস্তারিত দেখুন অনলাইনে Click This Link

ENS ভিসার আবেদনকারীকে অবশ্যই আবেদনের পূর্বে তার দক্ষতা (nominated occupation) ENSOL লিস্টে দেখাতে হবে এবং অস্ট্রেলিয়ার কোন প্রতিষ্ঠান হতে চাকুরীর (Full time, কমপক্ষে ৩ বছর) নিশ্চয়তা (Offer letter) ও স্পন্সরশীপ পেতে হবে। RSMS ভিসার আবেদনকারীকেও অবশ্যই আবেদনের পূর্বে অস্ট্রেলিয়ার কোন কম জনবসতিপূর্ণ এলাকার প্রতিষ্ঠান হতে চাকুরীর (Full time, কমপক্ষে ২ বছর) নিশ্চয়তা (Offer letter) ও স্পন্সরশীপ পেতে হবে। উভয় ধরনের ভিসার মূল আবেদনকারীকে ৪৫ বছরের কম বয়সী এবং তাঁর সংশ্লিষ্ট কাজটি করার প্রয়োজনীয় শিক্ষাঘত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ENS ভিসার ক্ষেত্রে nominated occupation এ কমপক্ষে ৩ বছর অথবা পূর্বে কোন অস্হায়ী ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় ২ বছর, এর মধ্যে কমপক্ষে সাম্প্রতিক ১ বছর স্পন্সরকারীর সাথে অথবা অস্ট্রেলিয়ায় প্রাপ্ত নতুন চাকুরীতে বেতন ১৬৫০০০ ডলারের বেশি হতে হবে এবং আবেদনকারীকে আবেদনের পূর্বেই তাঁর দক্ষতা কোন উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান থেকে যাচায় (Assessment) করতে হবে। যেমন, কম্পিউটার বা আইটি প্রোগ্রামারদের জন্য Australian compute society এবং মেকানিকাল, সিভিল, ইলেক্ট্রিকাল ইন্জিনয়ারদের জন Engineers Australia। অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে আবেদন করলে এই উভয় ধরনের ভিসার আবেদনে মোট খরচ হবে ২১৯০ ডলার, অস্ট্রেলিয়ার ভিতরে থেকে আবেদন করলে খরচ ৩০৩০ ডলার। মূল আবেদনকারী ইংরেজিতে অদক্ষ (IELTS score গড়ে ৪.৫ এর কম) হলে অতিরিক্ত ৭১৬৫ ডলার দিতে হবে। ১৮ বছরের বেশি বয়সী Dependant (স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে) ইংরেজিতে অদক্ষ (IELTS score গড়ে ৪.৫ এর কম) হলে প্রতিজনের জন্য আরো ৩৫৭৫ ডলার দিতে হবে। আরো বিস্তারিত অনলাইনে দেখুন Click This Link এবং Click This Link

ডাক্তারী পেশার কেউ অস্ট্রেলিয়ায় ষ্হায়ী ভাবে থাকতে চাইলে তাঁকে অবশ্যই মেডিকেল রেজিস্ট্রেশন (Full medical registration) করাতে হবে। মেডিকেল রেজিস্ট্রেশনের ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে হলে সরকারী সংস্হা ডক্টর কানেক্ট (DoctorConnect) এর সাথে যোগাযোগ করুন: http://www.doctorconnect.gov.au/। মেডিকেল রেজিস্ট্রেশন হয়ে গেলে তাঁকে উপরে বর্ণিত ENS বা RSMS ভিসার যেকোনটির জন্য আবেদন করতে হবে।

নার্সিং পেশার চাহিদা অস্ট্রেলিয়ায় খুবই বেশি। একজন নার্সের প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় ষ্হায়ী ভাবে বসবাসের জন্য GSM, ENS বা RSMS ভিসার যেকোনটির জন্য আবেদন করতে পারেন। আগ্রহী নার্সরা The Australian Nursing and Midwifery Council Limited (ANMC)এর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন: http://www.anmc.org.au/।

পরিশেষে বলব, আপনি যে ধরনের ভিসার জন্য আবেদন করুন না কেন, মুটামুটি নিচের পয়েন্ট গুলো অনুসরন করুন:
(১) আপনার পেশা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতার মাধ্যমে কোন ধরনের ভিসা আপনার জন্য সবচেয়ে উপযোগী তা ঠিক করুন। সবচেয়ে ভাল হয়, মানে ঝামেলা সবচেয়ে কম হয়, যদি আপনি Independant GSM ভিসার জন্য আবেদন করেন।
(২) ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় ইংরেজী দক্ষতা দেখানোর জন্য IELTS পরীক্ষায় অংশগ্রহণ। Dependant (১৮ বছরের বেশি বয়সী স্বামী বা স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে) এর ইংরেজী দক্ষতা অনেক সময় পরে দেখালেও চলে, সাধারণত আপনার ভিসা যখন হয়ে যাবে সে সময় আপনাকে হয় Dependant এর জন্য ইংরেজী দক্ষতা (IELTS score গড়ে ৪.৫ এর কম) দেখাতে হবে বা প্রতিজনের জন্য আরো ৩৫৭৫ ডলার দিতে হবে। এই টাকায় অস্ট্রেলিয়ায় আসার পরে সরকার কিছু ইংরেজী কোর্স করতে বলবে। তবে Dependant স্বামী বা স্ত্রীর জন্য GSM ভিসায় পয়েন্ট দাবী করলে তাঁর ইংরেজী দক্ষতা আগে দেখাতে হবে।
(৩) যদি স্পন্সরশীপের প্রয়োজন হয় তবে তা তৈরী করুন। আত্নীয় স্পন্সর করলে ঝামেলা কম। প্রাদেশিক সরকারের স্পন্সরশীপের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রদেশের সাথে যোগাযোগ করুন। তাদের দক্ষতা যে সব ক্ষেত্রে অভাব আছে সেগুলোর কোন একটিতে আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতা দেখাতে হবে। এম্প্লয়ার স্পন্সরশীপের জন্য আগে চাকুরীর দরখাস্ত করুন। চাকুরী হয়ে গেলে এম্প্লয়ার তখন আপনাকে স্পন্সর করার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা করবে।
(৪) ভিসার জন্য প্রয়োজন হলে আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতা Assessment করানোর জন্য প্রয়োজনীয় সংস্হায় পাঠান। উপরে বর্ণিত তালিকা গুলোতে আপনার পেশার সংশ্লিষ্ট সংস্হার খোঁজ পাবেন।
(৫) ১৬ বছরের অধিক বয়সী সকল আবেদনকারী ১২ মাসের বেশি যে সব দেশে বসবাস করেছেন সে সব দেশের পূলিশ বা স্বরাষ্ট্র মণ্ত্রনালয় হতে চারিত্রিক সনদপত্র সংগ্রহ করুন। অনেক ক্ষেত্রে এই সনদগুলো আপনার ভিসা যখন হয়ে যাবে তখন লাগবে, তাই এজন্য তাড়াহুড়ো করে সময় নষ্ট করার দরকার নেই।
(৬) অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র ঠিক করুন, যেমন: সব আবেদনকারীর পাসপোর্ট সাইজ ছবি, পাসপোর্টের কপি, জন্ম সনদ, মূল আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও অভিজ্ঞতা সনদ।
(৭) মেডিকেল পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। তবে সাধারণত ভিসা হয়ে গেলে ভিসা অফিসার সকল আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট ডাক্তারের কাছে গিয়ে মেডিকেল করতে বলবেন। মেডিকেলের সকল খরচ আবেদনকারীর। ডাক্তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট ভিসা অফিসারের কাছে পাঠিয়ে দেন। কিছু কিছু ভিসার ক্ষেত্রে (অস্ট্রেলিয়ায় থাকাকালীন সময়ে আবেদন করা হয় এমন ভিসার জন্য) মেডিকেল পরীক্ষা আগে করার প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার Medibank Health Solutions (http://www.medibankhealth.com.au) প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও রিপোর্ট ভিসা অফিসে পাঠয়ে দেয়। তাই আপনি শুধু মেডিকেল পরীক্ষার রশীদ আবেদনের সময় জমা দিবেন।
(৮) আবেদন অনলাইনে বা ডাকযোগে করা যাবে। প্রয়োজনীয় ফি ক্রেডিট কার্ড বা মানি অর্ডারে পরিশোধ করতে হবে। অনলাইন আবেদনে সকল কাগজ পত্রের কপি colour scan করে upload করতে হবে। ডাকযোগে আবেদন করলে কাগজ পত্রের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে।
(৯) ভিসা অফিস আবেদনের পরে আপনাকে একটি রেফারেন্স নাম্বার (Transaction Reference Number, TRN) দিবে। অনলাইনে এই TRN দিয়ে আপনার অবেদনের স্ট্যাটাস সময় সময় চেক করুন: Click This Link প্রয়োজনে ই-মেইল করুন।
(১০) ভিসা প্রসেসিং হতে ৩ থেকে ১২ মাস বা তার চেয়েও বেশি সময় লাগতে পারে। এম্প্লয়ার ও প্রাদেশিক স্পন্সরশীপের আবেদন দ্রুত প্রসেস হয়। সময় যাই লাগুক, যেহেতু অভিবাসন আইন দ্রুত পরিবর্তন হয় এবং সে কারণে আপনার আগের আবেদনে কোন সমস্যা হবে কিনা তা খোঁজ খবর নেয়ার জন্য মাঝে মধ্যে http://www.immi.gov.au/ ওয়েবসাইটে চোখ রাখুন। বিস্তারিত জানার জন্য প্রয়োজনে TRN দিয়ে ই-মেইল করুন।
(১১) ভিসা হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট অফিসে পাসপোর্ট নিয়ে গিয়ে ভিসার লেভেল লাগিয়ে ফেলুন। ভিসায় কোন শর্ত থাকলে সেগুলো ভালভাবে জেনে নিন এবং সে শর্তগুলো আপনাকে মেনে চলতে হবে।

একজন স্হায়ী অভিবাসী অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। তাঁকে আবেদনের অব্যবহিত পূর্বে কমপক্ষে ৪ বছর বৈধভাবে অস্ট্রেলিয়ায় থাকতে হবে, এর মধ্যে কমপক্ষে ১ বছর স্হায়ী অভিবাসী হিসেবে। বিস্তারিত দেখুন অনলাইনে http://www.citizenship.gov.au/।

[লেখাটি প্রকাশিত: ২৩.১০.২০১০ এবং ৩০.১০.২০১০]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/29273044 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/29273044 2010-11-16 08:31:44
কিছু মৃত্যু এবং আমাদের মৃত্যু প্রস্তুতি প্রত্যেককে (একদিন) মরতে হবে এবং অবশেষে তোমাদের আমার কাছে ফিরে আসতে হবে - আনকাবূত ৫৭।

আমার উম্মতের (পার্থিব) জীবন ৬০ থেকে ৭০ বছরের। খুব কমই এর বেশী বাঁচবে - রাসুলুল্লাহ সা:, তিরমিযী।

'প্রতিদিনই আমরা আমাদের মতো মানুষকে মরতে দেখি, কিন্তু নিজেদের মৃত্যুর কথা ভুলে যাই' - আলী রা:।

.১.
অনেকদিন ব্লগে লেখা হয়না ব্যস্ততার কারনে। গতকাল বুয়েটের প্রিয় বন্ধু নাঈমের স্ত্রীর মৃত্যু সংবাদ পেয়ে খুব খারাপ লাগল। নাঈম বিয়ে করেছিল খুব সম্ভবত: বুয়েটে যখন আমরা দ্বিতীয় বর্ষে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর একটি পূত্র সন্তান জন্ম দিয়ে ভাবী ২৩ অক্টোবর মারা যান (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন - নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং তারই নিকট প্রত্যআবর্তনকারী)। বেচারা নাঈমের এখন ১ মাস বয়সী এই পূত্র সন্তান এবং এর আগের ৬ ও ৯ বছর বয়সী দুই কন্যা সন্তানের যত্ন নিতে হবে। নাঈমের বাবা-মা মারা গেছেন বেশ ক'বছর আগে।

.২.
নাঈমকে ই-মেইলে সান্তনা দিয়ে কাজ শেষে বাসায় ফিরে গেলাম। মাগরিবের নামায শেষে বাসায় এসে শুনলাম - আব্বা বাংলাদেশ থেকে ফোন করেছিল - দাদী মারা গেছে (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন - নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং তারই নিকট প্রত্যআবর্তনকারী)। এরকম একটা খবরের জন্য মানসিক প্রস্তুতি ছিল - কারন দাদী গত ২-৩ বছর যাবত শয্যাশায়ী। বয়স আশি-নব্বয়ের কোটায়। আমরা বড় হয়ে দেখেছি দাদীর চোখে দেখা ও কানে শোনা নিয়ে সমস্যা হচ্ছিল। সমস্যা দিন দিন বেড়েছে। বাইরে পড়তে আসার আগে দাদী বলেছিল, আর কত পড়া লেখা? তখনও হাঁটতে চলতে পারতো। পরে বিভিন্ন রোগে শয্যাশায়ী। আজ আম্মা ফোনে বলল, প্রথম নাতী হিসেবে দাদী আমাকে এত বেশী আদর করতো যে, আমার বাইরে থাকাটা অনেকটা অপছন্দ করত। সবসময় আমার জন্য দোয়া করতো।

সেই দাদীকে হারালাম বিপদে যে আমার আশ্রয় ছিল। আম্মা-আব্বার বকাঝকা বা মারের পরে দাদী ছিল সান্ত্বনা। আজ বড় হয়েছি, আম্মা-আব্বার শাসন নেই, সে জন্য হয়ত: দাদীর আর প্রয়োজন নেই! কিন্তু আজ আমি মনে মনে বড়ই শূন্যতা অনুভব করছি। বিদেশে থাকার কারনে, দাদীকে গত বছর পাঁচেক দেখিনি। ইচ্ছা ছিল এবার দেশে গিয়ে দেখবো, আমার ছেলে-মেয়েরা প্রথম বারের মতো দেখবে - আর মাত্র ২-৩ সপ্তাহ পরে!

.৩.
এখানে অস্ট্রেলিয়ায় মানুষের মৃত্যু সংবাদ মাঝে মাঝে পাই। কিন্তু সময়ের অভাবে জানাযা পড়া হয়না। গত ৫ বছরে একটি মাত্র জানাযা পড়েছি। পিএইচডি করার সময় পাকিস্তানী মানছুরের মেয়ে শেযা ৬-৭ মাস বয়সে (খুব সম্ভবত) মারা গিয়েছে। শেযা আমার মেয়ের সমবয়সী। আমরা কয়েকজন কান্ট্রিসাইড থেকে মেলবোর্ন এসেছি জানাযা ও কবর দিতে। একটি কবরে চারজন বাচ্চা কবর দেয়া হয়। জানাযা শেষে সন্ধ্যা নাগাদ ফিরে গিয়েছি। একমাত্র মেয়ের মৃত্যুতে মানছুর ও ভাবী শোকাভিবূত ছিলেন অনেকদিন। আমার মেয়েকে দেখলে বেশ আদর করতেন।


.বন্ধুরা, আমাদেরও মরতে হবে.
দুনিয়ায় এমন কেউ নাই যে মৃত্যুর মতো এই সত্যটিকে উপেক্ষা করতে পারেন। স্রষ্টায় বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী কেউ বলতে পারবে না - আমি অনন্তকাল ধরে বেঁচে থাকবো। তবে বিশ্বাসীদের মতে, এই জীবনের পরেও আরেকটি জীবন আছে। তাই আমাদের সে জীবনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।

রাসুলুল্লাহ সা: বলেছেন, কবর হলো পরকালীন দুনিয়ার প্রথম ধাপ (আমলের প্রথম ইন্টারোগেশন)। যে কেউ এখানে পাশ করলো, তার পরের ধাপগুলো সহজ হয়ে যাবে। যে কেউ এখানে ফেল করলো, তার পরের ধাপগুলো কঠিন হয়ে যাবে। - তিরমিযী, ইবনে মাজাহ্, হাকীম।

দেখুন, দাদী বৃদ্ধা, নাঈম ভাবী মাঝবয়সী, আর শেযা মাত্র এ পৃথিবীর আলো দেখেছে। যে কারো ডাক যেকোন সময় আসতে পারে। বয়স কোন ফ্যাক্টর নয়। তাই আসুন আমরা সবাই এই শাশ্বত: সত্যের জন্য প্রস্তুতি নিই।

পরিশেষে, যারা মারা গেছেন, আল্লাহ কাছে তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করি। পরকালের যাত্রার জন্য আমাদের সকলের প্রস্তুতি যেন ভালভাবে হয় সে দোয়া করি।

(ছবিসূত্র: গুগল)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/29033264 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/29033264 2009-10-28 08:31:38
বুয়েট ও বাংলাদেশের বিজ্ঞান গবেষকদের প্রতি
সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার একটি আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে বুয়েটের শিক্ষকদের লেখা একটি গবেষণা রিপোর্ট পড়তে গিয়ে আমার দাঁত ভাঙ্গার উপক্রম। লেখাটির লেখক হচ্ছেন বুয়েটের Institute of Information and Communication Technology (IICT) নামের প্রতিষ্ঠানের একজন প্রভাষক, Electrical and Electronic Engineering (EEE) বিভাগের একজন অধ্যাপক ও Civil Engineering (CE) বিভাগের একজন সহকারী অধ্যাপক। Abstract এবং introduction-র কয়েক লাইন পড়তে আমাকে বারবার পড়ে বুঝতে হয়েছে। পরিশেষে, বিরক্ত হয়ে পড়া বন্ধ করে রেখে দিয়েছি। এরকম অবস্হায় যে কোন রিভিউয়ার লেখাটি অগ্রহণযোগ্য (rejection) হিসেবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

অনেকের মতে, বুয়েট ও বাংলাদেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার মান আন্তর্জাতিক মানের হলেও, মূল সমস্যা অন্য জায়গায়। তরুণ গবেষকদের ইংরেজীতে দক্ষতার অভাবে গবেষণা রিপোর্টে presentation হয় খুব দূর্বল। ফলে পাঠকরা বুঝতে পারেন না, লেখাটিতে আসলে কি আছে। রিভিউয়াররা সব ভলান্টারিলি কাজ করেন। তাই যে কোন লেখা মান সম্পন্ন লেখা দূর্বোধ্য হলেও তাঁরা বুঝতে পারেন না, বুঝার জন্য বেশি চেষ্টাও করেন না ও সহজে reject করেন। এজন্য রিভিউয়ারদের কোন জবাবদিহিতাও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নেই।

উল্লেখিত লেখাটির মূল লেখক IICT-র একজন প্রভাষক। তাই স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বাস, তাঁর ইংরেজীতে দক্ষতা কম (হয়ত: বাংলা মিডিয়ামে পড়ে আসার কারণে) ও গবেষণা রিপোর্ট লেখার অভিজ্ঞতা তেমন নেই। অথচ তিনিই হয়তো কষ্ট করে গবেষণার মূল কাজটি করেছেন ও লেখাটি লিখেছেন। তাই অভিজ্ঞতার অভাবে তাঁর গবেষণা ভাল মানের হলেও লেখার মান ও presentation খুব দূর্বল। আমার বিশ্বাস অন্য দুজন লেখক, যাঁরা বুয়েটের নামকরা অধ্যাপক (শ্রদ্ধার সাথে বলছি), তাঁরা হয়তো লেখাটি একবারও ভালভাবে পড়ে দেখেননি। ভূল-ত্রুটি শোধরে দিয়ে মূল লেখককে পরামর্শ দেননি। কিন্তু বিদেশের বড় বড় ডিগ্রীর বদৌলতে তাঁদের এই কাজের যথেষ্ঠ অভিজ্ঞতাও আছে। হয়তো সময়ের অভাবে তাঁরা তা করেননি।

এতে তাঁরা দুটি বড় ঝুঁকি নিয়েছেন। প্রথমত, যা সহজেই অনুমেয়, রিভিউয়াররা লেখাটি পড়তে গিয়ে দূর্বোধ্য হলে reject করবেন। এতে একটি সম্ভাবনাময় তরুণ গবেষকের (মূল লেখক) আগ্রহে ভাটা পড়া অস্বাভাবিক নয়। দ্বিতীয়ত, তাঁদের নামের সাথে লেখাটিতে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ প্রযুক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বুয়েটের নাম লেখা আছে। এতে বিদেশের একজন পাঠক বুয়েট সম্পর্কে কি ধারণা করবেন - একথা হয়ত: তাঁরা চিন্তাও করেননি। অধিকন্তু, বুয়েট ও বাংলাদেশের অধ্যাপকদের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। অথচ আমরা জানি, বিদেশের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মানসম্পন্ন ডক্টরেট করে ও ন্যুনতম গবেষণা রিপোর্ট প্রকাশ করেই তাঁরা অধ্যাপক পদে নিয়োগ পেয়েছেন। তাই একজন বাংলাদেশী হিসেবে তাঁদের যোগ্যতা সম্পর্কে কোন সন্দেহ না করলেও, তাঁদের আন্তরিকতা নিয়ে সন্দেহ করছি বৈকি (পাঠক, এতে তাঁদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা এতটুকুও কমে যায়নি)। কিন্তু একজন বিদেশী সাত-পাঁচ না ভেবে সরাসরি তাঁদের ও তাঁদের প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ করতে পারেন।

বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ব্যাপারটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এমনকি বাংলাদেশী যেসব প্রফেসর ও গবেষক এখানে কাজ করেন তাঁরা অত্যন্ত আন্তরিক। তাঁদের গবেষণা রিপোর্টে আন্তর্জাতিক মান পুরো মাত্রায় বিরাজমান। যে সব বাংলাদেশী ছাত্র তাঁদের অধীনের উচ্চ শিক্ষার জন্য আসেন, তাদেরকে তাঁরা অত্যন্ত দরদ দিয়ে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণার কলা কৌশল শিক্ষা দেন। একটি কনফারেন্স বা জার্নাল রিপোর্ট কিভাবে লিখতে হবে তাও আন্তরিক ভাবে শিখিয়ে দেন। এজন্য বিশেষভাবে উল্লেখ্য অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক (Gippsland School of Information Technology-র প্রধান) ড: মানজুর মোর্শেদ। তিনি ছাত্রদের তাঁর বাসায় ডেকে নিয়ে হাতে কলমে শিখিয়ে দেন কিভাবে একটি কনফারেন্স বা জার্নাল রিপোর্ট লিখতে হয়। তাঁর নিপুন হাতের পরিচর্যায় অল্প সময়ে ছাত্ররা ইংরেজী লেখা ও গবেষণার ফলাফল presentation-এ দক্ষ হয়ে উঠে। আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয়, কম্পিউটারে রিপোর্ট লেখার বিভিন্ন software (যেমন, MS Word, Latex) এর প্রথম বা advance ব্যবহার অনেক ছাত্ররা তাঁর কাছেই প্রথম শিখে। ড: মানজুর মোর্শেদের Latex-এ লেখা পিএইচডি Thesis template মোনাশ সহ অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশী-বিদেশী পিএইচডি ছাত্ররা ব্যবহার করেন।

আরেকটি বিষয়, গবেষণায় ন্যুনতম সম্পৃক্ত না থেকে একটি গবেষণা রিপোর্টে নিজের নাম লেখক হিসেবে দিয়ে কৃতিত্ব নিতে আমরা অনেকে পছন্দ করি। কিন্তু যাঁরা এটা করেন, তাঁদের বায়োডাটায় গবেষণা রিপোর্টের সংখ্যা বাড়লেও তাঁরা কয়েকটি ঝুঁকি নিয়ে থাকেন। প্রথমত, এই চর্চাটি নৈতিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ। একটি গবেষণা বা এর রিপোর্ট লেখায় লেখক হিসেবে একজন ব্যক্তির ন্যুনতম সম্পৃক্ততা বাধ্যতামূলক। যদি কেউ ন্যুনতম সম্পৃক্ততা ছাড়াই লেখক হন, তবে তা ঠিক নয়। দ্বিতীয়ত, উপরে উল্লেখিত ঘটনার মতোই লেখক তাঁর নিজের ও প্রতিষ্ঠানের দূর্নামের ঝুঁকি নিয়ে থাকেন। তৃতীয়ত, বায়োডাটায় গবেষণা রিপোর্টের সংখ্যাধিক্যের জন্য চাকরীতে প্রমোশন হলেও, কার্যত তাঁরা ছাত্র ও সহকর্মীদের কাছে হাস্যাস্পদ হয়ে যান।

আমাদের দেশে এই ভূল চর্চাটি ব্যাপক। বাইরে একেবারে নেই বললেই চলে। মেলবোর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন বাংলাদেশী গবেষক তাঁর একটি লেখায় একই বিভাগের একজন অস্ট্রেলীয় অধ্যাপকের (যিনি বাংলাদেশী গবেষকটির একজন supervisor ও বটে) নাম লেখক হিসেবে দিতে অনুমতির জন্য গত এক মাস ধরে অপেক্ষা করছেন। অধ্যাপক সাহেব নিজের নাম ব্যবহারের অনুমতি দিতে চান, তবে এর আগে তিনি দেখতে চান লেখাটিতে কি আছে, লেখাটি তাঁর নিজের ও প্রতিষ্ঠানের নামের সাথে মানাবে কিনা। উল্লেখ্য, এর আগে তিনি বাংলাদেশী গবেষকটির আরেকটি লেখায় শুদ্ধ ইংরেজী লেখার ব্যাপারে যথেষ্ট সাহায্য করেছেন।

পরিশেষে বলব, আমাদের দেশের মেধা ও যোগ্য গবেষকদের অভাব নেই। এর প্রমাণ, আন্তর্জাতিক কম্পিউটার প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় বুয়েটের কম্পউটার প্রকৌশলের ছাত্ররা বরাবরই ঈর্ষনীয় সাফল্য ধরে রেখেছে। ভারত ও চীনসহ বিশ্বের অনেক নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়কে তাঁরা হারিয়েছেন। এছাড়া বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক কৃতি গবেষক প্রথম শ্রেণীর আন্তার্জাতিক জার্নালে তাঁদের গবেষণা নিয়মিত প্রকাশ করে থাকেন। এক্ষেত্রে যাঁরা পিছিয়ে আছেন, এক-আধটু পরিচর্যার মাধ্যমেই তাঁরাও বিশ্বমানের গবেষকদের কাতারে শামিল হতে পারেন। বাংলাদেশের যে সকল শিক্ষকরা বাইরের ডিগ্রী নিয়ে এসেছেন, তাঁদের সকলেই কম-বেশি গবেষণার সকল কলাকৌশল জানেন। তাঁদের একটু আন্তরিকতা, একটু সময়, সহকর্মীদের সাথে একটু সহযোগিতা তরুণ গবেষকদের অনেক উপরে নিয়ে যেতে পারে। পরিণামে শুধু বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বাংলাদেশও বিজ্ঞান চর্চায় বিশ্বে মর্যাদার আসনে সমাসীন হবে।

লেখাটি প্রকাশিত: নয়াদিগন্ত, সোনার বাংলাদেশ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28972454 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28972454 2009-07-02 08:21:07
'সোয়াইন ফ্লু' ও শুকর ব্যবসায় মন্দাভাব
চলমান অর্থনৈতিক মন্দার এই সময়ে সোয়াইন ফ্লুর বিরূপ প্রভাব দ্রুত স্পষ্ট হয়ে উঠছে। পর্যটনকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ছাড়াও ইতিমধ্যে লন্ডনসহ কয়েকটি শহরে শেয়ার বাজারেও ধ্বস নেমেছে। অর্থনীতির আরেকটি ক্ষেত্রে এ রোগের বিরূপ প্রভাব লক্ষ্যনীয়, আর তা হচ্ছে বিশ্বব্যাপী শুকরের মাংসের ব্যবসা। শুকরের মাংসের চাহিদা ইতিমধ্যে বেশ কমে গেছে। বিশ্বে কানাডা এ মাংসের সবচেয়ে বড় রফতানীকারক দেশ। এখন সে দেশেও 'সোয়াইন ফ্লু' আক্রান্ত রোগী সনাক্ত করা হয়েছে এখবর বের হওয়ার পরে তাদের শুকরের মাংসের ব্যবসায় মন্দাভাব নেমে এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের শুকরের মাংস উতপাদনকারী সংস্হার সভাপতি এগের কিংমা ব্যবসার মন্দাভাব কাটাতে জোর গলায় বলছেন, তাদের মাংস সোয়াইন ভাইরাস মুক্ত। আমেরিকায়ও শুকরের মাংসের ব্যবসায় অনুরূপ মন্দাবস্হা।

কেউ কেউ বলছেন, সোয়াইন ফ্লুর সাথে শুকর ব্যবসার মন্দাভাবের মূল কারণ, এই ফ্লুর নামকরণে। ইংরেজীতে swine মানে শুকরজাতীয় সর্বভূক প্রাণী (যেমন, pig, hog ও boar) যাদের শরীর অত্যধিক চর্বিযুক্ত এবং যাদের খাট ঘাড় ও লম্বা নাক আছে।

ইতিহাস থেকে (Merrium-Webstar online dictionary), 'swine fever' কথাটির প্রথম প্রচলন হয় আফ্রিকায় ১৮৮৬ সালে এবং রোগটি 'African swine fever' নামেও পরিচিত। এর জন্য দায়ী ডিএনএ ভাইরাসের বৈজ্ঞানিক নাম হল 'Asfivirus Asfarviridae'। রোগটি মূলত swine প্রজাতির শুকরদের হয়। রোগটির উপসর্গ স্বাভাবিক ইনফ্লুয়েঞ্জার মতোই। গায়ে প্রচণ্ড ব্যথা, ক্ষুধামন্দা, জ্বর, গলায় ব্যথা, বমিভাব ও শারীরিক দুর্বলতার উপসর্গের কথা জানা গেছে। রোগটি 'pig plague' নামেও পরিচিত। ইংরেজী উইকিপিডিয়া থেকে জানা যায়, এই রোগটি ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডে ও ১৯৭৮ সালে আমেরিকায় দেখা যায়।

বলা হচ্ছে, মানুষের মাঝে 'সোয়াইন ফ্লু' নামক রোগটির কারণ H1N1 নামক আরেকটি ভাইরাস। তাই স্বভাবতই শুকর ব্যবসায়ীদের দাবী মানুষের শরীরে এই সোয়াইন সেই সোয়াইন নয় যা শুকরদের হয়। আমেরিকার Agriculture Secretary টম ভিলসাক বলেছেন, মানুষের মাঝে এরোগের কারণ খাদ্য থেকে নয়, ফলে এর নামকরণ 'সোয়াইন ফ্লু' করাটা ভূল ছিল। প্যারিসভিত্তিক বিশ্ব স্বাস্হ্য সংস্হাও এই নামকরণের বিরোধিতা করেছেন। কেউ বলছেন, এরোগের নামকরণ হওয়া উচিত 'Mexico flu', কেউ বলছেন 'North American influenza'।

মানুষের সোয়াইন ফ্লু এবং শুকরের শুকরের সোয়াইন ফ্লুর মাঝে সম্পর্ক প্রকৃতপক্ষে আছে কিনা তা বিজ্ঞানীদের ভবিষ্যত গবেষণাই হয়ত: বলে দেবে। অনেকের হয়ত মনে আছে ২০০২-০৩ সালে হংকং, চীন, সিঙ্গাপুরে SARS (Severe acute respiratory syndrome) নামক অনুরূপ ফ্লুর কারণ হিসেবে শুকরের মাংসকেই দায়ী করা হয়েছিল এবং তখনও বিশ্বব্যাপী শুকর ব্যবসায় মন্দাভাব দেখা দিয়েছিল। ইংরেজী উইকি থেকে জানা যায়, ২০০২ এর নবেম্বর থেকে ২০০৩ এর জুলাইয়ে এরোগে মোট ৮,০৯৬ জন আক্রান্ত হয় এবং ৭৭৪ জন মারা যায়। কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্য রোগটির প্রাদূর্ভাব থেমে যাওয়ার পরে এনিয়ে আর কোন গবেষণার ফল জানা যায়নি। বিশ্বের মানুষ জানতে পরেনি SARS এর মূল কারণকি আসলেই শুকর থেকে এসেছে? এক্ষণে মানুষের 'সোয়াইন ফ্লু'র ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটবে বলে অনেকে মনে করছেন।

উল্লেখ্য, বিশ্বের বড় বড় ধর্মগ্রন্হগুলোতে মদের মতো শুকরের মাংসও অপবিত্র বস্তু হিসেবে খাওয়া হারাম করা হয়েছে (দেখুন, বাইবেলের ওল্ডটেস্টামেন্ট: ডিউটরনমি ১৪:৮-৯, লেভিটিকাস ১১:৭-৮, আল-কোরআন ২:১৭৩, ৫:৩, ৬:১৪৫, ১৬:১১৫)। ধর্মীয় পন্ডিতদের মতে আল্লাহ শুকর খাওয়া হারাম করার মূল কারণ গুলোর মধ্যে রয়েছে, এটি অপবিত্র, এর মাধ্যমে ৭০ টিরও বেশি রোগ ছড়ায় (বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত) এবং এটি নৈতিক অধ:পতনের জন্য দায়ী। Taenia Solium বৈজ্ঞানিক নামের মারাত্নক কৃমি শূকরের মাংস থেকে আসে এবং এর ডিম রক্তের মাধ্যমে শরীরের সব জায়গায় পৌঁছে যায় ও পরিণামে স্মৃতিশক্তি লোপ, হৃদরোগ ও অন্ধত্ব সহ অন্যান্য রোগ হয়। শুকরের মাংসের অতিরিক্ত চর্বি মানসিক রোগ ও হৃদরোগের জন্যও দায়ী। আগেই বলা হয়েছে, শুকর সর্বভূক প্রাণী, ফলে এটি সবধরণের ময়লা খায়। এদের মালিকরা যতই এদের পরিস্কার রাখার চেষ্টা করুক নোংরা হওয়ায় এদের স্বভাব। এমনকি একটি শুকর অন্য একটি শুকরকে নিজের প্রিয় শুকরের সাথে যৌনকাজ করার আহ্বান জানায় (যা প্রাণীকুলের মধ্যে বিরল)। ধর্মীয় পন্ডিতদের মতে শুকরের মাংস খেলে মানুষের মাঝে উপরে উল্লেখিত রোগ-বালাই ছাড়াও শুকরের অনুরূপ স্বভাব সৃষ্টি হয়। ফলে এরা নিজের স্বামী বা স্ত্রীকে নির্দ্বিধায় অন্যের সাথে পরিবর্তন করে। পাশ্চাত্যের শুকরভোগীদের দ্বারা এরকম ঘটনা অহরহ পত্রপত্রিকায় দেখা যায়।

এর কারণ, ইহুদী ও মুসলমানরা শুকরের মাংস খাওয়া থেকে ধর্মীয় কারণে বিরত থাকলেও, খ্রীস্টানরা এ বাঁধা মানে না। তারা নিউ টেস্টামেন্টের কিছু বাক্যের ভূল ব্যাখ্যা দিয়ে বলছে, ঈসা (আ: ) নিজেই তাওরাতের (বাইবেলের ওল্ডটেস্টামেন্ট) শুকরের মাংস নিষিদ্ধ বিষয়ক নিয়ম ভঙ্গ করেছেন। যেমন, ম্যাথিউ (১৫:১৭) ও মার্কে (৭:১৮-২০) ঈসা (আ: ) বলেছেন, 'তোমরা কি দেখনা? বাইরে থেকে ঢুকে কোন কিছুই মানুষকে অপবিত্র করে না। এটা বাইরে থেকে এসে হৃদয়ে প্রবেশ করে না, পাকস্হলীতে যায় এবং এরপরে বাইরে চলে যায়।' বাইবেল লেখকরা ব্যাখ্যায় বলেছেন 'এর মাধ্যমে ঈসা (আ: ) সব খাদ্য জায়েজ বলে ঘোষণা করেছেন'। অথচ সবাই জানেন (এমনকি খ্রীস্টানরাও, দেখুন ম্যাথিও ৫:১৭-২০, ২৩:২৩), ঈসা (আ: ) কোন নতুন ধর্মীয় নিয়ম আনেননি, তিনি মুসা (আ: ) এর নিয়মগুলো পূন প্রতিষ্ঠার জন্য এসেছেন। তাই শুকর জায়েজ বিষয়ক কথাবার্তা বাইবেল লেখকদের উদ্ভাবন বৈ কিছু নয়।

পরিশেষে বলতে হয়, আজ মানুষ মূলত আল্লাহ প্রদত্ত নিয়ম না মানার কারণেই জীবনের সকল ক্ষেত্রে নানা সমস্যায় পড়ছে। বিশ্বব্যাপী ধূমপান, অবৈধ যৌনতা, মদ ও শুকরের মাংস ভক্ষণের মাধ্যমে বছরে হাজার হাজার লোকের মৃত্যু ও শত শত পরিবার ভেঙ্গে গেলেও এগুলো থেকে মুনাফাভোগীরা ও শয়তানের পদাংক অনুসারীরা কখনও এসব পরিত্যাগ করবে না। আন্তার্জাতিক ভাবে মিডিয়ায় এসবের সর্বনাশী কুফল সেভাবে প্রচার হয়না। রসায়নে ডক্টরেট করা এক বন্ধু বলেছিলেন, এসবের ব্যবসার সাথে জড়িত দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলো বছরে কোটি কোটি টাকা খরচ করে যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারগুলোতে ধূমপান, অবৈধ যৌনতা, মদ ও শুকরের মাংসের কুফলের উপর কোন গবেষণা না হয়। এর পরেও যা হয় সেসবের ফলাফল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তারা মানুষের কাছে পৌঁছতে দেয়না। কিন্তু দায়িত্বশীল মিডিয়া ও প্রতিষ্ঠানের উচিত সাধারণ মানুষদের এব্যাপারে অবশ্যই সতর্ক করা। সরকার ও জনসচেতনমূলক সংস্হাগুলো 'সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: ধূমপান স্বাস্হ্যের জন্য ক্ষতিকর, স্বাস্হ্য মহাপরিচালক' মার্কা দায়সারা বিজ্ঞাপণ দিলে কাজ হবেনা। বরং এর জন্য দরকার এসব নিষিদ্ধকরণ আইন ও সঠিক বাস্তবায়ন। (লেখাটি প্রকাশিত,নয়াদিগন্ত)।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28945248 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28945248 2009-05-02 04:43:52
অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষাঃ তথ্য ও অভিজ্ঞতা লেখাটি প্রকাশিত)

প্রতি বছর অস্ট্রেলিয়াতে উচ্চশিক্ষার জন্য কয়েক লাখ ছাত্রছাত্রী বাইরে থেকে আসে। সরকারি হিসাবমতে, ২০০৩ সালে এ সংখ্যা ছিল ৩ লাখেরও বেশি। বাংলাদেশ থেকেও প্রতি বছর কয়েক হাজার ছাত্রছাত্রী পড়তে আসে। তবে যোগ্যতা থাকলেও উপযুক্ত তথ্যের অভাবে অনেকে ইচ্ছা সত্ত্বেও আসতে পারে না। অনেক সময় দেশ-বিদেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সংস্থা বা মিডিয়ার মাধ্যমে অনেক ছাত্রছাত্রী আর্থিকভাবে প্রতারিত হয়। এ ক্ষেত্রে শুধু অর্থ নয়, তারা নিজেদের জীবনের মূল্যবান সময়ও হারিয়ে ফেলে। এ জন্য দরকার উপযুক্ত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য।
অস্ট্রেলিয়াতে উচ্চশিক্ষার জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাবে দেশটির সরকার নিয়ন্ত্রিত ওয়েবসাইটগুলোতে। কারণ সরকারি ওয়েবসাইটগুলোতে অস্ট্রেলিয়াতে আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখাবিষয়ক বিভিন্ন পরিবর্তন, সংযোজন ও বিয়োজনগুলো নিয়মিত আপডেট করা হয়। এ ছাড়া ‘আইডিপি অস্ট্রেলিয়া’ (International Development Program-Australia) আন্তর্জাতিকভাবে অস্ট্রেলিয়ান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একমাত্র সমন্বিত প্রতিনিধি। বাংলাদেশে এর অফিস ঢাকার গুলশান ২ নম্বর গোলচক্কর থেকে অল্প দূরে কামাল আতাতুর্ক এভিনিউতে। ফোনঃ ৯৮৮৩৫৪৫, ই-মেইলঃ info.dhaka@idp.com">info.dhaka@idp.com">info.dhaka@idp.com">info.dhaka@idp.com

অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক শিক্ষা সংস্থার ‘স্টাডি ইন অস্ট্রেলিয়া’ হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া সরকারের আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখাবিষয়ক অফিসিয়াল ওয়েবসাইট। এখানে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম, বিভিন্ন বিষয়, পড়ালেখা ও থাকা-খাওয়ার খরচ, বৃত্তি, ভিসা, আবেদন প্রক্রিয়া, থাকা-খাওয়ার সুবিধা ও অস্ট্রেলিয়ায় জীবনযাপন সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। এ ছাড়া প্রতিটি অনুমোদিত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানা যেতে পারে। অস্ট্রেলিয়ায় বা অন্য যেকোনো দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়া দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ব্যাপার। এ জন্য একজন ছাত্র বা ছাত্রীকে অনেক আগে থেকে পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নিতে হয়। সর্বপ্রথম অস্ট্রেলিয়ায় আসার জন্য পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি শুরু করি ২০০৩ সালে। সে সময় ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরে মাস্টার্সের গবেষণা কাজে ব্যস্ত ছিলাম। ভর্তির আবেদনপত্রের সাথে বৃত্তির জন্যও আবেদন করি। কিন্তু প্রস্তুতির অভাবে আমার IELTS (International English Language Testing System) স্কোর আশানুরূপ না হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তির সুযোগ ও থাকা-খাওয়ার বৃত্তি পেলেও সবচেয়ে প্রয়োজনীয় টিউশন ফি ও মেডিকেল ইন্স্যুরেন্স পরিশোধকারী IPRS (International Postgraduate Research Scholarships) বৃত্তি পাইনি। পরের বছর বাংলাদেশ থেকে IELTS-এ প্রয়োজনীয় স্কোর করতে সক্ষম হলে আমি পূর্ণ বৃত্তি লাভ করি।

এখানে স্নাতকোত্তর কোর্সগুলোতে প্রচুর গবেষণা বৃত্তি থাকলেও স্নাতকপূর্ব কোর্সগুলোতে বৃত্তি নেই বললেই চলে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিটি বিষয়ে মোট সিট ও বৃত্তির সংখ্যা নির্দিষ্ট। সাধারণত যেকোনো বিষয়ে বৃত্তিসহ ভর্তির আবেদনকারীকে একই বিষয়ে বৃত্তি ছাড়া ভর্তির আবেদনকারীর চেয়ে কয়েক গুণ বেশি প্রতিযোগিতায় পড়তে হয়। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাধারণত কোনোরূপ পক্ষপাতিত্ব না করে সব আবেদনকারীর মধ্য থেকে তাদের প্রয়োজনীয় সংখ্যক সবচেয়ে ভালো ছাত্রছাত্রীদের ভর্তির সুযোগ দেয় এবং এদের মধ্য থেকে শীর্ষস্থানীয় আবেদনকারীদের নির্দিষ্টসংখ্যক বৃত্তি দিয়ে থাকে।

বৃত্তি না পেলেও এখানে পার্টটাইম কাজের প্রচুর সুযোগ আছে। পার্টটাইম কাজ হিসেবে একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রোগ্রামিং, টিউটরিং, মার্কিং ছাড়াও বাইরে অন্যান্য কাজ করা যায়। ছাত্রছাত্রীরা সাধারণত সাপ্তাহিক ছুটি ও বছর শেষের লম্বা ছুটিতে (নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি) পার্টটাইম চাকরি করে সারা বছরের পড়ালেখার খরচ জোগাড় করে। উল্লেখ্য, স্টুডেন্ট ভিসার শর্ত হিসেবে একজন ছাত্র বা ছাত্রী সেমিস্টার চলাকালে সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারে। বৃত্তিপ্রাপ্তদের জন্য কোথাও (যেমন মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়) সপ্তাহে ১৫ ঘণ্টা। তবে বছর শেষের লম্বা ছুটিতে যে যত খুশি কাজ করতে পারে। অস্ট্রেলিয়াতে উচ্চশিক্ষার জন্য আসার ছয়টি মূল ধাপ আছে। এগুলো হলো­ পড়ার পরিকল্পনা, বিষয় নির্বাচন, ভর্তির আবেদন, ভিসার আবেদন, দেশত্যাগের আগে করণীয় এবং অস্ট্রেলিয়াতে পৌঁছার পর করণীয়।

১. পড়ার পরিকল্পনাঃ সর্বপ্রথম একজন ছাত্র বা ছাত্রীকে দেখতে হবে, তার নিজের ক্যারিয়ারের জন্য কোন ধরনের কোর্স বা বিষয়ে সে আগ্রহী। সে কোন বিষয়ে পড়ালেখা করতে চায়, তার বর্তমান যোগ্যতা কতটুকু, সে যে বিষয়ে আগ্রহী তা শেষ করতে কত সময় লাগবে এবং সর্বোপরি, সে কোথায় এ বিষয়ে পড়তে আগ্রহী তাও ঠিক করা প্রয়োজন। উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়াতে চার ধরনের পড়ালেখার জন্য একজন শিক্ষার্থী আসতে পারে­ বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি, কারিগরি ডিগ্রি, স্কুল-কলেজ এবং ইংরেজি ভাষা শিক্ষা।

এর পর প্রতিটি আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীকে পড়াকালীন খরচের কথা আগেভাগে চিন্তাভাবনা করে পরিকল্পনা করতে হয়। টিউশন ফি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিষয়ভেদে বিভিন্ন হয়। থাকা-খাওয়ার খরচও অস্ট্রেলিয়ায় জায়গাভেদে বিভিন্ন। মনে রাখা প্রয়োজন, ভিসার আবেদনের সময় প্রয়োজনীয় খরচের সামর্থø দেখাতে ব্যর্থ হলে সাধারণত ভিসার আবেদন গ্রাহ্য হয় না। এখানে স্নাতকপূর্ব কোর্সের আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীদের বেশির ভাগ পূর্ণ খরচ দিয়ে পড়ালেখা করে। কারণ স্নাতকপূর্ব কোর্সে আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তির সংখ্যা খুবই সীমিত এবং তাদের জন্য ঋণের ব্যবস্থাও নেই। অনুরূপভাবে ডিপ্লোমা ও অন্য কোর্সগুলোতে বৃত্তি নেই বললেই চলে। তবে স্নাতকোত্তর গবেষণাভিত্তিক কোর্সে বেশ কিছু বৃত্তি আছে, যেমন IPRS, AusAid, গ্র্যাজুয়েট বৃত্তি ইত্যাদি।

২. বিষয় নির্বাচনঃ অস্ট্রেলিয়ার সরকার তাদের যেসব বিষয়ে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীদের সুযোগ দেয, সেগুলো থেকে একজন ছাত্র বা ছাত্রীকে নিজের পড়ার পরিকল্পনা অনুসারে একটিকে বেছে নিতে হয়। সরকারি ওয়েবসাইটে একটি বিষয় বাছাই করার পর এই বিষয়টি যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ আছে, সেগুলোর তালিকা পাওয়া যায়। এখান থেকে এক বা একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাছাই করা যেতে পারে। এর পর দেখতে হবে, এসব বাছাইকৃত প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি পড়ার জন্য একজন ছাত্র বা ছাত্রীর কী কী যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন, খরচ কেমন হবে ইত্যাদি। যোগ্যতার পরিমাপ প্রতিষ্ঠানটির মান ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর নির্ভর করে।

অনেক বিষয়ে (যেমন এমবিএ) ভর্তির জন্য কাজের অভিজ্ঞতা একটি পূর্বশর্ত হতে পারে। এ ছাড়া ভর্তিচ্ছু একজন ছাত্র বা ছাত্রীর আগের একাডেমিক রেকর্ড ও ইংরেজি দক্ষতা (যেমন IELTS) অস্ট্রেলিয়ার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নূøনতম চাহিদার কম হলে সাধারণত ভর্তি, বৃত্তি বা ভিসা কোনোটির আবেদনই বিবেচনা করা হয় না। উল্লেখ্য, বৃত্তির জন্য আবেদন করলে ইংরেজি ভাষায় প্রয়োজনীয় দক্ষতা (IELTS স্কোর) ভর্তির আবেদনপত্রের সাথে পাঠাতে হয়।

৩. ভর্তির আবেদনঃ একজন ছাত্র বা ছাত্রী একাধিক বাছাইকৃত প্রতিষ্ঠানে পৃথকভাবে ভর্তির আবেদন করতে পারে। ভর্তির আবেদনপত্র সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা যায় অথবা প্রতিষ্ঠানের ভর্তি শাখায় যোগাযোগ করলে তারা সাধারণ ‘অ্যাপ্লিকেশন প্যাকেজ’ পোস্ট করে পাঠিয়ে দেয়। পূরণকৃত আবেদনপত্রের সাথে আবেদনকারীকে আগের একাডেমিক রেকর্ডের পূর্ণ বিবরণ (মার্কশিট, ট্রান্সক্রিপ্ট) ও সনদ, ইংরেজি ভাষার যোগ্যতা (যেমন IELTS স্কোর) ও অভিজ্ঞতার সনদ সংযুক্ত করতে হয়। এর পর আবেদনকারী তার আবেনদপত্র সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় এজেন্ট যেমন­ আইডিপি অস্ট্রেলিয়ার (Internationlal Development Program-Australia) মাধ্যমে বা সরাসরি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভর্তি শাখায় পোস্ট করে পাঠাতে পারে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবেদনপত্র পাওয়ার পর আবেদনকারীর যোগ্যতা যাচাই করে তাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফলাফল জানায়।

৪. ভিসার আবেদনঃ একজন আবেদনকারী কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে অফার লেটার পেলে স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে হয়। আবেদনের জন্য নির্ধারিত ফরম পূরণ করে ভিসা আবেদন ফিসহ জমা দিতে হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভিসার জন্য আবেদনের আগে এক সেমিস্টারের টিউশন ফি পরিশোধ এবং অস্ট্রেলিয়ার সরকার অনুমোদিত যেকোনো কোম্পানির সাথে ১ বছরের মেডিক্যাল ইন্স্যুরেন্স করতে হয়। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভর্তির নিশ্চয়তা সনদ (ECOE-Electronic Conformation of Enrolment) ইস্যু করে, যা ভিসার আবেদনপত্রের সাথে জমা দিতে হয়। এ ছাড়া আবেদনকারীকে পড়ালেখার সময় খরচের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ টাকা ব্যাংকে আছে কি না, এর ব্যাংক হিসাব ভিসার আবেদনপত্রের সাথে জমা দিতে হয়। উল্লেখ্য, বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীরা প্রয়োজনীয় খরচের জোগান তাদের বৃত্তি থেকে দেখাতে পারে। প্রাপ্ত বৃত্তি কোন খাতে (টিউশন ফি, মেডিক্যাল ইন্স্যুরেন্স, থাকা, খাওয়া) এবং বছরে কত দেবে তা স্পষ্টভাবে অফার লেটারে উল্লেখ থাকে। অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশন স্টুডেন্ট ভিসার সব যোগ্যতা পূর্ণ হলে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর জন্য প্রি-ভিসা ((Pre-visa) ইস্যু করে। এ সময় নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে একজন অনুমোদিত ডাক্তারের কাছে মেডিক্যাল টেস্ট করাতে হয়। এর পর অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশন স্টুডেন্ট ভিসা ইস্যু করে। উল্লেখ্য, প্রাপ্ত স্টুডেন্ট ভিসায় পার্টটাইম কাজের অনুমতি না থাকলে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছে এজন্য আবেদন করলে সাধারণত অনুমতি পাওয়া যায়।

৫. দেশত্যাগের আগে করণীয়ঃ ভিসা পাওয়ার পর তারিখ ঠিক করে বিমানের টিকিট কিনতে হয়। সাধারণত কোর্স শুরু হওয়ার ১-২ দিন আগে অস্ট্রেলিয়ায় এসে পৌঁছলে চলে। দেশত্যাগ করে নতুন জায়গায় যাওয়ার আগে একজন ছাত্র বা ছাত্রীকে আরো কিছু বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে হয়। যেমন­ অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়ার উপযুক্ত পোশাক জোগাড় এবং প্রাথমিকভাবে থাকা-খাওয়ার জন্য অন্য কারো সাথে আগে থেকে যোগাযোগ করা ইত্যাদি। উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ার প্রায় সব বড় বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (যেমন­ মোনাশ, মেলবোর্ন, সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে) আন্তর্জাতিক অফিস ছাড়াও বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন বা মুসলিম স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন আছে। তাদের সাথে যোগাযোগ করলে কোনো সাহায্যকারী বন্ধু পাওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া অনেক সময় সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিমানবন্দর থেকে রিসিভ করে নিয়ে আসে। এ জন্য প্রতিষ্ঠানকে আগেই জানাতে হয়।

৬. পৌঁছার পর করণীয়ঃ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে কাগজে-কলমে ভর্তির শেষ ফরমালিটি সম্পন্ন করতে হয়। অনেক সময় কোর্স শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামের আয়োজন করে, যেখানে কোর্স সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। নতুন ছাত্রছাত্রীদের এরকম প্রোগ্রামে উপস্থিত থাকা আবশ্যক। এ ছাড়া থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা ঠিকমতো না হলে প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক অফিসে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

ওয়েবসাইট তথ্যসূত্রঃ
1.http://www.goingtouni.gov.au/
2. http://www.studyinaustralia.gov.au/
3. http://www.immi.gov.au/students/index.htm
4. http://www.idp.com/bangladesh/
লেখকঃ অস্ট্রেলিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্ট ডক্টরেট করছেন
E-mail : awrangjeb@gmail.com">awrangjeb@gmail.com">awrangjeb@gmail.com">awrangjeb@gmail.com]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28943034 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28943034 2009-04-27 06:11:10
ঈদ নিয়ে নজরুলের কয়েকটি কবিতা -.১.-
চাহি নাকো দুম্বা উট,
কতটুকু দান? ও দান ঝুট।
চাই কোরবানি, চাই না দান।
রাখিতে ইজ্জত ইসলামের
শির চাই তোর, তোর ছেলের,
দেবে কি? কে আছ মুসলমান?

-.২.-
মনের পশুরে করো জবাই,
পশুরাও বাঁচে, বাঁচে সবাই।
কসাই-এর আবার কোরবানি!
আমাদের নয়, তাদের ঈদ,
বীর-সূত যারা হলো শহীদ,
অমর যাদের বীরবাণী।

-.৩.-
ওরে কৃপণ, দিসনে ফাঁকি আল্লাহে
তোর পাশের ঘরে গরীব কাঙাল কাঁদছে যে,
তুই তারে ফেলে ঈদগাহে যাস সঙ সেজে,
তাই চাঁদ উঠলো এল না ঈদ
নাই হিম্মত নাই উম্মিদ
শোন কেঁদে কেঁদে বেহেশত হতে
হজরত আজ কী চাহে
[ঈদজ্জোহা]

-.৪.-
ঈদ মোবারক, ঈদ মোবারক।
দোস্ত দুশমন পর ও আপন
সবার মহল আজি হউক রওনক
যে আছ দূরে যে আছ কাছে
সবারে আজ মোর সালাম পৌঁছে
সবারে জানাই এ দিল্‌ আশক।

-.৫.জাকাত
দে জাকাত, দে জাকাত, তোরা দেরে জাকাত।
তোর দীল্‌ খুলবে পরে, ওরে আগে খুলুক হাত
দেখ্‌ পাক কোরান, শোন্‌ নবীজীর ফরমান
ভোগের তরে আসেনি দুনিয়ায় মুসলমান
তোর একার তরে দেন্‌নি খোদা দৌলতের খেলাত
তোর দরদালানে কাঁদে ভুখা হাজারো মুসলিম,
আছে দৌলতে তোর তাদেরও ভাগ­ বলেছেন রহিম,
বলেছেন রহমানুর রহিম, বলেছেন রসূলে করিম,
সঞ্চয় তোর সফল হবে, পাবিরে নাজাত
...
এই জাকাতের বদলাতে পাবি বেহেশ্‌তি সওগাত।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28879682 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28879682 2008-12-07 15:30:31
এইডস্‌ প্রতিরোধে একটি পূর্নাঙ্গ প্রেস্ক্রিপ্শন eFluxMedia.com.

বর্তমান শতাব্দীর এক আতংক ঘাতকব্যাধি এইডস্‌। বিগত আশির দশকে এইডস্‌ নামের ঘাতকব্যাধির সাথে মানুষ পরিচিত হয়। ১৯৮১ সালে আমেরিকায় প্রথম এইডস্‌ রোগ ধরা পড়ে। বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে বাংলাদেশেও এই মরণব্যাধি হানা দিয়েছে। ওষুধ আবিষ্কৃত না হওয়ায় বিজ্ঞানের চরম সাফল্যের যুগেও মানুষকে থমকে দিয়েছে ঘাতকব্যাধি এইডস্‌। আর এর পরিণতি নিশ্চিত মৃত্যু। ইসলামের অনুশাসন বাস্তবায়নের মাধ্যমে এইডস্‌ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। পবিত্র কুরআন শরীফ গবেষণা করে দেখা গেছে­­ আদ, সামুদ জাতি হস্তমৈথুন, যৌনাচার ইত্যাদিতে দারুণ আসক্ত হয়ে পড়ায় তাদের ভিতর এ ধরনের রোগের উৎপত্তি ঘটেছিল। এটি সম্পূর্ণ প্রকৃতি বিরোধী অনুশীলনের ফলাফল ছাড়া আর কিছুই নয়।

এ রোগের বিস্তার লাভের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হচ্ছে অবৈধ যৌনমিলন। তবে আজ তা আফ্রিকা ও ইউরোপ মহাদেশ থেকে ভারত, চীন, কম্পোডিয়া, মায়ানমার, থাইল্যান্ডসহ পার্শ্ববর্তী অনেক দেশসহ বাংলাদেশেও মহামারী আকারে এই রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। তবে সে সব দেশে অবাধ সমকামিতা সে সব দেশে এইডস্‌ ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করছে। এইডস্‌-এর ভয়াবহ ঝড় থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বাংলাদেশের সামাজিক মূল্যবোধ ও জীবনাচরণ এইডস্‌ সংক্রমণের জন্য সহায়ক নয়। তবে বাংলাদেশের তিনদিক থেকে ভারত। ফলে বাংলাদেশেও ভয়াবহ এইডস্‌ ঝুঁকির আশংকা রয়েছে।

এইডস্‌ প্রতিরোধে ইসলামঃ
ধর্মীয় অনুশাসন পালনের মাধ্যমে এইডস্‌ সংক্রমণ প্রতিরোধ সম্ভব। এইডস্‌ প্রতিরোধে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আজ থেকে প্রায় ১৪শ’ বছর পূর্বে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর মাধ্যমে মহান আল্লাহ মানব জাতিকে সুস্থ জীবনযাপনের জন্য অনেক দিকনির্দেশনা দিয়ে গিয়েছেন। আর সে সব বিধি-বিধান বর্তমানে পালিত না হওয়ার কারণে এইডস্‌-এর মত ভয়াবহ রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটছে।

ক. ধর্মীয় অনুশাসন পালনের নির্দেশঃ
ইসলাম ধর্ম শান্তির ধর্ম। ইসলামকে পূর্ণভাবে অনুশাসনের মাধ্যমেই কেবলমাত্র শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। মহান আল্লাহ তায়ালা পূর্ণভাবে ইসলামকে পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে ধর্মীয় অনুশাসন পালন না করার কারণে অবাধ মেলামেশার মাধ্যমে মরণব্যাধি এইডস্‌ ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ছে।

খ. অবাধ যৌনমিলন নিষিদ্ধকরণঃ
অবাধ যৌনমিলন তথা ব্যভিচারই ভয়াবহ ব্যাধি ও সামাজিক অনাসৃষ্টির কারণ। বর্তমান বিশ্বে হত্যা, সামাজিক বিশৃক্মখলা ও ভয়াবহ এইডস্‌সহ নানা ধরনের দুরারোগ্য রোগের যে ছড়াছড়ি তা মূলতঃ নারী-পুরুষের অপকর্মে লিপ্ত থাকার ফল। আর এই কারণে ইসলাম ব্যভিচারের এই অপরাধকে সব অপরাধের চেয়ে গুরুতর হিসাবে সাব্যস্ত করেছে এবং এ অপরাধের শাস্তি অন্যসহ অপরাধের শাস্তির চেয়ে কঠোর করেছে। মহান আল্লাহ বলেন, ব্যভিচারিণী নারী, ব্যভিচারী পুরুষ, তাদের প্রত্যেককে একশত করে বেত্রাঘাত কর। (সূরা নূর-২)।

গ. অসামাজিক ও অশ্লীল কাজ নিষিদ্ধকরণঃ
যুগে যুগে অতি উৎসাহী, বিকৃত চিন্তা-চেতনার অনুসারী কিছু সংখ্যক লোক শয়তানের প্ররোচণায় নানা রকম অসামাজিক, অশ্লীল এবং পাশবিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। বর্তমান বিশ্বের সর্বাপেক্ষা ভয়াবহ আতংক সৃষ্টিকারী মরণব্যাধি এইডস্‌ ও তেমনি ঘৃণিত অশ্লীল অপরাধ। কুরআনের ঘোষণা “তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তী হয়ো না, কারণ উহা নিকৃষ্টতম অশ্লীলতা ও মহাপাপ।” কুরআনে অন্যত্র বলা হয়েছে­ “হে ঈমানদারগণ! তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। যে কেউ শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করিবে যখন তো শয়তান নির্লজ্জতা ও মন্দকাজের আদেশ করবে। যদি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া তোমাদের প্রতি না থাকত, তবে তোমাদের কেউ কখনো পবিত্র হতে পারবে না। কিন্তু আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পবিত্র করেন। আল্লাহ সব কিছু জানেন ও শোনেন।” (সূরা নূর-২১)

ঘ. ভয়ংকর মহামারীর ব্যাপারে সতর্কঃ
অশ্লীল, বেহায়াপনা ও অশালীন আচার-আচরণের মাধ্যমে মানুষ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত হয়ে যায়। ঘৃণা এই অশ্লীল কাজের মাধ্যমেই ভয়ংকর মহামারী রোগ সৃষ্টি হয়। রাসূল (সাঃ) বলেন, “যখনই কোন জাতি বা সম্প্রদায় অশ্লীল ঘৃণ্য কাজে লিপ্ত হয়, তখনই তাদের মধ্যে এমন এক ভয়ংকর মহামারী দেখা দেয় যা তারা কখনো অতীতে দেখেনি।” (ইবনে মাজাহ)। এ ব্যাপারে কুরআনের ঘোষণা- “স্থলে ও জলে মানুষের কৃতকর্মের করুণ বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ছে। আল্লাহ তাদেরকে তাদের কর্মের শাস্তি আস্বাদন করতে চান। যাতে তারা ফিরে আসে।” (সূরা রুম-৪১)

ঙ. সমাজ-সভ্যতাকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার নির্দেশঃ
পৃথিবীতে সমাজ-সভ্যতাকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য সকল প্রকার মন্দ, দোষণীয়, অশ্লীল ও অশালীনতা থেকে বেঁচে থাকার জন্য ইসলাম মানব জাতিকে নির্দেশ দিয়েছে। আর এ অশ্লীলতা থেকে বাঁচার মাধ্যমে এইডস্‌ নামক মহামারী থেকেও বাঁচা যায়। আল্লাহ বলেন, “তোমরা তাদেরকে আহার দেই- নির্লজ্জতার কাছেও যেয়ো না, প্রকাশ্য হোক কিংবা অপ্রকাশ্য।” অন্য জায়গায় বলা হয়েছে­ “আমি কত জনপদের ধ্বংস সাধন করেছি যার অধিবাসীরা ছিল পাপী এবং তাদের পর সৃষ্টি করেছি অন্য জাতি।” (সূরা আম্বিয়া-১১)

চ. বিয়ে প্রথার মাধ্যমেঃ
ইসলাম মানবতার ধর্ম। ধর্ম কেবল বিধি-নিষেধ আরোপ করেই ক্ষ্যান্ত হয়নি বরং বৈধভাবে উপভোগ করার জন্য দিকনির্দেশনা দিয়েছে। ব্যভিচার প্রতিরোধ তথা সুস্থ জীবনযাপনের জন্য ইসলাম বিয়ের নির্দেশ দিয়েছে। আল কুরআনে বলা হয়েছে­ “তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তাদের বিয়ে সম্পাদন করে দাও এবং তোমাদের দাস-দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্ম পরায়ণ তাদেরও। তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের সচ্ছল করে দিবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।” (সূরা নূর-৩২)

ছ. ব্যভিচারে উৎসাহ জোগায় এমন কাজ নিষিদ্ধ করুনঃ
পৃথিবীতে এমনও অনেক দেশ আছে যেখানে ব্যভিচার তথা অশ্লীলতাকে উৎসাহ করা হয়। অথচ মানব জাতির জন্য এটা চরম বিপর্যয়মূলক লজ্জাকর কর্মকাণ্ড। ব্যভিচারকে ইসলাম নিষিদ্ধ করেছে। কুরআনে এসেছে­­ “ঈমানদার নারীদের বলুন! তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে অবনত করে এবং তাদের যৌনাঙ্গ হেফাজত করে।” (সূরা নূর-৩১)

জ. লজ্জাস্থানকে হিফাজতের নির্দেশঃ
রাসূল (সাঃ) বলেছেন, “তোমরা দু’টি জিনিসের তথা মুখ ও লজ্জা স্থানের জিম্মাদারী নাও, আমি তোমাদের জান্নাতের জিম্মাদারী নেবো।” অতএব লজ্জাস্থানের হিফাজতের মাধ্যমে ব্যভিচার থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। তাই পর্দার বিধান হিসাবে লজ্জাস্থানের হিফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। আল্লাহ বলেন, “মুমিনদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গ হেফাজত করে, এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে।” (সূরা নূর-৩০)

ঝ. লজ্জাস্থান হিফাজতকারী ক্ষমার ঘোষণাঃ
ব্যভিচার সংক্রান্ত যত ধরনের পাপ কাজ সংঘটিত হয় সব লজ্জাস্থান বা যৌনাঙ্গের মাধ্যমে হয়ে থাকে। আর এ পাপাচারের মাধ্যমে বিভিন্ন মহামারী দেখা দেয়। এইডস্‌ তার অন্যতম একটি। মহান প্রভু লজ্জাস্থান হেফাজতকারীকে ক্ষমার ঘোষণা দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন, “যৌনাঙ্গ হিফাজতকারী পুরুষ, যৌনাঙ্গ হেফাজতকারী নারী, আল্লাহর অধিক যিকিরকারী পুরুষ ও যিকিরকারী নারী তাদের জন্য আল্লাহ প্রস্তুত রেখেছেন ক্ষমা ও মহাপুরস্কার।” (সূরা আহযাব-৩৫)

ঞ. পতিতাবৃত্তি ইসলামে নিষিদ্ধঃ
বর্তমান সমাজে দেশ-বিদেশে যে পতিতাবৃত্তি অবিরাম চলছে ইসলাম এটাকে কোনক্রমেই সমর্থন করে না বরং এ ব্যাপারে ইসলাম সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞ জারি করেছে। আরও পতিতাবৃত্তির দরুন অবাধ যৌনমিলনের ফলে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে বিভিন্ন রোগসহ এইডস্‌ নামক মরণব্যাধিতে। কুরআনের দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা “তোমরা তাদেরকে আহার দেই- নির্লজ্জতার কাছেও যেয়ো না। প্রকাশ্যে হোক কিংবা অপ্রকাশে।” (সূরা আনআম-১৫১)

পরিশেষে আমরা বলতে পারি, ব্যভিচার, অশ্লীলতা এইডস্‌ নামক মরণব্যাধিকে ইসলাম ঘৃণা করে। আর এসব অপকর্ম থেকে বেঁচে থাকার মাধ্যমেই ইহকাল ও পরকালে কল্যাণ লাভ সম্ভব। মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদেরকে আমাদের দেশসহ বিশ্বের সকল দেশকে এর ভয়াবহতা থেকে রক্ষার তৌফিক দিন। আমীন।

লেখকঃ মোহাম্মদ আদেলউদ্দিন আল মাহমুদ
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
ফোন: ০১৭১৬ ২৪২৪৫৭
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28877531 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28877531 2008-12-03 05:51:12
সুদ নির্ভর বিশ্ব অর্থনীতির ধ্বস O শরিয়া ভিত্তিক অর্থনীতির প্রসার ।। অর্থপ্রতিষ্ঠানের পরে এবার দেশ দেউলিয়া! ছবি: (A) নিউইয়র্ক শেয়ার বাজার, (B) নিউইয়র্কে নাসডাক প্রতিষ্ঠানের বাইরে থেকে মানুষ এর বাজারের অবস্হা দেখছে, (C) পতন ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার কমাচ্ছে, (D) প্রতিদিন বেকারের সংখ্যা বাড়ছে।

হে ঈমানদারগণ! তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খেয়ো না। আর আল্লাহকে ভয় করতে থাক, যাতে তোমরা কল্যাণ অর্জন করতে পারো। (আল-কোরআন ৩:১৩০)

ভূমিকা:
মিডিয়াতে বিশ্ব অর্থনীতিতে সাম্প্রতিক ধ্বসের কাহিনী নিয়ে প্রায় ফিচার আসছে। সুদ নির্ভর বিশ্বঅর্থনীতির এই বিপর্যয়ের কারণে বিশ্বে ইসলামিক অর্থনীতি বা শরিয়া ভিত্তিক অর্থনীতির ব্যাপক প্রসার ঘটবে বলে মালেশিয়া ও বিশ্বব্যাপী অর্থনীতি বিশারদরা বলছেন।

আমেরিকা ইউরোপের অর্থপ্রতিষ্ঠান ধ্বসের সংক্ষিপ্ত খবরের পরে আমরা শরিয়া ভিত্তিক অর্থনীতির আশাপ্রদ খবরের দিকে নজর দিব।


আমেরিকার বেইল-আউট বিল:
বিশ্ব অর্থনীতির কর্ণধার আমেরিকার বড় বড় অর্থপ্রতিষ্ঠান গুলো (যেমন, ওয়াল স্ট্রিট) একের পর এক দেউলিয়া ও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সে দেশের সরকার সম্প্রতি বেইল-আউট বিল পাশ করেছেন অর্থনীতি পূনুরুদ্ধারের জন্য। কিন্তু এতে এখনো কোন সাফল্য আসেনি।


ইউরোপে ধ্বস:
এদিকে দেনার দায়ে দেউলিয়া হতে যাচ্ছে জার্মানির দ্বিতীয় বৃহত্তম বন্ধকি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান হাইপো রিয়েল এস্টেট। প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৈঠকে জার্মানির অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে ৫০ হাজার কোটি ডলারের উদ্ধার পরিকল্পনার প্রস্তাব গৃহীত হয়নি। অবশেষে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল হাইপো রিয়েল এস্টেটকে বাঁচাতে আমেরিকার মতো সরকারী বিনিয়োগ নিয়ে এগুচ্ছেন


এবার দেশ দেউলিয়া!
আমেরিকা-ইউরোপের অর্থ মন্দার প্রভাবে বিভিন্ন অর্থপ্রতিষ্ঠানের পরে এবার দেউলিয়া হতে বসেছে ইউরোপের একটি দেশ - আইসল্যান্ড। সুদভিত্তিক ব্যাংকিং খাতে বিশাল উন্নতির ফলে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মাথাপিছু আয়ের দেশ হচ্ছে আইসল্যান্ড! কিন্তু তাদের মুদ্রার মান এখন এক লাফে নেমে অর্ধেকে গিয়ে ঠেকেছে। ধারদেনায় জর্জরিত হয়ে একের পর এক ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাংক ল্যান্ডসব্যাংক ও গ্রাহকের সাথে সবরকম লেনদেন স্হগিত করেছে। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ব্যাংকটি জাতীয়করণের ঘোষণা দেয়।


বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংক গুলোর সুদের হার হ্রাস!
তীব্র অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে বিশ্বের প্রধান প্রধান নয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কমিয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ, হংকং, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংক, কানাডা, সুইডেন, চীন ও সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পাশ্চাত্যের অর্থনীতিতে ধ্বসের হাওয়া লাগতে পারে আমাদের বাংলাদেশেও। সেজন্য বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের নির্বাহীদের ইতিমধ্যে এ বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছে


জাপানে সুদের হার সর্বনিম্ন:
আমেরিকার পরে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ জাপানে সুদের হার বিশ্বের সর্বনিম্ন, মাত্র ০.৫ শতাংশ। তাই তাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদ কমানোর কোন উদ্যোগ নেয়নি।


শরিয়াভিত্তিক অর্থনীতি:
খুব হিসাব নিকাশের দরকার নেই। বড় অর্থনীতিবিদ হওয়ার দরকার নেই বিষয়টি বুঝার জন্য। বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক সুদের হার হ্রাস প্রমাণ করে, সুদহীন ব্যবসা সবচেয়ে বেশি স্হিতিশীল।


বিশ্বব্যাপী শরিয়াভিত্তিক অর্থনীতির সাম্প্রতিক প্রভাব বিষয়ক কতিপয় খবর তুলে ধরছি:

১.
ইন্টারন্যাশনাল হ্যারাল্ড ট্রিবিউনে উমেশ দেশাইয়েরINVESTING:
Islamic finance offers safeguards to investors
রিপোর্টে বলা হয়েছে, শরিয়াভিত্তিক অর্থনীতির স্বচ্ছতা ও শক্ত ভিত এখন বিশ্ব অর্থনীতি ধ্বসে আক্রান্ত বিনিয়োগকারীদের আকর্ষন করছে। ফলে সুদ ভিত্তিক ঋনী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এ এক মহা বিপদ সংকেত!

বিনিয়োগকারীরা বলছেন, ইসলামী অর্থনীতি প্রচলিত সুদভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ে অনেক বেশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। ফলে বিনিয়োগকারীরা এটা বুঝতে পারেন, কখন একটা অর্থপ্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হতে পারে। এছাড়া ইসলামী অর্থনীতিতে অর্থপ্রতিষ্ঠানও একজন বিনিয়োগকারী। ফলে সকল বিনিয়োগকারীর সমন্বিত প্রচেষ্ঠায় যেকোন সংকট দ্রুত কাটিয়ে উঠা সম্ভব।

২.
আমিরাত বিজনেসের West eyes Islamic finance market share রিপোর্টে লেখা হয়েছে, পশ্চিমা অর্থপ্রতিষ্ঠান গুলো এখন ক্রমেই শরিয়াভিত্তিক অর্থনীতির দিকে ঝুঁকছে। কুয়েতের ফিনান্স হাউস বলছে, ২০১০ সালের মধ্যে শরিয়াভিত্তিক অর্থনীতির সর্বমোট সম্পদ হবে ১ ট্রিলিয়ন ডলার, যা বর্তমানে ৭৫০ বিলিয়ন ডলার।

৩.
মালেশিয়ার দ্য স্টারের Islamic finance strong despite global credit crisis রিপোর্টে বলা হয়েছে সাম্প্রতিক বিশ্ব অর্থনীতি ধ্বসের দাগ শরিয়াভিত্তিক অর্থনীতি এখনও অনুভব করেনি। ব্যাংক নেগারার গভর্ণর মিসেস জেতি আখতার আজিজ এক বিবৃতিতে অনুরূপ কথা বলেন। তিনি বলেন, ইসলামী অর্থনীতি সবসময় একটি প্রডাক্টিভ খাতে (প্রজেক্ট) অর্থ বিনিয়োগ করে এবং প্রজেক্ট থেকে উদ্ভূত লাভ-ক্ষতি শেয়ারের কারণে ইসলামী অর্থ প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বসের আগেই উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করছে।


উপসংহার:
অতএব এটা নিশ্চিত ভাবেই বলা যায়, বিশ্বের সুদভিত্তিক অর্থনীতির মন্দাভাব শরিয়াভিত্তিক অর্থনীতিতে মানুষের আস্হার সৃষ্টি করছে। এর ফলে আশা করা যায়, ভবিষ্যতে বিশ্বের মানুষ এরকম অর্থনৈতিক ধ্বস থেকে রেহাই পাবে।

ইসলামী শরিয়া তাই বলছে।
হে ঈমানদারগণ! তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খেয়ো না। আর আল্লাহকে ভয় করতে থাক, যাতে তোমরা কল্যাণ অর্জন করতে পারো। (আল-কোরআন ৩:১৩০)

অথচ শরিয়াভিত্তিক অর্থনীতি সম্পর্কে জ্ঞানের অভাবে মানুষ নেগেটিভ ধারণা পোষণ করে।
... তারা বলেছেঃ ক্রয়-বিক্রয় ও তো সুদ নেয়ারই মত! অথচ আল্লা’হ্‌ তা’আলা ক্রয়-বিক্রয় বৈধ করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন। ... (আল-কোরআন ২:২৭৫)

এছাড়া এটা আল্লাহর ইচ্ছা যে, সুদকে তিনি ধ্বংস করে দিবেন।
আল্লাহ্‌ তা’আলা সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দান খয়রাতকে বর্ধিত করেন। ... (আল-কোরআন ২:২৭৬)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28852557 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28852557 2008-10-09 08:42:26
শ্রদ্ধাঞ্জলী বনাম শ্রদ্ধাঞ্জলি
যতদুর জানি, শব্দটি 'শ্রদ্ধাঞ্জলি' হবে, 'শ্রদ্ধাঞ্জলী' নয়।

হাইস্কুল জীবনে হেড মাস্টার কর্তৃক বাংলা ক্লাসে নতুন নতুন বাংলা শব্দ শেখা ও বানান ভুলের মাশুল হিসেবে নম্বর কর্তনের কথা মনে পড়ে গেল। যেমন, বাঞ্চনীয় ও অবাঞ্চনীয় শব্দদ্বয়ের বানান, মানে ও ব্যবহার বুঝতে আমাদের অনেকের কষ্ট হয়েছিল।

তাছাড়া, কয়েক বছর আগেও 'শ্রদ্ধাঞ্জলি' শব্দটি নিয়ে জাতীয় দৈনিক গুলোতে হৈ চৈ পড়ে গিয়েছিল। সম্ভবত: কোন এক মরহুম জাতীয় নেতার প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি বা মানপত্রের ব্যাপারে লেখা হয়েছিল।

আশা করি, কর্তৃপক্ষ বানান ভুলের বিষয়টির দিকে নজর দিবেন।

ধন্যবাদ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28849209 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28849209 2008-09-29 10:00:02
নীরবে চলে গেল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১০৯তম জন্মবার্ষিকী নীরবে চলে গেল আমাদের জাতীয় কবির জন্মদিন। শৈশবে অবহেলিত দুখুমিয়া আজো অবহেলিত। আসুন, আমরা সবাই মিলে দুখু মিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করি।

গতকাল ছিল বাংলা সাহিত্যের অবিস্মরণীয় কবি প্রতিভা, চির বিদ্রোহের কবি, বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১০৯তম জন্মবার্ষিকী।

১৮৯৯ সালের এই মহান কবি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা কাজী ফকির আহমদ এবং জননী জাহেদা খাতুন।

ব্রিটিশ শাসন-শোষণে নির্যাতিত-নিষ্পেষিত-পরাজিত-আশাহত-লাঞ্ছিত জাতি যখন ধুকে ধুকে মরছিল তখন নজরুল আবির্ভূত হন আলোকবর্তিকার মতো। তার লেখনীর মাধ্যমে জাতি খুঁজে পেয়েছিল পথের দিশা। পরাধীন জাতি তাকে গ্রহণ করেছিল তাদের চেতনার প্রতীক হিসেবে। ধর্ম-গোত্র-বর্ণ নির্বিশেষে তিনি বাংলা ভাষাভাষীই শুধু নন, বিশ্বের সব জনপদের নিগৃহীত-বঞ্চিত মানুষের সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি।
কাজী নজরুল ইসলাম এ জাতির হতাশ প্রাণে নিয়ে আসেন নতুন প্রেরণা। তার প্রদর্শিত পথ ধরে আত্মবিশ্বাসে পূর্ণ একটি জাতি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। এগিয়ে যায় পরাধীনতার অìধ কার ঠেলে স্বাধীনতার দিকে। ব্রিটিশের গোলামীর বিরুদ্ধে কবিতা লিখে চির বিদোহী এই কবি বরণ করেন কারা জীবন। পৃথিবীর ইতহাসে এমন নজির বিরল। তিনি তাই বিদ্রোহী কবি।

এ দেশের প্রতিটি মানুষের আত্মার আকুতির অনুরণন ঘটিয়েছিলেন নজরুল। জাতির স্বপ্ন সাধ, আশা আকাáক্ষা সবই ধারণ করেছিলেন নজরুল। তিনি তাই আমাদের জাতীয় কবি।
কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় চেতনা, সাহিত্য, সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান রূপকার। মানবতার পক্ষে, শোষিত বঞ্চিত, নিগৃহীত মানুষের পক্ষে নিরবচ্ছিন্নভাবে কলম চালনা করে তিনি তাদের প্রধান মুখপাত্রে পরিণত হন।

উপমহাদেশের জনজীবন, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে তিনি অসাম্প্রদায়িকতাকে সবার ঊর্ধ্বে তুলে ধরেন। তার এ অবদান তুলনাবিহীন। সাহিত্যের মতো সঙ্গীতেও তিনি যে অবদান রেখে গেছেন তা শুধু বাংলা সঙ্গীতের ইতিহাসেই নয়, বিশ্ব সঙ্গীতের ইতিহাসেও স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। সংখ্যার বিচারে তিনি যেমন অনতিক্রমনীয়, তেমনি গুণগত মান, শৈল্পিক উৎকর্ষ, বিষয় বৈচিত্র্যেও তার অবদান অনন্যসাধারণ। বাংলা সঙ্গীতে তিনি আধুনিকতার স্খপতি। ইসলামি সঙ্গীতেরও তিনি অগ্রগামী প্রবক্তা। ইসলামি গানে আজঅবধি কেউ তাকে অতিক্রম করতে পারেনি। আবার দেশাত্মবোধক গান, জাগরণী গান এবং শ্যামা সঙ্গীত রচনার ক্ষেত্রে তার অবদান অতুলনীয় বিভায় চিরকাল সমুজ্জ্বল থাকবে। আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে তার লেখনী ও সঙ্গীত ছিল এ দেশের মুক্তিকামী মানুষের অনুপ্রেরণার অন্যতম প্রধান উৎস। (সূত্র: নয়াদিগন্ত)।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28802878 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28802878 2008-05-26 10:33:07
আলোকিত আলেয়া! আলেয়া সবুর। তিনি ৩০০ বছরের গিনেজ রেকর্ড ভঙ্গ করলেন। ১৭১৭ সালে বিজ্ঞানী নিউটনের ছাত্র ১৯ বছর বয়সী কলিন ম্যাকলোরিন প্রফেসর হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েছিলেন।

আলেয়ার আলোর বিচ্ছুরণ:

১. বিস্ময় সৃষ্টিকারী আলেয়া সবুর ২ বছর বয়সেই পুরো একটি উপন্যাস পাঠ করেন।

২. চতুর্থ গ্রেডে অধ্যয়নকালেই অসাধারণ মেধার পরিচয় দেন এবং তাকে সরাসরি দ্বাদশ গ্রেডে উন্নীত করা হয়। এ ঘটনায় সে সময় সারাবিশ্বে আলোচনার ঝড় উঠেছিল।

৩. ১৪ বছর বয়সে নিউইয়র্ক স্টেট ইউনিভার্সিটির স্টনিব্রুক কলেজ থেকে ব্যাচেলর ডিগ্রি নেন।

৪. ১৮ বছর বয়সে পিএইচডি করেন ড্রেক্সেল ইউনিভার্সিটি থেকে।

৫. ১৯ ফেব্রুয়ারি ১৮ বছর বয়সে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে অবস্খিত কনকাক ইউনিভার্সিটিতে অ্যাডভান্স টেকনোলজি ফিউশন ডিপার্টমেন্টে ফুলটাইম ফ্যাকাল্টি প্রফেসর হিসেবে নিয়োগ পেয়ে গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে অন্তর্ভুক্ত হন।

সূত্র: নয়াদিগন্ত ও আমাদেরসময়, ২৪ এপ্রিল ২০০৮।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28790724 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28790724 2008-04-24 10:50:21
ইসলামি উত্তারাধিকার আইন সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা ক. ভূমিকা:
ইসলামী উত্তারাধিকার আইন নিয়ে আজকাল পত্র-পত্রিকায় খুব লেখালেখি হচ্ছে। এনিয়ে ব্লগেও কিছু লেখা এসেছে। কিছু মানুষ ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে পছন্দ করেন না বলে, (বিষয় সম্পর্কে জেনে বা না জেনে) এসব থেকে সজ্ঞানে দূরে আছেন। আবার চিহ্নিত কিছু মানুষ জেনে-বুঝে খুব সুক্ষ ভাবে উস্কানী দিচ্ছে অপর পক্ষকে। উদ্দেশ্য, বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে ইসলামকে বিতর্কিত করা ও নিজেদের ইপ্সিত লক্ষ্যে পৌঁছা । ব্যাপারটা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কিছু আল্লাহর প্রকাশ্য শত্রু আল-কোরআনকে ভুল প্রমাণের উদ্দেশ্যে পোস্ট দিয়েছে, আর কিছু মুসলমান নামধারী পাপিষ্ট (সাথে কিছু অমুসলমানও) বুঝে বা না বুঝে খুব কাছ থেকে হাততালি মারছে, যেমন এরা সবসময় করে থাকে! প্রকৃত মুসলমানদের অবস্হা এমন যে, জ্ঞান ও উদ্যোগের অভাবে পাপিষ্টদের এমন অপরাধের প্রতিবাদও হয়ত: করতে পারছেন না!

আমাদের আজকের লেখায় ইসলামী উত্তারাধিকার আইনের বর্ণনা দেয়া উদ্দেশ্য নয়। এনিয়ে ইসলামী আইনবিদদের লেখা শত শত ভলিউম লেখা আছে। যে কেউ সেগুলো পড়তে পারেন। বরং, আমাদের আজকের লেখার শুরুতে বলব, এই আইনগুলো কে, কেন দিয়েছেন তার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা। এগুলো মানলে কি লাভ ও না মানলে কি ক্ষতি হবে তাও উল্লেখ করব। পরিশেষে আমরা এই আইনগুলো প্রয়োগের সময় রাসুলুল্লাহ সা: ও সাহাবীদের রা: কর্তৃক গৃহিত কিছু মৌলিক দিকনির্দেশনা এবং বাস্তবের বিভিন্ন সমস্যায় কি ভাবে আল-কোরআনের নিয়মাবলী প্রয়োগ করা হয়েছে সেগুলোর কিছু উদাহরণ উল্লেখ করব। ইনশাল্লাহ।

খ. ইসলামী উত্তারাধিকার আইন কে, কেন দিয়েছেন:
ইসলামী উত্তারাধিকার আইন বা মৃত ব্যক্তির সম্পদ বন্টনের নিয়মনীতি আল-কোরআনে তিন জায়গায় এসেছে: সুরা নিসার ১১, ১২, ও ১৭৬ নম্বর আয়াত। এই আয়াতগুলোতে আইনের মূল দিকগুলো বলার আগে ও পরে (প্রতি আয়াতে) আইন প্রণেতা আল্লাহ নিজের কিছু গুণাবলী ও সাধারণ কিছু বিষয় উল্লেখ করেছেন। বিষয়গুলো লক্ষ্য করুন, তাহলে এই মৌলিক আইনগুলোর গুরুত্ব অনুধাবন সহজ হবে:

৪:৭: পিতা-মাতা ও আত্নীয়-স্বজনদের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পুরুষদেরও অংশ আছে এবং পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে নারীদেরও অংশ আছে; অল্প হোক কিংবা বেশী। এ অংশ (আল্লাহর পক্ষ থেকে) নির্ধারিত।
৪:৮: সম্পতি বন্টনের সময় যখন আত্নীয়-স্বজন, এতীম ও মিসকীন উপস্খিত হয়, তখন তা থেকে তাদের কিছু দিয়ে দাও এবং তাদের সাথে কিছু সদালাপ করো।
৪:৯: লোকদের একথা মনে করে ভয় করা উচিত যে, তারা যদি মরার সময় নিজেদের পশ্চাতে দুর্বল অক্ষম সন্তান-সন্ততি ছেড়ে যেত তাহলে তাদের জন্যে তারা কতই না আশঙ্কা করত। সুতরাং তারা যেন আল্লাহকে ভয় করে এবং ন্যায় সংগত কথা বলে।

উপরের কথাগুলো থেকে ইসলামী স্কলাররা কিছু মৌলিক জিনিস বর্ণনা করেছেন:
১. মৃতের পরিত্যক্ত সম্পত্তি (মীরাস) তে শুধু পূরুষ নয়, নারীরও অধিকার আছে। উল্লেখ্য ইসলাম পূর্ব যুগে এবং পাশ্চাত্যে এই ক'দিন আগেও সম্পত্তিতে নারীর অধিকার ছিল না।
২. পরিত্যক্ত সম্পত্তি যতটুকুই হউক, কম বা বেশী, তার উত্তারাধিকারীদের মধ্যে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী বন্টন করতে হবে।
৩. এই আইন মৃতের সকল স্হাবর-অস্হাবর, কৃষি-শিল্প সব সম্পদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
৪. এই আইন ব্যক্তি মারা যাওয়ার পরে কার্যকর হবে।
৫. আত্নীয়-স্বজন, এতীম ও মিসকীন যাদের বস্তুত: কোন আইনগত অধিকার নেই, তাদেরকেও কিছু না কিছু দিয়ে ইহসান করতে বলা হয়েছে।

আরো লক্ষ্য করুন,
৪:১১: ... তোমাদের পিতা ও পুত্রের মধ্যে কে তোমাদের জন্যে অধিক উপকারী তোমরা জান না। এসব অংশ আল্লাহ্ কর্তৃক নির্ধারিত। নিশ্চয় আল্লাহ সকল সত্য জানেন ও সকল কল্যাণময় ব্যবস্হা সম্পর্কে অবগত আছেন।
৪:১২: ... এ বিধান আল্লাহর পক্ষ থেকে। আর আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ, সর্বদর্শী ও সহনশীল।
৪:১৩-১৪: এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা। যে কেউ আল্লাহ ও রসূলের আদেশমত চলে, তিনি তাকে জান্নাত সমূহে প্রবেশ করাবেন, যেগুলোর তলদেশ দিয়ে স্রোতস্বিনী প্রবাহিত হবে। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। এ হল বিরাট সাফল্য| যে কেউ আল্লাহ্ ও রসূলের অবাধ্যতা করে এবং তার সীমা অতিক্রম করে তিনি তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন। সে সেখানে চিরকাল থাকবে। তার জন্যে রয়েছে অপমানজনক শাস্তি।
৪:১৭৬: ... আল্লাহ্ তোমাদিগকে সুস্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিচ্ছেন, যাতে তোমরা বিভ্রান্ত না হও। আর আল্লাহ্ হচ্ছেন সর্ব বিষয়ে পরিজ্ঞাত।

এখানে যা বলা হয়েছে তা সংক্ষেপে,
১. মীরাসে আল্লাহ প্রদত্ত আইনের গভীর তত্ত্ব যারা জানতে সক্ষম নয়, এব্যাপারে যাদের জ্ঞান অজ্ঞতার পর্যায়ভূক্ত, এবং যারা অপরিপক্ষ বুদ্ধি দিয়ে আল্লাহর আইনের ত্রুটি (!) দূর করতে চায়, তাদের কে যাবধান করা হয়েছে।
২. আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণকারীরা আল্লাহর পাকড়াও থেকে রেহাই পাবে না।
৩. আল্লাহ যে নিয়মাবলী বর্ণনা করেছেন তা একেবারে নির্ভূল।
৪. তিনি কঠোরতা অবলম্বন করেন নি, যেসব আইন তিনি দিয়েছেন সেগুলো মানা মানুষের জন্য সহজ।
৫. আল্লাহর বিধান মান্য কারীদের জন্য জান্নাতের ওয়াদা করা হয়েছে।

গ. অমুসলিম স্কলারের চোখে ইসলামী উত্তারাধিকার আইন:

The divine justness and equitability of the Islamic laws of inheritance have been correctly appreciated by many non-Muslim scholars such as Professor Almaric Rumsey (1825-1899) of King's College, London, the author of many works on the subject of the Muslim law of inheritance and a barrister-at-law, who stated that the Muslim law of inheritance, "comprises beyond question the most refined and elaborate system of rules for the devolution of property that is known to the civilised world." (দেখুন, সূত্র: ১)

ঘ. বাস্তবে প্রয়োগের বিশেষ নিয়মাবলী ও কিছু উদাহরণ:
মানুষের বাস্তব জীবনে বিভিন্ন সময় এত বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হয় যে, সঠিক জ্ঞান ছাড়া আল-কোরআনের বিধান গুলোর ব্যবহার সম্ভব নয়। রাসুলুল্লাহ সা: ও তাঁর সাহাবারা রা: এমন সমস্যা সমাধানে কিছু নিয়মাবলী ও উদাহরণ দিয়ে গেছেন। নীচে আমরা সংক্ষেপে এসবের কিছু উল্লেখ করব। (বিস্তারিত দেখুন, সূত্র: ২)

প্রকৃতপক্ষে, বাস্তবে সম্পদ বন্টনের বিষয়টি এত জটিল ও এতে এত বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হয় যে, সাধারণ মানুষের পক্ষে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া কষ্টকর হতেই পারে। অনেক সময় দেখা যায়, আল-কোরআনের বিধান মতে মোট সম্পদ হয় বেশী (উদ্বৃত্ত) হয়ে যায়, অথবা ঘাটতি হয়ে যায়, অথবা পুরোটা বন্টনের পরেও (দূরতম সম্পর্কের) উত্তারাধিকারী বন্ঞিত থেকে যেতে পারেন। এসব ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ সা: ও তাঁর সাহাবারা রা: যে সব হেকমত অবলম্বন করেছেন, তা আমাদের জন্য অনুসরনীয়।

১. উদ্বৃত্ত হলে: সম্পত্তি বন্টনের সময় আগে আল-কোরআনে বর্ণিত শেয়ারারদের মাঝে নিয়মানুযায়ী বন্টনের পরে অবশিষ্ট থাকলে তা দূরবর্তী আত্নীয়দের মাঝে বন্টন করা হবে। উদ্ধৃত্ত গ্রহণকারী দূরতম আত্নীয় না থাকলে, নিকটতম আত্নীয়দের মধ্যে আল-কোরআনে বর্ণিত সমানুপাতে উদ্ধৃত্তও বন্টন হবে।

Abdullah ibn Abbas (RA) reported that the Prophet Muhammad (SAWS) said, "Give the Faraid (the shares of the inheritance that are prescribed in the Quran) to those who are entitled to receive it. Then whatever remains, should be given to the closest male relative of the deceased." (Sahih al-Bukhari)

হযরত উমর রা: এর সময়ের একটি ঘটনা: একজন মৃত স্ত্রী লোক সন্তানহীন অবস্হায় স্বামী ও পিতা-মাতা রেখে মারা গেলেন। তার সম্পত্তি কিভাবে ভাগ হবে?

আল-কোরআন অনুসারে, স্বামী ১/২ ভাগ (আল-কোরআন ৪:১২), মাতা ১/৩ ভাগ (আল-কোরআন ৪:১১), পিতা অবশিষ্ট ১/৬ ভাগ। এটি আল-কোরআনের ৪:১১ এর পূরুষ মহিলার দ্বিগুন পাবে এই নিয়ম ভঙ্গ করে, যেহেতু পিতা মাতার চেয়ে কম পাচ্ছেন। এজন্য আল-কোরআনের ৪:১১ নিয়ম (মাতা ১/৩ ভাগ পাবেন) তখনই আ্যাপ্লিক্যাবল, যখন মৃতের পিতা-মাতা ছাড়া কোন সন্তান-সন্ততি বা স্বামী না থাকেন। অর্থাৎ এক্ষেত্রে সঠিক হিসেব, স্বামী ১/২ ভাগ (আল-কোরআন ৪:১২), মাতা ১/৬ ভাগ (আল-কোরআন ৪:১১), পিতা ১/৩ ভাগ (আল-কোরআন ৪:১১)।

২. দূরতম আত্নীয় বন্ঞিত থাকলে:
হযরত উমর রা: এর সময়ের আরেকটি ঘটনা: এক মহিলা সন্তানহীন অবস্হায় স্বামী, মাতা, দুই Full brother (যাদের পিতা-মাতা মৃত মহিলার মতো একই), ও দুই Uterine brother (যাদের শুধু মাতা মৃত মহিলার মতো একই) রেখে মারা গেলেন।

আল-কোরআন অনুসারে, স্বামী ১/২ ভাগ (আল-কোরআন ৪:১২), মাতা ১/৬ ভাগ (আল-কোরআন ৪:১১), দুই Uterine brother ১/৩ ভাগ (আল-কোরআন ৪:১২)। কোন উদ্ধৃত্ত নাই। দুই Full brother কিছু পাচ্ছেন না।

হযরত উমর (রা<img src=" style="border:0;" /> Full ও Uterine brother দের ১/৩ ভাগ সমভাবে বন্টন করে দিলেন। (উপরে বর্ণিত আল-কোরআন ৪:৮ দেখুন)

৩. ঘাটতি হলে:
বন্টনের সময় বন্টিত সম্পদ ১ এর অধিক হলে সকল উত্তারাধিকারের থেকে তাদের প্রাপ্যের সমানুপাতে কমিয়ে মোট সম্পদ ১ অংশ করা হয়। (the doctrine of al-awl)

যদি মৃত ব্যক্তির, দুই কন্যা, এক স্ত্রী, পিতা এবং মাতা বর্তমান থাকেন তাহলে,
দুই কন্যা ২/৩ ভাগ (আল-কোরআন ৪:১১), পিতা ১/৬ (আল-কোরআন ৪:১১), মাতা ১/৬ (আল-কোরআন ৪:১১) , স্ত্রী ১/৮ (আল-কোরআন ৪:১২)। মোট: ২৭/২৪ ভাগ (১/৮ ভাগ ঘাটতি)।

এক্ষেত্রে, ঘাটতি সকল শরিকদের মাঝে তাদের প্রাপ্য অনুসারে (নেগেটিভ) বন্টন হবে। দুই কন্যা ১৬/২৭ ভাগ, পিতা ৪/২৭ ভাগ, মাতা ৪/২৭, স্ত্রী ৩/২৭ ভাগ।


ঙ. উপসংহার:
উপরে বর্ণিত বিশেষ ক্ষেত্রসমূহে রাসুলুল্লাহ সা: ও তাঁর সাহাবারা রা: আল-কোরআনের মূলনীতি লঙ্গন না করেই মিমাংসা করেছেন (ইজমা ও কিয়াস)। উত্তরাধিকারীর ধরন ও সংখ্যানুসারে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন আল-কোরআনের উদ্দেশ্য নয়। বরং, আল-কোরআনের উদ্দেশ্য এই যে, একগুচ্ছ মৌলিক বিধান দিয়ে দেয়া। মানুষ বাস্তবক্ষেত্রে এসব মৌলিক বিধান অনুসরণ করেই সব সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হবে। যেমন, অন্যান্য আইন যেমন, চুরি, ধর্ষণ ইত্যাদির ক্ষেত্রেও আল-কোরআন তাই করেছে।

অথচ, আজকাল একধরনের পাপিষ্টরা আল-কোরআনের মূলনীতি (যেমন, পূরুষ নারীর দ্বিগুণ পাবে) পরিবর্তনের খায়েস কে সাহাবাদের রা: জ্ঞানগর্ভ নির্দেশনার সাথে গোলমাল পাকিয়ে বলতে অপচেষ্টা করছে, সম্পত্তির জন্য আগে সাহাবারাই গোলমাল পাকিয়েছেন (নাউযুবিল্লাহ), তারা নয়, তারা শুধু সমাধান করছে!

অথচ, তারা জানে না, মানুষের জ্ঞান কত সীমিত, আর মানুষ কত স্বার্থপর! শুধুমাত্র একজন নি:স্বার্থ সত্তা যিনি সব প্রকাশ্য ও গোপন নিগূঢ় তত্ত্ব ও তথ্য সম্পর্কে অবগত সেই এক আল্লাহই সব সমস্যা সমাধানের মূল আইন প্রণেতা।

... এ বিধান আল্লাহর পক্ষ থেকে। আর আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ, সর্বদর্শী ও সহনশীল। (আল-কোরআন ৪:১২)


সূত্র সমূহ:
১. Rumsey, A. Moohummudan Law of Inheritance. (1880) Preface iii.
২. Islamic Laws of Inheritance - Dr. Abid Hussain.

১৭.৩.২০০৮]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28779875 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28779875 2008-03-17 13:18:21
সুরা আহযাব ৫০-৫২: রাসুলুল্লাহ সা: এর প্রতি কেন বিয়ের বিশেষ বিধান, নাকি আল্লাহর অন্যায় পক্ষপাতিত্ব (!) দ্রষ্টব্য:
সন্মানিত পাঠকদের ধৈর্য সহকারে পুরো লেখাটি পড়ার অনুরোধ করছি। কারণ, রাসুলুল্লাহ সা: এর প্রতি বিয়ের বিশেষ বিধান ইসলামবিরোধীরা রাসুলুল্লাহ সা: ও ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে ব্যবহার করেন। তাই একজন সাধারণ মুসলিম হিসেবে এ বিষয়ে আমাদের পরিস্কার ধারণা থাকা উচিত।

-------------------------------------------------------------------------------
-০-
আয়াত সমূহ:
সুরা আহযাব এর ৫০-৫২ নং আয়াতের বাংলা ও ইংরেজি অনুবাদ এখানে দেখে নিন:
১. ইউসুফ আলীর ইংরেজী অনুবাদ এবং
২. মারেফুল কোরআনের বাংলা ও ইংরেজী অনুবাদ
--------------------------------------------------------------------------------

-১-
উপরের আয়াতগুলোর মুল বক্তব্য:
৫০-৫২: রাসুলুল্লাহ সা: এর জন্য বিয়ের বিশেষ বিধান নাযিল হয় যা অন্য সাধারণ মুমিনদের থেকে কিছুটা আলাদা।

-২-
সুরা আহযাব নাযিলের সময়কাল:
৫ হিজরী সন। কারন, এতে নিম্নলিখিত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলী বর্ণিত হয়েছে:
ক. আহযাব যুদ্ধ (৫ হিজরী সনের শাওয়াল মাস),
খ. বনী কুরাইজার যুদ্ধ (৫ হিজরী সনের যিলকাদ মাস), এবং
গ. রাসুলুল্লাহ সা: এর সাথে যায়নাব রা: এর বিয়ে (একই সময়: ৫ হিজরী সনের যিলকাদ মাস)।

-৩-
আহযাব যুদ্ধের আগের যুদ্ধ গুলো:
এর আগে নিকটতম সবচেয়ে বড় যুদ্ধ হল উহুদ (৩ হিজরী সনের শাওয়াল মাস)। এছাড়া উহুদ ও আহযাবের মাঝখানে একাধিক ছোট ছোট যুদ্ধ বা সৈন্যদল প্রেরণের প্রয়োজন হয়েছিল।

-৪-
সামাজিক সংস্কার:
উহুদ থেকে আহযাব যুদ্ধের মধ্যকার দু'বছরে যুদ্ধের ডামাঢোলের মাঝেও মদীনার নতুন মুসলিম সমাজটির গঠন এবং সংস্কার ও সংশোধন অব্যাহত ভাবে চলছিল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল: বিয়ে ও তালাকের পূর্ণ আইন, উত্তরাধিকার আইনের আবির্ভাব, মদ ও জুয়াকে হারাম, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্হার আরো অন্যান্য দিক।

এর মধ্যে আরেকটি উল্লেখযোগ্য সংশোধনযোগ্য বিষয় হলো দত্তক গ্রহণ। এর একটি দিক ছিল দত্তক পিতার কাছে দত্তক ছেলের স্ত্রীকে আপন ঔরসজাত ছেলের স্ত্রীর মতো মনে করা হতো। আরবের সমাজে শত শত বছর ধরে এ রীতিটি চলে আসছিল এবং এ রীতিটি বিয়ে, তালাক, ও উত্তরাধিকারের যেসকল আইন সুরা বাকারা ও নিসায় আল্লাহ বর্ণনা করেছেন সেগুলোর সাথে পদে পদে সংঘর্ষশীল ছিল। আল্লাহর আইনে উত্তরাধিকারের যারা প্রকৃত হকদার তাদের থেকে এ রীতি সম্পদ এমন এক ব্যক্তিকে দিতো যার প্রকৃতপক্ষে কোন অধিকারই ছিল না। এছাড়া এরীতি সুরা আহযাবের পর্দার বিধানের সাথে সংঘর্ষশীল ছিল।

এ শক্ত ও ঐতিহ্যবাহী রেওয়াজটি ভেঙ্গে ফেলার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ রাসুলুল্লাহ সা: এর নিজের হাতে সম্পন্ন হওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছিল। তাই আহযাব যুদ্ধের আগে আল্লাহ রাসুলুল্লাহ সা: কে ইংঙ্গিত করেন তাঁর পালক পূত্র যায়েদ রা: এর তালাক দেয়া স্ত্রী কে বিয়ে করার জন্য। বনী কুরাইযাকে অবরোধ করার সময় তিনি এ হুকুমটি তামিল করেন।

-৫-
যায়নাব রা: কে বিয়ে করার পর তুমুল অপপ্রচার:
রাসুলুল্লাহ সা: ও মুসলমানদের সাফল্যের প্রকৃত শক্তি ছিল চারিত্রিক শ্রেষ্ঠত্ব। একে খতম করার জন্য গল্প ফাঁদা হয়, (নাউযুবিল্লাহ) রাসুলুল্লাহ সা: নিজের (পালক) পুত্রবধুকে দেখে আসক্ত হয়ে পড়েন! পুত্র এ প্রেমের কথা জানতে পেরে নিজের স্ত্রীকে তালাক দেন ও এর পর রাসুলুল্লাহ সা: তাকে বিয়ে করে ফেলেন। নিম্নলিখিত কারণে এ গল্পটি ভিত্তিহীন:

ক. যায়নাব রা: ছিলেন রাসুলুল্লাহ সা: এর আপন ফুফাতো বোন। তাঁড় শৈশব থেকে যৌবনের সময়টা রাসুলুল্লাহ সা: এর সামনে কাটে। বিয়ের পরে কোন একসময় তাঁকে দেখে আসক্ত হবার প্রশ্ন কোথা থেকে আসে?

খ. ইসলামের সাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য রাসুলুল্লাহ সা: এর আযাদকৃত গোলামের সাথে আরবের শ্রেষ্ঠ বংশের কন্যাকে রাসুলুল্লাহ সা: স্ব-উদ্যোগে বিয়ে দেন। অথচ, যায়নাব রা: নিজে এতে অখুশী ছিলেন। যায়নাব রা: এর প্রতি রাসুলুল্লাহ সা: এর আকর্ষণ থাকলে যায়েদ রা: এর সাথে বিয়ে দেবার কি প্রয়োজন ছিল। রাসুলুল্লাহ সা: নিজেই বিয়ে করে ফেলতে পারতেন, তা নয় কি?

-৬-
মুসলমানদের মাঝেও সন্দেহের উদ্রেক:
যায়নাব রা: কে যখন বিয়ে করেন,তখন রাসুলুল্লাহ সা: এর চার স্ত্রী জীবিত ছিলেন। তারা হলেন:
ক. হযরত সাওদা রা: (বিয়ে: ৩ হিজরী পূর্ব)
খ. হযরত আয়েশা রা: (বিয়ে: ৩ হিজরী পূর্ব, কিন্তু ১ হিজরী সনে তিনি স্বামীগৃহে আসেন)
গ. হযরত হাফসা রা: (বিয়ে: ৩ হিজরীর শাওয়াল মাস)
ঘ. হযরত উম্মে সালামা রা: (বিয়ে: ৪ হিজরীর শাওয়াল মাস)

তাই যায়নাব রা: হলেন তাঁর পঞ্চম জীবিত স্ত্রী। একসাথে চার স্ত্রীর অধিক রাখা ইসলামী শরিয়ায় জায়েজ নেই। এতে সাধারণ মুসলমানদের মাঝেও সন্দেহ সৃষ্টি হয়। আমাদের আলোচ্য সুরা আহযাবের ৫০-৫২ আয়াতে রাসুলুল্লাহ সা: এর জন্য বিয়ে ক্ষেত্রে বিশেষ বিধানের কথা নাযিল করে আল্লাহ মুসলমানদের নিশ্চিত করেন।

-৭-
সুরা আহযাবের ৫০ নং আয়াতে রাসুলুল্লাহ সা: এর জন্য বিয়ের বিশেষ বিধান:
ক. চারের অধিক স্ত্রী রাখা: যায়নাব রা: ৫ম স্ত্রী হিসেবে বিবাহ।

খ. আল্লাহ প্রদত্ত নিজের মালিকাধীন বাঁদী: তাঁর মালিকাধীন বাঁদীদের মধ্যে ছিলেন: রাইহানা রা: (বনী কুরাইযার যুদ্ধবন্দিনী), যুহাইরা রা: (বনিল মুসতালিকের যুদ্ধবন্দিনী), সাফিয়া রা: (খয়বরের যুদ্ধবন্দিনী), এবং মারিয়া কিবতী রা: (মিসরের মুকাউসিস প্রেরিত)। এর মধ্যে প্রথম তিনজনকে তিনি মুক্ত করে মোহরানা দিয়ে বিয়ে করেন। মারিয়া কিবতী রা: এই আয়াতের ভিত্তিতে তাঁর জন্য হালাল ছিলেন।

গ. চাচাত, মামাত, ফুফাত, খালাতো বোনদের যারা রাসুলুল্লাহ সা: এর হিজরতের সহযোগী: ৭ হিজরী হনে উম্মে হাবিবা রা: কে তিনি বিয়ে করেন।

ঘ. যে সকল মুমিন নারী স্বেচ্ছায় রাসুলুল্লাহ সা: কে মোহরানা ছাড়াই বিয়ে করতে চান: ৭ হিজরীর শাওয়াল মাসে মায়মুনা রা: কে বিয়ে করেন। তিনি মহর দাবী না করলেও রাসুলুল্লাহ সা: মোহর আদায় করেছেন।

-৮-
রাসুলুল্লাহ সা: ও তাঁর উম্মাতের মুমিনের সাথে শরিয়াতের বিধানের কতিপয় পার্থক্য:
এখানে চারের অধিক বিয়ে রাসুলুল্লাহ সা: এর জন্য শুধু জায়েজ করা হয়েছে। এছাড়া আরো যেসব পার্থক্য আছে সেগুলোর কয়েকটি:

ক. রাসুলুল্লাহ সা: এর জন্য তাহাজ্জুদ নামাজ ফরজ আর তাঁর উম্মাতের মুমিনের জন্য নফল,
খ. তাঁর ও তাঁর পরিবারের জন্য সাদকা নেয়া হারাম, অন্যদের জন্য নয়,
গ. তাঁর মীরাস বন্টন হবে না, অন্যদের হবে,
ঘ. তাঁর জন্য স্ত্রীদের মধ্যে সমতাপূর্ণ ব্যবহার ওয়াজিব করা হয়নি, অন্যদের জন্য হয়েছে, [যাতে রাসুলুল্লাহ সা: কে তাঁর স্ত্রীরা কলহের মাধ্যমে নব্যুয়তের কাজে বিঘ্ন ঘটাতে না পরেন। এর পরেও তিনি স্তীদের মধ্যে পূর্ণ সমতা ও ইনসাফ কায়েম করেন। পালা করে তিনি তাদের কাছে যেতেন।]
ঙ. তিনি স্বেচ্ছায় বিয়ে করতে চাওয়া নারীকে মোহরানা ছাড়া বিয়ে করতে পারবেন, অন্যরা নয়,
চ. তাঁর ইন্তিকালের পরে তাঁর স্ত্রীরা অন্য মুমীনদের জন্য হারাম,
ছ. আহলি কিতাবদের কাউকে তিনি বিয়ে করতে পারেন নি, অন্যদের জন্য জায়েজ।

-৯-
(নাউযুবিল্লাহ) রাসুলুল্লাহ সা: এর প্রবৃত্তির লালসা কি খুব বেড়ে গিয়েছিল?:
(নাউযুবিল্লাহ) রাসুলুল্লাহ সা: এর প্রবৃত্তির লালসা খুব বেড়ে গিয়েছিল বা আলোচ্য আয়াতে আল্লাহ তাঁর প্রতি অন্যায় পক্ষপাতিত্ব করেছেন - এরকম অভিযোগ শুধু তারাই করতে পারেন যারা বিদ্বেষ ও সংকীর্ণ স্বার্থপ্রীতিতে অন্ধ। কারন,

রাসুলুল্লাহ সা: জীবন-যৌবনের বেশিরভাগ সময় (রাসুলুল্লাহ সা: এর বয়স ২৫-৫৩ বছর) বয়স্ক মহিলাদের স্ত্রী হিসেবে রেখেছেন। তিনি ২৫ বছর বয়সে ৪০ বছর বয়স্ক বিধবা খাদিজা রা: কে বুয়ে করেন। পুরো ২৫ বছর (রাসুলুল্লাহ সা: এর বয়স ২৫-৫০ বছর) ইনার সাথে সংসার করেন যখন অন্য কোন স্ত্রী ছিলনা। ৬৫ বছর বয়সে খাদিজা রা: মারা গেলে (রাসুলুল্লাহ সা: এর বয়স ৫০ বছর) আরেকজন বিগত যৌবনা নারী হযরত সাওদা রা: কে বিয়ে করেন। ইনার সাথে পুরো চার বছর সংসার করেন (রাসুলুল্লাহ সা: এর বয়স ৫০-৫৩ বছর)। উল্লেখ্য হযরত আয়েশা রা: কে তিনি ৩ হিজরী পূর্বে বিয়ে করলেও ১ হিজরী সনে তিনি স্বামীগৃহে আসেন (রাসুলুল্লাহ সা: এর বয়স ৫৩-৫৪ বছর)।

এখন কোন বুদ্ধিমান ও বিবেকবান ব্যক্তি কি বলতে পারেন, ৫৩ বছর পার হয়ে যাওয়ার পরে সহসা তাঁর যৌন কামনা বেড়ে যেতে থাকে ও তাঁর একাধিক স্ত্রীর প্রয়োজন হয়ে পড়ে?

-১০-
রাসুলুল্লাহ সা: এর একাধিক স্ত্রী রাখার কারণ:
রাসুলুল্লাহ সা: এর প্রতি নব্যুয়তের মতো বিশাল যে কাজ আল্লাহ সম্পাদন করার দায়িত্ব দেন, এ কাজের মেজাজ ও প্রকৃতির প্রতি দৃষ্টি দেয়া আবশ্যক:

ক. রাসুলুল্লাহ সা: ছিলেন উম্মাতের ডাইরেক্ট শিক্ষক। কিন্তু পর্দার বিধান আসার করনে (সুরা আহযাবে প্রথম আসে, ৫ হজরী সন, ১ বছর পরে সুরা নূরের ৩০-৩১ আয়াতে পূর্ণ আইন) তিনি উম্মাতের মহিলাদের সামনাসমানি শিক্ষা দিতে পারেন নি। তাই যোগ্যতা সম্পন্ন মহিলাদের বিয়ে করে তাদেরকে শিক্ষা ও প্রচারের কাজে নিয়োগ করেন।

খ. বিভিন্ন পরিবার ও বংশে বিয়ে করে বন্ধুত্ব স্হাপন ও শত্রুতার সম্পর্ক খতম করা। উম্মে সালামা রা: এমন এক পরিবারের মেয়ে যার সাথে আবু জেহেল ও খালিদ বিন ওয়ালিদ রা: (পরে ইসলাম গ্রহণ করেন) এর সম্পর্ক ছিল। উম্মে হাবিবা রা: ছিলেন আবু সুফিয়ানের মেয়ে। আবু সুফিয়ান রাসুলুল্লাহ সআ: এর সাথে উম্মে হাবিবা রা: এর বিয়ের পরে আর অস্ত্র ধরেননি। রাইহানা রা:, যুহাইরা রা:, ও সাফিয়া রা: ছিলেন ইহূদী পরিবারের মেয়ে। এর ফলে ইহূদীদের অপতৎপরতাও স্তিমিত হয়ে যায়।

গ. জাহিলিয়াতের রসম রেউয়াজ সংশোধন। যেমন, যায়নাব রা: কে দত্তক সম্পর্কীয় বিষয় সংশোধনের জন্য বিয়ে।

-১১-
মালিকনাধীন নারীদের সাথে মিলনের অনুমতি ও তাদের কোন সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়নি:
উম্মাতের জন্যও এ বিধান। এর পরিস্কার নির্দেশের জন্য আরো দেখুন: সুরা নিসার ৩, মু'মিনূনের ৬, মা'আরিজের ৩০ আয়াত সমূহ।

যুদ্ধ বন্দিনীদের ব্যাপারে ইসলামের নিয়ম হচ্ছে, ক. তাদেরকে মুসলিম বন্দী বিনিময়ের মাধ্যমে শত্রুদের ফেরত দিতে হবে, অথবা, খ. মুক্তিপণ নিয়ে ফেরত দিতে হবে, অথবা, (উপরের দুটি কাজ না করলে) গ. ইসলামী সরকারের প্রত্যক্ষ তত্বাবধানে মুসলমান মুজাহিদের মাঝে বন্টন করা হবে।

এই তৃতীয় অপশনটি শুধুমাত্র এজন্য যে, এহেন বন্দিনীরা যদি ১ম ও ২য় অপশনের মাধ্যমে তাদের আগের সমাজে ফিরে যেতে না পারেন তবে মুসলিম সমাজে তারা যেন বিপর্যয় সৃষ্টি ও নৈতকতা পরিপন্হী কোন কাজ করতে না পারে। তাদের বিয়ে করা ছাড়া ব্যবহার করার অনুমতি থাকলেও মুক্তি দিয়ে মোহরানা পরিশোধের মাধ্যমে পূর্ণ স্ত্রী হিসেবে গ্রহণই সর্বোত্তম পন্হা, যেমনটি রাসুলুল্লাহ সা: করেছেন।

কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, ইসলামী শরিয়াত ধনীদের অসংখ্য বাঁদী কিনে আয়েশ করার সুযোগ দিয়েছে। কোন প্রবৃত্তির পূজারী এরকম করলে, সে এর জন্য দায়ী থাকবে, আইন নয়। আইন করা হয়েছে মানুষের সুবিধার জন্য, অপব্যবহারের জন্য নয়। যেমন, চারটি বিয়ের অনুমতি পেয়ে যদি কেউ চার বিয়ে করে কিছুদিন পরে তালাক দিয়ে আবার চার বিয়ে করে এবং এভাবে চালিয়ে যেতে থাকে, তবে এজন্য সে ব্যক্তি দায়ী, আইন নয়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28768202 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28768202 2008-02-08 08:18:19
সামহোয়্যারের সাফল্য ও সুপ্রিয় 'বইপাগল' ভাইয়ের ব্যাপারে একটি আশংকা বইপাগল' ভাই আকস্মিক ভাবে একটি পোস্ট দিয়ে সামহোয়্যার থেকে বিদায় নিলেন। Click This Link
বিদায়ের কোন কারণ তিনি আমাদের জানান নি। শুধু বেদনা ভারাক্রান্ত মনে লিখেছেন,

"আমার জীবনের যে ক'টা দিন বাকি আছে, আমি কখনোই এ ব্লগের কথা ভুলবো না।
কষ্ট লাগছে যে আর কখনো এখানে উঁকি মেরেও দেখা হবে না।
উঁকি মারতে চাইলে অন্তত একটা জানালা লাগে।
কারো কারো জন্যে কোথাও কোনো জানালা থাকে না।

এক টুকরো খোলা আকাশ শুধু তার স্বপ্নের ভেতরই রয়ে যায়।"

এ থেকে ব্লগের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালবাসাই প্রকাশ পেয়েছে।

তাঁর সর্বশেষ পোস্ট থেকে জানলাম, বইপাগল ভাই গত আগস্ট ২০০৭ এ তাঁর জীবনে কোন এক বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছেন। ধাক্কা থেকে প্রাপ্ত শোক ও কষ্টকে লাঘব করার জন্য তিনি ব্লগে আসতেন। এতে আস্তে আস্তে তাঁর শোক লাঘব হতে থাকল। তিনি লিখেছেন, 'আমি আজ সব শোক দ্রুত কাটিয়ে উঠছি।'

কিন্তু পরক্ষণেই তিনি লিখেছেন, 'ততোধিক দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছি দুঃখ-সুখের মতো আপেক্ষিক ব্যাপারগুলোর উর্ধ্বে।' এর সাথে উপরের বোল্ড করা লাইনগুলো দেখুন, "আমার জীবনের যে ক'টা দিন বাকি আছে ..."। পাঠক, এর মানে কি? উনি কি কোন বড় ধরনের রোগে আক্রান্ত, যা আগস্ট ২০০৭ এ ধরা পড়েছে? সামহোয়্যারের সাফল্য যে তাঁর কষ্ট ও শোককে লাঘব করতে সাহায্য করেছে। এখন কি তিনি জীবনের শেষ কয়টা দিন কাটিয়ে ওপারে মহান স্রষ্টার কাছে ফিরে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন? আমি এ ধরণের আশংকা করছি। তিনি আমাদের জন্য তাঁর শেষ পোস্টে কমেন্ট দেয়ার পথ বন্ধ করে দিয়েছেন তাঁর সেসব কমেন্ট আর দেখা হবে না বলে।

ব্যক্তিগত ভাবে কেউ 'বইপাগল' ভাইকে চিনলে আমাদের জানাবেন।

ব্লগে তিনি সবসময় ধর্মীয় জ্ঞান বিতরণ করতেন। সবার সাথে ভাল ব্যবহার করতেন। কারো সাথে কখনও কথা কাটাকাটি হয়েছে বলে আমরা জানি না। এমন সুন্দর মনের এ মানুষটির ব্লগ থেকে আকস্মিক বিদায় সত্যিই বেদনাদায়ক। এর চেয়েও বেদনাদায়ক তাঁর শেষ কথা গুলো। উনি জীবনের মাত্র শেষ কটা দিনের জন্য অপেক্ষা করছেন! উপরের আশংকা সত্য হয়, তবে...

যা হক, সুপ্রিয় বইপাগল ভাই, আপনি আমাদের সবার প্রিয়। আপনাকে না দেখেও শুধু আপনার ধর্মীয় পোস্টের কারণে আপনাকে একজন দ্বীনি ভাই হিসেবে আমাদের অনেকে গ্রহণ করেছি। যেখানেই থাকুন, মহান সর্বশক্তিমান আল্লাহ আপনার ভাল করুন, সুখে-শান্তিতে রাখুন। পরকালে পরম সুখের জান্নাতে যেন আপনার সাথে আমাদের সাক্ষাত হয় - আল্লাহ আমাদেরর এই দোয়া কবুল করুন - আমিন। ওয়াআলাইকুম সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহে ওয়া বারাকাতুহু। আল্লাহ হাফেজ।

১.১.২০০৮]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28755674 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28755674 2008-01-01 13:09:54
মুনশী মেহেরুল্লাহর জন্মবার্ষিকী আজ ২৪.১২.২০০৭]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28753570 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28753570 2007-12-24 16:37:54 বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত আমেরিকান ছাত্রের ক্যান্সার গবেষণায় সাফল্য
এ যন্ত্রটি ভারত, বাংলাদেশ সহ অনেক দেশে কম খরচে ওরাল ক্যান্সার সহ আরো কয়েকধরনের রোগ নির্ণয়ে সাহায্য করবে।

তিনি তাঁর গবেষণা কাজটির উপর আমেরিকায় প্যাটেন্টের জন্য আবেদন করেছেন। আমরা তাঁর আবেদনটির সাফল্য ও উজ্জল ভবিষ্যত কামনা করছি।

বিস্তারিত পড়ুন: এখানে।

০১.১২.২০০৭]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28748711 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28748711 2007-12-01 11:02:12
আসুন হাতে হাত ধরি। সব বিভেদ ভুলে যাই। আজ জামায়াত-বিএনপি-আওয়ামীলীগ নিয়ে কোন রাজনীতি নয়
আসুন, আমরা আজ হাতে হাত ধরি। দল-মত নির্বিশষে সব বিভেদ ভুলে যাই। সবাইকে অনুরোধ করব, ব্লগে আজ জামায়াত-বিএনপি-আওয়ামীলীগ নিয়ে কোন রাজনীতি নয়।

আসুন, আমরা সবাই আমাদের দেশের মানুষের জন্য কাজ করি। দুহাত বাড়িয়ে যার যতটুকু সামর্থ্য আছে এগিয়ে যাই।

এইতো অল্প কিছুদিন আগে দেশের এই মানুষগুলো বন্যা মোকাবেলা করে এসেছে। আজ সিডর। এরপর কি! হে আল্লাহ তুমি আমাদের সাহায্য কর। আমাদের ধৈর্য ধারণ করার শক্তি দাও। আল্লাহ আল-কোরআনে বলেছেন,

'নিশ্চয় আমি তোমাদের পরীক্ষা করব ভয়, ক্ষুধা, এবং সম্পদ, জীবন, ও উপার্জনের ক্ষতির মাধ্যমে। এবং সে সকল মানুষকে সুসংবাদ যারা এ পরীক্ষা সমূহে ধৈর্য ধারণ করে। যখন তাদের উপর কোন বিপদ আপতিত হয়, তখন তারা বলে, 'নিশ্চয় আমরা আল্লাহর জন্য ও তাঁরই কাছে প্রত্যাবর্তনকারী' (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন।) [সুরা বাকারা, ২:১৫৫-১৫৬]'

১৭.১১.২০০৭]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28745924 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28745924 2007-11-17 11:20:24
এত কষ্টের মাঝে একটু সুখবর: পিথাগোরাসের উপপাদ্যের নতুন সূত্র আবিষ্কার করলেন এ কিউ চৌধুরী ১৭.১১.২০০৭


২ হাজার ৬০০ বছর আগে গ্রিক পণ্ডিত পিথাগোরাস সমকোণী ত্রিভুজের বাহুগুলোর ওপর আঁকা বর্গক্ষেত্রের সম্পর্কের সূত্র আবিষ্কার এবং তা প্রমাণ করেছিলেন। এটিই পিথাগোরাসের উপপাদ্য নামে পরিচিত। এটা শুধু বর্গক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিন্তু একই ত্রিভুজের বাহুগুলোর ওপর আঁকা ঘনকের মধ্যে সর্ম্পক কী? বিশ্বের গবেষকরা আড়াই হাজার বছরেরও অধিক সময় গবেষণা করেও তা বের করতে পারেননি। সেই অসাধ্য সাধন করলেন বাংলাদেশের কৃতী সন্তান আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী। গণিত নিয়ে উচ্চতর পড়াশোনা না করেও এ নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন গবেষণার পর এই সূত্রটি আবিষ্কার করেছেন। তিন মাস আগে এটি আবিষ্কৃত হলেও বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সম্প্রতি তিনি এই সূত্র আবিষ্কারের তথ্যটি জনসম্মুখে প্রকাশ করেছেন। গত ১১ নভেম্বর সর্বপ্রথম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগে 'পিথাগোরাসের উপপাদ্যের প্রয়োগ' শীর্ষক সেমিনারে এটি উপস্খাপন করেন। আবদুল কুদ্দুস বলেন, পিথাগোরাস দেখান যে, সমকোণী ত্রিভুজের অতিভুজের ওপর অঙ্কিত বর্গক্ষেত্রের ক্ষেত্রফল অপর দু'বাহুর ওপর অঙ্কিত বর্গক্ষেত্রের ক্ষেত্রফলের সমষ্টির সমান। কিন্তু ঘনকের ক্ষেত্রে এ সম্পর্ক কেমন হবে সেটি তার উপপাদ্যে নেই। এ ক্ষেত্রে একিউ চৌধুরী প্রমাণ করে দেখিয়েছেন যে, সমকোণী ত্রিভুজের অতিভুজের ওপর অঙ্কিত ঘনকের আয়তন অপর দু'বাহুর ওপর অঙ্কিত ঘনকের সাথে সংশ্লিষ্ট বাহুদ্বয়ের বিপরীত কোণের কোসেকান্টের গুণফলের সমষ্টির সমান। ওই সম্পর্কটি চতুর্ঘাত, পঞ্চঘাত অথবা যেকোনো উচ্চতর বা নিম্নতর ঘাতের জন্য সাধারণীকৃত করা যায়। এ সূত্রটি ব্যবহার করে সমকোণী ত্রিভুজের কিউবিক সম্পর্ক নির্ণয়; ত্রি-মাত্রিক বলবিদ্যায় এর প্রয়োগ; সমকোণী ত্রিভুজের বাহুগুলোর ওপর কোনো সিলিন্ডার বা গোলক অঙ্কন করে তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা যাবে। এ ছাড়া ফলিত বিজ্ঞানের যেসব ক্ষেত্রে পিথাগোরাসের উপপাদ্যটি ব্যবহার করা যায় নতুন আবিষ্কৃত সূত্রটি সেসব ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যাবে।

কুদ্দুস চৌধুরী এ সূত্রটি প্রয়োগের ক্ষেত্রে জ্যামিতিক পদ্ধতি ব্যবহার করেন। এ ছাড়াও ভেক্টর পদ্ধতি, ইন্ট্রিগেশন, কোঅর্ডিনেট জিওমেট্রি পদ্ধতির সাহায্যেও ওই সম্পর্কটি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব বলেও তিনি মতপ্রকাশ করেন। বীজগাণিতিকভাবে ত্রিভুজের বাহুর ওপর আঁকা ঘনবস্তুর সম্পর্ক প্রমাণ করা সহজ হলেও জ্যামিতিক পদ্ধতিতে তা প্রমাণের বিষয়টি এটিই প্রথম বলে তিনি দাবি করেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর এম আবদুলাহ আনসারীর এই সূত্র আবিষ্কারের চেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার মতে, এটি কোনো সূত্র নয়, বরং পিথাগোরাসের উপপাদ্যের সম্প্রসারিত রূপ। তবে এতে ত্রিভুজের বাহুতে কিউবিক সম্পর্ক নির্ণয় ছাড়াও বিষয়টিকে সাধারণীকরণের চেষ্টা করা হয়েছে। বিভাগের প্রবীণ শিক্ষক ও গণিতবিদ প্রফেসর সুব্রত মজুমদারও এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, এটিতে অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সব ক্ষেত্রেই এ সূত্রের প্রয়োগ করা সম্ভব নয়। এদিকে গবেষক তার আবিষ্কৃত সূত্রের স্বপক্ষে ইতোমধ্যে পাঁচটি প্রমাণ বের করতে সক্ষম হয়েছেন। আরো বেশ কয়েকটি প্রমাণ বের করার প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি জানান।

গত বৃহস্পতিবার সকালে একান্ত আলাপচারিতায় পুলিশ কর্মকর্তা আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী তার এই আবিষ্কার সম্পর্কে বিস্তারিত কথা বলেন। ১৯৯১ সালের কোনো একদিন দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় 'ঘনবস্তুর ক্ষেত্রে ত্রিভুজের বাহুগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক কী?' এরূপ একটি খবর পড়ে তিনি এ ব্যাপারে উৎসাহী হয়ে ওঠেন। ওই সময় যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি সংগঠন এর জন্য পুরস্কারও ঘোষণা করেছিল। এরপর থেকেই এ বিষয়ে বিচ্ছিন্নভাবে চলে তার চিন্তাভাবনা। ১৯৯৯ সালে ১৮তম বিসিএস-র মাধ্যমে পুলিশের এএসপি হিসেবে যোগদান করার পর মাঝেমধ্যেই তিনি এ নিয়ে কিছু একটা করার চিন্তা করতে শুরু করেন। ২০০৫ সালে তিনি কঙ্গোতে জাতিসঙ্ঘের শান্তি মিশনে যাওয়ার পর তিনি এ বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করেন। অবশেষে ২০০৬ সালে দেশে ফিরে অধিকতর গবেষণা করে এর একটা ভিত্তি দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন। পিথাগোরাসের সূত্রটির ওপর প্রফেসর এলিছা স্কট লুমিস কর্তৃক পিথাগোরিয়ান প্রপোজিশান গ্রন্থে দেয়া ৩৬৭টি প্রমাণ পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি জানান, আগামী ২৯-৩১ ডিসেম্বর ঢাকায় এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে তিনি এই সূত্রের আরো অনেক তথ্য তুলে ধরবেন বলে জানান।

বাংলাদেশের এই কৃতী সন্তান ফেনীর পশ্চিম ছাগলনাইয়া গ্রামের মরহুম রুহুল আমীন চৌধুরী ও ফিরোজা বেগমের পুত্র। তিনি ১৯৮৮ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে প্রথম বিভাগে এসএসসি এবং ১৯৯০ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে প্রথম বিভাগে এইচএসসি পাস করেন। পরে তিনি ১৯৯৩ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে প্রাইভেট শিক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষা দিয়ে বিকম পাস করেন। এরপর তিনি একটি স্কুলে তিন বছর শিক্ষকতা করার পর ১৯৯৯ সালে ১৮তম বিসিএস’র মাধ্যমে পুলিশের এএসপি হিসেবে যোগদান করেন। কর্মক্ষেত্রেও তিনি কৃতিত্বেও স্বাক্ষর রেখে চলেছেন।

সূত্র: এখানে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28745922 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28745922 2007-11-17 10:53:34
কী কষ্ট! তিন সন্তানকে আঁকড়ে ধরে মারা গেলেন মা জোহরা বিস্তারিত পড়ুন

আসুন আমরা সবাই মিলে ভেদাভেদ ভুলে যাই। আমাদের মা-বাবা-ভাই বোনের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিই।
১৭.১১.২০০৭]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28745918 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28745918 2007-11-17 10:31:30
পর্ব ১: ষড়যন্ত্র, বেঈমানী ও বিশ্বাসঘাতকতার মোকাবেলায় শহীদ তিতুমীর ====

১৭৮২ সাল। ২২৫ বছর আগের কথা। পলাশী যুদ্ধের ২৫ বছর। বর্তমান ভারতের পশ্চিম বাংলা প্রদেশের বারাসাত জেলার চাঁদপুর গ্রামে প্রখ্যাত সৈয়দ বংশে শহীদ সাইয়েদ নেছার আলী তিতুমীরের জন্ম। তাঁর পিতা ছিল সাইয়েদ হাসান আলী আর মাতা আবেদা রোকাইয়া খাতুন। নিকট প্রাচীনকালে যে সকল ওলী দরবেশ বাংলায় ইসলাম প্রচার করতে আসেন, সাইয়েদ শাহ হাসান রাজী ও সাইয়েদ শাহ জালাল রাজীর নাম তাদের মধ্যে অন্যতম। তাছাড়া প্রখ্যাত দরবেশ সহোদর সাইয়েদ শাহ আব্বাস আলী এবং সাইয়েদ শাহ্ শাহাদাত আলী তাদের মুরিদ ও খলিফা ছিলেন। সেই সাইয়েদ শাহাদাত আলীর পুত্র সাইয়েদ শাহ হাসমত আলীর অধস্তন এই ক্ষণপুরুষ শহীদ সাইয়েদ নিছার আলী তিতুমীর। মূলত: তিতুমীর তার নাম ছিল না। ছোটকাল থেকেই তিনি ছিলেন খুবই রোগাটে প্রকৃতির। কোন ওষুধে যখন ভাল হয় না, তখন তার দাদী তাকে বিভিন্ন জাতের স্বাস্খ্য উপযোগী গাছের ছাল, লতা, পাতা, শিকড় বেটে তিতা রস বানিয়ে দিলে নিছার আলী অনাসয়ে তা পান করতো, কোন্ তিতাই তাকে ধরতো না। এজন্য দাদী তাকে প্রথমে আদর করে তিতা মীর বলে ডাকতেন। আস্তে আস্তে তা পাড়া-মহল্লায় এবং রূপান্তর হয়ে তিতু হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

জ্ঞান অর্জন:
তৎকালীন সম্ভ্রান্ত পরিবারের রীতি অনুসারে তিতু চার বছর চার মাস চার দিন বয়সে লেখাপড়া শুরু করে। আরবী, ফার্সী ও উর্দু ভাষায় পারদর্শী করার জন্য সেকালের শ্রেষ্ঠ ওস্তাদ মুন্সী লাল মিয়াকে তিতুর শিক্ষক নিয়োগ করা হয়। মাতৃভাষা রপ্ত করার জন্য তাকে পার্শ্ববর্তী গ্রামের পণ্ডিত রামকমল ভট্টাচার্যকে দিয়ে বাংলা, ধারাপাত, অংক ইত্যাদি বিষয় শিক্ষার ব্যবস্খা করা হয়। বিহার থেকে হাফেজ নিয়ামাতুল্লাহ তিতুর গ্রাম চাঁদপুর আসলে তাকে দিয়ে সেখানে মাদরাসা স্খাপন করা হয়। আঠার বছর বয়সে তাকে কুরআন হিফজসহ লেখাপড়া সমাপ্ত করা হয়। তিনি আরবী ব্যাকরণ, ফারায়েজ, হাদিস, দর্শন, তাসাউফ, তর্কশাস্ত্রসহ আরবী, ফার্সী কাব্য ও সাহিত্যে পাণ্ডিত্য লাভ করেন। কৈশরকাল থেকেই তিতু শরীর চর্চা করতেন। তার শরীর চর্চার শিক্ষক ছিলেন শেখ মুহাম্মদ হানিফ। শরীর চর্চার সাথে তিনি ডনকুস্তি, হাডুডু, লাঠিখেলা, ঢাল, সড়কি, তরবারী, তীর-গুলতি, বাঁশের বন্দুক চালাতে পারদর্শিতা অর্জন করেন।

দ্বীনের খেদমতে মনোনিবেশ:
দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে মনোনিবেশকালে তিতু কোন ভাল আলেমের হাতে বাইয়াতের ইচ্ছা পোষণ করে বিহার থেকে কলকাতায় তালিবটোলায় আগত 'হযরত জাকী শাহ' নামে জনৈক দরবেশের নিকট মুরিদ হওয়ার আকাঙ্খা ব্যক্ত করলেন। জাকি শাহ তার মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন, 'বায়তুল্লাহ জিয়ারত না করলে তুমি কোন ভাল ওলীর সান পাবে না।' অবশেষে তিতু মক্কায় গমন করলে সেখানেই সাইয়েদ আহমেদ ব্রেলভীর সাথে তার দিদার হয় এবং তাঁর হাতেই তিনি বাইয়াত গ্রহণ করেন। মক্কা থেকে ফিরে ব্রেলভী বাংলার অন্যান্য ভক্তগণের সাথে সাইয়েদ নিছার আলী তিতুমীর, হাজী শরীয়তউল্লাহ, মাওলানা আব্দুল বারী খাঁ (মাওলানা আকরম খাঁর পিতা), মাওলানা মোহাম্মদ হোসেন, মাওলানা সুফী খোদাদাত সিদ্দিকী, মাওলানা কারামত আলী প্রমুখের সাথে কলকাতায় শামছুন্নেছা খানমের বাগানবাড়িতে এক বৈঠকে একত্রিত হন। বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক পাটনাকে মুজাহিদদের কেন্দ্রীয় রাজধানী ঘোষণা করা হয় এবং প্রত্যেক প্রদেশে প্রাদেশিক রাজধানী রাখার সিদ্ধান্ত হয়। কলকাতা থেকে ফিরে এসে তিতুমীর নিজ গ্রাম চাঁদপুরে ইসলামী দাওয়াতের কাজ শুরু করেন। পরে সরফরাজপুর (সর্পরাজপুর)বাসীর অনুরোধে তিতুমীর তথাকার শাহী আমলের ধ্বংসপ্রাপ্ত মসজিদের পুন:সংস্কার করেন। এখানে জুমার নামায পর তিনি নিয়মিত মুসল্লিদের উদ্দেশে ভাষণ দিতেন। সরফরাজপুরের মসজিদ পুন:সংস্কার, নিয়মিত নামাযের ব্যবস্খা এবং নামায অন্তে তিতুমীরের ভাষণে পুঁড়ার জমিদার কৃষäদেব রায়কে সন্ত্রস্ত ও তটস্খ করে তুলে।

তিতুমীরের আহ্বান:
তিতুমীরের দাওয়াতের মূল কথা ছিল আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ বিশ্বাস স্খাপন, প্রত্যেক কাজে আল্লাহ ও তার রাসূল (সা<img src=" style="border:0;" />-এর নির্দেশ পালন, নামায, রোযা, হজ্ব, যাকাত, শরীয়ত, তরিকত, হকিকত ও মা'রেফতের সমনðয়ে জীবন পরিচালনা।

ষড়যন্ত্র ও দাড়িগোঁফের খাজনা:
পুঁড়ার জমিদার কৃষäদেব রায় তিতুমীরের গতি বিধির গোপন তথ্য পাওয়ার জন্য জমিদারের দালাল মতিউল্লাহকে গোয়েন্দা কাজে নিয়োগ করে এবং তিতু একজন ওহাবী ধর্মাবলম্বী বলে প্রচার করতে থাকে। অত:পর জমিদার কৃষäদেব রায়, গোবলা গোবিন্দপুরের জমিদার দেবনাথ রায় ও গোবরডাঙ্গার জমিদার কালী প্রসন্ন মুখোপধ্যায়ের পরামর্শক্রমে এলাকার শান্তি-শৃকôখলা ভঙ্গের অযুহাতে মতিউল্লার চাচা গোলাপ, জ্ঞাতি ভাই নেপাল ও গোবর্ধনকে নিয়ে এক গোপন সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক তিতুমীরের বিরুদ্ধে জোর, জুলুম, জবরদস্তি করে বাপ-দাদার রীতি অনুসারে ধর্ম পালনে বাধাদান, দাড়ি রাখতে বাধ্য করা, গোঁফ ছাঁটা, গো হত্যা, আরব দেশের অনুকরণে নাম রাখতে বাধ্য করা ইত্যাদির বিচার এবং যাতে হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা বাধতে না পারে সেজন্য প্রভাবশালী জমিদার কৃষäদেব রায়ের নিকট প্রতিকার চেয়ে পরিকল্পিতভাবে আবেদন করায়। আবেদনকারীদের নালিশ পেয়ে কৃষäদেব রায় হুকুম জারি করলেন­ (১) যারা তিতুর কথা শুনে ওহাবী হবে, তাদের দাড়ি রাখার জন্য ২.৫০ টাকা এবং যারা গোঁফ ছাটবে তাদের গোঁফ ছাঁটার জন্য ১.২৫ টাকা খাজনা, (২) কাঁচা মসজিদ তৈরি করলে বছরে ৫০০ টাকা এবং পাকা মসজিদ তৈরি করলে ১ হাজার টাকা জমিদার সরকারের নজরানা, (৩) বাপ-দাদার রাখা নাম পরিবর্তন করে ওহাবী মতে আরবী নাম রাখলে প্রতি নামের জন্য ৫০ টাকা জরিমানা, (৪) গো-হত্যা করলে, তার ডান হাত কেটে দেয়া হবে এবং (৫) তিতুমীরকে যে তার বাড়িতে স্খান দিবে তাকে ভিটা থেকে উচ্ছেদ করা হবে। তিতুমীর কৃষäদেব রায়ের বিচার শুনে চিঠির মাধ্যমে জানিয়ে দেন যে তিনি কোন অন্যায় করেননি। তিনি শুধু ইসলাম প্রচার করছেন। সুতরাং তার কাজে হস্তক্ষেপ করা সমীচীন নয়। নামায পড়া, দাড়ি রাখা, গোঁফ ছাঁটা প্রভৃতি তাদের ধর্মীয় নির্দেশ। এ কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি অন্য ধর্ম পালনে বাধা দেয়ার শামিল।

অত্যাচার শুরু:
কৃষäদেব রায় তিতুমীরের নিকট থেকে পত্র পেয়ে পত্রবাহক কামাল উদ্দিনের পুত্র আমিন উল্লাহর উপর ক্ষিপ্ত হয়ে বলে, কে সেই ওহাবী তিতু? আর, বেটা তুইবা কে? নিকটে থাকা জনৈক মুচিরাম ভাণ্ডারী বলল, 'হুজুর ওর নাম আমন মণ্ডল, বাপের নাম কামন মণ্ডল। আপনার প্রজা। আগে দাড়ি কামাতো এখন দাড়ি রেখেছে বলে আপনি তাকে চিনছেন না।' এ কথা শুনে আমিন উল্লাহ নির্ভীকচিত্তে জবাব দিলেন, 'হুজুর আমার নাম আমিন উল্লাহ, বাপের নাম কামাল উদ্দিন, লোকে আমাকে আমান এবং বাপকে কামন বলে ডাকে।' কৃষäদেব রায় রাগে থর থর করে কাঁপতে কাঁপতে বলল, 'ব্যাটা দাড়ির খাজনা দিছিস? নাম বদলের খাজনা দিছিস? আচ্ছা, মজা দেখাচ্ছি। আমার সাথে তর্ক করিস। এতো বড় স্পর্ধা।' এই বলে মুচিরামের উপর আদেশ হলো তাকে গারদে ভরে শাস্তি দিতে। অমানুষিক অত্যাচার ও প্রহারের ফলে তিতুমীর আমলে ইসলামী আন্দোলনের প্রথম শহীদ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন শহীদ আমিন উল্লাহ। সংবাদ মুসলমানদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে, তারা মর্মাহত হলো। কিন্তু সাক্ষী প্রমাণের অভাবে শক্তিশালী জমিদারের বিরুদ্ধে কিছুই করা গেল না।

ষড়যন্ত্রমূলক বৈঠক:
তিতুমীরকে শায়েস্তা করার জন্য কলকাতায় জনৈক লাটু বাবুর বাড়িতে এক সভায় লাটু বাবু, গোবরা গোন্দিপুরের জমিদার দেবনাথ রায়, গোবরডাঙ্গার জমিদার কালী প্রসন্ন মুখোপধ্যায়, নূরনগরের জমিদারের ম্যানেজার, টাকীর জমিদারের সদর নায়েব, রানাঘাটের জমিদারের ম্যানেজার, পুঁড়ার জমিদার কুখ্যাত কৃষäদেব রায়, বশিরহাট থানার দারোগা চরম মুসলিম বিদ্বেষী রামরাম চক্রবর্তী, যদুর আটির দুর্গাচরণ চক্রবর্তী প্রমুখ উপস্খিত হয়ে এই মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে, 'তিতুমীরকে দমন করতে না পারলে, তাদের হিন্দু জাতির পতন অনিবার্য। যে করে হোক তাকে শায়েস্তা করতেই হবে। ইংরেজদের বুঝানো হবে যে তিতু তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করেছে এবং হিন্দুদের বুঝানো হবে তাদের গো-মাংশ দ্বারা হিন্দু দেবীকে তিতু চরম অপমান করেছে ও হিন্দুর মুখে কাঁচা গো-মাংশ গুঁজে দিয়েছে।' সভা শেষে সকলের অনুরোধে দারোগা রাম রাম চক্রবর্তী ঘোষণা করলো আমি প্রাণ দিয়ে আপনাদের সাহায্য করবো এবং যে করে হোক তিতুকে রাজদ্রোহী প্রমাণ করবো।

বিদ্রোহের অযুহাত ও ইংরেজদের ভূমিকা:
কলকাতায় ষড়যন্ত্রের পর কুখ্যাত জমিদার কৃষäদেব রায় সরফরাজপুরের লোকদের নিকট হতে খাজনা আদায়ে লোক পাঠায়। কিন্তু মুসলমানরা অবৈধ খাজনা দিতে অস্বীকার করলে তিতুমীরকে ধরে আনার জন্য ১২ জনের একটি সশস্ত্র দল পাঠানো হয়। কিন্তু তারা তিতুকে ধরে আনতে সাহস পায়নি। ফলে কৃষäদেব পরবর্তী প্রয়োজনীয় করণীয় নির্ধারণে যাদের কাছে পরামর্শ ও সাহায্য কামনা করে বিভিন্ন স্খানে লোক পাঠালো। তারা হলো­ (১) অনুকুল চন্দ্র মুখোপধ্যায়কে গোবর ডাঙ্গায়, (২) খড়েশ্বর মুখোপধ্যায়কে গোবরা গোবিন্দপুর, (৩) লাল বিহারী চট্টোপধ্যায়কে শেরপুর নীলকুঠির ম্যানেজার মি: বেনজামিন, (৪) বনমালী মুখোপধ্যায়কে হুগলী নীলকুঠিতে এবং (৫) লোকনাথ চক্রবর্তীকে বশিরহাট থানায় পাঠান। উল্লেখ্য, লোকনাথ চক্রবর্তী ছিল বশিরহাট থানার দারোগা রামরাম চক্রবর্তীর ভগ্নিপতি। সাহায্যের জন্য বিভিন্ন স্খান হতে কৃষäদেবের সাহায্যে শত শত লোক লাঠি, তলোয়ার, ঢাল, সড়কিসহ শুক্রবার জুম্মার নামাযরত অবস্খায় মসজিদ ঘিরে ফেলে এবং তাতে আগুন ধরিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। ফলে দু'জন শাহাদৎবরণসহ বহু লোক আহত হয়। অত:পর মুসলমানরা কলিঙ্গের পুলিশ ফাঁড়িতে কৃষäদেব রায় গংদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। কিন্তু পুলিশ ঘটনা স্খলে না গিয়ে থানায় বসে লাশ দাফনের নির্দেশ দেয়। থানায় বসে আরো রিপোর্ট দেয়া হয় যে, জমিদারের লোকজন খাজনা আদায় করতে গেলে তাদের খাজনা না দিয়ে মারপিট করে, দু'জনকে আটক করে। ফলে আটক লোকদের উদ্ধারের জন্য জমিদারের লোকজন তিতুদের আক্রমণ করে মসজিদ জ্বালিয়ে দেয়।' শুধু তাই নয়, জমিদাররা ঘটনার ১৮ দিন পর মুসলমানদের বিরুদ্ধে এই বলে মিথ্যা মামলা দায়ের করে যে, তিতু নীল চাষদ্রোহী, জমিদারদ্রোহী ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীদ্রোহী, ভীষণ দাঙ্গা প্রকৃতির ওহাবী মুসলমান। জমিদার কৃষäদেবের দু'জন বরখন্দাজ ও একজন গোমস্তাকে খাজনা আদায় করতে গেলে তাদের মারপিটসহ গুম করে। বহু অনুসান করেও আমরা তাদের পাচ্ছি না। তিতু দম্ভভরে ঘোষণা করছে, 'সে এ দেশের বাদশাহ সুতরাং খাজনা আর জমিদারদের দিতে হবে না।' উভয় মামলার তদন্ত শুরু হয়। তদন্ত করে কলিঙ্গ পুলিশ ফাঁড়ির জমাদ্দার। তিনি উভয় মামলার দুর্বল অবস্খা উল্লেখ করে অধিক তদন্তের জন্য বশিরহাট থানার অভিজ্ঞ দারোগা রামরাম চক্রবর্তীর উপর ন্যস্ত করার প্রতিবেদন পেশ করেন আদালতে। ফলে মামলা দু'টি রামরাম চক্রবর্তীর নিকট তদন্তভার ন্যস্ত হয়। এদিকে বারাসাতের জয়েন্ট ম্যাজিস্ট্রেট মুসলমানদের দায়ের করা মামলার প্রধান আসামী জমিদার কৃষäদেবকে কোর্টে তলব করে জামিন দেন। পরে রামরাম চক্রবর্তী তদন্তের নামে সরফরাজপুর এসে তিতুমীর ও তাঁর লোকজনকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে প্রধান আসামীর বাড়ি বসে জামাই আদরে কাটিয়ে যে তদন্ত রিপোর্ট দেয় তাহলো (১) জমিদার কৃষäদেব রায়ের গোমস্তা ও পাইকদের তিতুর লোকজন বেআইনীভাবে আটক করে, পরে আটক লোকজন কৌশলে সেখান থেকে পালয়ে যায় সুতরাং গুমের মামলা অচল ও খারিজযোগ্য এবং (২) তিতুমীর ও তাঁর লোকজন জমিদার কৃষäদেব রায় গংদের বিরুদ্ধে খুন-জখম, লুট, অগ্নিসংযোগ সংক্রান্ত যে অভিযোগ এনেছে তা মিথ্যা ও বানোয়াট। বরং তার লোকজন নিজেরাই তাদের মসজিদ জ্বালিয়ে দিয়েছে। রিপোর্টের ভিত্তিতে জয়েন্ট ম্যাজিস্ট্রেট আদালত উভয় মামলা খারিজ করে দেয়। দু:খের বিষয় হলো মুসলমানদের বিরুদ্ধে অবৈধ খাজনা আদায়ের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ ম্যাজিস্ট্রেটের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেনি ফলে তাদের খাজনা আদায় বৈধ হয়ে যায়। পরে বিভাগীয় কমিশনার মামলার বিষয় অবহিত হয়ে বললেন, জয়েন্ট ম্যাজিস্ট্রেট যে রায় দিলো তা একদিকে জমিদারদের অবৈধ ও উৎপীড়নমূলক খাজনা ব করার কোন উদ্দেশ্য ছিল না অপরদিকে প্রতিপক্ষের উত্তেজনাকর মনোভাব লাঘব করারও কিছু ছিল না। শেষ পর্যন্ত যখন ১৮৩১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় কমিশনারের নিকট আপীল করার জন্য যখন মুসলমানরা কলকাতায় গেল তখন কমিশনারের অনুপস্খিতির জন্য আপীল করা সম্ভব হলো না। এইভাবে মুসলমান প্রজাদের উপর তারাগুনিয়ার জমিদার রাম নারায়ন, কুরগাছির জমিদারের নায়েব নাগরপুরবাসী গৌড় প্রসাদ চৌধুরী এবং পুুঁড়ার উল্লেখিত জমিদার কৃষäদেব রায়দের দ্বারা অত্যাচার, জেল-জরিমানা, জুলুম-নির্যাতন ও উৎপীড়নের বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। একইভাবে বারাসাতের জয়েন্ট ম্যাজিস্ট্রেটের কোর্টে জমিদার রাম নারায়ণের বিরুদ্ধে জনৈক মুসলমানের মামলার সাক্ষী হিসাবে এই বলে সাক্ষ্য দেন যে, “উক্ত জমিদার তার দাঁড়ির জন্য তাকে ২৫ টাকা জরিমানা করে এবং দাঁড়ি উপড়েও ফেলে। কিন্তু তাতে কোন ফল হলো না।

অত্যাচারের ফলে হিযরত:
মুসলমানরা যখন মসজিদ ধ্বংস, বহু লোক হতাহত এবং বাড়িঘর ভস্মীভূত হওয়ার প্রতিকার পেল না। তখন সহযোগীদের পরামর্শে তিতুমীর তাঁর লোকজন নিয়ে সরফরাজপুর থেকে ১৭ অক্টোবর ১৮৩১ সালে নারকেলবাড়ীয়া হিজরত করেন। ২৯ অক্টোবর জমিদার কৃষäদেব রায় সহস্রাধিক লাঠিয়াল ও অস্ত্রধারী গুণ্ডাবাহিনীসহ নারকেলবাড়ীয়া আক্রমণ করে বহুলোক হতাহত করে। ৩০ অক্টোবর অত্র সংক্রান্ত মামলা দায়ের করতে গেলে কোন ফল হলো না। প্রতিকার তো দূরের কথা পুলিশ কোন তদন্তেও এলো না। উপরন্তু জমিদার বাহিনীর অত্যাচারে তিতু বাহিনী চরম অসহায় হয়ে পড়লো। ৬ নবেম্বর কৃষäদেব পুনরায় মুসলমানদের উপর আক্রমণ, গাবরডাঙ্গার নীলকর জমিদার কালীপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায় ও মোল্লাআটি নীলকুঠি ম্যানেজার মি: ডেভিসকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে উত্তেজিত করে তুললো। ফলে ডেভিস ৪০০ হাবশী সৈন্যসহ নারকেলবাড়ীয়া আক্রমণ করলো। সংঘর্ষকালে মুসলমানরা ডেভিসের বজরা ধ্বংস করে দেয়। এ বিষয়ে বশিরহাট থানার দারোগা রামরাম চক্রবর্তী এবং হিন্দু জমিদারগণ তিতুমীরের লোকদের বিরুদ্ধে ইংরেজ সরকারের কাছে একযোগে মিথ্যা, কাল্পনিক, বিকৃত, উদ্দেশ্যমূলক রিপোর্ট/অভিযোগ দিল।

পর্ব ২:এখানে দেখুন

লেখক: ­ মুহাম্মদ ওয়াছিয়ার রহমান মন্টু, একজন এনজিও কর্মকর্তা।
সূত্র: এখানে
১৪.১১.২০০৭ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28745349 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28745349 2007-11-14 10:37:28
পর্ব ২: ষড়যন্ত্র, বেঈমানী ও বিশ্বাসঘাতকতার মোকাবেলায় শহীদ তিতুমীর =====

পর্ব ১: এখানে দেখুন।


চতুর্মুখী হামলা:
সঙ্গত কারণে তখন দেশে ছিল ইংরেজ শাসন। তিতুমীর ইংরেজদের বিরুদ্ধে কোন বিদ্রোহী ছিল না। কিন্তু হিন্দু জমিদার, অত্যাচারী স্খানীয় ও ইংরেজ নীলকরদের ষড়যন্ত্রে তিতুকে চিত্রিত করা বিদ্রোহী সন্ত্রাসী হিসেবে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর সাথে তিতুমীরের ব্যক্তিগত কোন সংঘাত ছিল না। গুজব অনুযায়ী দেশী-বিদেশী নীলকর, পাদ্রী ও স্বার্থানেðষী হিন্দু জমিদারদের পক্ষ থেকে বারাসাতের জয়েন্ট ম্যাজিস্ট্রেট মি: আলেকজান্ডারের কাছে তিতুমীরের বিরুদ্ধে অনবরত উত্তেজনাকর রিপোর্ট ও চিঠিপত্র সরকারকে ভাবিয়ে তোলে। বশিরহাটের দারোগা রামরাম চক্রবর্তী তিতুমীর ও তার লোকজন সম্পর্কে যেসব কাল্পনিক, মিথ্যা, বিদ্বেষপ্রসূত, বিকৃত রিপোর্ট সরকারের কাছে প্রদান করে এবং হিন্দু জমিদারগণ ও কালেক্টর এবং জয়েন্ট ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট অনবরত লিখতে থাকে। লেখালেখির ভিত্তিতে ম্যাজিস্ট্রেট তিতুমীরকে দমন করার জন্য গভর্নরের নিকট লেখে। সাথে সাথে গভর্নর আবার এই রিপোর্টের ভিত্তিতে নদিয়ার কালেক্টর ও আলীপুরের জজকে নারকেলবাড়ীয়াতে গিয়ে সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিকারের ব্যবস্খা গ্রহণ করতে নির্দেশ দেন। গভর্নরের আদেশ পেয়ে নদিয়ার কালেক্টর অনাকাঙ্খিতভাবে কৃষäদেব রায়কে দ্রুততার সাথে দেখা করতে বলেন। আলীপুরের জজ সাহেব তখন নদিয়ায় অবস্খান করছিলেন। কৃষäদেব রায় নারকেলবাড়ীয়া পৌঁছালে কালেক্টর ও জজ সাহেব তাকে তাদের বজরার পথ প্রদর্শক হিসেবে নিয়ে রওনা হন। এদিকে কালেক্টর ও জজ সাহেবদের আগমনকে কেন্দ্র করে একটি স্বার্থানেðষী মহল পরিকল্পিতভাবে মুসলমানদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করার জন্য প্রচার করতে থাকে যে, শেরপুর নীলকুঠির মুসলিম বিদ্বেষী ম্যানেজার মি: বেনজামিন অনেক সন্ত্রাসী ও অস্ত্রশস্ত্রসহ নারকেলবাড়ীয়া আক্রমণের জন্য রওনা করেছে। খবর শুনে তিতুমীরের লোকজন স্বাভাবিকভাবে গোলাম মাসুমের নেতৃত্বে তাদের বাধা দেয়ার জন্য অগ্রসর হয়। বজরা এসে বারঘরিয়া ঘাটে ভিড়লে তিতুমীরের লোকজন দেখলো বজরায় তাদের পূর্ব দুশমন কৃষäদেব ওদের সাথে উপস্খিত সঙ্গত কারণে তাদের প্রতিরোধ যুক্তি সঙ্গত হয়ে উঠলো। এই সুযোগে কৃষäদেব কালেক্টর ও জজ সাহেবকে বললো, 'হুজুর, ঐ দেখুন তিতুমীরের প্রধান সেনাপতি গোলাম মাসুম আপনাদের বজরা আক্রমন করার জন্য এতদূর পর্যন্ত এসেছে'। সাহেব তখন গুলী চালানোর নির্দেশ দিলেন। উভয় পক্ষের বহু লোকজন হতাহত হলো। পরে অবস্খা বেগতিক দেখে কালেক্টর যুদ্ধ স্খগিত রেখে নদীর মাঝখানে গিয়ে আত্মরক্ষা করলো। এইভাবে হিন্দু জমিদাররা তিতুমীরের লোকজনকে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করে বজরা আক্রমণ করায়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী সরকারকে ক্ষেপিয়ে তুলেছিল। এই যাত্রায় কৃষäদেব তার কুটচালে সফল হয়েছিল। ফলে বারাসাতের জয়েন্ট ম্যাজিস্ট্রেট মি: আলেকজান্ডারের তিতুমীর সম্পর্কে দারুন নেতিবাচক ধারণা জন্মে। তিতুমীরকে সাবধান করার জন্য বশিরহাটের নতুন দারোগাকে আদেশ দেন। নতুন দারোগা নারকেলবাড়ীয়াতে না গিয়ে থানায় বসে তিতুমীর সম্পর্কে একটি মিথ্যা রিপোর্ট তৈরি করে। রিপোর্টের ফলে জয়েন্ট ম্যাজিস্ট্রেট মি: আলেকজান্ডারকে তিতুমীরের বিরুদ্ধে সরকারের নিকট কড়া রিপোর্ট লিখতে হয়। পরে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী সরকার কর্নেল স্টুয়ার্ডকে সেনাপতি করে একশত ঘোড়া, তিনশত পদাতিক সৈন্য, দু'টি কামানসহ নারকেলবাড়ীয়াতে রওনা করায় ১৩ নবেম্বর ১৮৩১ সালে। আর স্বয়ং আলেকজান্ডার নারকেলবাড়ীয়ায় একজন হাবিলদার, একজন জমাদ্দার, পঞ্চাশ জন বন্দুক ও তরবারীধারী সৈন্য নিয়ে নারকেলবাড়িয়ার কাছাকাছি বাদুড়িয়ায় উপস্খিত হন। পরে বশিরহাটের দারোগা সিপাই-জমাদ্দার নিয়ে বাদুড়িয়া আলেকজান্ডারের সাথে মিলিত হয়। অত:পর প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয় এতে উভয় পক্ষের লোক হতাহত হয়। গোলাম মাসুমের নেতৃত্বের বীরত্ব দেখে আলেকজান্ডার বিস্মিত হয়। যুদ্ধে দারোগা ও একজন জমাদ্দার মুসলমানদের হাতে বন্দী হয়, বারাসাতের জয়েন্ট ম্যাজিস্ট্রেট মি: আলেকজান্ডার প্রাণ রক্ষার্থে পলায়ন করে।

তিতুমীরের শেষ পরিণতি:
পরের দিন হিন্দু ও ইংরেজদের যৌথ আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ১৪ নবেম্বর তিতুমীরের লোকজন তার হুজরার বাহির দিকে মোটা মোটা বাঁশের মজবুত খুঁটি দিয়ে ঘিরে বেষ্টনী তৈরি করে, ইতিহাসে এই বাঁশের বেষ্টনীকে 'তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা' নামে পরিচিত। কর্নেল স্টুয়ার্ড তিতুমীরের হুজরার প্রধান দ্বারে পৌঁছে দেখেন এক ব্যক্তি সাদা তহবন্দ, সাদা পিরহান ও সাদা পাগড়ি পরিহিত অবস্খায় আল্লাহর ধ্যানে নিমগ্ন আছে। স্টুয়ার্ড মুগ্ধ ও বিস্ময় বিমুঢ় হয়ে পথ প্রদর্শক রামচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাস করলেন, 'এই ব্যক্তিই কি তিতুমীর'? রামচন্দ্র, বলল 'হ্যাঁ, সে নিজেকে তিতু বাদশা বলে প্রচার করে। হুজুর, আপনার আগমনে তারা বাহানা পরিবর্তন করেছে।' স্টুয়ার্ড রামচন্দ্রকে বলল, 'তিতুকে বলুন, বড়লাট লর্ড বেন্টিংক-এর পক্ষ থেকে আমি সেনাপতি হিসেবে এসেছি। তিতুমীর যেন আমার কাছে আত্মসমর্পণ করে। তবে উত্তরে সে যা বলবে তা আমাকে হুবহু বলবেন।' অথচ রামচন্দ্র তিতুমীরকে বলল, 'আপনি কোম্পানী সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে এখন জপমালা ধারণ করেছেন। আসুন, তরবারী ধারণ করে বাদশার যোগ্য পরিচয় দিন।' শুনে সাইয়েদ নিছার আলী তিতুমীর বললেন, 'আমি কোম্পানী সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিনি। হিন্দুদের ন্যায় আমরাও কোম্পানী সরকারের প্রজা। জমিদার নীলকরদের অত্যাচার দমন এবং মুসলমান নামধারীদের প্রকৃত মুসলমান বানানোর জন্য সামান্য চেষ্টা করছি মাত্র।' তিতুমীরের জবাব শুনে রামচন্দ্র দোভাষী হিসেবে কর্নেল স্টুয়ার্ডকে বলল, 'হুজুর, তিতুমীর আত্মসমর্পণ করবে না, যুদ্ধ করবে। সে বলে, সে তোপ ও গোলাগুলীর তোয়াক্কা করে না। সে আরো বলে, সে তার ক্ষমতাবলে সবাইকে টপ টপ করে গিলে খাবে। সে এই দেশের বাদশা, কোম্পানী আবার কে?' দোভাষীর কাজ করতে গিয়ে রামচন্দ্র যে কোন আগুনে ঘি ঢেলে দিলো তা সকলের কাছে পরিষ্কার। অত:পর যুদ্ধের ফলাফল কি হলো তা সহজেই অনুমেয়। সুশিক্ষিত ইংরেজ সৈন্য মেজর স্কটের পরিচালনায় ও তাদের ভারী কামানের গুলীর সামনে লাঠি আর সড়কির দ্বারা কতক্ষণ টিকে থাকা যায়। তথাপিও তিতুমীর, গোলাম মাসুম ও তাদের লোকজন ভীতসন্ত্রস্ত না হয়ে, বাতিলের কাছে মাথা নত না করে জীবনের শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে লড়াই করে ২৫০ জন আহত হয় এবং ৫০ জনের সাথে ঊনপঞ্চাশ বছর বয়সে সাইয়েদ নেছার আলী তিতুমীর শাহাদাতের অমীয় সুধা পান করে ইতিহাসে অক্ষয় পুরুষ হিসেবে স্খান করে নেয়।

লেখক: ­ মুহাম্মদ ওয়াছিয়ার রহমান মন্টু, একজন এনজিও কর্মকর্তা।
সূত্র: এখানে।
১৪.১১.২০০৭]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28745342 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28745342 2007-11-14 10:22:35
ষড়যন্ত্র, বেঈমানী ও বিশ্বাসঘাতকতার মোকাবেলায় শহীদ তিতুমীর
জ্ঞান অর্জন:
তৎকালীন সম্ভ্রান্ত পরিবারের রীতি অনুসারে তিতু চার বছর চার মাস চার দিন বয়সে লেখাপড়া শুরু করে। আরবী, ফার্সী ও উর্দু ভাষায় পারদর্শী করার জন্য সেকালের শ্রেষ্ঠ ওস্তাদ মুন্সী লাল মিয়াকে তিতুর শিক্ষক নিয়োগ করা হয়। মাতৃভাষা রপ্ত করার জন্য তাকে পার্শ্ববর্তী গ্রামের পণ্ডিত রামকমল ভট্টাচার্যকে দিয়ে বাংলা, ধারাপাত, অংক ইত্যাদি বিষয় শিক্ষার ব্যবস্খা করা হয়। বিহার থেকে হাফেজ নিয়ামাতুল্লাহ তিতুর গ্রাম চাঁদপুর আসলে তাকে দিয়ে সেখানে মাদরাসা স্খাপন করা হয়। আঠার বছর বয়সে তাকে কুরআন হিফজসহ লেখাপড়া সমাপ্ত করা হয়। তিনি আরবী ব্যাকরণ, ফারায়েজ, হাদিস, দর্শন, তাসাউফ, তর্কশাস্ত্রসহ আরবী, ফার্সী কাব্য ও সাহিত্যে পাণ্ডিত্য লাভ করেন। কৈশরকাল থেকেই তিতু শরীর চর্চা করতেন। তার শরীর চর্চার শিক্ষক ছিলেন শেখ মুহাম্মদ হানিফ। শরীর চর্চার সাথে তিনি ডনকুস্তি, হাডুডু, লাঠিখেলা, ঢাল, সড়কি, তরবারী, তীর-গুলতি, বাঁশের বন্দুক চালাতে পারদর্শিতা অর্জন করেন।

দ্বীনের খেদমতে মনোনিবেশ:
দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে মনোনিবেশকালে তিতু কোন ভাল আলেমের হাতে বাইয়াতের ইচ্ছা পোষণ করে বিহার থেকে কলকাতায় তালিবটোলায় আগত 'হযরত জাকী শাহ' নামে জনৈক দরবেশের নিকট মুরিদ হওয়ার আকাঙ্খা ব্যক্ত করলেন। জাকি শাহ তার মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন, 'বায়তুল্লাহ জিয়ারত না করলে তুমি কোন ভাল ওলীর সান পাবে না।' অবশেষে তিতু মক্কায় গমন করলে সেখানেই সাইয়েদ আহমেদ ব্রেলভীর সাথে তার দিদার হয় এবং তাঁর হাতেই তিনি বাইয়াত গ্রহণ করেন। মক্কা থেকে ফিরে ব্রেলভী বাংলার অন্যান্য ভক্তগণের সাথে সাইয়েদ নিছার আলী তিতুমীর, হাজী শরীয়তউল্লাহ, মাওলানা আব্দুল বারী খাঁ (মাওলানা আকরম খাঁর পিতা), মাওলানা মোহাম্মদ হোসেন, মাওলানা সুফী খোদাদাত সিদ্দিকী, মাওলানা কারামত আলী প্রমুখের সাথে কলকাতায় শামছুন্নেছা খানমের বাগানবাড়িতে এক বৈঠকে একত্রিত হন। বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক পাটনাকে মুজাহিদদের কেন্দ্রীয় রাজধানী ঘোষণা করা হয় এবং প্রত্যেক প্রদেশে প্রাদেশিক রাজধানী রাখার সিদ্ধান্ত হয়। কলকাতা থেকে ফিরে এসে তিতুমীর নিজ গ্রাম চাঁদপুরে ইসলামী দাওয়াতের কাজ শুরু করেন। পরে সরফরাজপুর (সর্পরাজপুর)বাসীর অনুরোধে তিতুমীর তথাকার শাহী আমলের ধ্বংসপ্রাপ্ত মসজিদের পুন:সংস্কার করেন। এখানে জুমার নামায পর তিনি নিয়মিত মুসল্লিদের উদ্দেশে ভাষণ দিতেন। সরফরাজপুরের মসজিদ পুন:সংস্কার, নিয়মিত নামাযের ব্যবস্খা এবং নামায অন্তে তিতুমীরের ভাষণে পুঁড়ার জমিদার কৃষäদেব রায়কে সন্ত্রস্ত ও তটস্খ করে তুলে।

তিতুমীরের আহ্বান:
তিতুমীরের দাওয়াতের মূল কথা ছিল আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ বিশ্বাস স্খাপন, প্রত্যেক কাজে আল্লাহ ও তার রাসূল (সা<img src=" style="border:0;" />-এর নির্দেশ পালন, নামায, রোযা, হজ্ব, যাকাত, শরীয়ত, তরিকত, হকিকত ও মা'রেফতের সমনðয়ে জীবন পরিচালনা।

ষড়যন্ত্র ও দাড়িগোঁফের খাজনা:
পুঁড়ার জমিদার কৃষäদেব রায় তিতুমীরের গতি বিধির গোপন তথ্য পাওয়ার জন্য জমিদারের দালাল মতিউল্লাহকে গোয়েন্দা কাজে নিয়োগ করে এবং তিতু একজন ওহাবী ধর্মাবলম্বী বলে প্রচার করতে থাকে। অত:পর জমিদার কৃষäদেব রায়, গোবলা গোবিন্দপুরের জমিদার দেবনাথ রায় ও গোবরডাঙ্গার জমিদার কালী প্রসন্ন মুখোপধ্যায়ের পরামর্শক্রমে এলাকার শান্তি-শৃকôখলা ভঙ্গের অযুহাতে মতিউল্লার চাচা গোলাপ, জ্ঞাতি ভাই নেপাল ও গোবর্ধনকে নিয়ে এক গোপন সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক তিতুমীরের বিরুদ্ধে জোর, জুলুম, জবরদস্তি করে বাপ-দাদার রীতি অনুসারে ধর্ম পালনে বাধাদান, দাড়ি রাখতে বাধ্য করা, গোঁফ ছাঁটা, গো হত্যা, আরব দেশের অনুকরণে নাম রাখতে বাধ্য করা ইত্যাদির বিচার এবং যাতে হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা বাধতে না পারে সেজন্য প্রভাবশালী জমিদার কৃষäদেব রায়ের নিকট প্রতিকার চেয়ে পরিকল্পিতভাবে আবেদন করায়। আবেদনকারীদের নালিশ পেয়ে কৃষäদেব রায় হুকুম জারি করলেন­ (১) যারা তিতুর কথা শুনে ওহাবী হবে, তাদের দাড়ি রাখার জন্য ২.৫০ টাকা এবং যারা গোঁফ ছাটবে তাদের গোঁফ ছাঁটার জন্য ১.২৫ টাকা খাজনা, (২) কাঁচা মসজিদ তৈরি করলে বছরে ৫০০ টাকা এবং পাকা মসজিদ তৈরি করলে ১ হাজার টাকা জমিদার সরকারের নজরানা, (৩) বাপ-দাদার রাখা নাম পরিবর্তন করে ওহাবী মতে আরবী নাম রাখলে প্রতি নামের জন্য ৫০ টাকা জরিমানা, (৪) গো-হত্যা করলে, তার ডান হাত কেটে দেয়া হবে এবং (৫) তিতুমীরকে যে তার বাড়িতে স্খান দিবে তাকে ভিটা থেকে উচ্ছেদ করা হবে। তিতুমীর কৃষäদেব রায়ের বিচার শুনে চিঠির মাধ্যমে জানিয়ে দেন যে তিনি কোন অন্যায় করেননি। তিনি শুধু ইসলাম প্রচার করছেন। সুতরাং তার কাজে হস্তক্ষেপ করা সমীচীন নয়। নামায পড়া, দাড়ি রাখা, গোঁফ ছাঁটা প্রভৃতি তাদের ধর্মীয় নির্দেশ। এ কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি অন্য ধর্ম পালনে বাধা দেয়ার শামিল।

অত্যাচার শুরু:
কৃষäদেব রায় তিতুমীরের নিকট থেকে পত্র পেয়ে পত্রবাহক কামাল উদ্দিনের পুত্র আমিন উল্লাহর উপর ক্ষিপ্ত হয়ে বলে, কে সেই ওহাবী তিতু? আর, বেটা তুইবা কে? নিকটে থাকা জনৈক মুচিরাম ভাণ্ডারী বলল, 'হুজুর ওর নাম আমন মণ্ডল, বাপের নাম কামন মণ্ডল। আপনার প্রজা। আগে দাড়ি কামাতো এখন দাড়ি রেখেছে বলে আপনি তাকে চিনছেন না।' এ কথা শুনে আমিন উল্লাহ নির্ভীকচিত্তে জবাব দিলেন, 'হুজুর আমার নাম আমিন উল্লাহ, বাপের নাম কামাল উদ্দিন, লোকে আমাকে আমান এবং বাপকে কামন বলে ডাকে।' কৃষäদেব রায় রাগে থর থর করে কাঁপতে কাঁপতে বলল, 'ব্যাটা দাড়ির খাজনা দিছিস? নাম বদলের খাজনা দিছিস? আচ্ছা, মজা দেখাচ্ছি। আমার সাথে তর্ক করিস। এতো বড় স্পর্ধা।' এই বলে মুচিরামের উপর আদেশ হলো তাকে গারদে ভরে শাস্তি দিতে। অমানুষিক অত্যাচার ও প্রহারের ফলে তিতুমীর আমলে ইসলামী আন্দোলনের প্রথম শহীদ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন শহীদ আমিন উল্লাহ। সংবাদ মুসলমানদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে, তারা মর্মাহত হলো। কিন্তু সাক্ষী প্রমাণের অভাবে শক্তিশালী জমিদারের বিরুদ্ধে কিছুই করা গেল না।

ষড়যন্ত্রমূলক বৈঠক:
তিতুমীরকে শায়েস্তা করার জন্য কলকাতায় জনৈক লাটু বাবুর বাড়িতে এক সভায় লাটু বাবু, গোবরা গোন্দিপুরের জমিদার দেবনাথ রায়, গোবরডাঙ্গার জমিদার কালী প্রসন্ন মুখোপধ্যায়, নূরনগরের জমিদারের ম্যানেজার, টাকীর জমিদারের সদর নায়েব, রানাঘাটের জমিদারের ম্যানেজার, পুঁড়ার জমিদার কুখ্যাত কৃষäদেব রায়, বশিরহাট থানার দারোগা চরম মুসলিম বিদ্বেষী রামরাম চক্রবর্তী, যদুর আটির দুর্গাচরণ চক্রবর্তী প্রমুখ উপস্খিত হয়ে এই মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে, 'তিতুমীরকে দমন করতে না পারলে, তাদের হিন্দু জাতির পতন অনিবার্য। যে করে হোক তাকে শায়েস্তা করতেই হবে। ইংরেজদের বুঝানো হবে যে তিতু তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করেছে এবং হিন্দুদের বুঝানো হবে তাদের গো-মাংশ দ্বারা হিন্দু দেবীকে তিতু চরম অপমান করেছে ও হিন্দুর মুখে কাঁচা গো-মাংশ গুঁজে দিয়েছে।' সভা শেষে সকলের অনুরোধে দারোগা রাম রাম চক্রবর্তী ঘোষণা করলো আমি প্রাণ দিয়ে আপনাদের সাহায্য করবো এবং যে করে হোক তিতুকে রাজদ্রোহী প্রমাণ করবো।

বিদ্রোহের অযুহাত ও ইংরেজদের ভূমিকা:
কলকাতায় ষড়যন্ত্রের পর কুখ্যাত জমিদার কৃষäদেব রায় সরফরাজপুরের লোকদের নিকট হতে খাজনা আদায়ে লোক পাঠায়। কিন্তু মুসলমানরা অবৈধ খাজনা দিতে অস্বীকার করলে তিতুমীরকে ধরে আনার জন্য ১২ জনের একটি সশস্ত্র দল পাঠানো হয়। কিন্তু তারা তিতুকে ধরে আনতে সাহস পায়নি। ফলে কৃষäদেব পরবর্তী প্রয়োজনীয় করণীয় নির্ধারণে যাদের কাছে পরামর্শ ও সাহায্য কামনা করে বিভিন্ন স্খানে লোক পাঠালো। তারা হলো­ (১) অনুকুল চন্দ্র মুখোপধ্যায়কে গোবর ডাঙ্গায়, (২) খড়েশ্বর মুখোপধ্যায়কে গোবরা গোবিন্দপুর, (৩) লাল বিহারী চট্টোপধ্যায়কে শেরপুর নীলকুঠির ম্যানেজার মি: বেনজামিন, (৪) বনমালী মুখোপধ্যায়কে হুগলী নীলকুঠিতে এবং (৫) লোকনাথ চক্রবর্তীকে বশিরহাট থানায় পাঠান। উল্লেখ্য, লোকনাথ চক্রবর্তী ছিল বশিরহাট থানার দারোগা রামরাম চক্রবর্তীর ভগ্নিপতি। সাহায্যের জন্য বিভিন্ন স্খান হতে কৃষäদেবের সাহায্যে শত শত লোক লাঠি, তলোয়ার, ঢাল, সড়কিসহ শুক্রবার জুম্মার নামাযরত অবস্খায় মসজিদ ঘিরে ফেলে এবং তাতে আগুন ধরিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। ফলে দু'জন শাহাদৎবরণসহ বহু লোক আহত হয়। অত:পর মুসলমানরা কলিঙ্গের পুলিশ ফাঁড়িতে কৃষäদেব রায় গংদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। কিন্তু পুলিশ ঘটনা স্খলে না গিয়ে থানায় বসে লাশ দাফনের নির্দেশ দেয়। থানায় বসে আরো রিপোর্ট দেয়া হয় যে, জমিদারের লোকজন খাজনা আদায় করতে গেলে তাদের খাজনা না দিয়ে মারপিট করে, দু'জনকে আটক করে। ফলে আটক লোকদের উদ্ধারের জন্য জমিদারের লোকজন তিতুদের আক্রমণ করে মসজিদ জ্বালিয়ে দেয়।' শুধু তাই নয়, জমিদাররা ঘটনার ১৮ দিন পর মুসলমানদের বিরুদ্ধে এই বলে মিথ্যা মামলা দায়ের করে যে, তিতু নীল চাষদ্রোহী, জমিদারদ্রোহী ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীদ্রোহী, ভীষণ দাঙ্গা প্রকৃতির ওহাবী মুসলমান। জমিদার কৃষäদেবের দু'জন বরখন্দাজ ও একজন গোমস্তাকে খাজনা আদায় করতে গেলে তাদের মারপিটসহ গুম করে। বহু অনুসান করেও আমরা তাদের পাচ্ছি না। তিতু দম্ভভরে ঘোষণা করছে, 'সে এ দেশের বাদশাহ সুতরাং খাজনা আর জমিদারদের দিতে হবে না।' উভয় মামলার তদন্ত শুরু হয়। তদন্ত করে কলিঙ্গ পুলিশ ফাঁড়ির জমাদ্দার। তিনি উভয় মামলার দুর্বল অবস্খা উল্লেখ করে অধিক তদন্তের জন্য বশিরহাট থানার অভিজ্ঞ দারোগা রামরাম চক্রবর্তীর উপর ন্যস্ত করার প্রতিবেদন পেশ করেন আদালতে। ফলে মামলা দু'টি রামরাম চক্রবর্তীর নিকট তদন্তভার ন্যস্ত হয়। এদিকে বারাসাতের জয়েন্ট ম্যাজিস্ট্রেট মুসলমানদের দায়ের করা মামলার প্রধান আসামী জমিদার কৃষäদেবকে কোর্টে তলব করে জামিন দেন। পরে রামরাম চক্রবর্তী তদন্তের নামে সরফরাজপুর এসে তিতুমীর ও তাঁর লোকজনকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে প্রধান আসামীর বাড়ি বসে জামাই আদরে কাটিয়ে যে তদন্ত রিপোর্ট দেয় তাহলো (১) জমিদার কৃষäদেব রায়ের গোমস্তা ও পাইকদের তিতুর লোকজন বেআইনীভাবে আটক করে, পরে আটক লোকজন কৌশলে সেখান থেকে পালয়ে যায় সুতরাং গুমের মামলা অচল ও খারিজযোগ্য এবং (২) তিতুমীর ও তাঁর লোকজন জমিদার কৃষäদেব রায় গংদের বিরুদ্ধে খুন-জখম, লুট, অগ্নিসংযোগ সংক্রান্ত যে অভিযোগ এনেছে তা মিথ্যা ও বানোয়াট। বরং তার লোকজন নিজেরাই তাদের মসজিদ জ্বালিয়ে দিয়েছে। রিপোর্টের ভিত্তিতে জয়েন্ট ম্যাজিস্ট্রেট আদালত উভয় মামলা খারিজ করে দেয়। দু:খের বিষয় হলো মুসলমানদের বিরুদ্ধে অবৈধ খাজনা আদায়ের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ ম্যাজিস্ট্রেটের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেনি ফলে তাদের খাজনা আদায় বৈধ হয়ে যায়। পরে বিভাগীয় কমিশনার মামলার বিষয় অবহিত হয়ে বললেন, জয়েন্ট ম্যাজিস্ট্রেট যে রায় দিলো তা একদিকে জমিদারদের অবৈধ ও উৎপীড়নমূলক খাজনা ব করার কোন উদ্দেশ্য ছিল না অপরদিকে প্রতিপক্ষের উত্তেজনাকর মনোভাব লাঘব করারও কিছু ছিল না। শেষ পর্যন্ত যখন ১৮৩১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় কমিশনারের নিকট আপীল করার জন্য যখন মুসলমানরা কলকাতায় গেল তখন কমিশনারের অনুপস্খিতির জন্য আপীল করা সম্ভব হলো না। এইভাবে মুসলমান প্রজাদের উপর তারাগুনিয়ার জমিদার রাম নারায়ন, কুরগাছির জমিদারের নায়েব নাগরপুরবাসী গৌড় প্রসাদ চৌধুরী এবং পুুঁড়ার উল্লেখিত জমিদার কৃষäদেব রায়দের দ্বারা অত্যাচার, জেল-জরিমানা, জুলুম-নির্যাতন ও উৎপীড়নের বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। একইভাবে বারাসাতের জয়েন্ট ম্যাজিস্ট্রেটের কোর্টে জমিদার রাম নারায়ণের বিরুদ্ধে জনৈক মুসলমানের মামলার সাক্ষী হিসাবে এই বলে সাক্ষ্য দেন যে, “উক্ত জমিদার তার দাঁড়ির জন্য তাকে ২৫ টাকা জরিমানা করে এবং দাঁড়ি উপড়েও ফেলে। কিন্তু তাতে কোন ফল হলো না।

অত্যাচারের ফলে হিযরত:
মুসলমানরা যখন মসজিদ ধ্বংস, বহু লোক হতাহত এবং বাড়িঘর ভস্মীভূত হওয়ার প্রতিকার পেল না। তখন সহযোগীদের পরামর্শে তিতুমীর তাঁর লোকজন নিয়ে সরফরাজপুর থেকে ১৭ অক্টোবর ১৮৩১ সালে নারকেলবাড়ীয়া হিজরত করেন। ২৯ অক্টোবর জমিদার কৃষäদেব রায় সহস্রাধিক লাঠিয়াল ও অস্ত্রধারী গুণ্ডাবাহিনীসহ নারকেলবাড়ীয়া আক্রমণ করে বহুলোক হতাহত করে। ৩০ অক্টোবর অত্র সংক্রান্ত মামলা দায়ের করতে গেলে কোন ফল হলো না। প্রতিকার তো দূরের কথা পুলিশ কোন তদন্তেও এলো না। উপরন্তু জমিদার বাহিনীর অত্যাচারে তিতু বাহিনী চরম অসহায় হয়ে পড়লো। ৬ নবেম্বর কৃষäদেব পুনরায় মুসলমানদের উপর আক্রমণ, গাবরডাঙ্গার নীলকর জমিদার কালীপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায় ও মোল্লাআটি নীলকুঠি ম্যানেজার মি: ডেভিসকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে উত্তেজিত করে তুললো। ফলে ডেভিস ৪০০ হাবশী সৈন্যসহ নারকেলবাড়ীয়া আক্রমণ করলো। সংঘর্ষকালে মুসলমানরা ডেভিসের বজরা ধ্বংস করে দেয়। এ বিষয়ে বশিরহাট থানার দারোগা রামরাম চক্রবর্তী এবং হিন্দু জমিদারগণ তিতুমীরের লোকদের বিরুদ্ধে ইংরেজ সরকারের কাছে একযোগে মিথ্যা, কাল্পনিক, বিকৃত, উদ্দেশ্যমূলক রিপোর্ট/অভিযোগ দিল।

চতুর্মুখী হামলা:
সঙ্গত কারণে তখন দেশে ছিল ইংরেজ শাসন। তিতুমীর ইংরেজদের বিরুদ্ধে কোন বিদ্রোহী ছিল না। কিন্তু হিন্দু জমিদার, অত্যাচারী স্খানীয় ও ইংরেজ নীলকরদের ষড়যন্ত্রে তিতুকে চিত্রিত করা বিদ্রোহী সন্ত্রাসী হিসেবে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর সাথে তিতুমীরের ব্যক্তিগত কোন সংঘাত ছিল না। গুজব অনুযায়ী দেশী-বিদেশী নীলকর, পাদ্রী ও স্বার্থানেðষী হিন্দু জমিদারদের পক্ষ থেকে বারাসাতের জয়েন্ট ম্যাজিস্ট্রেট মি: আলেকজান্ডারের কাছে তিতুমীরের বিরুদ্ধে অনবরত উত্তেজনাকর রিপোর্ট ও চিঠিপত্র সরকারকে ভাবিয়ে তোলে। বশিরহাটের দারোগা রামরাম চক্রবর্তী তিতুমীর ও তার লোকজন সম্পর্কে যেসব কাল্পনিক, মিথ্যা, বিদ্বেষপ্রসূত, বিকৃত রিপোর্ট সরকারের কাছে প্রদান করে এবং হিন্দু জমিদারগণ ও কালেক্টর এবং জয়েন্ট ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট অনবরত লিখতে থাকে। লেখালেখির ভিত্তিতে ম্যাজিস্ট্রেট তিতুমীরকে দমন করার জন্য গভর্নরের নিকট লেখে। সাথে সাথে গভর্নর আবার এই রিপোর্টের ভিত্তিতে নদিয়ার কালেক্টর ও আলীপুরের জজকে নারকেলবাড়ীয়াতে গিয়ে সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিকারের ব্যবস্খা গ্রহণ করতে নির্দেশ দেন। গভর্নরের আদেশ পেয়ে নদিয়ার কালেক্টর অনাকাঙ্খিতভাবে কৃষäদেব রায়কে দ্রুততার সাথে দেখা করতে বলেন। আলীপুরের জজ সাহেব তখন নদিয়ায় অবস্খান ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28745337 http://www.somewhereinblog.net/blog/awrangjebblog/28745337 2007-11-14 10:11:28