somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছবির বিষয় কি ও কেন

০৩ রা জুন, ২০১৪ দুপুর ২:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কি ধরনের ছবি তুলতে আপনি পছন্দ করেন ; পোর্ট্রেট , বন্যপ্রাণী , রাস্তার কোন দৃশ্য, ল্যান্ডস্কেপ , বা অন্য কিছু ? এই দৃশ্যগুলোর ধরন অনুসারে ফটোগ্রাফির বিভিন্ন ক্যাটাগরী থাকে, যেমন: পোট্রেট, ল্যান্ডস্কেপ, লাইফ স্টাইল, ওয়াইল্ড লাইফ, স্ট্রীট লাইফ, ইভেন্ট, ম্যাক্রো, ফ্যাশন, ফটো জার্নালিজম এরকম আরো অনেকরকম ক্যাটাগরী ইত্যাদি। এই যে কোন একটা ক্যাটাগরী ফটোগ্রাফি হতে পারে আপনার ছবি চর্চার মূল বিষয় । আচ্ছা ধরি একজন আর্টিষ্ট আপনি চারুকলার আশে পাশে দেখেছেন কেউ কেউ রাস্তায় বসে হার্ডবোর্ডে একটা সাদা কাগজে পেনসিল দিয়ে আঁকছে, কি আঁকছে যেহেতু রাস্তায় বসে আশেপাশে দৃশ্যটাকে খুঁজে এনে কল্পনা আর দৃশ্যকে এক করে দারুন কিছু শৈল্পিক স্কেচ বের করে আনার চেষ্টা করছে। এখানে আর্টিস্ট একটা নির্দিষ্ট ক্যাটাগরী মানে স্কেচ আঁকা ধরে একটা দৃশ্যকে বিষয় হিসাবে কল্পনা করে ছবি আঁকছে। একজন ফটোগ্রাফারকে সেরকমভাবে ঠিক করে নিতে হয় একটা ক্যাটাগরীর ছবি তুলবে তারপর ছবির বিষয়টাকে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর জন্যে ভিন্নতা আনার চেষ্টা করে।

আপনি যদি ভাবেন উপরের সবকটি বিষয় নিয়ে কাজ করবেন সেটি কিন্তু কখনোই সম্ভব নয়। কেন সম্ভব নয়? বিষয়টা খুব সিম্পল। একটা ছোটবেলাকার উদাহরন টানি, আপনি যখন ক্লাস নাইনে উঠেন তখন আপনাকে বলা হয়, আপনি কি সাইন্স নিয়ে পড়বেন, নাকি আর্ট নাকি কমার্স। তখন আপনি কি বলেন আপনি সব কিছু নিয়ে পড়তে চান। ক্লাস নাইনে উঠার আগে আপনি সব কিছু পড়ে ফেলেছেন সেগুলো হচ্ছে সবকিছুর বেসিক। তারমানে আমরা শুধু বেসিক নিয়ে সাত আট নয় বছর সময় কাটাই। তারপর আমরা ক্লাস নাইনে এডভান্স বা স্পেশালাইজ হতে সাইন্স বা আর্ট বা কমার্স একটা স্পেসিফিক বিষয় বেছে নেই। এইভাবে শুরু হয় আপনার ভবিষ্যত মানে আপনি কি ইঞ্জিনিয়র, ডাক্তার, ব্যাংকার, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, উকিল, আরো অন্যান্য পেশাধারী। ফটোগ্রাফিতেও এভাবে বেসিক শুরু হয় তারপর এ্যাডভান্স । তবে আসল কথা ফটোগ্রাফি সবাইকে শেখানো যায় না। কারণ ক্রিয়েটিভ বিষয়গুলো চর্চা ও ধ্যানজ্ঞানের বিষয়। নিজের ভিতর থেকে আসতে হয়।

যাই হোক মূল পর্বে ফিরি আবার। প্রতিবার যখনই আপনি একটি ছবি তুলতে যাবেন তখন এরকম অনেকগুলো ছবির বিষয় আপনার কল্পনাতে ভীড় করবে। হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতন মনকাড়া ছবি তুলতে গেলে আপনাকে অবশ্যই বেসিক ফটোগ্রাফির বিভিন্ন টেকনিকগুলো খুব ভালোভাবে আয়ত্বে আনতে হবে।

প্রতিটি আলোকচিত্রী হোক সে পেশাদার কিংবা অপেশাদার , তাদের সকলে একটি পছন্দের বিষয় থাকে, যেমন: স্ট্রীট, পোট্রেট এরকম যেমন: অন্যান্য শিল্পীদের একটি পছন্দের বিষয় থাকে যেমন: তৈলচিত্র, স্কেচ কাগজে পেন্সিল বা কাঠকয়লার উপাদান দিয়ে আঁকা এবং আরো অনেক।

ফটোগ্রাফি একটি শিল্প এবং এই শিল্পের জন্যে নান্দনিক শৈল্পিক চোখ ও মন তৈরী করে নিতে হয়। এ শৈল্পিক ইন্দ্রিয় ঠিক করে দেয়, কি ধরনের বিষয় নিয়ে আপনার আলোকচিত্র হবে । মূলত, সেখানে স্পষ্ট হয়ে যাবে আপনি কি নিয়ে আগ্রহী।

আপনার আগ্রহের বিষয় ওয়াইল্ড লাইফ হয় , তাহলে আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে পশুপাখীকে দেখার জন্যে এবং তারপর আরো কিছুক্ষন অপেক্ষা করতে হবে পশুপাখীগুলোর এ্যক্টিভিটি যত সুন্দর ও আনন্দদায়কভাবে উপস্থাপন করতে হবে। ওয়াইল্ড লাইফের ক্ষেত্রে পশুপাখী আপনার কথা মতন পোজ দিবে না। তাই আপনাকে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করে এ ধরনের ছবি তুলতে হবে।

কিন্তু আপনার বিষয় যদি একজন বা একাধিক মানুষ হয় সেক্ষেত্রে তাদের পোট্রেট তোলার সময় আপনি তাদের নির্দিষ্ট ডারেক্টশন দিয়ে পোজ শিখিয়ে ভালো ছবি বের করে আনতে পারবেন। এগুলো পোট্রেট ফটোগ্রাফি। মানুষের চেহারার বর্ণনা করে এটি একটি ছবির জনপ্রিয় বিষয়।

স্টীল লাইফ মানে হলো জড়ো জীবন মানে ধরেন একটা কোন নড়াচড়া করবে না। আপনি আপনার মতন নাড়াচাড়া করে বিষয় ঠিক করে নিবেন। ধরেন সময়টা সন্ধ্যা, আপনার বাসার পিছনে বিয়েরবাড়ীর সুন্দর লাল সবুজ নীল লাইটিং করা হয়েছে তখন আপনি একটা পুতুলকে সুন্দর করে বারান্দা বসিয়ে দিলেন পুতুলের গায়ে টর্চ লাইট দিলেন তারপর ছবি তুলে ফেললেন। ছবিতে সুন্দর আলোকিত ব্যাকগ্রাউন্ডসহ পুতুল দেখতে ভালো লাগছে। হয়ে গেল আপনার স্টীল লাইফ ক্যাটগরীর পুতুল বিষয়ক ছবি। এ ধরনের ছবি তুলতে আপনি অনেক সময় পাবেন।

একজন প্রতিষ্ঠিত ফটোগ্রাফার হয়ে উঠার পিছনে ছবি নিয়ে চর্চা ও পড়াশুনার কোন বিকল্প নেই। আপনাকে অবশ্যই একটা বিষয় বেছে নিয়ে ছবির চর্চা করতে হবে। যেমন ধরুন মানুষের চেহারার বৈশিষ্ট্য নিয়ে কাজ করবেন তাহলে আপনাকে পোট্রেট নিয়ে দৌড়ঝাপ শুরু করতে হবে। এই একটা বিষয় আপনাকে বেছে নিয়ে সেখানে মন দিতে হবে।

আপনি ল্যান্ডস্কেপ তুলতে ভালবাসেন যেমন পাহাড়, নদী, সমুদ্র। এই ক্ষেত্রে এমন হতে পারে আপনি যেখানে বাস করেন বা থাকেন। সেখানে হয়ত এরকম ছবি তোলার কিছু নেই। তখন টাকা পয়সা জমিয়ে, ছুটি জমিয়ে আপনার সুযোগ বুঝে বেরিয়ে পড়তে হবে। আপনার ঘুরে বেড়ানোর মতন আর্থিক ও শারীরিক সার্মথ্য থাকতে হবে। নয়ত পাহাড়ের চূড়াতে উঠতে গিয়ে সেখানেই জীবন খোয়াবেন। এই সব ফ্যাক্টরগুলো আপনার ছবি তোলার বিষয়ে প্রভাবিত করতে পারে।

যখন দেখবে একটি নির্দিষ্ট বিষয় কথা বলছে, কথা বলা মানে কিন্তু হাউ হাউ শব্দ করা নয়, ছবির কথা আর মুখের কথা দু’টি ভিন্ন জিনিষ। এখানে বিষয় হতে পারে পাখীর চাহনী একটি বিষয় তখন একটা মানুষের এক্সপ্রেশন এবং সেই দৃশ্যকে ক্যামেরার মাধ্যমে বন্দী করে ফেলুন। দেরী করে সুযোগ হাতছাড়া করবেন না। ছবিটি তোলার পর ছবির বিষয়টা দেখুন। পরবর্তীতে ঠিক করুন এই বিষয়টা কিভাবে তুলবেন, কি কি টেকনিক খাটাবেন। আলোকে বুঝে কাজে লাগান। একদম অন্ধকারে কিংবা ভর দুপুরের কড়া রোদের আলোতে ছবি তুলতে গিয়ে ছবির মূল বিষয় যাতে হারিয়ে না যায় খেয়াল রাুখন। দাঁড়িয়ে, বসে, শুয়ে ভিন্ন এ্যাঙ্গেলে ছবি তোলার চেষ্টা করে বিষয়ের ভিন্নতা আনার চেষ্টা করুন।

সব সময় যে সাবজেক্ট যে সেরা হবে তা কিন্তু নয়। আপনার চোখের দৃষ্টিতে যেই দৃশ্যকে সেরা মনে হয় সেটিকে মূল বিষয় হিসেবে বেছে নিন। নিজের কল্পনার চোখ দিয়ে ভেবে নিন। ধরুন একটা ‍পুরাতন বাড়ীর ছবি তুলবে কি তুলবেন, বাড়ীর দেয়ালের টেক্সটার, সিঁড়ির প্যার্টান কিন্তু পুরা বাড়ীটা তুলে হিজিবিজি করে ফেলবেন না। পুরানো বাড়ীর ভিতরে আনাচে কানাচে লুকিয়ো থাকা এমন সব বিষয়গুলো খুঁজে এনে তুলে ফেলবেন।

সবসময় মনে রাখবেন, আপনার চোখ আপনার ছবির বিষয় খোঁজার সবচেয়ে শক্তিশালী মধ্যম। কিভাবে একটি বিষয় বেছে নিবেন সেটি নির্ভর করবে আপনার পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা ও আলো। ধীরে ধীরে ঘুরুন এখানে ওখানে আপনি হয়ত পথিমধ্যে পেয়ে যেতে পারেন আপনার কাঙ্খিত বিষয়। হয়ত আপনি একটু আগেও জানতেন না এমন সুন্দর দৃশ্য আপনার ছবি হবার অপেক্ষাতে ছিল। চারপাশে তাকান উপরে নিচে দেখুন এমন কিছু খুঁজুন যা আপনার ছবিকে অনেক ইন্টারেস্টিং করে তুলবে।

ছবির বিষয় যদি ভালো না হয় তাহলে সেটি গ্রহনযোগ্যতা পাবে না। সেই ছবিটির কোন নান্দনিক মূল্য থাকবে না। তখন সেটি অন্য সাধারন ছবির মতন শুধু মাত্র স্মৃতি ধরে রাখা সাধারন ছবি হয়ে যাবে। তাই ছবি তোলার সময় যত ভালো বিষয় নিয়ে ছবি তোলা সম্ভব চেষ্টা করুন। হয়ত সেই নতুন বিষয় হয়ত জগত বিখ্যাত হয়ে যেতে পারে। হতে পারে নতুন ইতিহাসের সূচনা।

আমার তোলা কিছু ছবি লিংক এখানে দেওয়া হলো: https://www.flickr.com/photos/ayonahmed
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুলাই, ২০১৪ বিকাল ৩:২২
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবি অথবা সার্কাসের জোকার

লিখেছেন জাহিদ অনিক, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ দুপুর ২:৫১




কবিতা সবার পড়ার দরকার নাই। আমি অনেককে চিনি জানি যারা স্কুলের বই ছাড়া আর কোন কবিতা পড়েন নাই এবং তারা দিব্যি ভালো আছেন। আমার থেকে ভালো আছেন। তাই, সকলের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে মন্তব্য ও প্রতি উত্তর নিয়ে দু প্যারা; এবং সামুর খানিক পেছন ফিরে দেখা(স্মৃতিচারণ) ।

লিখেছেন রাকু হাসান, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৪:১৯

ভাবছিলাম কয়েক দিন রিলাক্স থাকবো । পোস্ট টোস্ট দিব না । অবশেষে দিলাম । আমি একজন অতি নবীন ও ক্ষুদ্র ব্লগার । বেশ কিছু ভালো মানুষের আদরে স্নেহে আছি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাটোরের রানী ভবানীর রাজবাড়ী ভ্রমন

লিখেছেন পুলক ঢালী, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৫:১৭




প্রবেশমুখে জীবনানন্দ দাশ তার শান্তিদায়িনীর কথা স্মরন করে আপনাদেরও বর্তমান/ভাবী শান্তিদায়িনীর কথা স্মরনে রেখে সম্ভাষন জানাবেন। :D


বেশ কিছুদিন আগে নাটোরের রানী ভবানীর রাজবাটি পরিদর্শনের সুযোগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে দুই বছরপুর্তি এবং আমার আনাড়ী লেখা

লিখেছেন শামচুল হক, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:২৭



দেখতে দেখতে ব্লগে দুই বছর পার হয়ে গেল। ব্লগে এসে অনেক কিছু জানার এবং শেখার যেমন সুযোগ হয়েছে তেমনি নিজেও কিছু লেখার সুযোগ পেয়েছি। ব্লগে অনেকেই ভালো লেখেন, তাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগঃ ৪ - রূপালী দিনের ঢাকা

লিখেছেন দার্শনিক ইমরান, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:৩৯

১. রমনা গেট, ১৯০১


২. পরিবিবির মাজার, ১৯০৪


৩. পুরানা পল্টন, ১৮৭৫



সপ্তদশ শতাব্দীতে পুরানো ঢাকা মুঘল সাম্রাজ্যের সুবহে বাংলা (বাংলা প্রদেশ) এর প্রাদেশিক রাজধানী ছিলো। মুঘল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×