somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশে ইসলাম : পর্ব - ১

০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৭ দুপুর ২:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশে ইসলামী মূল্যবোধ ও ইসলাম ধর্মের উচ্ছেদ অসম্ভব। কারণ, এদেশটি বারো কোটি মুসলিম নর-নারী অধ্যুষিত। দেশে রয়েছে অসংখ্য মসজিদ ও মাদরাসা। রয়েছে পীর-মাশায়েখগণ পরিচালিত বহু খানকা ও ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্র ছাড়াও আছে মুসলিম নেতৃবৃন্দের মানসিকতায় সত্যিকার ইসলামপ্রীতি। যেসব রাজনৈতিক দলের মেনুফেস্টোতে ধর্মকে রাজনীতির বাইরে রাখা হয়েছে, সেসব দলের নেতা ও সাধারণ কর্মীরা কোনো আকস্মিক আপতিত ঘটনার সম্মুখীন হলে শেষ পর্যন্ত আল্লাহর নামই ঘন ঘন উচ্চারণ করতে থাকে। মরণাপন্ন হলে দেশবাসীর কাছে দোয়াও মাংগে।

এই যেখানে পরিস্থিতি, স্বাভাবিকভাবেই সকলের মনে এই বিশ্বাস দৃঢ় আছে বাংলাদেশের মাটি থেকে কেউ ইসলামকে হটাতে পারবে না, কিন্তু এদেশের মানুষ জানে না পাশ্চাত্যের ঠিক উল্টো মতই পোষণ করে। তাদের সাম্প্রতিক কার্যকলাপে এটা অত্যন্ত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, তারা ভাবেন বাংলাদেশ থেকে ইসলামকে হটিয়ে দিয়ে এ মাটিতে তাদের মতের সংখ্যাধিক্য সৃষ্টি করা সম্ভব। এই উদ্দেশ্যেই ইউরোপের কিছু দেশের সরকার এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ধর্ম বিষয়ক নানা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের দারিদ্রø ও অশিক্ষার সুযোগে পরিকল্পিতভাবে কাজ করে চলেছে। অথচ পাশ্চাত্যের প্রতিটি দেশে খৃস্টধর্ম বিরোধী কোনো তৎপরতা অনেক ক্ষেত্রেই সহ্য করা হয় না। সেখানে জ্ঞান বিজ্ঞানের সমান্তরালে খৃস্ট ধর্মের মাহাত্ম্যও শিক্ষার্থীদের পাঠ্য। খৃস্ট নিন্দা কিংবা চার্চের প্রতি বৈরিতা সেখানকার অনেক দেশেই শাস্তিযোগ্য অপরাধ। যদিও সারা পাশ্চাত্যজুড়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গণতন্ত্র চালু আছে। তবে গণতান্ত্রিক অধিকারের সুযোগ নিয়ে বাইবেলের নৈতিক আদর্শ এবং ধর্মীয় আস্থার বিপরীত কিছু করা যাবে না। অনেক দেশে আবার খৃস্টীয় আদর্শ বিরোধী কোনো প্রচার কিংবা অন্য ধর্ম প্রচার বা ধর্মান্তর নিষিদ্ধ।

বাংলাদেশ ধর্মীয় সহনশীলতার দেশ। এই সহনশীলতা মূলত ইসলামী মূলবোধেরই অবদান। আমাদের দেশে অনেক খৃস্টান ধর্মপ্রচারক তাদের নানা প্রতিষ্ঠানের মারফত কনভারসন চালিয়ে গেলেও ধর্ম প্রচারে সরাসরি কেউ বাধা দিচ্ছে না। অথচ এদেশে কেউ ইসলামের কথা বললে কিংবা ইসলামের শত্রুদের বাধা দিতে গেলে সর্বপ্রথমেই বাধা সৃষ্টি করছে পাশ্চাত্যের ঐ সমস্ত খৃস্টান দেশ এবং সরকার, যারা প্রত্যক্ষভাবে স্থানীয় এনজিওগুলোকে অর্থ সাহায্য দিচ্ছে। প্রশ্ন জাগে পাশ্চাত্যের জাতিসমূহ যদি এতই ধর্মনিরপেক্ষতার পূজারী, তবে এদেশে মিশনারী ও এক শ্রেণীর এনজিওকে ধর্ম প্রচারে তারা কিভাবে বিপুল অর্থের যোগান দিচ্ছে? প্রকৃতপক্ষে ইউরোপের ধর্মনিরপেক্ষতাটা একটা খোলস মাত্র। সেখানে সেসব স্কুলে বিবর্তনবাদও পড়ানো হয়, সেখানে শিক্ষককে আগেই ছাত্রদের কাছে মানবজাতির উদ্ভাবনের বাইবেল কথিত ব্যাখ্যা জানিয়ে দিতে হয়। প্রকৃতপক্ষে পাশ্চাত্যের নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় বাইবেলকে মৌলিক উপাদন হিসেবেই স্বীকৃতি দেয়া থাকে।

আমাদের দেশে দেশের মানুষের রাজনৈতিক বিভিন্নতার সুযোগ নিয়ে একদল ধর্মবিরোধী বুদ্ধিজীবী সৃষ্টি করাই এখন পাশ্চাত্যের লক্ষ্য। এরা ঘোর ইসলামবিরোধী বলে ইতোমধ্যেই ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। এদের প্রধান কাজ হলো, যেকোনোভাবেই হোক ইসলামী মূল্যবোধগুলোকে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক ভাঁওতায় হাস্যকর করে তোলার চেষ্টা করা। এর সাথে যুক্ত হয়েছে পাশ্চাত্যের অর্থ সাহায্যপুষ্ট এনজিওগুলোর পরিকল্পিত ইসলাম উচ্ছেদ নীতির সাথে খৃস্টীয় মূল্যবোধকে শ্রেষ্ঠ প্রতিপন্ন করা।

একটি জনবহুল মুসলিম দেশে সম্ভবত এ ধরনের কূটনৈতিক বাড়াবাড়ির দৃষ্টান্ত অতিশয় বিরল। ঘটনাটি যত সহজে সরকার ও এ দেশীয় ইসলাম বৈরি বুদ্ধিজীবীরা হজম করে ফেলেছেন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে, সম্ভবত বিষয়টা জনগণ ও ইসলামী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ততটা সহজ প্রাচ্য নয়। আমরা জানি, বাংলাদেশের শহরে-বন্দরে, গ্রামে-গঞ্জে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক ধর্মীয় আবেগের বিপরীত খৃস্টীয় পাশ্চাত্যের কনভারসন পরিকল্পনা অত্যন্ত সাম্প্রদায়িক চেহারা নিচ্ছে। বাংলাদেশের গ্রামে-গঞ্জে পাশ্চাত্য সম্ব েএই প্রতিক্রিয়াই এখন গুমরে উঠতে যাচ্ছে।

আমাদের দেশে খল চরিত্রের বুদ্ধিজীবীদের স্বরূপটি বর্তমানে ধীরে ধীরে উন্মোচিত হতে শুরু করেছে। তাদের বক্তব্য সব সময় স্পষ্ট নয়, আচরণও স্পষ্ট নয়। এরা যা বলে তা বিশ্বাস করে না, আবার যা বিশ্বাস করে তা বলে না। ফলে তাদের স্ববিরোধী বক্তব্য ও আচরণ আজকাল স্পষ্টভাবেই জনগণের সামনে ধরা পড়ছে। আমরা জানি, বাংলাদেশের প্রায় শতকরা নব্বইজন মানুষই মুসলিম। পবিত্র ধর্ম ইসলামে এদের অগাধ বিশ্বাস এবং এদের অনেকেই সচেতনভাবে ইসলামকে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান হিসেবে অনুসরণ করতে চায়। দিন দিনই এই সচেতন মুসলমানদের সংখ্যা বাড়ছে। ইসলামের শত্রু মহল এবং মুসলিম নামধারী বরকন্দাজরা বিভিন্ন ইসলামী ব্যক্তিত্ব ও ইসলামী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভীষণভাবে শত্রুভাবাপন্ন।

ইসলামের বিরুদ্ধে যে যাই বলে বা করে, সরকার মুখ খোলেন না, পদক্ষেপ নেয়ার কথা তো চিন্তাও করা যায় না। একটার পর একটা ঘটনা ঘটছে, সুযোগ সন্ধানীরা এই সুযোগে একটার পর একটা সুযোগের সদ্ব্যবহার করছে। সরকারকে একটি কথা জিজ্ঞাসা করি, আল্লাহ না করুন, যদি কোনোদিন কোনো পরদেশী বাহিনী এসে এই রাজধানীতে ঢুকে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করে যে, এ দেশ আমাদের তাহলেও কি সরকার মুখ বন্ধ করে থাকবেন? জিজ্ঞাসা করি আর কত দেখবেন? ব্লগাররা কি ভাবছেন?
১৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×