somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মীম নামের মেয়েটি

০৯ ই জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মীম নাকি জন্মসূত্রেই বাবামুখী। কথাটা পরিবারের সবাই বলে। মায়েরও অভিযোগ মুখে কথা ফোটার মুহূর্তে মীম নাকি বাবাকেই আগে ডেকেছিলো। বা-বা-বা করে পুরো ঘরময় হেসে খেলে বেরিয়েছিলো। আর এই চার বছর বয়সে এসে এখনতো সে বাবা ছাড়া কিছু বোঝেই না। প্রতিদিন সকালে বাবা যখন অফিসে রওয়ানা হন, মীমও তখন তার সঙ্গে যেতে চায়। অধিকার খাটিয়ে প্রশ্ন করে- আমি অফিসে যাবো না?

বাবা বলেন- যাবে আম্মুনি, আরেকটু বড় হয়ে নাও তখন অনেক জায়গায়ই যাবে তুমি।
-বড়ো তো হয়েছি। এই যে আমি কত্তো বড়ো। আমি অফিসে যাবো, আব্বু।
-ঠিক আছে আম্মুনি, ক'দিন পরেই তোমাকে নিয়ে যাবো।
-ক'দিন পরতো হয়ে গেছে। এখুনি নিয়ে চলো না।
-নাহ! মেয়েটাকে নিয়ে আর হয় না। আমি চললাম।
-যাবে না, তুমি যাবে না.........

হাত-পা ছড়িয়ে মীম বাবার পিছু নেয়। বাবা একপ্রকার পালিয়ে বাঁচেন, মীম অ্যাঁ করে কেঁদে ফেলে। মা এগিয়ে এসে তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। মীম শান্ত হতে চায় না। কেঁদে কেঁদে বলে- আমি অফিসে যাবো। আমি অফিসে যাবো। মা বলেন- ঠিক আছে। আমি তোমাকে নিয়ে যাবো।

মীম বলে- না, আমি আব্বুর সঙ্গে অফিসে যাবো। কিছুতেই যখন মীম শান্ত হতে চায় না। মা তখন মাঝে মধ্যে একটু ক্ষেপে ওঠেন- যাহ্, তোর আব্বুর কাছে যা।
মীম তখন আরো জোরে কেঁদে দেয় এবং কাঁদতেই থাকে। মা তখন ঈষৎ ধমক দেন- চুপ্! একদম চুপ! একটু শব্দও শুনতে চাই না।

মীম চুপ করে না বরং ভয়ে-ক্ষোভে তার কণ্ঠ আরো জোরালো হয়। দু'চোখের পানিতে গাল-বুক ভেসে যায়। ফুপিয়ে ফুপিয়ে কেঁদে বলে, আব্বুকে বলে দেবো, তুমি আমাকে মেরেছো।
মা আরেকটু ক্ষেপে ওঠেন- এই মেয়ে! তোমাকে মারলাম কখন, এই বয়সেই মিথ্যে কথা?
-তবে তুমি বকলে কেনো, অ্যাঁ-অ্যাঁ-অ্যাঁ।
-ঠিক আছে আম্মুনি, আর তোমাকে বকবো না। এসো, মা জোর করে মীমকে কোলে তুলে নেন। আঁচল দিয়ে চোখ মুখ মুছিয়ে দেন। আদর করে নানা রকম সান্তবনা দেন। মীম ধীরে ধীরে শান্ত হয়। এরপর বাবা যখন ফিরে আসেন, মীম তখন মায়ের নামে কোনো নালিশই বাবার কাছে জানায় না। বেশির ভাগ সময়ে ভুলে যায়। আবার যখন মনে পড়ে তখন ভাবে, থাক, মা-ওতো আমাকে খুব ভালোবাসেন। আসলে মীম বাবাকে পেলে যেমনি ছাড়তে চায়না, মাকে ছেড়েও তেমনি থাকতে পারে না। মা অবিশ্যি মাঝে মধ্যে বলেন, কী মীম, আব্বুর কাছে নালিশ করলে না? বললে না, আমি তোমাকে বকেছি, মেরেছি?

মীম তখন লজ্জা পায়। অনুতাপে মায়ের আঁচলে মুখ লুকায়।
মা তখন মুগ্ধ কণ্ঠে বলতে বাধ্য হন- আমি জানি, আমাকেও তুমি খুব ভালোবাসো।
মীম কণ্ঠে আহলাদ জড়িয়ে বলে- আব্বুকেও খুব ভালোবাসি, তোমাকেও খুব ভালোবাসি।
-ওরে আমার লক্ষ্মী মেয়ে। তুমি এত ভালো! বলে মা প্রিয় সন্তানকে বুকের সঙ্গে চেপে ধরেন। মীম গদ গদ হয়ে বলে- তুমিও খুব ভালো আম্মু, তুমি আমার লক্ষ্মী আম্মু।

এরই মধ্যে বাবা যখন ফিরে এসে মীমকে ডাকেন আ-ম্-মু-
মীম তখন মাকে ছেড়ে অনাবিল হাসি নিয়ে বাবার কাছে ছুটে আসে আ-ব্-বু.......
বাবা অফিসের ব্যাগ ছেড়ে মীমকে কোলে তুলে নেন। বাবাকে আদর করে মীম ‘আমার ভালো আব্বু, ভালো আব্বু' বলে বাবার বুক ভরিয়ে দেয় সে, তা দেখে আনমনে হাসতে থাকেন মা আর ভাবতে থাকেন- বাবাকেই তো বেশি ভালোবাসে মীম।

তখনি মীম কী করে যেনো মায়ের মনের কথা ধরে ফেললো। বললো- আম্মু, আমি তোমাকেও কিন্তু ভালোবাসি।
-ওরে আমার চালাক মেয়ে, বলে মা এগিয়ে এসে মীমকে জড়িয়ে ধরলেন।
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×