somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... ভুল-ভ্রান্তির অবসান হোক ।
জরুরি অবস্খার সময় আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াতসহ দেশের রাজনৈতিক দলগুলো গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার গুরুত্ব হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে। তখন তারা আন্তরিকভাবেই গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ চেয়েছেন। এখন যখন সেই সুযোগ পাওয়া গেল, তখন তা যেন অজাচার, অনাচার ও স্বৈরাচারের ভ্রান্তিতে হারিয়ে না যায়। নির্বাচনের পর একদিনের মাথায় জ্বালাও-পোড়াও, ভাংচুর, লুণ্ঠন, ঘেরাও ও হতাহতের যে চিত্র লক্ষ্য করা গেল এবং বিএনপি-জামায়াতকে উড়িয়ে দেয়ার যে মানসিকতা প্রদর্শিত হলো তা জাতির জন্য মোটেও কল্যাণকর নয়। আমরা বুঝতে পারি আশাতীত ও অকল্পনীয় একটি বিজয়ের পর মহাজোটের অনেকের পক্ষেই মাথা ঠান্ডা রাখা কঠিন, পরিস্খিতির বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণও এখন তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব। কিন্তু অকল্পনীয় বিজয়ের সুফল অর্জন করতে হলে তাদের এখনই বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি অর্জনে সমর্থ হতে হবে। প্রথমেই তাদের বুঝতে হবে যে, চারদলীয় জোট নির্বাচনে বেশ কম আসন পেলেও ভোট কিন্তু তেমন কম পায়নি। আর নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন শীর্ষ নেতা বিজয়ী হতে না পারায় যারা দৃষ্টিকটুভাবে লম্ফঝম্ফ করছেন, জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি তুলছেন তাদের জন্য বার্তা রয়েছে। তারা বলছেন, যুদ্ধাপরাধের প্রচারণার কারণেই এবার জামায়াতের ভরাডুবি ঘটেছে, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। অথচ প্রকৃত তথ্য হলো, এবারের নির্বাচনে জামায়াতের ভোট বেড়েছে। অর্থাৎ যুদ্ধাপরাধের মতলবী প্রচারণায় জনগণ প্রভাবিত হয়নি এবং জামায়াতকে প্রত্যাখ্যানও করেনি। ভোট আগের চাইতে বেশি পাওয়ার পরও কেন তারা পরাজিত হলো এমন প্রশ্ন জাগতেই পারে। এই প্রশ্নের জবাব জামায়াতই ভাল দিতে পারবে। ইতোমধ্যেই তারা নির্বাচন কমিশনে বেশ কিছু অভিযোগ উথাপন করেছে। এ ব্যাপারে কমিশন কী ব্যবস্খা গ্রহণ করে সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে জনগণ যে জামায়াতকে প্রত্যাখ্যান করেনি বরং আগের চাইতে বেশি ভোট দিয়েছে সেই পরিসংখ্যান পাঠকদের জন্য পেশ করা যেতে পারে।

২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর প্রতিদ্বন্দবী আওয়ামী লীগের অধ্যাপক আবু সাঈদ ৯৮ হাজার ১১৩ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছিলেন অথচ এবার ১ লাখ ২২ হাজার ৯৪৪ ভোট পেয়েও মাওলানা নিজামী বিজয়ী হতে পারেননি। ২০০১ সালে দিনাজপুর-১ আসনে জামায়াত প্রার্থী ৮৮ হাজার ৮১১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন অথচ এবার একই আসনে জামায়াত প্রার্থী ১ লাখ ৪ হাজার ৮৬৮ ভোট পেয়েও পরাজিত হয়েছেন। ২০০১ সালে নীলফামারী-২ আসনে জামায়াত প্রার্থী ৬৯ হাজার ৯৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন অথচ এবার একই আসনে জামায়াত প্রার্থী ৮১ হাজার ৮৩৬ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। লালমনিরহাট-১ আসনে ২০০১ সালে জামায়াত প্রার্থী ৪৮ হাজার ৯০৭ ভোট পেয়েছিলেন, অথচ এবার ৭৩ হাজার ৬৮৬ ভোট পেয়েও জামায়াত প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। এছাড়া পাবনা-৫ আসনে এবার জামায়াত প্রার্থী ১ লাখ ৪১ হাজার ৬৬৩ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে জামায়াত প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন ৯৭ হাজার ৪৬৩ ভোট পেয়ে। তাই বিবেকবান কোন মানুষই ভোটের এই পরিসংখ্যান দেখে বলবেন না যে, জনগণ জামায়াতকে প্রত্যাখ্যান করেছে। অবশ্য যারা ফ্যাসিবাদে বিশ্বাসী তাদের কথা আলাদা।

বাংলাদেশের রাজনীতির যে বাস্তবতা তা বিশ্লেষণ করলে যে কোনো সচেতন মানুষই একথা স্বীকার করবেন যে, কোনো মহল চাইলেই আওয়ামী লীগ, বিএনপি কিংবা জামায়াতে ইসলামীকে প্রপাগাণ্ডার তোড়ে উড়িয়ে দিতে পারবেন না। আর এই দলগুলোকেও উপলব্ধি করতে হবে যে, একমাত্র গণতন্ত্রের স্বচ্ছ পথেই তাদের বিজয় অর্থবহ হতে পারে। এ পথে প্রতিহিংসার বদলে প্রতিযোগিতার সংস্কৃতিই যেন তারা লালন করেন।

লেখার এ পর্যায়ে আমি ৩১ ডিসেম্বরের পত্রিকা হাতে পেলাম। পত্রিকায় নির্বাচনের ফলাফল প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বেগম খালেদা জিয়া প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, নীল-নকশার এই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির হিসাবে ৪০ থেকে ৪৫ ভাগ লোক ভোট দিয়েছে। অথচ নির্বাচন কমিশনের হিসাবে ভোট পড়েছে ৯০ শতাংশ। এমন মহাভোট জালিয়াতি অতীতে কখনো ঘটেনি। নির্বাচন কমিশন পূর্ব নির্ধারিত ফলাফল ঘোষণা করেছে। বেগম জিয়া প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ‘ধন্যবাদ' জানিয়ে বলেন, তিনি একটি সাজানো নির্বাচন বাংলাদেশে বাস্তবায়ন করেছেন এবং এক নীল-নকশা বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ দেশে নব্যবাকশাল কায়েমের পথ উন্মুক্ত করেছেন।

নির্বাচনে কারচুপি ও নীল-নকশা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, আমাদের কাছে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ আছে এবং সেগুলো আগামীকাল উপস্খাপন করা হবে। বেগম জিয়া প্রেস ব্রিফিংয়ে যে বক্তব্য রেখেছেন, তা এবারের নির্বাচন প্রসঙ্গে নতুন ভাবনা সৃষ্টি করেছে। গুরুতর এই অভিযোগের পরিণতি কী দাঁড়ায় তা দেখার জন্য আমাদের হয়তো আরো অপেক্ষা করতে হবে।

নতুন বছরে বাংলাদেশে শান্তি আসুক দল-মত নির্বিশেষে ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28892290 http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28892290 2009-01-03 01:43:04
দোহাই তোমার এবার তোমার মুখটা একটু থামাও
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28887089 http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28887089 2008-12-24 03:31:30
প্রসঙ্গ : মসজিদ ভিত্তিক গণশিক্ষা কি জাতির জন্য উদ্বেগজনক? শয়াতনগোষ্ঠীর একটি জরুরি মিটিং চলছে। এ মিটিং-এর মূল উদ্দেশ্য হলো কে কিভাবে এবং কোন প্রকারে মানুষকে বিভ্রান্ত করে অসৎ কাজে নিয়োজিত বা ঠেলে দিতে পেরেছে, তার রিপোর্ট পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করা। শয়তান গোষ্ঠীর দলপতি মাঝখানে বসে আছে। সকলে তাদের দৈনন্দিন কার্যাবলীর রিপোর্ট পেশ করে চলেছে। কেউ বলছে, আমি দুইজন মানুষের মাঝে ঝগড়া বাধিয়ে দিয়েছি, কেউ বলছে, আমি মানুষকে সুদ, ঘুষ, ধর্ষণ এবং দুর্নীতি করতে প্ররোচিত করেছি। কেউ বলছে, আমি একজন মানুষকে কুমন্ত্রণা দিয়ে আর একজন মানুষকে হত্যা করিয়ে ছেড়েছি। শয়তান গোষ্ঠীর দলপতি এদের পেশ করা রিপোর্ট নির্বিকারভাবে শুনে যাচ্ছে। কোন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছে না। কিন্তু উপস্খিত শয়তানদের ভেতর এক শয়তান তার রিপোর্টে উল্লেখ করলো যে সে একজন তালেবুল ইল্ম অর্থাৎ দ্বীনী জ্ঞানার্জনকারী ছাত্রকে বহুত কোশেশ করে তার কানে কুমন্ত্রণা এমনভাবে ঢেলে দিয়েছে যে এখন সে লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে যা ইচ্ছা তাই করে বেড়াচ্ছে। চমৎকার! সাবাস!! সাবাস!!! বলে শয়তান গোষ্ঠীর দলপতি পরম উল্লসিত হয়ে ঐ রিপোর্ট পেশকারীর পিঠ চাপড়াতে শুরু করলো আর সকলকে বলতে লাগলো এ একটা কাজের মতো কাজ করেছে। একে আমি সবচে বড় পুরস্কার দেবো। তারপর­­ শয়তান দলপতি মহাখুশিতে হাত-পা ছড়িয়ে বসে সকলকে উদ্দেশ্য করে বললো, তোদের খুন, হত্যা, ধর্ষণ, সুদ, ঘুষ, দুর্নীতির কুমন্ত্রণা এর রিপোর্টের কাছে একেবারে ছার। সকল শয়তান মনে মনে চিন্তা করতে লাগলো খুন, হত্যা, ধর্ষণ, ঘুষ, সুদ, দুর্নীতির চেয়ে বড় হলো কি-না একটা পুচকে ছাত্রকে লেখাপড়া থেকে মন ঘুরিয়ে দেয়ার কাজ। আর যে এই সামান্য কাজটি করেছে তাকে নাকি দেয়া হবে পুরস্কার। আল্লাদে আর বাঁচা যায় না। সভা স্খলে হৈ চৈ শুরু হলো। দলপতি শয়তান সকলকে থামিয়ে মাথা নেড়ে বিজ্ঞের মতো বললো, আহা! তোমরা বিষয়টি বুঝতে পারোনি তাই এমনভাবে হৈ-চৈ করছো। এবার মনোযোগ দিয়ে শোন এ কথার গুঢ় তাৎপর্য অর্থাৎ বিষয়টার ভেতরের আসল কথা। সকল শয়তান হৈ-চৈ থামিয়ে উৎকর্ণ হয়ে শুনতে লাগলো। শয়তান দলপতি বললো, ইল্ম বা বিদ্যার্জন বিশেষ করে দ্বীনী ইল্ম­­ (ধর্মীয় জ্ঞান) অর্জনকারী ছাত্র সে যেমন নিজে উপকৃত হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করার পথ পরিষ্কার করবে তেমন সমাজের আরও অনেক মানুষকে সৎ বানিয়ে ফেলবে। এই সৎ মানুষগুলো আবার দেশের বৃহত্তর গণ্ডিতে গিয়ে সকল মানুষকে সৎ বানিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। মানুষরা যদি দলে দলে জান্নাতে প্রবেশ করে তাহলে আমাদের এত সব জারিজুরি সবই বৃথা। আমাদের সর্ব প্রধান লক্ষ্যই হলো মানুষকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা। এই চ্যালেঞ্জই তো করে এসেছে আমাদের শয়তানের বড় শয়তান আজাজিল আব্বাজান। তাই যতো পারো ততো বেশি বেশি ধর্মজ্ঞান শিক্ষা ঘেষা ছাত্রদেরকে বিদ্যালয়ে যাওয়া থেকে দূরে সরিয়ে ফেলো তাহলে দেখবে আমাদের কাজ হালকা হয়ে গেছে। ওরাই তখন আমাদের পক্ষ থেকে মানুষকে জাহান্নামে ঠেলে দেয়ার পথ পরিষ্কার করে যাচ্ছে। ওরা তখন মানুষের আকৃতিতে থাকলেও আমাদের শয়তান সম্প্রদায়েরই দলভুক্ত হয়ে যাবে। এখন চিন্তা করো, আমি এই শয়তান সদস্যের রিপোর্টটি শ্রেষ্ঠ বলে মূল্যায়ন করে ভুল করেছি? সমবেত শয়তানের দল সমস্বরে মহাউল্লাসে ফেটে পড়লো, সাবাস! সাবাস!! না, না, আপনি ভুল করেননি। ঠিকই করেছেন। আমরা কথাটা আপনার মতো গভীরভাবে ভেবে দেখিনি।

সম্প্রতি এ সরকারের অত্যন্ত সাফল্যমণ্ডিত মসজিদভিত্তিক শিশু গণশিক্ষা কার্যক্রম ব করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে একদল ইসলামবিদ্বেষী চিহ্নিত তথাকথিত বুদ্ধিজীবী পরভোজীরা। এদের কাছে ইসলাম কথাটা শোনামাত্রই গাত্রদাহ শুরু হয়ে যায়। যেহেতু মসজিদ একজন মুমিন মুসলিমের ইবাদতগাহ্ সেহেতু ঐ চিহ্নিত ইসলামবিদ্বেষী মহলের আক্রোশ পড়েছে এই ভেবে যে, এখান থেকে কোমলমতি শিশুরা অন্য বিষয়ের শিক্ষার্জনের সাথে সাথে ইসলামী জ্ঞানার্জন করে একজন প্রকৃত মুসলিম হিসেবে গড়ে উঠবে তখন এদেরকে আর কখনও ইসলামবিমুখ বা ইসলামদ্রোহী করা যাবে না। তাই সুপরিকল্পিতভাবে অত্যন্ত ফলপ্রসূ এই মসজিদভিত্তিক শিশু গণশিক্ষা কার্যক্রমকে উৎখাত করার জন্য প্রধান উপদেষ্টার কাছে আবেদন জানিয়ে চিঠি দিয়েছে ঐ সব বুদ্ধিজীবী মহল। ঐ চিঠির একটি অনুলিপি পাঠানো হয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরীর কাছে। যথোপযুক্ত ব্যক্তির কাছে একেবারে ঝোপ বুঝে কোপ মারা হয়েছে অনুলিপিটি পাঠিয়ে। এই সেদিনকে যিনি কুরআন ও সুন্নাহর পবিত্র আইনকে লঙ্ঘন করে নারীনীতি বাস্তবায়নের প্রধান উদ্যোগী ভূমিকা নিয়েছিলেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মসজিদভিত্তিক শিশু গণশিক্ষা কার্যক্রম ‘উদ্বেগজনক'। প্রণিধানযোগ্য এই যে, সরকারের মন্দিরভিত্তিক শিশু গণশিক্ষা কার্যক্রম বরে জন্য ঐ বুদ্ধিজীবী মহল কোনরকম উচ্চবাচ্য করেননি। এখানে উনারা দাঁতে কুলুপ এঁটেছিলেন। আসলে বিদেশী সাহায্যপুষ্ট পরভোজী একটি গোষ্ঠী বিভিন্ন সময়ে গোলটেবিল বৈঠক, কখনো কাল্পনিক অভিযোগ তুলে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষার বিরুদ্ধে সরকারি নীতিনির্ধারকদের বিভ্রান্ত করার অপপ্রয়াস চালিয়ে আসছে। এর একমাত্র উদ্দেশ্যই হলো ইসলামী মন মস্তিষ্কের ধারক বাহক জনগোষ্ঠী ধীরে ধীরে যেন এ বাংলাদেশের বুক থেকে বিলীন হয়ে যায়। তাই ঝোপ বুঝে কোপ মারা হয়েছে এই মসজিদভিত্তিক শিশু গণশিক্ষা কার্যক্রমকে সমূলে উৎখাত করতে। অথচ সরকারের এই প্রকল্পে ব্যয় খুবই কম। কিন্তু দেশের বিশাল জনসাধারণকে অনানুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এ শিশু গণশিক্ষা কার্যক্রম একটা সুদূরপ্রসারী ভূমিকা পালন করতে সর্বোতভাবে সক্ষম। এমন একটি কার্যক্রমকেই এই প্রতিক্রিয়াশীল ইসলামবিদ্বেষী তথাকথিত বুদ্ধিজীবী চক্র ব করে দেয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। এদের এই হীন তৎপরতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে দেশের সর্বস্তরের জনগণকে। এরা প্রকারান্তরে ইসলাম, মুসলমান এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর প্রতিশোধ নিতে উদগ্রীব।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28884190 http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28884190 2008-12-18 09:12:26
শেখ হাসিনার নৌকা বনাম নুহ নবীর নৌকা " style="border:0;" />-এর অনুসারী তারা যেন মহাপ্রলয়ংকরী বন্যার সময় নূহ (আ<img src=" style="border:0;" />-এর নৌকায় আশ্রয় নেয়। অর্থাৎ নূহ নবীর নৌকা ছিল ইসলামের পক্ষে, ইসলাম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে। শেখ হাসিনার নৌকা কি ইসলামের পক্ষে নাকি ইসলামের বিপক্ষে- এ প্রশ্নের জবাব দেবে কে? অতএব আওয়ামী লীগের নৌকা কিভাবে নূহ নবীর নৌকার সাথে তুলনা করা যায়? মানুষ যখন বিপদে পড়ে তখন বিভিন্ন কথাই বলে। আবার গরু হারালে নাকি মানুষের হুঁশ থাকে না। কাকে কি বলে সে হুঁশ জ্ঞানও হারিয়ে ফেলে। প্রিয় পাঠক শেখ হাসিনা নিজের মুখে যখন বললেন, নৌকা হচ্ছে নূহ নবীর কিস্তি। এ কথা দ্বারা কি বুঝানো হলো এবং তিনি শাহ জালাল (র<img src=" style="border:0;" />, শাহ পরান (র<img src=" style="border:0;" /> ও শেখ বোরহান উদ্দিনের মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে যে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলেন এটা কি ধর্মীয় অনুভূতির কারণে নয়? এটা কি ধর্মীয় অনুভূতিকে নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করা নয়? তাহলে ম্যাডাম মতিয়া চৌধুরী কি বললেন? তিনি মিডিয়া সেন্টার উদ্বোধনকালে বললেন, এবারের নির্বাচনে ধর্মকে ব্যবহার করা হচ্ছে '৫৪'র সেই যুক্তফন্সন্টে যেভাবে ইসলামকে ব্যবহার করা হয়েছিল ঠিক তেমনিভাবে। আমরা তাকে জিজ্ঞেস করতে চাই, যারা সব সময় ধর্ম-কর্ম মান্য করে, মন্ত্রিত্ব গ্রহণের সময় যারা বলেন-‘ধর্মই আমাদের কর্ম।' ব্যক্তিগত জীবনে, পারিবারিক জীবনে ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ধর্মীয় বিধানের যারা পক্ষপাতি ধর্মকে রাজনীতি থেকে আলাদা করাকে যারা সেকুলার বলে আসছেন, নির্বাচনে তারা ধর্মকে ব্যবহার করেন এ অভিযোগ কি কোনমতেই গ্রহণ করা যায়? বরং জীবনভর ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্খান নিয়ে কেবল নির্বাচনের সময় মাথায় পট্টি আর হাতে তসবিহ, নূহ নবীর কিস্তি আর মাজার জিয়ারত করে ধর্মীয় লোকদের ভোট কামনা করে, তারা আর কিছু না হলেও যে খাঁটিভাবে ধর্ম ব্যবসায়ী সে কথা কে না বলবেন। কে না বলবেন যে, তারাই ধর্মকে এবং ইসলামকে নির্বাচনের কাজে ব্যবহার করছেন না। অতএব নিজেদের বাক্য বাণে যেন নিজেরাই কুপকাত না হন সেদিকেও একটু খেয়াল রাখার অনুরোধ রইল। আমাদের দেশের মানুষ শিক্ষাদীক্ষায় তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে থাকলেও যে দু'টি বিষয় অত্যন্ত সচেতন তা হলো খেলাধুলা ও রাজনীতি। গ্রামের সে অজোপাড়া গাঁয়ের একজন কৃষকও আজ রাজনীতি সচেতন। মানুষকে আবোল-তাবোল বুঝিয়ে এখন আর নিজেদের নৌকায় উঠানো সম্ভব নয়। এখন আর মানুষ গুলিস্তানের ফুটপাতের ওষুধ বিক্রেতাদের ওষুধ তেমন একটা কিনতে চায় না বলে বেচারাদের ব্যবসা খুব একটা ভাল যাচ্ছে না। বিষয়টি মনে রেখেই বক্তব্য দিলে ভাল করবেন। ]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28883603 http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28883603 2008-12-17 07:03:22 ঈদূল আযহায় আমাদের করণীয় পৃথিবীর সকল জাতিই তাদের আনন্দ-উৎসব প্রকাশের জন্য নির্দিষ্ট দিবসকে পালন করে থাকে। এ সকল দিবস স্ব স্ব ধর্মের কোন উল্লেখযোগ্য ঘটনা অথবা কারো জন্ম বা মৃত্যু দিন অথবা কোন ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে নির্ধারিত করা হয়েছে। এ দিবসসমূহে প্রত্যেক জাতি তাদের ধর্মীয় ঐতিহ্য সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটায়।

বিভিন্ন জাতির উৎসব ও উৎসব দিবস

সারা বিশ্বের প্রায় দুই কোটি খৃস্টান যীশুখৃস্টের জন্মদিন উপলক্ষে ২৫ ডিসেম্বরকে তাদের উৎসবের দিন ‘বড়দিন' (ঢসধং ফধু) হিসেবে পালন করে। প্রায় সত্তর পঁচাত্তর লাখ বৌদ্ধ গৌতম বুদ্ধের জন্মদিন উপলক্ষে ২২ মে কে তাদের উৎসবের দিন ‘শুভবুদ্ধ পূর্ণিমা' হিসেবে পালন করে থাকে। সারা বিশ্বের প্রায় দেড়শ কোটি মুসলমান মাহে রমযান শেষে সাওয়ালের প্রথম তারিখে ঈদুল ফিতর (রোযা ভঙের ঈদ) এবং আরবী জিলহজ্ব মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখকে ঈদুল আযহা বা কুরবানীর ঈদ হিসেবে পালন করে থাকে। মুসলমানদের উৎসবের রয়েছে একটি ঐতিহ্য ও সুদীর্ঘ ইতিহাস। সবচেয়ে বেশি উৎসবের দিন হলো হিন্দু জাতির। তারা ১২ মাসে ১৩টি উৎসব দিবস পালন করে থাকে। তবে এর মধ্যে লক্ষ্মীপূজা ও দুর্গাপূজা (বিজয়া দশমী) অত্যন্ত জাঁকজমকভাবে পালন করে থাকে।

মুসলমানদের ঈদ উৎসব

মুসলমানদের ঈদ উৎসব দু'টি। ঈদুল ফিতর আর ঈদুল আযহা। এক মাস রোযাব্রত পালন শেষে শাওয়াল মাসের ১ম দিন ঈদুল ফিতর উৎযাপন করা হয়। মুসলিম মিল্লাতের পিতা হযরত ইব্রাহীম (আ.) ও তাঁর প্রাণপ্রিয় পুত্র ইসমাঈল (আ.)-এর কুরবানীর ঘটনাকে চিরস্মরণীয় করে রাখার জন্য ১০, ১১ ও ১২ জিলহজ্বকে ঈদুল আযহা বা কুরবানীর ঈদ উৎযাপন করা হয়। একই সময়ে হজ্ব পালন করা হয়।

ঈদুল আযহা

আজকের মূল আলোচ্য বিষয় ঈদুল আযহা। ঈদুল আযহা ও হজ্ব এ দু'টি বিষয় একটি ঘটনাকে সামনে রেখেই চালু হয়েছে।

ঈদুল আযহা ও কুরবানীর অর্থ

মুসলমানদের উৎসবসমূহের মধ্যে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হলো ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা। আরবী ঈদ শব্দের অর্থ ফিরে আসা, বারবার আসা। এর আরেক অর্থ আনন্দ, ফূর্তি, খুশী ইত্যাদি। আর আযহা এর শাব্দিক অর্থ রক্ত প্রবাহিত করা। এর আরেক অর্থ ত্যাগ তিতিক্ষা। ঈদুল আযহাকে কুরবানীর ঈদও বলা হয়। কুরবানী আরবী শব্দ। এর অর্থ নিকটবর্তী হওয়া, নৈকট্য লাভ করা। সবগুলো শব্দের এক সাথে অর্থ করলে দাঁড়ায়- প্রাণপ্রিয় বস্তুকে আল্লাহর কাছে উৎসর্গ করার লক্ষ্যে রক্ত প্রবাহিত করে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সান্নিধ্য লাভের প্রত্যাশায় যে দিবস বারবার আমাদের মাঝে খুশি ও আনন্দ দিতে ফিরে আসে তাই ঈদুল আযহা। যে অবিস্মরণীয় ঘটনাকে উপলক্ষ করে ঈদুল আযহা প্রতি বছর উদযাপিত হয় তার সূত্রপাত ঘটেছিল প্রায় তিন হাজার আটশত বছর বা প্রায় চার হাজার বছর পূর্বে। ঈদুল আযহার মৌলিক শিক্ষা হলো তাকওয়া বা খোদাভীতি ও খোদাপ্রীতি। শুধু পশু কুরবানী নয় বরং নিজেদের মধ্যে যত পশুত্ব, পাশবিকতা ও কুপ্রবৃত্তি আছে সেগুলোকে কতল করে এমন সংকল্প করা যে প্রয়োজনে প্রাণাধিক প্রিয়বস্তুকে আল্লাহর রাহে কুরবানী করতে সদা প্রস্তুত থাকবে। সূরা আল হজ্বের ৩৭ নং আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, ‘এ কুরবানীর রক্ত ও গোশত আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না বরং তার কাছে পৌঁছে তোমাদের মনের অবস্খা বা তাকওয়া।' চির বিদ্রোহী কবি নজরুল কত সুন্দর কথা বলেছেন :

এলো স্মরণ করিয়ে দিতে ঈদুজ্জোহার এই সে চাঁদ

তোরা ভোগের পাত্র ফেলে ছুঁড়ে ত্যাগের তরে হৃদয় বাঁধ।

সকল যুগেই কুরবানীর বিধান ছিল

ইসলামের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, সকল যুগে সকল উম্মতের উপর কুরবানীর বিধান ছিল। সূরা আল হজ্বের ৩৪নং আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন, ‘আর আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য কুরবানীর বিশেষ রীতি-পদ্ধতি নির্ধারণ করে দিয়েছি, যেনো তারা আমার দেয়া পশুর উপর আল্লাহর নাম নিতে পারে। (অহফ ভড়ৎ বাবৎু হধ:রড়হ বি যধাব ধঢ়ঢ়ড়রহ:বফ ৎবষরমরড়ঁং পবৎবসড়হরবং, :যধ: :যবু সধু সবহ:রড়হ :যব হধসব ড়ভ অষষধয ড়াবৎ :যব নবধং: ড়ভ পধ::ষব :যধ: ঐব যধং মরাবহ :যবস ভড়ৎ ভড়ড়ফ). তবে সকল সময় সকলের উপর এক রকম বিধান ছিল না। আদম (আ.)-এর যুগে কবুলকৃত কুরবানীর পশুকে উপর থেকে একটি আগুন এসে পুড়ে ফেলতো। আর কবুল না হলে যেভাবে যবেহ করেছে সেভাবেই পড়ে থাকতো। ইব্রাহীম (আ.) ও তার পরবর্তীতে কুরবানীর পশুকে যবেহ করে কাবার সামনে অথবা উপসনালয়ের সামনে রেখে দিত।

বর্ণিত আছে, হযরত নূহ (আ.) জন্তু যবাই করার জন্য একটি কুরবানীগাহ নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে তিনি জবাইকৃত জন্তু আগুন দ্বারা জ্বালিয়ে দিতেন। আরব দেশেও প্রাচীনকালে আতিয়া ও ফারা নামক দু' শ্রেণীর বলি উৎসর্গ বা এক বিশেষ ধরনের কুরবানী প্রথা চালু ছিল। রজব মাসে অনুষ্ঠিত হতো বলে এ কুরবানীকে রাজাবিয়াহও বলা হতো। যে দেবতার নামে এই বলিদান অনুষ্ঠিত হতো বলিদানের পর নিহত পশুর রক্ত তার উপর নিক্ষেপ বা লেপন করা হতো। (বোখারী ও মুসলিম)

হিন্দু ধর্মগ্রন্থে রয়েছে, ‘অমাবস্যাতে গো বৎস বলি দিয়ে ব্রত পালন করবে (ঋগেðদ)। আরো রয়েছে- হিন্দু ধর্মে রণ্ডিদেব নামে এক মহান মনীষী ছিলেন। তিনি একবার এক বিরাট যজ্ঞানুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। উক্ত অনুষ্ঠানে আগত ও অভ্যাগতদের সংখ্যা খাবার যোগাড়ের তুলনায় এত বেশি হয়েছিল যে, তিনি বিপাকে পড়েছিলেন। তাই তিনি তাদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, ‘অভ্যাগতবৃন্দ, আপনারা প্রত্যেকে অল্প পরিমাণে গো মাংস ভক্ষণ করুন। কেননা মাত্র সাঁইত্রিশ হাজার গরু জবাই করা হয়েছে (যর্জুবেদ)।

সর্বপ্রথম কুরবানী হাবিল ও কাবিলের কুরবানী

পৃথিবীর ইতিহাস যত পুরাতন কুরবানীর ইতিহাসও ততো পুরাতন। আদি পিতা আদম (আ.)-এর দু' সন্তান হাবিল ও কাবিলের কুরবানীই সর্বপ্রথম কুরবানী। সূরা মায়িদার ২৭ নং আয়াতে আল্লাহ বলেছেন- ‘তাদেরকে আদমের দু' পুত্রের ঘটনাটি ঠিকভাবে শুনিয়ে দাও। তা হচ্ছে এই যে, তারা দু'জনই কুরবানী করলো। একজনের কুরবানী কবুল করা হলো আরেকজনের কুরবানী কবুল করা হলো না। সে বলল, আমি তোমাকে হত্যা করবো। উত্তরে সে বলল, আল্লাহতো মুত্তাকীদের কুরবানীই কবুল করেন।'

ঈদুল আযহা ইব্রাহীম (আ.)-এর সুন্নত

জিলহজ্ব মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখে কুরবানী করা হয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সকল নবীকে পরীক্ষা করেছেন। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পরে ইব্রাহীম (আ.)কেই সবচেয়ে বেশি পরীক্ষা করেছিলেন। হযরত ইব্রাহীম (আ.)-এর প্রাথমিক জীবনে কোন সন্তান হচ্ছিল না। বর্ণনায় পাওয়া যায়, হযরত ইব্রাহীম (আ.) ১৬৫ বছর বেঁচে ছিলেন। তার বয়স যখন পঁচাশি তিনি আল্লাহর কাছে পুত্রের জন্য দোয়া করেন এবং আল্লাহ তার দোয়া কবুল করেন। ৮৭ বছর বয়সে আল্লাহ তাকে একটি পুত্র সন্তান দান করেন। মা হাজেরার গর্ভে ইসমাঈল (আ.) জন্মগ্রহণ করেন। ইসমাঈলের বয়স এগার মতান্তরে তের মতান্তরে চৌদ্দ বা সতের বছর হলে তাকে কুরবানীর নির্দেশ দেয়া হয়। একে তো দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সন্তান লাভ। তারপর কৈশরে পরিণত হওয়া। ঠিক এ মুহূর্তে স্বীয় প্রাণাধিক প্রিয়পুত্রকে কুরবানীর নির্দেশ নি:সন্দেহে ইব্রাহীম (আ.)-এর জন্য এটা ছিল বিরাট ও বিশাল পরীক্ষা। ইব্রাহীম (আ.) নির্দ্বিধায় এ আদেশ মেনে নেন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য স্বীয় পুত্রকে কুরবানী করার মানসে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন। অত:পর বৃদ্ধ পিতা স্বীয় পুত্রকে উপুর করে শুইয়ে কুরবানী করার জন্য প্রস্তুত হয়ে যান। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পুত্র ছুরির নিচে ঘাড় পেতে দিয়েছে। পিতাপুত্রের এ মর্মস্পর্শী দৃশ্য অবলোকনে আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠে। সূরা আছ-ছফফাত এর ১০০ থেকে ১১১ পর্যন্ত এর ঘটনাকে চমৎকারভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘সে বলল, হে আমার পরওয়ারদেগার, আমাকে একটি পুত্র সন্তান দান কর। সুতরাং আমি তার ডাকে সহনশীল পুত্রের সুসংবাদ দিলাম। অত:পর সে যখন পিতার সাথে চলাফেরার বয়সে উপনীত হলো, তখন ইব্রাহীম তাকে বলল, বৎস, আমি স্বপ্নে দেখি যে, তোমাকে যবেহ করছি। এখন তোমার অভিমত কি? সে বলল, আপনি যা আদিষ্ট হয়েছেন তা করুন, আমাকে সবরকারী পাবেন। যখন পিতা-পুত্র উভয়েই আনুগত্য প্রকাশ করলো এবং ইব্রাহীম তাকে যবেহ করার জন্য শায়িত করলো, তখন আমি তাকে ডেকে বললাম, হে ইব্রাহীম, তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করে দেখালে। আমি এভাবে সৎকর্মশীলদের প্রতিদান দিয়ে থাকি। নিশ্চয়ই এটা এক সুস্পষ্ট পরীক্ষা। আমি তার পরিবর্তে যবেহ করার জন্য এক মহান জন্তু (ফিদিয়া) প্রদান করলাম। আর ভবিষ্যতের জন্য ইব্রাহীমের এ সুন্নাত স্মরণীয় করে রাখলাম। অর্থাৎ যে ফিদিয়া বা বিনিময় দ্বারা ইসমাঈল (আ.)কে কুরবানী করা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে কিয়ামত পর্যন্ত সেই ফিদিয়ার কুরবানী চলবে। এভাবে আত্মোৎসর্গের নিদর্শনস্বরূপ কিয়ামত পর্যন্ত মুসলমানেরা আল্লাহর নামে শুধু কুরবানী করবে।

রাসূল (সা.)-এর সময়ে কুরবানীর প্রবর্তন

জাহেলী সমাজের বাতিল আনন্দ-উৎসব ও সংস্কৃতি পরিহার করে ইসলাম তার আদর্শের ভিত্তিতে দুই ঈদ প্রবর্তন করেছে। হযরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, নবী করীম (সা.) মদীনায় আগমনের পর দেখলেন মদীনাবাসীদের দু'টি উৎসবের দিন রয়েছে যাতে তারা খেলাধুলা করে। তিনি তাদের জিজ্ঞাস করলেন, এ দু'টি দিন কি? তারা বলল, জাহেলী যুগে আমরা এই দিনে আনন্দ, উৎসব ও খেলাধুলা করতাম। রাসূল (সা.) বললেন, আল্লাহ তায়ালা সেই দু'দিনের পরিবর্তে সেগুলো অপেক্ষা উত্তম দু'টি দিন তোমাদের দান করেছেন। একটি হলো ঈদুল আযহা বা কুরবানীর ঈদ আর অপরটি হল ঈদুল ফিতরের দিন (আবু দাউদ)। সেই থেকে মুসলমানদের বার্ষিক উৎসবের দিন হিসেবে এই দুইদিন ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে পালিত হয়ে আসছে। মক্কায় ওকাব মেলার সময়ও মক্কাবাসী আনন্দ উৎসব করতো এবং পশু কুরবানী করে কাবার সামনে রেখে দিতো।

পবিত্র কুরআনে নবী করীম (সা.)কে নামাযের মত কুরবানী করারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘তোমার রবের জন্য নামায পড়ো এবং কুরবানী করো' (সূরা কাউসার-২)। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) হতে বর্ণিত ‘নবী (সা.) মদীনায় দশ বছর অবস্খান করেন। এ সময় তিনি প্রতি বছর কুরবানী করতেন।' অপর স্খানে বলা হয়েছে, ‘সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি কুরবানী করে না সে যেন আমাদের ঈদগাহের দিকে না আসে।' এ থেকে বোঝা যায় নবী করীম (সা.)কে কুরবানীর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি কুরবানী করেছেন এবং উম্মতকে কুরবানীর নির্দেশ দিয়েছেন।

ঈদের দিনের সুন্নাত কাজ

হাদিসের মাধ্যমে যে সকল করণীয় পাওয়া যায় সেগুলো হলো :

১. খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠা ২. মিসওয়াক করা ৩. সাধ্যমত নতুন ও পরিচ্ছন্ন কাপড় পরা ৪. ফজরের নামাযের পর ঈদের নামাযের জন্য গোসল করা ৫. সুগি ব্যবহার করা ৬. সকাল সকাল ঈদগাহে যাওয়া ৭. ঈদুল আযহার দিন কিছু না খেয়ে ঈদগাহে যাওয়া এবং কুরবানীর পশুর কলিজা বা গোস্ত দিয়ে খাওয়া আরম্ভ করা ৮. পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া ও আসা ৯. ঈদগাহে একপথে যাওয়া অন্য পথে আসা ১০. ঈদের নামায ঈদগাহে পরা। নবী (সা.) কেবলমাত্র বৃষ্টির দিন ঈদের নামায মসজিদে পড়েছেন ১১. ঈদগাহে যাবার সময় তাকবীর বলা : আল্লাহু আকবর আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ ১২. ঈদুল আযহায় উচ্চস্বরে তাকবীর বলা ১৩. ঈদুল আযহার চাঁদ দেখার পর কুরবানীর পূর্বে চুল-নখ না কাটা ১৪. ঈদের নামাযের পর খুতবা দেয়া সুন্নাত আর শোনা ওয়াজিব।

কুরবানী কার উপর ওয়াজিব

হজব্রত পালনকারীদের জন্য কুরবানী ওয়াজিব। এ ছাড়া অন্যান্য মুসলমানের উপর কুরবানী ওয়াজিব হবার শর্ত দু'টি। এক. তাকে সাহেবে নিসাব হতে হবে। অর্থাৎ যার উপর সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব। তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব। দ্বিতীয় শর্ত হচ্ছে, তাকে মুকীম হতে হবে। মুসাফিরের উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়। মুসাফির যদি ১২ তারিখের সূর্যাস্তের পূর্বে মুকীম হন তবে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে।

কুরবানীর পশু

উট, দুম্বা, ভেড়া, ছাগল, গরু ও মহিষ এই ছয় প্রকারের পশু ছাড়া অন্য কোন পশু দ্বারা কুরবানী করলে কুরবানী হবে না। কুরবানীর জন্য উট কমপক্ষে পাঁচ বছরের হতে হবে। গরু-মহিষ অন্তত দুই বছর আর দুম্বা, ছাগল ও ভেড়া অন্তত এক বছরের হতে হবে। কুরবানীর পশু মোটাতাজা এবং দেখতে মাননসই হওয়া দরকার। দুর্বল, জীর্ণশীর্ণ, এক পা খোঁড়া, গোড়া থেকে শিং ভাংগা, কান ও লেজ অনেকটা কাটা ইত্যাদি ত্রুটিযুক্ত পশু দ্বারা কুরবানী হয় না।

কুরবানীর অংশীদার

উট, মহিষ ও গরুর মধ্যে ঊর্ধ্বপক্ষে সাতজন পর্যন্ত অংশীদার হতে পারবে। এরকম হলেও ক্ষতি নেই। ভেড়া, দুম্বা ও ছাগল এক জনের পক্ষ থেকে একটাই কুরবানী করতে হবে। একই পশুকে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কুরবানী করার জন্য দু'টি শর্ত রয়েছে।

১. সকল অংশীদারেরই কুরবানী বা আকীকার নিয়ত থাকতে হবে। কোন অংশীদারের কেবল গোশত খাওয়া বা অন্য কোন নিয়ত থাকলে সকলের কুরবানীই বরবাদ হয়ে যাবে।

২. ভাগের প্রতিটি অংশ অবশ্যই সমান হতে হবে।

কুরবানীর তারিখ ও সময়

যিলহজ্ব মাসের ১০ থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত কুরবানীর সময়। এ ৩ দিনের যে কোন দিন কুরবানী করা যাবে। কুরবানী করতে হবে ঈদের সালাত আদায় করার পর।

মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করা

সচ্ছল অবস্খায় লোকেরা নিজের ওয়াজিব কুরবানী ছাড়াও নিজ মুরব্বী ও উস্তাদের পক্ষ থেকে কুরবানী করতে পারেন। যেহেতু কুরবানীতে অফুরন্ত সওয়াব রয়েছে, তা যতো বেশি করে করা যায় ততোই সওয়াব লাভ করা যাবে। নবী করীম (সা.) এবং উম্মুল মুমেনিনগণের পক্ষ থেকেও কুরবানী করা যায়।

কুরবানীর পশু যবেহ করার নিয়ম

পশুকে বামবাহুর উপর শুইয়ে কেবলামুখী করে যবেহ করতে হবে। কেবল উটের বেলায় এনিয়ম প্রযোজ্য নয়। নিজের কুরবানী নিজেই করা উত্তম। যবেহ করায় অক্ষম ব্যক্তি এবং নারীরা নিজ নিজ কুরবানী অবলোকন করবে। ভাগের পশুকে সকল অংশীদার একত্রে ধরে শুইয়ে যবেহ করবেন।

কুরবানীর গোশত

সূরা আল হজ্বের ৩৬নং আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কুরবানীর গোশত কি করতে হবে সে সম্পর্কে বলেন, ‘কুরবানীর পর যখন পশু নির্জীব হয়ে যায়, তখন তা থেকে তোমরা নিজেরা খাও এবং ওই সব লোকদের খেতে দাও, যারা অল্পে তুষ্ট এবং যারা কারো কাছে হাত পাতে না। আর ওইসব লোকদেরও দাও যারা নিজেদের প্রয়োজন পেশ করে।' কুরবানীর গোশত খাওয়া যায়, আত্মীয়-স্বজন ও গরীব-দু:খীদের মধ্যে বন্টনও করা যায়। এক-তৃতীয়াংশ ফকির-মিসকিনদের মধ্যে বন্টন করে বাকিটা নিজেরা, আত্মীয়-স্বজন ও বু-বাব মিলে খাওয়া যায়। কিন্তু এটা কোন ধরাবাধা নিয়ম নয়। কুরবানীর গোশত অমুসলিমদেরও দেয়া যায়। কিন্তু মজুরী বাবদ দেয়া যাবে না।

কুরবানীর চামড়া

চামড়া বিক্রি করে মূল্য এতিম, অসহায় কিংবা পুনর্বাসন প্রকল্পে দিয়ে দিতে হবে। নিজে চামড়ার টাকা ব্যবহার করতে পারবে না। তবে জায়নামায বানিয়ে চামড়াকে ব্যবহার করতে পারবে।

তাকবীরে তাশরীকের হুকুম

৯ যিলহজ্ব ফজর থেকে ১৩ যিলহজ্ব আছর পর্যন্ত ২৩ ওয়াক্তে ফরজ নামাযের পর এই তাকবীর পড়বে। ভুলে নামাযের সময় না পড়লে অন্য সময় পড়া ওয়াজিব পালন হয়ে যাবে।

তাকবীরে তাশরীকের ইতিহাস

ইসমাঈল (আ.)কে যখন পিতা হযরত ইব্রাহীম (আ.) কুরবানীর উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিলেন তখন ইসমাঈল (আ.)কে শয়তান ধোকা দেয়ার উদ্দেশ্যে বলেছিল, তুমি জান তোমার বাবা তোমাকে হত্যা করার জন্য নিয়ে যাচ্ছে। তিনি শয়তানকে চিনতে পেরে বললেন, আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর। উপুড় করে যবেহ করার মুহূর্তে সকল ফেরেশতা চিৎকার করে বলতে থাকে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবর। ইসমাঈলের পরিবর্তে পশু করবানী হওয়াতে হযরত ইব্রাহীম (আ.) শোকরিয়া আদায় করে বলেন, আল্লাহু আকবর ওয়া লিল্লাহিল হামদ। আর সবগুলো সমনðয় হলো তাকবীরে তাশরীক।

জমজমের পানি

ঈদুল আযহার কুরবানীর ইতিহাস মুসলিম মিল্লাতের পিতা হযরত ইব্রাহীম (আ.) ও পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ.)-এর স্মৃতিবিজড়িত ইতিহাস। আর একই সময়ে যে হজ্বব্রত পালন করা হয় তা মা হযরত হাজেরা (আ.) ও পুত্র ইসমাঈল (আ.)-এর সাথে সম্পৃক্ত ঘটনা। প্রাণপ্রিয় পুত্রের প্রাণ বাঁচাতে পানির প্রত্যাশায় সাফা-মারওয়ায় দৌড়াদৌড়ি করে অবশেষে না পেয়ে নিরাশ হয়ে ফিরে এসে ইসমাঈলের পদাঘাতে কুদরতিভাবে পদতলে যে সুমিষ্টি পানির ফুয়ারা তৈরি হয় তাই পরবর্তীতে জমজম কূপে পরিণত হয়। কোটি কোটি বনী আদম প্রতি বছর এ কূপের পানি পান করে, কন্টেইনার ভরে নিয়ে যায় পৃথিবীর প্রত্যন্ত অঞ্চলে। নিজের আহাল পরিবারের জন্য।

জমজমের পানি জীবাণুমুক্ত। কোন জীবাণু পড়লে তাতে বাঁচে না। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, দুনিয়ার মধ্যে সর্বোত্তম পানি হচ্ছে জমজমের পানি। এটা সকল রোগের ওষুধ। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, সাফা ও মারওয়ার দিক থেকে আসা দু'টি পানি পথ জমজম কূপের ঠিক গভীরে এসে একটি পাথরের গায়ে মিশেছে। যাতে লেখা আছে বিইজনিল্লাহ অর্থাৎ ‘আল্লাহর নির্দেশে'। আর তাই হাজার বছর ধরে জমজম পানি দিয়ে যাচ্ছে অনবরত, ফুরাচ্ছেনা, ফুরাবেনা কোনদিন।

কুরবানী আজ প্রথাগত ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। কে কত বড় আর তার দামী পশু কিনলো আর যবেহ করলো এটাই আজ দেখার বিষয় (!) হয়ে দাঁড়িয়েছে। পশু কুরবানী করা হবে আর অমনিতে বস্তায় বস্তায় সওয়াব দিয়ে দেয়া হবে তা কুরবানীর উদ্দেশ্য নয়। বরং তাকওয়া বা মনের অবস্খা বিবেচনা করে সওয়াবের অধিকারী হবে। নিজের পশুত্বকে কতল করতে হবে। দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজে নবীদের মতো কঠোর পরিশ্রমী হতে হবে। যেহেতু মুহাম্মদ (সা.)-এর পর কোন নবী আসবেন না এবং কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হলে পিতা ইব্রাহীম (আ.)-এর মত উত্তীর্ণ হতে হবে। হযরত ইব্রাহীম (আ.), হযরত ইসমাঈল (আ.) এবং মা হাজেরা (রা.) অর্থাৎ পিতা-মাতা ও ছেলের সমনðয়ে এমন এক পরিবার গড়ে তুলতে হবে যা শয়তান ও তার অনুসারীদের সকল ষড়যন্ত্রের মোকাবিলায় বজ্রকঠোর হবে, শয়তানকে পরাজয় বরণে বাধ্য করা হবে। চিরবিদ্রোহী কবি নজরুলের ভাষায় :

ডুবে ইসলাম আসে আঁধার

ইব্রাহীমের মতো আবার

জবী হুল্লাহ ছেলেরা হোক

যাক সব কিছু- সত্য রোক

মা হাজেরা হোক মায়েরা সব।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28880045 http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28880045 2008-12-08 12:35:02
ই-বুক কি বইয়ের প্রতিদ্বন্ধী নাকি প্রতিনিধি? মানব সভ্যতা সর্বদাই উন্নত প্রযুক্তির দিকে ধাবমান। মানুষের মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যমও তাই উন্নত থেকে উন্নতর হচ্ছে। আর তাতে আমাদের মনের ভাব প্রকাশ সহজ, শৌখিন এবং আধুনিক হয়ে উঠেছে

এক সময় কাদামাটির বুকে পাথরের আঁচড় কেটে মনের ভাব প্রকাশ করতো মানুষ। তারপর অনেক চেষ্টা ও সাধনায় উদ্ভাবিত হয় কাগজ। একইভাবে মুদ্রণযন্ত্রও আবিষ্কৃত হয়। যেগুলো মানব সভ্যতায় এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন ঘটিয়েছিল বলেই ধরা হতো। কাগজের বুকে মুদ্রিত অক্ষর সাজিয়ে মানুষ তৈরি করলো বই। অক্ষর জ্ঞানসম্পন্ন মানুষ বইয়ের জগতে খুঁজে ফেরে নিজের পরিচয়।
কিন্তু কম্পিউটারের জন্মের পর অনেকের মনেই বইয়ের টিকে থাকা নিয়ে নানারকম প্রশ্ন দেখা দেয়। অনেকেই আবার মনে করেন কম্পিউটার আবিষ্কারের ফলে বইয়ের সাথে একটা প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হয়েছে। এ প্রতিযোগিতায় কম্পিউটার একধাপ এগিয়ে থাকলেও সবাই স্ব স্ব অবস্খানে রয়েছে। অনেক জায়গা থেকেই মুদ্রিত সামগ্রীকে হটিয়ে দিয়েছে কম্পিউটার। এরপর ইন্টারনেটের আবির্ভাবের ফলে কম্পিউটারের ক্ষমতা বেড়েছে এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু সেটি বই বা কাগজকে হটিয়ে পুরোপুরি আমাদের জীবনের দখল নিয়েছে তা বলা যাবে না। বরং কম্পিউটার প্রযুুক্তির ব্যাপক প্রাধান্যের এই সময়েও বইয়ের বিক্রি বা প্রচলন কোনটাই কিন্তু কমেনি।
বই এবং কম্পিউটারের মধ্যকার যুদ্ধে উভয়েই সমান তালে লড়লেও বইকে রদ করার জন্য এক সময় এলো ই-বুক বা ইলেকট্রনিক বই। এটি এক ধরনের কম্পিউটিং ডিভাইস সন্দেহ নেই। কিন্তু এটি একই সঙ্গে দেখতে শুনতে বইয়ের মতও। বইয়ের মত আকার, তার বুকে কালো কালো অক্ষরগুলো সাজানো। তবে কিনা সে অক্ষর দেখা যাচ্ছে কম্পিউটারের মত দেখতে একটা স্ক্রিনে। তারপরও কেন যেন জমে উঠছে না ই-বুকের বাজার। এই অবস্খায় ই-বুক নিয়ে নতুন উদ্যোগে এগিয়ে এলো ই-কমার্সের ভুবনে সবচেয়ে নামকরা কোম্পানিগুলোর একটি ‘আমাজন' জেফ বেজোস-এর হিসেবী মস্তিষ্কের নতুন অবদান ‘কিন্ডল' নামের নতুন এই ই-বুক।
২০০৭ সালের ১৯ নবেম্বর আমাজন-এর উদ্যোগে বাজারে ছাড়া হয় নতুন ই-বুক কিন্ডল। এর আগে সনি কোম্পানি ই-বুক বাজারে ছেড়েছিল। কিন্তু তাদের সেই ই-বুক পাঠক ও ব্যবহারকারীদের মধ্যে খুব একটা সাড়া জাগায়নি।


এদিক দিয়ে বলা যায় আমাজন-এর ভাগ্য অত্যন্ত ভাল। গত দেড় বছরে কিন্ড্ল অনেক পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। প্রথম দফায় আমাজন যতলো কিন্ডল বাজারে ছেড়েছিল মুহূর্তের মধ্যেই সব বিক্রি হয়ে যায়। এত অল্প সময়ের মধ্যে এই ই-বুকটির এমন সাফল্য নতুন করে পুরোনো সেই প্রশ্নটিকে সামনে নিয়ে আসছে : তবে কি এখানেই সাঙ্গ হবে বইয়ের যাত্রা? প্রশ্নটি খুবই যৌক্তিক কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু আমরা যদি কানাডা, নিউইয়র্কে মত দেশগুলোর দিকে তাকাই যেখানে ই-বুকের সয়লাব, তবে দেখতে পাব ই-বুক ‘কিন্ডল' বইয়ের বাজারে এক বিন্দুও প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়নি। বরং সারা বিশ্বে বইয়ের ব্যবসা কেবলই বেড়ে চলেছে। আসলেই বই বনাম ই-বুকের যুদ্ধে এখন পর্যন্ত পরিষ্কার ব্যবধানেই এগিয়ে রয়েছে বই-ই। তারপরও কে জানে এর শেষ কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।

ইলেকট্রনিক্স-বুক (ই-বুক) কিন্ডল-এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আমাজন। তারা চেয়েছে কিন্ডলকে যতটা সম্ভব বইয়ের আকারে গড়ে তুলতে। কিন্ডল-এর মুখপাত্র এন্ড্রু হার্ডেনার বলেন, ‘আপনি যখই বই পড়েন তখন কিন্তু ভুলে যান যে, এটা কাগজ, আঠা, সুতা, কার্ডবোর্ড ইত্যাদি নানা রকম জিনিসপত্র দিয়ে তৈরি করা একটা বাক্স বা পাত্র। কিন্তু আপনি সরাসরি হারিয়ে যান বইয়ের রাজ্যে। এটির মাধ্যমে লেখক আপনার কাছে কোন বার্তাটি পৌঁছে দিতে চাইছে সেটি জানার জন্যই ব্যস্ত হয়ে পড়েন আপনি। কিন্ডল-এর ক্ষেত্রেও আমরা ঠিক তাই করতে চাইছি। বইয়ের চেহারা বা চরিত্রটিকেই ফুটিয়ে তুলতে চাইছি কিন্ডল-এ। যাতে করে আপনার মনে না হয় যে, ‘আপনি একটি কম্পিউটার বা ইলেকট্রনিক যন্ত্র চোখের সামনে ধরে আছেন।' তারপরও যেহেতু এটি আসলেই একটি ইলেকট্রিক ডিভাইস, সেহেতু এতে এমন সব সুবিধা পাওয়া যাবে যেটি সাধারণ একটি বই আপনাকে দিতে পারবে না। যেমন ধরুন, এটির ফন্ট-এর আকার আপনি বাড়াতে পারবেন আবার কমাতেও পারবেন। আবার এতে থাকবে একটি বিল্ট-ইন-ডিকশনারি, ফলে বইয়ের কোন শব্দের মানে না বুঝলে আপনি সঙ্গে সঙ্গে এর মানে জেনে নিতে পারবেন। একই সঙ্গে এতে থাকছে ইন্টারনেট সংযোগ নেয়ার সুবিধা এবং একটি টেক্সট অনলি ওয়েব ব্রাউজার। যার ফলে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব ব্রাউজও করতে পারবেন। যেহেতু টেক্সট অনলি, সেহেতু এতে ছবি দেখতে পারবেন না, ওয়েব থেকে কেবল টেক্সটই পড়তে পারবেন।

ই-বুক কিন্ডল-এর ইন্টারনাল মেমোরিতে ২০০-র অধিক ডিজিটাল বইকে ধারণ করে রাখা যায়। আমাজন-এর প্রোপাইটরি কিন্ডল ফরম্যাটে ইন্টারনেট থেকে বই ডাউনলোড করা যায়। এছাড়াও এতে এমপি থ্রি ফরম্যাটও সাপোর্ট করে। বই পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাকগ্রাউন্ডে এমপি থ্রি মিউজিক বাজানোর ব্যবস্খা রয়েছে।
ই-বুক কিন্ডল লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমে চলে। সাধারণভাবে একটি কিন্ডল-এ থাকে ৬৪ মেগাবাইট র‌্যাম, ২৫৬ মেগাবাইট ইন্টারনাল স্টোরেজ, এসডি এক্সপানশন þöট।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে কিন্ডলকে বিক্রি করা হয় না, কারণ এটির সাহায্যে বই ডাউনলোড করার জন্য আমাজন-এর চুক্তি আছে উইসপারনেট নামক একটি নেটওয়ার্ক সার্ভিস প্রোভাইডারের সঙ্গে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে উইসপারনেট-এর নেটওয়ার্ক না থাকায় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও এই মুহূর্তে আমেরিকার বাইরের ই-বুক পাঠকরা কিন্ডল ব্যবহার করতে পারবেন না। ভবিষ্যতে অবশ্য এ সুবিধাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে এ মুহূর্তে কিন্ডল-এর বড় কয়েকটি সমস্যাও আছে যা কিন্ডল-এর সারা বিশ্বে সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে। এর মধ্যে প্রধান বাধা হচ্ছে কিন্ডল-এর সঙ্গে মার্কিন কোম্পানি স্প্রিন্ট-এর অংশীদারিত্ব চুক্তি। যার কারণে এটি এ মুহূর্তে কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহার করা যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, যেহেতু এটিকে মূলত টেক্সট বা লেখা প্রদর্শনের উপরই অধিক জোর দেয়া হয়েছে সেহেতু ওয়েবের রঙিন বিভিন্ন ছবি বা লেখা এটাতে দেখা যাচ্ছে না। আর তৃতীয়ত, এই মুহূর্তে সারা বিশ্বে যত ই-বুক আছে তার অত্যন্ত ক্ষুদ্র একটি অংশই বেকল কিন্ডল-এর মাধ্যমে পড়া যাচ্ছে।
আমাজন যদিও বারবার জোর দিয়ে বলছে যে, তাদের ই-লাইব্রেরিতে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার ই-বুক আছে, তারপরও অনেক পাঠকই অভিযোগ করছেন, তারা যেসব ই-বুক পড়তে চাইছেন তার অনেক কিছুই নাকি আমাজন-এর সংগ্রহে নেই। অবশ্য তারপরও দিনদিনই আরও নতুন ই-বুক আমাজন-এর সংগ্রহে যুক্ত হচ্ছে। সব মিলিয়ে আমাজন-এর তৈরি কিন্ডল-এর ভবিষ্যৎকে বেশ উজ্জ্বলই মনে হচ্ছে।
বই এবং যন্ত্রের যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত কে জয়ী হয় তা বলা কঠিন হলেও ই-বুক যে অত সহজে বইয়ের কাছে হার মানবে না তা বলা যায়। যেহেতু সনির মতো বৃহৎ কোম্পানিরও এ ব্যাপারে আগ্রহ রয়েছে; তবে বোঝাই যায় যে, ই-বুক-এর ব্যাপকতা ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাবে। আমরাও চাই ই-বুক ছড়িয়ে পড়ুক সারা বিশ্বময়। তবে বইয়ের প্রতিদ্বন্দবী হিসেবে নয়, বইয়ের প্রতিনিধি হিসেবে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28876763 http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28876763 2008-12-01 15:00:10
জাতীয় কবির মাযার ভেঙে ফেলার চক্রান্ত রুখে দাঁড়াতে হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদ অঙ্গনে সমাহিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবর ভাঙ্গাকে নিয়ে দেশব্যাপী একটি অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে মনে হয়। জানা গেছে যে, তার সমাধিটি ভেঙ্গে সেখানে আরো কিছু ব্যক্তির কবরের সাথে তা একত্র করে তার নতুন নামকরণ করা হচ্ছে। সংস্কার ও পুনর্বিন্যাসের পর তা আর জাতীয় কবির মাযার হিসেবে পরিচিত হবে না, অন্যান্য কিছু ব্যক্তির নাম সংযোজন করে তার নতুন পরিচয় দেয়া হবে। দেশের বরেণ্য কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীদের অনেকেই সংস্কার ও পুনর্বিন্যাসের নামে জাতীয় কবির কবর ভাঙ্গার নিন্দা করেছেন এবং অবিলম্বে এই তৎপরতা ব করার আহ্বান জানিয়েছেন। আমরাও তাদের সাথে একমত এবং তার মাযার ভাঙ্গা ও অন্যান্য ব্যক্তিদের সাথে তাকে একই মর্যাদায় দেখার সরকারি প্রবণতাকে জাতীয় কবির অবমাননা বলে মনে করি।

কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় কবি। তিনি একজন ক্ষণজন্মা পুরুষ, স্বাধীনতার নকীব, অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ, অশান্ত বিদ্রোহী একজন কবি যার দৃষ্টান্ত বিশ্ব সাহিত্যে বিরল। তিনি আমাদের ঐতিহ্যের কবি, ইসলামী পুনর্জাগরণ তার কবিতার সুর মূর্ছনা এবং আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। তার কবিতার সর্বজনীনতা এবং গানের ব্যপ্তি ও গ্রহণযোগ্যতা অনেক ক্ষেত্রেই বিশ্ব কবিকে ডিঙ্গিয়ে যেতে দেখা গেছে। প্রতিভা বিকাশের হেমন্তকালেই তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হন এবং বসন্তে পা রাখতেই এই ষড়যন্ত্র তাকে শুধু কণ্ঠরুদ্ধ করেনি তাকে অচলও করে দেয়। তথাপিও তার কবিতা, গল্প, উপন্যাস ও গান শুধু বাংলা ভাষাভাষীদের নয় বিশ্ববাসীকেও উদ্বুদ্ধ করে। এ প্রেক্ষিতে তার মর্যাদা আমাদের কাছে অনেক উঁচু।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদ অঙ্গনে এই মহান কবিকে সমাহিত করা এবং সেখানে তার মাযার তৈরির পেছনে তার মর্যাদা যেমন কাজ করেছে তেমনি তার একটি আকুতিও কাজ করেছে। কবি তার একটি গানে মৃত্যুর পর তাকে মসজিদের পাশে কবর দেয়ার আকুতি জানিয়েছিলেন যাতে করে কবরে শায়িত অবস্থায় মুয়াজ্জিনের আযান শুনতে পান। শিক্ষার পবিত্র অঙ্গন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের পাশে তাকে সমাহিত করে বিশ্ববিদ্যালয়কেও সম্মানিত করা হয়েছিল বলে মনে করি। কবি হিসেবে তিনি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী এবং শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার। তার এই স্বাতন্ত্র্য ও শ্রেষ্ঠত্বকে অস্বীকার করা যায় না এবং করা হলে তা জাতীয় কবির প্রাপ্য সম্মান ও মর্যাদার পরিপন্থী হবে বলে আমাদের ধারণা।

আমরা জানি না সংস্কার ও পুনর্বিন্যাসের নামে জাতীয় কবিকে অন্যান্য ব্যক্তির সাথে এক করে দেখার ধারণার উৎস কোথায় এবং যারা তা করছেন তাদের পরিকল্পনার পেছনে কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে কিনা। জাতীয় কবি একজনই হন এবং তার মর্যাদা ও স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করা জাতিরই দায়িত্ব। কবির মাযারটি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় হলেও তার সংরক্ষণের দায়িত্ব থেকে সরকার অব্যাহতি পেতে পারেন না। বাংলাদেশে অনেক সমস্যা নিয়েই আমরা হিমশিম খাচ্ছি। জাতীয় কবির মাযার নিয়ে নতুন কোনও সমস্যার সৃষ্টি হোক আমরা তা চাই না। কাজেই মানুষ আবেগাপ্লুত হয়ে কোনও অঘটন ঘটানোর আগেই সরকার সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বাস্তবায়ন ব করে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার চেষ্টা করবেন বলে আমরা মনে করি।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28875832 http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28875832 2008-11-29 17:26:34
কেনো?
কেউ কি উত্তর দিবেন?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28861052 http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28861052 2008-10-28 14:40:31
আজ ভয়াল ২৮ অক্টোবর। আওয়ামী বর্বরতার দলিল (উৎসর্গ - প্রিয় ফজলে এলাহী মুজাহিদ)
২০০৬ সালের ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া রেডিও-টিভিতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। মূলত এ ভাষণ শেষ হওয়ার পরপরই দেশব্যাপী শুরু হয় লগি বৈঠার তাণ্ডব। বিভিন্ন স্খানে বিএনপি-জামায়াত অফিসসহ নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি যেমন চালানো হয় পৈশাচিক হামলা, তেমনি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয় অনেক অফিস, বাড়িঘর, পুরো দেশব্যাপী চলে তাণ্ডবতা। পরদিন চারদলীয় জোট সরকারের ৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে বায়তুল মোকাররমের উত্তর সড়কে পূর্ব নির্ধারিত সমাবেশ ছিলো বিকাল ৩টায়। সকাল থেকেই সভার মঞ্চ তৈরির কাজ চলছিল। হঠাৎ করেই বেলা ১১টার দিকে আওয়ামী লীগের লগি, বৈঠা ও অস্ত্রধারীরা জামায়াতের সমাবেশ স্খলে হামলা চালায়। তাদের পৈশাচিক হামলায় মারাত্মক আহত হয় জামায়াত ও শিবিরের অসংখ্য নেতা-কর্মী। তাদের এই আক্রমণ ছিল সুপরিকল্পিত ও ভয়াবহ। এক পর্যায়ে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পল্টনের বিভিন্ন গলিতে ঢুকে পড়ে এবং নিরীহ জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের বেধড়ক পেটাতে থাকে।

সেদিন পুরো পল্টন জুড়ে ছিল লগি, বৈঠা বাহিনীর তাণ্ডবলীলা। লগি-বৈঠা আর অস্ত্রধারীদের হাতে একের পর এক আহত হতে থাকে নিরস্ত্র জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা। তারা শিবির নেতা মুজাহিদুল ইসলামকে লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। লগি-বৈঠা দিয়ে একের পর এক আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করে জামায়াত কর্মী জসিম উদ্দিনকে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তারা তার লাশের উপর ওঠে নৃত্য-উল্লাস করতে থাকে।

সেদিন আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠা বাহিনী শুধু জামায়াতের সভা পণ্ড করার জন্যই পৈশাচিক হামলা চালায়নি তারা জামায়াতকেই নেতৃত্বশূন্য করতে চেয়েছিল। তারা চেয়েছিল জামায়াতের সভামঞ্চে আগুন ধরিয়ে দিতে। প্রথম দফা হামলার পর তারা ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে থাকে। আশপাশের ভবনের ছাদে উঠে বোমা ও বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্রসহ অবস্খান নেয়। সভার শেষ দিকে মাওলানা নিজামীর বক্তব্য শুরু হলে তারা তাদের পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী পুনরায় হামলা চালায়। একদিকে ভবনের ছাদ থেকে বৃষ্টির মতো বোমা বর্ষণ করতে থাকে। অপরদিকে পল্টন মোড় থেকে গুলী ছুঁড়তে ছুঁড়তে লগি বৈঠাধারীরা সমাবেশের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা তাদের ঠেকাবার চেষ্টা করে। এ সময় আওয়ামী অস্ত্রধারীদের ছোঁড়া গুলী মাথায় বিদ্ধ হয়ে রাজপথে লুটিয়ে পড়েন জামায়াত কর্মী হাবিবুর রহমান ও জুরাইনের জামায়াত কর্মী জসিম উদ্দিন। এ ঘটনায় জামায়াত ও শিবিরের ৬ জন নেতাকর্মী শহীদ ও শতাধিক আহত হন।

সেদিন জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে বায়তুল মোকাররমের উত্তর সড়কে বিকালে সমাবেশের জন্য সকাল থেকেই মঞ্চ তৈরির কাজ চলছিল। হঠাৎ করেই সকাল ১১টার দিকে আওয়ামী লীগ নেতা হাজী সেলিমের নেতৃত্বে লালবাগ থানা আওয়ামী লীগ লগি-বৈঠা হাতে বিশাল মিছিল নিয়ে পল্টন মোড়ে আসে। মিছিলকারীরা ধর ধর বলে জামায়াত ও শিবিরের কর্মীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ সময় জিপিও এলাকায় অবস্খানরত ১৪ দলের শত শত কর্মী লগি-বৈঠা নিয়ে তাদের সাথে যোগ দেয়। ১৪ দলের কর্মীরা প্রকাশ্যে গুলী বর্ষণ করে জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের ওপর। মঞ্চ গুড়িয়ে দিতে এগিয়ে যেতে থাকে বায়তুল মোকাররম উত্তর সড়কের দিকে। এ হামলায় পিস্তলসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আওয়ামী লীগ নেতা ডা. এইচবিএম ইকবাল ও তার বাহিনী নিয়ে যোগ দেয়। আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ডা. ইকবালকে হাত নেড়ে নির্দেশ দিতে দেখা যায়। তারপরই এক যুবককে ঘেরাও করে লগি-বৈঠা বাহিনী নির্মমভাবে পিটাতে থাকে। চতুর্দিক থেকে আঘাতে আঘাতে সে পড়ে যায় রাস্তার কিনারে। সাপের মতো লগি-বৈঠা দিয়ে তাকে পিটাতে থাকে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তার লাশের ওপর উঠে নারকীয় উল্লাস করে লগি-বৈঠা বাহিনী। বিকল্প পথে মঞ্চ দখলের জন্য বিজয়নগর, পল্টন মসজিদের গলি দিয়ে ঢুকে পড়ে লগি-বৈঠা বাহিনী। যেখানেই দাড়িটুপি দেখেছে ঝাঁপিয়ে পড়েছে তারা। শিবির নেতা মুজাহিদুল ইসলামকে তারা এ সময় পেয়ে যায় পল্টন মোড়ের কাছে। ঘিরে ধরে তাকে। লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে নরপিশাচরা। আঘাতে আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মুজাহিদ। তারপর ঐ পিশাচরা লগি দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নিজেদের জিঘাংসা চরিতার্থ করে।

আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের মুহুর্মুহু গুলীবর্ষণ, বোমা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের পর আহতদের সারি বেড়েই চলছিল। আহতদের জামায়াতের ঢাকা মহানগরী অফিসে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। গুরুতর আহতদের নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়। দফায় দফায় হামলা চলে দুপুর ২টা পর্যন্ত। এ সময় বারবার পুলিশকে অনুরোধ করা হলেও তারা রাস্তার পাশে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। অনেক পুলিশকে সেদিন বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর চত্বরের ভিতরে অবস্খান নিতে দেখা যায়।

দুপুর পৌনে ২টার দিকে ১৪ দলের লগি-বৈঠাধারী সন্ত্রাসীরা হামলা জোরদার করে পল্টন মোড় থেকে সিপিবির অফিসের সামনে চলে আসে। এ সময় তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া কয়েকজন জামায়াত ও শিবিরের নেতা-কর্মীদের ধরে নিয়ে যায়। পুলিশ কাছে দাঁড়িয়ে থাকলেও তারা কোন ভূমিকা পালন করেনি। একই সময় বিজয়নগর, পুরানা পল্টন মসজিদ গলিসহ আশপাশের এলাকা দিয়ে চোরাগোপ্তা হামলা চালাতে থাকে। দুপুর ২টার দিকে পুলিশ পল্টন মোড় ও বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর সড়কের কাছে অবস্খান নেয়।

বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বায়তুল মোকাররমের উত্তর সড়কে জামায়াতের সমাবেশ শুরু হয়। এ সময় পল্টন মোড়ের দিকে না হলেও বিজয়নগরসহ অন্যান্য এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে চোরাগোপ্তা হামলা চালাতে থাকে লগি-বৈঠা বাহিনী। বিকালে মাওলানা নিজামীর বক্তব্য শুরু হওয়ার ৪/৫ মিনিট পর ৪টা ৪৩ মিনিটে পল্টন মোড়ে নির্মাণাধীন র‌্যাংগস টাওয়ারের (বাসস ভবনের পূর্ব পাশের বিল্ডিং) ছাদ থেকে সমাবেশ লক্ষ্য করে ১০/১২টি বোমা নিক্ষেপ ও প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে দফায় দফায় গুলী ছুঁড়ে ১৪ দলের সন্ত্রাসীরা। আবার শুরু হয় ১৪ দলের আক্রমণ। সমাবেশ ভণ্ডুল করে দেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে তারা। মাগরিবের আযানের পর পরিস্খিতি কিছুটা শান্ত হয়ে আসে যখন বিডিআর পল্টন মোড়ে অবস্খান নেয়।

ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশের ভূমিকা ছিল রহস্যময়। পুলিশের উপস্খিতিতেই আওয়ামী লীগের আগ্নেয়াস্ত্র ও লগি-বৈঠাধারী সন্ত্রাসীরা জামায়াতের সমাবেশ স্খলে হামলা চালায়। এ সময় পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। অসহায় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের শত অনুরোধেও পুলিশ কোন ভূমিকা রাখেনি।

সেদিন জামায়াতে ইসলামী তাদের পূর্বনির্ধারিত সমাবেশ করে বিকালে। সমাবেশ শেষ হওয়ার পরও নারকীয় আক্রমণ চলতে থাকে অব্যাহতভাবে। একটা পর্যায়ে শত শত নেতাকর্মী অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। সন্ধ্যার পর আক্রমণের ভয়াবহতা বাড়ার আশংকায় শংকিত হয়ে ওঠেন তারা। এরপর জামায়াত নেতৃবৃন্দ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তখন তিনি ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগী হয়েই বিডিআরকে ঘটনাস্খলে আসার কথা বলেন। বিডিআর ঘটনাস্খলে আসার পরই পরিস্খিতি শান্ত হয়ে আসে।

২০০৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর পল্টন ময়দানের মহাসমাবেশ থেকে আওয়ামীলীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা তার কর্মীদের লগি, বৈঠা নিয়ে ঢাকা অবরোধের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তারা এই আহ্বানের সাড়া দিয়েই আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের কর্মীরা লগি বৈঠা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ২৭ অক্টোবর থেকেই ঢাকাসহ সারাদেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। ২৮ অক্টোবরের ঘটনা ছিল তার নির্দেশেরেই চূড়ান্ত ফসল। শেখ হাসিনার এধরনের নিদের্শ নতুন কিছু নয়। ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন ১টি লাশের পরিবর্তে ১০টি লাশ ফেলতে হবে। সে দিনও মুক্তাঙ্গনে আওয়ামী লীগের সভাস্খল থেকে বারবার ঘোষণা দেয়া হচ্ছিল, “জামায়াত শিবিরের উপর হামলা কর, ওদের খতম কর”। ১৪ দলীয় জোট ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল জলিল, তোফায়েল আহমদ, আবদুর রাজ্জাক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন, বারবার উত্তেজনাকর বক্তব্য দিয়ে হামলার জন্য তাদের সন্ত্রাসী বাহিনীকে উৎসাহিত করছিল।

ঘটনার পরদিন জামায়াতে ইসলামীর পল্টন থানা আমীর এ.টি.এম সিরাজুল হক বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৬১(২৯/১০/০৬)। ধারা- ১৪৩/ ৩২৩/৩২৫/ ৩২৬/৩০২/ ৩০৭/ ১০৯/১১৪ দণ্ডবিধি। মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল, প্রেসিডিয়াম সদস্য তোফায়েল আহমদ, আ'লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিম, আবদুর রাজ্জাক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনু, ওয়ার্কার্স পার্টি নেতা রাশেদ খান মেননসহ ৪০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন।

২৮শে অক্টোবরের পৈশাচিক ঘটনায় নির্মম শিকার শিবির নেতা সাইফুল্লাহ মুহাম্মদ মাসুম ৫ দিন চিকিৎসাধীন থাকা অবস্খায় ২ নবেম্বর হাসপাতালে মারা যায়। পরদিন তার বড় ভাই শামসুল আলম মাহবুব বাদি হয়ে পল্টন থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে হুকুমের আসামী করে। যুবলীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির নানক, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনসহ ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়।

এছাড়া ২৮ অক্টোবরের লগি বৈঠা বাহিনীর নির্মমতার শিকার খন্দকার মিজানুর রহমান বাদি হয়ে ১লা নবেম্বর পল্টন থানায় মামলা দায়ের করে। মামলা নং-০১ (০১/১১/০৬)। ধারা-১৪৭/ ১৪৮/ ১৪৯/ ৩২৩/ ৩২৬/ ৩০৭/ ১০৯/ ১১৪/ দণ্ডবিধি। বাদি মিজানুর রহমান গুলীবিদ্ধ অবস্খায় দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এসব মামলার মধ্যে জামায়াত নেতা এটিএম সিরাজুল হকের দায়ের করা মামলার তদন্ত করে এসআই আরশাদ আলী। পরবর্তীতে ডিবির ইন্সপেক্টর এনামুল হাসান মামলার তদন্ত করে ৫ মাস পর ৪৬ জনকে অভিযুক্ত করে গত ১১ এপ্রিল আদালতে চার্জশীট দেয়।

জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে দায়ের করা মামলায় গত ২ বছরে ৪ জন তদন্ত কর্মকর্তা বদল করা হয়। মামলাটির এখন অধিকতর তদন্ত করছেন ডিবি'র এস আই মনির হোসেন। তিনি এ মামলার ৪র্থ তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে গত ১৩ মাস যাবত তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তার হাতে মামলার তদন্তভার দেয়া হয় ২০০৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর।

ভয়াল ২৮ অক্টোবরের আজ ২ বছর হলো। এ সময়ের মাঝে দেশে অনেক কিছুই হয়ে গেল। ১/১১ দেখলো দেশের জনগণ। রাজনৈতিক সংস্কার আর দুর্নীতি বিরোধী অভিযান দেশের কল্যাণের জন্য, দেশের মঙ্গলের জন্য নানা পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। কিন্তু শহীদ সাইফুল্লাহ মোহাম্মদ মাসুমের মা শামসুন্নাহার রুবির এ কথার উত্তর কে দিতে পারবে, তাদের রক্ত পিচ্ছিল পথ ধরেই দেশের পট পরিবর্তন হয়েছে। এখন বড় বড় চোর ডাকাত ক্রিমিনালদের ধরা হচ্ছে, বিচারও দ্রুত শেষ করা হচ্ছে। কিন্তু ২৮ অক্টোবর প্রকাশ্য দিবালোকে যারা মানুষ খুন করেছে তাদের এখনও কেন বিচার করা হয়নি? শহীদ জসিমের পিতা আব্দুর রশীদ খানের জিজ্ঞাসা ২৮ অক্টোবরের সিরিজ হত্যাকাণ্ডের বিচার কেন হবে না? এর চেয়ে লজ্জা আর দু:খের ঘটনা আর কী হতে পারে?

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28860951 http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28860951 2008-10-28 11:56:50
আমার প্রিয় লেখাগুলি নিয়ে ই-বুক
সামহোয়ারে ইদানিং অনেকে নির্বাচিত লেখা সংকলন বের করতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে আমার নিজেরও একটি পরিকল্পনা আছে। আমার প্রিয় অনেক লেখা নিয়ে একটি ই-বুক বের করতে যাচ্ছি। আল্লাহর রহমতে কাজ অনেকদূর এগিয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে আমার প্রিয় লেখাগুলির তালিকা করেছি। আর প্রাধান্য দিয়েছি ইসলাম বিষয়ক ও সমকালীন রাজনৈতিক লেখাগুলোকে। কোনো পাঠক যদি নতুন কিছু যোগ করতে চান, দয়া করে লেখার নাম ও লিংক উল্লেখ করে দেবেন। পছন্দসই হলে তা যোগ করা হবে। ইনশাল্লাহ আগামী বাংলাদেশ নববর্ষে এই ই-বুক সবাইকে দেওয়ার ইচ্ছে রাখি। যারা পেতে ইচ্ছুক দয়া করে জানাবেন, পাঠিয়ে দেবে। আপাতত আপনাদের সুমন্তব্য কামনা করছি।




ওয়ালী
তথাকথিত মুক্তিযোদ্ধা প্রেমিকদের বলছি, আপনি কি বাংলাদেশকে চিনেন?

বিহারি ভোটধিকারে আওয়ামী মাতম

চেতনা 75

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা

মলি
মেরুদন্ডহীন ''মুক্তিযোদ্ধা''দের প্রতি........

তাহলে কি আমিও রাজাকার?


ধানসিঁড়ি
মওদূদী (রহ : ইসলামের আলোয় আলোকিত এক নেতা

আলোকিত নেতা মওদূদী (রহ : জন্ম ও শৈশব

আলোকিত নেতা মওদূদী (রহ : শিক্ষা জীবন

আলোকিত নেতা মওদূদী (রহ : কর্মমুখর জীবন

আলোকিত নেতা মওদূদী (রহ : লেখালেখিতে হাতেখড়ি

আলোকিত নেতা মওদূদী (রহ : রাজনৈতিক ময়দানে পদচারণ

আলোকিত নেতা মওদূদী (রহ : শুভ পরিণয়

আলোকিত নেতা মওদূদী (রহ : সংবিধান প্রনয়ণ আন্দোলনে

আলোকিত নেতা মওদূদী (রহ : কাদিয়ানী সমস্যা

আলোকিত নেতা মওদূদী (রহঃ) : ডাইরেক্ট একশন

আলোকিত নেতা মওদূদী (রহঃ): ফাঁসির আদেশ


আস্তমেয়ে
দাড়িওয়ালা বনাম দাড়িহীন

বেহেস্তের টিকেট এত সোজা? – 1

ধর্মনিরপেক্ষতা: শোষনের নির্লজ্জ হাতিয়ার

ধর্ম ব্যবসায়ী কারা?

তুমি রক্তাক্ত, আমি অপরাধী...


সন্ধ্যাবাতি
স্যাটায়ার সব সময় বামপন্থী কেন?

পুরুষের পর্দা পুষিদা
ত্রিভুজ
গিভ থ্যাংকস টু আল্লাহ - মাইকেল জেকসন

আমাদের জাতীয় সঙ্গীত ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

এক নজরে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক আমার লেখালেখি

আচ্ছা, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিপক্ষ তাহলে মুসলমানরা ছিলো?

খসড়া পোষ্ট/ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে আমার প্রাথমিক স্তরের চিন্তা ভাবনা – 1

এই সাইটের 98% ই রাজাকার...

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ইসলামিক চেতনার পরিপন্থি?

ইসলাম, স্বাধীনতা, অশ্লীলতা ও একজন ত্রিভুজের কিছু প্রশ্ন



ফজলে এলাহি

জামায়াতে ইসলামী সত্যিকারের ইসলাম প্রতিষ্ঠার সাধনা করে যাচ্ছে

আমার বিশ্বাস: সামহোয়্যারইন ব্লগে কোন রাজাকার নেই

কাদিয়ানীরা সাম্রাজ্যবাদীদের তৈরী সাম্রাজ্য রক্ষার হাতিয়ার

রবি ঠাকুর হতেন ভারতীয় রাজাকারদের প্রধান...


ফজল
শকুনেরা মুক্তিযোদ্ধার সুসম্মানি ঊর্দিতে

শুনেছ মা? তোমার ছেলে 'নব্য রাজাকার'

নুর3ডিইডি
মুক্তিযুদ্ধা মোহাম্মদ হোসেন স্যারকে ছাত্রের জিজ্ঞাসা...... (পর্ব-১)
আশরাফ রহমান
আমি কেন আওয়ামী লীগ ছেড়েছি?

একজন স্বঘোষিত নাস্তিকের মৃতু্যবাষিকীতে আমার কিছু কথা-1

ভাষা আন্দোলন ও গোলাম আযম

তত্তা্বধায়ক সরকারের প্রতিঃ কাদিয়াীদের অমুসলিম ঘোষণা করুন

চাঁদপুরের চাঁন মিয়া : স্বাধীনতার নতুন ঘোষক

ভারতীয় কবি-সাহিত্যিকদের মুসলিম-বিদ্বেষ

হলোকাস্ট ঃ বিশ্বের সবচেয়ে বড় মিথ্যাচার

হিন্দুরা কেন গো-মাংস ভক্ষণ করে না?

খাতনা ও আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান

স্বাধীনতা দিবসের ভাবনা
িদদারুল আলম বাননা
কারা ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা?

সাম্প্রতিক
সাম্প্রতিক একটি সাক্ষাতকার (১ম পর্ব)

অাওরঙ্গজেব
মহান আল্লাহর নাম কাশ্মীরের রৌদ্রোজ্জল আকাশে জলমল করছিল

ব্লগানাস্তিক ও ব্লগাসেক্যুলারদের চিনে নিন

উম্মু আবদুল্লাহ
তুমি যে তোমারই তুলনা (উৎসর্গ - ইসলামের এক বীর সৈনিককে)

রেন্টুর "আমার ফাসি চাই" - কিছু অনুভূতি

কারা রাজাকার আর কারা মুক্তিযোদ্ধা (একটি ১ দেয়ার উপযুক্ত পোস্ট। সেটাই কাম্য!!!)


রবীন্দ্রনাথ ও শরতচন্দ্র কি সাম্প্রদায়িক ছিলেন? - আমার দৃষ্টিভংগি।


সচলায়তন
একাত্তরের গনহত্যা: আসল নায়ক কে? (১)

একাত্তরের গনহত্যা: আসল নায়ক কে? (২)

একাত্তরের গনহত্যা: আসল নায়ক কে? (৩)

একাত্তরের গণহত্যা: আসল নায়ক কে? (৪)

একত্তরের গনহত্যা: আসল নায়ক কে? (৫)

Click This Link target='_blank' >একাত্তরের গণহত্যা: আসল নায়ক কে? (৬)

একাত্তরের গণহত্যা: আসল নায়ক কে? (৭)

একাত্তরের গণহত্যা: আসল নায়ক কে? (৮)

[link|http://www.somewhereinblog.net/blog/sachalayatanblog/28719651|একাত্তরের গণহত্যা: আসল নায়ক কে? (৯)

একাত্তরের গণহত্যা: আসল নায়ক কে? (১০)

একাত্তরের গণহত্যা: আসল নায়ক কে? (১১)

একাত্তরের গণহত্যা: আসল নায়ক কে? (১২)

একাত্তরের গণহত্যা: আসল নায়ক কে? (১৩)



আলেকজান্ডার ডেনড্রাইট
শহীদ মিনারের বেদী, পূজার মন্ডপ, বাঙালি সঙ-স্কৃতি

জাফর ইকবাল বাঙালি জাতিকে কি দিয়াছেন?







শাহীন - চট্টগ্রাম
যুদ্বাপরাধ ও কিছু মতলববাজ


সাইফ ভুইয়া
এর প্রতিশোধ নিতেই হবে


""শ্রাবণী""
কলম বিরতি বিষয়ে কিছু কথা


ইছামতীর পাড়ে
একুশে থেকে স্বাধীনতা’ সঠিক নয়

এ এক অন্য আই
মুজিব নাকি ৩ লাখ না বলে আবেগে ৩০লাখ শহীদের কথা তখন মিডিয়ায় বলেছিল। আসল তথ্য জানতে হলে -

অব এনি পারপাস
ডেথ অব আ জিনিয়াস

ত্রিশ লাখ শহীদঃ যৌক্তিকতা কতটুকু?
শান্ত
ধর্মভিত্তিক রাজনীতি অতীতেও ছিলো, এখনো আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে, বাআল-বাম ও এদের চ্যালাচামুন্ডরা যতই নেড়িকুত্তার মত ঘেউ ঘেউ করুক না কেন?

রবীন্দ্রনাথ, বংগের অংগচ্ছেদ ও আমাদের জাতীয় সংগীত

ওবায়েদ
অধ্যাপক গোলাম আযমের জীবনির কিছু অংশ। পড়ে মনেহলো আপনাদের সাথে শেয়ার করি।

আসুন আজ থেকে ব্লগে সবাই আওয়ামীলীগ করি, সবাই নাস্থিকদের সুরে কথা বলি।

ইবনে সালাম

ইতিহাস বিকৃতি : আওয়ামী সরকারের আমলে রচিত বইয়ের অনুকরণ

পেপসি ও কোকাকোলায় শুকরের অন্ত্রের জারক-রস

আবূসামীহা
যুদ্ধাপরাধ কি, কারা যুদ্ধাপরাধী?

দ্বীপবালক
"মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কি ছিল?" - এক অর্বাচীন বালকের জিজ্ঞাস্য।
কেক বাংলাদেশ
বেজন্ম যুদ্ধে যোগ দিন

প্রশ্ন কত
আমার বিবেচনায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও চেতনার ব্যবসায়ী

যে দেশে একজন চিহ্নিত রাজাকার দেশের মুক্তিযুদ্ধের সর্বোচ্চ ধারকের বেয়াই হয়ে যেতে পারেন সেখানে নতুন সামাজিক টেনশন সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।

রাজনীতিক
রাজাকারমুক্ত বাংলাদেশ কোথায় পাবো ভাই?

রাগ ইমন কি তছলিমা হইবার চায়?

হাসান তারিক
ভারতবর্ষীয় দালালমন্ডলী (ভাদা) চিনিবার আদি ও আসল উপায়সমূহ -৬ (আ তসলিমা নাসরিন স্পেশাল রিপোস্ট)

ধারাভাষ্য
জামায়াতে ইসলামীর প্রসঙ্গ টেনে যত কথা আনতে পারি

বলিষ্ঠ জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশে জামায়াতে ইসলামী প্রশ্নের যেরকম মীমাংসা প্রয়োজন
সবুজমিয়া
চিনে রাখুন ভাদা কারা, ভার্চুয়াল চেতনাধারী কারা

ফারজানা১৬
ইরান, প্লীজ্, আমাদের মাথা হেট্ করে দিওনা!

ফারজানা মাহবুবা
মেজর জলিল, আপনি ঠিক বলেছিলেন- ‘অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা’'।

When silence is crime-2

ডিয়ার
চিন্তাগত ও সাংগঠনিক দিক থেকে বিচারপতি ইব্রাহীমই বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রথম স্বপ্নদ্রষ্টা

আমি কেন জামাতকে ভালবাসি?

"মুক্তিযোদ্ধা"র মুখোশ পরা ব্লগীয় সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করুন!!

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির সম্পর্কে সঠিক ধারনা নিন, অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবেন না!

আলোকিত নেতা মওদূদীর (রঃ) জীবনের একাংশ
হাশেম পোদ্দার
রাজাকার একটি ফার্সী শব্দ/ কৃতজ্ঞতা: বজলু মহাজন এবং মামুন ভাই

শর্মী
কেন আমাকে 'রাজাকার' বলা হবে???

'মহাবিশ্বের সৃষ্টিগুলো সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের মত এবং কোরআনে উল্লেখিত তথ্য ...'

বিবেক সত্যি
মুসলমানরা সাবধান !! জামাতের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবী যেন ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবীতে পরিনত না হয়


'ভিমরু'
মুক্তিযুদ্ধ নিয়া জটিল প্রশ্ন: পর্ব-৩

মাহমুদ রহমান
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা

আলমগীর আহসান
হাসবো না কাঁদবো? যুদ্ধাপরাধী মামলার বাদী আলুচোরা ফজলু...

কথিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবীর অন্তরালে ১০ টার্গেট

মিথ্যা চিরকালই মিথ্যা যদিও তা হাজারবার উচ্চারিত হয়...

মিথ্যা চিরকালই মিথ্যা যদিও তা হাজারবার উচ্চারিত হয়...(২য় পর্ব)

মোহাম্মদ আলী আকন্দ
স্বাধীনতার ঘোষণা

জিয়া মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সৈনিক

একাত্তর নিয়ে ইনডিয়ান মিডিয়ার আগ্রাসন

সততার আলো
শত সহস্র মুক্তিযোদ্ধার প্রতি পরবর্তী প্রজন্মের আহ্বান.....

নাবিক
কাজের মেয়েদের দ্বীন শেখান

মুক্তিযোদ্ধা নারীদের তথ্য ও ইতিহাস সংরক্ষণে ব্যর্থ সেক্টর কমান্ডারসদের বিচার চাই।

ইসলামের পক্ষে কথা বললেই যুদ্ধাপরাধী?



মহাজাতক
প্রোফাইল: মতিউর রহমান নিজামী
একে ৪৭
যা আমাকে ভাবিত করে?

সত্যদা
মুক্তিযুদ্ধ ,যুদ্ধাপরাধ.....এ কোন আলামত!!!!!

হমপজদ
সামহোয়্যার পরিনত হচ্ছে আওয়ামি চাটুকারে

রামশিঙা
খুনি মুজিব-অ্যান আননোন হিস্ট্রি
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28786192 http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28786192 2008-04-08 21:56:53
তাবলীগ জামাত নয় , সত্যিকারের ইসলামী জামাত চাই-১
কিন্তু তাবলীগ জামাতের ভাইয়েরা ভেবে দেখেন না যে এই ভাবে তারা দিনের পর দিন ঘরের বাইরে থাকলে তাদের ঘরের হক নষ্ট হয় । তারা যদিও জোর গলায় বলে থাকেন যে তারা যতোদিন ঘরে থাকেন না , ততোদিনের খানা খোরাকি রেখে তারপরই ঘরের বাইরে যান ।

কিন্তু শুধু মাত্র খানা খোরাকিই কি সব ? চল্লিশ দিন তারা নিজ নিজ স্ত্রী এবং সন্তানদেরকে সাহচার্য থেকে বঞ্চিত করেন ।

এই সন্তান যদি বিপথে চলে যায় , তার দায়ভার কে নিবে ?
এই স্ত্রী যদি বিপথে চলে যান , তার দায়ভার কে নিবে ?
এই ভাবে বছরের পর বছর তারা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ান বলে তারা চাকরি বাকরি করতে পারেন না , কারন কয়জন নিয়োগকর্তার পক্ষে সম্ভব যে নিজের কর্মচারীকে এতো লম্বা সময়ে ছুটি দেয়া ? নিয়োগকর্তা তো তার কাজের জন্যই লোক রেখেছেন , কাজ না হলে উনি কিভাবে বেতন দেবেন ?

এই কারনে তাবলীগ জামাত এ জড়িত হওয়া মানে নিজের ও নিজ পরিবারেরর প্রতি জুলুম করা , এবং অন্যায় করা । এটা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা নয় ।
তদুপরি , তাবলীগ জামাতের মানুষেরা বিভিন্ন স্থানে গিয়ে মানুষকে ইসলামের পক্ষে এবং নামাজরোজা করতে দাওয়াত দেন । কিন্তু উদাহরন হিসাবে ধরি যে ফরিদপুরের একজন মানুষ বরিশালে গিয়ে সবাইরে এই দাওয়াত দিতেছে । কিন্তু বরিশালে তো কেউ উনাকে চিনে না , উনার কথার তাই কোন গুরুত্ব দিবে না । তার চাইতে উনি যদি ফরিদপুরে নিজের এলাকায় এই কাজ করতেন তাইলে তাকে চিনে হয়তো কেউ কেউ তার কথায় প্রভাবিত হতো ।

এছাড়া এই সব লোক বিভিন্ন স্থানে মসজিদে রাত্রি যাপন করেন । এটা অন্যায় । মসজিদকে ইবাদতের ঘর হিসাবে তৈরী করা হয়েছে , এটা কোন সরাইখানা নয় । মসজিদে রাতে ঘুমানো অবস্থায় যদি কোন ধরনের নাপাকি স্বপ্ন কেউ দেখে থাকেন যাতে ফরজ গোসলের আবশ্যকতা দেখা দেয় , তাহলে মসজিদের পবিত্রতা নষ্ট হয় যা কোনভাবেই কাম্য হতে পারে না ।

প্রত্যেক বছর টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমার নামে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম সমাবেশ হয় । এটা খুবই আনন্দের কথা , কিন্তু এই সমাবেশ থেকে মুসলমানরা কিভাবে লাভবান হন , সেটা জানি না । হজ্ব একটি ইবাদত কিন্তু ইজতেমা মুসলিম সমাবেশ হিসাবে মুসলমানদের উপকারে অনেক ভাবেই কাজে লাগানো যায় ।

সেই সমাবেশে ভারতের বিভিন্ন মাওলানারা উর্দু আর ফার্সী ভাষায় বয়ান করেন , যা সমাবেশে উপস্থিত নব্বই ভাগ লোকই বুঝতে পারে না ।

বিশ্ব ইজতেমাকে অন্যভাবে মুসলমানদের কাজে লাগানো যেতে পারে । ধরা যাক , একবছরের স্লোগান হলো " সবার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা " তাহলে সেখানে অংশগ্রহনকারী সকল মুসলমান যদি শপথ নেন যে তারা নিজের ছেলেমেয়েদেরকে স্কুলে বা আলিয়া মাদ্রাসায় পাঠাবেন এবং অন্যদেরকেও শিক্ষার জন্য সবাইকে সাহায্য করবেন , এতে করে মুসলমান সমাজে শিক্ষা দীক্ষা অনেক বেড়ে যাবে । এইভাবে আরো অনেক সামাজিক কাজ করা যায় এবং দুনিয়ার নিপীড়িত মুসলমানদেরকে কিভাবে সাহায্য করা যায় এটা নিয়ে সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলিম নেতাদের মাঝে আলাপ আলোচনা এবং দিক নির্দেশনা আসতে পারে ।
তা না করে গোসলের নিয়ত নিয়ে কয়েক ঘন্টা বয়ান করে লাভ নাই , কারন সেই গোসলেনর নিয়ত ও নিয়মকানুন সকল মুসলমানই জানেন অথবা অল্প আয়াসেই জানতে পারেন , এই জন্য তুরাগ নদীর তীরে দুই রাত বসে থাকার প্রয়োজন পড়ে না ।


( আগামী পর্বে সমাপ্য )]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28761082 http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28761082 2008-01-15 12:56:46
মাটির উপর সেজদা করার দর্শন কি? ভীষণ ভালো লাগলো, তাই আপনাদের সাথে শেয়ার করার লোভ সামলাতে পারলাম না।
মাটির উপর সেজদা করার দর্শন কি?
--
আমরা বিশ্বাস করি :
নামাযের সেজদা করার সময় মাটিতে অথবা মাটির অংশ বিশেষের উপর কিংবা সেই সব বস্তুর উপর যা জমীন থেকে গজায় (বৃক্ষলতা ইত্যাদি) তার উপর সেজদা করতে হবে। যেমন গাছের পাতা, কাঠ ও সবরকমের লতা পাতা গুল্ম, ঘাস, উদ্ভিদ ইত্যাদির উপর। (তবে খাবারযোগ্য বা পরিধানযোগ্য জিনিষ ব্যতীত)। এ কারণে আমরা কার্পেটের উপর নামায পড়া জায়েজ মনে করি না। বিশেষ ভাবে আমরা মাটির উপর সেজদা করাকে অন্য সব কিছুর চাইতে প্রাধান্য দেই।
এ জন্যই অনেক শিয়াগণই সহজ-সুবিধার জন্যে ছাঁচে ঢালাই করা এক খন্ড পাক-পবিত্র মাটি নিজেদের সাথে রাখেন এবং নামাযের সময় তাতে সেজদা করেন-যাকে আমরা মুহর বলি। এ পর্যায়ে আমরা রাসূলে আকরাম (সা.) এর এ প্রসিদ্ধ হাদীসকে দলীল হিসাবে উপাস্থাপন করি। রাসূল (সা.) বলেন :
جُعِلَتْ لِيَ الاَرْضُ مَسْجِداً وَطَهُوراً ‘যমীনকে আমার জন্যে মাসজিদ (সেজদার জায়গাহ্‌) ও তাহুরান” তাইয়াম্মুমের পাত্র) বানানো বা নির্দিষ্ট করা হয়েছে’।

এ হাদীসে ব্যবহৃত ুমাসজিদ” শব্দটির অর্থ আমরা ুসেজদার স্থান” হিসেবে ব্যবহার করেছি। এ হাদীসটি ছিহাহ্‌ সিত্তাহ্‌ এর অধিকাংশ হাদীসগ্রন্থ ছাড়া আরো বহু কিতাবে বর্ণিত হয়েছে। ছহীহ্‌ বোখারী ১ম খঃ, পৃঃ নং ৯১, তাইয়াম্মুমের অধ্যায়ে জনাব জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ্‌ আনছারী থেকে বর্ণিত হয়েছে। অনুরূপভাবে সুনানে নাসাঈতেও উল্লেখিত রাবী থেকে বাবুওাইয়াম্মুম বিস সাঈদ অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন। (মসনদে আহমদ ইবনে হাম্বল ১ম খ : পৃঃ নং ৩০১।) জনাব ইবনে আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন এবং শিয়া মাযহাবের উৎসগুলিতেও বিভিন্ন মাধ্যমে রাসূল আকরাম (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে। সম্ভাবনা আছে যে, কেউ হয়তো বলতে পারেন যে, এ হাদীসে “মাসজিদ” শব্দের অর্থ ুসেজদার স্থান” নয় বরং ুনামাযের স্থান”, সে সমস্ত লোকদের বিপরীতে-যারা শুধুমাত্র একটা নির্দিষ্ট স্থানে নামায পড়ে। কিন্তু এর মধ্যে ুতাহুরান” তথা “তায়াম্মুমের মাটি” কথাটি এসে স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, এখানে ুমাসজিদ” কথাটির অর্থ সেজদার স্থান। অর্থাৎ পৃথিবীর মাটি পবিত্র এবং সিজদার স্থানও। এ ছাড়াও আহ্‌লে বাইতের ইমামগণের কাছ থেকেও বহু সংখ্যক হাদীস রয়েছে যা মাটি, পাথর ও এ জাতীয় অনেক কিছুকে সেজদার স্থান বলে পরিচিত করিয়ে দিয়েছেন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28760667 http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28760667 2008-01-13 21:14:43
এইসব ভন্ডামি আর কতদিন করবে ওরা? (উৎসর্গ কৌশিক সাহেব) যুদ্ধের কথা বলে আমার দুর্বলতাকে
ব্যবহার করার অধিকার আমিতো ওদের দিইনি।
ওরা আমার বন্ধু নয়,
আমার ধর্মে ওদের কথা বলা আছে বিভ্রান্তকারী হিসেবে।

দাও শক্তি, হে মাবুদ।
বিভ্রান্তকারীদের হাতে যেন আমরা না পড়ি।
আমাদের উদ্দেশ্য সফল হবেই।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28760381 http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28760381 2008-01-12 20:37:05
আরবী ভাষার মাহাত্ম্য http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28760311 http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28760311 2008-01-12 14:37:31 ইসলাম নামকরন কেন - আবুল আ'লা মওদুদীর লেখা থেকে
আরবী ভাষায় ‘ইসলাম’ বলতে বুঝায় আনুগত্য ও বাধ্যতা৷ আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ও তার বাধ্যতা স্বীকার করে নেয়া এ ধর্মের লক্ষ্য বলেই এর নাম হয়েছে ‘ইসলাম’৷]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28760138 http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28760138 2008-01-11 22:22:35
নূরে আলম ভাই, আপনি কেমন আছেন? আপনি আমার খুব প্রিয় একজন মানুষ, গালিবাজরা আপনাকে এখানে থাকতে দেয়নি।
আল্লাহ আপনাকে ভালো রাখুন।

[আপনাকে লগইন দেখলাম, তাই জিজ্ঞেস করছি]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28759738 http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28759738 2008-01-10 15:53:22
ইসলামপন্থীরা অর্ধশতাব্দী ধরেই ধর্মবিদ্বেষী ও প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতির নৃশংসতার শিকার
তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী ১৯৫৮সালের ফেব্রুয়ারীতে পল্টন ময়দানে এক জনসভার আয়োজন করে। এতে দলের আমীর মাওলানা মওদূদী প্রধান অতিথি থাকার কথা। কিন্তু সে সময় ক্ষমতাসীন আ'লীগ সমর্থিত ফন্সন্ট সরকারের লেলিয়ে দেয়া সশস্ত্র গুন্ডাদল সভাস্খল আক্রমণ করে এবং বহু নেতৃস্খানীয় ব্যক্তিকে নির্মম আঘাতে ধরাশায়ী করে। গণতন্ত্রের ধ্বজাধারী প্রাদেশিক সরকার গণতন্ত্র ও মানবতা বিরোধী এহেন দুষ্কার্যের জন্য অনুতাপের বদলে বিজয়গর্বে উল্লসিত হয়ে উঠে। সে সময় মাওলানা মওদূদী দেশের উত্তরাঞ্চল সফর শুরু করলে রংপুরে ১৪৪ ধারা জারী করা হয়।

১৯৬৯সালের ১২ই আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের শিক্ষাব্যবস্খার রূপরেখা প্রণয়ন বিষয়ে এক আলোচনায় ইসলামী শিক্ষাব্যবস্খার পক্ষে বক্তব্য দেয়ার ‘গুরুতর অপরাধ' করে ফেলেন মেধাবী ছাত্র আবদুল মালেক। এর চরম দন্ড দেয় ধর্মনিরপেক্ষবাদীরা। ঐদিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তারা মালেকের উপর নির্মমভাবে আঘাতের পর আঘাত করে। তিন দিন পর ১৫ই আগস্ট তিনি শাহাদাত বরণ করেন।

১৯৭০ সালের ১৮ জানুয়ারী এই পল্টনেই জামায়াতের আরেকটি জনসভায় হামলা চালায় ধর্মবিরোধীরা। তারা সভামঞ্চ দখল করে তান্ডব চালায়। আহত করা হয় অর্ধশত কর্মী-সমর্থককে। এই হামলার প্রতিবাদে পরদিন সারাদেশে মিছিল-সমাবেশের আয়োজন করা হলে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবঞ্জসহ বিভিন্ন স্খানে একই মহল হামলা চালিয়ে বহু সংখ্যক ইসলামপ্রিয় নিরীহ মানুষকে আহত করে। এভাবে ষাট ও সত্তর দশক জুড়ে সারাদেশে বাম ও ধর্মনিরপেক্ষবাদীরা ইসলামপন্থী রাজনীতির নেতা-কর্মী-সমর্থকদের উপর অসংখ্য আক্রমণ চালায়। এই ঘটনাসমূহ পর্যালোচনা করে পর্যবেক্ষকরা প্রশ্ন রেখেছেন, তখনতো ইসলামপন্থীদের গায়ে ‘স্বাধীনতাবিরোধী' তকমা লাগেনি, তাহলে কোন ‘অপরাধ' তাদেরকে এতোসব আক্রমণের শিকার হতে হলো? ১৯৭১ সালের ১০ই আগষ্ট ঢাকার আব্দুল্লাপুর গ্রামে একটি ওয়াজ মাহফিলে ওয়াজ করার সময় গুলি করে হত্যা করা হয় দেশের একজন শ্রেষ্ঠ আলিম মাওলানা মোস্তফা মাহমুদ আল- মাদানীকে।

স্বাধীন বাংলাদেশে বাম ও ধর্মনিরপেক্ষবাদীদের এই হামলা ও খুনের স্বাধীনতা যেন আরো অবাধ গতি লাভ করে। সত্তর দশকের মধ্যভাগ থেকে ২০০৬সাল পর্যন্ত তিন দশকে বিভিন্ন ঘটনায় ইসলামী সংগঠনের দেড় শতাধিক নেতা-কর্মীকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এরমধ্যে লোমহর্ষক কিছু ঘটনার বিবরণ দেয়া যেতে পারে। ১৯৮২সাল থেকে ২০০৩সাল পর্যন্ত শুধু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েই হত্যা করা হয়েছে ১৫জনকে। এরমধ্যে '৮২-র ১১ই মার্চ ঘটে নৃশংসতম হত্যাকান্ড। এদিন লাঠি- হকিষ্টিক দিয়ে পিটিয়ে এবং ইটের ওপর মাথা রেখে ইট দিয়ে থেতলিয়ে হত্যা করা হয় সাব্বির আহমদ, আব্দুল হামিদ, আইয়ুব আলী ও আব্দুল জব্বারকে। ১৯৮৫ সালে ১১মে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঈদগাহ ময়দানে সংঘটিত হয় এক পৈশাচিক হত্যাকান্ড। সেইদিন অর্ধশতাধিক মানুষের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল ঈদগাহ ময়দান আর নিমতলা মোড়ের পিচঢালা পথ। গুলি করে শহীদ করা হয়েছিল স্কুলের ছাত্র আব্দুল মতিন, রাশিদুল হক, শীষ মোহাম্মদ, মোহাম্মদ সেলিম ও শাহাবুদ্দিন, রিক্সাচালক মুক্তার হোসেন, ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম ও আলতাফুর রহমান সবুর সহ ৮ জনকে। ভারতের ২ জন উগ্র সাপ্রদায়িকতাবাদী নাগরিক পদ্মমল চোপড়া ও শীতল সিং কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি মিসেস পদ্মা খাস্তগীরের আদালতে পবিত্র কোরআনের সকল কপি ও অনুবাদ বাজেয়াপ্ত করার জন্য রিট আবেদন করে। এরই প্রতিবাদে কোরআনের মর্যাদা রক্ষায় ইসলামপন্থী জনতা সমবেত হলে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াহেদুজ্জামান মোল্লার নিদের্শে এই গুলি ছোঁড়া হয়।

দেশের উচ্চ শিক্ষাঙ্গনগুলো থেকে ইসলামপন্থী হওয়ার দায়ে ছাত্রশিবিরকে উৎখাতের জন্য বাম-ধর্মনিরপেক্ষবাদী ছাত্র সংগঠনগুলো নিরন্তর হামলা চালিয়ে হত্যা করে ১২৫ জন ছাত্রকে। তাদের প্রিয় শ্লোগান ছিল, ‘একটা করে শিবির ধর সকাল-বিকাল নাস্তা কর।' তাদের নিষ্ঠুর আক্রমণের শিকার বহু ছাত্র এখনো অঙ্গ হারানোর যাতনা নিয়ে দিনযাপন করছে। হত্যাকান্ডগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ১৯৮৬ সালে ৪জন , ১৯৮৭ সালে ৪জন, '৮৮-তে ৭জন, '৮৯-এ ১১জন, '৯৩ সালে ১৪জন, '৯৪ সালে ৬জন, '৯৫ -এ ১২জন, '৯৬-এ ৮জন, '৯৮তে ৫জন, '৯৯-এ ১০জন এবং ২০০১-এ ৫জন। এছাড়া সর্বশেষ ২০০৬ সালের ২৮শে অক্টোবর ঢাকার পল্টনে লাঠি-বৈঠা দিয়ে আরো হত্যা করা হয় ৫জন ছাত্রকে।

এছাড়া ধর্মনিরপেক্ষবাদীরা হত্যা করেছে ইসলামপন্থী আরো রাজনৈতিক নেতা-কর্মীকে। ১৯৮৬ সালের ১০ই মে সিলেটের বিয়ানীবাজারের জামায়াত কর্মী সোহেল পারভেজ নঈমকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। ১৯৮৮ সালের ২৮শে সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার জামায়াত নেতা শাহ্বাজ উদ্দিনকে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ কর্মীরা রড ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। একই বছর চট্রগ্রামের কুমিরা ইউনিয়নের জামায়াত নেতা মফিজুর রহমানকে সারা শরীরে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয়। ১৯৮৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হবার দায়ে ১২ই নবেম্বর রংপুর শহরের অন্যতম জনপ্রিয় জামায়াত নেতা আতাউর রহমান হামিদিকে সারা শরীরে ২৭টি আঘাত করে হত্যা করে আওয়ামী লীগ কর্মীরা। ১৯৯০ সালের ৪ঠা মে রাতে চট্রগ্রামের তরুণ জামায়াত কর্মী মুহাম্মদ আবু তাহের কে ২৫/৩০টি ছুরির আঘাতে হত্যা করে ওরা। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, নিহতরা প্রায় সকলেই নতুন প্রজন্মের মানুষ। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি করাই ছিল তাঁদের ‘দোষ'। আর এসব নৃশংস হত্যা ও খুনের দীর্ঘ তালিকা খুনীদের ঘৃণ্য চরিত্র ও মুখোশকেই নগ্ন করে দিয়েছে বলে পর্যবেক্ষকদের অভিমত।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28759735 http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28759735 2008-01-10 15:48:18
মীম নামের মেয়েটি
বাবা বলেন- যাবে আম্মুনি, আরেকটু বড় হয়ে নাও তখন অনেক জায়গায়ই যাবে তুমি।
-বড়ো তো হয়েছি। এই যে আমি কত্তো বড়ো। আমি অফিসে যাবো, আব্বু।
-ঠিক আছে আম্মুনি, ক'দিন পরেই তোমাকে নিয়ে যাবো।
-ক'দিন পরতো হয়ে গেছে। এখুনি নিয়ে চলো না।
-নাহ! মেয়েটাকে নিয়ে আর হয় না। আমি চললাম।
-যাবে না, তুমি যাবে না.........

হাত-পা ছড়িয়ে মীম বাবার পিছু নেয়। বাবা একপ্রকার পালিয়ে বাঁচেন, মীম অ্যাঁ করে কেঁদে ফেলে। মা এগিয়ে এসে তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। মীম শান্ত হতে চায় না। কেঁদে কেঁদে বলে- আমি অফিসে যাবো। আমি অফিসে যাবো। মা বলেন- ঠিক আছে। আমি তোমাকে নিয়ে যাবো।

মীম বলে- না, আমি আব্বুর সঙ্গে অফিসে যাবো। কিছুতেই যখন মীম শান্ত হতে চায় না। মা তখন মাঝে মধ্যে একটু ক্ষেপে ওঠেন- যাহ্, তোর আব্বুর কাছে যা।
মীম তখন আরো জোরে কেঁদে দেয় এবং কাঁদতেই থাকে। মা তখন ঈষৎ ধমক দেন- চুপ্! একদম চুপ! একটু শব্দও শুনতে চাই না।

মীম চুপ করে না বরং ভয়ে-ক্ষোভে তার কণ্ঠ আরো জোরালো হয়। দু'চোখের পানিতে গাল-বুক ভেসে যায়। ফুপিয়ে ফুপিয়ে কেঁদে বলে, আব্বুকে বলে দেবো, তুমি আমাকে মেরেছো।
মা আরেকটু ক্ষেপে ওঠেন- এই মেয়ে! তোমাকে মারলাম কখন, এই বয়সেই মিথ্যে কথা?
-তবে তুমি বকলে কেনো, অ্যাঁ-অ্যাঁ-অ্যাঁ।
-ঠিক আছে আম্মুনি, আর তোমাকে বকবো না। এসো, মা জোর করে মীমকে কোলে তুলে নেন। আঁচল দিয়ে চোখ মুখ মুছিয়ে দেন। আদর করে নানা রকম সান্তবনা দেন। মীম ধীরে ধীরে শান্ত হয়। এরপর বাবা যখন ফিরে আসেন, মীম তখন মায়ের নামে কোনো নালিশই বাবার কাছে জানায় না। বেশির ভাগ সময়ে ভুলে যায়। আবার যখন মনে পড়ে তখন ভাবে, থাক, মা-ওতো আমাকে খুব ভালোবাসেন। আসলে মীম বাবাকে পেলে যেমনি ছাড়তে চায়না, মাকে ছেড়েও তেমনি থাকতে পারে না। মা অবিশ্যি মাঝে মধ্যে বলেন, কী মীম, আব্বুর কাছে নালিশ করলে না? বললে না, আমি তোমাকে বকেছি, মেরেছি?

মীম তখন লজ্জা পায়। অনুতাপে মায়ের আঁচলে মুখ লুকায়।
মা তখন মুগ্ধ কণ্ঠে বলতে বাধ্য হন- আমি জানি, আমাকেও তুমি খুব ভালোবাসো।
মীম কণ্ঠে আহলাদ জড়িয়ে বলে- আব্বুকেও খুব ভালোবাসি, তোমাকেও খুব ভালোবাসি।
-ওরে আমার লক্ষ্মী মেয়ে। তুমি এত ভালো! বলে মা প্রিয় সন্তানকে বুকের সঙ্গে চেপে ধরেন। মীম গদ গদ হয়ে বলে- তুমিও খুব ভালো আম্মু, তুমি আমার লক্ষ্মী আম্মু।

এরই মধ্যে বাবা যখন ফিরে এসে মীমকে ডাকেন আ-ম্-মু-
মীম তখন মাকে ছেড়ে অনাবিল হাসি নিয়ে বাবার কাছে ছুটে আসে আ-ব্-বু.......
বাবা অফিসের ব্যাগ ছেড়ে মীমকে কোলে তুলে নেন। বাবাকে আদর করে মীম ‘আমার ভালো আব্বু, ভালো আব্বু' বলে বাবার বুক ভরিয়ে দেয় সে, তা দেখে আনমনে হাসতে থাকেন মা আর ভাবতে থাকেন- বাবাকেই তো বেশি ভালোবাসে মীম।

তখনি মীম কী করে যেনো মায়ের মনের কথা ধরে ফেললো। বললো- আম্মু, আমি তোমাকেও কিন্তু ভালোবাসি।
-ওরে আমার চালাক মেয়ে, বলে মা এগিয়ে এসে মীমকে জড়িয়ে ধরলেন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28759370 http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28759370 2008-01-09 17:44:55
জামায়াত নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে ২ সহস্রাধিক আলেম ও ব্যবসায়ী
চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, জামায়াতে ইসলামীর আমীর সাবেক মন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল যথাক্রমে মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, আব্দুল কাদের মোল্লাসহ অন্যান্য জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ অন্যায় অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ১০০ জন আলেম। বিবৃতিতে তারা বলেন, এদেশকে অকার্যকর ও ব্যর্থ করার জন্য ইসলাম বিদ্বেষী একটি মহল গভীর ষড়যন্ত্র করছে। তারই অংশ হিসেবে ৩৬ বছর পর একটি হাস্যকর কাল্পনিক অভিযোগ এনে জামায়াত নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তারা অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রকারী হোতাদের চিহ্নিত করে শাস্তি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন মাওলানা মোবারক হোসেন, মাওলানা আব্দুল হাই, অধ্যক্ষ মাওলানা নজির আহমেদ, মাওলানা মোনায়েম খান, মাওলানা আবু বকর, মাওলানা ইব্রাহীম, মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম প্রমুখ।

বিরামপুর (দিনাজপুর) সংবাদদাতা জানান, মহল বিশেষের ইনে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সাবেক মন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদসহ জামায়াত নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে জনৈক মোজাফফর আহমদ খানের দায়ের করা মিথ্যা মামলা কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ রেকর্ড করার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন দিনাজপুর জেলার ১০০০ আলেম, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ ও শিক্ষকবৃন্দ।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের অন্যতম নুরজাহান কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা জয়নুল আবেদীন, বিজুল দারুল হুদা কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আজিজুর রহমান চৌধুরী, অধ্যক্ষ মাওলানা আফজালুল আনাম, অধ্যক্ষ মাওলানা মাহবুবুর রহমান, অধ্যক্ষ এবিএম নজমুল হক, মুফতি নাজিমুদ্দিন, ফকিহ মিজানুর রহমান, অধ্যক্ষ আ: সালাম, উপাধ্যক্ষ নুরুল ইসলাম, অধ্যক্ষ মাওলানা মামুনুর রশীদ, অধ্যক্ষ আ: কুদ্দুস, মুহাদ্দিস মাওলানা এনামুল হক, উপাধ্যক্ষ মোসলেম উদ্দীন, অধ্যক্ষ মাওলানা শহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষ মাওলানা আমিনুল ইসলাম, মাওলানা ইসহাক মিয়া, অধ্যক্ষ হাফিজার রহমান প্রমুখ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28759334 http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28759334 2008-01-09 15:32:14
ঈদের বারতা আজ সুরভিত
এক মাস সিয়াম সাধনার পর পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর সমাগত। মহান আল্লাহু রাব্বুল আল-আমীনের কাছে হাজার াহাজার শুকরিয়া আমারা আবার একটি ঈদ পাইলাম জীবনে।

পবিত্র রামাদানের শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে আমরা সবাই মিলেমিশে সহনশীলতার সাথে প্রিথিবিকে সুন্দর করব এটা কামনা করি।

এই ঈদে াঅহেতুক কেনাকাটা না করে আসেন আমরা আশেপাশের গরিব মানুষদের জন্য কিছু করি। সাদ্যের মধ্যে খাবার, জামাকাপর, নগদ টাকা দিয়া সাহায্য করি।

ইসলামের আলোয় আলোকিত করি বাংলাদেশ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28737120 http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28737120 2007-10-12 11:33:28
স্বপ্ন রঙিন দিন (উৎসর্গ: ব্লগার আবূসামীহা) বলবে কি আর মিথ্যা ভয়ে কোন?
মিথ্যা বলা পাপ
মিথ্যা বলার লোকটাকে সব দেয় যে অভিশাপ।

সত্য কথা বললে সবাই তোমায় ভালবাসবে
ফুলকলিরা ফুটবে এবং তোমার সাথে হাসবে।

এই যে দেখ চাঁদ তারকার মাঝে
কেমন মিলের পাল তুলে দেয় আলো দেবার কাজে
তেমনি তুমি বিলাও আলো সব মানুষের কাছে
নিন্দুকেরা যতই করুক নিন্দা তোমার পাছে।

এই যে দেখ মোরগ ডাকে ভোরে
এখনোতো আছো ঘুমের ঘোরে
হওনা তুমি ভোরের মোয়াজ্জিন
আলোর ধারা ফুটলে নামে স্বপ্ন রঙিন দিন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28730490 http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28730490 2007-09-10 22:44:40
সম্পদের পূজারী নয়, মানুষকে আখেরাতমুখী করাই ছিল মহানবীর কাজ
আমাদের চারপাশের এই দৃশ্যমান জগতের বাইরেও যে সুবিশাল জগৎ রয়ে গেছে সেটি আপাত আমাদের জ্ঞান ও বোধগম্যতার বাইরে থাকার কারণে প্রচলিত জ্ঞান সেই সেই দূরবর্তী জীবন বা পরজীবন সম্পর্কে সচেতন নয় এবং সেই মহাজীবনের সাথে আমাদের বর্তমান জীবনের কোন তাৎপর্যও উপলব্ধি করতে সক্ষম নয়। এই সীমাবদ্ধতার কারণে বস্তুবাদী জীবনদর্শন অসম্পূর্ণ ও খণ্ডিত। কিন্তু ইসলাম পৃথিবীবাসীকে যে জীবনদর্শন উপহার দেয় তা বস্তু-পৃথিবী ও দৃশ্যমান জীবন ও জগতের সীমানা ভেদ করে আমাদের বস্তুগত জ্ঞান, কল্পনা ও বোধগম্যতার বাইরের এক মহাজগতের সান দেয়। ইসলামী জীবনদৃষ্টি পৃথিবীকে ভেদ করে চলে যায়- স্রষ্টার কোলে আরশ মহল্লায়। জীবনবোধের এই বিশালতা ও সম্পূর্ণতার কারণে ইসলামী জীবনদর্শন সকল ধরনের কুপমণ্ডুকতাও সংকীর্ণ বস্তুবাদী-ভোগবাদী দৃষ্টিভঙ্গির অভিশাপ থেকে মুক্ত। আর মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)সহ সব নবী-রাসূলগণ ছিলেন আখেরাতমুখী এই সম্পূর্ণ ও সুবিশাল জীবনদৃষ্টির প্রবক্তা।

রাসূল (সাঃ) যে সময়কালে আবিভূêত হয়েছিলেন সে সময়ও মানুষ ছিল চরম ইন্দ্রিয়পরায়ণ ও ভোগবাদের মধ্যে আচ্ছন্ন। দুনিয়ার মোহ তাদেরকে বিবেকহীন অ এবং পশুজীবনের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। তারা ছিল ভয়ানকভাবে অপরাধপ্রবণ। আখেরাতের জীবন সম্পর্কে তারা ছিলো চরমভাবে গাফেল। ধর্মীয় জীবনে নানামুখী বিকৃতির কারণে এ সম্পর্কে বিশুদ্ধ কোন ধারণা তাদের মধ্যে ছিল না। ইহুদী আলেম ও পীর পুরোহিতরা নিজেদের ধর্ম ব্যবসায়কে টিকিয়ে রাখার জন্য আখেরাতের জীবন সম্পর্কে মনগড়া সব কিচ্ছা-কাহিনী ফেঁদে বসেছিল। আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার পরিবর্তে এসব পীর-পুরোহিতদেরকে সন্তুষ্ট করার মধ্যেই মানুষ আখেরাতে নাজাতের উসিলা পেয়ে যেতো। তারা হয়ে উঠেছিল সাধারণ মানুষের পরকালীন জিন্দেগীর জিম্মাদার। এসব বিভ্রান্ত ধর্মীয় নেতারা সামান্য নজর-নিয়াজ ও প্রাপ্তিযোগের বিনিময়ে লোকদের পরকালীন জীবনের সফলতার গ্যারান্টি দিতো। ফলে সে সময়ের মানুষগুলো হয়ে উঠেছিল চরমভাবে স্বেচ্ছাচারী। এ অবস্থায় নবী করীম (সাঃ)-এর অন্যতম প্রধান কাজ ছিল আখেরাত সম্পর্কে বিশুদ্ধ ধারণা প্রচার এবং সে সম্পর্কে মানুষকে সচেতন ও যত্নবান করে তোলা। আখেরাতের সাফল্য ও ব্যর্থতা সম্পর্কে সুসংবাদ প্রদান ও ভীতি প্রদান করা ছিল নবী-রাসূলদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব বা মিশন। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে ঃ ‘সকল মানুষ একই উম্মতের অন্তভুêক্ত ছিলো। তখন আল্লাহ তায়ালা নবী পাঠালেন সুসংবাদদাতা ও ভীতি প্রদর্শনকারী হিসেবে। আর তাদের সাথে অবতীর্ণ করলেন সত্য কিতাব, যেন মানুষের মধ্যে বিতর্কিত বিষয়ের মীমাংসা করা যায়।’ [বাকারা ঃ ২১৩]

মহানবীর মিশন সম্পর্কে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন দিচ্ছেন এভাবে ঃ ‘হে নবী, আমরা তোমাকে পাঠিয়েছি সাক্ষীদাতা, সুসংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শনকারী হিসেবে এবং খোদার অনুমতিক্রমে তাঁর প্রতি আহ্বানকারী ও উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে।’ [আল-আহাযব ঃ ৪৫]

আমাদের এই পৃথিবী গ্রহের চব্বিশ ঘন্টায় একদিন হিসেবে যে ক’দিন আমরা বাঁচি, তা মহাকাশের ও পরকালের হিসেবের তুলনায় নিতান্তই তুচ্ছ ও নগণ্য। পরকালের তুলনায় দুনিয়াটা হচ্ছে নিছক বাচ্চাদের খেল-তামাশার মত। দুনিয়ার এই চাকচিক্য ও মোহ খুবই ক্ষণস্থায়ী। আমাদের জীবন যেমন ক্ষণস্থায়ী, তেমনি পৃথিবীর এই বসন্ত, এই অপরূপ সৌন্দর্যও অস্থায়ী। একদিন মঙ্গলগ্রহের মতই পৃথিবী বৃক্ষহীন হবে, তার সব সৌন্দর্য ও শ্যামলিমা হারিয়ে প্রাণহীন নিরস-নিষ্ফলা মৃত্তিকায় পরিণত হবে- ‘তাদের কাছে এই দুনিয়ার উদাহরণটি বর্ণনা করে দাও। তা পানির মত, যা আমি আকাশ থেকে বর্ষণ করি। অতঃপর এর সংমিশ্রণে শ্যামল-সবুজ ভূমিজ লতা-পাতা উৎপন্ন হয়। তারপর তা শুকিয়ে এমন চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায় যে, সামান্য বাতাস তাকে উড়িয়ে নিয়ে যায়। আল্লাহ সবকিছুর উপর শক্তিমান।’ [আল কাহফ ঃ ৪৫] ‘আমি পৃথিবীর মধ্যকার সকল কিছুকেই দৃষ্টিনন্দন করে সৃষ্টি করেছি, যাতে লোকদের পরীক্ষা করতে পারি, তাদের মধ্যে কে ভালো কাজ করে। পৃথিবীতে যা কিছু আছে, একদিন আমি তাকে উদ্ভিদ শূন্য মাটিতে পরিণত করে দিব।’ [আল কাহফ ঃ ৭-৮]

একদিন আমাদের এই দৃশ্যমান জগৎ ধ্বংস হয়ে যাবে। প্রচণ্ড শব্দে শুরু হবে প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প এবং তাতে সমস্ত সৃষ্টি লণ্ডভন্ড হয়ে যাবে। একে বলা হয় কিয়ামত বা মহাপ্রলয়। পবিত্র কুরআন মজিদে এ সম্পর্কে বলা হয়েছে ঃ ‘যখন শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে, একটি মাত্র ফুঁ এবং পৃথিবী ও পর্বতমালাকে উঠিয়ে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়া হবে, সেদিন কিয়ামত সংঘটিত হয়ে যাবে।’ [আল হাক্কাহ ঃ ১০-১৩]; ‘যখন শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে তখন আসমান ও জমিনে যারা আছে সবাই বেহুঁশ হয়ে পড়ে যাবে। তবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছে করেন সে ব্যতীত। অতঃপর আবার শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে, তখন তারা দণ্ডায়মান হয়ে দেখতে থাকবে।’ [ আয যুমার ঃ ৬৮]

এরপর সৃষ্টিকর্তা আমাদেরকে এক নতুন জগতে উপস্থিত করাবেন যাকে বলা হয় হাশরের ময়দান। সেখানে প্রত্যেক মানুষের দুনিয়াবী জিন্দেগীর আমলের হিসেব-নিকেশ করা হবে ঃ

‘তা এমন একটি দিন, যেদিন সমস্ত মানুষ সমবেত হবে। সেদিনটি যে উপস্থিত হবার দিন। [হুদ ঃ ১০৩] ‘ যেদিন তারা বের হয়ে পড়বে, আল্লöাহর কাছে তাদের কিছুই গোপন থাকবে না। আজ রাজত্ব কার? প্রবল পরাক্রান্ত আল্লাহর।’ [মুমিন ঃ ১২]

সেদিন মানুষের দুনিয়ার বাহাদুরী আর থাকবে না। স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সমস্ত কতৃêত্ব গ্রহণ এবং মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিবেন। সেদিন কেউ কারো কোন উপকারে আসবে না। সমস্ত ব্যাপারে আল্লাহর ফায়সালাই হবে চূড়ান্ত। দুনিয়ায় যারা আল্লাহর হুকুম মেনে চলেছে তারা সেদিন সফল হবে, তাদের জন্য কোন ভয় ও চিন্তার কোন কারণ থাকবে না। তারা হবে সৌভাগ্যবান। আর যারা দুনিয়ায় বেপরোয়া জীবনযাপন করেছে, সেদিন তারা চরমভাবে ব্যর্থ হবে। তাদের জন্য অপেক্ষা করছে চরম অপমান আর দুঃখ। বস্তুত তাদের মত হতভাগ্য সেদিন আর কেউ হবে না। পবিত্র কালামে বলা হয়েছে ঃ

‘সেদিনটি এলে আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কেউ কোন কথা বলতে পারবে না। তাদের কিছু লোক হবে হতভাগ্য এবং কিছু লোক হবে সৌভাগ্যবান। যারা হতভাগ্য তারা জাহান্নামে যাবে, সেখানে তারা আর্তনাদ ও চিৎকার করতে থাকবে। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে, যতদিন আসমান-জমিন বর্তমান থাকবে। তবে তোমার প্রতিপালক অন্য কিছু ইচ্ছে করলে ভিন্ন কথা। নিশ্চয়ই তোমার পালনকর্তা যা ইচ্ছে করতে পারেন। আর যারা সৌভাগ্যবান তারা জান্নাতে যাবে। সেখানে তারা অনন্তকাল থাকবে, যতদিন আসমান-জমিন বর্তমান থাকবে। তবে তোমার প্রতিপালক যদি অন্য কিছু ইচ্ছে পোষণ করেন তা ভিন্ন কথা। এ দানের ধারাবাহিকতা কখনও ছিন্ন হবার নয়।’-[হুদ ঃ ১০৫-১০৮]।

মানুষের জীবনে আখেরাতের বিশ্বাস-অবিশ্বাসের প্রভাব অপরিসীম। আখেরাতের উপর যথাযথ ও দৃঢ় বিশ্বাস মানুষের জীবন-প্রবাহকে একদিকে প্রবাহিত করে আর আখেরাতে অবিশ্বাস মানুষের জীবনধারাকে পরিচালিত করে ভিন্ন দিকে। ইসলামী জীবনধারায় তাই আখেরাতের গুরুত্ব অপরিসীম। আখেরাত তথা আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার অনুভূতি ঈমানদার-মুসলমানদেরকে পৃথিবীতে দায়িত্বানুভূতি সম্পন্ন মানুষে পরিণত করে এবং তাদের জীবনধারাকে পরিচালিত করে একটি সুনিয়ন্ত্রিত ধারায়। একজন সত্যিকার মুমিন-মুসলমান কখনো আখেরাতের তুলনায় দুনিয়ার স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে পারে না। সুতরাং একটি ইসলামী সমাজ বিনির্মাণের প্রয়োজনে সর্ব প্রথম সমাজের মানুষকে আখেরাতমুখী করে তোলা অপরিহার্য। আখেরাতের প্রতি প্রবল ঈমান ছাড়া কারো পক্ষে ঈমানদারীর পথে এক কদম অগ্রসর হওয়াও সম্ভব নয়। কারণ মানুষের জীবনদৃষ্টি যতক্ষণ পর্যন্ত আখেরাত পর্যন্ত প্রসারিত না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত তার পক্ষে দুনিয়ার মোহ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে না; তার দৃষ্টি বৈষয়িকতার সীমার মধ্যেই আটকে থাকবে। দুনিয়া পাওয়ার ধান্দাই তাকে সারাক্ষণ মশগুল রাখবে ঃ

‘বেশি! বেশি! দুনিয়ায় একে অন্য থেকে বেশি পাওয়ার ধান্দাই তোমাদেরকে ভুলিয়ে রেখেছে। এমনকি (ধান্দাবাজি করতে করতেই) তোমরা কবরে পেঁৗছে যাও। কখখনো না, শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে। আবার (শুনে নাও), কখখনো না, শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে। কখখনো না, যদি তোমরা নিশ্চিত জ্ঞানের ভিত্তিতে (এই আচরণের পরিণাম) জানতে! (তাহলে তোমরা এ ধরনের কাজ করতে না)। নিশ্চয়ই তোমরা জাহান্নাম দেখতে পাবে। আবার (শুনে নাও), একেবারে স্থির, নিশ্চিতভাবেই তোমরা তা দেখতে পাবে। তারপর নিশ্চয়ই সেদিন তোমাদেরকে (দুনিয়ার) এই নিয়ামতগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’­[তাকাসুর]; ‘যারা আখেরাতে বিশ্বাস করে না, তাদের অন্তর সত্যবিমুখ এবং অহংকারী।’­[নাহল ঃ ২২]; ‘ যে আখেরাতকে বিশ্বাস করে না, সে সরল রাস্তা থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে।’ ­[আল মু’মিনুন ঃ ৭৪]

আখেরাতের প্রতি কারো ঈমান যদি দুর্বল হয়, তাহলে আল্লাহ, রাসূল, ফিরিশতা, কোরআনের প্রতি ঈমান ও ইসলামী সমস্ত বিধি-বিধানও তার কাছে অকার্যকর হয়ে পড়ে এবং তারা যদি আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি ঈমান আনারও দাবি করে তাহলেও তারা ঈমানদার হতে পারবে না। কারণ আল্লাহর কোন আয়াতকে অবিশ্বাস-অস্বীকার করা মূলত আল্লাহকেই অবিশ্বাস-অস্বীকার করা। আল্লাহ বলেছেন ঃ

‘এটি (নামাজ) খুব কঠিন কাজ, কিন্তু যারা বিনয়ী তাদের পক্ষে খুবই সহজ। যারা মনে করে তাদেরকে প্রতিপালকের মুখোমুখি হতে হবে এবং তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে।’ ­[বাকারা ঃ ৪৫-৪৬]

‘যারা পরকালকে বিশ্বাস করে তারাই কুরআনের প্রতি বিশ্বাসী এবং তারা নামাজকে সংরক্ষণ করে।’ ­[আনআ’ম ঃ ৯২]

‘যারা আমার আয়াত ও আখেরাতের সাক্ষাৎকে মিথ্যা মনে করে তাদের সব আমলই ধ্বংস হয়ে গেছে। তারা যেমন আমল করেছে তেমন ফলাফলই পাবে।’ ­[আল আ’রাফ ঃ ১৪৭]

এমনিভাবে আখেরাত সম্পর্কে ভুল ধারণাও মানুষকে গোমরাহীর দিকে ধাবিত করে। জাহেলিয়াতের যুগে লোকেরা পীর, দরবেশ, আলেম ও বুযুর্গ ব্যক্তিদেরকে উসিলা করে পরকালে পার পাওয়ার স্বপ্ন দেখত এবং তাদেরকে নাযাতের কাণ্ডারী ও যিম্মাদার মনে করতো। ইহুদিরা মনে করতো তারা ঈশ্বরের বংশধর। বংশ, গোত্র ও সাম্প্রদায়িক কারণে তারা শাস্তির ঊর্ধ্বে। বেহেশত তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি। এমনিভাবে কিছু লোক পীর, দরবেশ, আলেম ও বুযুর্গ ব্যক্তিদের সাথে নিজেদের আত্মীয়তা-ঘনিষ্ঠতা আবিষ্কার করতো আর মনে করতো ঐ সব ব্যক্তিরাই তাদেরকে নাযাতের ব্যবস্থা করে দিবে। এসব কারণে দুনিয়ার জীবনে আখেরাতের জবাবদিহিতার অনুভূতি তাদের ছিল না। যার কারণে তাদের জীবনধারা পরিচালিত হতো বিভ্রান্তির পথে, ইসলামের সাথে তার কোন সম্পর্ক ছিল না। এসব লোকের বিভ্রান্তি দূর করাও ছিল মহানবীর জীবনের অন্যতম মিশন। তিনি পবিত্র কালামের বাণী উচ্চারণের মাধ্যমে তাদেরকে হুশিয়ারি করে গেছেন ঃ

‘ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানরা বলে ঃ আমরা আল্লাহর সন্তান ও তাঁর প্রিয়জন। বল, তবে তিনি তোমাদেরকে পাপের বিনিময়ে শাস্তি দেবেন কেন? বরং তোমরাও অন্যদের মতই সাধারণ মানুষ মাত্র। তিনি যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেবেন এবং যাকে ইচ্ছা মাফ করে দেবেন। আকাশ, পৃথিবী ও এর মধ্যকার সব কিছুর উপর আল্লাহর আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত এবং তার দিকেই সবাইকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে।’­[আল মায়েদা ঃ ১৮]

‘তারা বলে, ইহুদী অথবা খ্রিস্টান ছাড়া কেউ জান্নাতে যেতে পারবে না। এটি তাদের বাসনা। বলে দাও, তোমরা সত্যবাদী হলে প্রমাণ উপস্থিত কর। হঁ্যা, যে নিজেকে আল্লাহর নিকট সোপর্দ করে দিয়েছে এবং সৎকর্মশীল হয়েছে, তার জন্য তার পালনকর্তার নিকট পুরস্কার রয়েছে। তাদের ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।’­বাকারা ঃ ১১১-১১২]

‘তারা বলে, জাহান্নামের আগুন তাদেরকে স্পর্শ করবে না। যদিওবা করে তবে তা নির্দিষ্ট কয়েকদিনের জন্য মাত্র। জিজ্ঞেস কর, তোমরা কি এ ব্যাপারে আল্লাহর কাছ থেকে কোন প্রতিশ্রুতি পেয়েছো যে, তিনি কখনও তা ভঙ্গ করবেন না? নাকি তোমরা যা জানো না তা আল্লাহর সাথে জুড়ে দিচ্ছো? হঁ্যা, যে ব্যক্তি গোমরাহীর মধ্যে লিপ্ত হয়েছে এবং পাপাচারের মধ্যে নিমজ্জিত রয়েছে তারা জাহান্নামের অধিবাসী এবং সেখানেই তারা চিরকাল থাকবে। আর যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তারা জান্নাতের অধিবাসী হবেন, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।’­[বাকারা ঃ ৮৯-৮২]

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28730476 http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28730476 2007-09-10 20:52:46
"জামায়াতি ছকে দেশ" - দৈনিক সমকালের অপপ্রচারের প্রতিবাদ।

ইতোপূর্বে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে দুই একটি সংবাদপত্রে যে ধরনের সিন্ডিকেটেড রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল দৈনিক সমকালের এ রিপোর্টটি তারই পুনরাবৃত্তি মাত্র।

বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, দৈনিক সমকালের রিপোর্টটি স্ববিরোধিতায় ভরপুর। এই রিপোর্টে একদিকে লেখা হয়েছে যে, “জামায়াতী ছকে দেশ চলছে। জামায়াতের গায়ে আঁচড়ও লাগেনি।” আবার অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সাবেক মন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী এবং সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদসহ জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের একটি ফিরিস্তি দেয়া হয়েছে। কারো কারো গ্রেফতারের কথাও লেখা হয়েছে। এ থেকেই কি প্রমাণিত হয় না যে সমকালের রিপোর্টটি স্ববিরোধী? তিনি বলেন, সমকালের সম্পাদক আবেদ খানসহ যারা কমিউনিস্ট রাজনীতি সমর্থন করেন তারাই কারণে অকারণে সুযোগ পেলেই ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিরুদ্ধে বিষোদগার ধরে ধর্মহীন রাজনীতি চালু করতে চান। এ মহলটি সুযোগ পেলেই বিভিন্ন সংবাদপত্র ও প্রচার মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালিয়ে থাকে।

দৈনিক সমকালের অভিযোগের জবাবে তাসনীম আলম বলেন, দেশবাসী জানেন যে, গত ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে জামায়াতের সমাবেশে লগি-বৈঠা নিয়ে আ’লীগসহ ১৪ দলের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের হতাহত করে তাদের লাশের ওপর পৈশাচিক উল্লাস নৃত্য করেছিল। এ হামলার জন্য আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের সন্ত্রাসীরাই দায়ী। এ ব্যাপারে জামায়াতে ইসলামীকে যারা দায়ী করার চেষ্টা করছে তারা জ্ঞানপাপী মতলববাজ। এ জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের শাস্তি দাবি করে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের নির্মমভাবে হত্যার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক­তাই দেশবাসীর কাম্য। জামায়াতে ইসলামীর দায়ের করা এ মামলার আসামীদের রক্ষা করার হীন উদ্দেশ্যে ওয়ার্কার্স পার্টির পক্ষ থেকে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের আসামী করে একটি পাল্টা মামলা দায়ের করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ এ মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন গ্রহণ করেছেন তা দৈনিক সমকালের অত্র রিপোর্টার ভালো করেই জানা আছে। তিনি বলেন, মহল বিশেষ থেকে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে জঙ্গি মদদ দান ও চট্টগ্রামে ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালানোর সাথে সম্পৃক্ততার যে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে তা সর্বৈব মিথ্যা। জামায়াতে ইসলামী কখনো অস্ত্র ও সন্ত্রাসের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। “বন্দুকের নলই ক্ষমতার উৎস” এই তত্ত্বেও বিশ্বাসী কমিউনিস্টরাই এদেশে অস্ত্র ও সন্ত্রাসের রাজনীতির হোতা। গণধিকৃত এসব কমিউনিস্টরাই রাজনৈতিকভাবে জামায়াতে ইসলামীকে ঘায়েল করার জন্য জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে এ মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করেছে।


তিনি বলেন, সমকালের রিপোর্টে জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন সাবেক এমপির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগের কথা লেখা হয়েছে সে সম্পর্কে জামায়াতে ইসলামীর বক্তব্য হলো কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগে মামলা করা হলেই তিনি দোষী হয়ে যান না। কেউ দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তার সম্পর্কে অবমাননাকর কোন মন্তব্য করা উচিত নয়। মামলার বিচারে জামায়াতের কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে অবশ্যই সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, সমকালের সম্পাদক আবেদ খানসহ যে মহলটি বিগত চারদলীয় জোট সরকারকে শান্তিতে ৫ বছর দেশ পরিচালনা করতে দেয়নি এবং বেগম খালেদা জিয়া ও তাঁর পরিবার পরিজনের চরিত্র হননে ব্যস্ত ছিল তারাই এখন আবার বিএনপি’র দরদী সেজে নানান ধরনের মায়াকান্না শুরু করেছে। তারাই এখন জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি সম্পর্কে নানান ধরনের প্রশ্ন সৃষ্টি করছে। তাদের মায়াকান্না দেখে “মায়ের চেয়ে মাসীর দরদ বেশি” এর প্রবাদ বাক্যটি মনে পড়ে। জামায়াতে ইসলামী একটি দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক ইসলামী দল। জামায়াতে ইসলামী সব সময় জাতীয় স্বার্থে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে আসছে। কোন পরিস্থিতিতে কখন কী ধরনের ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন, তা জামায়াতে ইসলামী ভালো করেই জানে। দৈনিক সমকাল বা এ ধরনের অন্য কারো নিকট থেকে জামায়াতে ইসলামীর শেখার কোন প্রয়োজন নেই।

[wjsK=http://shamokal.com/archive.details.php?nd=2007-09-08&nid=73368]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28730328 http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28730328 2007-09-09 21:37:41
প্রাক রামাদান ভাবনা: ইসলামের দৃষ্টিতে বৃক্ষ রোপন
আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টি অপূর্ব সৌন্দর্য জীবের মধ্যে গাছ একটি জীব। গাছ এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ জীব, যা ছাড়া বেঁচে থাকার কোন উপায় নেই। গাছ থেকে পাওয়া অক্সিজেন আমাদের জীবন ধারণের জন্য এক অপরিহার্য। গাছ যেমন প্রকৃতির সৌন্দর্য বিরাজ করছে তেমনি আবার পরিবেশ সংরক্ষণেরও প্রতীক। আল্লাহতায়ালা “আশরাফুল মাখলুকাত” বা সৃষ্টির সেরা জীবরূপে মানুষ সৃষ্টি করে ভূ-পৃষ্ঠের প্রয়োজনীয় জীবনোপকরণ হিসেবে ফলবান বৃক্ষ রাজি ও সবুজ বনভূমি দ্বারা একে সুশোভিত করেছে। আবার গাছ দ্বারা ভূ-মণ্ডল ও পরিবেশ প্রকৃতির ভারসাম্য ও সংরক্ষণ করা হয়েছে।


চৌদ্দশত বছর পূর্বেই আল্লাহতায়ালা ওহি নাযিল করে রাসূল (সাঃ)-এর মাধ্যমে গোটা জাতিকে জানিয়ে দিলেন গাছের গুরুত্ব সম্পর্কে। এই মর্মে পবিত্র কুরআনে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেছেন, “আমি ভূমিতে বিস্তৃত করেছি ও তাতে পর্বতমালা স্থাপন করেছি এবং তাতে নয়নাভিরাম সর্বপ্রকার উদ্ভিদ উদগত করেছি। আর আমি আকাশ থেকে কল্যাণময় বৃষ্টি বর্ষণ করি এবং এর দ্বারা উদ্যান ও পরিপক্ষ শস্যরাজি উদগত করি” (সূরা কাফ আয়াত-৭ ও ৯)

আল্লাহতায়ালা মানুষের জন্য গাছ অথবা গাছের বীজ সৃষ্টি করেছেন। মানুষ সেই বীজ বপন করে চারা গাছ উৎপাদন করে। মানুষ যেহেতু বৃক্ষরোপণ করে রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে গাছকে বড় করে তোলে, তাই গাছের ওপর মানুষের সীমিত ভোগাধিকার জন্মে। কারও জমিতে বা বনভূমিতে বৃক্ষ জন্মালে সেই গাছপালা থেকে সবাই যাবতীয় সুবিধা নিতে পারবে এবং যে কোনো প্রয়োজনে গাছ ব্যবহার করতে পারবে। কিন্তু একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ইসলাম কাউকে অকারণে ফলবান বৃক্ষ নিধন বা কর্তনের অনুমতি দেয় না। কারণ এতে অন্যরা গাছের নিয়ামত লাভে বঞ্চিত হবে। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কুরআনে বলে দিয়েছেন­ তিনিই আল্লাহতায়ালা নানা প্রকার লতাগুল্ম ও বাগান সৃষ্টি করেছেন। খেঁজুর বীতি সৃষ্টি করেছেন। শস্য উৎপাদন করেছেন। তা থেকে নানা প্রকার খাদ্য সংগৃহিত হয়। যাইতুন ও ডালিম বৃক্ষ সৃষ্টি করেছেন। এদের মধ্যে বাহ্যিক সাদৃশ্য থাকলেও স্বাদ বিভিন্ন এগুলোর ফল খাও যখন ফলবান হয় এবং ফসল কাটার সময় আল্লাহর হক আদায় কর আর সীমা অতিক্রম করোনা। কারণ সীমা অতিক্রমকারীদেরকে আল্লাহ পছন্দ করেন না। ( সূরা আনআম- আয়াত ঃ ১৪১) হাদিস শরীফে এর গুরুত্ব দিয়ে রাসূল (সাঃ) বলেছেন­ যে ব্যক্তি অকারণে একটি কুলগাছ কাটবে আল্লাহ তাকে অধোমুখে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে।

রাসূল (সাঃ) গাছ সংরক্ষণের উপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি মক্কা মোকাররমা ও মদীনার বিশেষ এলাকাকে সংরক্ষিত বলে ঘোষণা করেছিলেন। ঐ সব এলাকার গাছ কাটা এবং সেখানে বন্য পশু-পাখি শিকার করা আজও নিষিদ্ধ। ইসলামে বৃক্ষরোপণ ও ফসল ফলানোর উৎসাহিত হওয়ার জন্য রাসূল (সাঃ) বৃক্ষ রোপণকে সদকায়ে জারিয়া বা অবিরত ফলরূপে আখ্যায়িত করেছেন। হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসূল (সাঃ) বলেছেন­ যখনই কোন মুসলিম গাছ লাগায় বা শস্য বুনে এবং এ থেকে মানুষ, পশু-পাখি তাদের আহার্য গ্রহণ করে তখন তার পক্ষে একটি সদকা (দান) হিসেবে পরিগণিত হয়। ( মুসলিম শরীফ দ্বিতীয় খণ্ড- পৃষ্ঠা-১৫)

অন্য হাদীসে হযরত জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসূল (সাঃ) বলেছেন­ গাছ হতে যা চুরি হয়ে যায় তাও তার পক্ষে একটি সদকা হিসেবে পরিগণিত হয়। (মুসলিম)

অন্যত্র নবী করিম (সাঃ) এরশাদ করেছেন, যখন কোন মানুষ মৃত্যু বরণ করে তার সব আমলের দরজা ব হয়ে যায়, শুধু তিনটি আমল ব্যতীত। আর তা হচ্ছে
১. যদি সে কোনো সদকায়ে জারিয়া রেখে যায়।
২. এমন জ্ঞান রেখে যায় যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়।
৩. কোন সৎ সন্তান রেখে যায় যা তার জন্য মাগফিরাতের দোয়া করে।
এতে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে বৃক্ষ রোপণই সবচেয়ে বেশি উপকারী। ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গির সাথে বর্তমান পরিবেশ বিজ্ঞানীরা একমত হয়েছেন যে, গাছ আমাদের ও সৃষ্টি কুলের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমরা কার্বনডাই অক্সাইড ছাড়ি গাছ থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করি।


ইসলামের নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) সৃষ্টির সবকিছুর উপর সমানভাবে মায়া-মমতা প্রদর্শন করেছেন। গাছের প্রতি মায়া ছিল তার অফুরন্ত। নবী (সাঃ) বলেছেন, বৃক্ষের সঙ্গে আমাদের আন্তরিকভাবে ব্যবহার করা উচিত গাছের পাতা ছিড়লে গাছ ব্যথা পায়না আসলে তা নয় কারণ গাছের জীবন আছে এবং পাতা ছিঁড়লে কষ্ট পায়। নবীজী বলেছেন তোমরা অকারণে বৃক্ষ ছেদন অথবা কর্তন করবে না রাসূল (সাঃ) নিজ হাতে বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যা করেছেন। তাই বৃক্ষরোপণের প্রতি অত্যদিক গুরুত্বারোপ করে রাসূল (সাঃ) বলেছেন যদি কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার মুহূর্তে তোমাদের কারও হাতে একটি চারা গাছ থাকে তাহলে সে যেন সেই বিপদ সংকুল মহূর্তেও তা রোপণ করে যায় (আদাবুল মুফরাদ)। আল্লাহ তায়ালার হুকুম, রাসূল (সাঃ)-এর বাণী ও ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব ও তাৎপর্য জনগণের সামনে তুলে ধরে সবুজায়ন আন্দোলনের প্রসার, টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষায় ব্যাপকভাবে জনসচেতনতা সৃষ্টি বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে অধিকতর কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

সকাল ব্লগার ভাই-বোনদের অনুরোধ করবো এ রামাদানে অহেতূক কেনাকাটা না করে বরং পরিবেশ রক্ষায় সবাই একটু সচেতন হই। গাছ লাগাই।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28729432 http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28729432 2007-09-04 21:58:07
বাংলাদেশে ইসলাম : পর্ব - ১
এই যেখানে পরিস্থিতি, স্বাভাবিকভাবেই সকলের মনে এই বিশ্বাস দৃঢ় আছে বাংলাদেশের মাটি থেকে কেউ ইসলামকে হটাতে পারবে না, কিন্তু এদেশের মানুষ জানে না পাশ্চাত্যের ঠিক উল্টো মতই পোষণ করে। তাদের সাম্প্রতিক কার্যকলাপে এটা অত্যন্ত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, তারা ভাবেন বাংলাদেশ থেকে ইসলামকে হটিয়ে দিয়ে এ মাটিতে তাদের মতের সংখ্যাধিক্য সৃষ্টি করা সম্ভব। এই উদ্দেশ্যেই ইউরোপের কিছু দেশের সরকার এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ধর্ম বিষয়ক নানা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের দারিদ্রø ও অশিক্ষার সুযোগে পরিকল্পিতভাবে কাজ করে চলেছে। অথচ পাশ্চাত্যের প্রতিটি দেশে খৃস্টধর্ম বিরোধী কোনো তৎপরতা অনেক ক্ষেত্রেই সহ্য করা হয় না। সেখানে জ্ঞান বিজ্ঞানের সমান্তরালে খৃস্ট ধর্মের মাহাত্ম্যও শিক্ষার্থীদের পাঠ্য। খৃস্ট নিন্দা কিংবা চার্চের প্রতি বৈরিতা সেখানকার অনেক দেশেই শাস্তিযোগ্য অপরাধ। যদিও সারা পাশ্চাত্যজুড়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গণতন্ত্র চালু আছে। তবে গণতান্ত্রিক অধিকারের সুযোগ নিয়ে বাইবেলের নৈতিক আদর্শ এবং ধর্মীয় আস্থার বিপরীত কিছু করা যাবে না। অনেক দেশে আবার খৃস্টীয় আদর্শ বিরোধী কোনো প্রচার কিংবা অন্য ধর্ম প্রচার বা ধর্মান্তর নিষিদ্ধ।

বাংলাদেশ ধর্মীয় সহনশীলতার দেশ। এই সহনশীলতা মূলত ইসলামী মূলবোধেরই অবদান। আমাদের দেশে অনেক খৃস্টান ধর্মপ্রচারক তাদের নানা প্রতিষ্ঠানের মারফত কনভারসন চালিয়ে গেলেও ধর্ম প্রচারে সরাসরি কেউ বাধা দিচ্ছে না। অথচ এদেশে কেউ ইসলামের কথা বললে কিংবা ইসলামের শত্রুদের বাধা দিতে গেলে সর্বপ্রথমেই বাধা সৃষ্টি করছে পাশ্চাত্যের ঐ সমস্ত খৃস্টান দেশ এবং সরকার, যারা প্রত্যক্ষভাবে স্থানীয় এনজিওগুলোকে অর্থ সাহায্য দিচ্ছে। প্রশ্ন জাগে পাশ্চাত্যের জাতিসমূহ যদি এতই ধর্মনিরপেক্ষতার পূজারী, তবে এদেশে মিশনারী ও এক শ্রেণীর এনজিওকে ধর্ম প্রচারে তারা কিভাবে বিপুল অর্থের যোগান দিচ্ছে? প্রকৃতপক্ষে ইউরোপের ধর্মনিরপেক্ষতাটা একটা খোলস মাত্র। সেখানে সেসব স্কুলে বিবর্তনবাদও পড়ানো হয়, সেখানে শিক্ষককে আগেই ছাত্রদের কাছে মানবজাতির উদ্ভাবনের বাইবেল কথিত ব্যাখ্যা জানিয়ে দিতে হয়। প্রকৃতপক্ষে পাশ্চাত্যের নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় বাইবেলকে মৌলিক উপাদন হিসেবেই স্বীকৃতি দেয়া থাকে।

আমাদের দেশে দেশের মানুষের রাজনৈতিক বিভিন্নতার সুযোগ নিয়ে একদল ধর্মবিরোধী বুদ্ধিজীবী সৃষ্টি করাই এখন পাশ্চাত্যের লক্ষ্য। এরা ঘোর ইসলামবিরোধী বলে ইতোমধ্যেই ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। এদের প্রধান কাজ হলো, যেকোনোভাবেই হোক ইসলামী মূল্যবোধগুলোকে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক ভাঁওতায় হাস্যকর করে তোলার চেষ্টা করা। এর সাথে যুক্ত হয়েছে পাশ্চাত্যের অর্থ সাহায্যপুষ্ট এনজিওগুলোর পরিকল্পিত ইসলাম উচ্ছেদ নীতির সাথে খৃস্টীয় মূল্যবোধকে শ্রেষ্ঠ প্রতিপন্ন করা।

একটি জনবহুল মুসলিম দেশে সম্ভবত এ ধরনের কূটনৈতিক বাড়াবাড়ির দৃষ্টান্ত অতিশয় বিরল। ঘটনাটি যত সহজে সরকার ও এ দেশীয় ইসলাম বৈরি বুদ্ধিজীবীরা হজম করে ফেলেছেন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে, সম্ভবত বিষয়টা জনগণ ও ইসলামী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ততটা সহজ প্রাচ্য নয়। আমরা জানি, বাংলাদেশের শহরে-বন্দরে, গ্রামে-গঞ্জে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক ধর্মীয় আবেগের বিপরীত খৃস্টীয় পাশ্চাত্যের কনভারসন পরিকল্পনা অত্যন্ত সাম্প্রদায়িক চেহারা নিচ্ছে। বাংলাদেশের গ্রামে-গঞ্জে পাশ্চাত্য সম্ব েএই প্রতিক্রিয়াই এখন গুমরে উঠতে যাচ্ছে।

আমাদের দেশে খল চরিত্রের বুদ্ধিজীবীদের স্বরূপটি বর্তমানে ধীরে ধীরে উন্মোচিত হতে শুরু করেছে। তাদের বক্তব্য সব সময় স্পষ্ট নয়, আচরণও স্পষ্ট নয়। এরা যা বলে তা বিশ্বাস করে না, আবার যা বিশ্বাস করে তা বলে না। ফলে তাদের স্ববিরোধী বক্তব্য ও আচরণ আজকাল স্পষ্টভাবেই জনগণের সামনে ধরা পড়ছে। আমরা জানি, বাংলাদেশের প্রায় শতকরা নব্বইজন মানুষই মুসলিম। পবিত্র ধর্ম ইসলামে এদের অগাধ বিশ্বাস এবং এদের অনেকেই সচেতনভাবে ইসলামকে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান হিসেবে অনুসরণ করতে চায়। দিন দিনই এই সচেতন মুসলমানদের সংখ্যা বাড়ছে। ইসলামের শত্রু মহল এবং মুসলিম নামধারী বরকন্দাজরা বিভিন্ন ইসলামী ব্যক্তিত্ব ও ইসলামী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভীষণভাবে শত্রুভাবাপন্ন।

ইসলামের বিরুদ্ধে যে যাই বলে বা করে, সরকার মুখ খোলেন না, পদক্ষেপ নেয়ার কথা তো চিন্তাও করা যায় না। একটার পর একটা ঘটনা ঘটছে, সুযোগ সন্ধানীরা এই সুযোগে একটার পর একটা সুযোগের সদ্ব্যবহার করছে। সরকারকে একটি কথা জিজ্ঞাসা করি, আল্লাহ না করুন, যদি কোনোদিন কোনো পরদেশী বাহিনী এসে এই রাজধানীতে ঢুকে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করে যে, এ দেশ আমাদের তাহলেও কি সরকার মুখ বন্ধ করে থাকবেন? জিজ্ঞাসা করি আর কত দেখবেন? ব্লগাররা কি ভাবছেন?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28729026 http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28729026 2007-09-02 14:56:22
মাহে রমজানের প্রস্তুতির মাস শাবান " style="border:0;" /> থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি নবীজীকে জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ। আপনাকে শাবান মাসে অন্যান্য মাস অপেক্ষা বেশি নফল রোজা রাখতে দেখি।

শাবান মাসের বড় ফযিলত হলো এ মাসে শবে বরাতের মতো একটি নেয়ামত রয়েছে। ১৪ শাবান দিবাগত রাতই এই মহিমান্বিত রজনী। সারারাত ইবাদত বন্দেগী ও আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করে পরের দিন রোজা রাখার কথা বলা হয়েছে হাদীস শরীফে। এটাও মাহে রমজানের প্রস্তুতি। হযরত আলী (রা<img src=" style="border:0;" /> থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা<img src=" style="border:0;" /> বলেন- যখন শাবান মাসের মধ্যবর্তী তথা ১৫ তারিখের রাত আসে তখন তোমরা (ইবাদত বন্দেগীতে মশগুল থেকে) রাত্রি জাগরণ কর এবং দিনের বেলা রোজা রাখ। কেননা ওই রাত আরম্ভ হওয়া মাত্রই আল্লাহর রহমত বিশ্ববাসীর অতি নিকটবর্তী এসে যায় বিশ্ববাসী খুব সহজেই তা আহরণ করতে পারে। সূর্যাস্তের পরক্ষণেই আল্লাহর পক্ষ থেকে ঘোষণা আসতে থাকে- কে আছে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করে দিব। কে আছ আমার কাছে রিযিক চাইবে? আমি তাকে রিযিক দিব। কে আছ রোগে শোকে, বালা মসিবতে পতিত? আমি তাকে মুক্তি দিব ও শান্তি দিব। এভাবে ফজর পর্যন্ত আল্লাহ এক-একটা অভাবের কথা উল্লেখ করে ঘোষণা দিতে থাকবেন। (ইবনে মাজাহ) পরিশেষে একটি কথা যা না বললেই নয়। রোজার এখনও প্রায় একমাস বাকি, কিন্তু আমাদের ব্যবসায়ী ভাইয়েরা ইতিমধ্যে রোজার প্রস্তুতি নিতে আরম্ভ করেছেন। তারা প্রয়োজনীয় জিনিস মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছেন। রোজার কয়েকদিন আগে হঠাৎ করে আবার নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোর দাম বাড়িয়ে দিবেন। দু:খজনক হলেও সত্য যে, এটা আমাদের দেশের ব্যবসায়ীদের এক ধরনের অপকৌশল। যা বিশ্বের অন্যান্য দেশে সচরাচর দেখা যায় না। আমাদের ব্যবসায়ী ভাইয়েরা এ কথা বুঝেন না যে, রমজান মাসে তাদের বিক্রি বেশি হবে এবং মুনাফাও তারা বেশি পাবেন। খামোখা মানুষকে কষ্ট দিয়ে লাভ কি? সত্যিকারে জ্ঞান ও মানবতার দরদ থাকলে তারা এহেন জঘন্য কাজ কখনো করতেন না।

(মূল লেখা: মুফতী মীযানুর রহমান রায়হান)

^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
ব্লগার ভাইদের কাছে অনুরোধ - আপনাদের ব্লগিং সিডিউল রোজার জন্য পরিবর্তন করুন। কোনো ভাবেই যেন নামায ক্বাজা না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তারাবীহর নামাজও মসজিদে গিয়ে আদায়ের চেষ্টা করবো সবাই, এ নিয়্যত করি।

আমি কিছু ভুল বললে আল্লাহ ক্ষমা করুন। আল্লাহ সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28726532 http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28726532 2007-08-19 00:57:53
নতুন সকাল স্বপ্ন দেখার তিব্র আকাল ,
ভাঙছে রাস্তা ভাঙছে পথ
মনের ভেতর শুধুই ক্ষত ।

জালেম রাজা দিচ্ছে হানা
মুমিন বিশ্ব পথ চেনে না ,
আলকুরআনের বাণীর কথা
সত্য হবে যথা তথা ।

দলে এসো বন্ধু আমার
সময় হলো পথে নামার ,
ঐ আকাশের সূর্য্য লাল
বিজয় মোদের হবেই কাল ।

২২ রজব, ১৪২৮ হিজরি
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28724548 http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28724548 2007-08-07 11:43:35
তোমার কাছে একটি দুপুর আমি চেয়েছি মাত্র
ক'টা মুহুর্ত আর?
সবাই যখন চেয়ার টেবিল ছেড়ে
চলে গিয়ে আলস্য ঝাড়ে, আমি তখন
প্রার্থনা করি তোমার।

২১ রজব, ১৪২৮ হিজরি
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28724470 http://www.somewhereinblog.net/blog/azamiblog/28724470 2007-08-06 18:04:48