আমার প্রিয় পোস্ট

timursblog@yahoo.com

মার্ক টোয়েন (পর্ব 8)

০৯ ই মার্চ, ২০০৭ রাত ১১:০৬

শেয়ারঃ
0 0 0

আস্তে আস্তে দুই পত্রিকার বা বলা ভাল, সম্পাদক/প্রকাশকের কাজিয়া জমে উঠল, অবশ্য ব্যাপারটা শুরুতে কলমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, স্যাম আর লেয়াডের্র অতি-উৎসাহী বন্ধুরা এই আগুনে ঘি ঢালতেন । সেকালের রেওয়াজ ছিলো এরকম ব্যাপারে একপক্ষ বেশি বাড়াবাড়ি করলে অন্য পক্ষ ডুয়েলের আহ্বান করতেন ।

লেয়ার্ড শিষ্টাচারের সীমা ছাড়িয়ে গেলে (খুব সম্ভব মার্ক টোয়েনকে ঘোড়াচোরের ছেলে বা ঐ জাতীয় কোন বাড়াবাড়ি সম্বোধন করেছিলেন লেয়ার্ড !!), স্যামের বন্ধু স্টিভ গিলিস স্যামের হয়ে ডুয়েলের চ্যালেঞ্জ জানালেন (স্যাম কে না জানিয়ে !) । প্রথম বার লেয়ার্ড উত্তর দিলেননা, দ্বিতীয়বারও না, এন্টারপ্রাইজ কর্মীরা বেশি বাড়াবাড়ি করলে লেয়ার্ড দিনক্ষন ঠিক করে দিয়ে চ্যালেঞ্জ গ্রহন করলেন ।

স্যামের বন্ধুরা এসে জানালেন তাঁরা কি করে ফেলেছেন ! রাজি না হলে, স্যাম ভেবে দেখলেন এই শহর ছাড়তে হবে (ইজ্জত কা সওয়াল!) । আর রাজি হলে জান নিয়ে টানাটানি ।

মার্ক টোয়েন ঘটনাটা এতো কেলেংকারিজনক মনে করতেন যে বহুকাল এব্যাপারে তিনি কাউকে কিছু বলেননি বা লেখেননি । তেতালি্লশ বছর পর 1906 সালে নিরবতা ভেঙে মাই অটোবায়োগ্রাফি তে লিখলেন ।

[ইটালিক]আমার বন্ধুরা এতো খুশি হলেন যে ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়, তাঁরা আমাকে নিয়ে গিয়ে উইল করালেন, এতে আমার দুশ্চিন্তা আরো বেড়ে গেলো, ভোর পাঁচটা এই ট্র্যাজেডির জন্য নির্ধারন করা হয়েছে, কিন্তু আমাকে যেতে হবে ভোর চারটায়, কারন রিভলভারটা কিভাবে ধরতে হয়ে তা জানা নেই আমার (!?!) ।

শহর থেকে মাইল দুই দুরে একটা খামারবাড়ির পাশে একটা পাহাড়ী খাদে চাঁদমারি বানালাম আমরা । খামারবাড়ির বাইরের ঘরের একটা দরজা আর বেড়ার একটা খুঁটি তুলে নিয়ে এলাম টার্গেট প্র্যাকটিসের জন্য , খামারের মালিক তখন সেখানে ছিলেননা তাই না বলেই নিয়ে নিলাম। পাহাড়ের ঢালে দরজাটা রেখে তার উপর খুঁটিটা রাখা হোল ।

গুলিভর্তি একটা রিভলভার আমার হাতে দিয়ে বলা হোল খুঁটিটায় লাগাতে, চেম্বার খালি করে করে ফেললাম কিন্তু একটা গুলিও খূঁটি তো দুরের কথা দরজাতেও লাগলো না । আবার চেষ্টা করলাম ফলাল তথৈবচ, যে দুয়েকটা গুলি যে দরজায় লাগলো তাই ভাগ্য মনে হোল ।

ওদিকে পাশের একটা খাদ থেকেও গুলির আওয়াজ ভেসে আসছিলো, লেয়ার্ড গুলি ছোঁড়ায় খুবই পটু, কিন্তু তবু শানিয়ে নিচ্ছিলেন । আমি দমে গেলাম, মনে হোল আমার জীবনের বোধহয় এটাই শেষ সুর্যোদয়, কেমন করে এতে জড়িয়ে পড়লাম ভেবে আশ্চর্য হয়ে গেলাম ।

আমার আনাড়িপনায় বন্ধু স্টিভ গিলিসের ধৈর্যচ্যুতি ঘটলো, আমার হাত থেকে পিস্তলটা কেড়ে নিয়ে প্রায় তিরিশ গজ দুরে ঝোপের ওপর বসা একটা ছোট্ট চড়ুই পাখির মাথা উড়িয়ে দিলো, সেই মুহুর্তে লেয়ার্ড আসছিলেন এদিকে আমি কেমন মকশো করছি দেখতে ।

'কে মারল পাখিটা?'

আমি কিছু বলবার আগেই স্টিভ বললো

'ক্লিমেন্স মেরেছেন''

'আচ্ছা চমৎকার টিপ, আচ্ছা সবসময়ই কি তিনি এরকম পিস্তল চালান?'

'তা পাঁচটা গুলি করলে চারটাই এরকম লেগে যায়'

লেয়ার্ডকে খুব চিন্তিত মনে হোল, দ্রুত কেটে পড়লেন সংগীদের সাথে নিয়ে তিনি । শিগগিরই নিজের হাতে লেখা চিঠি এলো লেয়ার্ড লড়তে রাজি নন । ভুল বোঝাবুঝিটা একান্তই লেখালেখি সংক্রান্ত, সেভাবেই মিটিয়ে ফেলতে পারলে তিনি খুশি হবেন ।'[/ইটালিক]

 

প্রকাশ করা হয়েছে: আঁতেলোগ্রাফি  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মার্চ, ২০০৭ রাত ১২:৫৮ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১০ ই মার্চ, ২০০৭ ভোর ৫:৪৩
অতিথি বলেছেন: মহা ফাড়া গেছে!!! ভাগ্যিস......

ঐ বন্ধুকে ধন্যবাদ.... নাইলে কি আর মার্ক টোয়েনকে পেতাম!

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৯৭৫ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক!
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ