আমার প্রিয় পোস্ট

timursblog@yahoo.com

রুশদেশের সত্যিকথা ১৯

২৮ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ৯:০০

                       

রাশিয়াকে সামরিক সংঘর্ষে হারাতে পারবে এমন বিশ্বাস জাপানের তখনও ছিল না । জাপানের প্রধানমন্ত্রী হিরোবুমি ইতো তাই প্রথমে রাশিয়ার সাথে কুটনৈতিক সংলাপ চালাতে আগ্রহী ছিলেন । ১৯০৩ সালের জুলাইয়ের আঠাশ তারিখে সেইন্ট পিটার্সবু্র্গে জাপানের রাষ্ট্রদূত একটি আপোষ ফর্মুলা রুশ সরকারের কাছে পেশ করেন ।

কিন্তু রাশিয়ানরা গবেটের মতো এর কোনো উত্তর দেবার প্রয়োজন মনে করে নি । পরের বছর ফেব্রুয়ারী মাসেও রুশ পররাষ্ট্র দফতরের কাছ থেকে কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে রাশিয়া ত্যাগ করার নির্দেশ পান । ফেব্রুয়ারীর ছয় তারিখে জাপান, রাশিয়ার সাথে কুটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে ।

ফ্রেব্রুয়ারীর আট তারিখে জাপান রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করলো । আসলে যুদ্ধ ঘোষনার আগেই জাপানের নৌ ও স্থল বাহিনী আক্রমণের জন্য শক্ত অবস্থান নিয়ে ফেলেছিল । জার নিকোলাসের জন্য এটা ছিল বড় রকমের একটা ধাক্কা, ক্ষুদে জাপান যে বিশাল রাশিয়ার বিরুদ্ধে যু্দ্ধ ঘোষনা করবে এটা তিনি ভাবতেও পারেন নি এবং তাঁর সামরিক উপদেষ্টারাও সেরকম কোনো আভাস দেয় নি । আট দিন পরে রাশিয়া আনুষ্ঠানিক ভাবে জাপানের বিরুদ্ধে যু্দ্ধ ঘোষনা করে ।

ফেব্রুয়ারীর আট তারিখ রাতে, অ্যাডমিরাল হেইহাচিরো তোগো পোর্ট আর্থারের উপর নৌ আকস্মিকভাবে আক্রমণ শুরু করেন, রাত গড়িয়ে যখন সকাল হচ্ছে তখনও জাপানের আক্রমণ অব্যাহত ছিল । কিন্তু তোগো খুব একটা সুবিধা করে উঠতে পারছিলেন না, তিনি ভেবেছিলেন রাশিয়ানরা পাল্টা আক্রমণ চালাবে । কিন্তু রুশ নৌবহর, পাল্ট আক্রমনে যেতে কোনো আগ্রহ দেখালো না, আর বন্দরটা মাটিতে স্থাপিত কামানের ব্যাটারি দিয়ে চমৎকার ভাবে সুরক্ষিত ছিল ।

অ্যাডমিরাল তোগো ভুল তথ্য পেয়েছিলেন স্থানীয় গুপ্তচরদের কাছ থেকে । টিকটিকিরা জানিয়েছিল যে পোর্ট আর্থার ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় কঠিন প্রতিরক্ষা আছে । আসলে রুশরা তাদের তহবিলের একটা বড় অংশ খরচ করেছিল কাছের দালনি নামে একটা জায়গার পিছনে এবং আক্রমণে রাতে রুশ অফিসারদের একটা বড় অংশ দালনিতে পার্টিতে ব্যাস্ত ছিল । গুপ্তচরদের কথায় প্রভাবিত হয়ে তোগো তাঁর সবচেয়ে মুল্যবান জাহাজগুলোকে তীরের খুব কাছে আনেন নি । নাইলে সে রাতেই হয় তো পোর্ট আর্থারের পতন ঘটতো ।

তবে এই নৌ আক্রমণ, কোরিয়াতে জাপানের স্থল আক্রমণের জন্য চমৎকার কাভার সৃষ্টি করল । জাপানী বাহিনী, কোরিয়ার ইনচেওনে সৈন্য নেমে পড়ল ও সিওল সহজেই তাদের কব্জায় চলে এল । জেনারেল কুরোকি ইতেই এপ্রিলের শেষের দিকে পুরো কোরিয়ান উপদ্বীপের দখল নিয়ে ইয়ালু নদী পার হবার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন । ইয়ালুর ওপারেই রুশ নিয়ন্ত্রিত এলাকা ।

এই পর্যন্ত বলা যায় সবকিছুই জাপানের নিয়ন্ত্রণে ছিল । রুশরা সাইবেরিয়ার হাজার হাজার মাইল, বিশাল প্রান্তর পেরিয়ে সৈন্য পাঠাতে গিয়ে যথেষ্ট বিপাকে পড়ছিল অপর দিকে গোটা এলাকাটা ছিল একেবারে বাড়ির পিছনের উঠানের মতো । রাশিয়ার অন্য দুটো নৌ বহর ছিল কৃষ্ণ সাগর আর বাল্টিক সাগরে । রাশিয়া বাল্টিক সাগর থেকে তাদের সবচেয়ে বড় নৌ
বহরের উল্লেখযোগ্য জাহাজগুলো প্রশান্ত মহাসাগরে পাঠাতে মনস্থ করল ।

ছবি: পোর্ট আর্থারের তেলের ডিপোতে অগ্নিকান্ড

 

 

  • ০ টি মন্তব্য
  • ১২৬বার পঠিত
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ০ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি

 



 


জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক!
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৩৮২৮২