somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার ছেলেবেলা

০২ রা অক্টোবর, ২০১১ রাত ১১:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বোনেরা বলে আমি নাকি ভীষণ বদ ছিলাম! ছোট থাকতে আমরা তিন বোন এক ভাই ছিলাম পিঠাপিঠি। আমরা বড় হয়ে যাওয়ার পর আরেক বোনের আগমন ঘটে। ফলে এখন আমরা চার বোন পারুল ও এক ভাই চম্পা।
ছোট ছিলাম যখন খেলা ধুলার দিকে খুব ঝোঁক ছিল। ব্যাডমিন্টন, ফুটবল, দাবায় ছিলাম তুখোড়। সেই সুবাদে তিন বোনের সাথেও মাঝে মাঝে ফুটবল খেলতাম বাসার উঠানে। তাদের তিনজন এক দল আর আমি একদল। আমি একাই গোলকীপার, রক্ষনভাগ এবং স্ট্রাইকার। তিনবোনের বিরুদ্ধে একা হয়েও পূর্ণ প্রাধান্য নিয়ে খেলে তাদের হালি হালি গোলে পর্যুদস্ত করে দিতাম।
বাসায় বোনদের মাঝে একমাত্র ছেলে হওয়ায় নারী সংস্কৃতি আমার উপর যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করেছিল। তাই খালা যখন দোকানে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করতেন কোন খেলনাটা নিবি? আমি পিস্তল, গাড়ী, প্লেন না নিয়ে হাড়িপাতিলের সেট নিতাম। তিন বোন খুব পুতুল খেলত। কাজেই আমিও পুতুল চাইলাম। তাদের শাড়ী পরানো তিনটা মেয়ে পুতুল ছিল। মিষ্টির বাক্সে ছিল পুতুলের বাড়ী। ওখানেই পুতুলের খাওয়া, গোসল, ঘুম সব হত। আমি পুতুল চেয়ে চরম বর্ণ-বৈষম্যের শিকার হলাম। বড় আপা আমাকে লুঙ্গী পরা একটা ব্যাটা পুতুল বানিয়ে দিল।
ছোট বোন দুজনের ওপর আমার অত্যাচারের মাত্রা যথেষ্ট ছিল। পাশ দিয়ে গেলেই একটা খোঁচা, না হয় একটা চিমটি, নিদেনপক্ষে একটা ল্যাং মেরে দিতাম। বড় হওয়ার পর জানতে পারি তারা দুইজন নামাজ পড়ে একসাথে হাত তুলে আল্লাহ্র কাছে দোয়া করত “আল্লাহ্ বাবু যেন দোযখে যায়!”
মনে পড়ে, ছোট থাকতে বাসায় আমাদের জন্য ‘কিশোর বাংলা’ পত্রিকা রাখা হত। একদিন বড় আপা হকারের হাত থেকে কিশোর বাংলা পত্রিকা নিয়ে পড়তে শুরু করে। পত্রিকা পেতে দেরি হবে এটা কি করে হয়? আমি বড় আপার সাথে পত্রিকা নিয়ে কাড়াকাড়ি শুরু করলাম। আব্বা আমার পিঠে ছোট একটা চড় বসিয়ে দিলেন। কিন্তু আমি আরো বড় ধরনের মারের আশঙ্কায় এমন চীৎকার হৈ চৈ শুরু করলাম যে আম্মা ব্যস্ত হয়ে তেল গরম করে আমার পিঠে মালিশ করতে লাগলেন আর আব্বাকে তীব্র ভর্ৎসনায় জর্জরিত করতে লাগলেন।
বড় আপা ছিল রবীন্দ্র সাহিত্যের মত সত্যবাদী আর ভাল। তাই আমার দুই বোন তার দলে থাকত। এতে আমার মান-সম্মান কিছুই আর থাকে না। সবার ছোট বোনটাকে অনেক চেষ্টা করেও দলে ভিড়াতে পারতাম না। সে অনেকটা বড় আপা টাইপের ছিল। কিন্তু মেজো বোনটাকে মারের চোটে হাড় গুড়া করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আমার দলে আনতে সক্ষম হয়েছিলাম।
আরেকটা ছোট ঘটনা দিয়ে শেষ করি। আগেই বলেছি মেজো বোন মারের ভয়ে আমার দলে থাকত। একদিন খেলার ছলে আমার বাসায় তাকে দাওয়াত করি। সে আমার বাসায় (আমার বাসা ছিল আমার পড়ার টেবিলের তলা) আসলে তাকে নাস্তা পানি করতে দেই এবং তার জন্য রাখা দুটো তেলাপোকার ডিম ভেঙে তাকে সত্যি সত্যি খাইয়ে দেই!
৮টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×