বোনেরা বলে আমি নাকি ভীষণ বদ ছিলাম! ছোট থাকতে আমরা তিন বোন এক ভাই ছিলাম পিঠাপিঠি। আমরা বড় হয়ে যাওয়ার পর আরেক বোনের আগমন ঘটে। ফলে এখন আমরা চার বোন পারুল ও এক ভাই চম্পা।
ছোট ছিলাম যখন খেলা ধুলার দিকে খুব ঝোঁক ছিল। ব্যাডমিন্টন, ফুটবল, দাবায় ছিলাম তুখোড়। সেই সুবাদে তিন বোনের সাথেও মাঝে মাঝে ফুটবল খেলতাম বাসার উঠানে। তাদের তিনজন এক দল আর আমি একদল। আমি একাই গোলকীপার, রক্ষনভাগ এবং স্ট্রাইকার। তিনবোনের বিরুদ্ধে একা হয়েও পূর্ণ প্রাধান্য নিয়ে খেলে তাদের হালি হালি গোলে পর্যুদস্ত করে দিতাম।
বাসায় বোনদের মাঝে একমাত্র ছেলে হওয়ায় নারী সংস্কৃতি আমার উপর যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করেছিল। তাই খালা যখন দোকানে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করতেন কোন খেলনাটা নিবি? আমি পিস্তল, গাড়ী, প্লেন না নিয়ে হাড়িপাতিলের সেট নিতাম। তিন বোন খুব পুতুল খেলত। কাজেই আমিও পুতুল চাইলাম। তাদের শাড়ী পরানো তিনটা মেয়ে পুতুল ছিল। মিষ্টির বাক্সে ছিল পুতুলের বাড়ী। ওখানেই পুতুলের খাওয়া, গোসল, ঘুম সব হত। আমি পুতুল চেয়ে চরম বর্ণ-বৈষম্যের শিকার হলাম। বড় আপা আমাকে লুঙ্গী পরা একটা ব্যাটা পুতুল বানিয়ে দিল।
ছোট বোন দুজনের ওপর আমার অত্যাচারের মাত্রা যথেষ্ট ছিল। পাশ দিয়ে গেলেই একটা খোঁচা, না হয় একটা চিমটি, নিদেনপক্ষে একটা ল্যাং মেরে দিতাম। বড় হওয়ার পর জানতে পারি তারা দুইজন নামাজ পড়ে একসাথে হাত তুলে আল্লাহ্র কাছে দোয়া করত “আল্লাহ্ বাবু যেন দোযখে যায়!”
মনে পড়ে, ছোট থাকতে বাসায় আমাদের জন্য ‘কিশোর বাংলা’ পত্রিকা রাখা হত। একদিন বড় আপা হকারের হাত থেকে কিশোর বাংলা পত্রিকা নিয়ে পড়তে শুরু করে। পত্রিকা পেতে দেরি হবে এটা কি করে হয়? আমি বড় আপার সাথে পত্রিকা নিয়ে কাড়াকাড়ি শুরু করলাম। আব্বা আমার পিঠে ছোট একটা চড় বসিয়ে দিলেন। কিন্তু আমি আরো বড় ধরনের মারের আশঙ্কায় এমন চীৎকার হৈ চৈ শুরু করলাম যে আম্মা ব্যস্ত হয়ে তেল গরম করে আমার পিঠে মালিশ করতে লাগলেন আর আব্বাকে তীব্র ভর্ৎসনায় জর্জরিত করতে লাগলেন।
বড় আপা ছিল রবীন্দ্র সাহিত্যের মত সত্যবাদী আর ভাল। তাই আমার দুই বোন তার দলে থাকত। এতে আমার মান-সম্মান কিছুই আর থাকে না। সবার ছোট বোনটাকে অনেক চেষ্টা করেও দলে ভিড়াতে পারতাম না। সে অনেকটা বড় আপা টাইপের ছিল। কিন্তু মেজো বোনটাকে মারের চোটে হাড় গুড়া করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আমার দলে আনতে সক্ষম হয়েছিলাম।
আরেকটা ছোট ঘটনা দিয়ে শেষ করি। আগেই বলেছি মেজো বোন মারের ভয়ে আমার দলে থাকত। একদিন খেলার ছলে আমার বাসায় তাকে দাওয়াত করি। সে আমার বাসায় (আমার বাসা ছিল আমার পড়ার টেবিলের তলা) আসলে তাকে নাস্তা পানি করতে দেই এবং তার জন্য রাখা দুটো তেলাপোকার ডিম ভেঙে তাকে সত্যি সত্যি খাইয়ে দেই!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

