সাল:২০০৯।
স্থান: সামহয়ারইন ব্লগ
আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু: প্রলয় টিয়া
শুরু করা যাক টিয়ার কথা দিয়ে:
টিয়া নামক মহিলা ব্লগার যার সাথে ব্লগেই পরিচয় হয় প্রলয় হাসান নামক আরেক ব্লগারের সাথে। টিয়ার প্রোফাইলে তার ইয়াহু আইডি দেয়া ছিলো। [email protected] ।
সেখান থেকেই তার ইয়াহু আইডি নিয়ে মেসেন্জারে চ্যাট করা শুরু করেন প্রলয় আহসান। এক সময় বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেয় প্ললয়। সম্ভবত মাঝখানে তাদের মধ্যে ঝগড়া লাগে। আর এতেই ব্লগার টিয়া তাদের চ্যাট কথোপকথোনের কিছু অংশ ব্লগে স্ক্রীণশর্ট আকারে প্রকাশ করে। স্ক্রীণশর্ট এ যা কথা বার্তা দেখা যায় সব কিছুই ছিলো ১৮ + ।
টিয়ার সেই পোস্ট যেখানে স্ক্রীর্ণশর্ট প্রকাশ করেছিলেন
ব্লগে এসে যে সত্য দেখলাম
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:১৬
ব্লগে আসা হইছিলো আমার বয়ফ্রেন্ড রিপনের হাত ধরে। আমি প্রথম কবিতাটা লিখসিলাম রিপনের কথা ভেবেই।কিছুদিন পর জানতে পারসিলাম রিপন তার আগের গার্লফেন্ডের সাথে সম্পর্কটা এখনও রেখে চলতেছে। আমি খুবই হতাশ হয়ে গেসিলাম সেই সময়ে, বলগে আসাও ছাইড়া দিছিলাম তখন। তখন ব্লগে আমার ইয়াহু আইডি দেখে আমাকে এড করে ব্লগার প্রলয় হাসান ও প্রতিফলন। আমি ইয়াহুতেও অনেকদিন আসতাম না অনেক কষ্ট পাইসি সেই সময় যখন আমাদের ব্রেকআপ হইছিলো। আমি এতটাই ভেংগে পরছিলাম সেই টাইমে একদিন প্রলয়ের সাথে কথা হইলো ওকে সব বলছিলাম। প্রলয় আমাকে অনেক সান্তনা দিছিলো ওই দিন। বলছিলো আমরা খুব ভাল বন্ধু হবো। আমিও অচেনা অজানা একজন এমন কাউকে বলে মনটা হালকা হইছিলো সেদিন। । এরপর প্রলয় কি যানি বলছিলো আমি রাগ কইরা চলে গেছি দেখি প্রলয় অফলাইন দিছে, সরি সরি জান। আমি প্রলয় কে সরাসরি বলছিলাম, জান কেন ডাকলা। প্রলয় সরি বললো সেদিন। পরেরদিনও প্রলয় জান ডাকলো আমি আবারও মানা করলাম। আমি একবার আঘাত সইসি রিপনের কাছ থেকে এরপর অন্য একটা নতুন সম্পর্কের কথা চিন্তা করা আমার জন্য কঠিন ছিল।
প্রলয় একদিন বলতেছিল সে আমাকে দেখতে চায়। আমি কোন কিছু না ভেবেই ছবি দিয়ে ফেলসি প্রলয়ও আমাকে তার ছবি দেখাইসিল। এখন বুঝি কি ভুলটা করসিলাম। আমার ছবি দেখার পর প্রলয় আমাকে মায়াবতী বইলা ডাকার কথা বলে। ওর বাসার নিছ তলার এক মেয়ে দেখতে খুব মায়াময় তাই ওকে মায়াবতি ডাকতো আমাকে মায়াবতি ডাকলে আমি কিছু মনে করবো কিনা। আমি না করি নাই। এরপর ওইদিন প্রলয় আমাকে বললো, "ধরবে আমার হাত দুটো?২৫ টি হেমন্ত এসে চলেও গেছে। কিন্তু তবু এ হাত বাড়াইনি কারো দিকে....আজ...এই প্রথম...তোমার দিকে বাড়ালাম।ধরবে আমার হাত দুটো?" আমি প্রলয়কে বলছিলাম, "তুমি কি জানো তুমি কি বলতেছো? তুমি আমার সাথে তোমার জীবনটাকে নস্ট কইরো না আমি দুখি একটা মেয়ে"। ও কথাটা হেসে উড়ায়ে বললো, "তোমার আর আমার গার্ডিয়ানের মত কথা বলতে হবেনা। তুমি কয়েকদিন ভাবো। তোমাকে তো টিয়া আমি আমার ব্যাপারে সব বলসি যে আমরা ২ভাই বাবা জয়েন্ট সেক্রটারী আর আমি অস্ট্রেলিয়াতে গভ: জব করি। আমি বলসিলাম এত কথা আমাকে কেন বলতেছো। সে বলে তার বউ দরকার মা খুজতেছে"। আমি বলসিলাম আমাকে একটু টাইম দাও। আমি এখন কোন ডিসিশনে যাইতে চাই না। এরপর ব্লগের আরেক ছেলে যে আমারে এড করসিলো, প্রতিফলনরে জিজ্ঞেস করসিলাম প্রলয় কেমন ছেলে। প্রতিফলন ভাই আমারে বলছিলো ভাল ছেলে। পরে আমি যখন তারে সবকিছু বলসিলাম তখন প্রতিফলন ভাই আমারে উনার গার্লফ্রেন্ড বরুনা আপুর সাথে আলোচনা করতে কনফারেন্স ডাকসিলো। ওরা ২জন আমাকে বলসিলো আগে ফ্রেন্ডশিপ করো। এত তাড়াহুড়ার কিসু নাই। আমি বলসিলাম প্রলয় টাইম দিতে চায় না। তখন প্রতিফলন ভাই বলসিলো মাত্র ৬/৭ বার চ্যাটিং কইরা কেমনে তুমি একটা সিদ্:ন্তে যাবা। আরো বলসিলেন টাইম নাও আর ওকে বুঝার চেষ্টা করো। প্রতিফলন ভাইয়ের সাথে কথা বলার পর। ওইদিন রাতে আমি অনলাইনে আসি খুব জরুরী একটা মেসেজ করার জন্য। তখন প্রলয় আমারে নক করে আমি বললাম আমার শরীর ভাল নেই আজকে চ্যাটিং করতে পারবো না। প্রলয় তখন মেয়েদের বিশেষ অবস্থার কথা বলে আমাকে নোংরা কথা বলে। আমার মেজাজ খারাপ হয়। আমি তাকে বোঝাইতে চাই এধরনের কথা আমার পছন্দ না। সে থামে না আমাকে আরো কইতে থাকে সে আমার ছবি এডাল্ট সাইটে ছাইড়া দিবে । কেবলই এইটা মনে হইতে থাকে মাত্র ৬/৭ দিন কথা বইলা কোন ছেলে কিভাবে একটা মেয়ের সাথে সেক্স করার কথা বলতে পারে। প্রলয়ের আসলরুপ সবার সামনে তুলে ধরার জন্য ওর নোংরা কথাগুলোতে সায় না দিয়া পারি না আর স্ক্রিনশট মারি। পুরুষ জাতটার উপরই আমার আর কোন রেসপেক্ট নাই। আমি ঘৃনা করি এদের আমার মত আর কোন মেয়ে যেন প্রলয়দের পাল্লায় না পড়ে তাই আমার এই পোস্ট। প্রলয়ের ছবি আমাকে দেয়ার আগে ও আমাকে প্রমিস করাইছিলো তার ছবি যেন আমি কাউরে না দেখাই। আমারে যদি এডাল্ট সাইটের ভয় সে দেখাইতে পারে তবে আমি তার ছবি ব্লগে দিয়ে কোন ধরনের প্রমিস ভাংতেছি মনে হয় নাই। তাই দিলাম।
আর এই পোস্টের পরেই ব্লগাররা দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন । কেউ যান টিয়ার পক্ষে আবার কেউ প্রলয়ের পক্ষে। কিন্তু প্রলয়ের কাছ থেকে ঘটনার পর পরই সে ঘটনার প্রেক্ষিতে কোনো পোস্ট করেননি। আর যখন নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য পোস্ট দিলেন ততদিনে ব্লগাররা যা বুঝার বুঝে নিয়েছিলেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

