somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত যে কারনে শর্ট লিস্টে নাই

২৪ শে জুলাই, ২০০৯ সকাল ১১:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত যে কারনে শর্ট লিস্টে নাই।[/sb

খবর টা যখন পেলাম তখন কইলজাডার মধ্যে একটা মোচড় দিয়ে উঠছিলো। সুন্দরবন শর্ট লিস্টে আছে কিন্তু কক্সবাজার নাই। অবাক হলাম, বোবা হয়ে গেলাম। কেনো এমন হলো? অথচ জানেন? গতাকাল দুপুরেই এক অধ্যাপকের সাথে কথা বলতে গিয়ে কত গর্ব করেইনা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের কথা বলেছিলাম, ইউটিউব থেকে তাকে ভিডিও ক্লিপও দেখিয়েছিলাম। তাকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বেড়ানোর জন্য আমন্ত্রণও জানিয়ে ছিলাম। তিনি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের নামই শুনেন নাই। যখন ইউটিউবে দেখাচ্ছিলাম তখন তিনিও অবাক হলেন। বললেন এতবড় একটা সমুদ্র সৈকত অথচ আমার ছাত্ররা সেটার নাম জানবে তো দূরে থাক আমিও জানি না। তার পরে উনি জানতে চাইলেন ঐখানে যাওয়ার, থাকা খাওয়ার এবং নিরাপত্তার কি ব্যাবস্তা আছে। বুঝেনই তো সাত পাঁচ করে বুঝ দিতে হয়েছে। উনি নিজেও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, তার ল্যাবের একটা মেয়ে তো বলেই ফেলছে আগামি ফেব্রুয়ারী তে সে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে আসবে। কারণ সে ভ্যাকেশানে কোন না কোন দেশে বেড়াতে যায়। আমার ল্যাবের মেয়েটা এ পর্যন্ত তিনটা দেশ ভ্রমণ করেছে আর এই মহুর্তে সে আছে হংকং-এ। কয়েক বছর আগে সে তাজমহল দেখে এসেছে। অবাক হলাম, কত বড় মুখ করে বলে আসলাম আর রাতেই দেখি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত সুপার ২৮ এ নাই। বিশ্বাসই হচ্ছিলো না। কারণ এতদিন ধরে তো লিস্টের প্রথমে-ই থাকতো। ভাবতে থাকলাম কেনো এমন হলো? যে যে বিষয়গুলো আমার বিবেচনায় এসেছে সে গুলো বলছি। আপনাদের ধারণাও শুনবো বলে আশা রাখছি।

১। প্রচারণার অভাব। উইকিপিডিয়া তে যেটুকু তথ্য আছে তা মোটেও সপ্তাশ্চর্য হওয়ার মত কিছু নয়।
২। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে দাবি করা হয় বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ স্যান্ডি সমুদ্র সৈকত, কিন্তু এর পক্ষে কোন সাপোর্ট নেই।
৩। আমরা বিভিন্ন অয়েব সাইট ভিজিট করলেই বিভিন্ন ধরণের এড দেখতে পাই, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত কে নিয়ে সে রকম কোন পদক্ষেপ এ যাবত কালে নেওয়া হয়েছে বলে আমার চোখে পড়ে নাই।
৪। মানুষ তাদের সামান্য কিছু দেখানোর মত থাকলেও সেটা সাজিয়ে গুছিয়ে বিদেশিদের/স্বদেশীদের সামনে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করে। আর আমরা আমাদের এমন একটা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে মানুষের কাছে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করবো তো দূরে থাক, বরং বিশ্রি ভাবে উপস্থাপন করি, আর কাউকে বলিও না।
৫। গতকাল গিয়েছিলাম জল্লাদো এর একটা জুয়েলারী মিউজিয়াম-এ। রেলওয়ে স্টেশানে ও বাস টার্মিনালে বড় করে সাইনবোর্ড ঝুলানো আছে, “ট্যুরিস্ট ইনফরমেশান এন্ড গাইড সেন্টার।“ গেলাম সেখানে। অনেক ধরণের ম্যাপ দিয়ে, কখন কিভাবে, কোথায় কোথায় যেতে পারবো, সুন্দর ইংরেজিতে বুঝিয়ে দিলেন দায়িত্ত্বরত কর্মকর্তা। ব্যাবহারে মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই। কোরিয়ানদের প্রত্যেকটা ট্যুরিস্ট স্পটে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত এবং স্বল্প খরচের যোগাযোগ ব্যবস্থা আছে। যায়গাটা খুব যে সুন্দর তা কিন্তু নয়, তবে খুব সুন্দর করে সাজানো গুছানো। আর তাই খুব ভলো লেগেছে জায়গাটা। আচ্ছা, আমাদের কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে কেউ বেড়াতে গেলে তাকে কতটা কষ্ট করতে হবে অনুমান করতে পারেন?
৬। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত যে বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ বালিময় সমুদ্র সৈকত, এ কথা কে বলেছে? আজ পর্যন্ত কেউ কি এই দাবির কোন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় করতে পেরেছেন বা চেস্টা করেছেন?
৭। কক্সবাজার সম্পর্কে ইন্টারনেটে বা আন্তর্জাতিক ভাবে তেমন কোন তথ্য-উপাত্ত না থাকলে তবে জুরি বোর্ড কেনো সেটাকে সিলেক্ট করবে?
৮। আন্তর্জতিক অঙ্গনে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের পরিচিত কেমন এবং পরিচিত করার চেস্টা কি কেউ কখনো করেছেন?
৯। দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দো ২৮ এ আছে। গতরাতেও অনেক হিসাব মিলালাম। সবচেয়ে বড় যে কারণ পেলাম, সেটা হচ্ছে অদের আন্তর্জাতিক সম্মেলনগুলো অরা জেজুদো তে করে। পাবলিক পয়সা দিয়েই ঐখানে যায় কিন্তু অদের এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত দ্বীপটা দেখেও আসে। যদিও সেখানে দেখার মত অনেক কিছু আছে আর যাবতীয় সুব্যবস্থা আছে। আগামী নভেম্বরে আমারও পা পড়তে পারে জেজু দো তে।
১০। গেলো কয়টা দিন ধরে টই টই করে কোরিয়ার বিভিন্ন সিটিতে ঘুরছি। বাস/ট্রেন থেকে নেমেই একটা ম্যাপ নেই। এর পরে হারানো বা ছিনতাই হওয়ার ইচ্ছে থাকলেও কোন সুযোগ নাই। জায়গামত ঠিকই গিয়ে পৌঁছি।

কেনো এই আত্মসমালোচনাঃ
শর্ট লিস্ট ২৮ থেকে ছিটকে পড়েছে আমাদের কক্স বাজার। কিন্তু এটাই কি শেষ? সপ্তাশ্চর্যে না থাকলেও কোন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কি বিশ্ববাসীর দৃষ্টি কাড়তে পারে না? আমাদের ঘুম কি এখনো ভাঙ্গবে না? আমরা কি পারি না আমাদের পর্যটন শিল্পটাকে আরো দায়িত্ত্বশীল ভুমিকায় দাড় করাতে? ঠিক মত প্রচারণা, যোগযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, থাকা খাওয়ার সুব্যাবস্থা, সার্বিক নিরাপত্তা, সুন্দর ভাবে উপস্থাপন, দায়িত্ত্বশীল নজরদারী, পর্যটকদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা, আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার, সর্বোপরি যা যা করা দরকার তা যদি আমরা দ্বায়িত্ত্ব নিয়ে এবং আন্তরিকতার সহিত করি, তবে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত পর্যটক তথা বিশ্ববাসীর নজর কাড়বেই। আর পাশাপাশি আমাদের দেশের সুনাম যেমন বাড়বে তেমনি জাতীয় আয়ে এক বড় ভুমিকা পালন করবে। মাঝে মাঝে ভাবি এমন একটা সমুদ্র সৈকত যদি নব্য ভদ্রলোক দক্ষিণ কোরিয়ার থাকতো তবে এটা দিয়েই ওরা জাতীয় আয়ের অনেকটা করে নিতো।

লেখাটির লিংক-http://www.amarblog.com/Geducacha/71081

১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×