somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... সৌদি আরবে যারা মহিলা গৃহকর্মী পাঠাতে চান তারা যেন একটু ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নেন অধিকাংশ কফিল ও তাদের ছেলে-পুলেদের মন লাম্পট্যে ভরা। যৌন সুর সুরি মলূক অশ্লীল কথা বার্তা বাপ ছেলের সামনে-ছেলে বাপের সামনে প্রয়োগ করে পেলবে যা দেখে লজ্জায় আপনার মুখ লুকাতে ইচ্ছা করবে ।
ওরা নিজ মহিলা গৃহকর্মীদের সাথে কেমন ব্যবহার করতে পারে তা একটু খোজ নিলেই বুজতে পারবেন ।
আর বিস্তারিত বলার প্রয়োজন মনে করিনা । আমার তের বছরের প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করলাম মাত্র ।
তবে এদের জন্য ইসলাম এবং পুরা আরব জাতিকে বর্বর বলা যেতে পারে না। কিছু লোক আছেন খামাখা ইসলামকে টেনে এনে বিভিন্ন মন্তব্য করতে পারেন ।
মনে রাখতে হবে আরবদের ধর্ম ইসলাম নয় মুসলিমদের ধর্ম হচ্ছে ইসলাম ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/29357905 http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/29357905 2011-04-06 08:22:48
এই লজ্জা ঢাকি কেমনে ! বাংলাদেশ আজ একটি স্বাধীন দেশ । কিন্তু স্বাধীনতা কি মধুমাখা কথা ! ষোলকোটি মানুষ কি আজও স্বাধীন । এখন পাকিস্তানিদের পরিবর্তে আমাদের নেতা-নেত্রীরাই আমাদের উপর শোষন চালায় । গরীব জনগনের সম্পদ লুঠ করে নিজেদের নামে গাড়ি-বাড়ি,বড় বড় অঠ্রালিকা গড়ছে । কথায় কথায় হরতাল,ধর্মঘট আর অবরোধের নামে দেশের ষোলকোটি মানুষকে জিম্মী করে গনতন্ত্রের বুলি আওরায় । ওরা কি জনগনের শান্তি চায় ? চায়না,চায় ক্ষমতা । ক্ষমতার লোভে ওরা দিনকানা অন্ধ হয়ে গেছে । হাসিনা বলি আর খালেদা বলি ক্ষমতার লোভে তারা নিজেদের স্বার্থে 71-এর রাজাকারদের পদলেহন করে । আবার রাজনৈতিক মঞ্চে উঠে রাজাকা রাজাকার করে চিল্লা-চিলি্ল করে । বড় বড় বক্তৃতা দিয়ে কুত্তার মত ঘেউ ঘেউ করে ।
আসলে 71-এর রাজাকার আর আমাদের রাজনৈতিক কুত্তাদের মধ্যে কোন অমিল আছে কি-না আমার বুঝতে কষ্ট হয় ।
এখন রাজাকারের গাড়িতে লাল সবুজের পতাকা পত পত করে উড়ে । বিজয় দিবসে রাজাকারের মুখে যখন মুক্তিযুদ্ধ ও বিজয়ের কথা শুনি তখন নিজের লজ্জা ঢাকার জায়গা খুঁজে পাইনা । এ এক ভীষণ লজ্জা ! ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/28295 http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/28295 2006-12-16 04:46:29
জন স্বার্থে পোষ্ট-8 ঃ রক্তের ক্যান্সার --জাহাঙ্গীর আলম

সিএমএল কি?

লিউকেমিয়া হচ্ছে রক্ত ও অস্থিমজ্জার এক ধরনের ক্যান্সার (অস্থির ভেতরের অংশ, যেখানে রক্ত কণিকা তৈরি হয়)। লিউকেমিয়ার ক্ষেত্রে দুটো জিনিস ঘটে থাকে। প্রথমত, কিছু রক্ত কণিকা অস্বাভাবিক হয়ে পড়ে, দ্বিতীয়ত, আমাদের দেহ প্রচুর পরিমাণে এ সকল অস্বাভাবিক কোষ তৈরি করতে থাকে।
সিএমএল (ক্রনিক মাইলয়েড লিউকেমিয়া) হচ্ছে এক ধরনের লিউকেমিয়া। ক্রনিক বলতে বোঝায় এটি একটি ধীর গতির ক্যান্সার, যা পূর্ণতা লাভ করতে অনেক বছর সময় নেয়। মাইলয়েড হচ্ছে মাইলয়েড কোষ নামক এক ধরনের শ্বেত কণিকা হতে ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত অস্বাভাবিক রক্ত কণিকা। সুতরাং ক্রনিক মাইলয়েড লিউকেমিয়া হচ্ছে একটি ধীর গতির ক্যান্সার, যার ফলে দেহে প্রচুর পরিমাণে ক্যান্সার আক্রান্ত মাইলয়েড শ্বেত কণিকা তৈরি হয়। সিএমএল-এর তিনটি পর্যায় বা ধাপ রয়েছে। যেমন: ক্রনিক পর্যায়, একসিলারেটেড পর্যায় এবং ব্লাস্ট ক্রাইসিস পর্যায়। রোগীরা এসকল ধাপ ক্রমান্বয়ে অতিক্রম করার সাথে সাথে তাদের রোগের মাত্রা বাড়তে থাকে এবং শরীরে নানাবিধ উপসর্গ দেখা দেয়।

রোগের উপসর্গ ও লক্ষণসমূহ
সিএমএল মাঝ বয়সের একটি রোগ (বর্তমানে মধ্যবতর্ী বয়স হচ্ছে 42 বছর)। রোগীরা সাধারণত দুর্বলতা, রাতে ঘামানো, হালকা জ্বর নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে থাকে। এ সকল উপসর্গ অতিরিক্ত শ্বেত কণিকা তৈরি হওয়ার কারণে হয়ে থাকে। প্লীহার আকার বৃদ্ধির ফলে রোগী পেটে ভার ভার বোধ করে। এছাড়া ঘটনাক্রমে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বৃদ্ধি ধরা পড়ে। কিছু ক্ষেত্রে রোগীর শ্বাসকষ্ট ও ঝাপসা দৃষ্টির সমস্যা হয়। এ রোগের মাত্রা বৃদ্ধি (একসিলারেটেড পর্যায়ে) পেলে জ্বর হয়, তবে সংক্রমণ, অস্থিতে ব্যথা বা প্লীহার বৃদ্ধি হয় না। ব্লাস্ট ক্রাইসিস-এর ক্ষেত্রে অস্থিমজ্জার ব্যর্থতার ফলে রোগীদের রক্তক্ষরণও সংক্রমণের ঘটনা ঘটে।
কেন?
একজন ব্যক্তির সুস্থ অবস্থায় প্রাপ্ত নির্দেশনা (সিগনাল) দেহকে নতুন রক্ত কণিকা তৈরি করতে বলে। এই নির্দেশনা আদি রক্তকোষে পেঁৗছায়, যাকে বলে স্টেম কোষ। দেহের প্রয়োজনীয় রক্ত কণিকা তৈরির জন্যে নির্দেশনাগুলো স্টেম কোষকে সক্রিয় অথবা নিষ্ক্রিয় করে। একজন ব্যক্তির সিএমএল হলে, তার ডিএন-এতে একটি পরিবর্তন ঘটে, এর ফলে এই নির্দেশনা সব সময় সক্রিয় থাকে। নির্দেশনার এই সার্বক্ষণিক সক্রিয়তার জন্যে দেহ আরও অধিক পরিমাণে লিউকেমিয়া কোষ তৈরি করে।

চিকিৎসা পদ্ধতি
সিএমএল সাধারণত অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন বা ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা অথবা উভয়ের সমন্বয়ে চিকিৎসা করা হয়।
বি এমটি স্টেম কোষ ট্র্যান্সপ্ল্যান্ট (এসসিটি) হিসেবেও পরিচিত। এ ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতির দুটো ধাপ রয়েছে। প্রথমত, রোগীকে উচ্চ মাত্রার ওষুধ দেয়া হয়, যা অস্থিমজ্জার অধিকাংশ কোষকে নিমর্ূল করে (ক্যান্সার কোষ ও স্বাভাবিক কোষ)। দ্বিতীয়ত, ধ্বংসকৃত সকল স্টেম কোষকে কেবলমাত্র সুস্থ কোষ দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়। এ পুনঃস্থাপিত কোষগুলো অন্য কোন ব্যক্তি থেকে নেয়া হয় (এটি অ্যালোজেনিক ট্র্যান্সপ্ল্যান্ট নামে পরিচিত), এবং কখনও কখনও রোগীর নিজের দেহ থেকে নেয়া হয়ে থাকে (যা অটোলোগাস ট্র্যান্সপ্ল্যান্ট নামে পরিচিত)।
একজন রোগীকে অ্যালোজেনিক ট্র্যান্সপ্ল্যান্ট অথবা অটোলোগাস ট্র্যান্সপ্ল্যান্ট, যাই দেয়া হোক না কেন, একবার স্টেম সেল প্রতিস্থাপিত হলে তা রোগীর অস্থিমজ্জায় আশ্রয় নেয় এবং বৃদ্ধি পেয়ে রক্ত কণিকা তৈরি করে। কেবল মাত্র বিএমটি চিকিৎসার মাধ্যমেই কিছু ব্যক্তি সিএমএল হতে নিরাময় লাভ করতে পেরেছে। তাই চিকিৎসকরা তাদের রোগীর ক্ষেত্রে এটি প্রথম চিকিৎসা হিসাবে বিবেচনা করেন। দুর্ভাগ্যবশত এ পদ্ধতিতে অনেক ঝুঁকি রয়েছে এবং কেবল অল্প কিছু সংখ্যক রোগী এর জন্যে উপযুক্ত প্রাথর্ী হতে পারে।
যে সব রোগীর বিএমটি চিকিৎসা করা যায় না তাদেরকে ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা দেয়া হয়। সিএমএল চিকিৎসায় যেসব ওষুধ সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় তার তালিকা নিচে দেয়া হলো:
1. ইন্টারফেরন আলফা (আইএফএন-আলফা), ইন্টারফেরন হচ্ছে দেহে উৎপাদিত প্রাকৃতিক জিনিস। রোগীর দেহে বাড়তি ইন্টারফেরন ইনজেকশান দেয়ার ফলে লিউকেমিয়া কোষগুলোর বৃদ্ধি হ্রাস পায় (এবং তা আয়ু বৃদ্ধি করে), কিন্তু এর ফলে সিএমএল হতে সম্পূূর্ণ নিরাময় হয় না। আইএফএন-আলফা অনেক ক্ষেত্রে শুধু এককভাবে দেয়া হয়, এবং অনেক ক্ষেত্রে সাইটারবিন (আরা-সি নামে পরিচিত) সহযোগে দেয়া হয়। এই চিকিৎসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অসুবিধা হলো সহনীয়তা। অনেক ব্যক্তিই আইএফএন-আলফা চিকিৎসার পাশর্্বপ্রতিক্রিয়া সহ্য করতে পারেন না। সে জন্যে উন্নত সংস্করণ তৈরির প্রক্রিয়া চলছে যার মাধ্যমে রোগীরা আইএফএন-আলফা চিকিৎসা সহ্য করতে পারে। সিএমএল রোগের চিকিৎসা নতুন ওষুধ গি্লভেক আবিষ্কারের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়েছে।

গি্লভেক কিভাবে কাজ করে
গি্লভেক একটি কার্যকর থেরাপি যা সিএমএল রোগের কারণকে সুনির্দিষ্ট ভাবে স্থির করে। ইতিমধ্যে বলা হয়েছে যে সিএমএল রোগে একটি সার্বক্ষণিক নির্দেশনা দেহকে অব্যাহতভাবে অস্বাভাবিক শ্বেত রক্ত কণিকা তৈরি করে যেতে বলে। গি্লভেক এই নির্দেশনাকে বন্ধ করে দেয়। যার ফলে অতিরিক্ত শ্বেত কণিকা আর তৈরি হয় না।
এই প্রথম বারের মত সিএমএল রোগের কারণকে লক্ষ্য করে চিকিৎসা পদ্ধতি তৈরি হয়েছে। অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতির তুলনায় এটির একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে। বিএমটি চিকিৎসায় রোগীর অস্থিমজ্জার অধিকাংশ কোষ (ক্যান্সার কোষ ও সুস্থ কোষ) ধ্বংস হয়। পাশর্্বপ্রতিক্রিয়া প্রকট হতে পারে। কেমোথেরাপিতে ওষুধ রক্তে পেঁৗছে এবং যত বেশি সম্ভব কোষকে ধ্বংস করে। এক্ষেত্রেও ক্যান্সার কোষ ও সুস্থ কোষ উভয়ই ধ্বংস হয়। কিছু ধরনের ওষুধ গ্রহণের ফলে রোগীদের অনেক পাশর্্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং অনেক সময় তারা চিকিৎসা বন্ধ করতে বাধ্য হয়।
অন্যদিকে গি্লভেক ইউনিট লিউকেমিয়া কোষ উৎপন্নকারী সিগনাল বা নির্দেশনাকে লক্ষ্য করে কাজ করে। ফলে অধিকাংশ সুস্থ কোষ ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পায়। গি্লভেক সেবনকারী অধিকাংশ রোগীর পাশর্্ব-প্রতিক্রিয়াজনিত সমস্যা দেখা দেয় না।
এ চিকিৎসার লক্ষ্য হচ্ছে দু'টি। প্রথম লক্ষ্য, রক্তে অস্বাভাবিক শ্বেত কণিকার সংখ্যা, দ্বিতীয় লক্ষ্য এ রোগের অবস্থার অবনতি রোধ করা বা একে একটি কম ক্ষতিকর অবস্থায় রূপান্তর করা। একটি নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি হিসাবে গি্লভেক সেবনে এই দুটো লক্ষ্যই অর্জন হতে পারে। গি্লভেক-এর উপর ক্লিনিক্যাল সমীক্ষায় দেখা যায় যে, অধিকাংশ রোগীর রক্তে শ্বেত কণিকার সংখ্যা হ্রাস পায়। অল্প কিছু সংখ্যক রোগীর ক্ষেত্রে রোগের অবনতি রোধ হয়। প্রকৃত পক্ষে এসব রোগীর একটি অংশ সিএমএল রোগের শেষ অবস্থা হতে ক্রনিক পর্যায়ে রূপান্তর হয়।

রোগের ফলাফল
পূর্বে মধ্যবতর্ী বেঁচে থাকার হার ছিল 3-4 বছর। ইন্টারফেরন চিকিৎসার মাধ্যমে মধ্যবতর্ী বেঁচে থাকার হার বেড়ে 5-6 বছর হয়। গি্লভেক সেবনে বেঁচে থাকার হারের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটবে এবং এটি অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের জায়গা দখল করবে বলে আশা করা যায়। এই ওষুধের মাধ্যমে প্রথম অবস্থার ক্রনিক পর্যায়ের কম বয়সী রোগীদের ক্ষেত্রে নিরাময় হার এই ওষুধের মাধ্যমে 70-80% হবে বলে আশা করা যায়। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/25908 http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/25908 2006-11-26 07:58:57
জন স্বার্থে পোষ্ট-7 ঃ আপনার ডায়াবেটিস আছে কি? থাকলে কিভাবে নিমর্ূল করবেন?

হিরন্ময় দাস

আমরা দৃশ্যমান শত্রু নিয়ে এতটাই ব্যস্ত থাকি যে অদৃশ্য শত্রুর কথা বেমালুম ভুলে যাই। এই অদৃশ্য শত্রু বা ঘাতক আর কিছুই নয়, এটা হলো মানুষের শরীরের রোগ-ব্যাধি। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, এশিয়ায় সর্বাপেক্ষা মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করবে ডায়াবেটিস।

ডায়াবেটিস কি?

শরীর যখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে রক্তে গ্লুকোজ বা চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রিত রাখতে ব্যর্থ হয়, তখন এই পর্যায়কে ডায়াবেটিস বলা হয়। এই অবস্থায় দেহে পর্যাপ্ত ইনসুলিন উৎপন্ন হয় না। ইনসুলিন হলো এক প্রকার হরমোন, যা অগ্নাশয়ে তৈরি হয়। ইনসুলিন মাংসপেশী এবং টিসু্যর মধ্যে গ্লুকোজ স্থানান্তরের মাধ্যমে দেহে শক্তি যোগায়। কিন্তু ডায়াবেটিস হলে যেটুকু ইনসুলিন উৎপন্ন হয় সেটাও কার্যকরভাবে ব্যবহার হয় না। সাধারণত দু'ধরনের ডায়াবেটিস দেখা যায়। টাইপ-1 এবং টাইপ-2 ডায়াবেটিস।

টাইপ-1 ডায়াবেটিস

এই ধরনের ডায়াবেটিস অপেক্ষাকৃত কমবয়সী মানুষের মধ্যে দেখা যায়।

* এ ধরনের ডায়াবেটিসের হার শতকরা 10 থেকে 15 ভাগ।

* এই রোগ হওয়ার প্রকৃত কারণ আজও অজ্ঞাত। তবে সাধারণত ধারণা করা হয় ডায়াবেটিস হলো বংশগত। তাছাড়াও পারিপাশ্বর্িক অবস্থা, মানসিক কারণও এই রোগ হবার পিছনে ভূমিকা রাখে।

* অনেকের আবার এই রোগ একদম স্বাভাবিকভাবে অথবা হঠাৎ করে অথবা নাটকীয়ভাবেও হতে দেখা যায়।

* সাধারণত 30 বছরের মধ্যে এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

* অগ্নাশয়ের মধ্যে ইনসুলিন উৎপাদনকারী কোষ নষ্ট হয়ে যায়। তাই এক্ষেত্রে রোগীকে সুস্থ রাখতে হলে ইনসুলিন ইনজেকশন দেওয়া দরকার।

* টাইপ-2 ডায়াবেটিস: এধরনের ডায়াবেটিস বয়স্ক লোকদের হয়ে থাকে।

* অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই ধরনের ডায়াবেটিসের হার শতকরা 90 ভাগ।

* মানুষের দৈনন্দিন জীবন যাপনের কারণেও এই ধরনের ডায়াবেটিস হতে পারে। যেমন_শরীরের অতিরিক্ত ওজন, অলস জীবন এবং যে কোনও শারীরিক চাপের জন্যেও ডায়াবেটিস দেখা দিতে পারে। এছাড়া বংশগতির কারণেও ডায়াবেটিস হয়ে থাকে।

* এই ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস খুব ধীর গতিতে দেখা দেয়। কারণ রক্ত প্রবাহে খুব ধীরে ধীরে গ্লুকোস তৈরি হয়।

* 40 বছর বয়সে এই ধরনের রোগ হওয়ার আশংকা বেশি থাকলেও ইদানীং শিশু এবং কিশোর কিশোরীদের মধ্যেও এই রোগ ব্যাপক বৃদ্ধি পাচ্ছে।

* শরীরে ইনসুলিন তৈরি হয়। কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় কম। অথবা দেহের অতিরিক্ত চর্বি এই ইনসুলিনের কার্যকারিতা নষ্ট করে ফেলে।

বহুরূপী ব্যাধি: ডায়াবেটিস হলে, সেই সঙ্গে শরীরে আরও বহুবিধ রোগ বাসা বাঁধে। তাই একে বহুরূপী ব্যাধি বলা চলে।

যেমন_

রক্ত সঞ্চালন: অনেক দিনের ডায়াবেটিস মস্তিষ্কের রক্তবাহী ধমনী ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

হৃৎপিণ্ড: ডায়াবেটিস রোগীদের করোনারী আর্টারী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যা অনিবার্যভাবে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়।

স্নায়ুতন্ত্র: স্নায়ুসমূহ নষ্ট হয়ে কমে যাবে শরীরের সংবেদনশীলতা। ফলে হ্রাস পাবে যৌন শক্তি।

চোখ: অক্ষিগোলকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রক্তবাহী নালী ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে দৃষ্টিশক্তি কমে যায়। ডায়াবেটিস রোগীদের চোখে গ্লুকোমা ও ছানি পড়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

কিডনী: রক্তে দীর্ঘমেয়াদী গ্লুকোজের উপস্থিতির ফলে সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম রক্তবাহী নালী নষ্ট হয়ে যায়। যার ফলে কিডনীর উপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে।

রক্ত সঞ্চালন: দীর্ঘকালীন ডায়াবেটিসের ফলে রোগীর দেহে রক্ত সঞ্চালন বিঘি্নত হয়। ফলে স্নায়ুসমূহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ঊরু এবং পায়ে পচনশীল ঘা দেখা দিতে পারে। তখন পা কেটে ফেলা ছাড়া কোন উপায় থাকে না।

ডায়াবেটিস চিকিৎসা করবেন কিভাবে?

ডায়াবেটিস কখনও নিরাময় হয় না। কিন্তু এটাকে দারুণভাবে সুনিয়ন্ত্রিত রেখে সুস্থ, স্বাভাবিক ও দীর্ঘ জীবন যাপন করা সম্ভব।

যদি আক্রান্ত ব্যক্তি_

* স্বাস্থ্যকর ও পরিমিত খাদ্য গ্রহণ করে।

* পরিমিত ব্যায়াম করে।

* শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে।

* রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে।

* নিয়মিত মেডিক্যাল চেক-আপ ও ওষুধ গ্রহণ করে।

আগে উল্লেখ করা টাইপ-1 ডায়াবেটিসের জন্যে ইনসুলিন গ্রহণ করা অত্যাবশ্যক। টাইপ-2 ডায়াবেটিক রোগীদের সহজ নিরাময় পদ্ধতি হচ্ছে_সুশৃংঙ্খল জীবন যাপন।

আপনার ডায়াবেটিস আছে কিনা?

যদি আপনার নিম্নে উল্লেখিত সবগুলো অথবা যে কোন একটি উপসর্গ থেকে থাকে তবে আপনার ডায়াবেটিস আছে।

* অস্বাভাবিক পিপাসা বোধ করা এবং মুখ শুকিয়ে যাওয়া।

* ঘন ঘন প্রস্রাব পাওয়া।

* শরীর অতিরিক্ত অবসন্ন হওয়া। ঘন ঘন খিদে পাওয়া।

* আকস্মিকভাবে শরীরের ওজন কমে যাওয়া।

* শরীরের ক্ষত শুকাতে বিলম্ব হওয়া। বারবার ঘা হওয়া।

* দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া।

শতকরা 50 ভাগ ডায়াবেটিস রোগী এই সমস্ত উপসর্গ সম্বন্ধে কিছুই টের পায় না। টাইপ-1 ডায়াবেটিসের চাইতে টাইপ-2 ডায়াবেটিসের উপসর্গসমূহ কম বোঝা যায়। পরিশেষে বলা যায় সুশৃঙ্খল জীবন যাপন, পরিমিত ব্যায়াম ও নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ডায়াবেটিস রোগের একমাত্র চিকিৎসা। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/25905 http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/25905 2006-11-26 07:53:33
জন স্বার্থে পোষ্ট-6 ঃ অ্যান্টিবায়োটিক ডা. সৈয়দ মুহিব্বুল আবরার জাবের

অ্যান্টিবায়োটিক কি?

অ্যান্টিবায়োটিক এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ যা মানব শরীরের কোষসমূহকে অক্ষত রেখে শরীরের জন্য ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া সমূহকে ধ্বংস বা তাদের বংশবৃদ্ধির গতিকে নষ্ট করে দেবার মাধ্যমে কাজ করে।

একটি আদর্শ অ্যান্টিবায়োটিকের কি কি বৈশিষ্ট্য থাকা উচিত

* এটির জীবাণুবিরোধী কাজের বিস্তৃতি ব্যাপক হবে।

* জীবাণুর বংশবৃদ্ধির গতি কমানোর চেয়ে জীবাণু বিধ্বংসী ক্ষমতা বেশি থাকবে।

* শরীরে এটির শোষণ, বিতরণ এবং স্বাভাবিকভাবে বর্জ্য রূপে নির্গমিত হবে।

* এর জীবাণুধ্বংসী ক্ষমতা শরীরের অভ্যন্তরীণ রাসায়নিক পদার্থ, প্লাজমা প্রোটিন বা এনজাইম দ্বারা নষ্ট হবে না।

অ্যান্টিবায়োটিকের যৌক্তিক ব্যবহার

* ব্যাকটেরিয়ার উপর যথাযথ তথ্যের উপর নির্ভর করে ওই ব্যাকটেরিয়া বিরোধী অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা উচিত।

* একের অধিক অ্যান্টিবায়োটিক সেখানেই ব্যবহার করা উচিত যেখানে একটি অ্যান্টিবায়োটিক অপ্রতুল। অথবা যেখানে একটি অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি জীবাণুর প্রতিরোধ গড়ে তোলার সম্ভাবনা থাকে।

* ব্যাপক বিস্তৃতির কর্মক্ষম অ্যান্টিবায়োটিক নির্বিচারে ব্যবহার অনুচিত।

* যথাযথ রোগ নির্ণয়ের পর অ্যান্টিবায়োটিক উপযুক্ত মাত্রায় (উঙঝঊ), নির্ধারিত সময় বিরতিতে (ওঘঞঊজঠঅখ) এবং উপযুক্ত সময় পর্যন্ত (উটজঅঞওঙঘ) ব্যবহার করা উচিত।

* যে-সব ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয় করা যায়নি, সে ক্ষেত্রে সতর্কতার সাথে ব্যাপক বিস্তৃতির বা একের অধিক অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা যেতে পারে।

*রোগীর অন্যান্য শারীরিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা উচিত। যেমন: গর্ভাবস্থা, কিডনি ফেইলর (কওউঘঊণ ঋঅওখটজঊ).

অ্যান্টিবায়োটিক-এর অপব্যবহার

যেখানে রোগের কারণ ব্যাকটেরিয়া (ইঅঈঞঊজওঅ) নয়। যেমন ভাইরাসজনিত জ্বর (ঠওজঅখ ঋঊঠঊজ), মিসেল্স (হাম) চিকেন পক্স, মাম্পস ইত্যাদি। এসব ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার অবাধে করা অনুচিত ও উদ্বেগজনক।

* অপরিমিত মাত্রা (উঙঝঊ), দীর্ঘ বা অল্প সময়ের বিরতি (ওঘঞঊজঠঅখ), এবং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ব্যবহার না করা।

* অনেকে একটু পেট খারাপ, জ্বর-এর জন্য ফার্মেসী থেকে অ্যান্টিবায়োটিক জাতীয় অষুধ সেবন করেন এর ব্যবহার বিধি না জেনেই। পরবর্তীতে রোগী ওই সব অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে ফল নাও পেতে পারেন। কারণ অপরিমিত মাত্রা বা নির্বিচারে সেবনের ফলে ব্যাকটেরিয়া ওই সব অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি প্রতিরোধ গড়ে তোলে। একে ইঅঈঞঊজওঅখ জঊঝওঝঞঅঘঈঊ বলা হয়। তাই খুবই সতর্কতার সাথে চিকিৎসকের পরামর্শ মতে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা উচিত।

কি কি কারণে অ্যান্টিবায়োটিক দ্বারা চিকিৎসা বিফলে যেতে পারে

* কোন ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে যদি উপযুক্ত/যথাযথ অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার না করা হয়।

* নির্বিচারে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের ফলে যদি ব্যাকটেরিয়া ওই জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি আগেই প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

* অপর্যাপ্ত মাত্রা (উঙঝঊ), বা দুটি মাত্রা গ্রহণের সময় বেশি দীর্ঘ বা অল্প হয়, বা ব্যবহার কাল (উটজঅঞওঙঘ) অপর্যাপ্ত হয়। যেমন: কোন অ্যান্টিবায়োটিক যদি 500 মি. গ্রাম. করে 8 ঘণ্টা পর পর 7 দিন খেতে হয়, কিন্তু কেউ যদি মাত্রা নির্দিষ্ট সময় পর পর, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ব্যবহার করতে ব্যর্থ হন।

* কিছু কিছু শারীরিক অসুখ যেমন: ডায়াবেটিস (উওঅইঊঞওঝ) ব্লাড ক্যান্সার, এইড্স্ বা অ্যান্টিক্যান্সার জাতীয় অষুধ সেবনে অ্যান্টিবায়োটিকের কর্মক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে।

* যদি শরীরে সংক্রমিত ঋঙজঊওএঘ ইঙউণ,পূঁজ (চটঝ) বের করে দেয়া না হয়।

পরিশেষে: এটা আমরা জানতে পারলাম কেন, কিভাবে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা উচিত। মানুষ যুগ যুগ ধরে জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। মানবজাতির ঊষালগ্ন থেকে মানুষের এই নিরন্তর সংগ্রাম। অ্যান্টিবায়োটিক বিজ্ঞানের এক অন্যন্য আবিষ্কার। মানবকল্যাণে এর ভূমিকা প্রশ্নাতীত। আমরা যেন এর সঠিক প্রয়োগ ও ব্যবহার করে সর্বোচ্চ সুফল পেতে পারি সেজন্য একজন চিকিৎসককে অ্যান্টিবায়োটিক-এর চজঊঝঈজওচঞওঙঘ-এর পাশাপাশি এর ব্যবহার বিধি রোগীদেরকে ভালভাবে বুঝিয়ে দিতে হবে। রোগীদেরও এই অষুধটি গ্রহণে যথেষ্ট সচেতন হবার প্রয়োজন রয়েছে। ধীরে ধীরে অ্যান্টিবায়োটিক জঊঝওঝঞঅঘঈঊ বেড়েই চলেছে যা অত্যন্ত আশংকাজনক। নির্বিচারে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করে আমরা এই যুগান্তকারী অষুধটিকে নির্বিষ করে ফেলছি ব্যাকটেরিয়ার জন্য, যা ভয়াবহ অবস্থা বয়ে আনবে আমাদের জন্য। হাতুড়ে ডাক্তারদের মাধ্যমে এই অষুধটির অপব্যবহার মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। রোগের উপসর্গ কমে এলে অনেক শিক্ষিত লোকও অষুধটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ব্যবহার করতে চান না_অন্যদের কথাতো বলাই বাহুল্য। আসুন, আমরা সচেতনতার সাথে এই অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করে আমাদের নিজেদেরই রক্ষা করি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/25904 http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/25904 2006-11-26 07:49:20
জন স্বার্থে পোষ্ট-5 ঃ হাতের কাছেই মহৌষধ জমায়েত আলী

মশলার জগতে এক বিশেষ স্থান দখল করে রয়েছে গোলমরিচ। স্বাদে ঝাল হলেও কাঁচা মরিচ বা শুকনো মরিচের মত গোলমরিচের ঝাল তেমন উগ্র নয়। উপরন্তু একটু সুঘ্রাণও রয়েছে গোলমরিচের ঝালের। একারণে খাদ্যদ্রব্য ও নানা ধরনের তরকারিকে মুখরোচক করতে ব্যবহৃত হয় গোলমরিচের গুঁড়ো। এছাড়া মাছ ও মাংস রান্নার ক্ষেত্রে গোলমরিচের এক বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। এমনকি সুপ, আলুর দম, অর্ধসিদ্ধ ডিম ইত্যাদিকে মুখরোচক করতেও গৃহিণীরা আশ্রয় নেন গোলমরিচের। মরিচের গুঁড়ো সহযোগে তৈরি নাড়ু মজাদারই বটে।

বিশেষজ্ঞদের মতে গোলমরিচের আদি জন্মস্থান হলো দক্ষিণ এশিয়া। চিরঞ্জীব বনৌষধিতে উল্লেখ রয়েছে যে ভারতের দাক্ষিণাত্যের কানাড়া জেলার জঙ্গলে আগে গোলমরিচ অনাদরে অবহেলায় জন্মাতে দেখা যেত। পরে অবশ্য বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ওইসব এলাকায় গোলমরিচের চাষ ছড়িয়ে পড়ে। লতা জাতীয় বর্ষজীবী এই উদ্ভিদের জন্যে আমাদের দেশের মাটি বেশ উপযোগী। কারণ যেসব জায়গা সব সময় ভেজা থাকে সেখানে গোলমরিচ ভাল জন্মে। তবু বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত এর চাষ বিস্তৃত হয়নি। তবে সুখের বিষয় এই যে, শহর বন্দর এমনকি গ্রাম বাংলার প্রত্যন্ত এলাকায় মুদির দোকানে গোলমরিচ পাওয়া যায়। এ কারণে বলা যায় গোলমরিচ এমন একটা উপকারী মশলা যা সব সময় আমাদের হাতের কাছেই পাওয়া যায়।

গোলমরিচের উদ্ভিদগত নাম পাইপার নাইগ্রাম লিন। কেবল তরকারি রুচিসম্মত করার জন্যেই যে গোলমরিচ মশলা হিসেবে ব্যবহৃত হয় তা নয় আয়ুর্বেদিক মতে ওষুধ তৈরিতেও গোলমরিচ ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এই হিসেবে গোলমরিচের রয়েছে যথেষ্ট ভেষজগুণ। নিদ্রাহীনতা, টাক রোগ, ঢুলুনি রোগ, বিষাক্ত পোকার জ্বালা, ফিক ব্যথা, গনোরিয়া, ক্রিমি, নাসা রোগ, আমাশয় ইত্যাদি রোগে গোলমরিচের সফল ব্যবহার রয়েছে।

স্থূলদেহী বা হাল্কা পাতলা যে কোন ধরনের মানুষ নিদ্রাহীনতায় ভুগতে পারেন। এক্ষেত্রে একটি গোলমরিচ নিয়ে নিজের মুখের লালায় ঘষে কাজলের মত চোখে লাগাতে হবে (অবশ্য পুরো গোলমরিচটা ঘষে নেয়ার দরকার নেই)। এর দ্বারা নিদ্রাহীনতা চলে যাবে।

যেসব কীটপতঙ্গ কামড়ালে বা হুল ফোটালে জ্বালা করে যেমন বোলতা, ভীমরুল, কাঁকড়া, বিছা, ডাঁস ইত্যাদির জ্বালা দমন করতে গোলমরিচ পানিতে ঘষে তার সাথে 2-5 ফোঁটা ভিনিগার মিশিয়ে হুলবিদ্ধ স্থানে লাগালে জ্বালা প্রশমিত হয়।

কেবল যে মাথায় টাক রোগে চুল ওঠে যায় তা নয়। ভ্রু, গোঁফ, দাড়ি ইত্যাদি লোমশ জায়গায়ও টাক রোগ দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে ধানি পেঁয়াজের রস টাকের স্থানে লাগাতে হবে। এরপর ওই জায়গায় গোলমরিচ ও সৈন্ধব লবণ একসাথে বেটে লাগিয়ে রাখতে হবে। দেখা যাবে ব্যবহারের কয়েকদিন পর সেখানে নতুন চুল গজিয়েছে।

অনেকে ঢুলুনি রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। কথা বলতে বলতে মনের অগোচরেই তিনি ঘুমিয়ে যাচ্ছেন। এই অহেতুক দুষ্ট ব্যাধি দমনে মরিচ বেশ উপকারী। এক্ষেত্রে মুখের লালায় গোলমরিচ ঘষে চোখে কাজলের মত লাগাতে হবে।

কোমরে, পাঁজরে বা ঘাড়ে অনেকের ফিক ব্যথা হয়ে থাকে। এই ব্যথা নিরাময়ে আশ্রয় নিতে হবে গোলমরিচের। গোলমরিচের গুঁড়ো এক বা দেড় গ্রাম মাত্রায় গরম পানিসহ সকালে ও বিকেলে খেলে এই ব্যথা উপশম হবে।

এমন অনেক রোগ আছে যেগুলো হঠাৎ আক্রমণ করে থাকে। মূত্রাবরোধ হলো এমন একটি বেদনাদায়ক রোগ। এই রোগে প্রস্রাব একটু একটু হতে থাকে আবার থেমেও যায়। এক্ষেত্রে গোলমরিচ দু'গ্রাম নিয়ে চন্দনের মত বেটে একটু মিশ্রি বা চিনি দিয়ে শরবত করে খেতে হবে।

গনোরিয়া রোগকে আয়ুর্বেদিক মতে বলা হয় উপসর্গিক মেহ। এ রোগে প্রস্রাবের সময় বা পরে অথবা অন্য সময়েও টিপলে একটু পুঁজের মত বেরোয়। এক্ষেত্রে মরিচচূর্ণ 800 মিলিগ্রাম মাত্রায় দু'বেলা মধুসহ খেতে হবে। প্রথমে 2_3 দিন একবার করে খাওয়া ভাল।

শিশুদের ফুলো রোগেও মরিচ উপকারী। অনেক সময় দেখা যায় ঠাণ্ডা হাওয়া লাগলে বা প্রস্রাবের ওপর শিশু শুয়ে থাকলে এমনকি শীতকালে উপযুক্ত বস্ত্রের অভাবে শিশু ফুলে গেছে। এই অবস্থায় টাট্কা মাখনের সাথে 50 মিলিগ্রাম মরিচের গুঁড়ো মিশিয়ে সেটা একটু একটু করে জিভে লাগিয়ে দিতে হবে। শিশু তা চেটে খেয়ে ফেলবে, এতে ফুলোর উপকার হবে।

আয়ুর্বেদিক মতে অগ্নাশয় বা প্যানক্রিয়াস বিকারগ্রস্ত হলে তার পরিণতিতে রসবহ স্রোতের বিকার উপস্থিত হয়। আর এর ফলে জন্ম নেয় ক্রিমি। এর দরুন 2 থেকে 7-8 বছরের ছেলেমেয়েদের পেটের উপরের অংশে (দু'ধারের পাঁজরের হাড়গুলোর সংযোগস্থলের নিচে) মোচড়ানি ব্যথা হয়। এর ফলে শিশুর মাথা একটু বড় হয়ে যায়। মুখ দিয়ে পানি ওঠে না। যখন তখন পেটে ব্যথা ধরে। এক্ষেত্রে এই বয়সের বাচ্চাদের জন্যে 50 মিলিগ্রাম মাত্রায় মরিচের গুঁড়োর সাথে একটু দুধ মিশিয়ে খেতে দিতে হবে। দরকারবশত সকাল বিকাল দু'বেলাই খেতে দেয়া যায়।

নাসা রোগ ভয়ঙ্কর না হলেও ছোট নয়। এর লক্ষণ হলো: প্রথমে নাকে সর্দি, তারপর নাক বন্ধ হয়। কোন কোন সময় কপালে যন্ত্রণা হয়। ঘ্রাণশক্তির হ্রাস ঘটে। দুর্গন্ধও বেরোয় মুখ থেকে। খাবারের রুচি থাকে না। কারও কারও ঘাড়ে যন্ত্রণা হতে শুরু করে। আবার নাক দিয়ে রক্তও পড়ে। এক্ষেত্রে পুরনো আখের গুড় 5 গ্রাম, গরুর দুধের দই 25 গ্রাম এবং সেই সাথে এক গ্রাম মরিচের গুঁড়ো মিশিয়ে সকালে ও বিকেলে দু'বার খেতে হবে।

কথায় বলে লোভে পাপ আর পাপে মৃতু্য। খাওয়ার সময় লোভ সামলানো যায় না। আবার খেলেও হজম হয় না। একটু তেল, ঘি জাতীয় গুরুপাক জিনিস খেলে তো কথাই নেই। গলা, বুক জ্বালা করবে, অম্বলের ঢেকুর উঠবে। তারপর বমি হবে। কোন সময় এই ক্ষেত্র উপস্থিত হলে খাওয়ার পরই গোলমরিচের গুঁড়ো এক গ্রাম বা দেড় গ্রাম মাত্রায় পানিসহ খেতে হবে। এর দ্বারা সেদিনকার মত নিষকৃতি পাওয়া যাবে।

অনেকে প্রায়শই আমাশয় রোগে ভুগে থাকেন। আমাশয় হলে অনেক সময় আম বা মল বেশি পড়ে না। কিন্তু শুলুনি বা কোঁথানি থাকে যথেষ্ট। এক্ষেত্রে মরিচচূর্ণ এক বা দেড় গ্রাম মাত্রায় সকালে ও বিকেলে দু'বার পানিসহ খেতে হবে। এর দ্বারা আমদোষ 2-3 দিনের মধ্যেই চলে যাবে।

পেট গরম হলে অনেকক্ষত্রে কাশি দেখা দেয়। এ ধরনের কাশিতে সর্দি উঠে যাবার পর একটু উপশম হয় কিংবা পানি খেয়ে বমি হয়ে গেলে সেই কাশির উদ্বেগটা চলে যায়। এই অবস্থার সৃষ্টি হয় অগ্নাশয়ের বিকৃতি থেকে। এক্ষেত্রে গোলমরিচ গুঁড়ো করে কাপড়ে ছেঁকে নিয়ে সেই গুঁড়ো এক গ্রাম মাত্রায় নিয়ে একটু গাওয়া ঘি ও মধু মিশিয়ে অথবা ঘি ও চিনি মিশিয়ে সকাল থেকে মাঝে মাঝে একটু একটু করে 7/8 ঘণ্টার মধ্যে এটি চেটে খেতে হবে।

এখন বোঝা গেল গোলমরিচ মানুষের দেহের জন্যে কত উপকারী। আমাদের দেশে গোলমরিচের চাষ ব্যাপকভিত্তিতে করা প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।

(সৌজন্যে: আজকের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি)


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/25902 http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/25902 2006-11-26 07:43:35
জন স্বার্থে পোষ্ট-4 ঃ পিঠের ব্যথায় যা করণীয়-মাহবুবুর রহমান
ঠিকই বলেছেন তিনি। এমন মানুষ সত্যি খুঁজে পাওয়া যাবে না যে কোন না কোন সময় পিঠের ব্যথায় ভোগেনি। তবে আমেরিকান জার্নাল অভ ইন্ডাস্ট্রিয়াল মেডিসিন-এর মতে, পুরুষদের মধ্যে পিঠের ব্যথায় সবচে' ভোগে রাজমিস্ত্রী, কাঠ মিস্ত্রী, মেকানিক, ট্রাক ড্রাইভার এবং কৃষকরা। আর মেয়েদের মধ্যে এ উপসর্গটি দেখা যায় বেশি যারা হাসপাতালের নার্স, বাসার চাকরানী, ঝাড়ুদারনী, এবং হেয়ারড্রেসার তাদের মাঝে। যাঁরা লেখালেখির কারণে এক টানা টেবিলে বসে থাকেন তাঁদেরও পিঠ ব্যথার শিকার হতে হয় কখনও কখনও।

তবে পিঠের ব্যথা দূরীকরণের ওষুধ আছে আপনার হাতের নাগালেই। এজন্যে আপনাকে যা যা করতে হবে তা হলো:

1. নিজের যত্ন নিজেই করুন: ধরুন, সকাল বেলা বেশ কিছু বাক্সপঁ্যাটরা তুলতে গিয়ে পিঠে ব্যথা শুরু হয়ে গেল। এক্ষেত্রে ইবুপ্রফেন, অ্যাসপিরিন বা এসিটামিনোফেন ট্যাবলেট খেয়ে নিলে বেশ আরাম পাবেন। আর পিঠের ব্যথায় মেঝেতে শুধু একটা মাদুর পেতে শুলেও কাজ দেবে। শোবার সময় দুই হাঁটুর মাঝখানে একটা বালিশ রাখবেন। আর দীর্ঘক্ষণ বসে থেকে কাজ করবেন না, পিঠের ব্যথা থাকলে ভারী জিনিসও তুলবেন না। এতে পিঠ ব্যথা আরও বেড়ে যাবে।

2. ব্যায়াম: পিঠের ব্যথায় বিছানায় শুয়ে, না ঘুমিয়ে বরং রেগুলার এক্সারসাইজ করুন। এক্ষেত্রে হাঁটা হতে পারে সবচে' ভাল ব্যায়াম। এতে পিঠ এবং পেটের পেশী শক্তিশালী হয়ে ওঠে। আর জিমনাসিয়ামে গেলে ট্রেনারের পরামর্শ মত ব্যায়াম করবেন।

3. রিলাক্সেশন টেকনিক: ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির ডাক্তার রিচার্ড ডিয়ো বলেছেন, স্ট্রেসের কারণে শরীর আড়ষ্ট হয়ে ওঠে, পিঠের ব্যথা বেড়ে যায়। এক্ষেত্রে রিলাক্সেশন টেকনিক অবলম্বন করলে টেনশন চলে গিয়ে ব্যথার উপশম হতে পারে। আমেরিকার ন্যাশনাল ইন্সস্টিটিউট অভ হেলথ-এর বিশেষজ্ঞরা 1995 সালের এক সমীক্ষায় দেখিয়েছেন, ধ্যান এবং সম্মোহন ক্রনিক ব্যথা নিরাময় করে। এটাই হলো রিলাক্সেশন টেকনিক। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এসব টেকনিক বা কৌশল নার্ভাস সিস্টেমকে সতেজ ও সাবলীল করে তোলে। ফলে শরীরের ব্যথা-বেদনাও দূর হয়ে যায়। এ ছাড়া যোগ ব্যায়াম এবং তাই চিও পিঠের বেদনা দূরীকরণের মহৌষধ বলে বিবেচিত।

4. ফিজিও থেরাপি: পঞ্চাশোর্ধ এক লোক পিঠের ব্যথায় এতই কাবু হয়ে পড়েছিল যে সোজা হয়ে দাঁড়াতেই পারত না। ফিজিও থেরাপির সাহায্যে তার পিঠের ব্যথা দূর হয়ে গেছে।

একজন ফিজিকাল থেরাপিস্ট আপনাকে এমন সব ব্যায়াম শিখিয়ে দিতে পারবেন যার সাহায্যে পেশির দুর্বলতা দূর করা সম্ভব।

5. ম্যাসাজ: পিঠ ব্যথা দূরীকরণে ম্যাসাজ দারুণ ফলদায়ক একটি ব্যায়াম বলে স্বীকৃত। ম্যাসাজ করার সময় পিঠের রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায়, আড়ষ্ট মাস্ল্গুলো শিথিল হয়ে ওঠে। ম্যাসাজ নানারকমের আছে। এর মধ্যে একটি হলো নিউরো মাসকুলার ম্যাসেজ থেরাপি। এতে নির্দিষ্ট কিছু প্রেসার পয়েন্টে ম্যাসাজ করা হয়। পিঠের নিচের অংশের ব্যথা দূর করতে এই ম্যাসাজ বেশ কাজ দেয়।

6. আকুপাংচার: 1997 সালে ইউ.এস. ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অভ হেলথ প্যানেল পরীক্ষা করে দেখিয়েছিল পিঠের নিচের অংশের ব্যথা দূরীকরণে আকুপাংচারের তুলনা নেই। আকুপাংচার শরীরের প্রাকৃতিক ব্যথানাশক 'বযফড়ৎঢ়ধরহ' রিলিজ করে। ফলে ব্যথা চলে যায়।

এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, মেডিকেল আকুপাংচারিস্টরা বলেছেন, তাঁদের দুই-তৃতীয়াংশ রোগী জানিয়েছেন আকুপাংচারের ফলাফলে তারা সন্তুষ্ট।

7. অপারেশন: পিঠ ব্যথার যত রকম রোগী আছে তাদের মধ্যে মাত্র দু'ভাগের পিঠের ব্যথা দূর করার জন্যে অপারেশনের দরকার হয়। ডাক্তার ডিয়ো অপারেশনের জন্যে চারটে কারণ দেখিয়েছেন_মাস খানেক ধরে হাঁটুর নিচের যবৎহরধঃবফ ফরংপ- এ বাতের ব্যথা দেখা দিলে, ংঢ়রহধষ পধহধষ সরু হয়ে এলে, কাশরুকা স্থানচু্যত হলে, কিংবা টিউমার বা এ ধরনের কিছু দেখা দিলে।

তবে পিঠের ব্যথার জন্যে যদি শেষপর্যন্ত ডাক্তারের ছুরি-কাঁচির নিচে শুয়ে পড়তেই হয়, অবশ্যই অভিজ্ঞ কোন সার্জনকে এ কাজের জন্যে বেছে নেবেন। নইলে পরে পস্তাতে হবে।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/25901 http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/25901 2006-11-26 07:37:15
জন স্বার্থে পোষ্ট-3 ঃ অপুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধেশীতের শাক-সবজি ফলমূল- মো: আবদুর রহমান
পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করার পাশাপাশি শাক-সবজি ও ফলমূল দেহের রোগ প্রতিরোধ ও নিরাময়ে বিশেষ ভূমিকা রাখে। তাই অধিক শাক-সবজি ও ফলমূল খেলে অনেক রোগ দূর হয় এবং শরীর সুস্থ থাকে। দামী মাছ-মাংস না জোটাতে পারলে দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই। আজকাল চিকিৎসা ও পুষ্টি বিজ্ঞানীরা শাক-সবজি ও ফলমূল খেয়ে দীর্ঘায়ু লাভের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

'নিউট্রিশন অ্যাকশন হেলথ লেটার'-এর এক ইসু্যতে ক্যান্সার প্রতিরোধে শাক-সবজি ও ফলমূল গ্রহণের সুপারিশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, শাক-সবজি ও ফলমূল 20 শতাংশ ক্যান্সার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া শাক-সবজি ও ফলমূল হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, বহুমূত্র এবং অতিশয় স্থূলতায় কার্যকর ভূমিকা রাখে। এ সব খাদ্যে ক্যান্সার বিরোধী রাসায়নিক পদার্থ থাকে। সমপ্রতি ব্রিটেন ও নিউজিল্যান্ডের গবেষকরা জানিয়েছেন, মাংসভোজীদের চেয়ে যারা শাক-সবজি বেশি খেয়ে থাকেন তাদের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃতু্যর আশঙ্কা শতকরা 40 ভাগ কম। গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, যারা পর্যাপ্ত শাক-সবজি খেয়ে থাকে তাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃতু্যর আশঙ্কাও কমে যায়। সুতরাং আমাদের পরিবারে বাবা, মা ও শিশুর খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা পূরণ এবং দেহকে সুস্থ, সবল ও নীরোগ রাখার জন্য প্রতিদিন বেশি করে শাক-সবজি ও ফলমূল খাওয়া একান্ত প্রয়োজন। শীতকালে আমাদের দেশে হরেক রকম শাক-সবজি পাওয়া যায় এবং দামও অনেক সস্তা থাকে। এখানে শীতের কয়েকটি শাক-সবজি ও লেবুজাতীয় ফলমূলের পুষ্টি ও অন্যান্য গুণাগুণ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো।

পালংশাক: এটা আমাদের দেশসহ পৃথিবীর অনেক মানুষের একটা প্রিয় শাক। এ শাক আমাদের দেশে শীতের সময় প্রচুর পাওয়া যায়। পালংশাকে ভিটামিন-এ ভিটামিন-সি, ফলিক অ্যাসিড জাতীয় ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স থাকে। এ ধরনের পুষ্টি উপাদান থাকার কারণে নিয়মিত পালংশাক খেতে পারলে হৃদরোগ, স্ট্রোক বা অঙ্গ অবশ, উচ্চ রক্তচাপ, চোখের ছানি, মাংসপেশীর দুর্বলতা এমনকি মানসিক ভারসাম্য হারানোর সম্ভাবনা হ্রাস পায়।

পালংশাকের অন্য পরিচয় হলো এটা একটা লুটিন জাতীয় অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। এর প্রধান গুণ হলো বয়স বেড়ে যাওয়াকে প্রতিহত করে। গাজরেও একই ধরনের অক্সিডেন্ট রয়েছে। প্রতিদিন সালাদ বা অন্য কোন উপায়ে গাজর ও পালংশাক এক সঙ্গে গ্রহণ করলে সোনায় সোহাগা। যে সব শাকের রঙ গাঢ় সবুজ (যেমন_পুঁই, কলমি, ডাঁটা, ঢেঁকি শাক) সেগুলোর মধ্যে গুটাথিয়ন নামে এক ধরনের উপাদান থাকে। গুটাথিয়ন শরীরে এনজাইম উৎপাদন করে যা শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তবে একটা কথা মনে রাখতে হবে এগুলো কাঁচা খেতে পারলে বেশি উপকার হয়। আমরা যেভাবে ভেজে, পুড়িয়ে খাই তাতে এর গুণ অনেক কমে যায়।

ধনিয়া ও লেটুস: শীতকালীন শাকের মধ্যে ধনিয়া ও লেটুস শাকে প্রচুর পরিমাণে ক্যারোটিন (ভিটামিন-এ), ক্যালশিয়াম, লৌহ এবং ভিটামিন বি-1 (থায়ামিন), ভিটামিন বি-2 (রাইবোফ্লাবিন) প্রভৃতি রয়েছে। এ দুটি শাক সহজেই কাঁচা অবস্থায় খাওয়া যায়। ফলে প্রকৃত পুষ্টিগুণ প্রায় পুরোটাই এক্ষেত্রে বজায় থাকে। বিশেষ করে ভিটামিন সি'র গুণাগুণ অক্ষুণ্ন থাকে।

বাঁধাকপি: এটাও একটা জনপ্রিয় শীতকালীন পুষ্টিকর সবজি। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-এ ও সি এবং ক্যালশিয়াম, ফসফরাস ও অন্যান্য খনিজ লবণ রয়েছে। বাঁধাকপিতে এক ধরনের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে। অ্যান্টি অক্সিডেন্টের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো শরীর থেকে অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ইস্ট্রোজেন বেরিয়ে যাওয়ার ফলে মহিলাদের স্তনে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস করে। এছাড়া অন্ত্র, মলদ্বার এবং পাকস্থলীর ক্যান্সারের সম্ভাবনা কমায়। বাঁধাকপি শীতের সময় প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় এবং দামেও সস্তা।

টমেটো ও গাজর: টমেটো অতি প্রিয় ও পুষ্টিকর শীতকালীন সবজি। আমেরিকার ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের গবেষকরা টমেটোর ওপর গবেষণা করে দেখেছেন যে, এতে রয়েছে এক ধরনের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট যার নাম লাইকোপেন (খুপড়ঢ়বহ)। এই লাইকোপেন দেহকোষ হতে বিষাক্ত ফ্রির্যাডিক্যাল সরিয়ে প্রোস্টেট ক্যান্সারসহ মূত্রথলি, অগ্নাশয় ও অন্ননালীর ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। এ ছাড়া টমেটোতে থাকে ভিটামিন-সি, পি-কুমারিক অ্যাসিড ও ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড। এগুলোও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। আর শরীরের ক্যান্সার রোধ করে এগুলোই। গবেষকরা দেখেছেন, দৈনিক অন্তত একটা করে কাঁচা টমেটো খেলে ক্যান্সারের সম্ভাবনা 60% কমে যায়। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকরা দেখেছেন, যেসব পুরুষ তাদের খাদ্যের সঙ্গে দিনে কমপক্ষে দু'বার টমেটো স্যস গ্রহণ করেন, তাদের প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি যারা মোটেই টমেটো খান না তাদের তুলনায় শতকরা 21 থেকে 34 ভাগ কম। অন্য এক গবেষণায় দেখা যায়, যেসব মহিলার স্তন কোষে লাইকোপেন এবং অন্যান্য ক্যারোটিনয়েডের মাত্রা বেশি তাদের ক্ষেত্রে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক কম। বলা বাহুল্য, এরা লাইকোপেন সমৃদ্ধ এই টমেটো খাওয়ায় অভ্যস্ত। ইতালীর একদল গবেষক দেখেছেন, যেসব নারী-পুরুষ সপ্তাহে অন্তত 7 থেকে 8 বার টমেটো খান তাদের ক্ষেত্রে পাকস্থলী, কোলন ও বৃহদান্ত্রের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি অনেক কম। টমেটোকে খাওয়া যায় নানাভাবে, কাঁচা কিংবা রান্না করে, সালাদ, জ্যাম, জেলী, চাটনি কিংবা স্যস্ করে। তবে কাঁচা অবস্থায় খাওয়াই শ্রেয়। রান্না করলে বেশ কিছু ভিটামিন নষ্ট হয়ে যায়।

গাজরও একটি শীতকালীন অত্যন্ত পুষ্টিকর সবজি। এ সবজিতে 'বিটা ক্যারোটিন' নামে এক ধরনের জৈব রাসায়নিক উপাদান থাকে। বিটা ক্যারোটিন যাদের ইতোমধ্যে স্ট্রোক হয়েছে তাদের মধ্যে পরবর্তী স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা 50% হ্রাস করে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, সপ্তাহে পাঁচদিন মধ্যম আকারের একটা করে গাজর খেলে মহিলাদের স্ট্রোকের সম্ভাবনা হ্রাস করে এবং পুরুষদের 10% কোলেস্টেরল হ্রাস করে। গাজরে লুটিন জাতীয় অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে। এই অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে। তাই প্রতিদিন একটি গাজর খেলে ফুসফুসের ক্যান্সারের সম্ভাবনা 50% হ্রাস করা ছাড়াও বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নানা ধরনের চোখের রোগ প্রতিহত করে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। গাজর কাঁচা অবস্থাতেও সরাসরি খাওয়া যায়, সালাদ হিসেবেও চমৎকার, তা ছাড়া সবজি হিসেবেও গাজর যথেষ্ট উপাদেয়। তবে কাঁচা অবস্থায় গাজর খাওয়া সবচেয়ে ভাল। কেননা কাঁচা গাজরে পুষ্টি উপাদাসমূহ বিশেষ করে ভিটামিন বি-1 এবং ভিটামিন 'সি' অক্ষুণ্ন থাকে এবং দেহের কাজে লাগে বেশি।

লেবু জাতীয় ফলমূল: কমলালেবু, পাতি লেবু, কাগজী লেবু এ শ্রেণীর অন্তভর্ুক্ত। লেবুজাতীয় ফলের (কমলাতে সবচেয়ে বেশি) ভেতর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে। এই অ্যান্টি অক্সিডেন্ট জরায়ুর মুখে, পাকস্থলী ও খাদ্যনালীতে ক্যান্সার প্রতিরোধ করে এবং রক্তের কোলেস্টেরল নাটকীয়ভাবে হ্রাস করে। পৃথিবীতে এ পর্যন্ত কমপক্ষে 30টি গবেষণা এ তথ্যের সত্যতা প্রমাণ করেছে। যার জন্য আমেরিকার ক্যান্সার ইনস্টিটিউট এটাকে 'ঈড়সঢ়ষবঃব চধপশধমব ড়ভ বাবৎু পষধংং ড়ভ ধহঃরবপধহপবৎ রহযরনরঃড়ৎ' নামে আখ্যায়িত করেছে। লেবুজাতীয় ফলে ক্যারোটিনয়েড, টারপিনস ফ্লাভিনয়েড এবং ভিটামিন 'সি' প্রচুর পরিমাণে থাকে। পেয়ারাতেও প্রচুর ভিটামিন 'সি' থাকে। লেবুতে ফ্লাভিনয়েডের অবস্থান হচ্ছে খোসার নিচে সাদা পর্দাগুলোর মধ্যে এবং খোসার মধ্যে। এর অর্থ হচ্ছে শুধু লেবুর রস খেলে আমরা ফ্লাভিনয়েডের উপকারিতা থেকে বঞ্চিত হব। অর্থাৎ লেবুর খোসা ক্যান্সার প্রতিরোধের সহায়ক। প্রতিদিন একটা বড় লেবু পুরোটা খেলে আমাদের শরীরের অনেক পুষ্টি চাহিদা পূরণ হয়।

কাজেই আপনার ও শিশুর প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় এ সব ফলমূল ও শীতের শাক-সবজি যাতে বেশি থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন।

সৌজন্যে: আজকের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/25900 http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/25900 2006-11-26 07:12:43
জন স্বার্থে পোষ্ট-2 ঃ ভিটামিন-ই সুবিধা ও অসুবিধা
কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভিটামিন-ই গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা বেড়ে যায়। এসব ক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে_

ঁ অন্ত্রের অসুখ।

ঁ লিভার বা যকৃতের অসুখ।

ঁ অগ্নাশয়ের অসুখ।

ঁ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পাকস্থলী অপসারণ।

তবে একটি কথা মনে রাখতে হবে, ভিটামিন-ই কতটুকু গ্রহণ করতে হবে সেটা অবশ্যই নির্ধারণ করে দেবেন আপনার চিকিৎসক। কারণ ভিটামিন-ই-এর রয়েছে কিছু পাশর্্বপ্রতিক্রিয়া।

যে সব শিশু টিনের দুধ খায় তাদের ভিটামিন-ই-এর ঘাটতি হতে পারে। মূলত পলি স্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করলে ভিটামিন-ই-র প্রয়োজনীয়তা বেড়ে যায়।

দাবি করা হয় যে ক্যান্সারের চিকিৎসায় এবং ব্রন, বয়স বেড়ে যাওয়া, চুল পড়া, মৌমাছির হুলের কামড়ের যন্ত্রণা, ডায়াপার র্যাশ, বার্সাইটিস, পাকস্থলীর ঘা, হার্ট অ্যাটাক, প্রসব যন্ত্রণা, কিছু রক্তের অসুখ, গর্ভপাত, মাংসপেশির দুর্বলতা, দুর্বল অঙ্গস্থিতি, যৌন অক্ষমতা, বন্ধ্যাত্ব, মনোপজ, রোদে পোড়া এবং বায়ুদূষণের ফলে ফুসফুসের ক্ষতি প্রভৃতি প্রতিরোধ করে। কিন্তু এসব দাবি প্রমাণিত হয়নি। অবশ্য কিছু ধরনের ক্যান্সারের চিকিৎসায় বর্তমানে ভিটামিন-ই ব্যবহার করা হচ্ছে, তবে সেটা কার্যকর কিনা সে ব্যাপারে পর্যাপ্ত তথ্য নেই।

ভিটামিন-ই-র ঘাটতি খুবই বিরল। যেসব লোকের অসুখ থাকার ফলে শরীরে ভিটামিন-ই শোষিত হতে পারে না, তাদের বেলায় এই ঘাটতি দেখা যায়।

বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন-ই বাজারে পাওয়া যায়_

ঁ ক্যাপসুল।

ঁ সিরাপ।

ঁ ট্যাবলেট।

খাবারের গুরুত্ব

সুস্বাস্থ্যের জন্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো সুষম এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ খাবার খাওয়া। আপনি যদি খাদ্যগ্রহণের মাধ্যমে বিশেষ কোন ভিটামিন বা মিনারেল পেতে চান তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে আপনার খাদ্য তালিকা তৈরি করে নিন। আপনি যদি মনে করেন খাবারের মাধ্যমে আপনি পর্যাপ্ত ভিটামিন বা মিনারেল পাচ্ছেন না তাহলে একটি পথ্যবিধি মেনে চলুন।

বিভিন্ন খাবারে ভিটামিন-ই পাওয়া যায়। এসব খাবারের মধ্যে রয়েছে_

ঁ উদ্ভিজ্জ তেল (কর্ন, কার্পাস তুলার বীজ, সয়াবীন)।

ঁ গমের ভ্রূণ।

ঁ সমগ্র খাদ্যশস্য।

ঁ সবুজ শাকসবজি প্রভৃতি।

খাবার রান্না করলে এবং সংরক্ষণ করে রাখলে কিছুটা ভিটামিন-ই নষ্ট হয়।

শুধুমাত্র ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে সেটা সুন্দর খাবারের বিকল্প হতে পারে না এবং সেটা শরীরে শক্তিও উৎপন্ন করতে পারবে না। শরীরের জন্যে অবশ্যই খাদ্যে নিহিত অন্যান্য উপাদান যেমন প্রোটিন, মিনারেল, কার্বোহাইড্রেট এবং চর্বির প্রয়োজন রয়েছে। অন্যান্য খাদ্যের উপস্থিতি ছাড়া ভিটামিনগুলো নিজেরা কাজ করতে পারে না। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় শরীরে ভিটামিন-ই-এর শোষণের জন্যে কিছুটা চর্বির প্রয়োজন হয়।

ভিটামিন-ই পাওয়া যায় বিভিন্ন ধরনের, যেমন_ডি-কিংবা ডিএল-আলফা টকোফেরল এসিটেট, ডি-কিংবা ডি এল-আলফা টকোফেরল এবং ডি-কিংবা ডিএল-আলফা টকোফেরল এসিড সাক্সিনেট। অতীতে ভিটামিন-ইকে ইউনিট হিসেবে প্রকাশ করা হত। বর্তমানে এটাকে আলফা টকোফেরল ইকু্যইভ্যালেন্টস (আলফাটিই) অথবা মিলিগ্রাম (মি.গ্রা) অভ ডি-আলফা টকোফেরলরূপে প্রকাশ করা হয়। এক ইউনিট হলো 1 মি.গ্রাম অব ডিএল-আলফা টকোফেরল এসিটেট বা 0.6 মি.গ্রা ডি_আলফা টকোফেরলের সমতুল্য। তবে বাজারে যে ওষুধগুলো পাওয়া যায় তাতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ইউনিট লেখা থাকে।

বিভিন্ন খাদ্যবস্ততে ভিটামিন-ই এর পরিমাণ

খাদ্যবস্তু মি. গ্রাম/100 গ্রাম

গমের ভ্রূণের তেল 255

সয়াবীন তেল 118

ভু্ট্টার তেল 91

ধানের কুঁড়ার তেল 91

তুলা বীজের তেল 81

সূর্যমুখীর বিচির তেল 70

পাম তেল 56

সরিষার তেল 32

জলপাই তেল 30

বাদাম তেল 22

নারকেল তেল 8

ভিটামিন-ই-এর দৈনন্দিন সুপারিশকৃত মাত্রা

মিলিগ্রাম হিসেবে ভিটামিন-ই-এর দৈনন্দিন চাহিদামাত্র বর্তমানে সুপারিশ করা হয়েছে। কেউ যদি ইউনিট হিসেবে ভিটামিন-ই গ্রহণ করেন সেক্ষেত্রে গ্রহণ করতে পারেন। এখানে দুটোর পৃথক মাত্রা উল্লেখ করা হলো_

মি.গ্রা ইউনিট

শিশু এবং 3 বছর

বয়স পর্যন্ত বাচ্চা 3-6 5-10

4_6 বছর বয়স 7 11.7

7_10 বছর বয়স 7 11.7

বয়ঃসন্ধিকাল ও

প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ 10 16.7

বয়ঃসন্ধিকাল ও 8 13

প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলা

গর্ভবতী মহিলা 10 16.7

স্তনদানরত মহিলা 11-12 18.20

ভিটামিন-ই গ্রহণের আগে যেকথা মনে রাখতে হবে_

আপনি যদি প্রেসক্রিপশন ছাড়া ভিটামিন-ই গ্রহণ করেন, তাহলে লেবেলের লেখাগুলো ভাল করে পড়ে নেবেন এবং কোন ধরনের সতর্কতার উল্লেখ থাকলে সেটা মেনে চলবেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভিটামিন-ই গ্রহণে সতর্ক হতে হবে_

এলার্জি_আপনার যদি ভিটামিন-ই গ্রহণের পর কোন অস্বাভাবিকতা দেখা দেয় কিংবা এলার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া হয় তাহলে সাথে সাথেই চিকিৎসককে অবহিত করুন। অন্যান্য কোন খাদ্যবস্তুতে আপনার এলার্জি আছে কিনা সেটাও চিকিৎসককে জানাতে হবে।

গর্ভাবস্থা_এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ যে, যখন আপনি গর্ভবতী হচ্ছেন তখন পর্যাপ্ত ভিটামিন গ্রহণ করছেন। তবে আপনাকে দেখতে হবে গর্ভাবস্থার পুরো সময়টা আপনি সঠিক মাত্রায় ভিটামিন গ্রহণ করছেন কিনা, কেননা ভ্রূণের বিকাশ এবং বৃদ্ধি নির্ভর করে মায়ের সঠিক পুষ্টিগ্রহণের ওপর। যাহোক, গর্ভাবস্থায় বেশিমাত্রায় ভিটামিন গ্রহণ করলে ক্ষতি হতে পারে, তাই বেশিমাত্রায় ভিটামিন গ্রহণ করবেন না।

বুকের দুধ_শিশুর সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার জন্যে স্তনদানরত মহিলার সঠিকমাত্রায় ভিটামিন গ্রহণ গুরুত্বপর্ণ। আপনি যদি শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে থাকেন তাহলে মাঝে মাঝে চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করবেন। এক্ষেত্রে শিশুকে অন্য উপায়ে ভিটামিন দেবার প্রয়োজন হতে পারে। তবে আপনি যদি বুকের দুধ খাওয়ানো কালে অতিরিক্ত মাত্রায় ভিটামিন গ্রহণ করেন তাহলে আপনার নিজের জন্যে এবং শিশুর জন্যে সেটা ক্ষতিকর হবে।

শিশু_দৈনন্দিন সুপারিশকৃত মাত্রা গ্রহণের ফলে শিশুর অসুবিধার কথা জানা যায়নি। শিশু বুকের দুধ খেলে তাকে সঠিকমাত্রায় ভিটামিন দেবার জন্যে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

গবেষণায় দেখা গেছে নির্দিষ্ট সময়ের আগে জন্মগ্রহণকারী শিশুর শরীরে ভিটামিন-ই-এর মাত্রা কম থাকে। আপনার চিকিৎসক এ ব্যাপারে ভিটামিন-ই-এর মাত্রা নির্ধারণ করে দেবেন।

প্রাপ্তবয়স্ক নারী পুরুষ_দৈনন্দিন সুপারিশকৃত মাত্রা গ্রহণের ফলে প্রাপ্ত বয়স্ক নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে কোন অসুবিধার কথা জানা যায়নি।

অন্য ওষুধ গ্রহণ_আপনি যদি ভিটামিন-ই গ্রহণের সময় অন্য কোন ওষুধ খেতে থাকেন তাহলে অবশ্যই চিকিৎসককে জানাবেন। কারণ অনেকক্ষেত্রে দুটো ওষুধের মধ্যে প্রতিক্রিয়া ঘটতে পারে, সেক্ষেত্রে চিকিৎসক ওষুধের মাত্রা পরিবর্তন করতে পারেন কিংবা অন্যকোন ব্যবস্থা নিতে বলতে পারেন।

অন্যান্য চিকিৎসাগত সমস্যা_ অন্যকোন চিকিৎসাগত সমস্যা উপস্থিত থাকলে ভিটামিন-ই গ্রহণের ফলে অবস্থা খারাপ হতে পারে। আপনার অন্যকোন চিকিৎসাগত সমস্যা আছে কিনা সেটা চিকিৎসককে অবশ্যই জানাবেন, বিশেষ করে আপনার যদি রক্তক্ষরণজনিত সমস্যা থাকে।

রক্তক্ষরণজনিত সমস্যা_দীর্ঘ সময়ের জন্যে দৈনিক 800 ইউনিটের বেশি ভিটামিন-ই গ্রহণ করলে এই অবস্থার আরও অবনতি ঘটে।

আপনি কি পর্যাপ্ত ভিটামিন-ই গ্রহণ করছেন?

ভিটামিন-ই শরীরের জন্যে একটি প্রয়োজনীয় ভিটামিন। গবেষণায় দেখা গেছে ভিটামিন-ই গ্রহণ করলে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, চোখের ছানি, মাংসপেশির ব্যথা, ঠাণ্ডা লাগা ও অন্যান্য সংক্রমণের ঝুঁকি কমে যায়। অন্য এক গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন-ই গ্রহণে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়। প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্যে দৈনিক এই ভিটামিনের অনুমোদিত মাত্রা হলো 8_10 আই.ইউ। সর্বাধিক লাভের জন্যে আপনার দৈনিক 100_400 আই. ইউ দরকার হতে পারে। অধিকাংশ গবেষণায় দেখা গেছে, সর্বোচ্চ মাত্রা গ্রহণ করলে দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হয়। তথ্যটি দিয়েছেন বোস্টনের টাফ্টস ইউনিভার্সিটির পুষ্টিবিভাগের অধ্যাপক জেফ ব্লামবার্গ। আপনি পর্যাপ্ত ভিটামিন-ই পাবার জন্যে নিচের পরামর্শ গ্রহণ করুন_

ভিটামিন-ই সমৃদ্ধ খাবার খান

বাদাম, খাদ্যশস্য, ভুট্টার ভ্রূণ এবং গাঢ় সবুজ শাক-সবজি ভিটামিন-ই-এর চমৎকার উৎস। আপনার দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় এসব খাবার রাখুন।

ভিটামিন-ই সাপ্লিমেন্ট খান

খাদ্য থেকে 100-400 আই.ইউ ভিটামিন-ই পাওয়া সম্ভব হয় না। ভিটামিন-ই-এর অন্যতম ভাল উৎস জলপাই তেল। অথচ প্রতি চা চামচ জলপাই তেলে থাকে প্রায় 1.74 আই. ইউ ভিটামিন-ই। তারমানে দৈনিক 100 আই. ইউ ভিটামিন-ই পেতে আপনাকে দৈনিক খেতে হবে 3 কাপ জলপাই তেল। সুতরাং পর্যাপ্ত ভিটামিন-ই পেতে খাবারের পাশাপাশি আপনি চিকিৎসকের পরামর্শমত ভিটামিন-ই সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে পারেন। সিরাপ, ক্যাপসুল বা ট্যাবলেট আকারে এই ভিটামিন পাওয়া যায়। তবে যেহেতু ভিটামিন-ই রক্তের জমাটবাঁধা কমিয়ে দেয় সুতরাং যাদের রক্তক্ষরণের অস্বাভাবিকতা রয়েছে তারা ভিটামিন-ই গ্রহণের পূর্বে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করবেন।

ভিটামিন-ই কোষের বুড়িয়ে যাওয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে

প্রাথমিক এক গবেষণায় দেখা গেছে যে এন্টি অক্সিডেন্ট ভিটামিন-ই আমাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় বয়স সম্পর্কিত ব্যাপারটিকে প্রতিরোধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শরীরের স্বাভাবিক বিপাকক্রিয়ার মাধ্যমে পরিবেশের বিভিন্ন উপকরণ যেমন হাইড্রোকার্বন ইত্যাদির মাধ্যমে সৃষ্টি হয় অসংখ্য ফ্রি র্যাডিকেলস। এই ফ্রি র্যাডিকেলস বিভিন্ন রাসায়নিক ক্রিয়ার মাধ্যমে শরীরের কোষসমূহকে ধীরে ধীরে ধ্বংস করে দেয়। ভিটামিন-ই-এর প্রধান কাজ হলো এইসব ফ্রি র্যাডিকেলসকে দ্রুত গ্রহণ করে রাসায়নিক ক্রিয়া বন্ধ করে দেয়া, অর্থাৎ কোষসমূহকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা।

হার্ট অ্যাটাক কমাতে ভিটামিন-ই

মধ্যবয়সী পুরুষ এবং মহিলাদের_যারা ভিটামিন-ই গ্রহণ করে থাকেন তাদের, যে সব লোক গ্রহণ করেন না, তাদের চেয়ে হার্ট অ্যাটাক কম হয়। তথ্যটি জানা গেছে হার্ভার্ড স্কুলের পাবলিক হেলথ বিভাগের দুটি পৃথক গবেষণা থেকে। দি নিউ ই ইংল্যান্ড জার্নাল অভ মেডিসিনে প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে প্রায় 40 হাজার পুরুষ যারা কমপক্ষে 2 বছর দৈনিক নূ্যনতম 100 আই. ইউ ভিটামিন-ই গ্রহণ করেছেন তাদের হার্ট অ্যাটাক কম হয়েছে শতকরা 37 ভাগ।

দ্বিতীয় গবেষণাটি করা হয় মহিলাদের নিয়ে। 87 হাজার মহিলাকে নিয়ে 8 বছরের এক উদ্যোগ নেয়া হয়। সেখানে দেখা গেছে, 2 বছরের বেশি সময় দৈনিক 100 আই. ইউ ভিটামিন-ই গ্রহণে মহিলাদের হার্ট অ্যাটাক শতকরা 41 ভাগ কমেছে।

ভিটামিন-ই-এর পাশর্্বপ্রতিক্রিয়া

শরীরে ভিটামিন-ই-এর যদিও প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, তবু সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে কিছু অবাঞ্ছিত পাশর্্বপ্রতিক্রিয়া ঘটতে পারে। তবে অল্প সময়ের জন্যে অনুমোদিত মাত্রায় ভিটামিন-ই গ্রহণ করলে সাধারণত পাশর্্বপ্রতিক্রিয়া হয় না। যদি ভিটামিন-ই গ্রহণের ফলে আপনার কোন ধরনের পাশর্্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয় তাহলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন।

দৈনিক 400 ইউনিটের বেশি এবং দীর্ঘ সময়ের জন্যে ভিটামিন-ই গ্রহণ করলে নিম্নলিখিত পাশর্্বপ্রতিক্রিয়া ঘটে_

ঁ চোখে ঝাপসা দেখা।

ঁ ডায়রিয়া।

ঁ মাথা ঘোরা।

ঁ মাথা ব্যথা।

ঁ বমি বমি ভাব।

ঁ পেট কামড়ানো।

ঁ অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা দুর্বলতা।

ব্যক্তি বিশেষে আরও অন্যধরনের কিছু পাশর্্বপ্রতিক্রিয়াও ঘটতে পারে। তবে যে পাশর্্বপ্রতিক্রিয়াই ঘটুক না কেন সাথে সাথেই চিকিৎসককে দিয়ে পরীক্ষা করে নেবেন।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/25899 http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/25899 2006-11-26 07:05:41
জন স্বার্থে পোষ্ট ঃ কিভাবে সুস্থ রাখবেন আপনার হৃৎপিণ্ড - ডা. মিজানুর রহমান কল্লোল
1. কোলেস্টেরল মাত্রা কমিয়ে আনুন

কোলেস্টেরল হলো প্রাণীদেহের রক্তে বিদ্যমান চর্বি জাতীয় পদার্থ। কোষের উন্নয়ন এবং ক্রমবৃদ্ধিতে কোলেস্টেরল অপরিহার্য। কিন্তু বেশিমাত্রায় তা ক্ষতিকর এবং আপনার ধমনীর ভেতরের দেয়ালে তা জমা হয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে_যার ফলে আপনার হৃৎযন্ত্রে রক্তসরবরাহ কমে যায়। ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের নাম হলো এলডিএল বা লো-ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন। এলডিএল কোলেস্টেরল মাত্রার ব্যাপকতা ধমনীতে প্রতিবন্ধকতার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় যা আপনার হৃদরোগের জন্যে বিরাট হুমকি। অপর পক্ষে এইচডিএল বা হাই ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন ধমনীতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি থেকে রক্ষা করে হৃদরোগের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। তাই এইচডিএলকে বলে 'ভাল কোলেস্টেরল।' 200-এর নিচে একটি পরিপূর্ণ কোলেস্টেরল মাত্রাকে কাঙ্ক্ষিত হিসেবে বিচেনা করা যায়। 200_239 হলো সীমানা নির্দেশক রেখা-উচ্চ। 240-এর বেশি হলে তা উচ্চ মাত্রা হিসেবে বিবেচিত হয়। যদি আপনি আপনার কোলেস্টেরলের মাত্রা কাঙ্ক্ষিত সীমানার মধ্যে রাখতে পারেন তাহলে আপনি সুস্থ হৃৎযন্ত্র নিয়ে চমৎকার জীবন যাপন করতে পারেন। কারও যদি উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল থাকে অথবা যাদের মাত্রা সীমানা রেখা-উচ্চ এবং ইতোমধ্যে হৃদরোগে ভুগছেন কিংবা দুটো বা অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় রয়েছে তাদের পুনরায় এলডিএল মাত্রা পরীক্ষা করাতে হবে। অতঃপর চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে খাদ্য পরিবর্তন করে রক্তের কোলেস্টেরল মাত্রা নামিয়ে আনতে হবে।

আপনি কোলেস্টেরল সমৃদ্ধ খাবার খেলে রক্তে এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়। খাদ্যের কোলেস্টেরল পাওয়া যায় কেবলমাত্র প্রাণীজাত খাদ্য যেমন: গরু, হাঁস, মুরগি, মাছ, ডিম এবং সকল দুগ্ধজাত পণ্যে। সবচেয়ে বেশি কোলেস্টেরল থাকে ডিমের কুসুম, কলিজা, বাছুর বা ভেড়ার অগ্নাশয় ও মগজে। উদ্ভিদ থেকে উৎপন্ন খাদ্য যেমন সবজি, ফলমূল এবং বাদামে কোলেস্টেরল থাকে না। দৈনিক 200 থেকে 300 মিলিগ্রামের বেশি কোলেস্টেরল গ্রহণ করা উচিত নয়। কেবলমাত্র বড় একটি ডিমের কুসুমেই থাকে 274 মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল।

2. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন

রক্তচাপের দীর্ঘস্থায়ী উত্তোলন ও রক্তকতর্ৃক ধমনীর দেয়ালের বিরুদ্ধে ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ ধমনীর দেয়ালে চর্বির জমাট বৃদ্ধি করে। রক্তচাপ সর্বদা তাই নিয়ন্ত্রণে রাখুন। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে খাদ্যে লবণ কমাতে হবে, ওজন হ্রাস করতে হবে এবং খাদ্য ও ব্যায়ামের সমন্বয়ে রক্তের কোলেস্টেরল মাত্রা কমাতে হবে। রক্তচাপের ওষুধ যখন গ্রহণ করবেন তখন চিকিৎসকের নির্দেশমত তা অব্যাহত রাখবেন।

3. ধূমপান পরিহার করুন

যে সব ব্যক্তি দিনে এক প্যাকেট সিগারেট খান তারা অধূমপায়ীদের তুলনায় দ্বিগুণ হার্টঅ্যাটাকের ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। সিগারেটের নিকোটিন ধমনীসমূহের দেয়ালের ক্ষতিসাধন করে। যেসব মহিলা ধূমপান করেন এবং গর্ভনিরোধক বড়ি ব্যবহার করেন, যারা সেসব করেন না তাদের চেয়ে 39 গুণ হৃদরোগের এবং 22 গুণ স্ট্রোকের ঝুঁকিতে থাকেন। ধূমপান ত্যাগ করলে 10 বছরের মধ্যে একজন প্রাক্তন ধূমপানকারী তার হৃদযন্ত্রকে একজন অধূমপায়ীর মতই সুস্থ রাখতে পারেন।

4. ব্যায়াম করুন

হৃদরোগের জন্যে ব্যায়াম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নিয়মিত ব্যায়াম ওজনবৃদ্ধি প্রতিরোধ করে, রক্তচাপ কমায় ও হৃৎস্পন্দন শান্ত রাখে। ব্যায়াম সম্পূর্ণ কোলেস্টরল মাত্রা কমায় এবং ভাল ও ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের অনুপাতের উন্নতি সাধন করে। কোন ধরনের ব্যায়াম আপনি পছন্দ করবেন সেটা আপনার ব্যাপার, তবে ব্যায়ামের জন্যে কিছু কিছু ব্যাপার অপরিহার্য। প্রথমত ব্যায়াম অবশ্যই খোলা বাতাসে করতে হবে। এর ফলে আপনার হৃৎস্পন্দন 60 থেকে 70 শতাংশে উন্নয়ন করবে। প্রতিসপ্তাহে অন্তত তিনবার 20 থেকে 30 মিনিট ব্যায়াম করতে হবে। হাঁটা, দৌড়ানো, সাইকেল চালনা এবং সাঁতার সবচেয়ে উৎকৃষ্ট ব্যায়াম। আপনার বয়স যদি 35-এর নিচে হয় এবং হৃদরোগের জন্যে কোন ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় নাও থাকে তবু নিজের ভালর জন্যে আপনার ব্যায়াম শুরু করা উচিত। যদি আপনি বয়স্ক হন এবং এমন কাজের সঙ্গে জড়িত যা বসে বসে করতে হয় তাহলে আপনাকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

5. ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল পরিত্যাগ করুন

যখন আপনি ক্যাফেইন কিংবা অ্যালকোহল অতিরিক্ত পান করেন_উভয়ই আপনার হৃৎযন্ত্রে ক্ষতিসাধন করে। বেশিমাত্রায় ক্যাফেইন রক্তচাপ ও হৃৎস্পন্দন বাড়িয়ে দেয়। যদিও কিছু কিছু গবেষক উল্লেখ করেন যে, স্বল্প পরিমাণ অ্যালকোহল, দৈনিক এক থেকে দু'আউন্স, কোলেস্টেরল মাত্রা কমাতে পারে; কিন্তু এর ক্ষতিকর দিক এত বেশি যে এসব উক্তি তখন বাতিল হয়ে যায়। ক্যাফেইনের মত বেশিমাত্রার অ্যালকোহল রক্তচাপ বাড়ায় এবং হৃৎস্পন্দনও বাড়িয়ে দেয় যা ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।

6. মানসিক চাপ কমান

মানসিক চাপ হৃদরোগের জন্যে সাংঘাতিক ঝুঁকিপূর্ণ। মানসিক চাপের ফলে শরীরে রাসায়নিক উপাদানের বৃদ্ধি ধমনীর ভেতরের গায়ের ক্ষতিসাধন করে যার ফলে রক্তনালী বন্ধ হয়ে যায়। সমপ্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, বৈরী ভাবাপন্ন এবং নৈরাশ্যবাদীদের হৃদরোগের দারুণ ঝুঁকি রয়েছে। এক্ষেত্রে নারীপুরুষ উভয়ের ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন আনতে হবে। এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে যারা এই মানসিক চাপের কারণে অকাল মৃতু্যবরণ করেছেন। মানসিক চাপ কমাতে আপনাকে যা করতে হবে তাহলো_

- আপনাকে বাস্তববাদী হতে হবে। কোন প্রকার অন্ধ আবেগকে প্রশ্রয় দেবেন না।
- জীবনটাকে উপভোগ করতে শিখুন।
- নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
- পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন।
- উপযুক্ত পুষ্টি গ্রহণ করুন।
- শিথিলায়ন পদ্ধতি শিখুন।

7. ওজন কমান

যদি স্বাভাবিক ওজনের চেয়ে আপনার ওজন বেশি হয় তাহলে তা হৃৎযন্ত্রের উপর চাপ সৃষ্টি করে এবং আপনার হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। একজন মোটা মানুষের উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল এবং ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা থাকে সবচেয়ে বেশি।

8. সুষম খাবার খান

আপনার হৃদরোগ প্রতিরোধ করতে এবং হৃৎযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে খাবারের উপর বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে। সুষম এবং পুষ্টিকর খাবার হৃদরোগকে দূরে সরিয়ে রাখে। এইসব খাবার রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে রাখে, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করে। এমন স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিতে হবে যার সঙ্গে চর্বি ও কোলেস্টেরলের ব্যাপারটা জড়িত। খাদ্যে সম্পৃক্ত চর্বি আপনার রক্তে কোলেস্টেরল মাত্রা দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেয়। অথচ অতি অসম্পৃক্ত চর্বি তা কমিয়ে দেয়। আপনি স্রেফ আপনার খাদ্য তালিকা থেকে সম্পৃক্ত চর্বি বাদ দিন_এতে আপনার এলডিএল কোলেস্টেরল কমে যাবে। যে সব খাদ্যে সম্পৃক্ত চর্বি বেশি থাকে তার মধ্যে রয়েছে গরুর মাংস, দুগ্ধজাতপণ্য যেমন মাখন, পনির। সাধারণভাবে প্রাণীর চর্বিতে অধিক সম্পৃক্ত চর্বি রয়েছে এবং উদ্ভিদ চর্বিতে তা রয়েছে স্বল্প। সুতরাং এমন খাদ্য খান যাতে সম্পৃক্ত চর্বি এবং কোলেস্টেরল কম থাকে। আপনি একটি খাদ্য তালিকা তৈরি করবেন যাতে আপনার দৈনিক সমস্ত ক্যালরির 55 থেকে 60 শতাংশ আসে কার্বোহাইড্রেট থেকে, 30 শতাংশ চর্বি থেকে এবং 10-15 শতাংশ প্রোটিন থেকে। মনে রাখবেন আপনার হৃৎপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে হলে অাঁশযুক্ত খাবার অপরিহার্য। উদ্ভিদ অাঁশ, ফলমূলের অপাচ্য অংশ, শাকসবজি এবং খাদ্যশস্য আপনার হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। দৈনিক 20-30 গ্রাম অাঁশযুক্ত খাবার খাওয়া উচিত। এই খাবারের আরেকটি সুবিধাজনক দিক হলো আপনি অল্প খেলেই মনে হবে পেট ভরে গেছে_এতে করে আপনি অতিরিক্ত আহারের হাত থেকে বাঁচবেন। দুধরনের অাঁশযুক্ত খাবার রয়েছে। একটি হলো পানিতে দ্রবণীয় অাঁশযুক্ত খাবার যেমন যব, যবের ভুসি, ফলমূল, শুকনো কলাই, শিম। অপরটি হলো পানিতে অদ্রবণীয় অাঁশযুক্ত খাবার যেমন_সমগ্র খাদ্যশস্য, ফলমূল, শাকসবজি।

কিছু খাবার আছে আপনার হৃৎপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে হলে তা পরিহার করবেন। এসব খাবারের মধ্যে রয়েছে_

- হ্যামবার্গার
- পনির
- মাংসের রুটি
- হট ডগস
- তেলে ভাজা খাবার
- ডিমের কুসুম
- গরুর মাংসের কাবাব প্রভৃতি।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/25898 http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/25898 2006-11-26 06:59:27
অ্যানিমেশন টেষ্ট...........সবাই করছে,আমি বাদ যাই কেন?
আমরা চলিব পশ্চাতে ফেলি পঁচা অতীত
গিরি গুহা ছাড়ি খোলা প্রান্তরে গাহিব গীত,
সৃজিব জগৎ বিচিত্রতর, বীর্যবান,
তাজা জীবন্ত সে নব সৃষ্টি শ্রম মহান,
চলমান বেগে প্রাণ উচ্ছ্বল ।
রে নবযুগের স্রষ্টা দল,
জোর কদম চলরে চল ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/25557 http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/25557 2006-11-23 09:15:43
একটি খারাপ দিন ঃ জীবনের এই প্রথম থানায় ! বউয়ের আদরের ছোটভাই, মানে আমার ছোট শ্যালক, থাকে আবুধাবী । শালা সারাটা রাত ফোনে বড্ড যন্ত্রণা দিয়েছে । রিং হয়, ধরলেই লাইন কেটে যায় ।
'হ্যালো, আমি সাজু...।' ব্যস, এটুকু বলেই সাজু গায়েব । মোবাইলের একাউন্টও হালার একেবারে শুন্য । শেষ রাতের দিকে চোখটা একটু লেগে এসেছে, এমন সময় কর্কশ শব্দে আবার রিং বেজে ওঠে....।
যাক সকালে তারাহূরা করে ডিউটিতে আসলাম । ইদানিং কাজের প্রতি তেমন মনযোগ দিতে পারিনা । তারপর গত রাত ভাল ভাবে ঘুমুতে পারিনি বলে শরীরটা কেমন ম্যাজ ম্যাজ করছে,কাজে ভাল করে মন বসছেনা,মেজাজটা খিটখিটে হয়ে আছে । তখন দুপুর প্রায় একটা হবে, পাশের স্কুলের ছুটি হয়েছে মাত্র । ছাত্ররা ক্লাস থেকে বেরিয়ে আমার ক্যাফের সামনে জড়ো হয়ে হৈ-হল্লোর করছে । সৌদি ছেলেরা যে কেমন অভদ্র স্বভাবের হয় তা নিজে না দেখলে বুঝতে পারবেননা । ওদের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে বসের কাছে অনেকবার নালীশও করেছি । ওরা যেন ভিতরে প্রবেশ না করতে পারে সে জন্য কাঁচের মেইন দরজাটা ভিতর থেকে লক করে দিলাম । বাহির থেকে একটি বেয়াদব ছেলে দরজা খোলতে না পেরে ঢিল ছুঁড়তে থাকে । তার বেয়াদবিটা দাঁতে দাঁত চেপে হজম করে নরম গলায় বলি "মালীশ মালীশ,বসের নিষেধ আছে যেন ছোটরা প্রবেশ না করে ।" আচমকা সে আমাকে গালি দিয়ে বসে । তার এই আপত্তিকর মন্তব্যে আমি বড্ড আহত হই । হাতের কাছে লম্বা লাঠির একটা ঝাড়ু পেয়ে দরজা খুলে সটান সটান করে পিঠে লাগিয়ে দিলাম । লাঠি ভেঙ্গে দুটকরো...! মুহূর্তে একঝাক ছেলের দল ক্যাফের চারিদিকে জড়ো হতে থাকলো । সঙ্গে সঙ্গে বসকে ফোন করে সব জানালাম । মুহূর্তে বসের সৌদি সেক্রেটারী হাজীর । অতঃপর পুলিশের হুইশেল বেজে ওঠে । পুলিশ দেখে কলিজা কেঁপে উঠল । দুজনকেই থানায় বড় অফিসারের সামনে নিয়ে গেল । উভয় পক্ষের বক্তব্য শুরু হল ।
ঃ আমি একজন সম্ভ্রান্ত ভদ্রলোক ।' আমার কণ্ঠে জোরাল প্রতিবাদ । ভিতরে ভিতরে অবশ্য অসম্ভব ঘাবড়ে যাই আমি । হায়-খোদা! কেন যে পেটাতে গেলাম ! রাগের মাথায় নিজের পাছাতেই কষে লাথি মারতে ইচ্ছে করে । যাক কিছুক্ষন পর ছেলেটির বাবা থানায় এসে পুলিশকে লক্ষ্য করে বলছেন যে, "আমার ছেলে নিশ্চই কোন অপরাধ করেছে- বিধায় মার খেয়েছে,এতে আমার কোন অভিযোগ নেই ।" ছেলেটির বাবার কথা শোনে হালে পানি পেলাম । যাক ঘন্টাদুয়েক থানায় থাকার পর আরবী লেখা কাগজে দস্তখত করে থানা থেকে বেরিয়ে আসলাম । আমার জীবনের এই প্রথম ''অ্যাডভেঞ্চার বৃত্তান্তের'' অভিজ্ঞতা বউকে ফোন করে জানালাম ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/25406 http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/25406 2006-11-22 11:37:21
ঘুমের সাতকাহন
ক্লান্তিতে শরীরটা যেন আর চলে না। খাটে উঠে মশারি টানাবে সে শক্তিটুকুও নেই। সটান হয়ে পড়ে থাকে বিছানায়। একটু ঘুম চাই। কিন্তু ঘুম যে আসে না। প্রতীক বিছানায় এপাশ ওপাশ করতে থাকে। উঠে বসে আবার শোয়। লাভ হয় না কিছুই। একটু ঘুমের জন্য ও ছটফট করতে থাকে। 'ওহ গড, একটু ঘুম না হলে তো আমি পাগল হয়ে যাব।'

না, ঘুম ওর কষ্ট বোঝে না। দু'চোখে ঘুম না এলেও চোখ বন্ধ করেই বিছানায় পড়ে থাকে প্রতীক। প্রতিদিনের মতই শেষ হয় আর একটি ঘুমহীন রাত। শুরু হয় গতকালের মতই আরও একটা দিন।

দিন দিন পরিশ্রান্তির চরমে পেঁৗছে যাচ্ছে ছেলেটি। ইদানীং কাজের প্রতি আগের মত মনোযোগ নেই। মাঝে মাঝেই ভুল হয়ে যাচ্ছে। আর দিন শেষে রাত আসা মানেই আতঙ্ক ঘিরে ধরা, আজ রাতেও তার ঘুম হবে না! তবে কী...হতাশায় ভেঙে পড়ে সে।

পাশের বেডেই সাহেদ ঘুমায়। একই সাবজেক্টে প্রতীকের এক ইয়ার সিনিয়র। প্রথম থেকেই প্রতীকের ব্যাপারটা তার কাছে প্রেম সংক্রান্ত কোন সমস্যা মনে হয়েছিল। ভেবেছিল এসব কেসে এমন ব্যাপার এক-আধটু হয়ই। কিন্তু প্রতীক যখন বলল, ব্যাপারটা মোটেও এধরনের কিছু নয় তখন সাহেদও একটু ভাবনায় পড়ল। সহজ সরল মনে সে প্রতীককে এক ভয়ংকর পরামর্শ দিয়ে বসল। 'তুমি স্লিপিং পিল খেয়ে দেখতে পারো।'

'যে কোন উপায়েই হোক ঘুম চাই আমার।' ঘুমের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে প্রতীক। সাহেদের পরামর্শ তার মনে ধরে। পাশের রুমের কনকের মাধ্যমে স্লিপিং পিলও পেয়ে যায়।

প্রথম দিকে প্রতি রাতেই একটা করে পিল খেত সে। খুব ভাল কাজ না হওয়ায় ডোজ বাড়ায়। এবার বেশ কাজ হয়। বহুদিন পর কাঙ্ক্ষিত ঘুম আসে চোখে।

চোখে ঘুম এলেও ক্ষতি যা হবার তা হয়ে যায়। ভেবেছিল দু'একদিন খাওয়ার পর এমনিতেই ঘুম আসবে। কিন্তু না, পিল ছাড়া ঘুম আসে না ওর। পিলের ডোজও বেড়ে যায়। কারণ প্রথম দিকের মত দু'একটা পিলে ঘুম আসে না এখন। দিন যাপনও একটু এলোমেলো হয়ে যায়। আগের মত সকালের ক্লাসগুলো করা হয় না। চাকরি এবং টিউশনিতেও কেমন যেন ছন্দ পতন শুরু হয়। আগের প্রতীককে এই প্রতীকের সাথে মেলানো যায় না। আগের প্রতীকের কাছে ঘুম ছিল সোনার হরিণ। আর এখন? সারাদিন ওর চোখের পাতায় যেন ঘুম ঝুলে থাকে! দু'তিনটা নয়, প্রতি রাতে পাঁচটার কম পিল খেলে ঘুম হয় না ওর। পিল খাওয়া এখন ওর কাছে নেশার মত!

রাতের পর রাত ঘুম না হওয়ার এমন সমস্যা প্রতীকের একার নয়। বাংলাদেশ তো বটেই, পুরো এশিয়ায় ঘুম না হওয়ার সমস্যা আছে কয়েক মিলিয়ন মানুষের, ভাবা যায়! সে যাক। ঘুম না হওয়ার এই সমস্যার একটি নাম আছে। ইনসমনিয়া (ওহংড়সহরধ), অর্থাৎ অনিদ্রা। এই অদ্ভুত রোগে ভুক্তভোগীদের বলা হয় উনি্নদ্র বা ইনসমনিয়াক (ওহংড়সহরধপ)।

ঘুম না হওয়ার সমস্যায় সবচেয়ে বেশি ভোগে সিঙ্গাপুরের লোকেরা। এক তথ্যে জানা যায়_সিঙ্গাপুরে প্রতি 100 জনে 15 জন লোক অনিদ্রায় ভোগে। কারও কারও মতে এই সংখ্যা আরও বেশি। আর পুরো এশিয়ায় অনিদ্রায় ভোগে প্রায় এক তৃতীয়াংশ লোক!

ভালভাবে ঘুম না হওয়া কিংবা একেবারেই ঘুম না হওয়া দুটোই সমস্যা। ঘুম ভাল না হলে দিনের শুরুটা ভাল হয় না। সারাদিন শরীর ম্যাজ ম্যাজ করে, কাজে ভাল করে মন বসে না, মেজাজটাও খিটখিটে থাকে।

আর একেবারে ঘুম না হলে? বেশির ভাগেরই প্রতীকের মত অবস্থা হয়। কেউ কেউ মানসিক ভারসাম্যই হারিয়ে ফেলে। তবে এরপরেও কথা আছে। অনিদ্রা অনেক সময় জীবনহানির মত ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। অনিদ্রা নিয়ে চালানো এক গবেষণা থেকে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে। চলতি শতাব্দীর শুরুর দিকে অনিদ্রা নিয়ে জাপানে চালানো এই গবেষণায় দেখা যায় যারা দিনে 8 ঘণ্টা ঘুমায় তাদের চেয়ে যারা দিনে 5 ঘণ্টা বা তারচেয়ে কম ঘুমায় তাদের হৃদরোগের সম্ভাবনা দ্বিগুণ। সামপ্রতিক গবেষণায় আরও যে সব তথ্য পাওয়া গেছে তা হলো_ঘুমহীনতা অনেক সময় ডায়াবেটিসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, ওজনও বেড়ে যায়। আবার ছোট বাচ্চাদের মধ্যে যারা অনিদ্রায় ভোগে তাদের বেশির ভাগেরই শারীরিক গঠন বেঁটে হয়ে থাকে। কারণ যে হরমোনের প্রভাবে শরীর বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় ইনসমনিয়া বা অনিদ্রা সেই হরমোনগুলোকে দমন করে রাখে।

অনিদ্রা থেকে পরিত্রাণের জন্য অনেকেই প্রতীকের মত পিল সেবন পদ্ধতি বেছে নেন। আসলে পিল খেলে ঘুম হয়তো আসে তবে তা খুবই সাময়িক। তবে অনেকেই যেটা বোঝেন না সেটা হচ্ছে পিল খেয়ে ঘুমের অভ্যাস করলে এক সময় এটা নেশার মত হয়ে যায়। তা হলে কী স্লিপিং পিল খাওয়া যাবে না? যাবে। তবে তা হতে হবে ডাক্তারের পরামর্শ মতে।

আসলে পিল খেয়ে অনিদ্রা দূর না করাই উচিত। এমন কিছু টিপস্ আছে যা পালন করতে পারলে অনিদ্রা তো দূর হয়ই, স্বাভাবিক ঘুমও ফিরে আসে। কী সেই টিপস্? তা হলে আসুন জেনে নেওয়া যাক...

ঠিক সময় বিছানায় যাওয়া

অনেকেই আছেন, ছুটির দিন ছাড়া অন্যদিনগুলোতে একই সময়ে ঘুমাতে যান। ঘুম থেকে ওঠেনও সময় মেনে। তবে এই নিয়মের ছন্দ পতন ঘটে বন্ধের আগের রাতে। ভাবেন, কাল তো ছুটি, আজ একটু দেরি করেই ঘুমাই। অবশ্য পরের দিন ঘুমও ভাঙে দেরিতে। কেউ কেউ আবার পুরো সপ্তাহের ঘুম পুষিয়ে নিতে ছুটির দিনটা ঘুমিয়ে ঘুমিয়েই কাটিয়ে দেন। আসলে এভাবে কখনও স্বাভাবিক ঘুম হয় না, আবার অনিদ্রা ভাবও দূর হয় না। স্বাভাবিক ঘুম কিংবা ঘুমহীনতা দূর করবার জন্য প্রতিদিনই চাই একই নিয়মের ঘুম। অর্থাৎ প্রতিদিন একই সময়ে ঘুম থেকে উঠা এবং একই সময়ে বিছানায় যাওয়া।

বাদ দিন দিবা ঘুম

যারা অধিকাংশ সময় বাসায় অবস্থান করেন তাদের বেশির ভাগই দুপুরের খাবারের পর একটু ঘুমিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এই ধরনের দিবা নিদ্রা স্বাভাবিক ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। এমনকী এই ধরনের ঘুম অনিদ্রারও কারণ সৃষ্টি করে। হঁ্যা, আপনার ঘুমে সমস্যা থাকলেও দিনে ঘুমতে যাবেন না। দিনের সামান্য ঘুমও রাতের ঘুমের সময় কঠিন সমস্যার সৃষ্টি করে।

ব্যায়াম এবং ব্যায়াম করুন

ঘুমের জন্য চাই ক্লান্তি। শরীর যত বেশি ক্লান্ত হবে, ঘুম তত দ্রুত আসবে। আর অফুরন্ত ক্লান্তির জন্য চাই ব্যায়াম। হঁ্যা, শরীরকে ক্লান্ত বানানোর শ্রেষ্ঠ উপায় ব্যায়াম। জগিং, সাইকেল চালানো কিংবা সাঁতার কাটা যে কোন ভাবেই ব্যায়াম করা যাবে। সপ্তাহে তিনবার করে আধা ঘণ্টার জন্য ব্যায়াম করলে দারুণ ঘুম হয়।

ঘুমানোর জন্য নির্দিষ্ট সময় ঠিক করুন

সব কিছুই নিয়মের চাকায় বন্দি। আর সামান্য হলেও নিয়মে হেরফের করা মানেই বিপত্তি ডেকে আনা। ঘুমের ব্যাপারটা মোটেও এই নিয়মের বাইরে নয়। তাই যখন তখন না ঘুমিয়ে, ঘুমের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে নেওয়াই ভাল। কথায় আছে, মানুষ অভ্যাসের দাস। ঘুমের এই নিয়মিত অভ্যাসটা যদি সত্যিই গড়ে ওঠে তা হলে ভাল ঘুমের জন্য আর হা-হুতাশ করতে হবে না।

ঘুমের আগে যদি করা যায়...

যদি সম্ভব হয় তা হলে বিছানায় গা এলিয়ে দেওয়ার আগে গোসল করে নেওয়া ভাল। তবে গোসল সেরেই বিছানায় উঠে পড়বেন না যেন। হালকা কিছু খেয়েও নিন। বিশেষ করে কলা বা হালকা গরম দুধ খাওয়া যেতে পারে। কারণ কলা আর হালকা গরম দুধে থাকে এল-ট্রিপটোফ্যান নামক এক ধরনের প্রোটিন, যা মস্তিষ্কে ঘুমের আবেশ তৈরিতে সাহায্য করে!

ভাল ঘুমের জন্য সঠিক জায়গা বাছাই

যেখানে সেখানে শুয়ে পড়লেই কিন্তু ঘুম আসে না। ঘুমের জন্য চাই সঠিক রুম এবং বিছানা। মোটামুটিভাবে যে রুমটি শান্ত, নিরিবিলি ঘুমের জন্য সেই রুমটিই বেছে নেওয়া ভাল। তবে রুমটি কেবল শান্ত আর নিরিবিলি হলেই হবে না, বাতাস আসা যাওয়ার ব্যবস্থাও থাকতে হবে। আর হঁ্যা, দিনের বেলায় না হলেও রাতে ঘুমানোর সময় শয়নকক্ষের জানালাটি হালকা খুলে রাখবেন। ঘুমানোর সময় রুমটি যথাসম্ভব অন্ধকার রাখবার চেষ্টা করবেন। এবার বিছানার কথা। ঘুমানোর জন্য সঠিক জাজিম বা তোশকটিই বেছে নেবেন। বিছানায় পিঠ দিলেই পিঠের কষ্ট হয় এমন জাজিম বিছানার জন্য নির্বাচন করবেন না।

না খেয়ে বিছানায় যাবেন না

কবি বলেছেন 'ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়'। হঁ্যা পেটে খিদে থাকলে মাথায় ছন্দ আসে না। সবকিছু কেমন এলোমেলো মনে হয়। সুতরাং একেবারে খালি পেটে বিছানায় যাবেন না। পেট ঠাণ্ডা, সব ঠাণ্ডা। তাই ঘুমাতে যাওয়ার আগে পেটের চাহিদাটা মিটিয়ে নিন।

ঘুমাতে যাওয়ার সময় কোন চিন্তা নয়

এক ঢিলে দুই পাখি কেবল প্রবাদেই মারা যায়, বাস্তবে নয়; তেমনি এক সাথে কখনও দুই কাজ করা যায় না। কথাটা ঘুমের বেলাতে খুব প্রযোজ্য। চিন্তা আর ঘুম পাশাপাশি চলতে পারে না। যে কোন একটা করতে হবে। যেহেতু বিছানায় যাচ্ছেন তাই যে কোন প্রকারের চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। চমৎকার ঘুমের জন্য কিংবা অনিদ্রা দূর করবার জন্য এটা খুব জরুরি।


( সৌজন্যে ঃ প্রতীক রহমান )]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/24950 http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/24950 2006-11-20 04:23:09
সিলেটের চার কৃতিসন্তান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হওয়ায় অভিনন্দন চার উপদেষ্টার মধ্যে সি এম শফি সামী ও সুফিয়া রহমানের জন্ম বিয়ানী বাজারে । জেনারেল ( অবঃ ) হাসান মসহূদ চৌধুরীর বাড়ি গোলাপ গঞ্জ উপজেলায় । এ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, যিনি কবি সুফিয়া কামালের মেয়ে । তিনি নগরীর 40 মণিপুরী রাজবাড়ির বাসিন্দা ।]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/22838 http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/22838 2006-11-02 05:53:09 বি এন পির ফাঁদে ধরা খেলো আওয়ামীলীগ ?

Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/22605 http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/22605 2006-10-30 12:46:12
একটি কবিতা ঃ ( রাজনৈতিক দেব-দেবীদের নামে উৎসর্গ ) তোমরা আমাদের মাড়িয়ে
প্রতিদিন অনেক উঁচুতে উঠে যাও,
তোমাদের পদধূলিতে ধন্য আমাদের বুক
পদাঘাতে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যায় প্রতিদিন-
তোমরাও তা জানো,
তাই কার্পেট মুড়ে রাখতে চাও আমাদের বুকের ক্ষত
ঢেকে রাখতে চাও তোমাদের অত্যাচারের চিহ্নকে
আর চাপে রাখতে চাও পৃথিবীর কাছে
তোমাদের গর্বোদ্ধত,অত্যাচারী পদধ্বনি ।
তবু আমরা জানি
চিরকাল আর পৃথিবীর কাছে
চাপা থাকবেনা
তোমাদের দেহে তোমাদের এই পদাঘাত ।
আর সম্রাট হুমায়ূনের মতো
একদিন তোমাদের হতেও পারে পদস্খলন ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/22524 http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/22524 2006-10-29 08:20:37
আমরা বাঙালীরা আসলেই বেকুব জাতি ? কারণ, আমাদের সত্য মিথ্যে পার্থক্য করার মত বোধ নেই । মাইকের বিকট আওয়াজে জিবন্ত দেব-দেবীরা যখন অনর্গল মিথ্যে কথা বলে তখন আমরা হাততালি দিয়ে বাহ বাহ দেই,একবারও চিন্তা করে দেখিনা তা সত্যি না মিথ্যে ।
মঞ্চে উঠে যখন যে ভাষন দেয় তখন তার বোধই আমাদের বোধ,তার বুদ্ধিই আমাদের বুদ্ধি । তাদের আহবানে আমরা অকাতরে রক্ত দেই, প্রয়োজনে জীবনটাও দিতে প্রস্তত ।
তার মানে কোন দিকে ঘাস আছে আর কোন দিকে বিপদ আছে তার বুদ্ধিটা নেই । তো .....ভাই বলেন তো...যার মরণ-বাঁচণের বুদ্ধিটাও নাই তারে কী কয় ?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/22469 http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/22469 2006-10-28 09:34:50
দৈনিক ইনকিলাবের মোনাফেকী চরিত্র http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/22455 http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/22455 2006-10-28 03:23:15 স্মরণীয়দের বরণীয় বচন ( উৎসর্গঃ বি এন পির দলত্যাগী দুধের মাছিদের ) http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/22433 http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/22433 2006-10-27 10:47:50 সে আমার সোনামনি,আদরের ছোট ''তালহা'' আজ ঈদের দিন । মনটা খুবই খারাপ । আজ প্রায় 7-8 বার ফোন করেছি । বারে বারে শুধু তার কথাই জানতে চেয়েছি । বিরহ-কাতর আপনহীন এই প্রবাসে ঈদ যে কেমন কষ্টের তা নাই-বা বললাম । শুধু সোনামনি ভালো থাক এই কামনায়.......।]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/22351 http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/22351 2006-10-25 11:04:10 দুই সৌদি মহিলাকে সালাম দিয়ে এক বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছিলাম চারিদিকে কেমন ফাঁকা ফাঁকা মনে হল । কিছুদূর হেঁটে কালো বোরকাঢাকা দুই সৌদি মহিলার সামনে পড়লাম । এমনিতেই সৌদি মহিলাদের ভয় করে চলি । কারণ, এখানের যে আইন কানুন ! মহিলাদের সাথে অশোভন আচরন করা তো দূরের কথা চোঁখ মারাটাই জেলে যাওয়ার রাস্তা একদম ক্লিয়ার !! মহিলাদ্্বয়ের সামনা সামনি হওয়ায় ভদ্রতার পরিচয় দিতে গিয়ে সালাম দিলাম । বললাম 'আসসালা মুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ।' সালামের রাহমাতুল্লাহটাও বাদ গেলনা । সালামের উত্তর তো পেলামইনা বরং তাদের মধ্যে একজনের মুখ থেকে অপ্রত্যাশিত উক্তি শুনে হতবাক হয়ে গেলাম । সে মহিলাটি বলল'' নাহনু মামা হাক্কাক ?'' অর্থাত আমরা কী তোর মা' হই ? তার এই উক্তি শুনে আমি রীতিমত ঘামতে শুরু করলাম ! আমাকে জড়িয়ে টড়িয়ে কেলেংকারি ধরনের কিছু ঘটার আগেই তাদের পাশ কেটে বেকুবের মত দু'পা ঠেনে ঠেনে বাহিরে চলে গেলাম । ক্যাফেতে বসে সকালের ঘটনাটার কথা যখন মনে করি তখন নিরুত্তর একটি প্রশ্নই কেবল নিজের মনে বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে, 'মহিলা দু 'জনকে সালাম দিয়ে কী এমন অপরাধ করলাম আমি ? ]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/22342 http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/22342 2006-10-25 05:38:38 বঙদেশে শান্তি পুরুষ্কার ! আহা.. !! কি শান্তি আকাশে বাতাসে যাক ঃ অন্য কথায় আসি, 2001-2003 সাল পর্যন্ত দুর্নীতিতে আমরা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার যে কৃতিত্ব অর্জন করিয়া ছিলাম সম্প্রতি ডঃ ইউনুস মিয়ার নোবেল শান্তি পুরুস্কার তাহা ম্লান করিয়া দিল । তাহা লইয়া দেশের বেকুব জনসাধারণ আহ্লাদে ভাসিলেও দেশের অনেক গন্য-মান্য বুদ্ধিজীবিদের ভাবাইয়া তুলিয়াছে । ঈর্ষাপরায়নতা বাঙালীর চিরকালের অভ্যাস হইলেও বাঙালী বুদ্ধিজীবিদের সমালোচনার বহর দেখিয়া অন্য কিছু মনে করিবেননা । বরং মুখ বন্ধ করিয়া আপনার অভিজ্ঞতার ঝুলিকে আরো সমৃদ্ধ করিতে থাকুন ।
আমাদের এই সোনার বাংলাদেশে ( ! ) অনেক ঘটনাই তো ঘটিতেছে । এইসব জানুন,শিখুন,সাহস নিজেও অংশগ্রহন করুন ।
বঙদেশে শান্তি পুরুষ্কার ! তাই বলিয়া অবাক হওয়ার কোন কারণ নাই । শান্তির জন্য এদিক সেদিক ছুটাছুটি করেও ফায়দা নাই, এমনকি শান্তি নগররের অলিতে-গলিতে হারিকেন দিয়ে খুঁজিলেও শান্তির দর্শন লাভে ব্যর্থ হইবেন । ইহা কী গাছের ফল,আম-জাম,কাঠাল ?
তাহার জন্য ক্রিটিক্যাল দৃষ্টিভংগী অবশ্যই প্রয়োজনীয় । একটা গল্প বলি ঃ এক রাজা তাহার রাজ্যে সুখি মানুষের খোঁজে বাহির হইয়া এক পর্যায়ে উপলব্ধি করিলেন যে, আসলে কেহই সুখী নয় । হতাশ রাজা বাহাদুর একদা দেখিতে পাইলেন,এক লোক খালি গায়ে গান গাহিতে গাহিতে যাইতেছে ।
রাজা কহিলেন''তুমি যে গান করছো তুমি কী সুখী ?''
ঃ ''জী মহারাজ আমি সুখী ।''
রাজা বিস্মিত হইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন''তা কী করে হয় ! এত মানুষ এত টাকা, এত পয়সা করার পরও সুখী নয়, আর তোমার তো সামান্য জামাও নেই । তুমি কী করে সুখী হও ?''
সেই সুখী মানুষ হাসিয়া-হাসিয়া জবাব দিল ''মহারাজ, আমার কিছুই নেই দেখে আমি সুখী ।''
একটু চিন্তা করিয়া দেখুন তো আমরা শান্তিতে নোবেল পাইয়াছি, ন্যায্য ভাবেই পাইয়াছি । কারণ জগতে সুখী মানুষরাই শান্তিতে থাকে । সুখ আর শান্তি আপন ভাই ভাই । সুখী মানুষ হওয়া প্রথম শর্তই হইল কিছুই না থাকা । আর আমাদের তো সত্যিই কিছু নাই । হূ হূ করিয়া দ্রব্যমূল্য বাড়িলেও মানুষের জীবনে দাম নাই । সন্ত্রাস-চাঁদাবাজী,চাপাবাজী,বোমাবাজী বাড়িলেও মানুষে মানুষে শ্রদ্ধাবোধ নাই । পানি,বিদ্যুৎ সহ প্রতিটি সেক্টর ঠিকই আছে কিন্ত এই সব দেখিবার কেহ নাই । রাজনৈতিক নেতাদের ধাপপাবাজী,দলাদলি,গোলাগুলি,চুলাচুলি আগের মত থাকিলেও দেশের উন্নয়ন নাই । মঞ্চের জীবন্ত দেব-দেবীর আহবানে আমরা অকাতরে জীবন উৎসর্গ করিতে পারি,তাহার মানে মরণ-বাঁচনের বুদ্ধিও নাই ।
সবই তো 'নাই নাই' ইহার পরও কী আমরা নিদ্্বর্িধায় বলিতে পারিবনা যে, আমরাই সুখী মানুষ ? আর এতগুলো সুখী মানুষ যে দেশে বাস করিতেছে সেই দেশকে শান্তি পুরুষ্কার দিলে কী এমন অপরাধ হইবে ?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/22314 http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/22314 2006-10-24 12:54:42
দারোগার বউ বলিয়া কথা ! http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/20777 http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/20777 2006-10-03 13:38:47 চাঁদ দেখে অবশ্যই রোজা রাখতে হবে আর এভাবে কুরবাণী ও হজ্জের অনুষ্ঠানাদি পালন ফরজ । ''শাবান মাসের উনত্রিশ তারিখে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন অথবা চাঁদ না দেখা গেলে তোমরা সে মাসের ত্রিশ দিন পূর্ণ কর । আর যদি দুজন মুসলমান সাক্ষ্যদাতা সাক্ষ্য দেয় তবে তোমরা তদানুযায়ী রোজা রাখো এবং রোজা ভাঙো ''। (বুখারী,মুসলিম,মোসনাদে আহমদ,সুনানে নাসাঈ)

আকাশ মেঘাচ্ছন্ন অবস্থায় কেউ একক ভাবে চাঁদ দেখলে শুধুমাত্র তাঁর উপড় রোজা ফরজ । অন্য কারো উপড় রোজা ফরজ নয় । এমতাবস্থায় ঐ ব্যক্তি (কাজীর) প্রশাসনিক দায়িত্বশীল ব্যক্তির দরবারে সাক্ষ্য দিলে সে সাক্ষীর পরিপ্রেক্ষিতে রায় দেয়া হলে কেবল তখনই সবার উপড় রোজা ফরজ হবে । ফিকাহ শাস্ত্রের সকল নির্ভরযোগ্য কিতাবগুলোতে এরকম বর্ণনাই পাওয়া যায় ।
উপরোল্লেখিত শরীয়া পন্থা অবলম্বন না করে কেউ যদি নিজের মনগড়া ব্যাখ্যা দিয়ে মুসলিম সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার অপচেষ্টা করেন কিংবা আমাদেরকে মুড়ি খাওয়ার নেমন্তন পাঠান তাহলে আমরা বাঙালীর এই বিশেষ মুখরোচক ঐতিহাসিক মুড়ি খাবারে অনুপ্রাণিত হইয়া তাঁহার দাওয়াৎ কবুল করিব ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/20412 http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/20412 2006-09-29 14:24:46
পবিত্র হারামাঈন শরীফের কয়েকটি দুর্লভ ছবি http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/20327 http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/20327 2006-09-28 14:29:12 আদিবাসীদের ধারণায় বিশ্ব সৃষ্টি রহস্যের মজার কাহিনী
পৃথিবী সৃষ্টির পূর্বে চারদিকে কেবল পানি আর পানি ছিল । সেই পানির গহীন অতলে ছিল মাটি । ঠাকুর জিয়ো বা ঈশ্বর প্রাণ সৃষ্টির তাগিদ অনুভব করলেন । তারপর তিনি পৃথিবী সৃষ্টি করে পানির মধ্যে বিচরণের জন্য কাঁকড়া, কুমীর, রাঘব বোয়াল, কাছিম, কেঁচো ইত্যাদি জীবের জন্ম দিলেন । এসব সৃষ্টি করে ঠাকুর জিয়ো সন্তুষ্ট হতে পারলেন না । তিনি ভাবলেন এই পৃথিবী মানবজাতিবিহীন শ্রীহীন । তারপর তিনি মাটি থেকে একজোড়া মানব-মানবী সৃষ্টি করলেন, তিনি সেই মানব-মানবীদের মধ্যে জীবাত্মা দেয়ার মনস্থির করলেন । কিন্তু কি আশ্চর্য! আকাশ থেকে আজব এক ঘোড়া বা সিন্ সাদুম এসে সেই মানব-মানবীর মূর্তি খেয়ে ফেলল । ঠাকুর জিয়ো খুবই দুঃখ পেলেন । তিনি মনস্থির করলেন আর কখনও মানুষ সৃষ্টি করবেন না । তারচেয়ে তিনি পাখি সৃষ্টি করবেন । তিনি নিজের বুকের অংশ থেকে সৃষ্টি করলেন একজোড়া পাতিহাঁস, দিলেন আত্মাবস্থা । জন্মের পর থেকে তারা কেবল পানির ওপর ভেসে বেড়ায়, তাদের থাকার কোন নির্দিষ্ট জায়গা নেই । ইচ্ছে হলে তারা ঠাকুর জিয়োর হাতের তালুতে বসে বিশ্রাম নেয় ।

হঠাৎ একদিন আবার সেই ঘোড়া বা সিন সাদুম এসে তাদের খেয়ে ফেলতে চাইল । কিন্তু ঠাকুর জিয়ো এবার সতর্ক রইলেন । তাঁর কোপে আজব ঘোড়া সমুদ্রের ফেনায় পরিণত হলো । এখন পাতিহাঁস দুটি সেই ফেনার ওপর ভাসে । কিন্তু এভাবে আর কতদিন ? তারা একদিন ঠাকুর জিয়োর কাছে প্রার্থনা করল, 'আমরা আশ্রয় চাই, খাদ্য চাই।' ঠাকুর জিয়ো কাছিমকে ডেকে পানির অতল রাজ্য থেকে মাটি আনতে বললেন । কাছিম চেষ্টা করে ব্যর্থ হলো, তারপর চিংড়ি মাছকে আদেশ দেয়া হলো, চিংড়িও ব্যর্থ হলো । এভাবে রাঘব বোয়াল, কাঁকড়া একে একে সবাই ব্যর্থ হলো ।

এবারে ঠাকুর জিয়ো হুকুম করলেন কেঁচোকে মাটি আনার জন্য । কেঁচো মাটি নিয়ে এল । ঠাকুর জিয়ো সেই মাটি দিয়ে স্থল ভাগ সৃষ্টি করলেন । সেই স্থলে স্থাপন করলেন পাহাড়, অরণ্য, পর্বত। পাতিহাঁস দুটো সেখানে বাসা বাঁধল, প্রকৃতির নিয়মমাফিক একদিন তারা ডিম পাড়ল । হঠাৎ একদিন সেই ডিম ফুটলে দেখা গেল সেখানে রয়েছে দুটি মানবসন্তান । একটি ছেলে আর একটি মেয়ে । ছেলেটির নাম রাখা হলো পিলচু হড়ম ও মেয়েটির নাম পিলচু বুড়ি । ক্রমে পিলচু হড়ম ও পিলচু বুড়ি বড় হলো । তারপর একদিন তারা হিহিড়ি পিহিড়ী দ্বীপে এসে বসতী স্থাপন করল । ঠাকুর জিয়ো তাদের উপর দৃষ্টি রাখলেন, একদিন জিয়ো মানুষের রূপ ধরে এসে তাদেরকে 'হাঁড়িয়া' তৈরির উপায় বলে দিলেন এবং এও নির্দেশ দিয়ে গেলেন যে হাঁড়িয়া তৈরির পর তাঁকে কিছু উৎসর্গ না করে যেন তারা তা স্পর্শও না করে । হাঁড়িয়া তৈরি হলো, তারা তা খেয়ে নেশায় বুঁদ হয়ে পড়ে রইল । হুঁশ ফিরে এলে তারা বুঝতে পারল তারা মানব-মানবী এবং তারা তাদের আবরণহীন শরীর দেখে হঠাৎ করেই লজ্জায় পড়ল । আবার এলেন ঠাকুর জিয়ো । তিনি তাদের কাপড় দিলেন । এই প্রথম তারা কাপড় পরতে শিখল ।

সময় পেরিয়ে যায় । তাদের ঘরে সাতটি ছেলে ও সাতটি মেয়ে জন্মগ্রহণ করল । দু'ভাইবোন করে তাদের বিয়ে হলো এবং তারা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল । বংশ বৃদ্ধির ফলে জায়গা না হওয়ায় তারা চলে গেল 'খোজ কামান' রাজ্যে । এই 'খোজ কামান' রাজ্যে এসে তাদের নৈতিক চরিত্রের অবনতি দেখা দিল । ঠাকুর জিয়ো এতে রাগান্বিত হলেন এবং তাদের বিপদ আসন্ন ঘোষণা করলেন । তিনি তাদের সংশোধন হবার সুযোগ দিলেন কিন্তু তারা সংশোধিত হলো না । অবশেষে 'খোজ কামানে' নেমে এল সর্বনাশা প্লাবন । বিপথগামীরা সবাই মারা পড়ল । শুধু দুজন হরতা পর্বতের গহ্বরে ঢুকে রক্ষা পেল । প্লাবনের পর দুজন চলে এল 'সসানবেদা' নামক স্থানে । সেখানেও বেশি দিন তারা টিকতে পারেনি, তারপর তারা 'জরপী' পার্বত্য অঞ্চলে এসে বসবাস শুরু করল, সেইখানেও তাদের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা জরপী পার্বত্য এলাকা অতিক্রম করার সিদ্ধান্ত নিল । কিন্ত জরপী পার্বত্য পথ অতিক্রম করা তাদের পক্ষে সহজ ছিল না । তখন তারা মারাং বুরো দেবতার কাছে প্রার্থনা করল যে, হে মহামান্য মারাং বুরো, তুমি যদি আমাদের এই কষ্টসাধ্য পথ অতিক্রম করতে সাহায্য করো তাহলে আমরা নতুন জায়গায় গিয়ে বাকি জীবন তোমার পুজো করব । মারাং বুরো তাদের প্রার্থনা মঞ্জুর করলেন । তখন সূর্য এসে তার অলৌকিক জ্যোতিতে অরণ্যের মাঝখান দিয়ে পথ দেখাল । সেই পথ অতিক্রম করে তারা চলে এল চায়েচম্পা রাজ্যে ।


(কৃতজ্ঞতা : আকাশ আহমেদ আরজু)

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/20098 http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/20098 2006-09-26 15:37:31
হজরত আয়েশা ( রাঃ )-এর বিয়ে নিয়ে ইসলাম বিদ্্বেষীদের মুখরোচক অধ্যায়ের বিস্তারিত জবাব http://www.shodalap.com/NM_Ayesha.pdf
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/19946 http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/19946 2006-09-24 19:11:58
স্বাগতম হে মাহে রমজান ! http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/19740 http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/19740 2006-09-22 13:51:35 মাহে রমযানের অগ্রিম শুভেচ্ছা http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/19622 http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/19622 2006-09-21 06:30:13 আসুন শিষ্টাচারের চর্চা করি ( আপডেট ) ---------------------------------------
আমাদের মাঝে কিছু কিছু ব্লগার আছেন যারা অন্যের মত খন্ডাতে গিয়ে একে অন্যকে গালি গালাজ করে বক্তব্য জাহির করেন । এমন কি ভদ্রতার বাহিরেও চলে যান । যা কোন ভাবেই কাম্য নয় । যে সব গূণাবলী নিজের চরিত্রকে মহিমান্বিত করে তোলে তার মধ্যে অন্যতম হল শিষ্টাচার বা আদব- কায়দা । অন্যের প্রতি নম্র,সদয়,সুমিষ্ট ও সম্মানজনক আচরণকে শিষ্টাচার বলে । এই শিষ্টাচার বা ভদ্রতাবোধ মানুষকে পরসপরের কাছে আনে, কাজ কর্মে সফলতার সহায়ক হয় । মানুষের চরিত্রের খারাপ বৈশিষ্টগুলো শিষ্টাচারের প্রলেপে লুপ্ত হয়ে যায় । মানুষের চরিত্রের ভিতর শিষ্টাচারের গভীর মূল নিহিত । বাহিরের চেহারায় ভিতরের আসল রূপটি ধরা যায় । এর ফলে মানুষের সমাদর ও মর্যাদা বাড়ে । অভদ্রতা বা অশিষ্ট আচরণের মাধ্যমে কেবল নিজের খারাপ দিকটিই প্রকাশিত হয়না , বরং পারিবারিক ও বংশের ঐতিহ্যের উপর ও কলনক আরোপ করা হয় । তাই সহজেই ঐ ব্যাক্তির পারিবারিক ঐতিহ্য, মান-মর্যাদা অনুমান করা যায় । একজন মানুষ জ্ঞানী হলে ও যদি তাহার কাছ থেকে শিষ্টাচার কিংবা ভদ্রতার আচরণ লাভ করা যায়না তাহলে তার কাছ থেকে কোন উপকারও আশা করা যায়না । তার সঙ অবশ্যই সযত্নে পরিহার করতে হবে । প্রয়োজনে এখানেও তাহাদের ব্লগ পড়া এবং মন্তব্য করা থেকে দূরে থাকাই শ্রেয় । কারন তাঁর কাছ থেকে ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনাই বেশি । সাপের মাথার মণি লাভের জন্য কেউ যেমন সাপের কাছে যেতে চায়না , তেমনি জ্ঞানপাপি দুর্জন ব্যাক্তিকেও এড়িয়ে চলতে হয় । আমাদের প্রত্যেককে এব্যাপারে জীবনের সর্বস্তরে সচেতনতার পরিচয় দিতে হবে ।
বাংলা সাহিত্যের এক মহান আদর্শবাণ ব্যাক্তি ( আমি তার খুবই ভক্ত) তার লেখায় চির সত্য কথাই ফুটে উঠেছে ঃ ''কিসে হয় মর্যাদা ? দামী কাপড়ে, গাড়ি-ঘোড়ায়, না ঠাকুরদাদার কালের উপাধিতে ? না-মর্যাদা ঐ সকল জিনিসে নাই । আমি দেখতে চাই তোমার ভিতর বাহির, তোমার অন্তর । আমি দেখতে চাই তুমি চরিত্রবান কিনা , তুমি কঠিন সত্যের উপাসক কিনা ? তোমার মাথা দিয়ে কুসুমের গন্ধ বেরোয় , তোমায় দেখলে দাসদাসী দৌরে আসে , প্রজারা তোমায় দেখে সন্ত্রস্ত হয় , তুমি মানুষের ঘাড়ে চড়ে হাওয়া খাও , মানুষকে দিয়ে জুতা খোলাও , তুমি দিনের আলোতে মানুষের টাকা আত্মসাৎ কর , বাপ-মা শশূর-শাশূড়ী তোমায় আদর করেন ; আমি তোমায় অবজ্ঞায় বলবো-যাও '' । ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/18535 http://www.somewhereinblog.net/blog/badrulblog/18535 2006-09-07 06:13:23