আমার প্রিয় পোস্ট
- কল্পনা চাকমা: 'নাম লিখেছি একটি তৃণে, আমার বোনের মৃত্যু দিনে' - ফারুক ওয়াসিফ
- জনৈক জ্ঞানী মানুষের সাথে কথোপকথন এবং কিছু সিদ্ধান্ত। - নির্বাসিত
- " আমার বাবা গভর্ণমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুলের হেড ক্লার্ক ছিলেন " - সারিয়া তাসনিম
- আম্মু, অবুঝ মেয়ে আমার! - কতবতবকতকত
- একটা কবিতা লিখতে চাই - ফারহান দাউদ
- যাত্রা শুরুর ইশতেহার (হোসেইনের কবিতাঞ্জাল) - হোসেইন
- গ্রাজুয়েশন পার্টির পর: বিদায়বেলায় বন্ধুদের জন্য - ফারহান দাউদ
- প্রিয় বল্গারদের জন্য গল্প ও একটি মোরাল,(প্লিজ গল্পটি পড়ুন,আমি আপনাদের ৫টি মিনিট চেয়ে নিলাম) - বিহংগ
দুই বছর (১)
০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ৮:১৪
২০০৫ সালের ৪ঠা এপ্রিল। সারা রাত ঘুমাইনি। লাগেজ গুছালাম। নতুন পিসি রেডি করলাম। কোন সুখে যে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের টিকিট কিনেছিলাম, জানি না। ব্যাটারা মাত্র 21 কেজি লাগেজ অ্যালাও করে। ছাত্র ইত্যাদি বলে 30 কেজি ম্যানেজ করা গেল। প্রায় পুরোটাই কাপড়; শীতের কাপড় আর জিন্স মেরে দিয়েছে লাগেজের বার আনা। কিন্তু এক গাদা বই নিতে হবে। যাচ্ছি জ্ঞান অর্জনে, আর গাদা গাদা বই নিবো না, তা তো হবে না। লাগেজে বই নেয়া অসম্ভব। রুকসাকে ভরলাম প্রায় 20 কেজি বই। বহুত কষ্টে কাঁধে তুলে হাঁটা দিলাম।
বাসা থেকে বিদায় নিলাম। যে ছেলে ঘর থেকে একশ মিটার দূরে গেলে বাপমার টেনশন শুরু হয়ে যায়, তারে বিদেশ যেতে বিদায় দিবে কিভাবে মা? আঁচলে চোখের পানি লুকাচ্ছেন তিনি। আমি সারা রাত ব্যস্ততায় কিছু ভাবার সময় পাই নাই। কিন্তু ভোরে মার থেকে বিদায় নিতে গিয়ে আর নিজেকে সামলাতে পারলাম না। মনে হচ্ছিল, দুনিয়ার সবাইকে বিদায় দিতে পারব, কিন্তু এই মানুষটারে বিদায় দিতে গেলে বুকের ভিতরটা ছিঁড়ে যাবে। খোদা, আমারে তুমি শক্তি দাও। দুই চোখের জল সামলে রাখতে আর পারলাম না। সিঁড়ি বেঁয়ে লাগেজ নিয়া নিচে নামলাম। কারো মুখে কথা নাই। সব কথা বুকের মাঝে বরফ জমাট হইয়া গেছে। আর চোখে বইছে বন্যা।
গাড়িটা ছাড়ার মুহুর্তে ইচ্ছা হল, মাকে একটা বার স্পর্শ করি.....আবার কবে ছুঁতে পারব তাঁরে! হায়রে, পারলাম না। জানালা খুলে তাঁকে ছুঁতে পারার আগেই গাড়ি ছেড়ে দিল। সেই স্পর্শ করতে না পারার স্মৃতি বার বার ভেসে ওঠে মনে।
আবার কবে ছুঁতে পারব মাকে। খুব ভাল করে জানি, এই কথাগুলোই মাও ভাবে, আর আঁচলে চোখ মুছে।
কি জানি। বিদায় বেলায় এতোটা খারাপ লাগবে, তা তো আগে মনে হয় নাই। আসলে এত কাছে থেকেও সব কিছু বুঝি নাই। এজন্যই হয়তো মাঝে মাঝে দূরেও যাওয়া লাগে। এতগুলা বছর মায়ের যত্ন, আদর, স্নেহ, এগুলা নিজের প্রাপ্য আর মায়ের দায়িত্ব বলে ভাবতাম। কখনও বুঝি নাই ভালবাসার মূল্য। হায়রে, যখন বুঝলাম, ঐ ভালবাসা অনুভব করারও সময় পেলাম না....প্রতিদান তো দিতে পারার প্রশ্নই উঠে না।
এয়ারপোর্ট পর্যন্ত মাকে আনা গেল না সাথে, কারণ ছোট ভাইর এস,এস,সি পরীক্ষা সকালে। তার সাথে একজন যেতে হয়। আমি বাপ আর দাদাকে সাথে করে চলে এলাম জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। দাদা বললেন, তুই ফিরা আসতে আসতে আর বাঁচি কিনা কে জানে, তোর সাথে এইটাই হয়তো শেষ দেখা। পা ছুঁয়ে সালাম করে বিদায় নিলাম তাঁর থেকে। বাবা বরাবরের মতই বেশী কিছু বললেন না। গম্ভীর হয়ে রইলেন।
সময় হয়ে এলো প্লেনের। দুঘন্টার মত বাকি আর। লাগেজ ওজন করা হলো। ৩৩ কেজি, বলে কয়ে ওটা পার করা গেল। হ্যান্ডব্যাগ প্রায় ২০ কেজি। ওটা কোনভাবেই এ্যালাও করা হলো না। "সর্বোচ্চ ৫ কেজি এ্যালওড", এরকম একটা ট্যাগ লাগিয়ে আমার ব্যাগ আমার হাতে ফেরত দেয়া হলো। প্রায় সবগুলো বই আমি ফেলে যেতে বাধ্য হলাম। পরে অবশ্য মনে মনে ধন্যবাদ দিয়েছিলাম এয়ারলাইনকে।
তারপর বিমানে আরোহন, প্লেন ডিলে হওয়া, পাশের লন্ডন এবং যুক্তরাষ্ট্রগামী দুই সহযাত্রীর সাথে টুকটাক কথা, খাওয়া, দেখা, ডিস্প্লেতে সিনেমা আর ম্যাপ দেখা এসব করতে করতে পৌঁছে গেলাম হিথ্রো। প্লেন ছাড়তে দেরী হয়েছিল প্রায় দু ঘন্টা, পাইলট জোরসে টেনে এক ঘন্টা কাভার দিতে পেড়েছে। হিথরোতে দু ঘন্টার ট্রানজিট টাইম কমে হয়ে গেছে এক ঘন্টা। বিমানবালা প্লেনে থাকতেই আমাকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বললেন, কানেক্টিং ফ্লাইট ধরতে চাইলে আমাকে স্প্রিন্টারের মত দৌড়াতে হবে। আমি মনে মনে বিমল চন্দ্রের অবস্থানে নিজেকে বসালাম।
এক ঘন্টারও কম সময়ের ভেতর আমার হিথ্রোর আরেক টার্মিনালে যেতে হবে। কিছুই চিনি না, বুঝি না। তারপরও খুব সহজেই বাসে করে চলে গেলাম অন্য টারমিনালে, নাম্বার দেখে দৌড়াতে দৌড়াতে পৌছে গেলাম আমার কাঙ্খিত বিমান পর্যন্ত। তবে ততক্ষণে আমি আধ ঘন্টার মত লেট। কিন্তু আমাকে ছেড়ে যায়নি কানেক্টিং প্লেন।
ওমা! এতো দেখি বাংলাদেশ বিমান টাইপ পুচকি একটা প্লেন। ভেতরে আধুনিক তেমন কিচ্ছু নাই। আগের প্লেনটারে ভলভো ভাবলে এটা মতিঝিল-বনানী রুটের ৬ নাম্বার বাস। খুব মজা লাগল, যখন জানতে পারলাম শুধু আমার জন্যই বিমানখানা বেশ কিছুক্ষণ দেরী করে ছাড়লো। বিমানবালাকে ডেকে একগ্লাস পানি খেলাম, প্রায় আধাঘন্টা রুকসাক নিয়ে দৌড়ে আমি তখন তৃষ্ণার্ত। ভাবছিলাম, আমার রুকসাকের ২০ কেজি বই কমিয়ে না আসলে কি অবস্থাই না হতো। প্রায় দুঘন্টা পর পৌঁছে গেলাম স্টুটগার্ট এয়ারপোর্ট।
(ছবিটি আমার তোলা, হাইডেলবার্গ শহরের)
(চলবে)।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ৮:১৬ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
বায়েজীদ বলেছেন:
@রাশেদ: ধন্যবাদ। চলবে তাহলে।@ফরিদ ভাই: আমার লেখালেখির অভ্যাস আসলে খুব কম। আর লেখার সময়ও পাইনা ইদানিং। তারচেয়ে বরং অন্যদের লেখাগুলো পড়া হয়।
নজমুল আলবাব বলেছেন:
বায়েজীদ, কেমন আছেন? আপনার জন্যই আজ সামহোয়ারে আসলাম। ভুল না করে থাকলে আপনিই আমার ব্লগস্পটে কমেন্ট করে এসেছেন। খুব ভাল লেগেছে সেই কমেন্ট দেখে। ভাল থাকবেন। খুব ভাল।আরে বলাই হলনা, এখানে এসে আপনার এই দারুন লেখাটাও পড়া হয়ে গেল। ঝরঝরে লেখাটা পড়ে আরামবোধ হল।
বায়েজীদ বলেছেন:
নজমুল আলবাব ভাই, অনেক আনন্দিত হলাম আপনার কমেন্ট পড়ে। আপনি সমহোয়্যারে এসে আমার মন্তব্যের জবাব আমার ব্লগে দিয়ে গেলেন, এটা পাঠক হিসেবে আমার জন্য অনেক সম্মানের। আর লেখার প্রশংসা করে লজ্জা দেবেন না, আমি জানি আমার লেখার করুণ অবস্থার কথা, তারপরও অনেক ধন্যবাদ এই উৎসাহ দেয়ার জন্য।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















৫