অবাক লাগে যখন জাতির বিবেক সাংবাদিকরাও জড়িয়ে পড়ে চাঁদাবাজিতে। যাদের কলম লিখে যাবে অন্যায়, অবিচার ও শোষণের বিরুদ্ধে আর তারাই নাকি স্বয়ং জড়িয়ে যাচ্ছে নানা অপরাধে। ভেবেছিলাম লিখবো না, কিন্তু লিখতেই হলো আমাদের স্বজাতি ভাইদের বিরুদ্ধে। স্বজাতিও বলতে তাদের ঘৃণা হওয় যারা নাকি চাঁদাবাজি করতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার হয়, মদ্যপ অবস্থায় থানায় গিয়ে মাতলাতম করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়। খুব ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির নেশা থেকেই আমি নেশাগ্রস্ত হয়ে যাই এই জগতের। একটি মুহুর্তও বিচ্ছিন্ন হতে পারি নি সংবাদপত্র জগত থেকে। ক্ষুদ্র এই পরিসরে জেনেছি, দেখেছি ও শিখেছি অনেক কিছু। ক্ষুদ্র এই অভিজ্ঞতার আলোকে কখনো প্রশ্রয় দেই নি তাদের যারা সাংবাদিকতাকে হলুদ করার মানসে লিপ্ত।
একটি প্রশ্ন বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে মনে হলুদ সাংবাদিকতার প্রশ্রয়দাতা করা? হ্যাঁ আমার মতেই স্বয়ং পুলিশ প্রশাসন এদের প্রশ্রয়দাতা। বিব্রবতবোধ হচ্ছেন তাই না। গত ২১ জুলাই চট্টগ্রামের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশ এর পাতায় যখন পড়লাম 'মদ খেয়ে থানায় মাতলামি : ধরা পড়লো কথিত সাংবাদিক জনি' শিরোনামটা কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছিলাম। আর অন্যদিকে তখন শংকাও ছিল নাকি এই জনিই মুক্তি পেয়ে পুলিশ কমিশনারের হাতে দুটি ফুলের তোড়া দিয়ে সৌজন্য সাক্ষাত ও অভিনন্দন জানাবে। আর এই সংবাদ ছবিসহ পত্রিকাগুলোতে পাঠাবে। না, তেমনটি দেখার আগেই ঘটলো আরো একটি ঘটনা। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবারো শিরোনামে আসলো সাংবাদিকতার নামে চাঁদাবাজি। এবার কিন্তু থানায় গিয়ে নয় একেবারে চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনারের কাছেই চাঁদা চেয়ে বসলো ঢাকার আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকার এক সম্পাদকসহ তার অপর তিন সহযোগী। তাদের সাহসের তারিফ না করে থাকতে পারলাম না। সত্যিই তারা বীর বাহাদুর, সাহসী চাঁদাবাজ। কিন্তু তারা প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করলেই তো পারতে, কেন শুধু শুদু সাংবাদিকতা মতো মহান পেশাকে কলঙ্কিত করতে গেল তারা?
এবার যদি বোধোদয় হয় পুলিশের। সাংবাদিক নামধারী অপরাধীরা কতোটা বেপরোয়া হলে সরাসরি চাঁদা চেয়ে বসতে পারে পুলিশ কমিশনারের কাছে। তাও দলবল নিয়ে গিয়ে। যাদের শক্তিকে বলীয়ান হলে এসব অপরাধীরা সমাজে দাবড়ে বেড়াচ্ছে সেই পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাই যখন এদের চাঁদাবাজির কবলে পড়লেন তখন তাদের স্বরূপ চিনতে আর বাকি কী। কিন্তু তারা কী তা উপলব্ধি করতে পারবেন।- এমনভাবেই এক ব্যক্তি মন্তব্য করেছিলেন কথিত চাঁদাবাজ সম্পাদকসহ তার সহোযোগীরা গ্রেপ্তার হওয়ার পর।
শুধু কি প্রশাসন দায়ী - না তা কিন্তু নয়? দায়ী আমরাও যারা কাজ করছি বিভিন্ন মিডিয়াতে। আমাদের কলম স্বোচ্ছার করতে হবে তাদের বিরুদ্ধে, চিহ্নিত করতে হবে তাদের যারা সাংবাদিকতার নাম ভাঙ্গিয়ে নির্দ্বিধায় বিভিন্ন অপকর্ম করে যাচ্ছে। কেন আমরা দায়ী? হ্যাঁ, কারণ আমরা প্রায়ই সময় হলুদ সাংবাদিকদের অপকর্ম দেখেও না দেখার ভান করে থাকি। যদি তাদের বিরুদ্ধে লিখি তবে উল্টো না আমাদের সুনাম নষ্ট হয়। এককালে সাংবাদিক ছিল সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধার পাত্র আর তারাই নাকি এখন 'সাংঘাতিক' উপাধি পাচ্ছে। ভাবতে শরীর কেঁপে উঠে, থামিয়ে দিতে ইচ্ছে হয় হাতের কলম। সংবাদপত্রের জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে ইচ্ছে করে, কিন্তু পারি না। কারণ এই জগতরে প্রাণস্পন্দন আমাদের শিরায় শিরায় প্রবাহিত হচ্ছে।
আমাদের এই সাংবাদিক সমাজ থেকে কি হলুদ সাংবাদিকদের বিতাড়িত করার কি কোন উপায় নেই? নেই কি কোন প্রচেষ্টা? যদি আমরা সবাই একটু সচেতন হই তবে তাদের তৎপরতা কমে আসবে বলে আমি মনে করি।
.......................................................................................................
সুহৃদ পাঠকমহল, আপনারা কি মনে করেন? প্রতিহত করতে পারবেন কি?.......................................................................................................
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা এপ্রিল, ২০১৩ ভোর ৫:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



