আমার প্রিয় পোস্ট
- কোরানে বিজ্ঞান খুঁজতে যেয়ে যখন কোরান হয় বিকৃত আর বিজ্ঞান হয় ধর্ষিত!! - হোরাস্
- স্যালারী সার্ভে (বেতন জরিপ ) সবাই সাহায্য করুন!!! - ফরহাদ মাহমুদ সোহাগ
- পাকমন পেয়ার - আনোয়ার সাদাত শিমুল
- সময় কী ? - আনোয়ারুল আলম
- ঈশ্বরচিন্তা - ৪ - আরিফুল হোসেন তুহিন
- ... তাহলে ইসলামের "প্রানীর ছবি আকা হারাম"-নির্দেশটি কতটা যৌক্তিক ? - মনির হাসান
- স্পিনোজার নির্বিকার ঈশ্বর - ইমন জুবায়ের
- ধর্মে বিজ্ঞানঃ নিম গাছে আমের সন্ধান - নাস্তিকের ধর্মকথা
- ঈমান জোরদার করার জন্য বিভিন্ন ব্লগ হইতে সংগৃহিত ক্লাসিক লেখা - দ্বিতীয়নাম
- দস্যু বনহুর নামে একজন আছেন..................... - সবুজপাতা
- মুসলমানদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত-১৯ - মোহাম্মদ আলী আকন্দ
নারী নিয়ে হুমায়ুন আজাদের পরিশ্রমসাধ্য কাজকে যারা অনুকরন বা নকল বলে তাচ্ছিল্য করছেন তাঁদের প্রতি জিজ্ঞাসা
২৬ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ১:৫৭
নারী নিয়ে হুমায়ুন আজাদের পরিশ্রমসাধ্য কাজকে যারা নারী বিষয়ক একগাদা বিদেশী গ্রন্থের অনুকরন বা নকল বলে তাচ্ছিল্য করছিলেন, তাঁদের প্রতি একান্ত জিজ্ঞাসা- হুমায়ুন আজাদ বিষয়টি নিয়ে লেখার আগে আপনারা কোন ডিমে বসে তা দিচ্ছিলেন? নাকি সাদা সাহেব-মেমদের গ্রন্থে ধৃত জ্ঞানরাশি আমাদের মতো আংরেজী-আনপড় জাতিকে জানাবার কোন প্রয়োজন বোধ করেননি আপনারা? পাছে এসব জেনে-টেনে আমাদের সাধের মুসলমানিত্ব খোয়া যায় আর আমাদের বঙ্গ অবলারা হেজাব-তসবি-কদমবুসি ছেড়ে বেপর্দা হওয়ার রাস্তা ধরে? অথচ "নারী" প্রকাশিত হবার পর বাংলাদেশের বহু নারী সেটি পড়েছেন। যারা পড়েছেন তারা নিজেকে দেখার ভঙ্গি নিয়ে ভেবেছেন, এবং আমাদের মহামান্য মরদদের পদতলে তারা তাদের শরীর, মেধা ও মননশীলতার কী করুণ অপচয় করে চলেছেন সেটা বুঝতে পেরেছেন।
সহী হয়ে উঠুক না উঠুক, হুমায়ুন আজাদ নারী লিখে এবং সিমন দ্য বেভোয়ারের দ্য সেকেন্ড সেক্স এর বাংলা সারানুবাদ দ্বিতীয় লিঙ্গ-এর মাধ্যমে বাঙালীকে নারীবাদের যে ইন্টারপ্রিটেশন উপহার দিয়েছেন, আমাদের পিছিয়ে পড়া বাংলায় সে কাজটি বাংলা সাহিত্যের সম্মানীয় রথী-মহারথীরা আগে করে গেলে বঙ্গদেশে নারীবাদ চর্চার ভিত্তিটি বিংশ শতকের একটা পর্বে এসে আটকে থাকতো না, বরং এতোদিনে তা একটি পুর্ণাঙ্গ জ্ঞানপ্রকল্প ও যথার্থ নারী আন্দোলনে রূপ নিতে পারতো।*
জনপ্রিয়তা লাভের আশায় আমাদের অনেক লেখক বুদ্ধিজীবি যখন নিজের মেধা-মনন বিকিয়ে দিচ্ছিলেন, পাঠক ধরার তোয়াক্কা না করে হুমায়ুন আজাদ তখন ভাষাতত্তের মতো শ্রমসাধ্য এলাকায় নিজ জ্ঞানের পুজিঁটুকু খরচ করেছেন। ভাষার কাঠামো, ধ্বনি ও বাক্যতত্ত নিয়ে তার মহৎ কাজ বাক্যতত্ত্ব এবং দুখন্ডে সম্পাদিত বাঙলা ভাষা প্রকাশিত হবার পর পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্য এবং রেফারেন্স হিসাবে গৃহীত হয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশের উন্নাসিক বুদ্ধিজীবি মহলে এ নিয়ে কোন আলোচনা বিশ্লেষন হয়েছে কি?
ছাত্রদের উপযোগী করে লেখা তার ঐতিহাসিক ও তুলনামুলক ভাষাবিজ্ঞান কিংবা পশ্চিম থেকে ঋণ করে আধুনিক ভাষাবিজ্ঞানের নতুন এলাকা অর্থবিজ্ঞান নিয়ে বাংলাভাষায় তিনি যে ব্যাখ্যাধর্মী আলোচনার সূত্রপাত ঘটিয়েছেন, একে আমাদের ভাষাবিজ্ঞানীরা সামনে এগিয়ে নিয়েছেন কি?
কবিতার উপকুল ছেড়ে বিরামহীনভাবে উপন্যাস লিখে যেতে বাধ্য হয়েছেন হুমায়ুন আজাদ। তাকে বাধ্য করেছি আমরা। তার উপন্যাসগুলো এদেশের সাম্প্রতিক দুষনের বিরুদ্ধে, দেশটিকে আমরা কোথায় টেনে নামিয়েছি এবং এখনো নামাচ্ছি তার তিক্ত সমালোচনার একেকটি দলিল। তার উপন্যাস পরিস্কার জানিয়ে দেয়, বাঙালী শ্লীল-শিল্পিত হবে কী করে যখন তার পুরো বেঁচে থাকাটাই অশ্লীল? যে জাতি অশ্লীলভাবে টিকে থাকার মধ্যে নিজের সার্থকতা খুঁজে পাচ্ছে, সে জাতি কি করে অতিক্রম করবে নিজেকে বা তারও চেয়ে অগ্রসর কোন জাতিকে?
আর উপন্যাস লেখার ফাঁকে জ্ঞান বিজ্ঞান শিল্পকলা নিয়ে লিখেছেন অনেক গুরুত্বপুর্ণ লেখা, যেগুলো তার লেখার কথা নয়, যেগুলো লেখার কথা ছিলো অন্য কারুর!
তাকে অহংকারী-উচ্চাভিলাষী-পরশ্রীকাতর বলা হয় কারণ বঙ্গীয় স্বভাবের পক্ষে হুমায়ুন আজাদ সেই বিরল ব্যতিক্রম যিনি বিনয়ী সাজার নাম করে স্তাবকতা করেননি, বরং সকল সীমাবদ্ধতাকে নিয়েই হয়ে উঠেছিলেন অদম্য ও স্পস্টভাষী। হুমায়ুন আজাদ অনেক প্রগ্রেসিভ শিম্পান্জী থেকে আলাদা ছিলেন, প্রগ্রেসিভদের ন্যায় কোন রাজনৈতিক দলকে তেল মারার প্রয়োজন হয়নি তার। বৈষয়িক সুবিধা হাসিলের জন্য কারো অনৈতিক, অবৈধ, আপত্তিযোগ্য কাজ কারবারকে বৈধও ন্যায্য প্রতিপন্ন করার খেলায় তার রুচি ছিলনা। প্রতিক্রিয়াশীলতার চোখরাঙানী বা ভীতিপ্রদর্শন আজাদকে তার কর্তব্যকর্ম থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি একচুল। কবিতা, প্রবন্ধ, অনুবাদ, গবেষনা, সমালোচনা, উপন্যাস, শিশুসাহিত্য বা দৈনিকের কলাম - সর্বত্র তার ভুমিকা এক - উচ্চারন অ-প্রথানুগ, বিশ্লেষন যথারীতি অস্বস্তি উৎপাদক এবং সিদ্ধান্তের দিকে অবশ্যই সাহসী। তিনি প্রশ্ন করেছেন, তর্কের ক্ষেত্র তৈরী করেছেন, অন্যকে তর্কে লিপ্ত হতে উত্তেজিত করেছেন, পরখ করে দেখতে চেয়েছেন আমরা তার সাথে তর্কে প্রস্তুত আছি কিনা, এবং প্ররোচিত করেছেন তার যুক্তিতর্কের বিপরীতে পাল্টা যুক্তি তর্ক রচনায় - যা তার আগে বা পরে কেউ করে যেতে পারেননি।
প্রেরনা: ছফা'র বর্ণনায় হুমায়ূন আজাদ-১: হুমায়ুন আজাদ একটা সজারু
তথ্য: সূনৃত, ৪র্থ সংখ্যা থেকে অনুলিখন
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১২:২২ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
হাসান মাহবুব বলেছেন:
+++++
লেখক বলেছেন: স্যারকে খুব ভালবাসি। মৃত্যুর এতোদিন পরও তাকে নিয়ে বিদ্রুপ রসিকতা কটুক্তি বুকে তীরের মতো এসে বাঁধে।
তিনি বাংলাদেশ নামের এই ভুখন্ডকে অন্তর থেকে ভালবেসেছিলেন - শিম্পান্জীদের মতো করে ভালবাসেননি। যে ভালবাসে, লজ্জা সেই পায়, কস্ট পাওয়া বা শাসন সমালোচনা তারই সাজে। তাই তার লেখা এতো নির্মম, নির্বিকার।
জটিল বলেছেন:
হুমায়ুন আজাদ সেই বিরল ব্যতিক্রম যিনি বিনয়ী সাজার নাম করে স্তাবকতা করেননি, বরং সকল সীমাবদ্ধতাকে নিয়েই হয়ে উঠেছিলেন অদম্য ও স্পস্টভাষী।
সবাক বলেছেন:
গুডপোস্ট।
'লেনিন' বলেছেন:
অসাধারণ লিখেছেন। +
নৌশীন বলেছেন:
হুমায়ুন আজাদ
কলিজার ঘাঁ আজো শুকায়নি ,
তোমার অকাল প্রয়ান- আজো মানিনি ,
রক্ত জমাট মম হ্রদপিন্ডে- স্মৃতি'তে অম্লান
আজো কাঁদি দেখে তোমার ছবি
হে শ্রেষ্ঠ মহান!
হ্রদয়ের প্রতিটি পরতে পরতে আজো তোমার নাম ,
কম্পনে স্পন্দনে স্পন্দিত আমি- হে মহিয়ান !
শৃংঙখলে আবদ্ধ এক মুক্ত বিহঙ্গ ,
এ মহাবিশ্ব দেয়নি তোমার দাম ,
ঐ লাল সবুজ পতাকা'র মাঝে
হে মহা মনীষী তুমি চীরদিন রবে।
সৌম্য বলেছেন:
তাকে অহংকারী-উচ্চাভিলাষী-পরশ্রীকাতর বলা হয় কারণ বঙ্গীয় স্বভাবের পক্ষে হুমায়ুন আজাদ সেই বিরল ব্যতিক্রম যিনি বিনয়ী সাজার নাম করে স্তাবকতা করেননিবাংলাদেশের বাঙ্গালী লেখক। বঙ্গিয় স্বভাব তাইলে খারাপ কেন হবে? আমরা বাঙ্গালীরা লেখকদের সম্মানের চোখে দেখি। আর একজন সম্মানিত ব্যাক্তির কাছে খিস্তি খেউরে ভালো লাগে না। টিভিতে এক সাক্ষাতকারে দেখছিলাম উনি কাজী নজরুলকে ছড়াকার বলছেন। আজকালকার লেখকেরা লেখকই না। সবাই সাই ফাই ভুতের গল্প লেখে। অথচ সায়েন্স ফিকশানেও কিন্তু অনেক বড় কাজ করা যায়। জুলভার্নের রুপকথা টাইপ সায়েন্স ফিকশান থেকেই আর্থার ক্লার্ক আর আসিমভ আসছেন। উনি নিজেরে ছাড়া আর কাউকে লেখক বলে গন্যি করতেন না।
আর উনার লেখকে কিছু খিস্তি টাইপ নোংড়া শব্দ এত বেশী (এবং অকারনে) ব্যাবহার হয় যেটা দৃষ্টি কটু লাগে। বস্তির মেয়ে যখন আরেকজনের সাথে চুলাচুলি করে তখন এই শব্দ স্বাভাবিক। এক পতিতা যদি দালালের সাথে দামা দামি করে তখনও এই শব্দগুলো আনতে পারেন লেখক কাহিনীর জন্যে। কিন্তু একজন টিচার যখন টিভিতে দেখছেন দেশে সামরিক বাহিনী নেমেছে দেশ দখল করেছে তখন হিসি করে বাংলাদেশ ডুবিয়ে ফেলতে চাই (৫৬হাজার বর্গমাইল) ঠিক স্বাভাবিক লাগে না। আমি খাটি বঙ্গদেশী পাঠক। আন্তর্জাতিক সাহিত্যে খুব একটা রুচি নাই। বঙ্গদেশী মানসিকতা থেকে বলছি, বঙ্গদেশী মানসিকতায় উনার রুচি খুব একটা যায় না।
তবে উনাকে শ্রদ্ধা করি, স্বাধীনতা বিরোধী, ধর্ম ব্যাবসায়ীদের বিরুদ্ধে আজীবন শক্ত অবস্থানের জন্যে। কিন্তু উনি সমকালীন অন্যলেখক দের মোটেও শ্রদ্ধা করতেন না।
লেখক বলেছেন: সেটা অবশ্যই তার নিজস্ব বিবেচনা। তার নিজস্ব জগতে আমরা আমাদের সংখ্যাগুরু মতামত চাপিয়ে দিতে পারিনা। তিনি হয়তো প্রচলিত ধারনায় অ-নিরপেক্ষ, অ-বিশ্বাসী এবং দুর্বিনীত ছিলেন এবং এজন্যে তার শত্রুরও অভাব ছিলনা। ব্যক্তির বোধ-বিবেচনা যদি প্রচলিত ধারনার বিপরীত হয় তাহলে এ ভয় থাকবেই।
"আধুনিক বাঙলা কবিতা" নামে যে সংকলনটি বের করেছেন তাতে নজরুল কেন, রবীন্দ্রনাথের নামও ছিল না। আধুনিক কবিতার প্রধান অগ্রগন্য আল মাহমুদ, আব্দুল মান্নান সৈয়দরাও নেই। ষাট দশকের পরবর্তী কবিরাও নেই। তার কবিতা বোঝার প্রক্রিয়াটি তার একান্ত নিজস্ব ছিল।
কিন্তু এখানে আমাদের করণীয় কিছু থাকার কথা নয়। ব্যক্তিগত পছন্দ, অপছন্দ, বৈশিষ্ঠ্যকে পাশ কাটিয়ে আমরা তার সৃস্টিকর্মের দিকে নজর ফেরাই না কেন?
আর অশ্লীলতা বিষয়ে আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের একটা উদ্ধৃতি দেই। ইলিয়াস এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন- "অশ্লীলতা? কাউকে হেয় করা বা বকাঝকা করাই কিন্তু এসব শব্দ ব্যবহারের প্রধান উদ্দেশ্য নয়। এটা যে তাদের স্বভাবের অংশ। যেমন আমার 'ফেরারী' গল্পটার লোকটা চাঁদের আলোয় এক অপূর্ব সুন্দরী পরীর নগ্ন পা দেখেছে, সেটার বর্ণনা দিতে গিয়ে সে বলেছে, 'চান্দে হালায় চুতমারানীর পায়ের মইধ্যে ঢুইকা বারাইবার পারতাছে না'। কিংবা ধরো কোনো একটা মেয়েকে কোনো ছেলের দারুন পছন্দ হয়েছে, তো সে বলবে 'চুতমারানী মাইয়াটারে এমুন পছন্দ হইয়া গেছে হালায় খানকির পুত কি কমু' তো এগুলো সে বলছে গালাগালি দিয়ে মোটেও না। ......... নিজের ছেলেকেও অত্যন্ত মমতার সঙ্গে ডেকে বলবে, 'হালায় গেছিলি কই?' .......।"
সাহিত্যে শ্লীলতা অশ্লীলতা, শিল্পের সীমানা, শিল্পবোধ বিচার বিষয়গুলো সময়ের হাতেই থাকুক। আমরা নিশ্চয় অশ্লীল উপাদান ও ভাষার জন্য বুদ্ধদেব বসু, সমরেশ বসু, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বা সুবিমল মিশ্রকে বাতিল করতে পারিনা। সাহিত্যে সময়বিশেষে শিল্পমুল্য-নন্দনমুল্য বিচারের চেয়ে প্রধান হয়ে ওঠে যুগ ও সময়ের বাস্তবতা।
আমি তান্ত্রিক বলেছেন:
+++
সুমন অহেমদ বলেছেন:
"হুমায়ুন আজাদ সেই বিরল ব্যতিক্রম যিনি বিনয়ী সাজার নাম করে স্তাবকতা করেননি, বরং সকল সীমাবদ্ধতাকে নিয়েই হয়ে উঠেছিলেন অদম্য ও স্পস্টভাষী। হুমায়ুন আজাদ অনেক প্রগ্রেসিভ শিম্পান্জী থেকে আলাদা ছিলেন, প্রগ্রেসিভদের ন্যায় কোন রাজনৈতিক দলকে তেল মারার প্রয়োজন হয়নি তার।"------------------------------------------------------------------------
এসব বৈশিষ্টের জন্য তার ব্যাক্তিত্বটা অন্যভাবে ফুটে উঠেছে। কিন্তু তিনি কেনো বুদ্ধিজীবি মহলকে তার প্রতি তিক্ষন সমালোচনা করার মতো বিষয়গুলোকে রেখে গেলেন? তার লেখায় অনুকরনের ব্যাপারটা কেনো চলে আসলো? তিনি কেনো কদবানকে নিয়ে ঐভাবে কথাগুলো বললেন?
------------------------------------------------------------------------
আর এরকম সুন্দর একটা লেখা আপনি কেনো আপনার এই নিকে পোষ্ট করলেন?
আপনি কি স্বাধীন মত প্রকাশ করতে ভয় পান? নাকি আপনি এই ব্লগের প্রতিষ্ঠাতাদের আত্বীয় অথবা আপনাকে দায়িত্ব . . .?
লেখক বলেছেন: আপনার প্রশ্নের জবাব অন্যত্র দিয়েছি। ধন্যবাদ।
কালিদাস কবিয়াল বলেছেন:
দুঃসাহসীক পোস্টের জন্য স্যলুট বস।
মনির হাসান বলেছেন:
স্যালুট আপনাকে ... ঐ পোস্টে আপনার মন্তব্য এবং এই পোস্টের জন্য।হুমায়ুন আজাদ'কে অন্তরের অন্তস্থল থেকে শ্রদ্ধা করি।
মেহবুব রেহমান খান বলেছেন:
আমার ব্যাখ্যা চাই: হুমায়ুন আজাদ ছিলেন নাস্তিক, কোনো ঈশ্বরে বিশ্বাস করতেন না। না ধর্মের না অধর্মের। কিন্তু ঈশ্বরের থাকা না থাকা বিষয়ে এত নিশ্চয়তা কি ক'রে পেয়েছিলেন তিনি? এই জন্য জিজ্ঞেস করছি: কারণ 'নারী' বা 'দ্বিতীয় লিঙ্গ' অস্তিত্ববাদের ফসল, এবং তা নাস্তিক্যবাদী। বলছি না যে হুমায়ুন আজাদ 'অস্তিত্ববাদী', কিন্তু নাস্তিক্যবাদী অস্তিত্ববাদের প্রভাব ছিল তার উপর, 'আমার অবিশ্বাস' পড়লে তা বোঝা যায়। ঈশ্বর বিষয়ক এই অবস্থান কি মৌলবাদী নয়? লেখা ভালো লেগেছে, আপনার প্রতি শ্রদ্ধা রইল।
পেঙ্গুইন বলেছেন:
ভালো পোস্টের জন্য ধন্যবাদ।
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন:
স্যালুট। ওই ছাগলটার কাম হইলো বাইছা বাইছা এইরম কিছু পোস্ট দেওয়া
ভিজামন বলেছেন:
লেখক বলেছেন: স্যারকে খুব ভালবাসি। মৃত্যুর এতোদিন পরও তাকে নিয়ে বিদ্রুপ রসিকতা কটুক্তি বুকে তীরের মতো এসে বাঁধে।তিনি বাংলাদেশ নামের এই ভুখন্ডকে অন্তর থেকে ভালবেসেছিলেন - শিম্পান্জীদের মতো করে ভালবাসেননি। যে ভালবাসে, লজ্জা সেই পায়, কস্ট পাওয়া বা শাসন সমালোচনা তারই সাজে। তাই তার লেখা এতো নির্মম, নির্বিকার।
একমত
সৈয়দ হিলাল সাইফ ছড়াকার বলেছেন:
সৈয়দ হিলাল সাইফ ছড়াকার বলেছেন:
হুমায়ূন আজাদ নিজগুনে বেঁচে থাকবেন শত সহস্র বছর।
অরণ্য আশরাফ বলেছেন:
সময়ের প্রয়োজনেই হুমায়ুন আজাদ স্যারদের জন্ম। তাই আমাদের প্রয়োজনেই তিনি জন্মেছিলেন।
মহানাম বলেছেন:
নিজেদের নাই মনুষ্যত্ব, জানিনে কেমনে তারা।নারীদের কাছে চাহে সতীত্ব, হায়রে শরমহারা ্।
-কাজী নজরুল ইসলাম
শফিউল আলম ইমন বলেছেন:
রাজাকার বিরোধী কিংবা ধর্ম ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে উনার অবস্থানের জন্য উনাকে সম্মান করি। অন্যদিকে উনাকে কেমন জানি অহংকারী মনে হতো, অন্যান্য লেখকদের পাত্তা দিয়ে কথা বলতেন না। উনার বেশ কিছু লেখায় আমার অন্য প্রিয় লেখকদের নিয়ে যা তা বলার কারণে উনার প্রতি কিছুটা অপছন্দ করা শুরু করেছিলাম। মানুষ যতো বড় মাপের হয়, ততো বিনয়ী হয় এটাই জানতাম। এর আগে কোন কবি/লেখকদের বলতে শুনিনাই তাদের চেয়ে বড় মাপের কোন লেখক ছিলো না কিংবা নাই। তারপরও কেন জানি এই মানুষটাকে আমি অনেক পছন্দ করি। সিরিয়াসলি।
লেখক বলেছেন: আমাদের এখানে বিনয়ী হওয়ার অর্থ হলো কাউকে অসন্তুষ্ট না করে চলা, যাতে করে সবার কাছে মধূর থাকা যায়। বিনয়ী হওয়ার ফলে আমার প্রতিবাদ করতেও ভুলে যাই, অন্যায়ের বিরুদ্ধে উচ্চকন্ঠ হতে পারিনা আর সামান্য পারিতোষিক কিংবা ক্ষমতাবানদের নেকনজরে পড়ার জন্য দৈনিকের পাতা ভরে অজস্র বিনয়ী লেখা উপহার দেই। আমাদের মহামান্য বিনয়ীরা আমাদের শেখান গনতন্ত্রের অর্থ, সাম্যবাদের রণকৌশল বা মৌলবাদের তাৎপর্য তারপর লোকচক্ষুর আড়ালে বাগিয়ে নেন বাড়ী-গাড়ি-পদ, মক্কা বা যুক্তরাস্ট্র সফরের টিকেট।
সে অর্থে, আমাদের সৌভাগ্য যে, হুমায়ুন আজাদ কখনোই বিনয়ী ছিলেন না।
অচন্দ্রচেতন বলেছেন:
মেরুদন্ড থাকলে বাঙ্গালিরে এইসব সহ্য করতেই হয়, হুমায়ুন আজাদ ব্যাতিক্রম নন।
ইব্রাহীমলিজা বলেছেন:
মহানাম বলেছেন: নিজেদের নাই মনুষ্যত্ব, জানিনে কেমনে তারা।নারীদের কাছে চাহে সতীত্ব, হায়রে শরমহারা ্।
-কাজী নজরুল ইসলাম
সহমত
ময়ুখ বলেছেন:
গতকাল হুমায়ুন আজাদকে নিয়ে কিছু অর্বাচীন যা শুরু করেছিল তাতে আপনার এই পোষ্টটিখুব প্রয়োজন ছিল।
জয়তু হুমায়ুন আজাদ।
লেখক বলেছেন: একবারেই ফালতু অভিযোগ।
ধ্বনি ও বাক্যতত্ত্ব নিয়ে তার কাজকে পশ্চিমবঙ্গের কিছু ভাষাবিদের কাজের অনুকৃতি বলে যে অভিযোগ তোলা হয়েছিল, তার পেছনে ছিলেন এদেশেরই কিছু ক্ষিপ্ত লেখক যারা কোন না কোনভাবে হুমায়ুন আজাদের ঝাঁজ ও ঝাল মেশানো হুলের স্বীকার হয়েছিলেন। অভিযোগটি শেষ পর্যন্ত খুব জোর পায়নি বা ধোপে টেকেনি।
'বাক্যতত্ত্ব' নিয়ে বিতর্কের কোন অবকাশ নেই। খোদ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বইটি পাঠ্য এবং রেফারেন্স বইয়ের মর্যাদা পেয়েছে।
সুবিদ্ বলেছেন:
হুমায়ুন আজাদকে অশ্লীলতার অভিযোগে বাতিল করা যায়না........কারণ, আমাদের সমাজের অশ্লীল দিকগুলো তাঁর মতো জোরালো করে বোধহয় কেউ দেখাতে পারেননি.......আর আমরা ভন্ড বাঙ্গালী পাঠকরা নিজেদের লুকিয়ে রাখা অশ্লীলতার চরম প্রকাশ দেখে উনার প্রতি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠি........
পল্লী বাউল বলেছেন:
সুন্দর পোস্ট ++বাংলাভাষায় লেখা অন্যতম সাহসী গ্রন্থ "নারী" এবং বাংলাভাষার সবচেয়ে সাহসী লেখক হুমায়ূন আজাদ।
আমাদের প্রতিষ্ঠিত লেখকরা বহুবিধ কারনে পরস্পরের বিরুদ্ধে কাদা ছুড়াছুড়ি করেন। এটা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের লেখকের মধ্যেও দেখা যায়। এমনকি আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ ভারতেও এ বিষয়টি লক্ষ্য করেছি। কিন্তু লেখকদের ব্যাক্তিগত মান অভিমান নিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে অন্য একজন প্রথিতযশা লেখককে হেয় করার জন্য ঐ পোস্টটি দেয়া হয়েছিল। যা নীচু মানসিকতারই পরিচায়ক।
নুরুজ্জামান মানিক বলেছেন:
যতদুর মনে পড়ে, ছফার সমালোচনার (শুয়োরের বাচ্চা উদাহরন ) জবাবে হুমায়ুন আজাদ বলেছিলেন-শুয়োরের মাংস সুস্বাধু । শুয়োর হতে আমার আপত্তি নেই । শুধু শুয়োর কেন, কোন পশু হতেই আমার আপত্তি নেই শুধু একটি পশু ছাড়া যার নাম আহমদ ছফা । সে সময় হুমায়ুন আজাদের সাথে এক আলাপে ছফার ব্যাপারে আমি
তাকে জিগাইলে তিনি বললেন , আরে ও তো একটা পাগল ।
প্রণব আচার্য্য বলেছেন:
+++
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
কাকশালিখচড়াইগাঙচিল বলেছেন:
তাহাদেরকে চুত্রাপাতা থেরাপি নিতে হবে ।
হুমায়ুন আজাদের মগজ তাহাদের মগজের হিসাব নিবো নাকি!
সরাহাল বলেছেন:
*****
আলমগীর কুমকুম বলেছেন:
লেখক বলেছেন: ... কিন্তু এখানে আমাদের করণীয় কিছু থাকার কথা নয়। ব্যক্তিগত পছন্দ, অপছন্দ, বৈশিষ্ঠ্যকে পাশ কাটিয়ে আমরা তার সৃস্টিকর্মের দিকে নজর ফেরাই না কেন?কথা সেইটাই। কেউ অহংকারী উচ্চাভিলাষী, পরশ্রীকাতর বা কামুক কিংবা দিনে দশবার বাথরুমে গিয়ে হস্তমৈথুন করে সেটা তার একান্তই নিজস্ব ব্যক্তিগত বিবেচনা, এর জন্যে তার অন্য অবদানগুলো খাটো হয়ে যায় না।
নির্ঝর নৈঃশব্দ্য বলেছেন:
জ্ঞানী হুমায়ুন আজাদ এমনই এক যোগ্যতাসম্পন্ন জ্ঞানী যিনি পূর্বাপর সমস্ত জ্ঞানপাপীদের পায়ে মাড়ানোর একছত্র অধিকার রাখেন। পোস্টে ++++++
আসিফ মহিউদ্দীন বলেছেন:
সুমন অহেমদ বলেছেন: "হুমায়ুন আজাদ সেই বিরল ব্যতিক্রম যিনি বিনয়ী সাজার নাম করে স্তাবকতা করেননি, বরং সকল সীমাবদ্ধতাকে নিয়েই হয়ে উঠেছিলেন অদম্য ও স্পস্টভাষী। হুমায়ুন আজাদ অনেক প্রগ্রেসিভ শিম্পান্জী থেকে আলাদা ছিলেন, প্রগ্রেসিভদের ন্যায় কোন রাজনৈতিক দলকে তেল মারার প্রয়োজন হয়নি তার।"
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

















