somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... বিদ্রোহী কবি নজরুল হচ্ছেন সর্বপ্রথম বাঙালি যিনি 'পাকিস্তান'কে 'ফাঁকিস্তান' নামে ডেকেছিলেন... নবযুগ পত্রিকায় তিনি লেখেন 'পাকিস্তান না ফাঁকিস্তান' ? সেখানে তিনি হিন্দু ও মুসলিম মৌলবাদীদের আবিস্কৃত ধর্মীয় দ্বিজাতিতত্ত্ব এবং সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে দেশবিভাগের বিরুদ্ধে নিজের কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন।

বিদ্রোহী কবির সেই মন্তব্যধর্মী লেখাটি বাস্তবে রূপ নেয় পাকিস্তান সৃষ্টির মাত্র দু'যুগের মধ্যেই!! ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/banditkingblog/29230950 http://www.somewhereinblog.net/blog/banditkingblog/29230950 2010-08-28 00:33:00
ছাগু চিহ্নিতকরন এবং দমন বিষয়ক ম্যানুয়াল (খসড়া) এক পোস্টে ছাগু বলতে কি বোঝেন, কাকে ছাগু বা ছাগবান্ধব ডাকবেন এবং তাদের প্রতিরোধে কি করবেন ইত্যাদি বিষয়ে একটি আলোচনা পোস্টের অবতারনা করেন। পোস্টের আলোচনা এবং বিভিন্ন মন্তব্য থেকে একথা স্পস্ট হয়ে আসে যে ছাগু চিহ্নিতকরন এবং ছাগু দমন নিয়ে অনেকেই সিদ্ধান্তহীন এবং দ্বিধাগ্রস্ত।

একথা সত্য যে কখনো কখনো সাধারণ ব্লগারদের প্রতিরোধ ব্যুহের মধ্যেও ছাগুবাহিনীর সম্মিলিত আক্রমনে ব্লগ ল্যাদাকার হয়ে যায়। কিন্তু আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, নিম্ন প্রজাতির প্রাণীদের বংশবৃদ্ধির হার উচ্চ এবং খোঁয়ারে সবসময় ছাগলের সংখ্যাই বেশী থাকে। সুতরাং আতংকিত বা হতাশ হবার কিছু নেই। বরং এটাকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসাবে মেনে নিতে হবে।

ছাগু চিহ্নিতকরন এবং দমন বিষয়ক কোন নির্দেশিকা না থাকায় ছাগু তাড়াতে যেয়ে অনেকেই নানান ক্ষেত্রে নানান সমস্যা বা বিরুপ পরিস্হিতির সম্মুখীন হচ্ছেন। তাদের কথা চিন্তা করে খসড়া ম্যানুয়ালটির অংশবিশেষ উত্থাপন করলাম। আপনাদের সবার মতামতের আলোকে পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা পরিমার্জন করা হবে -

কিভাবে ছাগু চিহ্নিত করবেন

১. সাধারন অর্থে পাকমন-পেয়ারা প্রাণীদিগকেই ছাগু বলা হয়ে থাকে যদিও এর অর্থ আরো বিস্তৃত। ছাগুদের পোস্টকে বলা হয় ছাগপোস্ট। কোন পোস্টে জামাত শিবিরের প্রোপাগান্ডা বা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে অবমাননাকর বা ব্যঙ্গাত্বক কোন বিষয় দেখলেই বুঝবেন সেটা ছাগপোস্ট। এছাড়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধে উহু-আহামুলক পোস্টগুলোও ছাগপোস্টের আওতাভুক্ত।



২. ছাগু কট করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো ছাগুবিরোধী পোস্ট। আপনার ছাগু সংক্রান্ত কোন পোস্টে মাইনাস প্রদানকারী ছাগু না হয়েই যায় না। 'সাম্প্রতিক যারা ব্লগ দেখেছেন' তালিকা থেকে অতি সহজেই ছাগু চিন্হিত করতে পারেন। সাধারন ব্লগাররা পোস্টটিতে প্লাস দিয়ে যাবেন অথবা এড়িয়ে যাবেন। সঠিকভাবে ব্যবহৃত হলে এটা ৯৯% কার্যকর পদ্ধতি।

৩. নিক দেখেও ছাগু চেনা যায়। সাধারনত নিকনেমের পুর্বে বা পরে '১৯৭১', '১৯৭৫', '৭৫' বা 'বাংলাদেশ' এইসব শব্দ দেখা গেলে তাকে সন্দেহের তালিকায় রাখুন। এছাড়া প্রোফাইল ছবিতে বাংলাদেশের মানচিত্র বা পতাকা দেখলেও সন্দেহ তালিকায় রাখতে পারেন। এরপর নিশ্চিত হবার জন্য ব্লগটি খুব ভালভাবে পর্যবেক্ষন করুন। ব্লগের বাম পাশে প্রিয় পোস্ট তালিকায় যদি দেখেন ছাগুচীফ বা চিন্হিত কোন সিনিয়র ছাগুর একাধিক পোস্ট শোভা পাচ্ছে তাহলে সেটা লাল সংকেত। এরপর ব্লগের ডান পাশে সাম্প্রতিক কমেন্টের তালিকাটি দেখুন। ২০টি কমেন্ট ট্রাক করে দেখুন কোন ছাগবিরোধী পোস্টে বা ছাগপোস্টে তার প্রতিক্রিয়াগুলো।



৪. কথাবার্তা বা শব্দের ব্যবহার দেখেও ছাগু ধরা যায়। সুশীল ছাগু ছাড়া অধিকাংশ ছাগুরই আয়োডিনের স্বল্পতাজনিত সমস্যা থাকে। লাদিভেদে কোয়ালিটির তারতম্য থাকতে পারে, কিন্তু গড়পরতা মান একই। কোথাও খাপছাড়া, অসংলগ্ন বা বেকুবী মন্তব্য দেখলে সন্দেহ তালিকা আপডেট করুন। ছাগুদের একটি অতিপ্রিয় শব্দ হলো 'ভাদাকার' বা 'ভাজাকার'। এটা সম্ভবত তারা অনেকটা অসহায় হয়েই 'রাজাকার' শব্দটির এন্টোনিম হিসাব ব্যবহার করে, নিজেদেরকে 'রাজাকার' ট্যাগিং থেকে বাঁচাতে । আরেকটি ছাগপ্রিয় শব্দ হলো 'পৈতা টেষ্ট'; এটি এটিম প্রবর্তিত 'কেপি টেস্ট' শব্দের ছাগলীয় রূপ (আসলে ছাগুদের জানা নেই যে, ভারতীয় বা হিন্দুদের মধ্যে কেবল ব্রাহ্মনরাই পৈতা ব্যবহার করে থাকে, যাদের হার ৫% বা তার চেয়েও কম)।

৫. রেসিডেন্ট ব্লগারদের ছাগবান্ধব মানসিকতার কারণে ছাগুদেরকে তাদের ব্লগের আশেপাশে ভীড় জমাতে দেখা যায়। একারণে কোন রেসি পোস্ট দেয়ামাত্রই ছাগুদের "সহমত", "খুব ভাল লিখেছেন", "প্লাস", "চমৎকার বিশ্লেষন" ইত্যাদি কমেন্ট সহকারে বিপুল উৎসাহে লাদাতে দেখা যায়। বিপরীতে রেসিভাঁড়দেরকেও পরম মমতায় ও স্নেহে ছাগুদের কাছে টেনে নিতে দেখা যায়। এখান থেকেও খসড়া ছাগতালিকা আপডেট করে নিতে পারেন। তবে কোন পোস্টে বা কমেন্টে সরকার বা হাম্বালীগবিরোধী প্রচারনা বা জাতীয়তাবাদী জোস দেখলেই ছাগু বলে ঝাপিয়ে পড়বেন না। এছাড়া সন্দেহ তালিকা থেকে নাস্তিকদের বাদ দিতে পারেন; ছাগুদের নাস্তিক হবার পসিবিলিটি নাই বললেই চলে।




কিভাবে ছাগু দমনে ভুমিকা রাখবেন


১. চিন্হিত ছাগু দেখামাত্র নিজেদের ব্লগে ব্লক করে রাখুন।

২. কোন ছাগু পোস্ট ঢুকে পড়লে কষে গদাম দিন। নিজের ব্লগে গদাম দেয়া জায়েজ আছে (পরীক্ষিত)।

৩. ছাগু ডাটাবেস নিয়মিত আপডেট রাখুন। এজন্য ছাগুবিরোধী সহব্লগারদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন।

৪. নিতান্ত জরুরী না হলে ছাগুদের ব্লগে না ঢুকাই ভাল।

৫. কোন কারণে ঢুকে পড়লে চুপচাপ মাইনাস দিয়ে চলে আসুন। দরকার পড়লে রিপোর্ট করুন।

৬. কোন প্রশ্ন করবেন না। ছাগুদের মধ্যকার কোন মাৎকারালোচনায়ও অংশ নিতে যাবেন না। মনে রাখবেন কোনভাবেই কোনপ্রকার ইন্টারেকশানের সুযোগ দেয়া যাবে না।

৭. গালি প্রবৃত্তি দমন করে রাখা ভাল। গালির কারণে ব্যান হয়ে যেতে পারেন। 'চ' বর্গীয় গালি অবশ্যই বর্জন করবেন; পচা শামুকে পা কাটার কোন দরকার নেই।

৮. গালি দিতে চাইলে সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহার করুন। আজকাল আবার গালির সুক্ষ রূপগুলোও মডারেশনের আওতায় চলে আসছে। কাজেই প্রচলিত রূপগুলো যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন। যেমন 'খা.পু, তোরে গদাম' না বলে বলতে পারেন 'কেপি তোরে গদাম'।

৯. ছাগুবিরোধী পোস্টে সরাসরি নাম ব্যবহার করবেন না। ব্যক্তি আক্রমনের ছুতায় ব্যান খেয়ে যেতে পারেন। ব্লগে ছাগু ফাইটারের সংখ্যা হ্রাস পাবার এই একটি বড় কারণ।

১০. আক্রান্ত হলে অসহায় ছাগু এবং তাদের সমর্থকেরা আপনাকে হাম্বালীগ, ভারতের দালাল বা ইসলামবিরোধী বলে ম্যাৎকারনা চালাতে পারে। এগুলো গায়ে মাখবেন না, বরং সাফল্য হিসাবে ধরে নিয়ে দ্বিগুন উৎসাহে ছাগদমন চালিয়ে যান।

১১. ছাগবান্ধব রেসি:দের যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন। তবে ব্লগ কর্তৃপক্ষের সুনজরে থাকতে চাইলে মাঝেমধ্যে তাদের ব্লগে ঢু মেরে "ভাল হৈসে" বা "+" জাতীয় দু একটা আলগা কমেন্ট করে আসতে পারেন। তবে আসার সময় অবশ্যই মাইনাস দিতে ভুলবেন না।





পরবর্তী পর্ব : ছাগবান্ধব ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/banditkingblog/29127006 http://www.somewhereinblog.net/blog/banditkingblog/29127006 2010-04-01 01:34:16
স্বাধীনতা দিবসে সোহরাওয়ার্দ্দী উদ্যানের অনুষ্ঠানে একবারও উচ্চারিত হলো না জিয়াউর রহমানের নাম
ইপিআর, এম আর সিদ্দিকী, জহুর আহমদ চৌধুরী ইত্যাদি নানা পেজগি আছে জানি কিন্তু জিয়াউর রহমানের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র ঘোষনার বিষয়টিও তো ভিত্তিহীন নয়।

কালুরঘাট কেন্দ্র থেকে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষনাপাঠ

পুরা স্বাধীনতার ঘোষণা জিনিষটাই ওভাররেটেড। এমন না যে কেউ একজন স্বাধীনতার ডাক দিলো আর সাত কোটি মানুষ যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে পাখীর মতো মরতে লাগলো। কিন্তু যে যেটুকু করেছে সেটুকু সম্মান কি তার প্রাপ্য নয়? ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/banditkingblog/29123459 http://www.somewhereinblog.net/blog/banditkingblog/29123459 2010-03-26 01:03:10
চিত্রনায়িকা অঞ্জনার প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম ছবির নাম ‘দস্যু বনহুর’
বাবুল চৌধুরীর ‘সেতু’ ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়ে প্রথম ক্যামেরার সামনে আসি। ছবিটির শুটিং চলছিল এফডিসির এক নম্বর ফ্লোরে। ক্যামেরাম্যান আবদুল লতিফ বাচ্চু। খুব রাগী মানুষ ছিলেন। আমি ভয় পাচ্ছিলাম। বিষয়টা বাচ্চু ভাই জানার পর আমাকে বললেন, তুমি নাচের মেয়ে। নৃত্য থেকে সিনেমায় এসেছো, আমরা এমনিতেই খুশি। অতএব, তুমি তোমার ইচ্ছেমত কাজ করো। আমরা কেউ তোমাকে বকবো না। বাচ্চু ভাইয়ের বড় মনের পরিচয় আমার সেদিনের সামনে চলার পথকে আরও সুন্দর ও সুগম করেছিল। কিন্তু সেদিন শুটিং স্পটে ঘটল আরেক বিপত্তি। আমার তৈলাক্ত লাইট স্কিনের জন্য মুখে মেকআপ শুট করছে না। কেটে যাচ্ছে। শেষে সিদ্ধান্ত হলো মেকআপ ছাড়াই শট নেয়া হবে। আমার সঙ্গে ছিলেন রাজ্জাক ভাই, শাবানা ও বুলবুল আহমেদ। ছবিটি ১৯৭৬ সালে মুক্তি পায়।

ক্যারিয়ারের শুরুতে আমি অনেক হালকা গড়নের ছিলাম। কিন্তু আমাকে দেখে সোটা বোঝার উপায় ছিলো না। দস্যু বনহুর ছবির শুটিংয়ের শেষ দৃশ্যটা টেক হওয়ার পরে জসীম ভাই পরিচালককে বললেন, পারভেজ ভাই, অঞ্জনা এত হালকা যে, আমার মনে হয়েছিল এটা একটা তুলার বস্তা।
মাসুদ পারভেজের ‘যাদুনগর’ ছবিতে আমি প্রথম গ্লিটার ব্যবহার করি। নায়িকা হিসেবে তখন আমি বেশ ব্যস্ত। নাচের প্রোগ্রামগুলোও বাদ দিতে পারছিলাম না। লন্ডনে একটা নাচের শো হবে। তার আগে পারভেজ ভাই আমাকে ‘যাদুনগর’ সম্পর্কে বেশ তালিম দিচ্ছিলেন—আমি হবো পরীর রানী, লাল পরী, নীল পরী। আমার হাতে থাকবে সল্টার। আর এ তথ্যগুলোই লন্ডনে বসে গ্লিটার সম্পর্কে ভাবতে শেখালো। আমি ভাবলাম পরী রানীর মুখে গ্লিটার থাকলে তাকে বেশ মানাবে। পুরো চেহারাটাই চিকচিক ঝিমঝিক করবে। মানুষ এক্সট্রা আনন্দ উপভোগ করবে। আর তাই নিজের টাকায় লন্ডন থেকে কিনে আনি গ্লিটার—যা মেকআপের পরে ফিল্ম সল্টারদের দেয়া হয়।

কিন্তু যাদুনগরের প্রথম দিনের শুটিং স্পটে বাদ সাধলেন ক্যামেরাম্যান হারুন ভাই। উনি বললেন, এ গ্লিটার নায়িকার মুখে শুট করবে না। আমি পারভেজ ভাইকে বললাম, ইউরোপে যখন গ্লিটার ব্যবহার করে নায়িকারা তাদের সৌন্দর্য হাজার গুণ বৃদ্ধি করে, তখন আমরা কেন পারবো না। আপনি একটা দৃশ্য টেক করে ডেভলপ করুন। দেখুন। তারপর সিদ্ধান্ত নিন। গ্লিটার বাংলা সিনেমাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তিনি তাই করলেন এবং বাংলা ফিল্মে যোগ হলো মেকআপের পরের মেকআপ। সৌন্দর্যের রানী, গ্লিটার।

Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/banditkingblog/29106214 http://www.somewhereinblog.net/blog/banditkingblog/29106214 2010-02-26 23:30:52
কই মাছের ঝোল খেতে ইচ্ছা করছে...









বহুদিন হলো খাইনা। আজ রাতে রান্না করবো।

দোয়া রাইখেন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/banditkingblog/29046362 http://www.somewhereinblog.net/blog/banditkingblog/29046362 2009-11-19 20:41:18
ইশ্বরবিশ্বাস ও ধর্মবিশ্বাসের রকমফের আছে; প্রচলিত কোন ধর্মবিশ্বাসের প্রতি আনুগত্য না থাকলেই কেউ ধর্মবোধহীন হয়ে যান না। একটা চাবি মাইরা দিছে ছাইড়া জনম ভইরা চলতে আছে - বহুলশ্রুত এই পংক্তিতে উপরোক্ত দার্শনিক চিন্তার ছোঁয়া পাওয়া যায়। এই দার্শনিক ধারার সুসংসহত রূপ হলো দেইজম(Deism )।

অন্যদিকে প্রচলিত ধর্মবিশ্বাসের তত্ত্বগত ভিত্তি হলো থেইজম (Theism) - এতে ইশ্বরের কথিত বিভিন্ন সৃস্টি, মানুষ, বিশ্বজগতের প্রতিটি ঘটনাবলীর উপর ইশ্বরের সক্রিয় প্রভাবের কথা বলা হয়েছে। থেইজম-এর প্রাবল্যের বিপরীতে দেইজম ছিলো মুলত নাস্তিকতা বা এথেইজম (Atheism)-এর বহিঃপ্রকাশ, সামন্ত-ধর্মীয় অনুশাসনের যুগে যা হয়ে দাঁড়ায় বস্তুবাদীদের চিন্তা প্রকাশের এক কৌশলী মাধ্যম। ফ্রান্সের রুশো ভলতেয়ার থেকে শুরু করে ইল্যান্ডের লক, নিউটন, টল্যান্ট, রাশিয়ার রাদিচেভ সবাইকে দেইজমের পুনর্জাগরনকারী বলা হয়। বর্তমান সময়ে অবশ্য ধর্মকে যুক্তিসংগত প্রমাণ করার জন্য দেইজম এর সাহায্য নেয়া হয়, ধর্মবিশ্বাসকে সমর্থন করতে গিয়ে তুলে নিয়ে আসা হয় দেইস্টদের ইশ্বরবিশ্বাসের কথা। এক্ষেত্রে সচেতনভাবেই ভুলে যাওয়ার বা ভুলানোর চেষ্টা করা হয় ইশ্বরবিশ্বাস আর ধর্মবিশ্বাসের গুণগত পার্থক্যের কথা। আধুনিক বিজ্ঞান, বিশেষ করে পদার্থবিজ্ঞান ওয়েভিকলস থেকে শুরু করে কোয়ান্টাম রিলেটিভিটি তত্ত্ব এরকম কিছু প্যারাডক্স নির্ভর হয়েছে যাতে কেউ কেউ দেখা যায় দেইস্টিক ভাবনা দ্বারা উৎসাহিত হচ্ছেন, কিন্ত দেইষ্টদের ব্যক্তিগত ভাবনার সমর্থন খুঁজবার কোন যৌক্তিকতা নেই।

ইশ্বরবিশ্বাসের রকমফেরের মতো ধর্মবোধেরও রকমফের রয়েছে। নির্দিস্ট কোন ধর্মবিশ্বাসের প্রতি আনুগত্য না থাকলেই একজন মানুষ অধার্মিক বা ধর্মবোধহীন হয়ে যাবেন এমন কোন কথা নেই। মানুষের ধর্মবোধ কোন ঐশ্বরিক গ্রন্থ, কোন মহান সর্বশক্তিমান, স্বর্গ-নরক, বেহেশত-দোজখ, মৃত্যুপরবর্তী পুরস্কার বা শাস্তিভয় জাতীয় বিষয়গুলো দ্বারা প্রভাবিত হতেই হবে এমন ভাবনার কোন কারণ নেই। ঐশ্বরিক বাণী-নির্দিষ্ট ক্রিয়াকানুন- বিশ্বাস-ভীতি নয়, মানুষের নৈতিক আচরনের চমৎকার ভিত্তি হতে পারে তার শিক্ষা, বিবেকবোধ, সহানুভুতি এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা।

নিঃসীম সমু্দ্রের অথৈ জলরাশি বা সুউচ্চ পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমাদেরকে মুগ্ধ করে, গ্রহ তারা জ্যোতিস্কমন্ডলীর আশ্চর্য শৃংখলা আমাদের মনে জাগায় বিশেষ অনুভুতি, শ্রাবণের বৃষ্টিধারা কিংবা ভোরের শিশিরকণার অপার সৌন্দর্য আমাদের আলোড়িত করে, পত্রিকার পাতায় শিশুধর্ষনের খবর পড়ে আমরা বিমর্ষ হই, শত সহস্র মাইল দুরবর্তী ইরাক বা ফিলিস্তিনে গণহত্যা আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়, নিঃসহায় মানুষের বিপদে দুর্দশায় পাশে দাঁড়ানোর তাগিদ পাই, কোথাও অধিকার লঙ্ঘিত হলে সুবিচার প্রতিষ্ঠিত নাহলে আমরা প্রতিবাদে মুখরিত হই - এই বোধই প্রকৃত ধর্মবোধ।

আর সত্য সুন্দরের সন্ধানে মানুষের যে সংগ্রাম সেটাই প্রকৃত ধর্মপালন।


প্রেরণাঃ প্রকৃত মানবতাবাদী ও প্রগতিশীল হতে হলে মৃত্যুপরবর্তী জীবন ও এই মহাবিশ্বের একজন মহান স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাস করতেই হবে
তালগাছের মালিকানাঃ এস. এম. রায়হান ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/banditkingblog/29002643 http://www.somewhereinblog.net/blog/banditkingblog/29002643 2009-08-31 23:34:38
নারী নিয়ে হুমায়ুন আজাদের পরিশ্রমসাধ্য কাজকে যারা অনুকরন বা নকল বলে তাচ্ছিল্য করছেন তাঁদের প্রতি জিজ্ঞাসা
সহী হয়ে উঠুক না উঠুক, হুমায়ুন আজাদ নারী লিখে এবং সিমন দ্য বেভোয়ারের দ্য সেকেন্ড সেক্স এর বাংলা সারানুবাদ দ্বিতীয় লিঙ্গ-এর মাধ্যমে বাঙালীকে নারীবাদের যে ইন্টারপ্রিটেশন উপহার দিয়েছেন, আমাদের পিছিয়ে পড়া বাংলায় সে কাজটি বাংলা সাহিত্যের সম্মানীয় রথী-মহারথীরা আগে করে গেলে বঙ্গদেশে নারীবাদ চর্চার ভিত্তিটি বিংশ শতকের একটা পর্বে এসে আটকে থাকতো না, বরং এতোদিনে তা একটি পুর্ণাঙ্গ জ্ঞানপ্রকল্প ও যথার্থ নারী আন্দোলনে রূপ নিতে পারতো।*

জনপ্রিয়তা লাভের আশায় আমাদের অনেক লেখক বুদ্ধিজীবি যখন নিজের মেধা-মনন বিকিয়ে দিচ্ছিলেন, পাঠক ধরার তোয়াক্কা না করে হুমায়ুন আজাদ তখন ভাষাতত্তের মতো শ্রমসাধ্য এলাকায় নিজ জ্ঞানের পুজিঁটুকু খরচ করেছেন। ভাষার কাঠামো, ধ্বনি ও বাক্যতত্ত নিয়ে তার মহৎ কাজ বাক্যতত্ত্ব এবং দুখন্ডে সম্পাদিত বাঙলা ভাষা প্রকাশিত হবার পর পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্য এবং রেফারেন্স হিসাবে গৃহীত হয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশের উন্নাসিক বুদ্ধিজীবি মহলে এ নিয়ে কোন আলোচনা বিশ্লেষন হয়েছে কি?

ছাত্রদের উপযোগী করে লেখা তার ঐতিহাসিক ও তুলনামুলক ভাষাবিজ্ঞান কিংবা পশ্চিম থেকে ঋণ করে আধুনিক ভাষাবিজ্ঞানের নতুন এলাকা অর্থবিজ্ঞান নিয়ে বাংলাভাষায় তিনি যে ব্যাখ্যাধর্মী আলোচনার সূত্রপাত ঘটিয়েছেন, একে আমাদের ভাষাবিজ্ঞানীরা সামনে এগিয়ে নিয়েছেন কি?

কবিতার উপকুল ছেড়ে বিরামহীনভাবে উপন্যাস লিখে যেতে বাধ্য হয়েছেন হুমায়ুন আজাদ। তাকে বাধ্য করেছি আমরা। তার উপন্যাসগুলো এদেশের সাম্প্রতিক দুষনের বিরুদ্ধে, দেশটিকে আমরা কোথায় টেনে নামিয়েছি এবং এখনো নামাচ্ছি তার তিক্ত সমালোচনার একেকটি দলিল। তার উপন্যাস পরিস্কার জানিয়ে দেয়, বাঙালী শ্লীল-শিল্পিত হবে কী করে যখন তার পুরো বেঁচে থাকাটাই অশ্লীল? যে জাতি অশ্লীলভাবে টিকে থাকার মধ্যে নিজের সার্থকতা খুঁজে পাচ্ছে, সে জাতি কি করে অতিক্রম করবে নিজেকে বা তারও চেয়ে অগ্রসর কোন জাতিকে?

আর উপন্যাস লেখার ফাঁকে জ্ঞান বিজ্ঞান শিল্পকলা নিয়ে লিখেছেন অনেক গুরুত্বপুর্ণ লেখা, যেগুলো তার লেখার কথা নয়, যেগুলো লেখার কথা ছিলো অন্য কারুর!

তাকে অহংকারী-উচ্চাভিলাষী-পরশ্রীকাতর বলা হয় কারণ বঙ্গীয় স্বভাবের পক্ষে হুমায়ুন আজাদ সেই বিরল ব্যতিক্রম যিনি বিনয়ী সাজার নাম করে স্তাবকতা করেননি, বরং সকল সীমাবদ্ধতাকে নিয়েই হয়ে উঠেছিলেন অদম্য ও স্পস্টভাষী। হুমায়ুন আজাদ অনেক প্রগ্রেসিভ শিম্পান্জী থেকে আলাদা ছিলেন, প্রগ্রেসিভদের ন্যায় কোন রাজনৈতিক দলকে তেল মারার প্রয়োজন হয়নি তার। বৈষয়িক সুবিধা হাসিলের জন্য কারো অনৈতিক, অবৈধ, আপত্তিযোগ্য কাজ কারবারকে বৈধও ন্যায্য প্রতিপন্ন করার খেলায় তার রুচি ছিলনা। প্রতিক্রিয়াশীলতার চোখরাঙানী বা ভীতিপ্রদর্শন আজাদকে তার কর্তব্যকর্ম থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি একচুল। কবিতা, প্রবন্ধ, অনুবাদ, গবেষনা, সমালোচনা, উপন্যাস, শিশুসাহিত্য বা দৈনিকের কলাম - সর্বত্র তার ভুমিকা এক - উচ্চারন অ-প্রথানুগ, বিশ্লেষন যথারীতি অস্বস্তি উৎপাদক এবং সিদ্ধান্তের দিকে অবশ্যই সাহসী। তিনি প্রশ্ন করেছেন, তর্কের ক্ষেত্র তৈরী করেছেন, অন্যকে তর্কে লিপ্ত হতে উত্তেজিত করেছেন, পরখ করে দেখতে চেয়েছেন আমরা তার সাথে তর্কে প্রস্তুত আছি কিনা, এবং প্ররোচিত করেছেন তার যুক্তিতর্কের বিপরীতে পাল্টা যুক্তি তর্ক রচনায় - যা তার আগে বা পরে কেউ করে যেতে পারেননি।


প্রেরনা: ছফা'র বর্ণনায় হুমায়ূন আজাদ-১: হুমায়ুন আজাদ একটা সজারু
তথ্য: সূনৃত, ৪র্থ সংখ্যা থেকে অনুলিখন]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/banditkingblog/28999779 http://www.somewhereinblog.net/blog/banditkingblog/28999779 2009-08-26 01:57:56
মৌলবাদীদের বিজ্ঞানপ্রীতি এবং বিজ্ঞানবিদ্বেষ প্রসংগে - ২য় পর্ব মেনজা'র জমায়েত অনুষ্ঠানে তার বিচিত্র অভিজ্ঞতার কথা জানাচ্ছিলেন। এই উচ্চ-বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন লোকদের মধ্যে ভুতপ্রেত থেকে শুরু করে হরেকরকম ভোজবাজি আর গুঢ়তত্ত্বে বিশ্বাসী লোকের সংখ্যা কম ছিলনা। এদের সাথে কথাবার্তা বলে আসিমভ এই উপলব্ধিতে পৌছান যে কথিত হাই-আইকিউ ওয়ালারাও ক্ষেত্রবিশেষে চরম নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দেন। গোটা বিশ্বেই এধরনের বিজ্ঞ ব্যক্তি বা বিজ্ঞানীর অভাব নেই, কোনকালে অভাব ছিল না এসব কথা আগের পর্বে বলেছিলাম - বরং ঘাটাঘাটি করলে এই লিস্টিকে অনায়াসে আরও দীর্ঘতর করা যাবে। ধর্মগ্রন্থ ও বিজ্ঞান দুবিষয়েই সাধারন মানুষের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে ধান্দাবাজ ধর্মব্যবসায়ী বা ধর্মান্ধ গোষ্ঠী এসব লোকদের ব্যক্তিগত বিশ্বাসকে কাজে লাগায়, কখনো তাদের উক্তিকে রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহার করে আবার কখনো কোন ব্ক্তব্যকে আংশিক বিকৃত করে বা অসমভাবে অপ্রাসংগিক কোন বিষয়ের সাথে জুড়ে দিয়ে।

বিজ্ঞানের প্রতি মেকি আনুগত্য দেখানোর পাশাপাশি সময় সুযোগমতো সম্পুর্ণ বিপরীত আচরন করাও এদের স্বভাবজাত। বিজ্ঞানের অবদানকে খাটো করে দেখাতে পারলেই যেন আধ্যাত্মবাদের ষোলকলা পুর্ণ হয়। বিজ্ঞান কোন একটা কিছুর ব্যাখ্যা দিতে না পারলে বা বিজ্ঞানীরা তৈরী করে দেখাতে না পারলেই যেন অলৌকিক কিছুর অস্তিত্ত প্রমাণিত হয়। যেমন, আপনাকে প্রশ্ন করা হলো বিজ্ঞানীরা কি পেরেছে কৃত্রিম জীবন সৃস্টি করতে? আপনি বললেন - না , পারেনি। অতএব আপনাকে মেনে নিতে হবে কাল্পনিক কিছুর অস্তিত্ত যা জীবন সৃস্টিতে সক্ষম।

কিন্তু কেন?

এমনতো হাজারো জিনিষ রয়েছে যা বিজ্ঞানীরা কৃত্রিমভাবে তৈরী করতে পারেনা। এই না পারতে কি কিছু প্রমানিত হয়? বিজ্ঞানীরা সবকিছু জানেনা, সবকিছু করতে পারেনা এতেই কি প্রমানিত হয় যে সবকিছু জানে এবং সবকিছু করতে পারে এম কিছুর অস্তিত্ত থাকতেই হবে? বিজ্ঞানীরা অনেক কিছুই করতে পারছে না; উদাহরন হিসাবে একটি কলায় যা যা উপাদান আছে সেসব যুগিয়ে দিলেও, সেগুলো থেকে প্রাকৃতিক কলা তৈরী করে দেখাতে পারবেনা তারা। কিন্তু তাতে 'প্রাকৃতিক কলা সৃস্টিকারী' কোন ইশ্বরের অস্তিত্ত প্রমানিত হয়না। এতে বড়জোর প্রমানিত হয় প্রাকৃতিক কলা সৃস্টি করার মতো পর্যায়ে বিজ্ঞান এখনো পৌছুতে পারেনি। স্রস্টা থাকলেও থাকতে পারে, কিন্তু তা প্রমানের জন্যে এরধরনের কুযুক্তি বিজ্ঞানকে বিন্দুমাত্রও না বুঝার পরিচয় বহন করে। যেসব ধর্মসৈনিক এসব কথা প্রচার করেন তারা কি পৃথিবীজুড়ে নির্মিত লক্ষ লক্ষ মসজিদ মন্দির গীর্জা প্যাগোডায় গনপ্রার্থনা স্তব স্তুতি করে স্রস্টার মাধ্যমে একটি প্রাকৃতিক কলা বা নিদেনপক্ষে একটি কলার খোসা তৈরী করে দেখাতে পারবেন?

বিজ্ঞান কেবল কিছু ফলাফল, কিছু ব্যাখ্যা কিংবা কিছু করে দেখাবার ক্ষমতামাত্র নয়, ওগুলো বিজ্ঞানের ফলাফল। বিজ্ঞান হলো আপাতদুর্বোধ্য বিশৃংখল বিভিন্ন ঘটনা, ঘটনপ্রক্রিয়া, এদের আন্তঃসম্পর্ক, কার্যকারণ, নিয়মবদ্ধতা ইত্যদি অনুসন্ধানের ধারাবাহিক চিন্তাপ্রয়াস। সত্যকে জানবার এই প্রক্রিয়া অনন্ত, এই অনুসন্ধানের শেষ বলে কিছু নেই। পৃথিবীতে জীবনের উদ্ভব কিভাবে হলো, এর উত্তরে জীবন এসেছে বাইরে থেকে - এই উত্তরেই সব শেষ হয়ে যায় না। বাইরে কিভাবে এল, কেন এল সেসব প্রশ্ন আসবে। এভাবে প্রশ্নকে পটিয়াস থেকে পিলাটিতে নিয়ে যাওয়া যায় কিংবা হিমালয় থেকে কাঞ্চনজন্ঘায়; কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়। কাজেই কোন কিছুকে ব্যাখ্যা দিতে না পারলেই 'ফিল ইন দ্য ব্ল্যাংকস' এর মতো স্রস্টাকে টেনে এনে বসাতে হবে এটা যুক্তিসম্মত নয়। কারণ এতে জিজ্ঞাসাকে রুদ্ধ করা হয় যা প্রত্যক্ষভাবে বন্ধ করে দেয় সত্যকে জানার পথকে, যদিও মানুষের চিন্তাকে কোনকালেও রুদ্ধ করে রাখা যায়নি। গীর্জা কর্তৃপক্ষ বহুশত বছর পরে এই সেদিন মেনে নিয়েছে তার ভুল করেছে - পৃথিবী সত্যিই সূর্যের চারিদিকে ঘুরে।

ধর্মগ্রন্থগুলো যেকালে রচিত হয়েছে সেই স্থানকালের লব্ধ জ্ঞানের প্রতিফলনই সেগুলিতে থাকবে সেটাই স্বাভাবিক। ধর্মকে এবং ধর্মগ্রন্থের কথাকে বিজ্ঞানের সাথে জুড়ে দেবার আবশ্যকতা কি? ঐশ্বরিক গ্রন্থের কোন বাণী ভ্রান্ত প্রমাণিত হলে সৃস্টিকর্তা কি মারা যাবেন, মহাপ্রলয় ঘটে যাবে নাকি মানুষ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে পৃথিবী থেকে? তাহলে এগুলিকে নির্ভুল চিরসত্য অকাট্য অভ্রান্ত প্রমান করার জন্য কেন এই উন্মাদনা?

চলবে...


পড়ে আসুনঃ মৌলবাদীদের বিজ্ঞানপ্রীতি এবং বিজ্ঞানবিদ্বেষ প্রসংগে - ১ম পর্ব]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/banditkingblog/28962524 http://www.somewhereinblog.net/blog/banditkingblog/28962524 2009-06-10 00:55:41
আজ ১৯শে মে। ১৯৬১ সালের এই দিনে বাংলা ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন ১১ জন বাঙালী।
বিস্তারিত পড়ুন কুঙ্গ থাঙ এর ব্লগে ... ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/banditkingblog/28952594 http://www.somewhereinblog.net/blog/banditkingblog/28952594 2009-05-19 01:01:55
এমনি করিয়া জগৎ জুড়িয়া... মীর্জা লোটাস কেতলি ভর্তি গরম জল ছুড়ে মারলেন বিপ্লবের দিকে । ঝলসে গেল বিপ্লবের শরীর। কিন্তু লোটাসের বিরুদ্ধে কে কথা বলবে? উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের ভাতিজা তিনি, সুতরাং তাঁর সাত খুন মাফ হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকে। বিপ্লবের বাবা বিমল সাহা ঝলসে যাওয়া, পোড়া শরীরের ছেলেকে বাড়িতেই চিকিৎসা করাতে থাকেন। বিপ্লবের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলেই কেবল জানাজানি হয় বিষয়টি। এর পরই হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ওকে।

খুব অচেনা লাগছে কি কাহিনীটা?

এ রকম কত কাহিনীই তো ঘটে চলেছে প্রতিদিন। অসহায় মানুষ সব সময়ই প্রভাবশালীদের ভয়ে নিচু করে রাখে মাথা। পিঠ যে আছে, সেটা দেয়ালে না ঠেকা পর্যন্ত বুঝতেও পারে না। ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার বিপ্লব বা তার বাবা বিমল সাহা আলাদা কেউ নন। সেই পরাজিত মানুষেরই প্রতিনিধি।

জানাজানি হওয়ার পর চিকিৎসা পাচ্ছে বিপ্লব। আশা করা যায়, ও সুস্থ হয়ে উঠবে। কিন্তু ওর শরীরের ক্ষত সেরে গেলেই কি মনের ক্ষতও দুর হয়ে যাবে? চা-খানায় আবার কাজ করতে গিয়ে ও কি আতঙ্কে থাকবে না? আবার কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি এসে ওর শরীরে ঢেলে দেবে না গরম পানি, তার গ্যারান্টি কী?

আসলে এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই থাকবে, যদি না প্রভাবশালীদের প্রভাবের বলয় ভেঙে দেওয়া যায়। মীর্জা লোটাসের চাচা পারিবারিকভাবে লোটাসের শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু শুধু পারিবারিক শাস্তিই কি পেশিশক্তিকে বিনয়ী ও নম্র হতে শেখাবে? রাষ্ট্রে তাহলে আইন আছে কেন? বিমল সাহা যে মামলা করেছেন, তার গতিধারাই বলে দেবে ‘এমনি করিয়া জগৎ জুড়িয়া মার খাবে দুর্বল’, নাকি সত্যিই তাঁরা বিচার পাবেন।


সূত্রঃ প্রথম আলো ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/banditkingblog/28908091 http://www.somewhereinblog.net/blog/banditkingblog/28908091 2009-02-07 23:29:30
গণিতের সাধারন জ্ঞান ও নুহের প্লাবন
নুহের মহাপ্লাবনের এই কাহিনী দুইটি প্রশ্ন জাগায় - (১) এমন বর্ষন কি আদৌ সম্ভব যাতে গোটা পৃথিবী এমনটি সবচেয়ে উঁচু পাহাড়টিও ডুবে যেতে পারে? (২) নুহের নৌকাটি পৃথিবীর যাবতীয় জীবকুলকে একজোড়া করে ধারন করতে সক্ষম হয়েছিল?

আসুন সাধারন গণিতের জ্ঞান দিয়েই প্রশ্নগুলো সমাধান করতে বসি।

প্লাবনে মহাপর্বত ডুবে যাওয়া কি সম্ভব?
প্রথমেই দেখা যাক প্লাবনের এত পানি আসলো কোথা থেকে। তর্কের খাতিরে ধরে নিচ্ছি মহাপ্লাবনের আগে পৃথিবীর যাবতীয় জলরাশি বাস্পীভূত হয়ে আবহমন্ডলে জমা হয়েছিল। এখন প্রতি বর্গমিটার স্থানোপরি বায়ুর কলামে গড়ে প্রায় ১৬ কিলোগ্রাম জলীয় বাষ্প থাকে এবং আবহবিদ্যা অনুযায়ী কখনোই তা ২৫ কিলোগ্রামের বেশী হয়না। আমরা এখানে সর্ব্বোচ্চ ফিগারটাই নিচ্ছি।

২৫ কিলোগ্রাম = ২৫, ০০০ গ্রাম
১ গ্রাম পানির আয়তন ১ ঘন সে.মি.
২৫,০০০ গ্রাম পানির আয়তন = ২৫,০০০ ঘন সে.মি.
১ বর্গমিটার =১০০ সে.মি. X ১০০ সে.মি. = ১০,০০০ বর্গ সে.মি.
উচ্চতা = আয়তন ÷ ক্ষেত্রফল = (২৫,০০০ ÷ ১০,০০০) বা ২.৫ সে.মি.

কাজেই দেখা যাচ্ছে প্রতি বর্গমিটার স্থানের উপরের বায়ুর পুরো কলাম দিয়েও ২.৫ সে.মি. এর অধিক গভীর পানিস্তর সৃস্টি করা সম্ভব নয়। এভাবে দেখা যায় পুরো পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে সবটুকু জলীয়বাস্প যদি মুহুর্তের মধ্যে বৃষ্টি হয়ে নেমে আসে তাও পৃথিবীপৃষ্ঠ জুড়ে ২.৫ সে.মি. এর বেশী পানির স্তর সৃস্টি করা সম্ভব নয়। আর যেখানে ২.৫ সে.মি. উচ্চতার বেশী পানিস্তর সৃস্টি করা সম্ভব নয় সেখানে পর্বত মহাপর্বত জলমগ্ন হবার বিষয়টি বাস্তবতার সাথে সংগতিপুর্ণ নয়। প্রসঙ্গতঃ জানিয়ে রাখি হিমালয় পাহাড়ের চুড়ার উচ্চতা হলো ৯ কিলোমিটার!

নুহের নৌকা কি কথিত সকল জীবকে ধারন করতে সক্ষম?
পৃথিবীর সকল প্রজাতির জীব এক জায়গায় জড়ো করা বাস্তবে সম্ভব নয়, কারণ তার কখনো একজায়গায় থাকেনা। যেমন ক্যাঙ্গারু পাওয়া যায় কেবল অষ্ট্রেলিয়ায়, রেটলস্নেক বা এনাকোন্ডার জন্য যেতে হবে আমেরিকা। নুহ কিভাবে এসব জীব সংগ্রহ করেছিলেন বাইবেল বা কোরআনে এ সম্বন্ধে কোন ব্যাখ্যা নেই। যাহোক এবার দেখা যাক নুহের নৌকাটি কতখানি বড় ছিল।

১ কিউবেক = ০.৪৫ মিটার
৩০০ কিউবেক = ৩০০ X ০.৪৫ = ১৩৫ মিটার
৫০ কিউবেক = ৫০ X ০.৪৫ = ২২.৫ মিটার

কাজেই নুহ সাহেবের নৌকাটির ক্ষেত্রফল দাঁড়ালো ১৩৫ X ২২.৫ = ৩,০৪০ বর্গমিটার। সুতরাং তিনতলা মিলে সেখানে থাকবার জায়গা ছিল ৩০৪০ X ৩ =৯,১২০ বর্গমিটার।

এখন পৃথিবীর প্রাণীকুলের প্রজাতিগত একটি খসড়া হিসাব নেয়া যাক -

স্তন্যপায়ী প্রাণী - ৩,৫০০
পক্ষী - ১৩,০০০
সরীসৃপ - ৩,৫০০
উভচর - ১,৪০০
আকিনিড - ১৬,০০০
কীটপতঙ্গ - ৩৬০,০০০ ইত্যাদি।

হিসেব করলে দেখা যায় নুহের নৌকায় শুধু স্তন্যপায়ী জীবদের জন্যই জায়গার সংকুলান ঘটে না। ধরে নিলাম আর্কটি হয়তো আরো বড় ছিল, কিন্তু তাতে স্তন্যপায়ীসহ পক্ষী, সরীসৃপ, কীটপতঙ্গ, নুহের পরিবারবর্গ আর প্রাণীদের সবার জন্য পর্যাপ্ত খাবার মজুদ করা সাধারন অংকের হিসেবেই অসম্ভব।

কোরআনে নুহের মহাপ্লাবনের বিবরন মেলে সুরা ১১ এর ২৫ থেকে ৪৯ নং আয়াতে। বাইবেলের বিবরন থেকে কোরআনের বিবরন কিছুটা ভিন্ন। কোরআনে নুহের বন্যাকে নুহের জাতির উপর নেমে আসা গজব বলা হয়েছে, পৃথিবীব্যাপী নয়। কোন স্থানীয় বন্যায় পাহাড়-পর্বত নিমজ্জিত হয়ে পড়ার ঘটনা সম্পুর্ণ অবাস্তব। আরেকটা কথা হচ্ছে প্লাবনটা যদি স্থানীয় হয়ে থাকে তাহলে প্রজাতি সংরক্ষনের দরকার কি? কি প্রয়োজন ছিল একজোড়া করে জীব তুলে নেয়ার? পৃথিবীর অন্য স্থানগুলোতে কি ঐসব জীব আর ছিল না?


সহায়তাঃ
১. Figures for Fun by Ya Perelman, ISBN 0828515123
২. http://hubpages.com/forum/topic/9662
৩. http://www.livius.org/fa-fn/flood/flood1.html
৪. http://www.livius.org/fa-fn/flood/flood1-t-quran.html
৫. http://en.wikipedia.org/wiki/Noah

প্রেরনাঃ নূহ (আঃ) এর মহাপ্লাবন এবং কিস্তি বা নৌকার সন্ধান লাভ (একটি জ্বলন্ত নিদর্শন ) ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/banditkingblog/28894014 http://www.somewhereinblog.net/blog/banditkingblog/28894014 2009-01-07 02:48:05
বাংলার ঢেঁকির আফ্রিকা বিজয়!
আপনি যদি আইভরি কোস্টের মান শহরের অতি সন্নিকটে অবস্থিত দুটি গ্রাম পেতি জিবপ্লু ও কাসাপ্লুতে যান, তাহলে শুনতে পাবেন কুঁ -উ-উ- ঢেঁক, কুঁ -উ-উ- ঢেঁক শব্দের সংগীত৷ মানের মেয়েরা এখন ঢেঁকিতে কাসাবা কিংবা ধান ভানছে ৷ কি, অবাক হচ্ছেন? অবাক হওয়ারই কথা৷ তবে অবাক হয়ে লাভ নেই, ঢেঁকি যখন স্বর্গে গিয়েও ধান ভানে, মানে গেলে তো ভানবেই৷ এখন কথা হলো, বাংলার ঢেঁকি ১৩ হাজার কিলোমিটার দুরের পশ্চিম আফ্রিকার এক গহন গ্রামে এল কী করে? সেই গল্পটাই শুনুন৷

শান্তিরক্ষা মিশনে কাজ করতে এসে বাংলাদেশের সেনাসদস্যরা বঙ্গদেশীয় প্রযুক্তি ও সংস্কৃতি পৃথিবীর নানা বর্ণ ও ভূগোলে ছড়িয়ে দিচ্ছেন প্রতিনিয়ত ৷ বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি এখন আইভরিকোস্টের উত্তরাঞ্চলে এক জনপ্রিয় প্রযুক্তি, ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের গ্রামে, গ্রাম থেকে জেলায়...



দৈনিক প্রথম আলোর ছুটির দিনে সাময়িকীতে ঢেঁকি বিষয়ক লেখাটি জটিলস লাগলো । বিস্তারিত পড়ুন - ঢেঁকি মানে গিয়েও ধান ভাঙে ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/banditkingblog/28832207 http://www.somewhereinblog.net/blog/banditkingblog/28832207 2008-08-19 01:21:08
কোয়ান্টাম মেথডের নামে প্রতারনা ও ঠগবাজি থেকে সাবধান! এবং কৌতুহলোদ্দীপকও বটে। কোন পরিসংখ্যান না থাকলেও পত্রপত্রিকার চটকদার বিজ্ঞাপন, হাতে বিলিকরা লিফলেট এবং এরকম সাইনবোর্ডের
আকর্ষনে প্রচুর খদ্দের আকৃষ্ট হচ্ছেন এবং অনেকেই ঐ 'মেথড' বা পদ্ধতিতে উপকৃত হচ্ছেন বলে সংবাদ পাওয়া যায়। 'কোয়ান্টাম মেথড' নামটি কোন চতুর ব্যবসায়ীর উদ্ভাবন সন্দেহ নেই কারণ এ নামের আড়ালে মনোচিকিৎসা বিজ্ঞানের (Psychiatry) কিছু চিকিৎসা পদ্ধতি এবং অন্যান্য কিছু গাজাঁখুড়ি বিষয়ের উপর একদিকে বিজ্ঞান এবং অন্যদিকে অলৌকিক বিশ্বাসের প্রলেপ দিয়ে প্রচুর লোককে অতি সাফল্যের সাথে বিভ্রান্ত করে যাচ্ছে এসব লোক ঠকানো ব্যবসায়ী।

বাংলাদেশে এ ব্যবসায়ের প্রধান উদ্যোক্তা 'মহাজাতক' নামধারী জনৈক জ্যোতিষি। এই ব্যক্তি এখনো 'কোয়ান্টাম মেথড' নামে নানান কোর্স চালু করে বইপত্র লিখে তার প্রতারনাপূর্ণ ব্যবসা অব্যাহত রেখেছে। সে 'কোয়ান্টাম মেথড' নামে একখানা ঢাউস বই লিখে ফেলেছে যেটা মুলত ভিত্তিহীন, পরস্পরবিরোধী এবং চাতুরীপূর্ন বিজ্ঞানের বাগাড়ম্বর ও আবালীয় বক্তব্যে পরিপুর্ণ একটি জগাখিচুরী ছাড়া কিছু নয়। পদার্থবিজ্ঞানের ন্যুনতম জ্ঞানসম্পন্ন যেকেউ এই বই পড়লে বুঝতে পারবে 'কোয়ান্টাম মেথড' এর আড়ালে কি উপায়ে লোক ঠকানো ব্যবসা চলছে।

জ্যোতির্বিজ্ঞান, চিকিৎসা বিজ্ঞান বা নিউরোসাইন্সে 'কোয়ান্টাম মেথড' বলে কোন বিষয়ের অস্তিত্ত্ব নেই। মহাজাতক এ পদ্ধতিকে বৈজ্ঞানিক বলে দাবী করছে এবং এ পদ্ধতি ব্যবহার করে সাধক দরবেশদের মতো মনের অলৌকিক ক্ষমতা ব্যবহার করে সবকিছু নিয়ন্ত্রন করা, জীবনে সাফল্যলাভ, প্রজ্ঞা অর্জন, গুরুতর ব্যাধি থেকে আরোগ্যলাভ এমনকি মহামানবে পরিণত হওয়া যাবে বলে দাবী করেছে। মন কেন্দ্রিক দর্শন, স্নায়ুকোষ ও মস্তিস্ক ব্যতীত চিন্তা, বস্তু অস্তিত্ত্ব বর্জিত তথ্য, ডেল্টাতরঙ্গে মহাচৈতন্য, থিটাতরঙ্গে সচেতনতা, মনের ধ্যান দিয়ে ডিএনএ প্রোগ্রামিং ইত্যাদি ছাগলীয় বিষয়গুলোকে মহাজাতক এমনভাবে উত্থাপন করেছে, পড়লে মনে হবে এগুলো যেন বিজ্ঞানের বিষয়। সে লিখেছে " ... যে কোন ওষুধ কোম্পানীর চেয়ে মানবদেহ বেশি ভালভাবে পেইনকিলার, ট্রান্কুলাইজার, এন্টিবায়োটিক ইত্যাদি তৈরী করতে এবং সঠিক মাত্রায় সঠিক সময়ে ব্যবহার করতে পারে ।" (কোয়ান্টাম মেথড/মহাজাতক, পৃষ্টা -১৩৯)

প্রশ্ন হলো -

১. মনের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সর্বপ্রকার রোগব্যাধি নিরাময় করা গেলে ওষুধশিণ্প,এর উৎপাদন, বিজ্ঞাপন ও বিপননে যে বিলিয়র বিলিয়ন ডলার ব্যয় হচ্ছে তার প্রয়োজন কি? এইডস ও ক্যান্সারের কথা বাদ দিলাম, সাধারন ডেঙ্গুজ্বর কি মহাজাতক মনের জোরে ভাল করতে পারবে?
২. মানুষের স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিস্ক ব্যতীত চিন্তা বা চেতনার কথা বিজ্ঞানের কোন বইতে লিখা আছে?
৩. তথ্য কিভাবে বস্তু নিরপেক্ষ হয়?
৪. ব্রেনের বাম বলয়ে বা ডান বলয়ে স্বতন্ত্র চিন্তা করা কি সম্ভব?
৫. মহাচৈতন্য বিষয়টি কি খায় না মাথায় দেয়?
৬. দুর্ঘটনায় ব্যাথাপ্রাপ্ত হলে মহাজাতক কি মনের শক্তিতে দেহের ভিতর পেইন কিলার ও এন্টিবায়োটিক উৎপাদন করেন?
৭. এভাবে উৎপাদিত পেইন কিলার ও এন্টিবায়োটিক কি দেহ থেকে পৃথক করে বাজারজাত করা সম্ভব?
৮. মনের শক্তি দিয়ে ডিএনএ প্রোগ্রামিং এর তত্ত্বটি কি নোবেল কমিটি জানে?

চাতুরী ও মিথ্যাচারের মাধ্যমে আধুনিক বিজ্ঞানের ভারী ও জনপ্রিয় শব্দ ব্যবহার করে নিজেদের ভন্ডামীপূর্ণ ভাওতাবাজি লোকঠকানোর কারবারকে
মহাবৈজ্ঞানীক প্রতীয়মান করা জ্যোতিষি ও মৌলবাদীদের পরিচিত কৌশল। তাহলে মহাজাতক সাফল্যের সাথে তার অধিকাংশ খদ্দেরকে সন্তুষ্ট করছে কিভাবে এবং কি কৌশলে ? প্রকৃতপক্ষে এখানে কথিত 'কোয়ান্টাম মেথড' এর আড়ালে যা হয় তা হলো মনোচিকিৎসা বিজ্ঞানের চিকিৎসা পদ্ধতি সাইকোথেরাপীর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত সম্মোহন (Hypnosis), আত্মসম্মোহন (Self-Hypnosis), মেডিটেশন (Meditation) ইত্যাদি, যেগুলোর মাধ্যমে যে কেউ তার কিছু ক্ষমতাকে বাড়াতে বা কিছু অক্ষমতাকে দুর করতে পারে যেমন - মনোযোগ বাড়ানো, দুশ্চিন্তা কমানো, বদভ্যাস ত্যাগ ইত্যাদি । কিন্তু অল্পকিছু ক্ষেত্রে এবং নির্দিষ্ট সীমারেখার মধ্যে তা সম্ভব। মনোবিজ্ঞানীরা এসব ক্ষেত্রে মনোচিকিৎসা বিজ্ঞানের উপরোক্ত পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করে একটি নির্দিস্ট সীমার মধ্যে সফল হয়েছেন। এগুলো মহাজাতক বা কোন জ্যোতিষের আবিষ্কৃত পদ্ধতি নয় এবং এগুলোর নামও 'কোয়ান্টাম মেথড' নয়; বরং 'কোয়ান্টাম' শব্দটি এখানে ব্যবহার করা সামঞ্জস্যহীন এবং অর্থহীন অপপ্রয়োগ ছাড়া কিছু নয়

শারীরিক বা ফিজিক্যাল সমস্যার ক্ষেত্রে প্রয়োজন উপযুক্ত চিকিৎসা, পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য দরকার সঠিকভাবে মেধার ব্যবহার ও অধ্যয়ন, ব্যবসায় উন্নতির জন্য দরকার উন্নত ব্যবসায়িক জ্ঞান ও দক্ষতা - মন নিয়ন্ত্রনের ভুমিকা এখানে গৌন। সাইকোথেরাপীর পদ্ধতি ব্যবহার করে মহাজাতকের সাহায্য ছাড়াই সামান্য কিছু ক্ষেত্রে সাফল্য সম্ভব কিন্তু মহাজাতক যেভাবে 'চরম সাফল্যলাভ', 'প্রাজ্ঞ হওয়া' বা 'মহামানব হওয়া' কিংবা জটিল 'রোগ সারানো'র কথা বলছে তা নিতান্তই প্রতারনা ও ঠগবাজীর উদ্দেশ্যে রচিত ছাগলীয় গাল গল্পো।


অবশ্যপাঠ্য: প্রতারণার কোয়ান্টাম মেথড ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/banditkingblog/28831303 http://www.somewhereinblog.net/blog/banditkingblog/28831303 2008-08-15 22:45:06
মৌলবাদীদের বিজ্ঞানপ্রীতি এবং বিজ্ঞানবিদ্বেষ প্রসংগে - ১ম পর্ব
ধর্মগ্রন্থগুলো যে স্থানে-কালে রচিত হয়েছে সে স্থান-কালের জ্ঞানচর্চার মানের ওপরেই নির্ভর করছে ওগুলোতে কি কি বিষয়ে কতটা যৌক্তিক ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে তা। স্থান-কাল পাল্টে যাওয়ায় বিভিন্ন ব্যাখ্যা সন্নিবেশিত হয়েছে - এরকম হওয়াটাই স্বাভাবিক। ধর্মগ্রন্থের নৈতিক আবেদনকে মুল বলে যারা মানতে পারছে তাদের এ নিয়ে ক্ষোভ বা অস্বস্তি নেই। সমস্যা হয় মৌলবাদীদের, যারা ধর্মগ্রন্থের প্রতিটি ব্যাখ্যা সিদ্ধান্তকে আক্ষরিক অর্থে সত্য, বিজ্ঞান সম্মত বলে মনে করতে এবং করাতে চায়।

সপক্ষ সমর্থনের এই উন্মাদনা থেকে সূচিত হয় নানান অপকৌশল কুপ্রবৃত্তির। খুব সাধারন একটা প্রবৃত্তি হলো কোন বিজ্ঞানী কিংবা কোন বিখ্যাত ব্যক্তিত্তকে রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহার করা। যেমন উনি এটা বলেছেন, তিনি ওটা বিশ্বাস করতেন ইত্যাদি। বাস্তবতা এই যে গোটা বিশ্বেই শিক্ষিত এবং মেধাসম্পন্ন জনগোষ্টীর একটি বড় অংশ নানান অপবিজ্ঞানে ও অলৌকিকত্তে বিশ্বাসী। সুদুর অতীত থেকে সম্প্রতিকাল পর্যন্ত এ ব্যাপারে উদাহরনের কোন ঘাটতি থাকেনি। যেমন জোহান কেপলার জ্যোতিষশাস্ত্র বিশ্বাস করতেন, নিউটন ক্ষারধাতুকে সোনায় রূপান্তর করার চেস্টা চালিয়েছিলেন,লগারিদমের আবিস্কর্তা জন নেপিয়ার ঐশী গ্রন্থের ব্যাখ্যায় সীমাহীন অজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছিলেন, ইউরেনাসের আবিস্কর্তা উইলিয়াম হার্সেল মনে করতেন সুর্যের অভ্যন্তরভাগ শীতল ও অন্ধকারময়। বিজ্ঞানাচার্য সত্যেন্দ্রনাথ বসু থেকে শুরু করে ফ্রান্ক জে টিপলার পর্যন্ত এরকম অসংখ্য বিজ্ঞানীর নাম করা যাবে যারা ব্যক্তিগত জীবনে ইশ্বরবাদ, অধ্যাত্মবাদ ও অলৌকিকতায় আস্থাশীল ছিলেন।

এভাবে সব রেকর্ড ঘাটলে কিছু বিজ্ঞানী বা বিদ্বানের অযৌক্তিক, অলৌকিক এবং বিজ্ঞানবিরুদ্ধ বিষয়াদি নিয়ে অস্পস্ট অবস্থান লক্ষ করা যাবে। এই ব্যাপারগুলোকেই কাজে লাগায় মানুষের অজ্ঞতাকে পুঁজি করে বিভিন্ন রকমের অপবিজ্ঞানের ধ্বজাধারী ব্যবসায়ীরা তাদের গ্রহনযোগ্যতা বাড়ানোর জন্য। মৌলবাদীরা- ধর্মব্যবসায়ীরাও তাদের নিজ নিজ মতাদর্শগুলোকে বিজ্ঞানসম্মত প্রমাণ করতে এগুলোর সাহায্য নেয়। এর সাথে যুক্ত হয় প্রকৃত তথ্য-তত্ত্বের বিকৃতি । এটা হতে পারে দুদিক থেকেই - বিজ্ঞানীর মুল কথার বিকৃত উপস্থাপনা করে অথবা কথিত ঐশীবাণীর অর্থ পাল্টে দিয়ে। ধর্মগ্রন্থ এবং বিজ্ঞান দু'বিষয়েই সাধারন মানুষের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে যে কোন পক্ষের বক্তব্যকে বিকৃত করে বা অসমভাবে জুড়ে দিয়ে উদ্দেশ্যসাধন একটি কৌশল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রথম কথা হলো কিছু বিজ্ঞানী বা মহামনীষির ব্যক্তিগত বিশ্বাস কোন বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের আওতায় পড়ে না। পরীক্ষিত সত্যকেই বিজ্ঞান মর্যাদা দেয়। বিজ্ঞানের জগতে ব্যক্তিবিশ্বাসের কানাকড়ি মুল্য নেই যতক্ষন না তা পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষনের ধাপ পেরিয়ে বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্তের মর্যাদা পায়। জে বি হ্যালডেন টেলিপ্যাথিতে বিশ্বাস করতেন এতে টেলিপ্যাথির সত্যতা প্রমাণিত হয় না, এতে বড়জোর প্রমাণিত হয় "হ্যালডেন নামের এক ব্যক্তি টেলিপ্যাথিতে বিশ্বাস করতেন"।

দ্বিতীয়তঃ, বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় এসব মহামনিষীরা বিজ্ঞানকে স্রেফ পেশা হিসাবে গ্রহন করেছেন। এঁরা জীবনের ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক দৃস্টিভঙ্গি গ্রহন করেন না। অর্থাৎ বিজ্ঞান এদের কাছে আলুপটলের ব্যবসা বা জমির দালালির মতো নিতান্তই একটি পেশা। এঁরা একই সাথে পেশায় বিজ্ঞানী এবং মানসিকতায় বিজ্ঞান- বিরোধী। এরকম স্ববিরোধিতার কারণ হতে পারে তাদের সামাজিক সাংস্কৃতিক রাজনৈতিক পরিবেশ।

তৃতীয়তঃ, চরম সত্য বলে কোন কিছুর অস্তিত্ব বিজ্ঞান বলে না; আজ যা তত্ত্ব, আগামীকাল পরীক্ষা পর্যবেক্ষন অনুসন্ধানের মাধ্যমে তা ভুল প্রমাণিত হতে পারে। বিজ্ঞানের প্রতি মেকী আনুগত্য দেখানো মৌলবাদী গোষ্ঠি যারা বিজ্ঞান, বিজ্ঞানের তত্ত্ব বা বিজ্ঞানীর উক্তিকে সপক্ষে ব্যবহার করছে তারা বুঝতে পারছে না যে তারা একই সাথে ধর্মগ্রন্থগুলোর মর্ম-অর্থের কিরকম বিবর্তন ঘটাচ্ছে। আজ এই ভন্ডরা কসমোলজি থেকে শুরু করে ইনফরমেশন থিওরী, কোয়ান্টামতত্ত্ব সবকিছুরই ইঙ্গিত বেদে, বাইবেলে বা কোরানে খুঁজে বেড়াচ্ছে। আরো কয়েক'শ বৎসর পরে হয়তো অনেক বৈজ্ঞানিক তত্ত্বই পাল্টে যাবে, তখন কি এইসব মৌলবাদী, ভূয়া বিজ্ঞানপ্রেমী মতলববাজ তাত্ত্বিকেরা নিজ নিজ ধর্মগ্রস্থগুলোর উক্তির নবতর অর্থ-বাখ্যা খুঁজে পাবে নাকি দোষ চাপাবে ভাষাতাত্ত্বিকদের ঘাড়ে?


চলবে...


সহায়ক লিংক:
১. IIDB Philosophical Forum
২. PCA Forum ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/banditkingblog/28822051 http://www.somewhereinblog.net/blog/banditkingblog/28822051 2008-07-20 00:14:32
স্রস্টার অনস্তিত্তের পক্ষে সাদামাটা কিছু যুক্তি...

সময় (Time)
সময় বা কালের তিনটি ভাগ আছে - অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ। অতীত ও ভবিষ্যতের সন্ধিক্ষনকে আমরা বর্তমান বলতে পারি। কার্যত "সময়" এত দ্রতগতিতে অতীত হয় যে সেকেন্ডের লক্ষভাগের একভাগ সময়ও "সময়" বা "কাল" দাঁড়িয়ে থাকেনা, বর্তমান শব্দটিকে সার্থক করে তুলতে। প্রশ্ন হচ্ছে "সময়" কি সৃস্ট? সৃস্ট না হলে বিশ্বজগতের সবকিছূর স্রস্টা সৃস্টিকর্তা এই বক্তব্য মিথ্যা হয়ে যায়। তাহলে দেখা যাচ্ছে সৃস্টিকর্তা মহাবিশ্ব সৃস্টি করেছেন কোন এক সময়ে এবং তার আগে সৃস্টি করেছেন "সময়"। কিন্তু কথা হচ্ছে সেই "সময়"কে সৃস্টি করলেন কোন সময়ে? আর যে সময়ে "সময়" সৃস্টি করলেন সেই সময়কে সৃস্টি করলেন কোন সময়ে? এভাবে প্রশ্ন চলতে থাকলে দেখা যাবে প্রকৃতপক্ষে "সময়" সৃস্টি করা সম্ভব নয়। অর্থ্যাৎ জগৎসংসারের সবকিছূর স্রস্টা সৃস্টিকর্তা এই বক্তব্য মিথ্যা ।


স্থান (Space)
আমরা যখন হাঁটি, চলি বা ফিরি প্রতি মুহুর্তে আমাদের শরীরের অস্তিত্ত কোন না কোন স্থান দখল করে থাকছে। শুধু আমরা নই, প্রতিটি বস্তুই কোন না কোন স্থান দখল করে প্রতি মুহুর্তে। পৃথিবীসহ প্রতিটি গ্রহ উপগ্রহ সৃস্টির পর থেকেই তাদের পরিক্রমার গতিপথ ক্রমপর্যায়ে যে স্থানসমুহ দখল ও ত্যাগ করে চলেছে, সে স্থানগুলোর অস্তিত্ত তাদের জন্মের আগে অবশ্যই ছিল বলা যায়। এরা সৃস্টি থেকেই কোন না কোন স্থানে অবস্থান করছে। এরা যদিও ধ্বংস হয় তবু এদের "স্থান"সমুহ ধ্বংস হবে না। তাহলে স্থান হলো কোনকিছুর অস্তিত্তের প্রামাণিক নিদর্শন। স্রস্টা যদি স্থান সৃস্টি করে থাকেন - তাহলে সেই স্থানকে সৃস্টি করলেন কোন স্থানে থেকে? যে স্থানে থেকে "স্থান" সৃস্টি করলেন সেটাইবা কোন স্থানে থেকে? এভাবে অগ্রসর হলে দেখা যায় স্থান সৃস্টি সম্ভব নয়। অর্থ্যাৎ জগৎসংসারের সবকিছূর স্রস্টা সৃস্টিকর্তা এই বক্তব্য মিথ্যা ।


নিয়ম (Rule)
তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম - বিশ্বসংসারের যাবতীয় কিছুকে নিয়মতন্ত্রে বেঁধে রেখেছে যে শক্তি তার নাম স্রস্টা । "নিয়মতন্ত্র" হলো কতগুলো নির্ধারিত বিধান বা নিয়মের অনুসরন। এই নিয়ম বা বিধানের লঙ্ঘনের নাম স্বেচ্ছাচারিতা। স্রস্টা নিয়মতান্ত্রিক হলে তার উদ্দেশ্যে নিবেদিত যাবতীয় উপাসনা বা প্রার্থনাসহ সবরকম প্রচেস্টাই অমুলক ও ব্যর্থ হতে বাধ্য। কারণ সৃস্টিকর্তা নিয়মতান্ত্রিক হলে তার পক্ষে কারো অনুরোধ রক্ষা করা সম্ভব নয়। কিন্তু বাস্তবে প্রতিটি ধর্মগ্রন্থই বলছে ইহলৌকিক সমৃদ্ধি বা পরলৌকিক মুক্তির জন্য স্রস্টার কাছে প্রার্থনার কথা। কিন্তু যেহেতু প্রার্থনাপুরনকারী স্রস্টার পক্ষে কোনক্রমেই নিয়মতান্ত্রিক হওয়া সম্ভব নয়, তাই বলা যায় বিশ্বসংসারের যাবতীয় কিছুকে নিয়মতন্ত্রে বেঁধে রাখার কোন ক্ষমতা স্রস্টার নাই।


বস্তু (Object)
বিশ্বজগৎ যখন সৃস্টি হয়েছে তখন তার স্রস্টাও আছে - এমন যুক্তির বিপক্ষে সর্বশেষে খুবই সাদামাটা অথচ জোরালো একটি যুক্তি স্বতঃস্ফুর্তভাবেই আসে, তা হলো - বিশ্বজগৎকে নাহয় সৃস্টি করলেন স্রস্টা, কিন্তু স্রস্টাকে সৃস্টি করলেন কে? তারপরেও প্রশ্ন আসবে - স্রস্টার স্রস্টাকে সৃস্টি করলেন কোন স্রস্টা? সেই স্রস্টাকেই বা কে সৃস্টি করলেন? এমন করে প্রশ্নমালা চলতেই থাকবে, শেষ সমাধানে পৌঁছানো যাবেনা। কাজেই বিশ্বজগৎ সৃস্টি করা কারো পক্ষে সশ্ভব নয়, অর্থ্যাৎ বিশ্বজগৎ সৃস্টিতে স্রম্টা বা অন্য কারো করনীয় কিছু নাই।



সহায়তা:
১. উৎস মানুষ : বিজ্ঞান অপবিজ্ঞান
২. আমি কেন ঈশ্বরে বিশ্বাস করি না -প্রবীর ঘোষ
৩. মৌলবাদের উৎস সন্ধানে -ভবানী প্রসাদ সাহু
৪. George Smith, The Case Against God
৫. Does God exist? a debate between John P. Koster & Frank Zindler ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/banditkingblog/28805313 http://www.somewhereinblog.net/blog/banditkingblog/28805313 2008-06-02 01:25:57
এ দেশ কি ভুলে গেছে সেই দু:স্বপ্নের রাত, সেই রক্তাক্ত সময় ?
আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই
আজো আমি মাটিতে মৃত্যূর নগ্ননৃত্য দেখি,
ধর্ষিতার কাতর চিৎকার শুনি আজো আমি তন্দ্রার ভেতরে...
এ দেশ কি ভুলে গেছে সেই দু:স্বপ্নের রাত, সেই রক্তাক্ত সময় ?
বাতাসে লাশের গন্ধ ভাসে
মাটিতে লেগে আছে রক্তের দাগ।
এই রক্তমাখা মটির ললাট ছুঁয়ে একদিন যারা বুক বেঁধেছিলো।
জীর্ণ জীবনের পুঁজে তারা খুঁজে নেয় নিষিদ্ধ আধাঁর,
আজ তারা আলোহীন খাঁচা ভালোবেসে জেগে থাকে রাত্রির গুহায়।
এ যেন নষ্ট জন্মের লজ্জায় আরষ্ট কুমারী জননী,
স্বাধীনতা - একি হবে নষ্ট জন্ম ?
একি তবে পিতাহীন জননীর লজ্জার ফসল ?

জাতির পতাকা খামচে ধরেছে আজ পুরোনো শকুন।

বাতাশে লাশের গন্ধ
নিয়ন আলোয় তবু নর্তকীর দেহে দুলে মাংসের তুফান।
মাটিতে রক্তের দাগ -
চালের গুদামে তবু জমা হয় অনাহারী মানুষের হাড়
এ চোখে ঘুম আসেনা। সারারাত আমার ঘুম আসেনা-
তন্দ্রার ভেতরে আমি শুনি ধর্ষিতার করুণ চিৎকার,
নদীতে পানার মতো ভেসে থাকা মানুষের পচা লাশ
মুন্ডহীন বালিকার কুকুরে খাওয়া বিভৎস্য শরীর
ভেসে ওঠে চোখের ভেতরে। আমি ঘুমুতে পারিনা, আমি
ঘুমুতে পারিনা...
রক্তের কাফনে মোড়া - কুকুরে খেয়েছে যারে, শকুনে খেয়েছে যারে
সে আমার ভাই, সে আমার মা, সে আমার প্রিয়তম পিতা।
স্বাধীনতা, সে আমার - স্বজন, হারিয়ে পাওয়া একমাত্র স্বজন -
স্বাধীনতা - আমার প্রিয় মানুষের রক্তে কেনা অমূল্য ফসল।
ধর্ষিতা বোনের শাড়ী ওই আমার রক্তাক্ত জাতির পতাকা।



বাতাস লাশের গন্ধ / রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/banditkingblog/28782906 http://www.somewhereinblog.net/blog/banditkingblog/28782906 2008-03-27 11:25:41
দ্য রিটার্ন অব দস্যু বনহুর
আসিতেছে...
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/banditkingblog/28764569 http://www.somewhereinblog.net/blog/banditkingblog/28764569 2008-01-27 03:44:07