▼▼ গল্পটা যদি সত্যি আমার হত-
ফাল্গুনের একটা শেষ রাত।
রাত ৫ টা বেজে ২৪ মিনিট।
হাসপাতালের ছোট্ট কক্ষের একটা লোহার খাটে সাদা চাদর গায়ে আমি শুয়ে আছি। আমার মাথার পাশে আমার মমতাময়ী মা ক্লান্ত শ্রান্ত শরীরে বসে আছেন, নিদ্রাহীন দুচোখে লাল কালির প্রলেপ। তবুও ঘুমাবে না আমার মা। যদি তার অসুস্থ ছেলেটার কিছু দরকার হয়! যদি তার ছেলেটা পানি খেতে চায়! কিংবা যদি যমদূত তার ঘুমন্ত ছেলেটার অরক্ষিত প্রান লুকিয়ে লুকিয়ে নিতে আসে!
সে ভয়ে আমার মা, আমার মমতাময়ী মা দুচখের পাতা এক করছে না। ঠায় বসে আছে আমার মাথার পাশে।
আমি শুয়ে আছি বললে ভুল হবে। ঘুমের ভান করে পড়ে আছি। নাহলে যে আমার মা ও ঘুমাবে না!
আমাকে মরন ব্যাধি ধরেছে। ক্যান্সার নামক এক ভয়াভহ রোগ আস্তে আস্তে ছড়িয়ে পড়ছে সারা শরীরে যেমন ছড়ায় আষাঢ়ে কাল মেঘ। তীব্র যন্ত্রণা আমার সারা শরীরে। কেউ যেন লক্ষাধিক সূচ পুড়িয়ে লাল টকটকে করে আমার সারা শরীরে বিঁধিয়ে দিচ্ছে নির্মম আক্রশে!
আমার চিৎকার দিয়ে কাঁদতে ইচ্ছে করছে, গলা ফাটিয়ে বলতে ইচ্ছে করছে- আমি আর পারছি না! আমাকে মুক্তি দাও!! আমি মুক্তি চাই!!!
তবুও আমি চুপ- একদম চুপ, যেন এক খণ্ড বরফের মত। আমি চিৎকার করলে আমার মায়ের কষ্ট হয়। আমি চিৎকার করে কাঁদলে আমার মা ও কাঁদবে!
হয়ত আমার যাবার সময় হয়ে এসেছে। সময় এসেছে মাকে বিদায় বলার। আমি বিদায় নেবার আগে আমার মাকে কাঁদিয়ে যাব এমন ছেলেই নই।
আমি একটু মায়ের দিকে তাকালাম আড় চোখে। ক্লান্তিতে মায়ের দুচোখ ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। তবুও মা ঘুমাবে না!
বাবা, আমার বাবা। ছেলের চিকিৎসার টাকা জোগাড় করার জন্য আজ মরিয়া প্রায়। মধ্যবিত্তের আত্তসম্মানটুকু বিলিয়ে আজ ছেলের জন্য আজ এর কাছে কাল ওর কাছে হাত পাতছেন। লজ্জাকে তিনি নির্বাসন দিয়েছেন সুধু মাত্র নিজের ছেলের জন্য।
না! আমি আর সহ্য করতে পারছি না। আমার বাবার লজ্জাবনত মুখ আর মায়ের ক্লান্ত শ্রান্ত মুখের দিকে তাকানো আমার পক্ষে সম্ভব না।
কত সপ্ন ছিল আমার!
আর কিছু দিন পরে বাবাকে তার চাকুরি থেকে অবসরে পাঠাব- আমাদের জন্য অনেক কষ্ট করেছেন আমার বাবা।
মায়ের জন্য একটা একটা গরমের হিটার বসিয়ে আলাদা রুম করে দিব- যেন আমার মা আর কোন শিতে কষ্ট না পায়।
ছোট ভাইটার পড়াশোনার পর বাইরে পাঠাব উচ্চতর শিক্ষার জন্য- যেন সে আমার বাবা মায়ের এবং সেই সাথে দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে পারে।
আর—
আর এইত কটা বছর পর প্রেয়শির শরীরে লাল টুকটুকে শাড়ি জড়িয়ে নিয়ে আসব আমার বাড়ি, সারাজীবনের জন্য!
তারপর আমার জীবনে সুখ আর সুখ!
আমার সুখ দেখে স্বর্গবাসি দেবদূতও হিংসায় ঠোঁট বাঁকা করবে!
কিন্তু হায়!
আজ সব আমার সব স্বপ্ন বিবর্ণ।
কেউ যেন আমার পবিত্র স্বপ্নগুলোর গলা টিপে ধরেছে, আমার স্বপ্নগুলো আজ আমার মত মৃত্যুপথ যাত্রী।
আমাকে মরতে হবে! এই অল্প বয়সে আমাকে যেতে হবে কবরে! কিন্তু গোরস্থানকে যে আমার ভীষণ ভয়।
না! না! না!
আমি পারব না একা একা একা একা সেই অন্ধকার কবরে শুয়ে থাকতে! মা, মাগো, আমি পারব না মা, আমি একা একা তোমাকে ছাড়া থাকতে পারব না মা। আমাকে তুমি মরতে দিও না মা!
যে আমার আজ বাবাকে এই পড়ন্ত বয়সে একটু বিশ্রাম নিশ্চিত করার কথা, যে মাকে প্রতিদিন “এই বয়সে এত কাজ কর কেন?” বলে সকাল বিকাল মিষ্টি বকা দেবার কথা আজ সেই আমি তাদের সুখ ছিনিয়ে নিয়েছি নির্দয় ভাবে। তাদের অযোগ্য ছেলে আমি!
আমার দুচোখ ভিজে গেল।
আমি কাঁদছি?
কেন কাঁদছি আমি?
অকালে আমার স্বপ্ন ভেঙ্গে গেল বলে?
আমার চোখের কোনা বেয়ে এক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ার আগেই আমার মা তার হাতের তালু দিয়ে আলতো করে মুছে দিলেন। তারপর ফিসফিস করে বললেন- “কাঁদিস না বাবা, তোর কিচ্ছু হবে না। এই দেখ মা তোর পাশে জেগে আছে! এই দেখ বাবা আমি ঘুমাইনি এখনো!”
▼ ▼ গল্পটা যখন আমার মতই অন্য একটা ছেলের-
২০ বছর বয়সী সদ্য তরুণ ছেলেটির এখন পড়াশোনা,ক্যাম্পাস আর বন্ধুদের নিয়ে দুরন্ত সময় পার করার কথা।একজন তরুণই মনে হয় পরিণতির কথা চিন্তা না করে সব বাধা ভেঙে সামনে এগিয়ে যেতে পারে। "এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়।" হ্যাঁ, তানভীরও যুদ্ধ করছে, তবে সে যুদ্ধ আর দশজন তরুণের থেকে আলাদা; যুদ্ধ করছে ক্যান্সারের সাথে। যুদ্ধে জয়ী হলে জীবনটা সে পাবে আর না হলে মৃত্যু জীবনটাকে ছিনিয়ে নিয়ে যাবে।
চু্য়াডাঙার ছেলে তানভীর বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। মেধাবী ছেলেটি ক্লাসে কখনো প্রথম ছাড়া দ্বিতীয় হয় নি। ২০০৮ সালে ম্যাট্রিক পাশ করা তানভীর এখন রাজশাহী মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র । যে ছেলেটি ডাক্তার হয়ে অন্যের জীবন বাঁচানোর সপ্ন দেখেছে, ডাক্তার হবার আগে তার জীবনই শঙ্কার মধ্যে পরে গেছে।
▼ ▼ যে কথাটি না বলে পারছি না-
আমি ব্লগার জাহাজি পোলা।
আমাকে অনেকে আদর করে জাপো কিংবা চুডু ভাই বলে ডাকেন।
আমি অনেক ভাল দুষ্টামি করতে জানি, ব্লগার আপু ভাইয়াদের পোষ্টে গিয়ে ওনাদের ক্ষেপাতে জানি- হয়ত একটু একটু প্রেমের গল্প লিখতেও জানি!
কিন্তু আমার এমন ক্ষমতা নেই যে একটা মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য ব্লগারদের কাছে আবেদন করব। আমার হাতের কলম এত শক্তিশালি নয় যে আমি আবেদন করলেই সবাই ছেলেটিকে সাহায্য করবেন। বিশ্বাস করেন আমার সেই যোগ্যতাই নেই।
তবু আজ আপনাদের সামনে আজ আসলাম।
আজ যদি তানভিরের জায়গায় আপনাদের এই জাহাজী হত তাহলে কি আপনারা পারতেন মুখ ফিরিয়ে নিতে? পারতেন আপনাদের সহব্লগার, ছোট ভাই জাহাজীকে আস্তে আস্তে মৃত্যুর কোলে যেতে দিতে??
আমি জানি আপনারা কখনই তা হতে দিবেন না, আমরা সবাই এখানে এক অদৃশ্য বাঁধনে আটকা আছি, যে বাঁধন হয়ত রক্তের সম্পর্কের চেয়েও অনেক শক্ত!
▼ ▼ শেষ কথা-
গতবছর জুনের শেষ দিকে তানভীরের ক্যানসার ধরা পরে ।একটি কেমো দেয়ার পর তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে।সামনে আরো কয়েকটি কেমো দিতে হবে; এছাড়া ঔষুধপত্র, হাসপাতালের বিলসহ আনুষাঙ্গিক খরচ তো আছেই। সবমিলিয়ে প্রায় ত্রিশ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। সরকারী চকুরিজীবি বাবার তো এত টাকা নেই। তাহলে কি তানভীর হেরে যাবে !
۞ ۞ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন এখানে-
তানভীর চিকিৎসাধীন রয়েছে রাজধানীর ধানমন্ডীর আহমেদ মেডিক্যাল সেন্টারে, পাঁচ তলা, কেবিন নম্বর এক।
ফোন নম্বর- ০১৭১৬০৩৮৬১০, ০১৯৩৪৬১৫৬১০।
যাহায্য পাঠাবার ঠিকানা-
সাফায়েতুল ইসলাম, সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর-১৩৫১৫, সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, চুয়াডাঙ্গা শাখা;
অথবা,
সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর-১৬৮.১০১.৮৬৩৬০, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড (যে কোন দাচ বাংলা ব্যাংক এ জমা দেওয়া যাবে)
তানভীরকে নিয়ে ফেসবুক পেজ।
তানভীরকে নিয়ে দৈনিক কালের কন্ঠে প্রকাশিত সংবাদ
================================
▼ ▼ আপডেট-
চুয়াডাঙ্গায় আসিফের সহায়তা চেয়ে মানব বন্ধন
সহায়তা তহবিলে জমা পড়েছে ৫৮২৬০০ টাকা
রাজশাহী মেডিকেল কলেজের প্রথমবর্ষের মেধাবী ছাত্র মান্ডিবুলার ক্যান্সারে আক্রান্ত আসিফের চিকিৎসা সহায়তা চেয়ে চুয়াডাঙ্গায় মানববন্ধন পালিত হয়েছে। গত বুধবার বেলা ১১টায় শহীদ হাসান চত্বরের এ মানববন্ধনে আসিফের পরিবারের সদস্য, বন্ধু, সহপাঠী ও শুভাকাঙ্খীসহ সর্বস্তরের হাজারো মানুষ স্বতঃস্ফুর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। এদিকে আসিফের চিকিৎসা সহায়তা হিসেবে গতকাল এ খবর লেখা পর্যন্ত সংগৃহীত তহবিলে টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮২ হাজার ৬০০।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তানভীর মোহাম্মদ আসিফ মুজতবা ওরফে আসিফের ছাত্রজীবনের স্কুল ও কলেজ জীবনের সহপাঠী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু বর্তমান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আশিকুল মোস্তফা সাঈদ, এমএইচএম মাজেদুর রহমান মাছুম ও সাহিদুজ্জামান মুনিমের উদ্যোগে গঠিত হয়েছে আসিফ চিকিৎসা সহায়তা কমিটি। কমিটিকে সহায়তা করে রংধনু কোচিং সেন্টারের ছাত্র সৌরভ, শুভ ও আকিব। এ কমিটির উদ্যোগে আসিফের চিকিৎসা সহায়তা চেয়ে গত বুধবার বেলা ১১টায় চুয়াডাঙ্গা বড় বাজার শহীদ হাসান চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচি চলাকালে সহায়তার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য রাখেন- চুয়াডাঙ্গা সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক এসএম ইস্রাফিল, ভি.জে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আয়ুব আলী, সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক (অব.) আবুল কালাম আজাদ, খুলনা মেডিকেল কলেজের ছাত্র নাজমুস সাকিব রচি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সেলিমুল হাবিব ও ভি.জে সরকারি বিদ্যালয়ের ছাত্র আশরাফুল হক।
আসিফের চিকিৎসা সহায়তা চেয়ে নানান স্লোগানে ভরা ব্যানার ও ফেস্টুন পড়ে পথচারীদের অনেককেই তাৎক্ষণিক সহায়তা করেছেন। গতকাল বুধবার চুয়াডাঙ্গায় মানববন্ধন চলাকালে সংগৃহীত টাকার সাথে বাড়ি বাড়ি যেয়ে নারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে ৪০ হাজার ২০০ টাকা। স্থানীয় বন্ধুরা দেয় ৫ হাজার টাকা। সবচেয়ে বেশি টাকা আদায় করেছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের সহপাঠীরা ৩ লাখ টাকা। রাজশাহীতে টাকা আদায় অব্যাহত আছে। এছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পরিবারের কাছে টাকা দেয়া হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। রংধনু কোচিং সেন্টারের শিক্ষার্থীরা দিয়েছে ২৭ হাজার ১০০ টাকা। ফাল্গুনি বস্ত্রালয়ের পক্ষে আশাবুল হক ফিরোজ ২০ হাজার টাকা। পাইনক্লাবের সদস্যরা দিয়েছে ১০ হাজার ৩০০ টাকা। এছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ২ ব্যক্তি যথাক্রমে ২০ হাজার ও ১০ হাজার টাকা দিয়েছেন। সব মিলিয়ে সংগৃহীত তহবিলে টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮২ হাজার ৬০০।
ক্যান্সার আক্রান্ত আসিফ বর্তমানে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার চিকিৎসা খরচে পরিবারের সদস্যরা নিঃস্ব। এদিকে আসিফের বাবা সাফায়েত ইসলাম জানান, কেমো থেরাপি শেষ হওয়ার পর ভারতে অপারেশনের কথা থাকলেও চিকিৎসকেরা এখন আসিফকে সিঙ্গাপুরে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সে হিসেবে সব মিলিয়ে খরচ বেড়ে দাঁড়াবে ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা। পরিবারের পক্ষে বাবা সাফায়েত ইসলাম প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রীসহ সমাজের বিত্তবানদের সহায়তা চেয়েছেন।
================================
▲ ▲ লেখকের কথা- ব্লাগার সাধারণী আমার বন্ধু। সে তানভির কে নিয়ে একটা পোস্ট দিয়েছিল।
দু'টি অপশন আছে; তানভীরের মৃত্যুর পর সম্ভবনাময় এক তরুণের জন্য আফসোস করা, বা ওর মৃত্যুকে রুখে দেয়া
(আমার পোস্টের কিছু অংশ তার পোস্ট থেকে কপি পেস্ট করা)
তবে তার পোস্ট তেমন সাড়া পায় নি।
তাই সে আমকে বলল তানভির কে নিয়ে একটা পোস্ট দিতে। এত বড় কাজের দায়ভার পেয়ে নিজেকে অসহায় লাগলো অনেক! জীবনে এই প্রথম কারও জীবন বাঁচানোর জন্য কারও কাছে হাত পেতেছি!
আশা করছি নিরাশ হব না আমি।
তানভিরের ছবি এবং আপডেটের জন্য কৃতজ্ঞতা স্বীকার প্রিয় ব্লগার রুদ্রপ্রতাপ দা
সবাইকে অনেক ধন্যবাদ।
ভাল থাকবেন।
================================
রুদ্রপ্রতাপ বলেছেন: ওয়েল ঢাকাতে কেউ যদি হাতে হাতে টাকা দিতে চান, আমি গিয়ে নিয়ে আসতে পারি। যে কোন এমাউন্ট। এখানে আপডেট করে দিবো।
০১৬৭৪-৭৭৪৬৩৩
তবে ভালো হয় তানভীরের বাবার সাথে কথা বলে তাঁর হাতে টাকাটা দিলে। তাঁর নাম্বার পোস্টে দেয়া আছে।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১১ বিকাল ৫:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



