অন্তহীন কৌতূহল। নানা প্রশ্ন। কেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ পদত্যাগ করলেন? অসংখ্য গল্প চালু রয়েছে বাজারে। আসলে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না কেন তিনি বাপের পথ বেছে নিলেন।
শুরু থেকেই নানা চাপের কারণে সোহেল তাজ বিব্রত ছিলেন। এর মধ্যে পিলখানায় হত্যাকাণ্ড ঘটে যাওয়ার সময় তিনি ছিলেন বিদেশে। সেই একই গল্প। পরিবারকে সময় দেয়া। বুলগেরিয়ান স্ত্রী নিয়ে তিনি আছেন বেশ। পকেটে রয়েছে মার্কিন গ্রিনকার্ড। প্রথম দফা বিয়ে করেছিলেন ঢাকায়। সংবাদ সংস্থাকে বলেছেন, আত্মসম্মান নিয়ে মন্ত্রিত্ব না করতে পারলে কি দরকার এই পদ আঁকড়ে রেখে? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের সঙ্গে প্রথম থেকেই বনিবনা হচ্ছিল না। তার পরও কেটে যাচ্ছিল সময়।
কিন্তু হঠাৎ করেই জট সৃষ্টি হলো একজন সাবেক বিএনপি নেতাকে বিমানবন্দরে আটকে দেয়ায়। সরকারের শীর্ষ মহলের নির্দেশ ছিল কোন বিএনপির সাবেক মন্ত্রী বিদেশে যেতে পারবেন না। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে এই নির্দেশই দেয়া হয়েছিল। অনেক সাবেক মন্ত্রীকেই বিমানবন্দরে আটকে দেয়া হয়। সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বিদেশ যাচ্ছিলেন ৬ই মার্চ। বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন তাকে আটকে দেয় এন্ট্রি পয়েন্টেই। টুকু আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালত তাকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেয়। এই যখন অবস্থা তখন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বিষয়টি অবহিত করেন আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়ামের অন্যতম সদস্য সাবেক মন্ত্রী শেখ ফজলুল করিম সেলিমকে। সেলিম হচ্ছেন তার হবু বেয়াই। অবশ্য ১৫ই জুলাই তারা পরিপূর্ণ বেয়াই হয়েছেন। হাসতে হাসতে বললেন, বেয়াই আগেরবার তো ইমিগ্রেশন আটকে দিয়েছিল। এবার একটু দেখবেন। কোন ঝামেলা যাতে না হয়। শেখ সেলিম বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানান। বলেন, আদালতের আদেশ নিয়ে আমার বেয়াই বিদেশ যাচ্ছেন। দেখবেন, কোন সমস্যা যাতে না হয়। যথারীতি ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বিমানবন্দরে যান। ইমিগ্রেশন সম্পন্ন হয়। এরপর তিনি বিমানে গিয়ে আসন গ্রহণ করেন। হঠাৎ করেই ইমিগ্রেশনের দুই কর্মকর্তা তাকে গিয়ে বলেন, সরি স্যার। আপনাকে বাড়িতে ফিরে যেতে হবে। তিনি তখন বলেন, কি ব্যাপার? আমি তো কোর্ট অর্ডার নিয়ে এসেছি। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা সেদিকে নজরই দেননি। তাদের এক কথা। উপরের নির্দেশ আছে, আমাদের তামিল করতে হবে। ইকবাল হাসান মাহমুদ বাড়িতে ফিরেই বেয়াইকে ফোন করেন। বলেন, কি ব্যাপার? আগেরবার ইমিগ্রেশনই আটকে দিয়েছিল। এবার তো বিমান থেকে নামিয়ে দিলো। কি বলেন? ফোন রেখে শেখ সেলিম ফোন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে। জানতে চান, কোর্টের আদেশ সত্ত্বেও কেন ইকবাল হাসান মাহমুদকে আটকে দেয়া হলো? অপরপ্রান্ত থেকে জবাব, আমি কিছু জানি না। সব জানে সোহেল তাজ। এরপর শেখ সেলিম ফোন করেন সোহেল তাজের কাছে। একটু কড়া ভাষায় জানতে চান কেন আটকানো হয়েছে ইকবাল হাসান মাহমুদকে? এই নিয়ে কথা কাটাকাটি হয় অনেকক্ষণ। শোনা যায়, এরপর সোহেল তাজ মন্ত্রিসভা থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এ ব্যাপারে ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বলেন, তিনি কিছুই জানেন না। তবে তিনি বলেন, আদালত অবমাননা মামলা করতে চেয়েছিলাম। সরকারের একটি মহলের অনুরোধে এই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হয়েছে।
এটিই শেষ গল্প নয়, শোনা যায় সোহেল তাজের পদত্যাগের পেছনে আরও গল্প আছে। তার কাছে একজন উপদেষ্টা প্রায়ই তালিকা পাঠাতেন। ওই তালিকা ধরেই পুলিশের রদবদল করতে হতো তাকে। এটাও পছন্দ করতেন না তিনি।
সোহেল তাজ ৩১শে মে পদত্যাগপত্র জমা দেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। সংবাদ মাধ্যমে জানাজানি হয়ে যাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তাকে ডেকে পাঠান যমুনায়। বেগম সাজেদা চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাকে পদত্যাগ না করতে পরামর্শ দেন। কিন্তু সোহেল তাজ তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। তবে বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করেন। সরকার বিষয়টি গোপন রাখলেও শেষ পর্যন্ত সোহেল তাজ ফাঁস করে দিয়েছেন। সরকার আগেভাগে প্রকাশ করলে হয়তো এই নাটকের সৃষ্টি হতো না।
ফুটনোট: প্রধানমন্ত্রী এবং তার সাঙ্গ-পাঙ্গদের এই রকম ডকুমেন্টেড মিথ্যাচার (সোহেল তাজ পদত্যাগ করে নি) পৃথিবীতে বোধকরি প্রথম।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

